📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 রসূলুল্লাহ ﷺ আট রাক্‘আত পছন্দ করেছেন

📄 রসূলুল্লাহ ﷺ আট রাক্‘আত পছন্দ করেছেন


قَالَ: جَاءَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ كَانَ مِنِّي اللَّيْلَةَ شَيْءٌ يَعْنِي فِي رَمَضَانَ، قَالَ: وَمَا ذَاكَ يَا أُبَى؟ قَالَ: نِسْوَةٌ فِي دَارِي، قُلْنَ: إِنَّا لَا نَقْرَأُ القُرْآنَ فَنُصَلّى بِصَلَاتِكَ، قَالَ: فَصَلَّيْتُ بِهِنَّ ثَمَانَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرْتُ، قَالَ: فَكَانَ شِبْهُ الرِّضَا وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا.
সাইয়িদুনা উবাই ইবনু কা'ব হতে বর্ণনা আছে যে, রমাযান মাসের রাতে তিনি রসূলুল্লাহ-এর নিকট এসে বললেন, রাতে আমার থেকে তো কিছু ঘটে গেছে। তিনি () বললেন, তা কি? তিনি বললেন, আমার বাড়ীর মহিলাগণ বলল যে, আমরা তো কুরআন পড়তে জানি না, অতএব তোমার সাথেই আমরা সলাত আদায় করি। ফলে আমি তাদের নিয়ে আট রাক্‘আত ও বিতর আদায় করেছি। তিনি বলেন, এতে তিনি (স) কিছুই বললেন না। অতএব এটা সন্তুষ্টিমূলক সুন্নাত হয়ে গেল।” (মুসনাদু আবী ইয়া'লা হাঃ ১৮০১, ৩/৩৩৬)
'আল্লামাহ্ হায়সামী এ হাদীস সম্পর্কে বলেছেন : رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَالطَّبَرَانِي بِنَحْوِهِ فِي الْأَوْسَطِ وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ “একে আবূ ইয়া'লা বর্ণনা করেছেন এবং একে ত্ববারানী আল আওসাত্ব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদটি হাসান।” (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ২/৭৪)
সরফরায খান সফদর দেওবন্দী লিখেছেন, “স্বীয় যামানায় যদি আল্লামা হায়সামীর (হাদীসের) বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ না থাকে তবে আর কার ছিল?” (আহসানুল কালাম ১/২৩৩, তাওযীহুল কালাম ১/২৭৯)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه ১১ রাক্‘আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন

📄 ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه ১১ রাক্‘আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন


عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ ابْنِ أُخْتِ السَّائِبِ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّهُ قَالَ: أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لا أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً.
সাইয়িদুন আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব সাইয়িদুনা উবাই ইবনু কা'ব এবং সাইয়িদুনা তামীম আদ্‌ দারী-কে হুকুম দিয়েছিলেন যে, লোকেদেরকে (রমাযানে রাতের সময়) এগারো রাক্'আত আদায় করাবে। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক হাঃ ২৪৯, ১/১১৪; বায়হাক্বী- আস্ সুনানুল কুবরা ২/৪৯৬, মিশকাত হাঃ ১৩০২, ১/১১৫ আরবী, বাংলা মিশকাত হাঃ ১২২৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
এ হাদীসটি অসংখ্য গ্রন্থে বিদ্যমান। যেমন-
(১) শারহু মা'আনিল আসার (১/২৯৩)। তিনি এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।
(২) হাফিয যিয়াউল মাকদিসী, আল মুখতারাহ্। (কানযুল উম্মাল-এর বরাতে হাঃ ২৩৪৬৫, ৮/৪০৭)
(৩) বায়হাক্বী, মারিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার। (হাঃ ১৩৬৬, ২/৩৬, ৪৬৮, মুদ্রিত ২/৩০৫)
(৪) মারওয়াযী, ক্বিয়ামুল লায়ল। (পৃঃ ২০০)
(৫) মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব। (হাঃ ২৩৪৬৫, কানযুল উম্মাল-এর বরাতে)
(৬) মিশকাতুল মাসাবীহ। (হাঃ ১৩০২, পৃঃ ১১৫)
(৭) বাগাবী, শারহুস্ সুন্নাহ্। (হাঃ ৯৯০-এর অধীনে, ৪/১২০)
(৮) যাহাবী, আল মুহাযযাব ফী ইখতিসারিস সুনান আল কাবীর (২/৪৬১)।
(৯) কানযুল উম্মাল। (হাঃ ২৩৪৬৫, ৮/৪০৭)
(১০) নাসায়ী, আস্ সুনানুল কুবরা (হাঃ ৪৬৮৭, ৩/১১৩)। এ ফারূক্বী বিধানটির সানাদ একেবারেই সহীহ।
দলীল ১ : এর সকল রাবী অত্যন্ত শক্তিশালী সিক্বাহ্ রাবী।
দলীল ২ : এ সানাদের কোন রাবীর ওপর কোন সমালোচনা নেই।
দলীল ৩ : এ সানাদের সাথে একটি হাদীস সহীহুল বুখারীর 'কিতাবুল হাজ্জ'-এর মধ্যেও বিদ্যমান আছে। (হাঃ ১৮৫৮)
মুওয়াত্ত্বা (হাঃ ২৪৯) যে সানাদে হাদীসটি উল্লেখিত হয়েছে ঠিক একই সানাদে সহীহুল বুখারীতে ৩টি, সহীহ মুসলিমে ১টি, সুনান নাসায়ী ১টি ও সুনান তিরমিযী ২টি হাদীস নিয়েছেন।
"عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ" (সানাদ মুওয়াত্ত্বা মালিক হাঃ ২৪৯, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ১৮৫৮, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ২৮২৪, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ৪০৬২, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ১৫৬৮, সানাদ সুনান নাসায়ী হাঃ ৪২৯৪, সানাদ সুনান তিরমিযী হাঃ ৯২৫, সানাদ সুনান তিরমিযী হাঃ ২১৬১)
এছাড়া অনেক মুহাদ্দিস এ সানাদে হাদীস গ্রহণ করেছেন, যেমন-
(সুনান নাসায়ী কুবরা হাঃ ৪৬৬৩, ৪৬৬৪, ৪৬৭০, ৪৭৮৭; ত্বহাবী, শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ১৭৪১, ত্ববারানী'র কাবীর হাঃ ৬৬৭৮, ৬৬৭৯, ৫৭১, বায়হাক্বী'র সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৪০, মারিফুস্ সুনান হাঃ ৫৪১৩, মুসনাদ আহমাদ হাঃ ১৭২৫৯, মুস্তাখরাজ আবূ 'আওয়ানা হাঃ ৫২৭৭, ৫৭১১, ত্ববারানী'র কাবীর হাঃ ৪২৬২, মুসনাদুশ্ শশী ১/১৬৪ পৃষ্ঠা)
অতএব কতিপয় গোঁড়া লোকেদের পনেরো শত শতাব্দীতে একে মুযত্বারিব বলা বাতিল ও ভিত্তিহীন।
দলীল ৪ : শাহ ওয়ালিউল্লাহ আদ্‌ দেহলভী 'আহলুল হাদীস' হতে বর্ণনা করেছেন যে, মুওয়াত্ত্বার সকল হাদীস সহীহ। (হুজ্জাতুলাহিল বালিগাহ্ ২/২৪১, উর্দু)
দলীল ৫ : ত্বহাবী হানাফী 'সহীহ প্রমাণ করছে' বলে এ আসারটি দলীলস্বরূপ পেশ করেছেন। (মা'আনিল আসার ১/১৯৩)
দলীল ৬ : যিয়াউল মাকদিসী 'আল মুখতারাহ্' গ্রন্থে এ আসারটি এনে নিজের কাছে এর সহীহ হওয়া প্রমাণ করে দিয়েছেন। (দেখুন: ইখতিয়াসারু উলুমিল হাদীস পৃঃ ৭৭)
দলীল ৭ : ইমাম তিরমিযী এ সানাদ সম্পর্কে বলেছেন, 'হাসান সহীহ'। (হাঃ ৯২৬)
দলীল ৮ : এ রিওয়ায়াতটিকে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে কোন একজন মুহাদ্দিসও য'ঈফ বলেননি।
দলীল ৯ : 'আল্লামাহ্ বাজী এই আসারটিকে গ্রহণ করেছেন। (মুওয়াত্ত্বা, শারহুয যুরক্বানী হাঃ ২৪৯, ১/২৩৮)
দলীল ১০ : প্রসিদ্ধ গায়ের আহলে হাদীস 'আলিম মুহাম্মাদ ইবনু 'আলী আন-নিমাবী (মৃঃ ১৩২২ হিঃ) এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন, 'এর সানাদটি সহীহ'। (আসারুস্ সুনান পৃঃ ২৫০)
অতএব কতিপয় গোঁড়া লোকেদের পনেরো শত শতাব্দীতে একে মুযত্বারিব বলা অগ্রহণযোগ্য।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাত

