📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 ফাজ্রের দু’ রাক্‘আত সুন্নাত

📄 ফাজ্রের দু’ রাক্‘আত সুন্নাত


আলায়হি সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
“যখন সলাতের ইক্বামাত হয়ে যাবে তখন (ঐ) ফার্য সলাত ব্যতীত আর কোন সলাত নেই”। (সহীহ মুসলিম ১/২৪৭, হাঃ ৭১০-[৬৩])
'আনহু 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম আলায়হি ক্বায়স ইবনু কাহদ আসলেন এমতাবস্থায় যে, নাবী ফাদ্রের সলাত আদায় করছিলেন। তিনি তাঁর সাথে এ সলাত আদায় করলেন। যখন তিনি (১) সালাম ফিরালেন তখন কাহদ উঠে দাঁড়ালেন এবং ফাত্রের দু' রাক্'আত (সুন্নাত) আদিয় করলেন। নাবী তার দিকে দেখছিলেন। তিনি () তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, مَا هَاتَانِ »الرَّكْعَتَانِ؟ “এ দু' রাক্'আত কিসের? তিনি বললেন, ফার্জের পূর্বের (এই) দুই রাক্'আত সলাত থেকে গিয়েছিল। তখন নাবী চুপ হয়ে গেলেন এবং কিছু বললেন না”। ওয়াসাল্লাম (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২/১৬৪, হাঃ ১১১৬; সহীহ ইবনু হিব্বান ৪/৮২, হাঃ ২৪৬২)
ইমাম হাকিম ও যাহাবী দু'জনেই একে সহীহ বলেছেন। (আল মুস্তাদরাক ১/২৭৪)
এ ব্যাপারে সূর্যোদয়ের পর সলাত আদায়ের যে বর্ণনা আছে- (তিরমিযী হাঃ ৪২৩, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন), তাতে রাবী কৃতাদাহ্ মুদাল্লিস এবং عَنْ عَنْ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। সেজন্য ঐ বর্ণনা সন্দেহযুক্ত ও য'ঈফ।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 দুই সলাত জমা‘ করা

📄 দুই সলাত জমা‘ করা


রসূলুল্লাহ ﷺ সফরে যুহর ও 'আসর সলাত জমা' করে আদায় করেছেন। অনুরূপভাবে মাগরিব ও 'ইশার সলাতও জমা' করে আদায় করেছেন। (সহীহ মুসলিম ১/২৪৫, হাঃ ৭০৪-[৪৬])
অসংখ্য সহাবী সফরে দুই সলাতকে জমা' করে আদায় করার প্রবক্তা ও বাস্তবায়নকারী ছিলেন। যেমন ইবনু 'আব্বাস, আনাস ইবনু মালিক, সা'দ, আবূ মূসা । (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/৪৫২, ৪৫৭)
নাবী কুরআন মাজীদের সবচেয়ে বড় ব্যাখ্যাকার ও মুফাসসির ছিলেন। সেজন্য এটা হতেই পারে না যে, তাঁর কাজ পবিত্র কুরআনের বিরোধী হবে। তাই সফরে দুই সলাত জমা' করাকে কুরআন মাজীদের বিরোধী মনে করা ভুল। ওযর ব্যতীত সলাত জমা করা প্রমাণিত নেই। সফর, বৃষ্টি ও অত্যন্ত জোরালো শার'ঈ ওযরের ভিত্তিতে জমা' করা জায়یয আছে (যেমনটি সহীহ মুসলিমে এসেছে)। জমা' তাকদীম ও তাখীর যেমন যুহরের সময় 'আসর সলাত আদায় করা অথবা 'আসরর সময় যুহর পড়া এ দুই পদ্ধিতই জায়یয আছে।
(আবূ দাউদ ১/১৭৯ হাঃ ১২২০; তিরমিযী ১/১২৪, হাঃ ৫৫৩; মিশকাত হাঃ ১৩৪৪; ইবনু হিব্বান [হাঃ ১৫৯১] একে সহীহ বলেছেন)
সফরে দুই সলাত জমা' করার বর্ণনাসমূহ সহীহুল বুখারীতেও (১/১৪৯, হাঃ ১১০৮-১১১২) মওজুদ রয়েছে। ইবনু 'উমার বৃষ্টি বৃষ্টির সময় দুই সলাত জমা' করে আদায় করতেন।
(মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক ১/১৪৫, হাঃ ৩২৯: সানাদ সহীহ)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 বিত্র্ সলাত

