📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 ঈদায়নের তাকবীর

📄 ঈদায়নের তাকবীর


দলীল- ১ : নাবী বলেছেন:
التَّكْبِيرُ فِي الْفِطْرِ سَبْعٌ فِي الْأُولَى، وَخَمْسٌ فِي الْآخِرَةِ، وَالْقِرَاءَةُ بَعْدَهُمَا كَلْتَيْهِما»
“ঈদুল ফিত্রর সলাতে প্রথম রাক্'আতে সাত এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে পাঁচ তাকবীর। আর দুই রাক্'আতেই ক্বিরাআত ঐ তাকবীরগুলোর পরে।” (আবূ দাউদ ১/১৭০, হাঃ ১১৫১: হাসান)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"هُوَ صَحِيحٌ" 'এটা সহীহ'। (তিরমিযী, আল ইলালুল কাবীর ১/২৮৮)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও 'আলী ইবনুল মাদানীও একে সহীh বলেছেন। (আত্ তালখীসুল হাবীর ২/৮৪)
'আম্র ইবনু শু'আয়ব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে (এই সূত্রটি) হুজ্জাত (দলীল) হওয়ার ব্যাপারে আমি 'মুসনাদুল হুমায়দী'র তাখরীজে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ বর্ণনার অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার জন্য ইরওয়াউল গালীল (৩/১০৬-১১৩) প্রভৃতি দেখুন।
নাফি' বলেছেন: شَهِدْتُ الْأَضْحَى وَالْفِطْرَ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ. فَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى سَبْعَ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ. وَفِي الْآخِرَةِ خَمْسَ تَكْبِيرَاتٍ.
'আমি আবূ হুরায়রাহ্ -এর পিছনে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সলাত আদায় করেছি। তিনি প্রথম রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে ৭ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে ৫ তাকবীর দিয়েছেন'। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক ১/১৮০, হাঃ ৪৩৫: এর সানাদ একেবারেই সহীহ এবং বুখারী মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী)
শু'আয়ব ইবনু আবূ হামযার নাফি' থেকে বর্ণিত সূত্রে রয়েছে, "وَهِيَ السُّنَّةُ" 'এটাই সুন্নাত'। (আস্ সুনানুল কুবরা ৩/২৮৮)
ইমাম মালিক বলেছেন যে, 'আমাদের এখানে অর্থাৎ মাদীনায় এর উপরেই 'আমাল রয়েছে'। (মুওয়াত্ত্বা মালিক ১/১৮০)
দলীল ২: 'আম্র ইবনু শু'আয়ব তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণিত হাদীস।
(আবূ দাউদ হাঃ ১১৫১; আহমাদ হাঃ ৬৬৮৮: শু'আয়ব আরনাউত্ব হাসান বলেছেন, মুসনাদে আহমাদ ১১/২৮৩; তিরমিযী হাঃ ৫৩৬; ইবনু মাজাহ হাঃ ১২৭৭)
দলীল ৩ : ইবনু 'উমার বর্ণিত হাদীস। 'আনহু (শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ৭২৬৮; তারীখে বাগদাদ হাঃ ৩৪৯৩)
দলীল ৪ : সা'দ কুরায বর্ণিত হাদীস। (বায়হাক্বী হাঃ ৬১৭৭)
দলীল ৫: হুমায়দ ইবনু 'আবদুর রহমান হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব হাঃ ৬৫৫)
দলীল ৬: জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব হাঃ ৪৮৯৫)
দলীল ৭ : 'আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু 'আম্মার তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে। (সুনানে দারাকুত্বনী হাঃ ১৭২৭)
দলীল ৮ : নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত হাদীস। (ইমাম মুহাম্মাদ, মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদ হাঃ ২৩৭; বায়হাক্বী, আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৭৯; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭২১)
দলীল ৯ : ইবনু 'আব্বাস বর্ণিত হাদীস। (ত্ববারানী হাঃ ১০৭০৮, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭০১, ৫৭২৪, বায়হাক্বী'র আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৮১)
দলীল ১০ : 'আত্বা (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত হাদীস। (বায়হাক্বী, আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৮০)
দলীল ১১ : 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাব হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭১৮)
দলীল ১২ : আবূ সা'ঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭২০)
'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার ও ঈদায়নের প্রথম রাক্'আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (ত্বহাবী, শারহু মা'আনিল আসার ৪/৩৪৫)
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস ও প্রথম রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে সাত এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/১৭৩, হাঃ ৫৭০১)
আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবনু 'আবদুল ‘আযীযও প্রথম রাক্‘আতে ক্বিরাআতের পূর্বে সাত এবং দ্বিতীয় রাক্‘আতে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/১৭৬)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 জুমু‘আর সলাত

