📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 রফ‘উল ইয়াদায়ন

📄 রফ‘উল ইয়াদায়ন


রসূলুল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত সলাতে রফ'উল ইয়াদায়ন করেছেন।
সহীহুল বুখারী থেকে প্রমাণিত। আছে কোন দেওবন্দী হানাফী মুক্বাল্লিদ এ দলীলকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করবে?
সহীহুল বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণ হাদীস নং-১ :
নোট : মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস ৯ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন- (হানাফী কেল্লা ৪৩-৪৪)। রসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন ১১ হিজরীতে, ইসলাম পরিপূর্ণ হয় ১০ম হিজরীতে ৯ যিলহাজ্জ, মাত্র ১বছর পূর্বের 'আমাল।
عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، أَتَيْنَا إِلَى النَّبِيِّ لا وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ لا رَحِيمًا رَفِيقًا، فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَهَيْنَا أَهْلَنَا - أَوْ قَدِ اشْتَقْنَا - سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا بَعْدَنَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، قَالَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ
وَمُرُوهُمْ - وَذَكَرَ أَشْيَاءَ أَحْفَظُهَا أَوْ لَا أَحْفَظُهَا - وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلَّى، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنُ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ
আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক (ইবনু হুওয়ায়রিস) বলেন: আমরা সমবয়সী একদল যুবক নাবী -এর নিকট হাজির হলাম। ২০ দিন তাঁর নিকট অবস্থান করলাম।.... অতঃপর তিনি ( ﷺ ) (আমাদের) বললেন, তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর। আর তাদের (দ্বীন) শিক্ষা দাও “وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلَّى” “এবং তোমরা আমাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে তোমরা সলাত আদায় করবে"। (বুখারী ৬৩১, ৬০০৮, ৭২৪৬; ইবনু খুযায়মাহ্ ৩৯৭, ৫৮৬; ইবনু হিব্বান ১৬৫৮, ১৮৭২; দারিমী ১২৮৮, দারাকুত্বনী ১০৬৮, ১০৬৯, ১৩১১; বায়হাক্বী ৩৮৫৬, ৫২৯৩; আদাবুল মুফরাদ ২১৩, মুসনাদ شافي'ঈ ২৯৪, মুশকিলুল আসার ১৭২৫, মারিফাতুস্ সুনান ৪৬০৪, ৫৮৯৩, ৫৮৯৫)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
নোট : মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস নিজের গ্রামে ফিরে এসে প্রতিবেশীদের বলেন:
عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: جَاءَنَا مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ - فِي مَسْجِدِنَا هُذَا - فَقَالَ: إِنِّي لَأُصَلَّى بِكُمْ وَمَا أُرِيدُ الصَّلَاةَ، أُصَلِّي كَيْفَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ يُصَلَّى، فَقُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ: كَيْفَ كَانَ يُصَلَّى؟ قَالَ: مِثْلَ شَيْخِنَا هُذَا، قَالَ: وَكَانَ شَيْخًا، يَجْلِسُ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، قَبْلَ أَنْ يَنْهَضَ فِي الرَّكْعَةِ الأولى».
আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস আমাদের এ মাসজিদে এলেন। অতঃপর তিনি বললেন : আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সলাত আদায় করব। বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সলাত আদায় করা নয়, বরং নারী -কে যেভাবে আমি সলাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। (বুখারী ৬৭৭, ৮২৪; আবূ দাউদ ৮৪২, বায়হাক্বী ২৭৫৯)
মুসনাদ শাফি'ঈতে রয়েছে, মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস আল্লাহ্র শপথ করে অত্র কথা বলেছেন।
নোট: কেননা নাবী মালিক ইবনু হুওয়ায়রিসদের বলেছিলেন : তোমরা আমাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে তোমরা সলাت আদায় করবে। এটা নাবী-এর নির্দেশ। তাই মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস সলাতের প্রশিক্ষণ প্রদানকালে বলেন: বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সলাত আদায় করা নয় বরং নাবী -কে আমি যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। (বুখারী ৮২৪)
নোট: মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস অতঃপর সলাত আদায় করে গ্রামে প্রতিবেশীদের দেখালেন,
عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، أَنَّهُ رَأَى مَالِكَ بْنَ الحُوَيْرِثِ إِذَا صَلَّى كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَ يَدَيْهِ» وَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَنَعَ هُكَذَا.
আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস -কে দেখেছেন, তিনি যখন সলাত আদায় করতেন তখন তাক্ববীর বলতেন এবং তাঁর দু' হাত উঠাতেন। আর যখন রুকূ' করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুকূ' হতে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ এরূপ করেছেন। (বুখারী ৭৩৭, মুসলিম ৪/৯, হাঃ ৩৯১; আহমাদ ২০৫৫৮, আধুনিক প্রকাশনী: ৬৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশন: ৭০১)
নোট : অতএব মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস-এর হাদীস দ্বারাও অব্যাহত ধারায় نাবী-এর আজীবন রফ'উল ইয়াদায়ন করা প্রমাণিত হল।
নোট : সহীহুল বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ৯ম হিজরী পর্যন্ত রফ'উল ইয়াদায়ন জারি ছিল আলহামদুলিল্লা-হ।
হাদীস নং- ২: ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র মাদীনায় এলে নাবী তাঁর জন্য চাদর বিছিয়ে দেন এবং নিজের পাশে বসিয়ে তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন,
اللَّهُمَّ بَارِكَ فِي وَائل بن حجر وولده وولد ولده. অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র, তার সন্তান-সন্ততির প্রতি বারাকাত প্রদান কর। (তারীখে কাবীর ২৬০৭, সিকাত ইবনু হিব্বান ১৩৯৬, ইসতীআব ২৭৩৬, মারিফাতুস্ সহাবা ৬৪৭৫)
ওয়ায়িল ইয়ামানের বড় বাদশাহ ছিলেন- (ইবনু হিব্বান, আস্ সিকাত ৩/৪২৪)। তিনি ৯ম হিজরীতে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নাবী -এর নিকটে আগমন করেছিলেন- (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/৭১, আইনী, উমদাতুল ক্বারী হাঃ ৭৩৫, ৫/২৭৪)।
তিনি (আ.) পরবর্তী বছর ১০ম হিজরীতেও মাদীনাহ্ মুনাউওয়ারায় এসেছিলেন। (সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/১৬৭, ১৬৮, হাঃ ১৮৫৭)
রসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন ১১ম হিজরীতে, ইসলাম পরিপূর্ণ হয় ১০ম হিজরীতে ৯-এ যিলহাজ্জ।
ওয়ায়িল বলেন, অতঃপর আমি শীতের সময় তাঁদের নিকট এসে দেখলাম, তখনও তাঁরা কাপড়ের ভিতরে (ও) রফ'উল ইয়াদায়ন করে সলাত আদায় করেছেন। (মুসনাদ হুমায়দী হাঃ ৯০৯, বায়হাক্বী হাঃ ২৩০৫, মুসনাদ শাফি'ঈ হাঃ ১৯৫, মারিফাতুস্ সুনান হাঃ ২৯৬৫, ৩২৩৯; দারাকুত্বনী হাঃ ১২০৯)
তিনি অন্য বর্ণনায় বলেন,
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: «أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَرَأَيْتُهُ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ حَتَّى يُحَاذِيَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ أَضْجَعَ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ اليمنى، وَنَصَبَ أَصْبُعَةَ لِلدُّعَاءِ، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى»، قَالَ: ثُمَّ أَتَيْتُهُمْ مِنْ قَابِلٍ فَرَأَيْتُهُمْ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ فِي الْبَرَانِسِ.
