📄 রসূলুল্লাহ ﷺ রমাযান মাসে আট রাক্‘আত আদায় করিয়েছেন
সাইয়িদুনা জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ আল আনসারী হতে রিওয়ায়াত আছে যে, صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ فِي رَمَضَانَ ثَمَانِ رَكَعَاتٍ وَالْوِتْرَ “আমাদেরকে নিয়ে রসূলুল্লাহ রমাযান মাসে আট রাক্'আত ও বিতর আদায় করিয়েছেন।” (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ১০৭০, ২/১৩৮; সহীহ ইবনু হিব্বান, আল ইহসান হাঃ ২৪০১, ২৪০৬, ৪/৬২, ৬৪)
একটি অভিযোগ
'এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ আর্ রাযী আছেন'- (মারওয়াযী, মুখতাসারু ক্বিয়ামি রমাযান পৃঃ ১৯৭)। যিনি একজন মহামিথ্যুক বর্ণনাকারী।
জবাব : এ হাদীসটিকে ইয়া'কূব ইবনু 'আবদুল্লাহ আল কুম্মী হতে মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ ব্যতীত আরো অনেক রাবী বর্ণনা করেছেন। যেমন-
(১) জা'ফার ইবনু হুমায়দ কৃষ্ণী। (ইবনু 'আদী, আল কামিল ৫/১৮৮৯; ত্ববারানী'র আল মু'জামুল কাবীর ১/১৯০)
(২) আবুর্ রবী'। (আয যাহরানী/মুসনাদ আবূ ইয়া'লা আল মূসিলী হাঃ ১৮০১, ৩/৩৩৬; সহীহ ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪০১, ২৪০৬)
(৩) 'আবদুল 'আলা ইবনু হাম্মাদ। (মুসনাদু আবূ ইয়া'লা হাঃ ১৮০১, ৩/৩৩৬; ইবনু 'আদী-এর "আল কামিল" ৫/১৮৮৮)
(৪) মালিক ইবনু ইসমা'ঈল। (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ১০৭০, ২/১৩৮)
(৫) 'উবায়দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনু মূসা। (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ১০৭০, ২/১৩৮)
এ সকল রাবী আস্থাভাজন ও সত্যবাদী। অতএব মুহাম্মাদ ইবনু হুমায়দ-এর ওপর (আনীত) অভিযোগটি প্রত্যাখ্যাত।
দ্বিতীয় অভিযোগ
এর সানাদে ইয়া'কূব আল কুম্মী নামক য'ঈফ রাবী আছেন। তার সম্পর্কে ইমাম দারাকুত্বনী বলেছেন, »لَيْسَ بِالْقَوِيّ« “তিনি শক্তিশালী নন"।
জবাব : ইয়াকূব আল কুম্মী সিক্বাহ্। তাকে জামহূর 'আলিমগণ সিক্বাহ্ বলেছেন।
(১) নাসায়ী বলেছেন : «لَيْسَ به بأس » তাকে নিয়ে কোন অসুবিধা নেই।
(২) আবুল ক্বাসিম আত্ব ত্ববারানী বলেছেন: তিনি 'সিক্বাহ্'।
(৩) ইবনু হিব্বান 'কিতাবুস্ সিক্বাহ্' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (এবং তার হাদীসকে সহীহ বলেছেন)।
(৪) জারীর ইবনু 'আবদুল হামীদ তাকে “ফির্'আওনের পরিবারের মু'মিন” বলতেন।
(৫) ইবনু মাহদী তার থেকে রিওয়ায়াত করেছেন- (তাহযীবুত্ তাহযীব ১১/৩৪২, ৩৪৩)। আর ইবনু মাহদী শুধু সিক্বাহ্ হতে রিওয়ায়াত করতেন- (তাদরীবুর্ রাবী ১/৩১৭)।
(৬) হাফিয যাহাবী বলেছেন: তিনি صَدُوقٌ 'সত্যবাদী'। (আল কাশিফ ৩/২৫৫)
(৭) ইবনু খুযায়মাহ্ তার হাদীসকে হাসান বলেছেন।
(৮) নুরুদ্দীন হায়সামী তার হাদীসকে হাসান বলেছেন।
