📄 তাক্বলীদ
নাবী নন এমন ব্যক্তির কথা বিনা দলীলে মানাকে তাক্বলীদ বলে। (মুসাল্লামুস্ সুবৃত পৃঃ ২৮৯)
এ সংজ্ঞার ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ইজমা রয়েছে- (ইবনু হাযম-এর “আল ইহকাম” পৃঃ ৮৩৬)। 'আল ক্বামূসুল ওয়াহীদ' অভিধানে তাক্বলীদের নিম্নোক্ত অর্থ লিপিবদ্ধ রয়েছে, 'চিন্তা-ভাবনা না করে বা বিনা দলীলে অনুসরণ, অনুকরণ ও সোপর্দ করা। বিনা দলীলে অনুসরণ, চোখ বন্ধ করে কারো পিছে চলা, কারো অনুকরণ করা। যেমন:
"قَلَّدَ الْقِرْدُ الْإِنْسَانَ" ‘বানরটি লোকটির অনুকরণ করল’। (আল কামূসুল ওয়াহীদ পৃঃ ১৩৪৬, আরো দেখুন: আল মু'জামুল ওয়াসীত্ব পৃঃ ৭৫৪)।
জনাব মুফতী আহমাদ ইয়ার না'ঈমী বাদায়ূনী ব্রেলভী ইমাম গাযালী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে,
"التَّقْلِيدُ هُوَ قَبُولُ قَوْلٍ بِلَا حُجَّةٍ"
'বিনা দলীলে কারো কোন কথা মেনে নেয়াই হল তাক্বলীদ'। (জাআল হাক্ব ১/১৫, পুরাতন সংস্করণ)
আশরাফ 'আলী থানবী দেওবন্দীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, 'তাক্বলীদের স্বরূপ কি এবং তাক্বলীদ কাকে বলে? তিনি জবাবে বলেন, 'বিনা দলীলে উম্মাতের কারো কথা মেনে নেয়াকে তাক্বলীদ বলে।' তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, 'আল্লাহ ও রসূল-এর কথা মান্য করাকেও কি তাক্বলীদ বলা হবে?' তিনি বলেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রসূল -এর হুকুম মানাকে তাক্বলীদ বলা হবে না। সেটাকে ইত্তিবা' (অনুসরণ) বলা হয়।' (আল ইফাযাতুল ইয়াওমিয়াহ/মালফুযাতে হাকীমুল উম্মাত ৩/১৫৯, বচন নং ২২৮)
স্মর্তব্য যে, উসূলে ফিক্বহে লিখিত আছে যে, কুরআন মানা, রসূলুল্লাহ -এর হাদীস মানা, ইজমা মানা, সাক্ষীদের সাক্ষ্যর ভিত্তিতে বিচার ফায়সালা করা, সাধারণ মানুষের 'আলিমদের নিকট প্রত্যাবর্তন করা (এবং মাআলাহ্ জিজ্ঞেস করে 'আমাল করা) তাক্বলীদ নয়। (মুসাল্লামুস্ সুবৃত পৃঃ ২৮৯, আত্ তাকরীর ওয়াত্ তাহবীর ৩/৪৫৩)
মুহাম্মাদ 'উবায়দুল্লাহ আস্'আদী দেওবন্দী তাক্বলীদের পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে লিখেছেন যে, “বিনা দলীলে কারো কথা মেনে নেয়া। তাক্বলীদের প্রকৃত স্বরূপ এটাই। কিন্তু...” (উসূলুল ফিক্বহ, পৃঃ ২৬৭)। প্রকৃত স্বরূপকে বাদ দিয়ে তথাকথিত দেওবন্দী ফাকীহদের অপব্যাখ্যা কে শোনে।
আহমাদ ইয়ার না'ঈমী সাহেব লিখছেন যে, 'এ সংজ্ঞা থেকে জানা গেল যে, রসূলুল্লাহ-এর অনুসরণ করাকে তাক্বলীদ বলতে পারি না। কেননা তাঁর প্রত্যেকটি কথা ও কাজ শার'ঈ দলীল। এজন্য আমরা রসূলুল্লাহ-এর উম্মাত বলব, মুক্বাল্লিদ নয়। অনুরূপভাবে সাধারণ মুসলিমরা 'আলিমের অনুসরণ যেটা করে থাকে তাকেও তাক্বলীদ বলা যাবে না। কেননা কেউই ঐ 'আলিমদের কথা বা তাদের কাজকে নিজের জন্য হুজ্জাত (দলীল) বানায় না'। (জা-আল হাক্ব ২/৩০ পৃষ্ঠা বাংলা অনুবাদ, জা-আল হাক্ব ১/১৬)