ওয়ায়িল ইবনু হুজর বলেন, আমি রসূলুল্লাহ-এর নিকট এলাম। অতঃপর তাঁকে দেখলাম যে, তিনি () সলাত আরম্ভকালে ও রুকূ' করার সময় কাঁধ পর্যন্ত রফ'উল ইয়াদায়ন করলেন। তিনি যখন দু' রাক্'আতে বসলেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন। আর ডান পা খাড়া করে রাখলেন। আর তার ডান হাত ডান উরু এবং বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন ও দু'আ করার জন্য তার আঙ্গুল খাড়া করলেন। তিনি বলেন, অতঃপর আগামী বছর (১০ হিজরী) তাঁদের নিকট এলাম, তখনও তাঁদের কাপড়ের ভিতর রফ'উল ইয়াদায়ন করতে দেখলাম। (নাসায়ী হাঃ ১১৫৯, নাসায়ী কুবরা হাঃ ৭৫০: সানাদ সহীহ)
ওয়ায়িল ইবনু হুজর-এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, (মনে মনে) আমি বললাম: অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ-এর সলাত দেখব কিভাবে তিনি তা আদায় করছেন। (আবূ দাউদ হাঃ ৭২৬, ১৩৯৭; বায়হাক্বী হাঃ ২৭৮৭, ত্ববারানী হাঃ ৮৪, ৯০; মারিফাতুস্ সুনান হাঃ ৩৬৪৫, মুনতাক্বা হাঃ ২০২)
(১০ হিজরী) পর্যন্ত রফ'উল ইয়াদায়ন প্রমাণিত হলো ইসলাম পরিপূর্ণ হয় ১০ হিজরী ৯ যিলহাজ্জ, আল্হাম্মদুলিল্লা-হ।
আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী দেওবন্দী বলেছেন যে, وَلْيَعْلَمْ أَنَّ الرَّفْعَ مُتَوَاتِرُ إِسْنَادًا وَعَمَلًا، لَا يَشُكُّ فِيهِ وَلَمْ يُنْسَخْ وَلَا حرف منه
“জেনে রাখা উচিত যে, সানাদ ও 'আমাল দু'দিক থেকেই রফ'উল ইয়াদায়ন মুতাওয়াতির। এতে কোন সন্দেহ নেই। আর রফ'উল ইয়াদায়ন মানসূখ বা রহিত হয়নি। এমনকি এর একটি হরফও মানসূখ হয়নি।” (নায়লুল ফিরকাদায়ন পৃঃ ২৪; ফায়যুল বারী ২/৪৫৫, পাদটীকা)
ইবনু 'উমার থেকে বর্ণিত আছে যে, 'আনহু
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا، وَقَالَ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الحَمْدُ، وَكَانَ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ
“রসূলুল্লাহ যখন সলাত শুরু করতেন তখন তাঁর দু' হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। এভাবে যখন রুকূ'র তাকবীর বলতেন এবং রুকূ' থেকে মাথা উঠাতেন, তখনও তাঁর দু' হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং বলতেন, سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‘আল্লাহ শোনেন তার কথা যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু! আপনার জন্যই যাবতীয় প্রশংসা'। আর তিনি সাজদায় রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন না'।” (সহীহুল বুখারী ১/১০২, হাঃ ৭৩৫; সহীহ মুসলিম ১/১৬৮, হাঃ ৩৯০)
'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার থেকে রফ'উল ইয়াদায়ন না করার হাদীসটি প্রমাণিত নয়।
وَيُرْوَى عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ أَنَّهُ لَمْ يَرَ ابْنَ عُمَرَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَّا فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى.
মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : তিনি (‘আবদুল্লাহ) ইবনু 'উমার -কে প্রথম তাকবীর ছাড়া রফ'উল ইয়াদায়ন করতে দেখেননি। (বুখারী, জুযউ রফ'উল ইয়াদায়ন হাঃ ১৫; ত্বহাবী শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ১৩৫৭)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেন: رواه أبو بكر بن عياش عن حصين عن مجاهد عن ابن عمر وهو باطل. অর্থাৎ আবূ বকর ইবনু 'আইয়‍্যাশ সূত্রের বর্ণনাটি বাতিল। (মাসায়িলু আহমাদ, ইবনু হানীর বর্ণনা, ১/৫০)
ইবনু 'উমার রফ'উল ইয়াদায়ন পরিত্যাগ করার কারণে কাঁকর মারতেন।
