📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه ১১ রাক্‘আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন

📄 ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه ১১ রাক্‘আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন


عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ ابْنِ أُخْتِ السَّائِبِ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّهُ قَالَ: أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لا أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً.
সাইয়িদুন আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব সাইয়িদুনা উবাই ইবনু কা'ব এবং সাইয়িদুনা তামীম আদ্‌ দারী-কে হুকুম দিয়েছিলেন যে, লোকেদেরকে (রমাযানে রাতের সময়) এগারো রাক্'আত আদায় করাবে। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক হাঃ ২৪৯, ১/১১৪; বায়হাক্বী- আস্ সুনানুল কুবরা ২/৪৯৬, মিশকাত হাঃ ১৩০২, ১/১১৫ আরবী, বাংলা মিশকাত হাঃ ১২২৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
এ হাদীসটি অসংখ্য গ্রন্থে বিদ্যমান। যেমন-
(১) শারহু মা'আনিল আসার (১/২৯৩)। তিনি এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।
(২) হাফিয যিয়াউল মাকদিসী, আল মুখতারাহ্। (কানযুল উম্মাল-এর বরাতে হাঃ ২৩৪৬৫, ৮/৪০৭)
(৩) বায়হাক্বী, মারিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার। (হাঃ ১৩৬৬, ২/৩৬, ৪৬৮, মুদ্রিত ২/৩০৫)
(৪) মারওয়াযী, ক্বিয়ামুল লায়ল। (পৃঃ ২০০)
(৫) মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব। (হাঃ ২৩৪৬৫, কানযুল উম্মাল-এর বরাতে)
(৬) মিশকাতুল মাসাবীহ। (হাঃ ১৩০২, পৃঃ ১১৫)
(৭) বাগাবী, শারহুস্ সুন্নাহ্। (হাঃ ৯৯০-এর অধীনে, ৪/১২০)
(৮) যাহাবী, আল মুহাযযাব ফী ইখতিসারিস সুনান আল কাবীর (২/৪৬১)।
(৯) কানযুল উম্মাল। (হাঃ ২৩৪৬৫, ৮/৪০৭)
(১০) নাসায়ী, আস্ সুনানুল কুবরা (হাঃ ৪৬৮৭, ৩/১১৩)। এ ফারূক্বী বিধানটির সানাদ একেবারেই সহীহ।
দলীল ১ : এর সকল রাবী অত্যন্ত শক্তিশালী সিক্বাহ্ রাবী।
দলীল ২ : এ সানাদের কোন রাবীর ওপর কোন সমালোচনা নেই।
দলীল ৩ : এ সানাদের সাথে একটি হাদীস সহীহুল বুখারীর 'কিতাবুল হাজ্জ'-এর মধ্যেও বিদ্যমান আছে। (হাঃ ১৮৫৮)
মুওয়াত্ত্বা (হাঃ ২৪৯) যে সানাদে হাদীসটি উল্লেখিত হয়েছে ঠিক একই সানাদে সহীহুল বুখারীতে ৩টি, সহীহ মুসলিমে ১টি, সুনান নাসায়ী ১টি ও সুনান তিরমিযী ২টি হাদীস নিয়েছেন।
"عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ" (সানাদ মুওয়াত্ত্বা মালিক হাঃ ২৪৯, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ১৮৫৮, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ২৮২৪, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ৪০৬২, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ১৫৬৮, সানাদ সুনান নাসায়ী হাঃ ৪২৯৪, সানাদ সুনান তিরমিযী হাঃ ৯২৫, সানাদ সুনান তিরমিযী হাঃ ২১৬১)
এছাড়া অনেক মুহাদ্দিস এ সানাদে হাদীস গ্রহণ করেছেন, যেমন-
(সুনান নাসায়ী কুবরা হাঃ ৪৬৬৩, ৪৬৬৪, ৪৬৭০, ৪৭৮৭; ত্বহাবী, শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ১৭৪১, ত্ববারানী'র কাবীর হাঃ ৬৬৭৮, ৬৬৭৯, ৫৭১, বায়হাক্বী'র সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৪০, মারিফুস্ সুনান হাঃ ৫৪১৩, মুসনাদ আহমাদ হাঃ ১৭২৫৯, মুস্তাখরাজ আবূ 'আওয়ানা হাঃ ৫২৭৭, ৫৭১১, ত্ববারানী'র কাবীর হাঃ ৪২৬২, মুসনাদুশ্ শশী ১/১৬৪ পৃষ্ঠা)
