📄 মাগরিবের সলাতের ন্যায় বিত্র্ আদায় না করা
হাদীস নং- ১
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ لا يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يَقْعُدُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ".
'আয়িশাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ তিন রাক্'আত বিতর আদায় করতেন। কিন্তু তিনি শেষ রাক্'আত ছাড়া বসতেন না। (মুস্তাদরাক হাকিম ১/৩০৪, হাঃ ১১৪০; বায়হাক্বী- সুনানুল কুবরা, হাঃ ৪৮০৩; ফাতহুল বারী হাঃ ৯৯৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম হাকিম এর মুস্তাদরাকে (হাঃ ১১৪০( لَا يُسَلِّمُ “সালাম ফিরাতেন না” ছাপানো হয়েছে। কিন্তু আসলে হবে لَا يَقْعُدُ "বসতেন না”। কেননা ইমাম বায়হাক্বী (সুনানুল কুবরা, হাঃ ৪৮০৩) ইমাম হাকিম থেকে এ হাদীস উল্লেখ করেছেন যেখানে لَا يَقْعُدُ "বসতেন না” আছে। এমনকি ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী ইমাম হাকিম থেকে এ হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৯৯৮ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য) তে এনেছেন। তিনিও لَا يَقْعُدُ “বসতেন না” এভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্হাম্মদুলিল্লা-হ!
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী এ হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৯৯৮ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)-তে এনেছেন এবং কোন সমালোচনা করেননি। আর যেসব হাদীস তিনি ফাতহুল বারীতে এনেছেন, সেগুলো তার কাছে সহীহ অথবা হাসান যেমনটি তিনি ফাতহুল বারীর ভূমিকাতে লিখেছেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, ভূমিকা দ্রষ্টব্য; জা'ফার আহমাদ থানভী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস, পৃঃ ৮৯)
কিন্তু এ হাদীসের রাবী কৃতাদাহ্ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৯২)
আর একজন মুদাল্লিসের হাদীস তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী হাদ্দাসানা- বা সামি'তু বা আখবারানা- বা সানা- বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীসের শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস থাকবে।
এ হাদীসের কিছু শাওয়াহিদ হাদীস রয়েছে। তাই শাওয়াহিদ হিসেবে এ হাদীসটি সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ২:
রসূলুল্লাহ বলেন: তোমরা তিন রাক্'আত বিতর আদায় করো না, বরং পাঁচ অথবা সাত রাক্'আত আদায় করো। আর তা (বিতর) মাগরিবের সলাতের ন্যায় আদায় করো না। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৫০; মুস্তাদরাক হাকিম ১/৩০৪, হাঃ ১১৩৮; ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪২৯; বায়হাক্বী- সুনানুল কুবরা হাঃ ৪৮১৫)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম দারাকুত্বনী বলেন : এর রাবীগণ সিক্বাহ্ । (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৫০)
ইমাম হাকিম তাঁর মুস্তাদরাকে (হাঃ ১১৩৮) শায়খায়নের শর্তে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী বলেন: এর রাবীগণ সিক্বাহ্। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, তালখীলসুল হাবীর হাঃ ৫১২)
ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন: হাদীসটি সহীহ। (নাসিরুদ্দীন আলবানী-এর আত্ তা'লীক্বাতুল হিসান আ'লা সহীহ ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪২০)
শু'আয়ব আরনাউত্ব বলেন: এর সানাদ সহীহ। (ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪২৯, তাহক্বীক্ব: শু'আয়ব আরনাউত্ব)
হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী বলেন: এর সানাদ সহীহ। (মাওয়ারীদুয যামান ইলা যাওয়ায়িদ ইবনু হিব্বান হাঃ ৬৮০, তাহক্বীক্ব: হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী)
মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী বলেন, এর সানাদ সহীহ। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৩৪, তাহক্বীক্ব: মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী)
অতএব এ হাদীসটি নিঃসন্দেহে সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ৩:
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ، لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ إِلَّا فِي آخِرِهَا».
