📄 সলাতে বুকের উপরে হাত বাঁধা
দলীল-১ :
ওয়ায়িল ইবনু হু হতে বর্ণিত যে, ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ. “আমি রসূলুল্লাহ-কে সলাত আদায় করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি ডান হাত বাম হাতের পাতা, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।”
(সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ১/২৪৩, হাঃ ৪৮০, ৭১৪; সহীহ ইবনু হিব্বান ৩/১৬৭, হাঃ ১৮৫৭; আল মাওয়ারিদ হাঃ ৪৮৫, মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৮, হাঃ ১৯০৭৫; সুনান নাসায়ী ২/১২৬, হাঃ ৮৯০; সুনান আবূ দাউদ, বাযলুল মাজহৃদ সহ ৪/৪৩৭, ৪৩৮, হাঃ ৭২৭; এর সানাদ সহীহ)
পর্যালোচনা – ব্যাখ্যা :
الكف وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ.
কাফফুন (হাতের তালু), রুড়্গ (কজি) এবং সা'ইদ (বাহু) মূলত 'যিরা' (বুখারী, হাঃ ৭৪০)-এর ব্যাখ্যা।
আল মু'জামুল ওয়াসিত্ব (১/৪৩০) গ্রন্থে আছে, "الساعد : ما بين المرفق والكف من العلى" “কনুই থেকে হাতের পাতা পর্যন্ত (উপরের দিকে থেকে) অংশকে সা'ইদ (বাহু) বলা হয়”।
সতর্কীকরণ : الساعد )বাহু) দ্বারা উদ্দেশ্য হল সম্পূর্ণ বাহু। বাহুর কতিপয় অংশ নয়।
হাফিয ইবনু হাজার 'আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : لِأَنَّ الْعِبْرَةَ بِعُمُومِ اللَّفْظِ حَتَّى يَقُوْمَ دَلِيلٌ عَلَى التَّخْصِيصِ. “যতক্ষণ 'খাস-এর দলীল প্রতিষ্ঠিত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত 'আম (সার্বজনীন বিধান সম্বলিত) শব্দেরই গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।” (ফাতহুল বারী ১২/২৬১, হাঃ ২৯১৫ দ্রঃ)
'বাহুর কতিপয় অংশ'-এর নির্দিষ্টকরণ কোন হাদীসে নেই। অতএব সম্পূর্ণ الساعد তথা বাহুর উপর হাত রাখা আবশ্যক। অভিজ্ঞতা সাক্ষী যে, এভাবে হাত রাখা হলে স্বতন্ত্রভাবেই বুকের উপরে হাত রাখা হয়ে যায়।
দলীল-২:
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘মুসনাদ’-এ বলেছেন।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي سِمَاكٌ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ، وَرَأَيْتُهُ، قَالَ، يَضَعُ هَذِهِ عَلَى صَدْرِهِ وَصَفَّ يَحْيَى: الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فَوْقَ الْمِفْصَلِ.
ক্ববীসাহ্ ইবনু হুল্ব (আত্ব ত্বাঈ) হতে বর্ণিত আছে যে, ‘আমি নাবী ﷺ -কে (সলাত হতে অবসর হওয়ার পর) ডানে এবং বামে উভয়দিকে সালাম ফিরাতে দেখেছি। আর দেখেছি যে, তিনি এটি (হাতকে) বুকের উপর রাখতেন। (রাবী) ইয়াহইয়া (আল ক্বত্ত্বান) ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে দেখিয়ে দিলেন’। (মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬, হাঃ ২২৩১৩; এর সানাদ হাসান, তাহক্বীক্ব: ইবনুল জাওযী ১/২৮৩)
‘উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
এর সানাদে সিমাক ইবনু হার্ব রয়েছে। তার ব্যাপারে কেউ কেউ বিরূপ মন্তব্য করেন। কিন্তু না জেনে মন্তব্য করা কখনোই ঠিক নয়। ইমাম বুখারী সিমাক ইবনু হাব-কে (তারীখুল কাবীর ৪/১৭৩, রাবী নং ২৩৮২) গ্রন্থে এনেছেন এবং কোন সমালোচনা করেননি। জা’ফার আহমাদ থানভী হানাফী এর মতে, ইমাম বুখারী যেহেতু তার সমালোচনা করেননি, তাই সিমাক ইবনু হাব ইমাম বুখারীর নিকট সিক্বাহ্। (জা’ফার আহমাদ থানভী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ২২৩)
