📄 ইমামের পিছনে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পাঠ না করার দলীলের জবাব
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
“আর যখন কুরআন পঠিত হয় তখন তা শোনো, আর চুপ করে থেকো, যেন তোমাদের প্রতি করুণা বর্ষিত হয়।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ২০৪)
عن بشير بن جابر قال: صلى ابن مسعود، فسمع ناسا يقرؤون مع الإمام، فلما انصرف قال : أما آن لكم أن تفقهوا! أما آن لكم أن تعقلوا؟ وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا ، كما أمركم الله.
বাশির ইবনু জাবির বলেন, ইবনু মাস্ঊদ লোকেদের ইমামতি করলেন ও তিনি কিছু লোককে ইমামের পিছনে কুরআন পড়তে শুনলেন, তিনি সালাম ফেরার পরে বললেন : এখনও কি সময় হয়নি যে, তোমরা বুঝবে? এখনও কি সময় আসেনি যে, তোমরা অনুধাবন করবে? “শুনে রাখ যখন কুরআন পড়া হয় তখন তোমাকে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং চুপ থাকবে”- (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ২০৪)। যেমনটি আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন। (তাফসীর আত্ ত্ববারী ১৫৫৮৪)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : এ হাদীসটি য'ঈফ, কারণ উক্ত সানাদ দাউদ ইবনু আবূ হিন্দ ছোট তাবি'ঈ (মৃত্যু ১৩৯/১৪০) কেবলমাত্র আনাস -কে দেখেছেন কিন্তু তার থেকেও শ্রবণ সাব্যস্ত নেই। (মাশাহির 'উলামা ১১৮৭, সিক্কাত ইবনু হিব্বান ৭৭২৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৭৬-৩৭৮)
অতএব সানাদে ইনক্বিতা' আছে।
আল মাহরাবী হচ্ছেন মুদাল্লিস রাবী- (তাবাকাত আল মুদাল্লিসিন, রাবী নং ৮০, আসমাউ মুদাল্লিসিন রাবী- ৩৫) এবং তিনি আন আন শব্দে হাদীস বর্ণনা করেন, ফলে হাদীসটি য'ঈফ। মুদাল্লিস রাবীর عن ওয়ালা বর্ণনা য'ঈফ হয়- (মুক্বাদ্দামা ইবনুস্ সলাহ্ পৃঃ ৯৯, আল কিফায়াহ্ পৃঃ ৩৬৪)।
مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ
জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : যার ইমাম আছে ইমামের ক্বিরাআতই তার ক্বিরাআত। (সুনান ইবনু মাজাহ হাঃ ৮৫০, মুসনাদে আহমাদ হাঃ ১৪৬৫৫, মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদ ৯৮ পৃষ্ঠা, সুনান দারাকুত্বনী হাঃ ১২৫৩; ইমাম দারাকুত্বনী হাদীসটি আনার পর য'ঈফ বলেছেন)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : এ হাদীসের সানাদে হাসান ও আবুয যুবায়র-এর মাঝে জাবীর আল জু'ফী ও কোন কোন বর্ণনায় লায়স ইবনু আবূ সুলায়মান আছে। (দারাকুত্বনী হাঃ ১২৫৩,১২৫৪, বায়হাক্কী হাঃ ২৮৯৮, মা'আনিল আসার হাঃ ১২৯৭)
১) লায়স ইবনু আবূ সুলায়মান য'ঈফ মুদাল্লিস রাবী, শেষ জীবনে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। (তাহযীবুল আসমা রাবী ৫৩৭, জারাহ ও তা'দীল রাবী ১০১৪, ইবনু হিব্বান-এর "মাজরূহীন” ৯০৬)
২) জাবির আল জু'ফী সম্পর্কে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। (নাস্তাবুর রায়হা ২/২৪৯)
৩) আবুয যুবায়র তিনি বিখ্যাত মুদাল্লিস রাবী। (মুদাল্লিসিন ৫৯, তাবি'ঈন ৭২, তাবাকাতু মুদাল্লিসিন ১০১)
মুদাল্লিস রাবীর عن ওয়ালা বর্ণনা য'ঈফ হয়। (মুক্বাদ্দামাহ্ ইবনুস্ সালাহ্ পৃঃ ৯৯; আল কিফায়াহ্ পৃঃ ৩৬৪)
অতএব এ হাদীসের কোন সানাদই সহীহ নয় সবগুলোই য'ঈফ।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: "إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا ، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ".