📄 জুমু‘আর সলাত


জুমু'আহ্ ফার্য হওয়া মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে। 'উমার থেকে বর্ণিত আছে যে, صَلَاةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ، وَصَلَاةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ، وَالْفِطْرُ وَالْأَضْحَى رَكْعَتَانِ، تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ .
“সফরের সলাত দুই রাক্'আত এবং জুমু'আর সলাত দুই রাক্'আত। ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সলাতও দুই রাক্'আত। নাবী -এর ভাষায় এটি পূর্ণ, ক্বস্র নয়।” (ইবনু মাজাহ পৃঃ ৭৪, হাঃ ১০৬৪)
মহান আল্লাহ রব্বুল 'আলামীন বলেন : يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ الله ...
“হে মু'মিনগণ! জুমু'আর দিনে যখন সলাতের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্র স্মরণের দিকে দ্রুত দৌড়ে যাও...।” (সূরাহ্ আল জুমু'আহ্ ৬২ : ৯)
পবিত্র কুরআনে বারাকাতময় এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, প্রত্যেক মু'মিনের ওপর জুমু'আহ্ ফার্য। চাই সে শহুরে হোক বা গ্রাম্য ব্যক্তি।
ত্বারিক ইবনু শিহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلَّا أَرْبَعَةً: عَبْدٌ مَمْلُوكَ، أَوِ امْرَأَةٌ، أَوْ صَبِيٌّ، أَوْ مَرِيضٌ"
“চারজন ব্যতীত প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জামা'আতের সাথে জুমু'আহ্ আদায় করা ফার্য। ১. দাস, ২. মহিলা, ৩. (অপ্রাপ্তবয়স্ক) শিশু ও ৪. অসুস্থ।” (আবূ দাউদ ১/১৬০, হাঃ ১০৬৭: এর সানাদ সহীহ)
ত্বারিক ইবনু শিহাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সাক্ষাতের দিক থেকে সাহাবী। যেহেতু এ হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসগুলোতে গ্রাম্য ব্যক্তিকে জুমু'আহ্ থেকে পৃথক করা হয়নি, সেজন্য প্রমাণিত হল যে, গ্রাম্য ব্যক্তির ওপরও জুমু'আহ্ ফার্য। অধিক তাহক্বীক্বের জন্য সহীহুল বুখারী ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করা যেতে পারে।
খলীফা 'উমার তাঁর খিলাফাতের সময়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, "جَمَعُوا حَيْثُمَا كُنْتُمْ" “তোমরা যেখানেই থাক জুমু'আহ্ আদায় কর”। (ফিহ্নে 'উমার পৃঃ ৪৫৫; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ১/১০২, হাঃ ৫০৬৮)
হানাফীদের নিকটে গ্রামে জুমু'আহ্ জায়িয নয়। (হিদায়া ১/১৬৭)
তাঁরা এ বিষয়ে অনেক শর্তও বানিয়ে রেখেছেন। তাদের অনেক মৌলভী গ্রামে জুমু'আহ্ সহীহ না হওয়ার বিষয়ে বইপুস্তকও লিখেছেন। কিন্তু এ সকল ফিক্‌হ গবেষণার বিপরীতে বর্তমানে হানাফী 'আম জনতা এই মাআলায় হানাফী মাযহাবকে পরিত্যাগ করে গ্রামগুলোতেও জুমু'আহ্ আদায় করছে। হে আল্লাহ! এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করে দিন। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমানে হানাফী 'আম জনগণ কিছু মাসআলায় শুধু নামকাওয়াস্তেই 'তাক্বলীদ' করে।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 জানাযার সলাত