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ মুসলিমে সিমাক ইবনু হাব-এর হাদীস ৪০ বারেরও বেশি এনেছেন। বর্ণিত হাদীসগুলোর নম্বর দেয়া হল :
২২৪, ১২৮/৪৩৬, ৪৫৮, ৪৫৯, ৪৯৯, ৬০৬, ৬১৮, ৬৪৩, ৬৭০, ৭৩৮, ৮৬২, ৮৬৬, ৯৬৫, ৯৭৮, ১৭৩/১০৭৫, ১৬৮০, ১৬৯২, ১৬৯৩, ১৭৪৮, ৬, ৭/১৮২১, ১৮৪৬, ১৯২২, ১৯৮৪, ২০৫৩, ২১৩৫, ২২৪৮, ২২৭৭, ৪৪/২৩০৫, ২৩২২, ২৩২৯, ২৩৩৯, ২৩৪৪, ২৩৬১, ২৭৪৫, ৪২, ৪৩/২৭৬৩, ৭৮/২৯১৯, ২৯২৩, ২৯৭৭, ২৯৭৮।
ইমাম সুফিয়ান সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তার কোন হাদীসই গ্রহণযোগ্য নয়। (তারীখে বাগদাদ ১০/২৯৭, রাবী নং ৪৭৪৫; এর সানাদ হাসান)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি সিক্বাহ্। (কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১২০৩)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: 'আবদুল মালিক ইবনু উমাইর থেকে সিমাক ইবনু হারব এর হাদীস বেশী সঠিক। (কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১২০৩)
ইমাম আবু ইসহাক্ব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তোমরা সিমাক ইবনু হারব থেকে ইলম গ্রহণ কর। (কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১২০৩)
ইমাম আবূ হাতিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি সত্যবাদী ও সিক্বাহ্। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১২০৩)
ইমাম দারাকুত্বনী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনানে (হাঃ ২২৩৩) হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুস্তাদরাকে (হাঃ ১১০৪) সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি সত্যবাদী ও সম্মানিত- (যাহাবী, আল মুগনী, রাবী নং ২৬৪৯)। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনানে (হাঃ ২৫২) হাসান বলেছেন।
ক্ববীসাহ্ ইবনু হুল্ব (আত্ব ত্বাঈ) সম্পর্কে ইজলী বলেছেন : তিনি আস্থাভাজন। ইবনু হিব্বান নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাঝে গণ্য করেছেন- (তাহযীবুত্ তাহযীব ৮/৩১৪)। তিরমিযী তার একটি হাদীসকে 'হাসান' বলেছেন- (সুনান তিরমিযী হাঃ ২৫২)। আর আবূ দাউদ তার হাদীসের উপর চুপ থেকেছেন- (সুনান আবূ দাউদ ৪/১৪৭, হাঃ ৩৭৮৪)। জা'ফার আহমাদ থানবী দেওবন্দীর তাহক্বীক্ব এই যে, আবু দাউদ-এর চুপ থাকা হাদীসের 'সালিহুল ইহতিজাজ' হওয়ার দলীল। আর এর সানাদ রাবীদের 'সালিহ' হওয়ারও দলীল- (ক্বওয়ায়িদ আদ্ দেওবন্দিয়া ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ৮৩, ২২২)।
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাকে 'আত্ তারীখুল কাবীর' গ্রন্থে (৭/১৭৭) উল্লেখ করেছেন এবং তার উপর কোন সমালোচনা করেননি। থানবী সাহেবের তাহক্বীক্ব মোতাবেক “যদি ইমাম বুখারী কোন ব্যক্তির উপর স্বীয় 'তারীخ' গ্রন্থসমূহে সমালোচনা না করেন তবে ঐ ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য হয়ে থাকেন”। (ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস পৃঃ ২২৩, বৈরুত ছাপা)
ইবনু আবূ হাতিম “কিতাবুল জারহি ওয়াত্ তা'দীল” গ্রন্থে (৭/১২৫) তাকে উল্লেখ করে চুপ থেকেছেন। থানবী সাহেবের নিকটে ইবনু আবূ হাতিম-এর চুপ থাকা রাবীর 'তাওসীক্ব' হয়ে থাকে। (ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস, পৃঃ ৩৫৮)
দলীল-৩:
نَا أَبُو مُوسَى، نَا مُؤَمَّلٌ، نَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى صَدْرِهِ.