📄 বিত্র্ সলাত


নাবী থেকে এক রাক্'আত বিত্রের সত্যতা কথা ও কর্ম দু'ভাবেই অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে। (সহীহুল বুখারী ১/১৩৫, হাঃ ৯৯০ [কথা]; ১/১৩৫, ১৩৬, হাঃ ৯৯৫ [কর্ম]; সহীহ মুসলিম ১/২৫৭, হাঃ ৭৪৯-[১৪৬] [কথা], ১/২৫৭, হাঃ ৭৪৯-[১৫৭] [কর্ম])
রসূলুল্লাহ বলেছেন: «الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلَاثٍ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْعَلْ»
“বিত্র প্রত্যেক মুসলিমের ওপর হাক্ব বা অধিকার। অতএব যে চায় সে পাঁচ রাক্'আত বিত্র আদায় করুক, যে চায় তিন রাক্'আত আদায় করুক এবং যে চায় এক রাক্'আত বিত্র আদায় করুক।” (আবূ দাউদ ১/২০৮, হাঃ ১৪২২; নাসায়ী ['আত্বাউল্লাহ হানীফ ভুজিয়ানীর আত্ তা'লীকাতুস্ সালাফিয়‍্যাহ্ সহ] ১/২০২, হাঃ ১৭১৩)
এ হাদীসকে ইমাম ইবনু হিব্বان তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (আল ইহসান ৪/৬৩, হাঃ ২৪০৩)
আর ইমাম হাকিম ও যাহাবী দু'জনেই বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন। (আল মুস্তাদরাক ১/৩০২)
তিন রাক্'আত বিত্র আদায়ের পদ্ধতি এই যে, দুই রাক্'আত আদায় করবে এবং সালাম ফিরাবে। অতঃপর এক রাক্'আত বিত্র আদায় করবে। (সহীহ মুসলিম ১/২৫৪, হাঃ ৭৩৬-[১২২], ৭৩৭-[১২৩]; সহীহ ইবনু হিব্বান ৪/৭০, হাঃ ২৪২৬; মুসনাদে আহমাদ ২/৭৬, হাঃ ২৪২০; ত্ববারানী, আল মু'জামুল আওসাত্ব ১/৪২২ : সানাদ সহীহ)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 মাগরিবের সলাতের ন্যায় বিত্র্ আদায় না করা