📄 জানাযার সলাত


'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস এক জানাযায় সূরাহ্ ফাতিহাহ্ (এবং অন্য একটি সূরাহ্ জোরে) পড়েন এবং জিজ্ঞেস করলে বলেন, (আমি এজন্য জোরে পড়লাম) যাতে তোমরা জেনে নাও যে, এটা সুন্নাত (এবং হক্ব)।
(সহীহুল বুখারী ১/১৭৮, হাঃ ১৩৩৫, নাসায়ী ১/১৮১, হাঃ ১৯৮৭-৮৯; মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ, পৃঃ ১৮৮, হাঃ ৫৩৪, ৫৩৬। প্রথম বন্ধনীর শব্দগুলো নাসায়ীর, দ্বিতীয় বন্ধনীর শব্দগুলো মুনতাক্বার এবং শেষ বন্ধনীর শব্দগুলো নাসায়ী ও ইবনুল জারূদ-এর)
আবূ উমামাহ্ থেকে বর্ণিত আছে যে,
«السُّنَّةُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يَقْرَأُ فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ مُخَافَتَةً، ثُمَّ يُكَفِّرَ ثَلَاثًا، وَالتَّسْلِيمُ عِنْدَ الْآخِرَةِ»
“জানাযার সলাতে প্রথম তাকবীরে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ নীরবে পড়া সুন্নাত। অতঃপর তিন তাকবীর দিবে এবং শেষ তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরাবে।” (নাসায়ী ১/২৮১, হাঃ ১৯৮৯)
আবূ উমামাহ্ থেকে অন্য আরেকটি বর্ণনায় আছে, السُّنَّةُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَائِزِ أَنْ يُكَبِّرَ، ثُمَّ يَقْرَأُ بِأُمِ الْقُرْآنِ، ثُمَّ يُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ يُخْلِصَ الدُّعَاءَ لِلْمَيِّتِ، وَلَا يَقْرَأَ إِلَّا فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى، ثُمَّ يُسَلَّمَ فِي نَفْسِهِ عَنْ يَمِينِهِ»
“জানাযার সলাতে সুন্নাত হল, তুমি তাকবীর বলবে, অতঃপর সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পড়বে। অতঃপর নাবী -এর ওপর দরূদ পাঠ করবে। অতঃপর খাসভাবে মাইয়িতের জন্য দু'আ করবে। শুধু প্রথম তাকবীরে ক্বিরাআত করবে। অতঃপর মনে মনে (অর্থাৎ নীরবে) ডান দিকে সালাম ফিরাবে।” (মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ পৃঃ ১৮৯, হাঃ ৫৪০; মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক ৩/৪৮৮, ৪৮৯, হাঃ ৬৪২৮: এর সানাদ সহীহ, ইরওয়াউল গালীল ৩/১৮১)
নাবী ও সহাবীগণ থেকে এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই যে, সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ব্যতীত জানাযাহ্ হয়ে যায়। অথবা তাঁরা সূরাহ্ ফাতিহাহ্ ব্যতীত জানাযাহ্ আদায় করেছেন। জানাযার সলাত ঐ দরূদই পড়া উচিত, যেটা নাবী থেকে প্রমাণিত আছে (অর্থাৎ সলাতে যেটা পড়া হয়)। বানোয়াট দরূদ নাবী থেকে প্রমাণিত নেই।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 দা‘ওয়াত

📄 দা‘ওয়াত


সাধ্যানুযায়ী কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন করা অতঃপর তা প্রচার করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক। সৃষ্টিজগতের ইমাম নাবী বলেছেন : «بَلِّغُوا عَنِّى وَلَوْ آيَةً» “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও তা মানুষের নিকটে পৌঁছিয়ে দাও”। (সহীহুল বুখারী ১/৪৯১, হাঃ ৩৪৬১)
শুধু কুরআন ও সহীহ হাদীসের দা'ওয়াত দিতে হবে। নিজেদের ফির্কাবাজী মাযহাব এবং কিস্সা-কাহিনীর দা'ওয়াত দেয়া হারাম। দা'ঈর জন্য জরুরী হল, তিনি তার প্রত্যেক কথার দলীল পেশ করবেন। যাতে যে জীবিত থাকবে সে দলীল দেখে জীবিত থাকবে এবং যে মরবে সে দলীল দেখে মরবে। মহান আল্লাহ বলেন: ... لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ .... “...যে ধ্বংস হবে সে যেন (ইসলামের) সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধ্বংস হয় এবং যে বেঁচে থাকবে, সে যেন সত্য প্রতিষ্ঠার পর বেঁচে থাকে...।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮: ৪২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00