ওয়ায়িল ইবনু হুজর বলেন: "আমি রসূলুল্লাহ -এর সাথে সলাত আদায় করেছি। তিনি বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে বুকের উপর স্থাপন করলেন।” (ইবনু খুযায়মাহ্ হাঃ ৪৭৯, বায়হাক্বী'র সুনানুল কুবরা হাঃ ২৩৩৬)
ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) “সলাতের মধ্যে বুকের উপর হাত বাঁধা সুন্নাত” নামক একটি অধ্যায় লিখেছেন। (বায়হাক্বী'র সুনানুল কুবরা হাঃ ২৩৩৫ এর পূর্বে)
ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন: বুকের নিচে নাভীর উপর হাত বাঁধা সুন্নাত। (আহমাদ ইবনু ফারাহ আল ইশবিলী, মুখতাসারুল খিলাফিয়াত লিল বায়হাক্বী ২/৩৩, মাআলাহ্ নং ৭৫)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
এর সানাদে মুয়াম্মাল ইবনু ইসমা'ঈল রয়েছে যাকে অনেকে দুর্বল বলে থাকে। অনেকে বলে থাকে যে, ইমাম বুখারী তাকে “মুনকারুল হাদীস” বলেছেন। আসলে এটি সত্যি নয়। ইমাম বুখারীর কোন গ্রন্থে তাকে দুর্বল বলা হয়নি। এমনকি তিনি তাঁর “কিতাবুয যু'আফা আস্ সগীর'-এ মুয়াম্মালের কথা উল্লেখ করেননি। এমনিক তার থেকে সানাদসহ অন্য কেউ তা বর্ণনা করেননি। মূলত ইমাম বুখারী মুয়াম্মাল ইবনু ইসমা'ঈলকে (তারীখুল কাবীর, ৮/৪৯, রাবী নং ২১০৭) গ্রন্থে এনেছেন কিন্তু কোন সমালোচনা করেননি।
জা'ফার আহমাদ থানভী হানাফী-এর মতে, ইমাম বুখারী যেহেতু তার সমালোচনা করেননি, তাই মুয়াম্মাল ইবনু ইসমা'ঈল ইমাম বুখারীর নিকট সিক্বাহ্। (জা'ফার আহমাদ থানভী, ক্বওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস, পৃঃ ২৩৩)
মূলত তিনি মুয়াম্মাল ইবনু সা'ঈদকে “মুনকারুল হাদীস” বলেছেন- (তারীখুল কাবীর ৮/৪৯, রাবী নং ২১০৮)। তিনি যদি মুয়াম্মাল ইবনু ইসমা'ঈল-কে মুনকারুল হাদীস বলতেন তবে তার 'সহীহ বুখারী'তে মুয়াম্মাল-এর বর্ণিত হাদীস মুতাবাআ'ত হিসেবে বর্ণনা করতেন না- (হাঃ ২৭০০, ৭০৮৩)।
ইমাম ইবনু হাজার 'আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার স্মৃতিশক্তি খারাপ। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, তাক্বরীবুত্ তাহযীব, রাবী নং ৭০২৯)
এছাড়াও তিনি উক্ত হাদীস ফাতহুল বারী (হাঃ ৭৪০ এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)-তে এনেছেন এবং কোন সমালোচনা করেননি। আর যেসব হাদীস তিনি ফাতহুল বারীতে এনেছেন, সেগুলো তার কাছে সহীহ অথবা হাসান যেমনটি তিনি ফাতহুল বারীর ভূমিকাতে লিখেছেন। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী'র ফাতহুল বারী, ভূমিকা দ্রষ্টব্য; জা'ফার আহমাদ থানভী, কুওয়ায়িদ ফী উলূমিল হাদীস, পৃঃ ৮৯)
ইমাম আবূ হাতিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি সত্যবাদী, সুন্নাতের প্রতি দৃঢ়, তবে অত্যধিক ভুল করতেন, তার হাদীস লেখা যাবে। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১৭০৯)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি সিক্বাহ্। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১৭০৯)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মা'ঈন (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন: মুয়াম্মাল যখন সুইয়ান সাওরী থেকে বর্ণনা করেন, তখন তিনি সিক্বাহ্। (ইবনু আবূ হাতিম, কিতাবুল জারহু ওয়াত্ তা'দীল, রাবী নং ১৭০৯)
📄 নাভীর নিচে হাত বাঁধা হাদীসের জবাব
নাবী এবং কোন একজন সহাবী থেকে নাভির নিচে হাত বাঁধা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই। পুরুষদের নাভির নিচে এবং মহিলাদের বুকের উপরে হাত বাঁধা কোন সহীহ তো দূরের কথা য'ঈফ হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত নেই।