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: মূলত ইমামকে নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। যখন সে তাকবীর বলবে তখন তোমরাও তাকবীর দিবে। আর যখন সে পাঠ করবে তখন তোমরা নীরব থাকবে। এবং যখন সে “সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ্” বলবে তখন তোমরা বলবে “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্দ”। (নাসায়ী হাঃ ৯২১)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
জবাব : এ রিওয়ায়াতটি মানসূখ বা রহিত। এ হাদীসের রাবী সাইয়িদুনা আবূ হুরায়রাহ্ জেহরী সলাতসমূহেও ইমামের পিছনে ফাতিহাহ্ পাঠের হুকুম দিতেন। (দেখুন: আসারুস্ সুনান হাঃ ৩৫৮, মুসনাদুল হুমায়দী, দেওবন্দী নুসখা হাঃ ৯৭৪)
রাবী যদি নিজের রিওয়ায়াতের বিরোধী ফাতাওয়া দেন তবে ঐ রিওয়ায়াতটি দেওবন্দীদের নিকটে মানসূখ হয়। (দেখুন : ত্বাহাবী, শারহু মা'আনিল আসার ১/২৩; আসারুস সুনান মাআত তালীক্ব, নং ২০; তাওযীহুস্ সুনান ১/১০৭; খাযায়িনুস সুনান ১/১৯১, ১৯২; উমদাতুল ক্বারী ৩/৪১; হাক্বায়িকুস সুনান ১/৪০৫; হুসায়ন আহমাদ, তাক্বরীরে তিরমিযী পৃঃ ২১০)
ত্বহাবী এবং আইনীর উদ্ধৃতি এজন্য পেশ করা হল যে, দেওবন্দীদের নিকটে তাদের উচ্চ স্থান রয়েছে। স্বীয় আকাবেরদের মূলনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অত্র হাদীসটি স্বপক্ষে পেশ করা হয়ে থাকে।
📄 সশব্দে ‘আ-মীন’
ওয়ায়িল ইবনু হুজর থেকে বর্ণিত আছে যে, كَانَ رَسُولُ اللهِ لا إِذَا قَرَأَ وَلَا الضَّالِّينَ﴾ [الفاتحة: 7]، قَالَ: «آمِينَ»، وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ.
“রসূলুল্লাহ যখন 'ওয়ালায্যো-ল্লীন' পড়তেন, তখন উচ্চৈঃস্বরে ‘আ-মীন’ বলতেন”। (আবূ দাউদ ১/১৪২, হাঃ ৯৩২; তিরমিযী হাঃ ২৪৮; দারাকুতনী হাঃ ১২৬৭; দারিমী হাঃ ১২৮৩; মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৮৪২)
‘উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮)
ইমাম দারাকুতনী বলেন: এটি (হাদীসটি) সহীহ। (দারাকুতনী হাঃ ১২৬৭)
ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন : হাদীসটি সহীহ। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২, তাহক্বীক্ব: নাসিরুদ্দীন আলবানী)
হামযাহ্ আহমাদ যাঈন বলেন: এর সানাদ সহীহ। (মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৭৪৪; তাহক্বীক্ব: হামযাহ্ আহমাদ যাঈন)
ইয়াসির হাসান বলেন: এর সানাদ সহীহ। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২, তাহক্বীক্ব: ইয়াসির হাসান)
শু'আয়ব আরনাউত্ব বলেন: এর সানাদ সহীহ। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২, তাহক্বীক্ব: শু'আয়ব আরনাউত্ব)
হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ বলেন: এর সানাদ সহীহ। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮, তাহক্বীক্ব: যুবায়র 'আলী যাঈ)
হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী বলেন: এর সানাদ সহীহ। (দারিমী হাঃ ১২৮৩, তাহক্বীক্ব: হুসায়ন সালিম আসাদ্ দারানী)
মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী বলেন: এর সানাদ হাসান। (দারাকুতনী হাঃ ১২৫৩, তাহক্বীক্ব: মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী)
উক্ত হাদীসটি সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ। এ হাদীসটির প্রতি বিন্দুমাত্র ভুল ধারণা রাখাই যাবে না। সূরাহ্ ফাতিহার পর জোরে 'আ-মীন' বলা সুন্নাত। 'আ-মীন' হল দু'আ। এর অর্থ (হে আল্লাহ!) তুমি ক্ববূল করো। আমরা যে কোন দু'আ করে 'আ-মীন' বলি যাতে আল্লাহ আমাদের উক্ত দু'আ কবুল করেন। তাই আমাদের সকলের এই সুন্নাত মেনে চলতে হবে। তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীস দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আ-মীন!