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَاقِدٍ يُحَدِّثُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا رَأَى رَجُلًا لَا يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَمَاهُ بِالْحَصَى
নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ('আবদুল্লাহ) ইবনু 'উমার যখন কোন ব্যক্তিকে রুকূ'তে যাওয়ার সময় ও রুকূ' থেকে উঠার সময় রফ'উল ইয়াদায়ন করতে না দেখতেন, তখন তার দিকে কাঁকর ছুঁড়ে মারতেন। (মুসনাদে হুমায়দী হাঃ ৬২৭; বুখারী, জুযউ রফউল ইয়াদায়ন হাঃ ১৪; দারাকুত্বনী হাঃ ১১১৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) এ হাদীসের সানাদকে সহীহ বলেছেন। (নাবাবী, আল মাজমূ' শারহুল মুহাযযাব ৩/৪০৫)
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী এ হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৭৩৫ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)-তে এনেছেন এবং কোন সমালোচনা করেননি। আর যেসব হাদীস তিনি ফাতহুল বারীতে এনেছেন, সেগুলো তার কাছে সহীহ অথবা হাসান যেমনটি তিনি ফাতহুল বারীর ভূমিকাতে লিখেছেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, ভূমিকা দ্রষ্টব্য, জা'ফার আহমাদ থানভী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ৮৯)
'আল্লামাহ্ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর সানাদ সহীহ। (নাসিরুদ্দীন আলবানী'র “সিলসিলাতুয য'ঈফাহ্” হাঃ ৯৪৩-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর সানাদ সহীহ। (জুযউ রফ'উল ইয়াদায়ন হাঃ ১৩, তাহক্বীক্ব: যুবায়র 'আলী যাঈ)'
হুসায়ন সালিম আসাদ্ দারানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর সানাদ সহীহ। (মুসনাদে হুমায়দী হাঃ ৬২৭, তাহক্বীক্ব : হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী)
অতএব 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার-এর কাঁকর ছুঁড়ে মারার বর্ণনাটি নিঃসন্দেহে সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 রফ‘উল ইয়াদায়ন না করার হাদীসের জবাব

📄 রফ‘উল ইয়াদায়ন না করার হাদীসের জবাব


عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: «أَلَا أُصَلَّى بِكُمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللهِ ﷺ؟ فَصَلَّى، فَلَمْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِلَّا فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ».
ইবনু মাস্'ঊদ বলেন, “আমি কি তোমাদের নিয়ে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর সলাতের ন্যায় সলাত আদায় করব না? অতঃপর তিনি সলাত আদায় করলেন এবং প্রথমবার ছাড়া তার হস্তদ্বয় উঠালেন না।” (সুনানে তিরমিযী ১/৫৯, হাঃ ২৫৭; সুনান আবূ দাউদ হাঃ ৭৪৮, সুনান নাসায়ী হাঃ ১০৫৮, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৩২৩, মুসনাদ আবূ ইয়া'লা হাঃ ৫০৪০, ৫৩০২)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : সুফ্ইয়ান সাওরী মুদাল্লিস। (ইবনুত্ তুর্কুমানী হানাফী, আল জাওহারুন্ নাকী ৮/২৬২, মুদাল্লিস রাবীর عن ওয়ালা বর্ণনা য'ঈফ হয়, মুকুদ্দামা ইবনুস্ সলাহ্ পৃঃ ৯৯, আল কিফায়াহ্ পৃঃ ৩৬৪)