(৯) ইমাম বুখারী তা'লীক্ব বর্ণনাসমূহের মধ্যে তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। আর স্বীয় 'আত্ তারীখুল কাবীর' গ্রন্থে (রাবী নং ৩৪৪৩, ৮/৩৯১) তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করেননি। অতএব তিনি তার নিকটে থানবীর কথানুসারে সিক্বাহ্। (দেখুন: জা'ফার আহমাদ থানবী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ১৩৬)
(১০) হাফিয ইবনু হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (৩/১২, হাঃ ১১২৯-এর অধীনে) তার মুনফারিদ (একক) হাদীসের উপর চুপ থেকেছেন। আর এ চুপ থাকা (দেওবন্দীদের নিকটে) তার হাদীসকে হাসান আখ্যাদানের দলীল হয়ে থাকে। (দেখুন: ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ৫৫)
তৃতীয় অভিযোগ
এ রিওয়ায়াতের সানাদের মধ্যে 'ঈসা ইবনু জারিয়াহ্ য'ঈফ। এর উপর ইবনু মা'ঈন, আস্ সাজী, 'উক্বায়লী, ইবনু 'আদী ও আবূ দাউদ সমালোচনা করেছেন। কতিপয় তাকে 'মুনকারুল হাদীস'ও লিখেছেন।
জবাব : 'ঈসা ইবনু জারিয়াহ্ জামহুর 'আলিমদের নিকটে সিক্বাহ্, সত্যবাদী বা হাসানুল হাদীস।
(১) আবূ যুআহ্ বলেছেন, "لَا بَأْسَ بِه" তাকে নিয়ে কোন অসুবিধা নেই। (আল জারহু ওয়াত্ তাদীল ৬/২৭৩ সানাদ সহীহ)
(২) ইবনু হিব্বান : তিনি তাকে কিতাবুস্ সিক্বাহ্। (৫/২১৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর তিনি তার হাদীস স্বীয় “সহীহ” গ্রন্থে (২৪০১/২৪০৯, ২৪১৫) বর্ণনা করেছেন।
(৩) ইবনু খুযায়মাহ্ তার হাদীসকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ১০৭০, ২/১৩৮)
(৪) হায়সামী তার হাদীসকে সহীহ বলেছেন- (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ২/৭২)। আর তাকে সিক্বাহ্ বলেছেন- (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ২/১৮৫)।
(৫) বুসীরী 'যাওয়ায়িদে সুনানে ইবনু মাজাহ' গ্রন্থে তার হাদীসকে হাসান বলেছেন। (যাওয়ায়িদে ইবনু মাজাহ হাঃ ৪২৪১)
(৬) যাহাবী তার মুনফারিদ হাদীস সম্পর্কে اسناده وسط “এর সানাদ মধ্যম মানের” বলেছেন। (মীযানুল ই'তিদাল ২/৩১১)
(৭) ইমাম বুখারী 'ঈসা ইবনু জারিয়াহ্-কে আত্ তারীখুল কাবীর (৬/৩৮৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর তার ওপর কোন সমালোচনা করেননি। জা'ফার আহমাদ থানবী দেওবন্দী বলেছেন, আর এভাবেই বুখারী স্বীয় তারীখ গ্রন্থসমূহে যাকে উল্লেখ করেছেন এবং তার কোন সমালোচনা করেননি; তিনি হলেন সিক্বাহ্। (ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ২২৩; ইলাউস্ সুনান ১৯/২২৩)
(৮) হাফিয ইবনু হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে তার হাদীসের উপর চুপ থেকেছেন। (হাঃ ১১২৯, ৩/১০)
(৯) হাফিয মুনযিরী তার একটি হাদীসকে بإسناد جید 'জাইয়িদ সানাদ (দ্বারা বর্ণিত)' বলেছেন। (আত্ তারগীবু ওয়াত্ তারহীব হাঃ ১০৮১, ১/৫০৭)