আর একটি বর্ণনায় আছে, »فَجَهَرَ بِآمِينَ« “অতঃপর তিনি সশব্দে 'আ-মীন' বললেন”। (ঐ, হাঃ ৯৩৩)
»يَرْفَعُ صَوْتَهُ بِآمِينَ« হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম দারাকুত্বনী বলেছেন : صَحِيحٌ 'সহীহ'। (দারাকুত্বনী হাঃ ১২৫৩, ১২৫৪(
ইবনু হাজার বলেছেন : وَسَنَدَهُ صَحِيحٌ “এর সানাদ সহীহ”। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, আত্ তালখীসুর হাবীর ১/২৩৬, হাঃ ৩৫৩)
ইবনু হিব্বান ও ইবনুল ক্বাইয়িম প্রমুখ সহীহ বলেছেন। কোন নির্ভরযোগ্য ইমাম একে য'ঈফ বলেননি। এ মর্মের অন্যান্য সহীহ বর্ণনাগুলো 'আলী, আবূ হুরায়রাহ্ প্রমুখ থেকেও বর্ণিত আছে। যেগুলোকে 'আ-মীন' প্রসঙ্গে মিথ্যাচারের জবাব পুস্তকে উল্লেখ করেছি আল্হাম্মদুলিল্লা-হ।
‘আত্বা ইবনু আবূ রবাহ বর্ণনা করেছেন যে,
أَمَّنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ: وَمَنْ وَرَاءَهُ حَتَّى إِنَّ لِلْمَسْجِدِ لَلَجَّةٌ
“আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র এবং তাঁর মুক্তাদীরা এত উচ্চৈঃস্বরে 'আ-মীন' বলেন যে, মাসজিদ গুঞ্জরিত হয়ে উঠে”। (সহীহুল বুখারী ১/১০৭, হাঃ ৭৮০ এর পূর্বে, 'আযান' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১১১; মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব হাঃ ২৬৪০)
এর সানাদ সহীহ (রিজাল ও উসূলে হাদীসের গ্রন্থাবলী দেখুন)। ইবনু 'উমার এবং তাঁর সাথী ও ইমামের পিছনে 'আ-মীন' বলতেন এবং এটাকে সুন্নাত আখ্যায়িত করতেন। (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ১/২৮৭, হাঃ ৫৭২) আলবানী হাদীসটিকে য'ঈফ বলেছেন [اسنده ضعیف]
কোন একজন সহাবী থেকেও সহীহ সানাদে নীরবে 'আ-মীন' বলা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই।
মু'আয ইবনু জাবাল থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ বলেছেন:
... إِنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ سَئِمُوا دِينَهُمْ، وَهُمْ قَوْمٌ حُسَّدٌ، وَلَمْ يَحْسِدُوا الْمُسْلِمِينَ عَلَى أَفْضَلَ مِنْ ثَلَاثٍ: رَبِّ السَّلَامِ، وَإِقَامَةِ الصُّفُوفِ، وَقَوْلِهِمْ خَلْفَ إِمَامِهِمْ فِي الْمَكْتُوبَةِ: آمِينَ
“নিশ্চয় ইয়াহুদীরা তাদের ধর্ম সম্পর্কে বিরক্ত হয়ে গেছে এবং তারা হিংসুক জাতি। তারা যেসব 'আমালের ব্যাপারে মুসলিমদের সাথে হিংসা করে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল (১) সালামের উত্তর দেয়া (২) কাতারসমূহ সোজা করা এবং (৩) ফার্য সলাতে ইমামের পিছনে মুসলিমদের আ-মীন বলা।” (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ২/১১৩, হাঃ ২৬৬৩; হায়সামী বলেছেন: اسناده حسن এর সানাদ হাসান', ত্ববারানী আওসাত্ব ৫/৪৭৩, হাঃ ৪৯১০)
📄 নিম্নস্বরে ‘আ-মীন’ বলা হাদীসের জবাব
ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র বলেন, “রসূলুল্লাহ যখন (সূরাহ্ ফাতিহার শেষ আয়াত( )غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ﴿ পাঠ করতেন, তখন আ-মীন বলতেন এবং তার কণ্ঠস্বর নীচু করতেন।” (তিরমিযী হাঃ ২৪৮-এর শেষাংশ; মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৮৫৪)
