📄 তাশাহহুদের সময় শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা
হাদীস নং- ১ :
أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ قُدَامَةَ الْجَدَلِي، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ نُمَيْرٍ الْخُزَاعِيُّ - مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ - أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللهِ ﷺ قَاعِدًا فِي الصَّلَاةِ، وَاضِعًا ذِرَاعَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى رَافِعًا أَصْبُعَهُ السَّبَّابَةَ، قَدْ أَحْنَاهَا شَيْئًا وَهُوَ يَدْعُو».
আহমাদ ইবনু ইয়াহইয়া আস্ সূফী (রহিমাহুল্লাহ) ..... মালিক ইবনু নুমায়র (রহিমাহুল্লাহ)-এর পিতা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ -কে সলাতে বসা অবস্থায় ডান হাত ডান উরুর উপর রেখে শাহাদাত আঙ্গুল উঁচু করে কিছুটা ঝুঁকিয়ে রেখে ইশারা করতে দেখেছি। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৯১; নাসায়ী হাঃ ১২৭৪; ইবনু খুযায়মাহ্, হাঃ ৭১৬; ইবনু হিব্বান হাঃ ১৯৪৬)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম ইবনু খুযায়মাহ্ তাঁর "সহীহ খুযায়মাহ্”-তে (হাঃ ৭১৬) হাদীসটি এনেছেন। অর্থাৎ তার নিকট এ হাদীসটি সহীহ এবং এর রাবীগণ সিক্বাহ্।
ইমাম ইবনু হিব্বান তাঁর “সহীহ ইবনু হিব্বান”-এ (হাঃ ১৯৪৬) হাদীসটি এনেছেন। অর্থাৎ তার নিকট এ হাদীসটি সহীহ এবং এর রাবীগণ সিক্বাহ্।
এ হাদীসের রাবী মালিক ইবনু নুমায়র-কে মাজহুল মনে করা হয়। কিন্তু আসলে তিনি মাজহুল নন বরং হাসানুল হাদীস।
কেননা ইমাম ইবনু খুযায়মাহ্ ও ইমাম ইবনু হিব্বান তাদের “সহীহ” গ্রন্থে এ হাদীসটি এনে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে উক্ত হাদীসের রাবীগণ তাদের নিকট সিক্বাহ্। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
অতএব উক্ত হাদীসটির সানাদ হাসান। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
হাদীস নং- ২:
عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلَاةِ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ، وَأَتْبَعَهَا بَصَرَهُ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَهِيَ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنَ الْحَدِيدِ يَعْنِي السَّبَّابَةَ.
নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার যখন সলাতে বসতেন, তখন নিজের দুই হাত নিজের দুই হাঁটুর উপর রাখতেন। আর শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং তার চোখের দৃষ্টি থাকতো (শাহাদাত) আঙ্গুলের দিকে। 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: এটি (শাহাদাত আঙ্গুল) শায়ত্বনের ওপর লোহার থেকেও বেশী কষ্টদায়ক। 'আনহু (মুসনাদে আহমাদ ২/১১৯, হাঃ ৬৪২; মিশকাত হাঃ ৯১৭: সানাদ হাসান)
হাদীস নং- ৩ :
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ لا يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، وَإِذَا جَلَسَ أَضْجَعَ الْيُسْرَى، وَنَصَبَ الْيُمْنَى، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى، وَيَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى، وَعَقَدَ ثِنْتَيْنِ الْوُسْطَى وَالْإِبْهَامَ وَأَشَارَ»
ওয়ায়িল ইবনু হুজরা বলেন, আমি রসূলুল্লাহ-কে দেখেছি, সলাতে (বসা অবস্থায়) বাম হাত বাম উরুর উপর ও ডান হাত ডান উরুর উপর রাখলেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুলদ্বয় আবদ্ধ করে রাখলেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুল একত্রে করে বৃত্তাকার করলেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন। (আবূ দাউদ হাঃ ৭২৬, নাসায়ী হাঃ ১২৬৩: সানাদ সহীহ)
এছাড়াও রসূলুল্লাহ ﷺ «فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا» শাহাদাত আঙ্গুল নাড়াতেন ও এর মাধ্যমে দু'আ করতেন। (নাসায়ী হাঃ ১২৬৮; ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ৭১৪; ইবনু হিব্বান হাঃ ১৮৬০, ইবনুল জারূদ, মুনতাক্বা হাঃ ২০৮: সানাদ সহীহ)