অতএব কতিপয় গোঁড়া লোকেদের পনেরো শত শতাব্দীতে একে মুযত্বারিব বলা বাতিল ও ভিত্তিহীন।
দলীল ৪ : শাহ ওয়ালিউল্লাহ আদ্‌ দেহলভী 'আহলুল হাদীস' হতে বর্ণনা করেছেন যে, মুওয়াত্ত্বার সকল হাদীস সহীহ। (হুজ্জাতুলাহিল বালিগাহ্ ২/২৪১, উর্দু)
দলীল ৫ : ত্বহাবী হানাফী 'সহীহ প্রমাণ করছে' বলে এ আসারটি দলীলস্বরূপ পেশ করেছেন। (মা'আনিল আসার ১/১৯৩)
দলীল ৬ : যিয়াউল মাকদিসী 'আল মুখতারাহ্' গ্রন্থে এ আসারটি এনে নিজের কাছে এর সহীহ হওয়া প্রমাণ করে দিয়েছেন। (দেখুন: ইখতিয়াসারু উলুমিল হাদীস পৃঃ ৭৭)
দলীল ৭ : ইমাম তিরমিযী এ সানাদ সম্পর্কে বলেছেন, 'হাসান সহীহ'। (হাঃ ৯২৬)
দলীল ৮ : এ রিওয়ায়াতটিকে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে কোন একজন মুহাদ্দিসও য'ঈফ বলেননি।
দলীল ৯ : 'আল্লামাহ্ বাজী এই আসারটিকে গ্রহণ করেছেন। (মুওয়াত্ত্বা, শারহুয যুরক্বানী হাঃ ২৪৯, ১/২৩৮)
দলীল ১০ : প্রসিদ্ধ গায়ের আহলে হাদীস 'আলিম মুহাম্মাদ ইবনু 'আলী আন-নিমাবী (মৃঃ ১৩২২ হিঃ) এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন, 'এর সানাদটি সহীহ'। (আসারুস্ সুনান পৃঃ ২৫০)
অতএব কতিপয় গোঁড়া লোকেদের পনেরো শত শতাব্দীতে একে মুযত্বারিব বলা অগ্রহণযোগ্য।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাত

📄 খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাত


রসূলুল্লাহ বলেছেন:
... فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ المَهْدِيِّينَ، عَضُوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ»
“তোমাদের মধ্য হতে যে এই ইখতিলাফ পাবে, তার ওপর আবশ্যক যে, সে আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাতকে অবশ্যই আঁকড়ে ধরবে." (সুনানে তিরমিযী হাঃ ২৬৭৬, ২/৯৬)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, 'এ হাদীস হাসান সহীহ'।
স্মর্তব্য যে, সাইয়িদুনা 'উমার খুলাফায়ি রাশিদিনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে মুসলিমদের ইজমা আছে।
অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, নাবী বলেছেন : اقْتَدُوا بِاللَّذِيْنِ বলেছেন: "আমার পরে এই দুই مِنْ بَعْدِى أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ নাবী ব্যক্তি আবূ বাক্স এবং 'উমার-এর আনুগত্য কর." (সুনানে তিরমিযী হাঃ ৩৬৬২, ২/২০৭; ইবনু মাজাহ হাঃ ৯৭)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদীস।
অতএব সাব্যস্ত হল যে, 'উমার-এর বিধানও মারফু হাদীসের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। যখন মারফু হাদীসসমূহও এর সমর্থন করছে এবং একটি সহীহ মারফু' হাদীসও এর বিরোধী নয়।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 (সহাবীগণ) ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه-এর যুগে ১১ রাক্‘আত আদায় করতেন

📄 (সহাবীগণ) ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه-এর যুগে ১১ রাক্‘আত আদায় করতেন


সাইয়িদুনা আস্ সায়িব ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত আছে,