দলীল-১ : সাইয়িদুনা আবূ হুরায়রাহ্ এবং সাইয়িদুনা 'আলী হতে রিওয়ায়াত আছে যে, “সলাতে সুন্নাত এই যে, (ডান) হাতকে (বাম) হাতের উপর নাভীর নিচে রাখতে হবে"। (সুনান আবূ দাউদ ১/৪৮০, ৪৮১, হাঃ ৭৫৬, ৭৫৮)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয় পর্যালোচনা : এ রিওয়ায়াতটি 'আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব আল কূফীর ওপর ভিত্তিশীল।
'আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব আল ওয়াসিত্বী আল কূফী আসমাউর রিজালের 'আলিমদের দৃষ্টিতে-
(১) আবূ যুর্'আহ্ আর্ রাযী বলেছেন : "لَيْسَ بِقَوْى “তিনি শক্তিশালী নন।” (আল জারহু ওয়াত্ তা'দীল ৫/২১৩)
(২) আবূ হাতিম আর্ রাযী বলেছেন : "هو ضعيف الحديث منكر" "তিনি য'ঈফুল হাদীস, মুনকারুল হাদীস, الحديث يكتب حديثه ولا يحتج به" তার হাদীস লেখা যাবে। কিন্তু তার দ্বারা হুজ্জাত তথা দলীল পেশ করা যাবে না”। (আল জারহু ওয়াত্ তা'দীল ৫/২১৩)
(৩) ইবনু খুযায়মাহ্ বলেছেন : "ضعيف الحديث" "তিনি য'ঈফ হাদীস বর্ণনাকারী”। (কিতাবুত্ তাওহীদ পৃঃ ২২০)
(৪) ইবনু মা'ঈন বলেছেন : "ضعيف ليس بشئ" "তিনি য'ঈফ, কিছুই নন”। (আল জারহু ওয়াত্ তা'দীল ৫/২১৩, এর সানাদ সহীহ; তারীখে ইবনু মা'ঈন, জীবনী ক্রমিক নং ১৫৫৯, ৩০৭০)
(৫) আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেন : "منكر الحديث" "তিনি মুনকারুল হাদীস”। (ইমাম বুখারী, কিতাবুয যু'আফা, জীবনী ক্রমিক নং ২০৩; আত্ তারীখুল কাবীর ৫/২৫৯)
(৬) বায্যার বলেছেন : "ليس حديثه حديث حافظ" "তার (বর্ণিত) হাদীস হাফিযের হাদীসের মতো নয়”। (কাশফুল আসতার, জীবনী ক্রমিক নং ৮৫৯)
(৭) ইয়া'কূব ইবনু সুফ্ইয়ান বলেছেন : "ضَعِيفٌ" "তিনি য'ঈফ”। (কিতাবুল মা'রিফাতি ওয়াত্ তারীখ, ৩/৫৯)
(৮) 'উক্বায়লী বলেছেন : "ذكره في كتاب الضعفاء" "তিনি তাকে 'কিতাবুয যু'আফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন”। (২/৩২২)
(৯) ইজলী বলেছেন : "جائز الحديث" "তিনি য'ঈফ””, জায়িযুল হাদীস। তার হাদীস লিপিবদ্ধ করা যাবে'। (তারীখুল ইজলী, জীবনী ক্রমিক নং ৯৩০)
(১০) বুখারী বলেছেন : "ضعيف الحديث" "তিনি য'ঈফুল হাদীস”। (ইমাম তিরমিযী, আল ইলাল ১/২২৭)
আর তিনি বলেছেন : "فيه نظر" "তার মাঝে চিন্তার অবকাশ আছে” তথা বর্ণনা ভুল। (ইমাম ইবনু 'আদী, আল কামিল ৪/১৬১৩, এর সানাদ সহীহ)
(১১) নাসায়ী বলেছেন: "ضعیف" "তিনি য'ঈফ”। (ইমাম নাসায়ী, কিতাবুয যু'আফা, নাসায়ী জীবনী ক্রমিক নং ৩৫৮)
আর বলেছেন : "ليس بثقة" "তিনি নির্ভরযোগ্য নন"। (সুনান নাসায়ী ৬/৯, হাঃ ৩১০১)
(১২) ইবনু সা'দ বলেছেন : "ضَعِيف الحَدِيث" "তিনি য'ঈফুল হাদীস”। (ত্ববাক্বাতে ইবনু সা'দ ৬/৩৬১)
(১৩) ইবনু হিব্বান বলেছেন : كَانَ مِمَّنْ يقلب الْأَخْبَارِ وَالْأَسَانِيد “তিনি তাদের এককভাবে প্রসিদ্ধদের হতে মুনকার রিওয়ায়াতসমূহ বর্ণনা করতেন। তার হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করা হালাল নয়”। (কিতাবুল মাজরূহীন, ২/৫৪)
(১৪) দারাকুত্বনী বলেছেন: "ضعیف" "তিনি য'ঈফ”। (সুনান দারাকুত্বনী ২/১২১, ১৯৮২)
(১৫) বায়হাক্বী বলেছেন : "مَثْرُوكُ" "তিনি মাতরূক” তথা পরিত্যাজ্য। (আস্ সুনানুল ২/৩২)
(১৬) ইবনু জাওযী তাকে "আয যু'আফা ওয়াল মাতরূকীন” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর বলেছেন, ويحدث عن النُّعْمَانِ عَنِ الْمُغيرة “তিনি 'নু'মান হতে, তিনি মুগীরাহ্ হতে (সানাদে) মুনকার হাদীসসমূহ বর্ণনা করতেন- (২/৮৯ নং, ১৮৫০) আর বলেছেন: "المتهم به عبد الرحمن بن إسحاق “আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব (হাদীস জালকরণের দোষে) অভিযুক্ত”- (আল মাওযূ'আত, ৩/২৫৭)।