📄 মাগরিবের সলাতের ন্যায় বিত্র্ আদায় না করা


হাদীস নং- ১
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ لا يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يَقْعُدُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ".
'আয়িশাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ তিন রাক্'আত বিতর আদায় করতেন। কিন্তু তিনি শেষ রাক্'আত ছাড়া বসতেন না। (মুস্তাদরাক হাকিম ১/৩০৪, হাঃ ১১৪০; বায়হাক্বী- সুনানুল কুবরা, হাঃ ৪৮০৩; ফাতহুল বারী হাঃ ৯৯৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম হাকিম এর মুস্তাদরাকে (হাঃ ১১৪০( لَا يُسَلِّمُ “সালাম ফিরাতেন না” ছাপানো হয়েছে। কিন্তু আসলে হবে لَا يَقْعُدُ "বসতেন না”। কেননা ইমাম বায়হাক্বী (সুনানুল কুবরা, হাঃ ৪৮০৩) ইমাম হাকিম থেকে এ হাদীস উল্লেখ করেছেন যেখানে لَا يَقْعُدُ "বসতেন না” আছে। এমনকি ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী ইমাম হাকিম থেকে এ হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৯৯৮ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য) তে এনেছেন। তিনিও لَا يَقْعُدُ “বসতেন না” এভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্হাম্মদুলিল্লা-হ!
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী এ হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৯৯৮ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)-তে এনেছেন এবং কোন সমালোচনা করেননি। আর যেসব হাদীস তিনি ফাতহুল বারীতে এনেছেন, সেগুলো তার কাছে সহীহ অথবা হাসান যেমনটি তিনি ফাতহুল বারীর ভূমিকাতে লিখেছেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, ভূমিকা দ্রষ্টব্য; জা'ফার আহমাদ থানভী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস, পৃঃ ৮৯)
কিন্তু এ হাদীসের রাবী কৃতাদাহ্ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৯২)
আর একজন মুদাল্লিসের হাদীস তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী হাদ্দাসানা- বা সামি'তু বা আখবারানা- বা সানা- বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীসের শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস থাকবে।
এ হাদীসের কিছু শাওয়াহিদ হাদীস রয়েছে। তাই শাওয়াহিদ হিসেবে এ হাদীসটি সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ২:
রসূলুল্লাহ বলেন: তোমরা তিন রাক্'আত বিতর আদায় করো না, বরং পাঁচ অথবা সাত রাক্'আত আদায় করো। আর তা (বিতর) মাগরিবের সলাতের ন্যায় আদায় করো না। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৫০; মুস্তাদরাক হাকিম ১/৩০৪, হাঃ ১১৩৮; ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪২৯; বায়হাক্বী- সুনানুল কুবরা হাঃ ৪৮১৫)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম দারাকুত্বনী বলেন : এর রাবীগণ সিক্বাহ্ । (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৫০)
ইমাম হাকিম তাঁর মুস্তাদরাকে (হাঃ ১১৩৮) শায়খায়নের শর্তে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সমর্থন করেছেন।
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী বলেন: এর রাবীগণ সিক্বাহ্। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, তালখীলসুল হাবীর হাঃ ৫১২)
ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন: হাদীসটি সহীহ। (নাসিরুদ্দীন আলবানী-এর আত্ তা'লীক্বাতুল হিসান আ'লা সহীহ ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪২০)
শু'আয়ব আরনাউত্ব বলেন: এর সানাদ সহীহ। (ইবনু হিব্বান হাঃ ২৪২৯, তাহক্বীক্ব: শু'আয়ব আরনাউত্ব)
হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী বলেন: এর সানাদ সহীহ। (মাওয়ারীদুয যামান ইলা যাওয়ায়িদ ইবনু হিব্বান হাঃ ৬৮০, তাহক্বীক্ব: হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী)
মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী বলেন, এর সানাদ সহীহ। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৬৩৪, তাহক্বীক্ব: মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী)
অতএব এ হাদীসটি নিঃসন্দেহে সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ৩:
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ، لَا يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ إِلَّا فِي آخِرِهَا».
'আয়িশাহ্ বলেন, রসূলুল্লাহ রাতে তের রাক্'আত সলাত আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক্'আত বিতর আদায় করতেন। কিন্তু তিনি শেষ রাক্'আত ছাড়া বসতেন না। (মুসলিম হাঃ ৭৩৭/১২৩)
যেহেতু রসূলুল্লাহ পূর্বের হাদীসে পাঁচ অথবা সাত রাক্'আত বিতর আদায় করতে বলেছেন এবং মাগরিবের অনুরূপ করতে নিষেধ করেছেন, সেহেতু এ হাদীস দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয় যে, তিন রাক্'আতেও শেষ রাক্‘আত ব্যতীত বসা উচিত নয়। (আল্ল-হু আ'লাম)
কেননা এভাবে (শুধু শেষ রাক্'আতে বসে) তিন রাক্'আত বিতর আদায় করলে তা মাগরিবের অনুরূপ হয় না। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ৪:
عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّهُ كَانَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يَقْعُدُ بَيْنَهُنَّ»
ইবনু ত্বাউস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : তার পিতা ত্বাউস (রহিমাহুল্লাহ) তিন রাক্'আত বিতর আদায় করতেন কিন্তু তিনি মাঝে বসতেন না। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব, ৩/২৭, হাঃ ৪৬৬৯)
ত্বাউস (রহিমাহুল্লাহ) একজন বিখ্যাত তাবি'ঈ, ফাক্বীহ, ইমাম, হাফিয ছিলেন। (যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৫/৩৮, রাবী নং ১৩)
উক্ত মাকতু' হাদীসটির সানাদ সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ৫ :
عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَانَ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ لَا يَجْلِسُ فِيهِنَّ، وَلَا يَتَشَهَدُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ
ক্বায়স ইবনু সা'দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'আত্বা (রহিমাহুল্লাহ) তিন রাক্'আত বিত্র আদায় করতেন কিন্তু তিনি মাঝে বসতেন না। আর তিনি শেষ রাক্'আত ছাড়া তাশাহুদ আদায় করতেন না। (মুস্তাদরাক হাকিম, ১/৩০৫, হাঃ ১১৪২)
‘আত্বা (রহিমাহুল্লাহ) একজন বিখ্যাত তাবি'ঈ, ফাক্বীহ, ইমাম ছিলেন- (যাহাবী সিয়ারু 'আলামিন নুবালাহ্ ৫/৭৮, রাবী নং ২৯)। উক্ত মাকতূ' হাদীসটির সানাদ সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00