(১০) আবূ হাতিম আর্ রাযী তাকে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা করেননি- (দেখুন: আল জারহু ওয়াত্ তা'দীল ৬/২৭৩)। আবূ হাতিম-এর চুপ থাকা (দেওবন্দীদের নিকটে) রাবীর তাওসীক্ব হয়ে থাকে- (ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ২৪৭)।
(১১) নিমাবী হানাফী তার বর্ণনাকৃত একটি হাদীসকে إِسْنَادُهُ صَحِيحٌ "এর সানাদ সহীহ” বলেছেন। (আসারুস্ সুনান হাঃ ৯৬০, জাবিরা হতে)
প্রতীয়মান হল যে, এ সানাদটি হাসান।
📄 রসূলুল্লাহ ﷺ আট রাক্‘আত পছন্দ করেছেন
قَالَ: جَاءَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ كَانَ مِنِّي اللَّيْلَةَ شَيْءٌ يَعْنِي فِي رَمَضَانَ، قَالَ: وَمَا ذَاكَ يَا أُبَى؟ قَالَ: نِسْوَةٌ فِي دَارِي، قُلْنَ: إِنَّا لَا نَقْرَأُ القُرْآنَ فَنُصَلّى بِصَلَاتِكَ، قَالَ: فَصَلَّيْتُ بِهِنَّ ثَمَانَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرْتُ، قَالَ: فَكَانَ شِبْهُ الرِّضَا وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا.
সাইয়িদুনা উবাই ইবনু কা'ব হতে বর্ণনা আছে যে, রমাযান মাসের রাতে তিনি রসূলুল্লাহ-এর নিকট এসে বললেন, রাতে আমার থেকে তো কিছু ঘটে গেছে। তিনি () বললেন, তা কি? তিনি বললেন, আমার বাড়ীর মহিলাগণ বলল যে, আমরা তো কুরআন পড়তে জানি না, অতএব তোমার সাথেই আমরা সলাত আদায় করি। ফলে আমি তাদের নিয়ে আট রাক্‘আত ও বিতর আদায় করেছি। তিনি বলেন, এতে তিনি (স) কিছুই বললেন না। অতএব এটা সন্তুষ্টিমূলক সুন্নাত হয়ে গেল।” (মুসনাদু আবী ইয়া'লা হাঃ ১৮০১, ৩/৩৩৬)
'আল্লামাহ্ হায়সামী এ হাদীস সম্পর্কে বলেছেন : رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَالطَّبَرَانِي بِنَحْوِهِ فِي الْأَوْسَطِ وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ “একে আবূ ইয়া'লা বর্ণনা করেছেন এবং একে ত্ববারানী আল আওসাত্ব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদটি হাসান।” (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ২/৭৪)
সরফরায খান সফদর দেওবন্দী লিখেছেন, “স্বীয় যামানায় যদি আল্লামা হায়সামীর (হাদীসের) বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ না থাকে তবে আর কার ছিল?” (আহসানুল কালাম ১/২৩৩, তাওযীহুল কালাম ১/২৭৯)
📄 ‘উমার ইবনুল খত্তাব رضي الله عنه ১১ রাক্‘আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ ابْنِ أُخْتِ السَّائِبِ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّهُ قَالَ: أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لا أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ وَتَمِيمًا الدَّارِيَّ أَنْ يَقُومَا لِلنَّاسِ بِإِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً.