(১৭) যাহাবী বলেছেন : "ضَعَفُوهُ" "মুহাদ্দিসগণ তাকে য'ঈফ বলেছেন”। (আল কাশিফ ২/২৬৫)
(১৮) ইবনু হাজার বলেছেন : "كوفى ضعيف" “তিনি কুফার অধিবাসী, য’ঈফ”। (তাক্বরীবুত্ তাহযীব, জীবনী ক্রমিক নং ৩৭৯৯)
(১৯) নাবাবী বলেছেন, "وَهُوَ ضَعِيفٌ بِالْإِتِّفَاقِ" “তিনি ঐকমত্যানুসারে য’ঈফ”। (শারহে মুসলিম ৪/১১৫; নাসবুর রায়াহ ১/৩১৪)
(২০) ইবনুল মুলাক্বিন বলেছেন, "فإنه ضعیف" “নিশ্চয় তিনি য’ঈফ”। (আল বাদরুল মুনীর ৪/১৭৭)
আয যারক্বানীও ‘শারহে মুওয়াত্ত্বা ইমাম মালিক’ গ্রন্থে (১/৩২১) বলেছেন, "وإسناده ضعیف" এবং এর সানাদ য’ঈফ।
এই পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হতে প্রতীয়মান হল যে, ‘আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক্ব’ জামহুর মুহাদ্দিস কিরামদের নিকটে য’ঈফ এবং সমালোচিত। কতিপয় তাকে (হাদীস জাল করার দোষে) অভিযুক্ত এবং পরিত্যাজ্যও বলেছেন। অতএব তার রিওয়ায়াত প্রত্যাখ্যাত।
দলীল-২:
عن علقمة بن وائل بن حجر ، عن أبيه ، قال : رأيت النبي وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة.
ওয়ায়িল ইবনু হুজ্ বলেন, আমি নাবী-কে দেখেছি, তিনি সলাতে ডান হাত বাম হাতের উপরে নাভীর নিচে রেখেছেন। (মুসান্নাফ আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৩৯৩৮: মাকতাবাহ্ রশিদ; মুসান্নাফ আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৩৯৫৫, ৩৯৫৯, তাহক্বীক্ব: মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম; মুসান্নাফ আবূ শায়বাহ্ হাঃ ৩৯৬২, তাহক্বীক্ব: ‘উসমান ইবনু ইবরাহীম)
‘উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
জবাব : تَحْتَ السُّرَّةِ বা “নাভীর নিচে” হাদীসের মাতান ঢুকিয়ে দিয়ে নিচের মাযহাবের পক্ষে দলীল বানিয়েছে! এই تَحْتَ السُّرَّةِ “নাভীর নিচে” কথাটি কিছু হাদীস জালকারীরা যুক্ত করে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ عَزِيرٌ حَكِيمٌ “অতিশয় সম্মানিত এবং মহাজ্ঞানী”- (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯: ৭১)। হাদীস জালকারীদের এই ধূর্ততাকে আল্লাহ মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন।
জবাব : ওয়ায়িল ইবনু হুজর-এর উক্ত হাদীসটি একই সানাদে (মুসনাদ আহমাদ হাঃ ১৮৮৪৬, সুনান দারাকুত্বনী হাঃ ১১০১, শারহুস্ সুন্নাহ হাঃ ৫৬৯) এনেছেন কিন্তু কেউ এই تَحْتَ السُّرَّةِ “নাভীর নিচে” কথাটি আনেননি। ফলে ভারতের চাঁদপুরী সাহেবরা হাদীস জাল করেছেন, এটা প্রমাণিত হলো।
ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) মুসান্নাফ আবূ শায়বাহ্ থেকে হাদীসটি নকল করেছেন তাতেও تَحْتَ السُّرَّةِ “নাভীর নিচে” কথাটি আনেনি। (কানযুল উম্মাল হাঃ ২২০৯৯)
এ কারণেই অনোয়ার শাহ কাশ্মীরি হানাফী দেওবন্দী স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, উক্ত হাদীসের تَحْتَ السُّرَّةِ “নাভীর নিচে” কথাটি বাতিল প্রমাণিত নয়। (ফাইজুল বারী ২/২৬৭ পৃষ্ঠা)
তাক্বী 'উসমানী ও দেওবন্দী হানাফী তিনিও স্বীকার করেছেন। (দারসে তিরমিযী ২/২৩-২৪ পৃষ্ঠা)
📄 ইমামের পিছনে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পাঠ না করার দলীলের জবাব
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
“আর যখন কুরআন পঠিত হয় তখন তা শোনো, আর চুপ করে থেকো, যেন তোমাদের প্রতি করুণা বর্ষিত হয়।” (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ২০৪)
عن بشير بن جابر قال: صلى ابن مسعود، فسمع ناسا يقرؤون مع الإمام، فلما انصرف قال : أما آن لكم أن تفقهوا! أما آن لكم أن تعقلوا؟ وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا ، كما أمركم الله.