'আয়িশাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ রাতে তের রাক্'আত সলাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক্'আত বিতর আদায় করতেন। কিন্তু তিনি শেষ রাক্'আত ছাড়া বসতেন না। (মুসলিম হাঃ ৭৩৭/১২৩)
যেহেতু রসূলুল্লাহ পূর্বের হাদীসে পাঁচ অথবা সাত রাক্'আত বিতর আদায় করতে বলেছেন এবং মাগরিবের অনুরূপ করতে নিষেধ করেছেন, সেহেতু এ হাদীস দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয় যে, তিন রাক্'আতেও শেষ রাক্‘আত ব্যতীত বসা উচিত নয়। (আল্ল-হু আ'লাম)
কেননা এভাবে (শুধু শেষ রাক্'আতে বসে) তিন রাক্'আত বিতর আদায় করলে তা মাগরিবের অনুরূপ হয় না। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ৪:
عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّهُ كَانَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يَقْعُدُ بَيْنَهُنَّ»
ইবনু ত্বাউস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : তার পিতা ত্বাউস (রহিমাহুল্লাহ) তিন রাক্'আত বিতর আদায় করতেন কিন্তু তিনি মাঝে বসতেন না। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব, ৩/২৭, হাঃ ৪৬৬৯)
ত্বাউস (রহিমাহুল্লাহ) একজন বিখ্যাত তাবি'ঈ, ফাক্বীহ, ইমাম, হাফিয ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৫/৩৮, রাবী নং ১৩)
উক্ত মাকতু' হাদীসটির সানাদ সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ৫ :
عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَانَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يَجْلِسُ فِيهِنَّ، وَلَا يَتَشَهَدُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ
ক্বায়স ইবনু সা'দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'আত্বা (রহিমাহুল্লাহ) তিন রাক্'আত বিত্র আদায় করতেন কিন্তু তিনি মাঝে বসতেন না। আর তিনি শেষ রাক্'আত ছাড়া তাশাহুদ আদায় করতেন না। (মুস্তাদরাক হাকিম, ১/৩০৫, হাঃ ১১৪২)
‘আত্বা (রহিমাহুল্লাহ) একজন বিখ্যাত তাবি'ঈ, ফাক্বীহ, ইমাম ছিলেন- (যাহাবী সিয়ারু 'আলামিন নুবালাহ্ ৫/৭৮, রাবী নং ২৯)। উক্ত মাকতূ' হাদীসটির সানাদ সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
📄 মাগরিবের সলাতের ন্যায় বিত্র্ আদায়ের দলীলের জবাব
হাদীস নং- ১ :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «وِتْرُ اللَّيْلِ ثَلَاثُ كَوِتْرِ النَّهَارِ صَلَاةُ الْمَغْرِبِ».
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: রাতের তিন রাক্'আত বিত্র, দিনের বিত্র মাগরিবের সলাতের ন্যায়। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৫৩)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী বলেন: এর সানাদ দুর্বল। কেননা ইয়াহ্ইয়া ইবনু যাকারিয়্যা ইবনু আবুল হাওয়াজিব দুর্বল। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৩৭, তাহক্বীক্ব: মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী)
এ হাদীসের রাবী ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়্যা ইবনু আবূল হাওয়াজিব দুর্বল। (যাহাবী, মীযানুল ই'তিদাল, রাবী নং ৯৫০৭; ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, লিসানুল মীযান, রাবী নং ৮৯৯)
ইমাম দারাকুত্বনী বলেন: তিনি দুর্বল। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৫৩)
ইমাম বায়হাক্বী বলেন : তিনি দুর্বল। (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হাঃ ৪৮১২)
এ হাদীসের অপর রাবী আ'মাশ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্ববাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫৫)
আর একজন মুদাল্লিসের হাদীস তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী হাদ্দাসানা- বা সামি'তু বা আখবারানা- বা সানা- বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীসের শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীসের কোন শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস নেই। যেগুলা রয়েছে তা সবই দুর্বল।
এছাড়াও 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ থেকে এ হাদীসের অপর একটি শাওয়াহিদ হাদীস রয়েছে। (ত্বাবারানী, মু'জামুল কাবীর ৯/২৮২, হাঃ ৯৪২১)
এ হাদীসের রাবী আ'মাশ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্ববাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৫৫)
এই হাদীসের অপর রাবী হাজ্জাজ ইবনু আরত্নাহ দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ১১১২)
এছাড়াও তিনি মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্ববাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ১১৮)
আর একজন মুদাল্লিসের হাদীস তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী হাদ্দাসানা- বা সামি'তু বা আখবারানা- বা সানা- বলবে অথবা উক্ত রাবী বর্ণিত হাদীসের শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীসের কোন শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।
হাদীস নং- ২:
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْوِتْرُ ثَلَاثُ كَصَلَاةِ الْمَغْرِبِ.
'আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মাগরিবের সলাতের ন্যায় বিতরের সলাত তিন রাক্‘আত। (ইবনুল জাওযী, আল ঈলালুল মুতানাহিয়াহ্ হাঃ ৭৭২; ইবনু হিব্বান, আল মাজরূহীন ১/১২১, রাবী নং ৩৬ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম ইবনুল জাওযী বলেন: এ হাদীসটি সহীহ নয়। (ইবনুল জাওযী, আর ঈলালুল মুতানাহিয়াহ্ হাঃ ৭৭২)
এ হাদীসের রাবী ইসমা'ঈল ইবনু মুসলিম দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৪৮৩)
এ হাদীসের অপর রাবী হাসান বাসরী মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্ববাক্বাতুল মুদালিসীন, রাবী নং ৪০)
আর একজন মুদাল্লিসের হাদীস তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী হাদ্দাসানা- বা সামি'তু বা আখবারানা- বা সানা- বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীসের শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীসের কোন শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল। অতএব মাগরিবের সলাতের ন্যায় বিতর আদায় করা উচিত নয়।
📄 ক্বস্র সলাত
সহীহ মুসলিমে ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াযীদ আল হুনাঈ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে,
سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنْ قَصْرِ الصَّلَاةِ، فَقَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا خَرَجَ مَسِيرَةَ ثَلَاثَةِ أَمْيَالٍ، أَوْ ثَلَاثَةِ فَرَاسِخَ - شُعْبَةُ الشَّالُ - صَلَّى رَكْعَتَيْنِ».
“আমি আনাস ইবনু মালিক-কে সলাত কৃস্র করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ যখন ৩ মাইল বা ৩ ফারসাখ (৯ মাইল) সফরের জন্য বের হতেন (৩ বা ৯ এর ব্যাপারে শু'বার সন্দেহ), তখন তিনি দুই রাক্'আত সলাত আদায় করতেন." (মুসলিম ১/২৪২, হাঃ ৬৯১-[১২])
ইবনু 'উমার ৩ মাইলের দূরত্বেও কৃসর জায়িয হওয়ার প্রবক্তা ছিলেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/৪৪৩, হাঃ ৮১২০)
'উমার-ও এর প্রবক্তা ছিলেন। (ফিক্সে 'উমার (উর্দু), পৃঃ ৩৯৪; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/৪৪৫, হাঃ ৮১৩৭)
সতর্কতাও এতেই রয়েছে যে, কমপক্ষে ৯ মাইলের দূরত্বে কসর করা হবে। এভাবে সব হাদীসের উপরে সহজে 'আমাল হয়ে যায়।
[সফরের দূরত্বের ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে এক মাইল হতে ৪৮ মাইলের বিশ প্রকার বক্তব্য রয়েছে। পবিত্র কুরআনের দূরত্বের কোন উল্লেখ নেই। কেবল সফরের কথা আছে। রসূলুল্লাহ থেকেও এর কোন সীমা নির্দেশ করা হয়নি। অতএব সফর হিসেবে গণ্য করা যায়, এরূপ সফরে বের হলে নিজ বাসস্থান থেকে বেরিয়ে কিছুদূর গেলেই 'কুসর' করা যায়। (সলাতুর রসূল, পৃঃ ১৮৬)]
📄 ঈদায়নের তাকবীর
দলীল- ১ : নাবী বলেছেন:
التَّكْبِيرُ فِي الْفِطْرِ سَبْعٌ فِي الْأُولَى، وَخَمْسٌ فِي الْآخِرَةِ، وَالْقِرَاءَةُ بَعْدَهُمَا كَلْتَيْهِما»
“ঈদুল ফিত্রর সলাতে প্রথম রাক্'আতে সাত এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে পাঁচ তাকবীর। আর দুই রাক্'আতেই ক্বিরাআত ঐ তাকবীরগুলোর পরে।” (আবূ দাউদ ১/১৭০, হাঃ ১১৫১: হাসান)
এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"هُوَ صَحِيحٌ" 'এটা সহীহ'। (তিরমিযী, আল ইলালুল কাবীর ১/২৮৮)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও 'আলী ইবনুল মাদানীও একে সহীh বলেছেন। (আত্ তালখীসুল হাবীর ২/৮৪)
'আম্র ইবনু শু'আয়ব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে (এই সূত্রটি) হুজ্জাত (দলীল) হওয়ার ব্যাপারে আমি 'মুসনাদুল হুমায়দী'র তাখরীজে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ বর্ণনার অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার জন্য ইরওয়াউল গালীল (৩/১০৬-১১৩) প্রভৃতি দেখুন।
নাফি' বলেছেন: شَهِدْتُ الْأَضْحَى وَالْفِطْرَ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ. فَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى سَبْعَ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ. وَفِي الْآخِرَةِ خَمْسَ تَكْبِيرَاتٍ.