শুধুমাত্র “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর সময় শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে তা আবার নামিয়ে ফেলানো কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় বুঝা যায়। তাশাহ্হুদের সময় বাম হাত বাম হাঁটু বা উরুর উপর এবং ডান হাত ডান হাঁটু বা উরুর উপর রাখতে হয়। মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুল একত্রে করে বৃত্তাকার করতে হয়। বিশেষ করে দু'আর সময় শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতে হয় ও নাড়াতে হয়। আর ইশারা করার সময় চোখের দৃষ্টি থাকবে শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে। এ পদ্ধতিই রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাত। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)
📄 সাহ্উ সাজদাহ্
সাহু সাজদাহ্ সালামের পূর্বেও জায়িয আছে। (সহীহুল বুখারী ১/১৬৩, হাঃ ১২২৪; সহীহ মুসলিম ১/২১১)
আর সালামের পরেও জায়িয আছে। (সহীহুল বুখারী হাঃ ১২২৬; সহীহ মুসলিম হাঃ ৫৭৪)
সাহু সাজদার পূর্বে শুধু একদিকে সালাম ফিরানোর কোন প্রমাণ হাদীসসমূহ নেই।
📄 সম্মিলিত দু‘আ
দু'আ করা অনেক বড় 'ইবাদাত। রসূলুল্লাহ বলেছেন:
الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ
“দু'আই 'ইবাদাত”।
(তিরমিযী ২/১৬০, ১৭৫, হাঃ ৩২৪৭, ৩৩৭২; আবূ দাউদ ১/২১৫, হাঃ ১৪৭৯; তিরমিযী বলেছেন, »هذا حديث حسن صحيح« 'এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস')
সলাতের পরে বিভিন্ন দু'আ প্রমাণিত রয়েছে। (সহীহুল বুখারী ২/৯৩৭, হাঃ ৬৩২৯, ৬৩৩০)
একটি য'ঈফ বর্ণনায় এসেছে যে, নাবী ফার্য সলাতের শেষের দু'আকে অধিক ক্ববূলযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন। [তিরমিযী ২/১৮৭, হাঃ ৩৪৯৯; ইমাম তিরমিযী ও আলবানী (রহিমাহুমাল্লাহ) হাদীসটিকে হাসান বলেছেন]
সাধারণ দু'আয় হাত উঠানো মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে। (নুযুমুল মুতানাসির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির পৃঃ ১৯০-১৯১)
তবে ফার্য সলাতের পরে ইমাম ও মুক্তাদীদের সম্মিলিত দু'আ করা প্রমাণিত নয়। (দেখুন: ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ' ফাতাওয়া ১/১৮৪; বযলুল মাজহুদ ৩/১৩৮; ক্বদ ক্বামাতিস্ সলাহ্, পৃঃ ৪০৫)
ভারতের নাসিরুদ্দীন চাঁদপুরী স্বীকার করেছেন, হ্যাঁ, এ কথা অবশ্যই স্মরণীয় যে, পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের পরে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাবন্দী সহকারে হাত তুলে দু'আ করার প্রমাণে কোনো সহীহ হাদীস নেই। তাই কেউ যদি তা পাবন্দী সহ করাকে বিদ'আত বলে মনে হয় ভুল হবে না। (হানাফী কেল্লা ১/১৬৩ পৃঃ)
📄 ফাজ্রের দু’ রাক্‘আত সুন্নাত
আলায়হি সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةُ
“যখন সলাতের ইক্বামাত হয়ে যাবে তখন (ঐ) ফার্য সলাত ব্যতীত আর কোন সলাত নেই”। (সহীহ মুসলিম ১/২৪৭, হাঃ ৭১০-[৬৩])
'আনহু 'আলায়হি ওয়াসাল্লাম আলায়হি ক্বায়স ইবনু কাহদ আসলেন এমতাবস্থায় যে, নাবী ফাদ্রের সলাত আদায় করছিলেন। তিনি তাঁর সাথে এ সলাত আদায় করলেন। যখন তিনি (১) সালাম ফিরালেন তখন কাহদ উঠে দাঁড়ালেন এবং ফাত্রের দু' রাক্'আত (সুন্নাত) আদিয় করলেন। নাবী তার দিকে দেখছিলেন। তিনি () তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, مَا هَاتَانِ »الرَّكْعَتَانِ؟ “এ দু' রাক্'আত কিসের? তিনি বললেন, ফার্জের পূর্বের (এই) দুই রাক্'আত সলাত থেকে গিয়েছিল। তখন নাবী চুপ হয়ে গেলেন এবং কিছু বললেন না”। ওয়াসাল্লাম (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২/১৬৪, হাঃ ১১১৬; সহীহ ইবনু হিব্বান ৪/৮২, হাঃ ২৪৬২)
ইমাম হাকিম ও যাহাবী দু'জনেই একে সহীহ বলেছেন। (আল মুস্তাদরাক ১/২৭৪)
এ ব্যাপারে সূর্যোদয়ের পর সলাত আদায়ের যে বর্ণনা আছে- (তিরমিযী হাঃ ৪২৩, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন), তাতে রাবী কৃতাদাহ্ মুদাল্লিস এবং عَنْ عَنْ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। সেজন্য ঐ বর্ণনা সন্দেহযুক্ত ও য'ঈফ।