বাশির ইবনু জাবির বলেন, ইবনু মাস্ঊদ লোকেদের ইমামতি করলেন ও তিনি কিছু লোককে ইমামের পিছনে কুরআন পড়তে শুনলেন, তিনি সালাম ফেরার পরে বললেন : এখনও কি সময় হয়নি যে, তোমরা বুঝবে? এখনও কি সময় আসেনি যে, তোমরা অনুধাবন করবে? “শুনে রাখ যখন কুরআন পড়া হয় তখন তোমাকে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং চুপ থাকবে”- (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ২০৪)। যেমনটি আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন। (তাফসীর আত্ ত্ববারী ১৫৫৮৪)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : এ হাদীসটি য'ঈফ, কারণ উক্ত সানাদ দাউদ ইবনু আবূ হিন্দ ছোট তাবি'ঈ (মৃত্যু ১৩৯/১৪০) কেবলমাত্র আনাস -কে দেখেছেন কিন্তু তার থেকেও শ্রবণ সাব্যস্ত নেই। (মাশাহির 'উলামা ১১৮৭, সিক্কাত ইবনু হিব্বান ৭৭২৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৭৬-৩৭৮)
অতএব সানাদে ইনক্বিতা' আছে।
আল মাহরাবী হচ্ছেন মুদাল্লিস রাবী- (তাবাকাত আল মুদাল্লিসিন, রাবী নং ৮০, আসমাউ মুদাল্লিসিন রাবী- ৩৫) এবং তিনি আন আন শব্দে হাদীস বর্ণনা করেন, ফলে হাদীসটি য'ঈফ। মুদাল্লিস রাবীর عن ওয়ালা বর্ণনা য'ঈফ হয়- (মুক্বাদ্দামা ইবনুস্ সলাহ্ পৃঃ ৯৯, আল কিফায়াহ্ পৃঃ ৩৬৪)।
مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ
জাবির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন : যার ইমাম আছে ইমামের ক্বিরাআতই তার ক্বিরাআত। (সুনান ইবনু মাজাহ হাঃ ৮৫০, মুসনাদে আহমাদ হাঃ ১৪৬৫৫, মুওয়াত্ত্বা মুহাম্মাদ ৯৮ পৃষ্ঠা, সুনান দারাকুত্বনী হাঃ ১২৫৩; ইমাম দারাকুত্বনী হাদীসটি আনার পর য'ঈফ বলেছেন)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
তাহক্বীক্ব : এ হাদীসের সানাদে হাসান ও আবুয যুবায়র-এর মাঝে জাবীর আল জু'ফী ও কোন কোন বর্ণনায় লায়স ইবনু আবূ সুলায়মান আছে। (দারাকুত্বনী হাঃ ১২৫৩,১২৫৪, বায়হাক্কী হাঃ ২৮৯৮, মা'আনিল আসার হাঃ ১২৯৭)
১) লায়স ইবনু আবূ সুলায়মান য'ঈফ মুদাল্লিস রাবী, শেষ জীবনে তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। (তাহযীবুল আসমা রাবী ৫৩৭, জারাহ ও তা'দীল রাবী ১০১৪, ইবনু হিব্বান-এর "মাজরূহীন” ৯০৬)
২) জাবির আল জু'ফী সম্পর্কে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তিনি সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। (নাস্তাবুর রায়হা ২/২৪৯)
৩) আবুয যুবায়র তিনি বিখ্যাত মুদাল্লিস রাবী। (মুদাল্লিসিন ৫৯, তাবি'ঈন ৭২, তাবাকাতু মুদাল্লিসিন ১০১)
মুদাল্লিস রাবীর عن ওয়ালা বর্ণনা য'ঈফ হয়। (মুক্বাদ্দামাহ্ ইবনুস্ সালাহ্ পৃঃ ৯৯; আল কিফায়াহ্ পৃঃ ৩৬৪)
অতএব এ হাদীসের কোন সানাদই সহীহ নয় সবগুলোই য'ঈফ।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: "إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا ، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ".
আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: মূলত ইমামকে নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। যখন সে তাকবীর বলবে তখন তোমরাও তাকবীর দিবে। আর যখন সে পাঠ করবে তখন তোমরা নীরব থাকবে। এবং যখন সে “সামি'আল্ল-হু লিমান হামিদাহ্” বলবে তখন তোমরা বলবে “আল্ল-হুম্মা রব্বানা- লাকাল হাম্দ”। (নাসায়ী হাঃ ৯২১)
'উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
জবাব : এ রিওয়ায়াতটি মানসূখ বা রহিত। এ হাদীসের রাবী সাইয়িদুনা আবূ হুরায়রাহ্ জেহরী সলাতসমূহেও ইমামের পিছনে ফাতিহাহ্ পাঠের হুকুম দিতেন। (দেখুন: আসারুস্ সুনান হাঃ ৩৫৮, মুসনাদুল হুমায়দী, দেওবন্দী নুসখা হাঃ ৯৭৪)
রাবী যদি নিজের রিওয়ায়াতের বিরোধী ফাতাওয়া দেন তবে ঐ রিওয়ায়াতটি দেওবন্দীদের নিকটে মানসূখ হয়। (দেখুন : ত্বাহাবী, শারহু মা'আনিল আসার ১/২৩; আসারুস সুনান মাআত তালীক্ব, নং ২০; তাওযীহুস্ সুনান ১/১০৭; খাযায়িনুস সুনান ১/১৯১, ১৯২; উমদাতুল ক্বারী ৩/৪১; হাক্বায়িকুস সুনান ১/৪০৫; হুসায়ন আহমাদ, তাক্বরীরে তিরমিযী পৃঃ ২১০)
ত্বহাবী এবং আইনীর উদ্ধৃতি এজন্য পেশ করা হল যে, দেওবন্দীদের নিকটে তাদের উচ্চ স্থান রয়েছে। স্বীয় আকাবেরদের মূলনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অত্র হাদীসটি স্বপক্ষে পেশ করা হয়ে থাকে।
📄 সশব্দে ‘আ-মীন’
ওয়ায়িল ইবনু হুজর থেকে বর্ণিত আছে যে, كَانَ رَسُولُ اللهِ لا إِذَا قَرَأَ وَلَا الضَّالِّينَ﴾ [الفاتحة: 7]، قَالَ: «آمِينَ»، وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ.
“রসূলুল্লাহ যখন 'ওয়ালায্যো-ল্লীন' পড়তেন, তখন উচ্চৈঃস্বরে ‘আ-মীন’ বলতেন”। (আবূ দাউদ ১/১৪২, হাঃ ৯৩২; তিরমিযী হাঃ ২৪৮; দারাকুতনী হাঃ ১২৬৭; দারিমী হাঃ ১২৮৩; মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৮৪২)
‘উলামাদের জন্য লক্ষণীয়
ইমাম তিরমিযী বলেন : হাদীসটি হাসান। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮)
ইমাম দারাকুতনী বলেন: এটি (হাদীসটি) সহীহ। (দারাকুতনী হাঃ ১২৬৭)
ইমাম নাসিরুদ্দীন আলবানী বলেন : হাদীসটি সহীহ। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২, তাহক্বীক্ব: নাসিরুদ্দীন আলবানী)
হামযাহ্ আহমাদ যাঈন বলেন: এর সানাদ সহীহ। (মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩১৬, হাঃ ১৮৭৪৪; তাহক্বীক্ব: হামযাহ্ আহমাদ যাঈন)
ইয়াসির হাসান বলেন: এর সানাদ সহীহ। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২, তাহক্বীক্ব: ইয়াসির হাসান)
শু'আয়ব আরনাউত্ব বলেন: এর সানাদ সহীহ। (আবূ দাউদ হাঃ ৯৩২, তাহক্বীক্ব: শু'আয়ব আরনাউত্ব)
হাফিয যুবায়র 'আলী যাঈ বলেন: এর সানাদ সহীহ। (তিরমিযী হাঃ ২৪৮, তাহক্বীক্ব: যুবায়র 'আলী যাঈ)
হুসায়ন সালিম আসাদ দারানী বলেন: এর সানাদ সহীহ। (দারিমী হাঃ ১২৮৩, তাহক্বীক্ব: হুসায়ন সালিম আসাদ্ দারানী)
মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী বলেন: এর সানাদ হাসান। (দারাকুতনী হাঃ ১২৫৩, তাহক্বীক্ব: মাজদী ইবনু মানসূর ইবনু সা'ঈদ আশ্ শাওরী)
উক্ত হাদীসটি সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ। এ হাদীসটির প্রতি বিন্দুমাত্র ভুল ধারণা রাখাই যাবে না। সূরাহ্ ফাতিহার পর জোরে 'আ-মীন' বলা সুন্নাত। 'আ-মীন' হল দু'আ। এর অর্থ (হে আল্লাহ!) তুমি ক্ববূল করো। আমরা যে কোন দু'আ করে 'আ-মীন' বলি যাতে আল্লাহ আমাদের উক্ত দু'আ কবুল করেন। তাই আমাদের সকলের এই সুন্নাত মেনে চলতে হবে। তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীস দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আ-মীন!