'আমি আবূ হুরায়রাহ্ -এর পিছনে ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের সলাত আদায় করেছি। তিনি প্রথম রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে ৭ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে ৫ তাকবীর দিয়েছেন'। (মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক ১/১৮০, হাঃ ৪৩৫: এর সানাদ একেবারেই সহীহ এবং বুখারী মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী)
শু'আয়ব ইবনু আবূ হামযার নাফি' থেকে বর্ণিত সূত্রে রয়েছে, "وَهِيَ السُّنَّةُ" 'এটাই সুন্নাত'। (আস্ সুনানুল কুবরা ৩/২৮৮)
ইমাম মালিক বলেছেন যে, 'আমাদের এখানে অর্থাৎ মাদীনায় এর উপরেই 'আমাল রয়েছে'। (মুওয়াত্ত্বা মালিক ১/১৮০)
দলীল ২: 'আম্র ইবনু শু'আয়ব তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণিত হাদীস।
(আবূ দাউদ হাঃ ১১৫১; আহমাদ হাঃ ৬৬৮৮: শু'আয়ব আরনাউত্ব হাসান বলেছেন, মুসনাদে আহমাদ ১১/২৮৩; তিরমিযী হাঃ ৫৩৬; ইবনু মাজাহ হাঃ ১২৭৭)
দলীল ৩ : ইবনু 'উমার বর্ণিত হাদীস। 'আনহু (শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ৭২৬৮; তারীখে বাগদাদ হাঃ ৩৪৯৩)
দলীল ৪ : সা'দ কুরায বর্ণিত হাদীস। (বায়হাক্বী হাঃ ৬১৭৭)
দলীল ৫: হুমায়দ ইবনু 'আবদুর রহমান হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব হাঃ ৬৫৫)
দলীল ৬: জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব হাঃ ৪৮৯৫)
দলীল ৭ : 'আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু 'আম্মার তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে। (সুনানে দারাকুত্বনী হাঃ ১৭২৭)
দলীল ৮ : নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত হাদীস। (ইমাম মুহাম্মাদ, মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদ হাঃ ২৩৭; বায়হাক্বী, আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৭৯; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭২১)
দলীল ৯ : ইবনু 'আব্বাস বর্ণিত হাদীস। (ত্ববারানী হাঃ ১০৭০৮, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭০১, ৫৭২৪, বায়হাক্বী'র আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৮১)
দলীল ১০ : 'আত্বা (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত হাদীস। (বায়হাক্বী, আস্ সুনানুল কুবরা হাঃ ৬১৮০)
দলীল ১১ : 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাব হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭১৮)
দলীল ১২ : আবূ সা'ঈদ আল খুদরী হতে বর্ণিত হাদীস। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৫৭২০)
'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার ও ঈদায়নের প্রথম রাক্'আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (ত্বহাবী, শারহু মা'আনিল আসার ৪/৩৪৫)
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস ও প্রথম রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে সাত এবং দ্বিতীয় রাক্'আতে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/১৭৩, হাঃ ৫৭০১)
আমীরুল মু'মিনীন 'উমার ইবনু 'আবদুল ‘আযীযও প্রথম রাক্‘আতে ক্বিরাআতের পূর্বে সাত এবং দ্বিতীয় রাক্‘আতে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/১৭৬)