📄 খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাত


রসূলুল্লাহ বলেছেন:
... فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ المَهْدِيِّينَ، عَضُوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ»
“তোমাদের মধ্য হতে যে এই ইখতিলাফ পাবে, তার ওপর আবশ্যক যে, সে আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাতকে অবশ্যই আঁকড়ে ধরবে." (সুনানে তিরমিযী হাঃ ২৬৭৬, ২/৯৬)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, 'এ হাদীস হাসান সহীহ'।
স্মর্তব্য যে, সাইয়িদুনা 'উমার খুলাফায়ি রাশিদিনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে মুসলিমদের ইজমা আছে।
অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, নাবী বলেছেন : اقْتَدُوا بِاللَّذِيْنِ বলেছেন: "আমার পরে এই দুই مِنْ بَعْدِى أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ নাবী ব্যক্তি আবূ বাক্স এবং 'উমার-এর আনুগত্য কর." (সুনানে তিরমিযী হাঃ ৩৬৬২, ২/২০৭; ইবনু মাজাহ হাঃ ৯৭)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদীস।
অতএব সাব্যস্ত হল যে, 'উমার-এর বিধানও মারফু হাদীসের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। যখন মারফু হাদীসসমূহও এর সমর্থন করছে এবং একটি সহীহ মারফু' হাদীসও এর বিরোধী নয়।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 (সহাবীগণ) ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه-এর যুগে ১১ রাক্‘আত আদায় করতেন

📄 (সহাবীগণ) ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه-এর যুগে ১১ রাক্‘আত আদায় করতেন


সাইয়িদুনা আস্ সায়িব ইবনু ইয়াযীদ হতে বর্ণিত আছে,
كُنَّا نَقُوْمُ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً “আমরা (সাহাবীগণ) 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব-এর যুগে এগারো রাক্'আত আদায় করতাম”। (সুনানে সা'ঈদ ইবনু মানসূর, আল হাবী লিল ফাতাওয়ার বরাতে ১/৩৪৯; হাশিয়া আসারুস সুনান হাঃ ২৫০)
এ রিওয়ায়াতের সকল রাবী জামহুর বিদ্বানদের নিকটে নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী।
জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (মৃত ৯১১ হিঃ) এ রিওয়ায়াত সম্পর্কে লিখেছেন,
وَفِي مُصَنَّفِ سَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ بِسَنَدٍ فِي غَايَةِ الصِّحَّةِ» “আর এটা (এগারো রাক্'আতের বর্ণনাটি) মুসান্নাফ সা'ঈদ ইবনু মানসূর-এর মধ্যে অত্যন্ত সহীহ সানাদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে”। (সুয়ূত্বী, আল মাসাবীহ ফী সলাতীত্ তারাবীহ পৃঃ ১৫; আল হাবী লিল ফাতাওয়া ১/৩৫০)
অতএব প্রমাণিত হয়েছে যে, এগারো রাক্'আত ক্বিয়ামে রমাযান (তারাবীহ)-এর উপর সহাবায়ে কিরামের ইজমা আছে। আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00