📄 জুমু‘আর সলাত
জুমু'আহ্ ফার্য হওয়া মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে। 'উমার থেকে বর্ণিত আছে যে, صَلَاةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ، وَصَلَاةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ، وَالْفِطْرُ وَالْأَضْحَى رَكْعَتَانِ، تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ .
“সফরের সলাত দুই রাক্'আত এবং জুমু'আর সলাত দুই রাক্'আত। ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সলাতও দুই রাক্'আত। নাবী -এর ভাষায় এটি পূর্ণ, ক্বস্র নয়।” (ইবনু মাজাহ পৃঃ ৭৪, হাঃ ১০৬৪)
মহান আল্লাহ রব্বুল 'আলামীন বলেন : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ الله ...
“হে মু'মিনগণ! জুমু'আর দিনে যখন সলাতের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্র স্মরণের দিকে দ্রুত দৌড়ে যাও...।” (সূরাহ্ আল জুমু'আহ্ ৬২ : ৯)
পবিত্র কুরআনে বারাকাতময় এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, প্রত্যেক মু'মিনের ওপর জুমু'আহ্ ফার্য। চাই সে শহুরে হোক বা গ্রাম্য ব্যক্তি।
ত্বারিক ইবনু শিহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلَّا أَرْبَعَةً: عَبْدٌ مَمْلُوكَ، أَوِ امْرَأَةٌ، أَوْ صَبِيٌّ، أَوْ مَرِيضٌ"
“চারজন ব্যতীত প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জামা'আতের সাথে জুমু'আহ্ আদায় করা ফার্য। ১. দাস, ২. মহিলা, ৩. (অপ্রাপ্তবয়স্ক) শিশু ও ৪. অসুস্থ।” (আবূ দাউদ ১/১৬০, হাঃ ১০৬৭: এর সানাদ সহীহ)
ত্বারিক ইবনু শিহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সাক্ষাতের দিক থেকে সাহাবী। যেহেতু এ হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসগুলোতে গ্রাম্য ব্যক্তিকে জুমু'আহ্ থেকে পৃথক করা হয়নি, সেজন্য প্রমাণিত হল যে, গ্রাম্য ব্যক্তির ওপরও জুমু'আহ্ ফার্য। অধিক তাহক্বীক্বের জন্য সহীহুল বুখারী ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
খলীফা 'উমার তাঁর খিলাফাতের সময়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, "جَمَعُوا حَيْثُمَا كُنْتُمْ" “তোমরা যেখানেই থাক জুমু'আহ্ আদায় কর”। (ফিহ্নে 'উমার পৃঃ ৪৫৫; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ১/১০২, হাঃ ৫০৬৮)
হানাফীদের নিকটে গ্রামে জুমু'আহ্ জায়িয নয়। (হিদায়া ১/১৬৭)
তাঁরা এ বিষয়ে অনেক শর্তও বানিয়ে রেখেছেন। তাদের অনেক মৌলভী গ্রামে জুমু'আহ্ সহীহ না হওয়ার বিষয়ে বইপুস্তকও লিখেছেন। কিন্তু এ সকল ফিক্হ গবেষণার বিপরীতে বর্তমানে হানাফী 'আম জনতা এই মাআলায় হানাফী মাযহাবকে পরিত্যাগ করে গ্রামগুলোতেও জুমু'আহ্ আদায় করছে। হে আল্লাহ! এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করে দিন। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে হানাফী 'আম জনগণ কিছু মাসআলায় শুধু নামকাওয়াস্তেই 'তাক্বলীদ' করে।
📄 জানাযার সলাত
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস এক জানাযায় সূরাহ্ ফাতিহাহ্ (এবং অন্য একটি সূরাহ্ জোরে) পড়েন এবং জিজ্ঞেস করলে বলেন, (আমি এজন্য জোরে পড়লাম) যাতে তোমরা জেনে নাও যে, এটা সুন্নাত (এবং হক্ব)।
(সহীহুল বুখারী ১/১৭৮, হাঃ ১৩৩৫, নাসায়ী ১/১৮১, হাঃ ১৯৮৭-৮৯; মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ, পৃঃ ১৮৮, হাঃ ৫৩৪, ৫৩৬। প্রথম বন্ধনীর শব্দগুলো নাসায়ীর, দ্বিতীয় বন্ধনীর শব্দগুলো মুনতাক্বার এবং শেষ বন্ধনীর শব্দগুলো নাসায়ী ও ইবনুল জারূদ-এর)
আবূ উমামাহ্ থেকে বর্ণিত আছে যে,
«السُّنَّةُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يَقْرَأُ فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ مُخَافَتَةً، ثُمَّ يُكَفِّرَ ثَلَاثًا، وَالتَّسْلِيمُ عِنْدَ الْآخِرَةِ»
“জানাযার সলাতে প্রথম তাকবীরে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ নীরবে পড়া সুন্নাত। অতঃপর তিন তাকবীর দিবে এবং শেষ তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরাবে।” (নাসায়ী ১/২৮১, হাঃ ১৯৮৯)