كُنَّا نَقُوْمُ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً “আমরা (সাহাবীগণ) 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব-এর যুগে এগারো রাক্'আত আদায় করতাম”। (সুনানে সা'ঈদ ইবনু মানসূর, আল হাবী লিল ফাতাওয়ার বরাতে ১/৩৪৯; হাশিয়া আসারুস সুনান হাঃ ২৫০)
এ রিওয়ায়াতের সকল রাবী জামহুর বিদ্বানদের নিকটে নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী।
জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (মৃত ৯১১ হিঃ) এ রিওয়ায়াত সম্পর্কে লিখেছেন,
وَفِي مُصَنَّفِ سَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ بِسَنَدٍ فِي غَايَةِ الصِّحَّةِ» “আর এটা (এগারো রাক্'আতের বর্ণনাটি) মুসান্নাফ সা'ঈদ ইবনু মানসূর-এর মধ্যে অত্যন্ত সহীহ সানাদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে”। (সুয়ূত্বী, আল মাসাবীহ ফী সলাতীত্ তারাবীহ পৃঃ ১৫; আল হাবী লিল ফাতাওয়া ১/৩৫০)
অতএব প্রমাণিত হয়েছে যে, এগারো রাক্'আত ক্বিয়ামে রমাযান (তারাবীহ)-এর উপর সহাবায়ে কিরামের ইজমা আছে। আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 দেওবন্দীদের আদালতে ২০ রাক্‘আত তারাবীহ হাদীস

📄 দেওবন্দীদের আদালতে ২০ রাক্‘আত তারাবীহ হাদীস


দলীল-১ : عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرَ».
ইবনু 'আব্বাস হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ রমাযান মাসে বিশ রাক্'আত তারাবীহ ও বিতর আদায় করতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৭৬৯২)
জবাব : নাসিরুদ্দীন চাঁদপুরী হাদীসটিকে য'ঈফ স্বীকার করেছেন। (হানাফী কেল্লা ১/১৬৮ পৃঃ)
জবাব : মাওলানা 'আবদুল মাতীন সাহেব (বাংলাদেশী) এ হাদীসটি সম্পর্কে লিখেছেন, “এ হাদীসটির সানাদে আবূ শায়বাহ্ ইবরাহীম ইবনু 'উসমান আছেন, তিনি য'ঈফ বা দুর্বল”। এ কারণে বায়হাক্বীসহ অনেকেই এ হাদীসকে য'ঈফ বলেছেন'। (দলীলসহ নামাযের মাসায়িল ৩৯০-৩৯১ পৃঃ)
সতর্কীকরণ : এ হাদীসের রাবী ইবরাহীম ইবনু 'উসমান আবূ শায়বাহ্'র ওপর সমালোচনার জন্য দেখুন নাসবুর রায়াহ। (১/৫৩, ২/৬৬, ৬৭, ১৫৩)
এ রিওয়ায়াত সম্পর্কে মুহাম্মাদ তাক্বী 'উসমানী দেওবন্দী সাহেব বলেন, 'কিন্তু এটি ইবরাহীম ইবনু 'উসমান-এর ওপর কঠিন সমালোচনার জন্য দেখুন হাশিয়া আসারুস্ সুনান। (হাঃ ৭৮৫, টীকা ২৯১)
'আল্লামাহ্ দাউদ আরশাদ লিখেছেন, স্বয়ং হানাফীদের আকাবেরগণ এ রিওয়ায়াতকে য'ঈফ হিসেবে স্বীকার করেছেন। ১. 'আল্লামাহ্ ইবনু হুমام (ফাতহুল কাদীর ১/৪০৭)। ২. 'আল্লামাহ্ যায়লা'ঈ (নাসবুর রায়াহ ২/১৫৩)। ৩. ত্বাহাত্বাবী হানাফী (হাশিয়া মারাক্বিল ফালাহ পৃঃ ৪১১)। ৪. মুফতী কিফায়াতুল্লাহ (কিফায়াতুল মুফতী ৩/৩৫১, ৩৫৪, ৩৫৯, ৩৬৩)। ৫. মাওলানা 'আবদুল হাই লাক্ষ্ণৌবী (আত্ তালীকুল মুমাজ্জাদ পৃঃ ১৪২; তুহফাতুল আখয়ার পৃঃ ৫০)। ৬. 'আল্লামাহ্ নিমাবী (আসারুস্ সুনান পৃঃ ২৫৪)। ৭. মাওলানা শাব্বীর আহমাদ 'উসমানী (ফাতহুল মুলহিম ২/৩২০)। ৮. মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়্যা (আওজাযুল মাসালিক ১/৩৯৭)। ৯. মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী (মা'আরিফুস্ সুনান ২/৫৪৬)। বিস্তারিত দেখুন: হাদীস আওর আহলে তাক্বলীদ কি জওয়াবি হাদীস আওর আহলে হাদীস (২/৩৭৪, ৩৭৫)।
দলীল-২: عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ أَمَرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةً».
ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব একজন ব্যক্তিকে হুকুম দিয়েছিলেন যে, সে যেন লোকেদেরকে বিশ রাক্'আত আদায় করায়। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৭৬৮২)
জবাব : নাসিরুদ্দীন চাঁদপুরী দেওবন্দী এ হাদীসটি সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ আল আনসারী ‘উমারকে পাননি, কারণ ‘উমার শাহাদাত বরণ করেন ২৩ হিজরীতে- (তাকরীবুত্ তাহজীব রাবী নং-৪৮৮৮)। অপরদিকে ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ আনসারী মৃত্যুবরণ করেন ১৪৪ হিজরীতে- (হানাফী কেল্লা ১/১৫১-১৫২ পৃঃ)।
জবাব : মাওলানা 'আবদুল মাতিন দেওবন্দী লিখেছেন, তবে ‘ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ যেহেতু 'উমার-এর যুগ পাননি, আবার কার কাছ থেকে শুনেছে তাও বলেননি, এ কারণে একে মুনক্বাতি' বা সূত্র বিচ্ছিন্ন বলা হয়। (দলীলসহ নামাযের মাসায়িল ৪১১ পৃঃ)
এ হাদীসটি সম্পর্কে নিমাবী (হানাফী) লিখেছেন, ‘ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ আল আনসারী ‘উমারকে পাননি’। (আসারুস সুনান হাঃ ৭৮০, টীকা)
ইমাম ইবনু হাযম বলেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনু সা'ঈদ ‘সাইয়িদুনা 'উমার-এর মৃত্যুর ২৫ বছর পর জন্মগ্রহণ করেছেন। (আল মুহালা ১০/৬০, মাসআলা ১৮৯৯)
এমন মুনক্বাত্বি' রিওয়ায়াতকে 'সমর্থনপুষ্ট মুরসাল' স্থির করে দুনিয়াতে চালু করা ঐ লোকেদের কাজ, যারা দিন-রাত কালোকে 'সাদা' এবং সাদাকে 'কালো' প্রমাণিত করার চেষ্টায় লেগে রয়েছেন। হাফিয ইবনু কাসীর বলেছেন :
«يكفي في المناظرة تضعيف الطريق التي أبداها المناظر، وينقطع إذ الأصل عدم ما سواها، حتى يثبت بطريق أخرى» والله أعلم
মুনাযারায় এটি যথেষ্ট যে, বিরোধীর পেশকৃত রিওয়ায়াতকে য'ঈফ প্রমাণ করা। সে লা-জবাব হয়ে যাবে। কেননা আসল হল, অবশিষ্ট সকল দলীল অস্তিত্বহীনের ন্যায়। তবে অন্য সানাদ দ্বারা উক্ত রিওয়ায়াতটি যদি প্রমাণিত হয়ে যায় তাহলে ভিন্ন কথা। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। (ইখতিসরু উলূমিল হাদীস পৃঃ ৮৫, প্রকার ২২)
দলীল-৩ :
عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيعِ قَالَ: «كَانَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّى بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ بِالْمَدِينَةِ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَيُوتِرُ بِثَلَاثٍ».