সাইয়িদুন আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবনুল খত্ত্বাব সাইয়িদুনা উবাই ইবনু কা'ব এবং সাইয়িদুনা তামীম আদ্ দারী-কে হুকুম দিয়েছিলেন যে, লোকেদেরকে (রমাযানে রাতের সময়) এগারো রাক্'আত আদায় করাবে। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক হাঃ ২৪৯, ১/১১৪; বায়হাক্বী- আস্ সুনানুল কুবরা ২/৪৯৬, মিশকাত হাঃ ১৩০২, ১/১১৫ আরবী, বাংলা মিশকাত হাঃ ১২২৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
এ হাদীসটি অসংখ্য গ্রন্থে বিদ্যমান। যেমন-
(১) শারহু মা'আনিল আসার (১/২৯৩)। তিনি এর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।
(২) হাফিয যিয়াউল মাকদিসী, আল মুখতারাহ্। (কানযুল উম্মাল-এর বরাতে হাঃ ২৩৪৬৫, ৮/৪০৭)
(৩) বায়হাক্বী, মারিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার। (হাঃ ১৩৬৬, ২/৩৬, ৪৬৮, মুদ্রিত ২/৩০৫)
(৪) মারওয়াযী, ক্বিয়ামুল লায়ল। (পৃঃ ২০০)
(৫) মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব। (হাঃ ২৩৪৬৫, কানযুল উম্মাল-এর বরাতে)
(৬) মিশকাতুল মাসাবীহ। (হাঃ ১৩০২, পৃঃ ১১৫)
(৭) বাগাবী, শারহুস্ সুন্নাহ্। (হাঃ ৯৯০-এর অধীনে, ৪/১২০)
(৮) যাহাবী, আল মুহাযযাব ফী ইখতিসারিস সুনান আল কাবীর (২/৪৬১)।
(৯) কানযুল উম্মাল। (হাঃ ২৩৪৬৫, ৮/৪০৭)
(১০) নাসায়ী, আস্ সুনানুল কুবরা (হাঃ ৪৬৮৭, ৩/১১৩)। এ ফারূক্বী বিধানটির সানাদ একেবারেই সহীহ।
দলীল ১ : এর সকল রাবী অত্যন্ত শক্তিশালী সিক্বাহ্ রাবী।
দলীল ২ : এ সানাদের কোন রাবীর ওপর কোন সমালোচনা নেই।
দলীল ৩ : এ সানাদের সাথে একটি হাদীস সহীহুল বুখারীর 'কিতাবুল হাজ্জ'-এর মধ্যেও বিদ্যমান আছে। (হাঃ ১৮৫৮)
মুওয়াত্ত্বা (হাঃ ২৪৯) যে সানাদে হাদীসটি উল্লেখিত হয়েছে ঠিক একই সানাদে সহীহুল বুখারীতে ৩টি, সহীহ মুসলিমে ১টি, সুনান নাসায়ী ১টি ও সুনান তিরমিযী ২টি হাদীস নিয়েছেন।
"عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ" (সানাদ মুওয়াত্ত্বা মালিক হাঃ ২৪৯, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ১৮৫৮, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ২৮২৪, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ৪০৬২, সানাদ সহীহুল বুখারী হাঃ ১৫৬৮, সানাদ সুনান নাসায়ী হাঃ ৪২৯৪, সানাদ সুনান তিরমিযী হাঃ ৯২৫, সানাদ সুনান তিরমিযী হাঃ ২১৬১)
এছাড়া অনেক মুহাদ্দিস এ সানাদে হাদীস গ্রহণ করেছেন, যেমন-
(সুনান নাসায়ী কুবরা হাঃ ৪৬৬৩, ৪৬৬৪, ৪৬৭০, ৪৭৮৭; ত্বহাবী, শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ১৭৪১, ত্ববারানী'র কাবীর হাঃ ৬৬৭৮, ৬৬৭৯, ৫৭১, বায়হাক্বী'র সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৪০, মারিফুস্ সুনান হাঃ ৫৪১৩, মুসনাদ আহমাদ হাঃ ১৭২৫৯, মুস্তাখরাজ আবূ 'আওয়ানা হাঃ ৫২৭৭, ৫৭১১, ত্ববারানী'র কাবীর হাঃ ৪২৬২, মুসনাদুশ্ শশী ১/১৬৪ পৃষ্ঠা)