যে সকল মুহাদ্দিসগণ সুফিয়ান সাওরী-কে মুদাল্লিস ঘোষণা দিয়েছেন : [১] 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (তাহযীব ৪/১০২), [২] ইয়াহইয়া ইবনু সায়িদ (তাহযীব ১১/২১৮), [৩] ইমাম বুখারী (আল ইলাল আল কাবীর ২/৯৬৬, আল তামহীদ- 'আবদুর বার্ ১/৩৪), [৪] নাসায়ী (তাবাক্কাত আল মুদাল্লিসীন পৃঃ ৩৪), [৫] ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন (আল কিফায়া আল খতীব পৃঃ ৩৬১), [৬] আবূ মুহাম্মাদ আল মাকদিসী (কাসিদা ফি আল মুদাল্লিসীন পৃঃ ৪৭, ৮০), [৭] ইবনু তুরকুমানি হানাফী (আল জাওহার আল নাকি), ৮/২৬২), [৮] হাফিয ইবনু হাজার 'আসক্বালানী (তাকরীবুত্ তাহযীব ১৯৭), [৯] 'আল্লামাহ্ যাহাবী (মীযানু ই'তিদাল ২/১২৯), [১০] সালাহউদ্দীন আল আলাই (জামি আল তাহসীল পৃঃ ৯৯), [১১] হাফিয ইবনু রজব (শারহে 'আলাল তিরমিযী ১/৩৫৮), [১২] বদরউদ্দীন আইনী হানাফী (উমদাতুল কারী শারহে বুখারী ৩/১১২), [১৩] 'আল্লামাহ্ কুস্তালানী (ইরশাদ আল সারী শারহে বুখারী ১/২৮৬), [১৪] আবূ না'ঈম আল ফাদাল ইবনু দুকায়ন আল কূফী (তারীখ আবূ জুরাহ আল দিমাশকী ১১৯৩), [১৫] আবূ 'আসিম আল দাহাক ইবনু মাখলাদ আল নাবীল (সুনান আদ দারাকুত্বনী ৩/২০১), [১৬] 'আলী ইবনু 'আবদুল্লাহ আল মাদিনী (আল কিফায়া আল খতীব পৃঃ ৩৬২), [১৭] আবূ জুরা ইবনু আল 'ইরাক্বী (কিতাব আল মুদাল্লিসীন ২১), [১৮] হাকিম (মারিফাত উলুম আল হাদীস ১০৬), [১৯] ইবনু হিব্বান (ইবনু হিব্বান-এর "আল ইহসান” ১/৬১), [২০] আল সুয়ূতী (আসমা মান উরিফা বিত্ তাদলীস: ২৪)।
বদরউদ্দীন আইনী হানাফী লিখেছেন, “সুফিয়ান সাওরী একজন অন্যতম মুদাল্লিস এবং যখন একজন মুদাল্লিস 'আন শব্দে হাদীস বর্ণনা করে এবং তার শ্রবণ (শুনা) প্রমাণিত না হয় তখন তার হাদীস গ্রহণযোগ্য হয় না।” (উমদাতুল কারী শারহে বুখারী ৩/১১২)
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সুফিয়ান সাওরী একজন মুদাল্লিস রাবী, তিনি দুর্বল এবং অপরিচিতি রাবীদের কাছে থেকে তাদলীস করতেন এবং রিজাল শাস্ত্রানুযায়ী মুদাল্লিস রাবীর 'আন শব্দে বর্ণিত হাদীস দুর্বল হয়। আলোচিত হাদীসটি মুদাল্লিস রাবী সুফ্ইয়ান সাওরী থেকে 'আন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। অতএব হাদীসটি নিঃসন্দেহে দুর্বল এবং কখনোই তা গ্রহণযোগ্য নয়।
যে সকল মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন: [১] 'আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (তিরমিযী ১/৫৯, শারহে আল নাওয়ায়ী ৩/৪০৩), [২] ইমাম শাফী'ঈ এ হাদীসটিকে মিথ্যা বলেছেন (ইবনু হাজার 'আসক্বালঅনী-এর “ফাতহুল বারী ২/১৭৫), [৩] ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেন- “এটা দুর্বল” (আল তামহীদ ৯ম খণ্ড, পৃঃ ২১৯), [৪] ইমাম আবু হাতিম বলেন- “এটা একটা ভুল” (ইলাল আল হাদীস ১/৯৬), [৫] ইমাম দারাকুত্বনী বলেন- “হাদীসটি প্রমাণিত নয়” (আল ইলাল, দারাকুত্বনী ভলিউম ৫, পৃঃ ৭৩, ১৮২-৮৩), [৬] ইয়াহ্ইয়া ইবনু আদাম হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন (আল তালখীস আল হাবীর ১/২২২), [৭] ইমাম আবূ বাক্ আল বায্যার বলেন- হাদীসটি প্রমাণিত নয় (আল তামহীদ ৯/২২০-২২১), [৮] ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াজা বলেন- রফ'উল ইয়াদায়ন না করার সমস্ত হাদীস দুর্বল (আল তামহীদ ৯/২২১), [৯] ইমাম বুখারীর বক্তব্য আগেই পেশ করেছি, [১০] ইমাম কুত্ত্বান ফাসী রফ'উল ইয়াদায়ন না করার হাদীসকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন (নাসবুর রায়াহ ১/৩৯৫), [১১] ইমাম ইবনু আল মুলকান হাদীসটিকে য'ঈফ বলেছেন (আল বাদার আল মানার ৩/৪৯২), [১২] ইমাম হাকিম (তাহযীব আল সুনান ২/৪৪৯), [১৩] ইমাম মুহাম্মাদ নাস্ত্র মারুজী (নাসবুর রায়াহ ১/৩৯৫), [১৪] ইমাম ইবনু কুদামাহ্ আল মাকদিসী (আল মুগনী ১/২৯৫), [১৫] ইমাম ইবনু 'আবদুল বার (আল তামহীদ ৯/২২১-২২২), [১৬] ইমাম বায়হাক্বী (মুখতাসার খিলাফিয়াত ১/৩৭৮)।
দ্বিতীয় বিষয় এই যে, বিশের অধিক ইমাম একে য'ঈফ আখ্যা দিয়েছেন। এজন্য এ সানাদটি য'ঈফ।
হাদীস নং- ২: عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ لَا يَعُودُ».