‘উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : হাদীসটি শায। কেননা ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র থেকে আ-মীন উচ্চৈঃস্বরে বলার সহীহ হাদীস রয়েছে। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮, আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২; দারাকুতনী হাঃ ১২৮৩; মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৮৪২: সানাদ সহীহ)
ইমাম বুখারী বলেন: “শু‘বাহ্-এর হাদীসের তুলনায় সুফইয়ান-এর [দীর্ঘস্বরে আ-মীন বলার] হাদীসটি বেশি সহীহ। কেননা শু‘বাহ্ এ হাদীসের কয়েকটি জায়গায় [৩টি] ভুল করেছেন। (১) তিনি সানাদে হুজর আবুল আম্বাস এর কথা বলেছেন অথচ তিনি হলেন হুজর ইবনু আম্বাস। তার উপনাম হল আবুস্ সাকান। (২) ‘আলক্বামাহ্ ইবনু ওয়ায়িল-এর নাম অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন অথচ এই সানাদে ‘আলক্বামাহ্ উল্লেখ হবে না। প্রকৃত সানাদটি হল, ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র থেকে হুজর ইবনু আম্বাস। (৩) শু‘বাহ্-এর বর্ণনায় আছে, »خَفَضَ بِهَا صَوْتَهُ« “তাঁর কণ্ঠস্বর নীচু করতেন” অথচ প্রকৃত কথা হল »مَدَّ بِهَا صَوْتَهُ« “তার কণ্ঠস্বর দীর্ঘ করতেন।” (তিরমিযী হাঃ ২৪৮-এর শেষাংশ)
ইমাম আবূ যুর্‘আহ্ বলেন: “শু‘বাহ্-এর হাদীসের তুলনায় সুফইয়ান-এর (দীর্ঘস্বরে আ-মীন বলার) হাদীসটি বেশি সহীহ।” (তিরমিযী হাঃ ২৪৮-এর শেষাংশ)
ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন: হাদীসটি শায। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮, তাহক্বীক্ব: নাসিরুদ্দীন আলবানী)
শু'আয়ব আরনাউত্ব বলেন: “তার কণ্ঠস্বর নীচু করতেন” ব্যতীত হাদীসটি সহীহ। কেননা শু'বাহ এখানে ভুল করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৮৫৪; তাহক্বীক্ব: শু'আয়ব আরনাউত্ব)
হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ বলেন: শু'বাহ্-এর হাদীসটি শায। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮, তাহক্বীক্ব: যুবাইর 'আলী যাঈ) দ্বিতীয় দলীল:
'উমার বলেন: “ইমাম চারটি বিষয় অনুচ্চস্বরে পড়বে : আ'ঊযুবিল্লা-হ, বিসমিল্লা-হ, আ-মীন ও রব্বানা- লাকাল হাম্দ।” (কানযুল উম্মাল ৮/২৭৪, হাঃ ২২৮৯৩)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : এ হাদীসটি মুনক্বাতি' হওয়ার কারণে দুর্বল। কারণ 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন 'উমার থেকে। আর তিনি 'উমার থেকে শুনেননি। ইমাম ইবনু আবূ হাতিম বলেন, “এটি কি সঠিক যে, 'আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা 'উমার থেকে শুনেছেন?” তার পিতা ইমাম আবূ হাতিম বললেন, “না”। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল মারাসীল, রাবী নং ২১৩)
এছাড়াও ইবরাহীম নাখ'ঈ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন 'উমার থেকে। আর তিনিও 'উমার থেকে শুনেননি। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল মারাসীল, রাবী নং ১)
أَبِي حَمْزَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِي عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالْأَسْوَدِ، كِلَاهُمَا عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: يُخْفِي الْإِمَامُ ثَلَاثًا : الاسْتِعَاذَةُ، وَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَآمِينَ.