অতএব কতিপয় গোঁড়া লোকেদের পনেরো শত শতাব্দীতে একে মুযত্বারিব বলা বাতিল ও ভিত্তিহীন।
দলীল ৪ : শাহ ওয়ালিউল্লাহ আদ্ দেহলভী 'আহলুল হাদীস' হতে বর্ণনা করেছেন যে, মুওয়াত্ত্বার সকল হাদীস সহীহ। (হুজ্জাতুলাহিল বালিগাহ্ ২/২৪১, উর্দু)
দলীল ৫ : ত্বহাবী হানাফী 'সহীহ প্রমাণ করছে' বলে এ আসারটি দলীলস্বরূপ পেশ করেছেন। (মা'আনিল আসার ১/১৯৩)
দলীল ৬ : যিয়াউল মাকদিসী 'আল মুখতারাহ্' গ্রন্থে এ আসারটি এনে নিজের কাছে এর সহীহ হওয়া প্রমাণ করে দিয়েছেন। (দেখুন: ইখতিয়াসারু উলুমিল হাদীস পৃঃ ৭৭)
দলীল ৭ : ইমাম তিরমিযী এ সানাদ সম্পর্কে বলেছেন, 'হাসান সহীহ'। (হাঃ ৯২৬)
দলীল ৮ : এ রিওয়ায়াতটিকে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে কোন একজন মুহাদ্দিসও য'ঈফ বলেননি।
দলীল ৯ : 'আল্লামাহ্ বাজী এই আসারটিকে গ্রহণ করেছেন। (মুওয়াত্ত্বা, শারহুয যুরক্বানী হাঃ ২৪৯, ১/২৩৮)
দলীল ১০ : প্রসিদ্ধ গায়ের আহলে হাদীস 'আলিম মুহাম্মাদ ইবনু 'আলী আন-নিমাবী (মৃঃ ১৩২২ হিঃ) এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন, 'এর সানাদটি সহীহ'। (আসারুস্ সুনান পৃঃ ২৫০)
অতএব কতিপয় গোঁড়া লোকেদের পনেরো শত শতাব্দীতে একে মুযত্বারিব বলা অগ্রহণযোগ্য।
📄 খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাত
রসূলুল্লাহ বলেছেন:
... فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ المَهْدِيِّينَ، عَضُوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ»
“তোমাদের মধ্য হতে যে এই ইখতিলাফ পাবে, তার ওপর আবশ্যক যে, সে আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদীনদের সুন্নাতকে অবশ্যই আঁকড়ে ধরবে." (সুনানে তিরমিযী হাঃ ২৬৭৬, ২/৯৬)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন, 'এ হাদীস হাসান সহীহ'।
স্মর্তব্য যে, সাইয়িদুনা 'উমার খুলাফায়ি রাশিদিনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে মুসলিমদের ইজমা আছে।
অন্য আরেকটি হাদীসে আছে, নাবী বলেছেন : اقْتَدُوا بِاللَّذِيْنِ বলেছেন: "আমার পরে এই দুই مِنْ بَعْدِى أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ নাবী ব্যক্তি আবূ বাক্স এবং 'উমার-এর আনুগত্য কর." (সুনানে তিরমিযী হাঃ ৩৬৬২, ২/২০৭; ইবনু মাজাহ হাঃ ৯৭)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদীস।
অতএব সাব্যস্ত হল যে, 'উমার-এর বিধানও মারফু হাদীসের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। যখন মারফু হাদীসসমূহও এর সমর্থন করছে এবং একটি সহীহ মারফু' হাদীসও এর বিরোধী নয়।