বারা থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ যখন সলাত আরম্ভ করতেন, তখন দুই কানের নিকটবর্তী পর্যন্ত দুই হাত উত্তোলন করতেন। অতঃপর তিনি () আর এরূপ করতেন না। (আবূ দাউদ হাঃ ৭৪৯, ১/১০৯ পৃঃ; ত্বহাবী হাঃ ১২৪৫, দারাকুত্বনী ১/২৯৩, বায়হাক্বী ২/৭৬)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : 'অতঃপর তিনি () আর হাত তুলতেন না' কথাটুকু উক্ত হাদীসের সাথে পরবর্তীতে কেউ সংযোগ করেছে। আর ইমাম আবূ দাউদের ভাষ্য অনুযায়ী এটা কূফাতে হয়েছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের কোথাও এমনটি ঘটেনি। যেমন ইমাম আবূ দাউদ বলেন,
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ، نَحْوَ حَدِيثِ شَرِيكٍ، لَمْ يَقُلْ: «ثُمَّ لَا يَعُودُ» قَالَ سُفْيَانُ: قَالَ لَنَا بِالْكُوفَةِ بَعْدُ ثُمَّ لَا يَعُودُ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَرَوَى هُذَا الْحَدِيثَ هُشَيْمٌ، وَخَالِدٌ، وَابْنُ إِدْرِيسَ ، عَنْ يَزِيدَ، لَمْ يَذْكُرُوا «ثُمَّ لَا يَعُودُ».
“সুফিয়ান আমাদের কাছে ইয়াযীদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা পূর্বের শারীক বর্ণিত হাদীসের ন্যায়। কিন্তু অতঃপর আর করতেন না' এ কথা বলেননি। সুইয়ান বলেন, 'পরবর্তীতে কূফায় আমাদেরকে উক্ত কথা বলা হয়েছে'। তিনি আরো বলেন, 'ইয়াযীদ এ হাদীসটি হুশায়ম, খালিদ ও ইদরীস থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু 'অতঃপর পুনরায় আর হাত তুলেননি' কথাটি উল্লেখ করেননি।” (আবূ দাউদ হাঃ ৭৫০, ১/১০৯ পৃঃ; সিলসিলাতুয য'ঈফাহ্ হাঃ ৯৪৩)
দ্বিতীয়তঃ এ- সানাদে ইয়াযীদ ইবনু আবূ যিয়াদ আছে। সে য'ঈফ রাবী এবং বড় মাপের শী'আ ছিলেন। (তারীখ ইবনু মা'ঈন রাবী ৩১৪৪; তাকরীবুত্ তাহযীব নং ৭৭২৭)
ইমাম ইবনু মা'ঈন বলেন: এ হাদীসের সানাদ সহীহ নয়। ইমাম আবূ দাউদ, ইমাম খত্ত্বাবী, ইমাম আহমাদ, বায্যার প্রমুখ মুহাদ্দিস এ হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মূলকথা হল, শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিসগণ এ মর্মে একমত যে, হাদীসের শেষাংশে সংযোজিত বাড়তি অংশটুকু কোন মানুষের তৈরি, হাদীসের অংশ নয়- (বিস্তারিত দ্রঃ উমদাতুল ক্বারী, ৯/৫ পৃঃ)। অতএব উক্ত বর্ণনা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হাদীস নং- ৩: মুসনাদে হুমায়দী এবং মুসনাদে আবূ আওয়ানাতে বন্ধুরা পরিবর্তন করেছেন। মূল পাণ্ডুলিপিসমূহতে রফ'উল ইয়াদায়ন সম্পর্কে হ্যাঁ-বাচক বর্ণনা রয়েছে। যেটিকে কিছু স্বার্থপর ব্যক্তি পরিবর্তন করতে গিয়ে নাফী বা না বাচক করে দিয়েছে। যিনি তাহক্বীক্ব করতে চান তিনি আমাদের নিকট এসে মূল পাণ্ডুলিপিসমূহের ফটোকপি দেখতে পারেন। কতিপয় ব্যক্তি রফ'উল ইয়াদায়ন তরক করার ব্যাপারে ঐ সকল বর্ণনাও পেশ করার চেষ্টা করেছেন, যেগুলোতে রফ'উল ইয়াদায়ন করা বা না করার কোন উল্লেখই নেই। অথচ কোন বিষয় উল্লেখ না থাকা তা না করার দলীল হয় না। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, আদ্‌ দিরায়া পৃঃ ২২৫)