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্ঊদ বলেন : "ইমাম তিনটি বিষয় অনুচ্চস্বরে পড়বে: আ'উযুবিল্লা-হ, বিসমিল্লা-হ ও আ-মীন।” (ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা, ২/২৮০, মাআলাহ্ নং ৩৬৩)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : হাদীসটি দুর্বল। কারণ হাদীসটির সানাদে আবূ হামযাহ্ মায়মূন নামে এক রাবী রয়েছেন।
ইমাম বুখারী বলেন : তিনি কিছুই নন। (বুখারী, কিতাবুয যু'আফা আছে আস্ সগীর, রাবী নং ৩৬৮)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেন: তিনি মাতরূকুল হাদীস। ('উক্বাইলী, যু'আফা আল কাবীর, রাবী নং ১৭৬৪)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন বলেন: তিনি কিছুই নন। তার হাদীস লেখা যাবে না। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১০৬১)
ইমাম আবূ হাতিম বলেন: তিনি শক্তিশালী নন। তার হাদীস লেখা যাবে। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১০৬১)
ইমাম নাসায়ী বলেন: তিনি সিক্বাহ্ নন। (নাসায়ী, কিতাবুয যু'আফা ওয়াল মাতরূকুত্বনী, রাবী নং ৫৮১)
ইমাম দারাকুত্বনী বলেন: তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। (দারাকুত্বনী হাঃ ১৯৫৫)
ইমাম ইবনু 'আদী বলেন: তার (হাদীসের) অনুসরণ করা হয় না। (ইবনু 'আদী, আল কামিল, রাবী নং ১৮৯৪)
ইমাম ইবনু হিব্বান বলেন: তিনি গুরুতর ভুল করতেন এবং অত্যধিক বিভ্রান্তিতে পড়তেন। (ইবনু হিব্বান, আল মাজরূহীন ৩/৬, রাবী নং ১০২৭)
ইমাম 'উক্বায়লী তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ('উক্বাইলী, যু'আফা আল কাবীর, রাবী নং ১৭৬৪)
ইমাম ইবনুল জাওযী তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (ইবনুল জাওযী, কিতাবুয যু'আফা ওয়াল মাতরূকীন, রাবী নং ৩৪৮৪)
এছাড়াও আরো অনেকেই এ রাবীর সমালোচনা করেছেন। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৬৩৪৬)
এ হাদীসের অপর রাবী ইবরাহীম নাখ'ঈ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৩৫)
আর একজন মুদাল্লিসের হাদীস তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী হাদ্দাসানা- বা সামি'তু বা আখবারানা- বা সানা- বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীসের শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীসের কোন শাওয়াহিদ সহীহ হাদীস নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।
📄 রফ‘উল ইয়াদায়ন
রসূলুল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত সলাতে রফ'উল ইয়াদায়ন করেছেন।
সহীহুল বুখারী থেকে প্রমাণিত। আছে কোন দেওবন্দী হানাফী মুক্বাল্লিদ এ দলীলকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করবে?
সহীহুল বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণ হাদীস নং-১ :
নোট : মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস ৯ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন- (হানাফী কেল্লা ৪৩-৪৪)। রসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন ১১ হিজরীতে, ইসলাম পরিপূর্ণ হয় ১০ম হিজরীতে ৯ যিলহাজ্জ, মাত্র ১বছর পূর্বের 'আমাল।
عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، أَتَيْنَا إِلَى النَّبِيِّ لا وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا وَلَيْلَةً، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ لا رَحِيمًا رَفِيقًا، فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَهَيْنَا أَهْلَنَا - أَوْ قَدِ اشْتَقْنَا - سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا بَعْدَنَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، قَالَ: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ
وَمُرُوهُمْ - وَذَكَرَ أَشْيَاءَ أَحْفَظُهَا أَوْ لَا أَحْفَظُهَا - وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلَّى، فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنُ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ
আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক (ইবনু হুওয়ায়রিস) বলেন: আমরা সমবয়সী একদল যুবক নাবী -এর নিকট হাজির হলাম। ২০ দিন তাঁর নিকট অবস্থান করলাম।.... অতঃপর তিনি ( ﷺ ) (আমাদের) বললেন, তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মধ্যে বসবাস কর। আর তাদের (দ্বীন) শিক্ষা দাও “وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلَّى” “এবং তোমরা আমাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে তোমরা সলাত আদায় করবে"। (বুখারী ৬৩১, ৬০০৮, ৭২৪৬; ইবনু খুযায়মাহ্ ৩৯৭, ৫৮৬; ইবনু হিব্বান ১৬৫৮, ১৮৭২; দারিমী ১২৮৮, দারাকুত্বনী ১০৬৮, ১০৬৯, ১৩১১; বায়হাক্বী ৩৮৫৬, ৫২৯৩; আদাবুল মুফরাদ ২১৩, মুসনাদ شافي'ঈ ২৯৪, মুশকিলুল আসার ১৭২৫, মারিফাতুস্ সুনান ৪৬০৪, ৫৮৯৩, ৫৮৯৫)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
নোট : মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস নিজের গ্রামে ফিরে এসে প্রতিবেশীদের বলেন:
عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، قَالَ: جَاءَنَا مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ - فِي مَسْجِدِنَا هُذَا - فَقَالَ: إِنِّي لَأُصَلَّى بِكُمْ وَمَا أُرِيدُ الصَّلَاةَ، أُصَلِّي كَيْفَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ يُصَلَّى، فَقُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ: كَيْفَ كَانَ يُصَلَّى؟ قَالَ: مِثْلَ شَيْخِنَا هُذَا، قَالَ: وَكَانَ شَيْخًا، يَجْلِسُ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، قَبْلَ أَنْ يَنْهَضَ فِي الرَّكْعَةِ الأولى».
আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস আমাদের এ মাসজিদে এলেন। অতঃপর তিনি বললেন : আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সলাত আদায় করব। বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সলাত আদায় করা নয়, বরং নারী -কে যেভাবে আমি সলাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। (বুখারী ৬৭৭, ৮২৪; আবূ দাউদ ৮৪২, বায়হাক্বী ২৭৫৯)
মুসনাদ শাফি'ঈতে রয়েছে, মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস আল্লাহ্র শপথ করে অত্র কথা বলেছেন।
নোট: কেননা নাবী মালিক ইবনু হুওয়ায়রিসদের বলেছিলেন : তোমরা আমাকে যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে তোমরা সলাت আদায় করবে। এটা নাবী-এর নির্দেশ। তাই মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস সলাতের প্রশিক্ষণ প্রদানকালে বলেন: বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সলাত আদায় করা নয় বরং নাবী -কে আমি যেভাবে সলাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। (বুখারী ৮২৪)
নোট: মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস অতঃপর সলাত আদায় করে গ্রামে প্রতিবেশীদের দেখালেন,
عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، أَنَّهُ رَأَى مَالِكَ بْنَ الحُوَيْرِثِ إِذَا صَلَّى كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَ يَدَيْهِ» وَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَنَعَ هُكَذَا.
আবূ ক্বিলাবাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস -কে দেখেছেন, তিনি যখন সলাত আদায় করতেন তখন তাক্ববীর বলতেন এবং তাঁর দু' হাত উঠাতেন। আর যখন রুকূ' করার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন, আবার যখন রুকূ' হতে মাথা উঠাতেন তখনও তাঁর উভয় হাত উঠাতেন এবং তিনি বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ এরূপ করেছেন। (বুখারী ৭৩৭, মুসলিম ৪/৯, হাঃ ৩৯১; আহমাদ ২০৫৫৮, আধুনিক প্রকাশনী: ৬৯৩, ইসলামী ফাউন্ডেশন: ৭০১)
নোট : অতএব মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস-এর হাদীস দ্বারাও অব্যাহত ধারায় نাবী-এর আজীবন রফ'উল ইয়াদায়ন করা প্রমাণিত হল।