আবূ উমামাহ্ থেকে অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে, السُّنَّةُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَائِزِ أَنْ يُكَبِّرَ، ثُمَّ يَقْرَأُ بِأُمِ الْقُرْآنِ، ثُمَّ يُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ يُخْلِصَ الدُّعَاءَ لِلْمَيِّتِ، وَلَا يَقْرَأَ إِلَّا فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى، ثُمَّ يُسَلَّمَ فِي نَفْسِهِ عَنْ يَمِينِهِ»
“জানাযার সলাতে সুন্নাত হল, তুমি তাকবীর বলবে, অতঃপর সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পড়বে। অতঃপর নাবী -এর ওপর দরূদ পাঠ করবে। অতঃপর খাসভাবে মাইয়িতের জন্য দু'আ করবে। শুধু প্রথম তাকবীরে ক্বিরাআত করবে। অতঃপর মনে মনে (অর্থাৎ নীরবে) ডান দিকে সালাম ফিরাবে।” (মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ পৃঃ ১৮৯, হাঃ ৫৪০; মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক ৩/৪৮৮, ৪৮৯, হাঃ ৬৪২৮: এর সানাদ সহীহ, ইরওয়াউল গালীল ৩/১৮১)
নাবী ও সহাবীগণ থেকে এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই যে, সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ব্যতীত জানাযাহ্ হয়ে যায়। অথবা তাঁরা সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ব্যতীত জানাযাহ্ আদায় করেছেন। জানাযার সলাত ঐ দরূদই পড়া উচিত, যেটা নাবী থেকে প্রমাণিত আছে (অর্থাৎ সলাতে যেটা পড়া হয়)। বানোয়াট দরূদ নাবী থেকে প্রমাণিত নেই।
📄 দা‘ওয়াত
সাধ্যানুযায়ী কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন করা অতঃপর তা প্রচার করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক। সৃষ্টিজগতের ইমাম নাবী বলেছেন : «بَلِّغُوا عَنِّى وَلَوْ آيَةً» “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা মানুষের নিকটে পৌঁছিয়ে দাও”। (সহীহুল বুখারী ১/৪৯১, হাঃ ৩৪৬১)
শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীসের দা'ওয়াত দিতে হবে। নিজেদের ফির্কাবাজী মাযহাব এবং কিস্সা-কাহিনীর দা'ওয়াত দেয়া হারাম। দা'ঈর জন্য জরুরী হল, তিনি তার প্রত্যেক কথার দলীল পেশ করবেন। যাতে যে জীবিত থাকবে সে দলীল দেখে জীবিত থাকবে এবং যে মরবে সে দলীল দেখে মরবে। মহান আল্লাহ বলেন: ... لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ .... “...যে ধ্বংস হবে সে যেন (ইসলামের) সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধ্বংস হয় এবং যে বেঁচে থাকবে, সে যেন সত্য প্রতিষ্ঠার পর বেঁচে থাকে...।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৪২)
📄 জিহাদ
দীনের দা'ওয়াতের সাথে সাথে মুসলিম উম্মাহর মাঝে সহীহ 'আক্বীদাসম্পন্ন মানুষদের এমন একটি জামা'আত হওয়া উচিত, যারা সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর যে ব্যক্তি এই পথে প্রতিবন্ধক হবে তার বিরুদ্ধে কথা, কলম ও দৈহিক জিহাদ করবে। আল্লাহ্র বাণীকে সমুন্নত করার জন্য আল্লাহ্ পথে জিহাদকে মোটেই অপছন্দ করবে না। যাতে সারা পৃথিবীতে কিতাব ও সুন্নাতের ঝাণ্ডা উড্ডীন হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ বলেছেন, وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ »ظِلَالِ السُّيُوفِ “তোমরা জেনে রাখ যে, নিঃসন্দেহে জান্নাত তরবারিসমূহের ছায়াতলে”।
(সহীহুল বুখারী ১/৪২৫, হাঃ ৩০২৫, সহীহ মুসলিম ২/৮৪, হাঃ ১৭৪২-[২০])
(এজন্য সর্বযুগে জিহাদের শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। কোন রাষ্ট্রের অধীনে বসবাসকারী যে কোন মুসলিম নাগরিক যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তরবারির জিহাদ করতে পারে না। বিস্তারিত দেখুন: “হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ” প্রকাশিত 'জিহাদ ও ক্বিতাল' বই)
আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন কুরআন, সহীহ হাদীস, সাহাবা, তাবি'ঈ, মুহাদ্দিস ও ইমামগণের ভালোবাসায় আমাদের মৃত্যু দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে আমাদেরকে সব ধরনের অপমান থেকে বাঁচান। আ-মীন, সুম্মা আ-মীন!
ওয়ামা- 'আলায়না- ইল্লাল বালাগ।