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 ঈদায়নের সলাতে রফ‘উল ইয়াদায়ন

📄 ঈদায়নের সলাতে রফ‘উল ইয়াদায়ন


ঈদায়নের সলাতে অতিরিক্ত তাকবীরসমূহে রফ'উল ইয়াদায়ন করা সম্পূর্ণরূপে সঠিক। কেননা নাবী রুকূ'র পূর্বে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন। (আবূ দাউদ হাঃ ৭২২; মুসনাদে আহমাদ ২/১৩৩, হাঃ ৬১৭৫; মুনতাক্বা ইবনুল জারূদ পৃঃ ৬৯, হাঃ ১৭৮)
শায়খ যুবায়র 'আলী যাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : এ হাদীসের সানাদ সম্পূর্ণরূপে সহীহ। বর্তমান যুগে কতিপয় ব্যক্তির এ হাদীসের সমালোচনা করা প্রত্যাখ্যাত। ইমাম বায়হাক্বী ও ইমাম ইবনুল মুনযির এ হাদীস দ্বারা প্রামাণ করেছেন যে, ঈদায়নের তাকবীরসমূহেও রফ'উল ইয়াদায়ন করা উচিত। (দেখুন: আত্ তালখীসুল হাবীর ১/৮৬, হাঃ ৬৯২, বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা ৩/২৯২, ২৯৩, ইবনুল মুনযির আল আওসাত্ব ৫৪/২৮২)
ঈদুল ফিত্রর তাকবীরসমূহের ব্যাপারে 'আত্বা ইবনু আবূ রবাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, «نعم، ويرفع الناس أيضا» “হ্যাঁ, ঐ তাকবীরগুলোতে রফ'উল ইয়াদায়ন করা উচিত এবং সকল মানুষও রফ'উল ইয়াদায়ন করবে"। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব ৩/২৯৬, হাঃ ৫৬৯৯: সানাদ সহীহ)
সিরিয়াবাসীর ইমাম আওযা'ঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, «نعم، ارفع يديك مع كلهن» “হ্যাঁ, ঐ সকল তাকবীরগুলোর সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন কর”। (ফিরয়াবী, আহকামুল ঈদায়ন হাঃ ১৩৬: সানাদ সহীহ)
মাদীনার ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «نعم، ارفع يديك مع كل تكبيرة، ولم أسمع فيه شيئا» “হ্যাঁ, প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন কর। এ ব্যাপারে (এর বিপরীত) কোন কিছু আমি শুনিনি।” (ঐ, হাঃ ১৩৭, সানাদ সহীহ)
এই সহীহ উক্তির বিপরীতে মালিকীদের অনির্ভরযোগ্য গ্রন্থ “মুদা'ওয়ানা”তে (১/১৫৫) একটি সানাদবিহীন উক্তি উল্লেখিত রয়েছে। সানাদবিহীন এই উদ্ধৃতিটি প্রত্যাখ্যাত। মুদা'ওয়ানার জবাবের জন্য হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ-এর "আল ক্বওলুল মাতীন ফিল জাহির বিত্ তা'মীন” পৃঃ ৭৩ গ্রন্থটি দেখুন।
অনুরূপভাবে সানাদবিহীন হওয়ার কারেণ ইমাম নাবাবীর উদ্ধৃতিও প্রত্যাখ্যাত। (আল মাজমূ' শারহুল মুহাযযাব ৫/২৬)
মাক্কাবাসীর ইমাম শাফি'ঈ (রহিমাহুল্লাহ) ও ঈদায়নের তাকবীরসমূহে রফ'উল ঈয়াদায়ন-এর প্রবক্তা ছিলেন। (কিতাবুল উম্ম ১/২৩৭)
আহলুস সুন্নাতের ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন »يرفع يديه في كل كبيرة« “(ঈদায়নের) প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করবে"। (মাসায়িলু আহমাদ, আবু দাউদ-এর বর্ণনা, পৃঃ ৬০, 'ঈদের সলাতে তাকবীর' অনুচ্ছেদ)
সালফে সলিহীন-এর এ সকল আসারের বিপরীতে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ্ শায়বানী লিখেছেন যে, »ولا يرفع يديه ")ঈদায়ন তাকবীরসমূহে) রফ'উল ইয়াদায়ন করবে না”। (কিতাবুল আসল ১/৩৭৪, ৩৭৫; ইবনুল মুনযির, আল আওসাত্ব ৪/২৮২)
