📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 সাহ্উ সাজদাহ্

📄 সাহ্উ সাজদাহ্


সাহু সাজদাহ্ সালামের পূর্বেও জায়িয আছে। (সহীহুল বুখারী ১/১৬৩, হাঃ ১২২৪; সহীহ মুসলিম ১/২১১)
আর সালামের পরেও জায়িয আছে। (সহীহুল বুখারী হাঃ ১২২৬; সহীহ মুসলিম হাঃ ৫৭৪)
সাহু সাজদার পূর্বে শুধু একদিকে সালাম ফিরানোর কোন প্রমাণ হাদীসসমূহ নেই।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 সম্মিলিত দু‘আ

📄 সম্মিলিত দু‘আ


দু'আ করা অনেক বড় 'ইবাদাত। রসূলুল্লাহ বলেছেন:
الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ
“দু'আই 'ইবাদাত”।
(তিরমিযী ২/১৬০, ১৭৫, হাঃ ৩২৪৭, ৩৩৭২; আবূ দাউদ ১/২১৫, হাঃ ১৪৭৯; তিরমিযী বলেছেন, »هذا حديث حسن صحيح« 'এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস')
সলাতের পরে বিভিন্ন দু'আ প্রমাণিত রয়েছে। (সহীহুল বুখারী ২/৯৩৭, হাঃ ৬৩২৯, ৬৩৩০)
একটি য'ঈফ বর্ণনায় এসেছে যে, নাবী ফার্য সলাতের শেষের দু'আকে অধিক ক্ববূলযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। [তিরমিযী ২/১৮৭, হাঃ ৩৪৯৯; ইমাম তিরমিযী ও আলবানী (রহিমাহুমাল্লাহ) হাদীসটিকে হাসান বলেছেন]
সাধারণ দু'আয় হাত উঠানো মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে। (নুযুমুল মুতানাসির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির পৃঃ ১৯০-১৯১)
তবে ফার্য সলাতের পরে ইমাম ও মুক্তাদীদের সম্মিলিত দু'আ করা প্রমাণিত নয়। (দেখুন: ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ' ফাতাওয়া ১/১৮৪; বযলুল মাজহুদ ৩/১৩৮; ক্বদ ক্বামাতিস্ সলাহ্, পৃঃ ৪০৫)
ভারতের নাসিরুদ্দীন চাঁদপুরী স্বীকার করেছেন, হ্যাঁ, এ কথা অবশ্যই স্মরণীয় যে, পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের পরে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাবন্দী সহকারে হাত তুলে দু'আ করার প্রমাণে কোনো সহীহ হাদীস নেই। তাই কেউ যদি তা পাবন্দী সহ করাকে বিদ'আত বলে মনে হয় ভুল হবে না। (হানাফী কেল্লা ১/১৬৩ পৃঃ)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 ফাজ্রের দু’ রাক্‘আত সুন্নাত

📄 ফাজ্রের দু’ রাক্‘আত সুন্নাত


আলায়হি সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
“যখন সলাতের ইক্বামাত হয়ে যাবে তখন (ঐ) ফার্য সলাত ব্যতীত আর কোন সলাত নেই”। (সহীহ মুসলিম ১/২৪৭, হাঃ ৭১০-[৬৩])
'আনহু 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম আলায়হি ক্বায়স ইবনু কাহদ আসলেন এমতাবস্থায় যে, নাবী ফাদ্রের সলাত আদায় করছিলেন। তিনি তাঁর সাথে এ সলাত আদায় করলেন। যখন তিনি (১) সালাম ফিরালেন তখন কাহদ উঠে দাঁড়ালেন এবং ফাত্রের দু' রাক্'আত (সুন্নাত) আদিয় করলেন। নাবী তার দিকে দেখছিলেন। তিনি () তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, مَا هَاتَانِ »الرَّكْعَتَانِ؟ “এ দু' রাক্'আত কিসের? তিনি বললেন, ফার্জের পূর্বের (এই) দুই রাক্'আত সলাত থেকে গিয়েছিল। তখন নাবী চুপ হয়ে গেলেন এবং কিছু বললেন না”। ওয়াসাল্লাম (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২/১৬৪, হাঃ ১১১৬; সহীহ ইবনু হিব্বান ৪/৮২, হাঃ ২৪৬২)
ইমাম হাকিম ও যাহাবী দু'জনেই একে সহীহ বলেছেন। (আল মুস্তাদরাক ১/২৭৪)
এ ব্যাপারে সূর্যোদয়ের পর সলাত আদায়ের যে বর্ণনা আছে- (তিরমিযী হাঃ ৪২৩, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন), তাতে রাবী কৃতাদাহ্ মুদাল্লিস এবং عَنْ عَنْ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। সেজন্য ঐ বর্ণনা সন্দেহযুক্ত ও য'ঈফ।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 দুই সলাত জমা‘ করা

📄 দুই সলাত জমা‘ করা


রসূলুল্লাহ ﷺ সফরে যুহর ও 'আসর সলাত জমা' করে আদায় করেছেন। অনুরূপভাবে মাগরিব ও 'ইশার সলাতও জমা' করে আদায় করেছেন। (সহীহ মুসলিম ১/২৪৫, হাঃ ৭০৪-[৪৬])
অসংখ্য সহাবী সফরে দুই সলাতকে জমা' করে আদায় করার প্রবক্তা ও বাস্তবায়নকারী ছিলেন। যেমন ইবনু 'আব্বাস, আনাস ইবনু মালিক, সা'দ, আবূ মূসা । (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২/৪৫২, ৪৫৭)
নাবী কুরআন মাজীদের সবচেয়ে বড় ব্যাখ্যাকার ও মুফাসসির ছিলেন। সেজন্য এটা হতেই পারে না যে, তাঁর কাজ পবিত্র কুরআনের বিরোধী হবে। তাই সফরে দুই সলাত জমা' করাকে কুরআন মাজীদের বিরোধী মনে করা ভুল। ওযর ব্যতীত সলাত জমা করা প্রমাণিত নেই। সফর, বৃষ্টি ও অত্যন্ত জোরালো শার'ঈ ওযরের ভিত্তিতে জমা' করা জায়یয আছে (যেমনটি সহীহ মুসলিমে এসেছে)। জমা' তাকদীম ও তাখীর যেমন যুহরের সময় 'আসর সলাত আদায় করা অথবা 'আসরর সময় যুহর পড়া এ দুই পদ্ধিতই জায়یয আছে।
(আবূ দাউদ ১/১৭৯ হাঃ ১২২০; তিরমিযী ১/১২৪, হাঃ ৫৫৩; মিশকাত হাঃ ১৩৪৪; ইবনু হিব্বান [হাঃ ১৫৯১] একে সহীহ বলেছেন)
সফরে দুই সলাত জমা' করার বর্ণনাসমূহ সহীহুল বুখারীতেও (১/১৪৯, হাঃ ১১০৮-১১১২) মওজুদ রয়েছে। ইবনু 'উমার বৃষ্টি বৃষ্টির সময় দুই সলাত জমা' করে আদায় করতেন।
(মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক ১/১৪৫, হাঃ ৩২৯: সানাদ সহীহ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00