‘আবদুল ‘আযীয ইবনু রুফা'ই হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, উবাই ইবনু কা'ব মাদীনাতে রমাযানে লোকেদেরকে নিয়ে বিশ রাক্'আত এবং তিন রাক্'আত বিতর আদায় করতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৭৬৮৪)
জবাব- ১ : নাসিরুদ্দীন চাঁদপুরী দেওবন্দী লিখেছেন, 'আবদুল 'আযীয ইবনু রুফা'ই উবাই ইবনু কা'ব-এর সাক্ষাৎ পাননি। 'আবদুল 'আযীয ইবনু রুফা'ই মৃত্যুবরণ করেন ১৩০ হিজরীতে। (হানাফী কেল্লা ১/১৫১-১৫২ পৃঃ)
জবাব- ২ : মাওলানা 'আবদুল মাতীন দেওবন্দী লিখেছেন, যাই হোক হাদীসটি একজন তাবি'ঈর সাক্ষ্য তিনি 'উমারী যুগ পাননি। (দলীলসহ নামাযের মাসায়িল ৪১৪-৪১৫ পৃঃ)
জবাব- ৩ : এ রিওয়ায়াত সম্পর্কে নিমাবী সাহেব লিখেছেন, 'আবদুল 'আযীয ইবনু রুফা'ই উবাই ইবনু কা'বকে পাননি। (আসারুস্ সুনান হাঃ ৭৮১, টীকা)
অর্থাৎ এই রিওয়ায়াতটি মুনক্বাত্বি'। উসূলে হাদীসের গ্রন্থের মধ্যে লিখা হয়েছে, মুনক্বাত্বি' বর্ণনা 'আলিমদের ঐকমত্যানুসারে য'ঈফ। (তায়সীরু মুসত্বালাহিল হাদীস পৃঃ ৭৮, আল মুনক্বাত্বি'-)
দলীল-৪:
عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، أَنَّهُ قَالَ : كَانَ النَّاسُ يَقُومُونَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ، فِي رَمَضَانَ، بِثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ رَكْعَة.
ইয়াযীদ ইবনু রূমান হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, রমাযানে 'উমার-এর যামানায় লোকেরা ২৩ রাক্'আত আদায় করতেন। (মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪০ পৃঃ)
জবাব- ১ : মাওলানা 'আবদুল মাতীন দেওবন্দী [বাংলাদেশী] লিখেছেন, যাই হোক হাদীসটি একজন তাবি'ঈর সাক্ষ্য ইয়াযীদ ইবনু রুমান তিনি 'উমারী যুগ পাননি। (দলীলসহ নামাযের মাসায়িল ৪১৫ পৃঃ [বর্ধিত সংস্করণ])
জবাব- ২ : এ রিওয়ায়াত সম্পর্কে আইনী হানাফী বলেন, “মুনক্বাত্বি' সানাদের সাথে রয়েছে”। (উমদাতুল ক্বারী ১১/১২৭, হাঃ ২০১০-এর অধীনে)
عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: "كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ اللهِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً قَالَ: "وَكَانُوا يَقْرَءُونَ بِالْمَئِينِ، وَكَانُوا يَتَوَكَّلُونَ عَلَى عِصِيِّهِمْ فِي عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ مِنْ شِدَّةِ الْقِيَامِ".