এ উক্তিটি দু'টি কারণে প্রত্যাখ্যাত:
১. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ্ শায়বানী মিথ্যুক- ('উক্বায়লী, কিতাবু যু'আফা ৪/৫২: সানাদ সহীহ; বুখারী, জুযউ রফ'ইল ইয়াদায়ন, তাহক্বীক্ব: যুবায়র 'আলী যাঈ, পৃঃ ৩২)। তাঁর সত্যায়ন কোন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস থেকে সুস্পষ্টভাবে সহীহ সনদে প্রমাণিত নেই।
হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ এ বিষয়ে "النصر الربانی" "আন্ নাসরুর্ রব্বানী” নামে একটি পুস্তক লিখেছেন যেখানে প্রমাণ করেছেন যে, উল্লেখিত শায়বানী মিথ্যুক ও ন্যায়পরায়ণ নন। (ওয়াল হামদুলিল্লা-হ)
২. এই মিথ্যুকের বক্তব্য সালফে সলিহীনের ইজমা ও ঐকমত্যের বিপরীত হওয়ার কারণেও প্রত্যাখ্যাত।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 জানাযার সলাতে রফ‘উল ইয়াদায়ন

📄 জানাযার সলাতে রফ‘উল ইয়াদায়ন


জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরে রফ'উল ইয়াদায়ন করা ইবনু 'উমার থেকে প্রমাণিত আছে। (বুখারী'র জুযউ রফ'ইল ইয়াদায়ন হাঃ ১১১; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩/২৯৮, হাঃ ১১৩৮৮: সানাদ সহীহ)
মাকহুল (রহিমাহুল্লাহ) জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন। (বুখারী'র জুযউ রাফ'ইল ইয়াদায়ন হাঃ ১১৬: সানাদ হাসান)
ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন। (ঐ, হাঃ ১১৮: সানাদ সহীহ)
ক্বায়স ইবনু আবূ হাযিম (রহিমাহুল্লাহ) জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরে সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন। (ঐ, হাঃ ১১২: সানাদ সহীহ; মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩/২৯৬, হাঃ ১১৩৮৫)
নাফি' ইবনু জুবায়র (রহিমাহুল্লাহ) জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন। (জুযউ রফ'উল ইয়াদায়ন হাঃ ১১৪: সানাদ হাসান)
হাসান বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন। (ঐ, হাঃ ১২২: সানাদ সহীহ)
নিম্নলিখিত 'উলামায়ে সালফে সলিহীনও জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করার প্রবক্তা ও 'আমালকারী ছিলেন। 'আত্বা ইবনু আবূ রবাহ। (মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব ৩/৪৬৮, হাঃ ৬৩৫৮: সানাদ শক্তিশালী)
'আবদুর রাযযাক্ব (ঐ হাঃ ৬৩৪৭), মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩/২৯৭, হাঃ ১১৩৮৯: সানাদ সহীহ)।
সালফে সলিহীনের এ সকল আসারের বিপরীতে ইবরাহীম নাখ'ঈ (তাবি'ঈ) জানাযার সলাতে প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন না। (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩/২৯৬, হাঃ ১১৩৮৬ : সানাদ হাসান)
প্রমাণিত হল যে, জামহুর সালফে সলিহীনের মাসলাক এটাই যে, জানাযার প্রত্যেক তাকবীরের সাথে রফ'উল ইয়াদায়ন করতে হবে। যেমনটি সূত্রসহ পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। আর এটাই সঠিক ও প্রাধান্যযোগ্য মত। (ওয়াল হামদুলিল্লা-হ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00