আর একটি বর্ণনায় আছে, »فَجَهَرَ بِآمِينَ« “অতঃপর তিনি সশব্দে 'আ-মীন' বললেন”। (ঐ, হাঃ ৯৩৩)
»يَرْفَعُ صَوْتَهُ بِآمِينَ« হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম দারাকুত্বনী বলেছেন : صَحِيحٌ 'সহীহ'। (দারাকুত্বনী হাঃ ১২৫৩, ১২৫৪(
ইবনু হাজার বলেছেন : وَسَنَدَهُ صَحِيحٌ “এর সানাদ সহীহ”। (ইবনু হাজার 'আসক্বালানী, আত্ তালখীসুর হাবীর ১/২৩৬, হাঃ ৩৫৩)
ইবনু হিব্বান ও ইবনুল ক্বাইয়িম প্রমুখ সহীহ বলেছেন। কোন নির্ভরযোগ্য ইমাম একে য'ঈফ বলেননি। এ মর্মের অন্যান্য সহীহ বর্ণনাগুলো 'আলী, আবূ হুরায়রাহ্ প্রমুখ থেকেও বর্ণিত আছে। যেগুলোকে 'আ-মীন' প্রসঙ্গে মিথ্যাচারের জবাব পুস্তকে উল্লেখ করেছি আল্হাম্মদুলিল্লা-হ।
‘আত্বা ইবনু আবূ রবাহ বর্ণনা করেছেন যে,
أَمَّنَ ابْنُ الزُّبَيْرِ: وَمَنْ وَرَاءَهُ حَتَّى إِنَّ لِلْمَسْجِدِ لَلَجَّةٌ
“আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র এবং তাঁর মুক্তাদীরা এত উচ্চৈঃস্বরে 'আ-মীন' বলেন যে, মাসজিদ গুঞ্জরিত হয়ে উঠে”। (সহীহুল বুখারী ১/১০৭, হাঃ ৭৮০ এর পূর্বে, 'আযান' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১১১; মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব হাঃ ২৬৪০)
এর সানাদ সহীহ (রিজাল ও উসূলে হাদীসের গ্রন্থাবলী দেখুন)। ইবনু 'উমার এবং তাঁর সাথী ও ইমামের পিছনে 'আ-মীন' বলতেন এবং এটাকে সুন্নাত আখ্যায়িত করতেন। (সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ১/২৮৭, হাঃ ৫৭২) আলবানী হাদীসটিকে য'ঈফ বলেছেন [اسنده ضعیف]
কোন একজন সহাবী থেকেও সহীহ সানাদে নীরবে 'আ-মীন' বলা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই।
মু'আয ইবনু জাবাল থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ বলেছেন:
... إِنَّ الْيَهُودَ قَوْمٌ سَئِمُوا دِينَهُمْ، وَهُمْ قَوْمٌ حُسَّدٌ، وَلَمْ يَحْسِدُوا الْمُسْلِمِينَ عَلَى أَفْضَلَ مِنْ ثَلَاثٍ: رَبِّ السَّلَامِ، وَإِقَامَةِ الصُّفُوفِ، وَقَوْلِهِمْ خَلْفَ إِمَامِهِمْ فِي الْمَكْتُوبَةِ: آمِينَ
“নিশ্চয় ইয়াহুদীরা তাদের ধর্ম সম্পর্কে বিরক্ত হয়ে গেছে এবং তারা হিংসুক জাতি। তারা যেসব 'আমালের ব্যাপারে মুসলিমদের সাথে হিংসা করে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল (১) সালামের উত্তর দেয়া (২) কাতারসমূহ সোজা করা এবং (৩) ফার্য সলাতে ইমামের পিছনে মুসলিমদের আ-মীন বলা।” (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ২/১১৩, হাঃ ২৬৬৩; হায়সামী বলেছেন: اسناده حسن এর সানাদ হাসান', ত্ববারানী আওসাত্ব ৫/৪৭৩, হাঃ ৪৯১০)