ইয়াযীদ ইবনু খুসায়ফাহ্ বলেন, সায়িব ইবনু ইয়াযীদ বলেছেন : তারা 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব-এর যুগে রমাযান মাসে বিশ রাক্'আত আদায় করতেন। তিনি বলেছেন, তারা সলাতে শতাধিক আয়াতবিশিষ্ট সূরাহ্ পড়তেন। আর তারা তাদের লাঠির উপর ভর দিতেন 'উসমান ইবনু 'আফফান -এর যুগে ক্বিয়ামে (দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার) কষ্টের কারণে। (বায়হাক্বী- আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৪২৮৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
জবাব : এ রিওয়ায়াতটি 'আলী ইবনুল জা'দ-এর 'মুসনাদ' (হাঃ ২৮২৫) গ্রন্থেও বিদ্যমান। তা সত্ত্বেও খোদ 'আলী ইবনুল জা'দ (অগ্রাধিকার মতে সিক্বাহ্)-এর উপর সমালোচনা আছে। উপরোল্লিখিত 'আলী ইবনুল জা'দ সাইয়িদুনা 'উসমান -এর ওপর অত্যন্ত কঠোর সমালোচনা করতেন। তিনি বলতেন, “আমাকে এটি খারাপ লাগে না যে, আল্লাহ তা'আলা মু'আবিয়াহ্ -কে আযাব দিবেন”। (তাহযীবুত্ তাহযীব ৭/২৫৭)
সহীহুল বুখারীতে তার ১৪টি হাদীস আছে যেগুলো মুতাবাআতের মধ্যে রয়েছে। (দেখুন : আমার পুস্তিকা আমীন উকাড়বী কাতাআকুব পৃঃ ৪৫)
সতর্কীকরণ : এ রিওয়ায়াতের মধ্যে ক্বিয়ামকারীদের পরিচয় অজ্ঞাত রয়েছে।
এই অজ্ঞাত লোকেরা যদি নিজেদের ঘরে নাফ্ল অনুধাবন করে বিশ রাক্'আত আদায় করতেন তো সাইয়িদুনা 'উমার-এর সাথে এর কি সম্পর্ক রয়েছে? দেওবন্দীদের দাবী এই যে, 'তারাবীহ বিশ রাক্'আত হল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্'। (ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ ৪/২৯৬, জবাব সওয়াল নং ১৮৭২)
অর্থাৎ দেওবন্দীদের নিকটে “জামা'আতের সাথে শুধু বিশ রাক্'আত তারাবীহ পড়াই হল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। এর থেকে কম বা বেশী করা জায়িয নেই”। এজন্য রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী সাহেব বলেছেন, 'যদি তারাবীর সংখ্যায় সন্দেহ হয় যে, আঠারো নাকি বিশ রাক্'আত আদায় করল, তবে এককভাবে দু' রাক্'আত আদায় করে নিবে; জামা'আতের সাথে নয়। হাদীসের (মধ্যে উল্লিখিত রাক্'আত সংখ্যার চাইতে) বেশী আদায় করা নিষিদ্ধ নয়। চাই (উক্ত বৃদ্ধি) যত সংখ্যাই হোক। কিন্তু জামা'আতের মধ্যে বিশের অধিক জায়িয নেই'। (আর্ রায়ুন নাজীহ পৃঃ ১২, ১৩; আনওয়ারে মাসাবীহ-এর বরাতে পৃঃ ২৯)
দেওবন্দীদের এ অবস্থানের আলোকে দেওবন্দীদের ওপর আবশ্যক রয়েছে যে, তারা নিজেদের পেশকৃত রিওয়ায়াতের পক্ষে নিম্নোক্ত শর্তাবলী প্রমাণ করবেন-
(১) ঐ লোকেদের নাম বলতে হবে যারা ফারূক্বী যামানায় বিশ রাক্'আত আদায় করতেন।
(২) এটি প্রমাণ করতে হবে যে, এই লোকেরা বিশ রাক্'আত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ অনুধাবন করে আদায় করতেন।
(৩) এটি প্রমাণ করুক যে, তারা মাসজিদে নাবাবীতে জামা'আতের সাথে এই রাক্'আতসমূহ আদায় করতেন।
(৪) এটি প্রমাণ করুক যে, সাইয়িদুনা 'উমার -এর এ বিষয়টি জানা ছিল।
(৫) এটি প্রমাণ করতে হবে যে, এই লোকেরা বিশের কম অথবা বেশী করা হারাম বা নাজায়িয অনুধাবন করতেন।
(৬) এটি প্রমাণ করুক যে, ইমাম আবূ হানীফাহ্ এই আসার দ্বারা দলীল গ্রহণ করে এটি প্রমাণিত করেছেন যে, শুধু বিশ রাক্'আত তারাবীহ জামা'আতের সাথেই হল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। তার থেকে কম বা অধিক করা জায়িয নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00