নোট : সহীহুল বুখারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ৯ম হিজরী পর্যন্ত রফ'উল ইয়াদায়ন জারি ছিল আলহামদুলিল্লা-হ।
হাদীস নং- ২: ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র মাদীনায় এলে নাবী তাঁর জন্য চাদর বিছিয়ে দেন এবং নিজের পাশে বসিয়ে তাঁর জন্য দু'আ করেছিলেন,
اللَّهُمَّ بَارِكَ فِي وَائل بن حجر وولده وولد ولده. অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি ওয়ায়িল ইবনু হুজ্র, তার সন্তান-সন্ততির প্রতি বারাকাত প্রদান কর। (তারীখে কাবীর ২৬০৭, সিকাত ইবনু হিব্বান ১৩৯৬, ইসতীআব ২৭৩৬, মারিফাতুস্ সহাবা ৬৪৭৫)
ওয়ায়িল ইয়ামানের বড় বাদশাহ ছিলেন- (ইবনু হিব্বান, আস্ সিকাত ৩/৪২৪)। তিনি ৯ম হিজরীতে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নাবী -এর নিকটে আগমন করেছিলেন- (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/৭১, আইনী, উমদাতুল ক্বারী হাঃ ৭৩৫, ৫/২৭৪)।
তিনি (আ.) পরবর্তী বছর ১০ম হিজরীতেও মাদীনাহ্ মুনাউওয়ারায় এসেছিলেন। (সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/১৬৭, ১৬৮, হাঃ ১৮৫৭)
রসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন ১১ম হিজরীতে, ইসলাম পরিপূর্ণ হয় ১০ম হিজরীতে ৯-এ যিলহাজ্জ।
ওয়ায়িল বলেন, অতঃপর আমি শীতের সময় তাঁদের নিকট এসে দেখলাম, তখনও তাঁরা কাপড়ের ভিতরে (ও) রফ'উল ইয়াদায়ন করে সলাত আদায় করেছেন। (মুসনাদ হুমায়দী হাঃ ৯০৯, বায়হাক্বী হাঃ ২৩০৫, মুসনাদ শাফি'ঈ হাঃ ১৯৫, মারিফাতুস্ সুনান হাঃ ২৯৬৫, ৩২৩৯; দারাকুত্বনী হাঃ ১২০৯)
তিনি অন্য বর্ণনায় বলেন,
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: «أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَرَأَيْتُهُ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ حَتَّى يُحَاذِيَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ أَضْجَعَ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ اليمنى، وَنَصَبَ أَصْبُعَةَ لِلدُّعَاءِ، وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى»، قَالَ: ثُمَّ أَتَيْتُهُمْ مِنْ قَابِلٍ فَرَأَيْتُهُمْ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ فِي الْبَرَانِسِ.
ওয়ায়িল ইবনু হুজর বলেন, আমি রসূলুল্লাহ-এর নিকট এলাম। অতঃপর তাঁকে দেখলাম যে, তিনি () সলাত আরম্ভকালে ও রুকূ' করার সময় কাঁধ পর্যন্ত রফ'উল ইয়াদায়ন করলেন। তিনি যখন দু' রাক্'আতে বসলেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিলেন। আর ডান পা খাড়া করে রাখলেন। আর তার ডান হাত ডান উরু এবং বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন ও দু'আ করার জন্য তার আঙ্গুল খাড়া করলেন। তিনি বলেন, অতঃপর আগামী বছর (১০ হিজরী) তাঁদের নিকট এলাম, তখনও তাঁদের কাপড়ের ভিতর রফ'উল ইয়াদায়ন করতে দেখলাম। (নাসায়ী হাঃ ১১৫৯, নাসায়ী কুবরা হাঃ ৭৫০: সানাদ সহীহ)
ওয়ায়িল ইবনু হুজর-এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, (মনে মনে) আমি বললাম: অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ-এর সলাত দেখব কিভাবে তিনি তা আদায় করছেন। (আবূ দাউদ হাঃ ৭২৬, ১৩৯৭; বায়হাক্বী হাঃ ২৭৮৭, ত্ববারানী হাঃ ৮৪, ৯০; মারিফাতুস্ সুনান হাঃ ৩৬৪৫, মুনতাক্বা হাঃ ২০২)
(১০ হিজরী) পর্যন্ত রফ'উল ইয়াদায়ন প্রমাণিত হলো ইসলাম পরিপূর্ণ হয় ১০ হিজরী ৯ যিলহাজ্জ, আল্হাম্মদুলিল্লা-হ।
আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী দেওবন্দী বলেছেন যে, وَلْيَعْلَمْ أَنَّ الرَّفْعَ مُتَوَاتِرُ إِسْنَادًا وَعَمَلًا، لَا يَشُكُّ فِيهِ وَلَمْ يُنْسَخْ وَلَا حرف منه
“জেনে রাখা উচিত যে, সানাদ ও 'আমাল দু'দিক থেকেই রফ'উল ইয়াদায়ন মুতাওয়াতির। এতে কোন সন্দেহ নেই। আর রফ'উল ইয়াদায়ন মানসূখ বা রহিত হয়নি। এমনকি এর একটি হরফও মানসূখ হয়নি।” (নায়লুল ফিরকাদায়ন পৃঃ ২৪; ফায়যুল বারী ২/৪৫৫, পাদটীকা)
ইবনু 'উমার থেকে বর্ণিত আছে যে, 'আনহু
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، وَإِذَا كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ، رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا، وَقَالَ: سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الحَمْدُ، وَكَانَ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ
“রসূলুল্লাহ যখন সলাত শুরু করতেন তখন তাঁর দু' হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। এভাবে যখন রুকূ'র তাকবীর বলতেন এবং রুকূ' থেকে মাথা উঠাতেন, তখনও তাঁর দু' হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং বলতেন, سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‘আল্লাহ শোনেন তার কথা যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আমাদের প্রভু! আপনার জন্যই যাবতীয় প্রশংসা'। আর তিনি সাজদায় রফ'উল ইয়াদায়ন করতেন না'।” (সহীহুল বুখারী ১/১০২, হাঃ ৭৩৫; সহীহ মুসলিম ১/১৬৮, হাঃ ৩৯০)
'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার থেকে রফ'উল ইয়াদায়ন না করার হাদীসটি প্রমাণিত নয়।
وَيُرْوَى عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ أَنَّهُ لَمْ يَرَ ابْنَ عُمَرَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَّا فِي التَّكْبِيرَةِ الْأُولَى.
মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : তিনি (‘আবদুল্লাহ) ইবনু 'উমার -কে প্রথম তাকবীর ছাড়া রফ'উল ইয়াদায়ন করতে দেখেননি। (বুখারী, জুযউ রফ'উল ইয়াদায়ন হাঃ ১৫; ত্বহাবী শারহু মা'আনিল আসার হাঃ ১৩৫৭)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেছেন: رواه أبو بكر بن عياش عن حصين عن مجاهد عن ابن عمر وهو باطل. অর্থাৎ আবূ বকর ইবনু 'আইয়্যাশ সূত্রের বর্ণনাটি বাতিল। (মাসায়িলু আহমাদ, ইবনু হানীর বর্ণনা, ১/৫০)
ইবনু 'উমার রফ'উল ইয়াদায়ন পরিত্যাগ করার কারণে কাঁকর মারতেন।
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَاقِدٍ يُحَدِّثُ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا رَأَى رَجُلًا لَا يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَمَاهُ بِالْحَصَى
নাফি' (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ('আবদুল্লাহ) ইবনু 'উমার যখন কোন ব্যক্তিকে রুকূ'তে যাওয়ার সময় ও রুকূ' থেকে উঠার সময় রফ'উল ইয়াদায়ন করতে না দেখতেন, তখন তার দিকে কাঁকর ছুঁড়ে মারতেন। (মুসনাদে হুমায়দী হাঃ ৬২৭; বুখারী, জুযউ রফউল ইয়াদায়ন হাঃ ১৪; দারাকুত্বনী হাঃ ১১১৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) এ হাদীসের সানাদকে সহীহ বলেছেন। (নাবাবী, আল মাজমূ' শারহুল মুহাযযাব ৩/৪০৫)
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী এ হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৭৩৫ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)-তে এনেছেন এবং কোন সমালোচনা করেননি। আর যেসব হাদীস তিনি ফাতহুল বারীতে এনেছেন, সেগুলো তার কাছে সহীহ অথবা হাসান যেমনটি তিনি ফাতহুল বারীর ভূমিকাতে লিখেছেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, ভূমিকা দ্রষ্টব্য, জা'ফার আহমাদ থানভী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ৮৯)
'আল্লামাহ্ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর সানাদ সহীহ। (নাসিরুদ্দীন আলবানী'র “সিলসিলাতুয য'ঈফাহ্” হাঃ ৯৪৩-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)
হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর সানাদ সহীহ। (জুযউ রফ'উল ইয়াদায়ন হাঃ ১৩, তাহক্বীক্ব: যুবায়র 'আলী যাঈ)'
হুসায়ন সালিম আসাদ্ দারানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর সানাদ সহীহ। (মুসনাদে হুমায়দী হাঃ ৬২৭, তাহক্বীক্ব : হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী)
অতএব 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার-এর কাঁকর ছুঁড়ে মারার বর্ণনাটি নিঃসন্দেহে সহীহ। (আল্হাম্মদুলিল্লা-হ)