যে সম্পর্কে জানা নেই আল্লাহ সে কথার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন- (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭ : ৩৬)। অর্থাৎ দলীলবিহীন কথার অনুসরণ নিষিদ্ধ। যেহেতু আল্লাহ ও রসূল-এর কথা স্বয়ং দলীল এবং ইজমার হুজ্জাত হওয়ার ব্যাপারে দলীল ক্বায়িম রয়েছে; সেজন্য কুরআন, হাদীস ও ইজমাকে মানা তাক্বলীদ নয়। (ইবনু হুমام-এর “আত্ তাহরীর" ৪/২৪১, ২৪২; ফাওয়াতিহুর রহমৃত ২/৪০০)
আল্লাহ এবং রসূল-এর বিপরীতে যে কোন ব্যক্তির তাক্বলীদ করা রিসালাতে শির্ক (شرك فى الرسالة)। রসূলুল্লাহ দীনের মধ্যে রায়ের আলোকে ফাতাওয়া দেয়ার নিন্দা করেছেন। (সহীহুল বুখারী হাঃ ৭৩০৭, ২/১০৮৬)
'উমার আহলুর রায়কে রসূলুল্লাহ -এর সুন্নাতের দুশমন আখ্যা দিয়েছেন, (أَصْبَحَ أَهْلُ الرَّأْيِ أَعْدَاءَ السُّنَنِ)। (ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন ১/৫৫)
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন যে, এ আসারসমূহের সানাদ অত্যন্ত বিশুদ্ধ। (ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন ১/৫৫)
মু'আয ইবনু জাবাল বলেছেন: وَأَمَّا زَلَّهُ عَالِمٍ، فَإِنِ اهْتَدَى فَلَا تُقَلِّدُوهُ دِينَكُمْ.
'আলিমের ভুলের ব্যাপারে বক্তব্য হল, যদি তিনি হিদায়াতের উপরেও থাকেন, তবুও তোমাদের দীনের ব্যাপারে তার তাক্বলীদ করো না'। (ইমাম ওয়াকী'-এর “কিতাবুয যুহদ” ১/৩০০, হাঃ ৭১ : সানাদ হাসান; আবু দাউদ-এর "কিতাবুয যুহদ” পৃঃ ১৭৭, হাঃ ১৯৩; হিলয়াতুল আওলিয়া ৫/৯৭, ইবনু 'আবদিল বার, জামি'উ বায়ানিল 'ইল্ল্ম ওয়া ফাযলিহী ২/১৩৬, ইবনু হাযম-এর "আল ইহকাম” ৬/২৩৬, ইবনুল কাইয়িম 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন [২/২৩৯] গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।)
উক্ত বর্ণনা সম্পর্কে ইমাম দারাকুত্বনী বলেছেন : والموقوف هو" "الصحيح ‘আর (এটি) মাওকুফ (বর্ণনা) হওয়াই সঠিক'। (আল ইলালুল ওয়ারিদাহ্ ৬/৮১, প্রশ্ন নং ৯৯২)
'আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'ঊদ ও তাক্বলীদ থেকে নিষেধ করেছেন। (আস্ সুনানুল কুবরা ২/১০, হাঃ ২০৭০: সানাদ সহীহ)
চার ইমামও (ইমাম আবূ হানীফাহ্, মালিক, শাফি'ঈ ও আহমাদ ইবনু হাম্বাল) তাদের নিজেদের এবং অন্যদের তাক্বলীদ করতে নিষেধ করেছেন। (মাজমূ' ফাতাওয়া ২/১০, ২১১; 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/১৯০, ২০০, ২০৭, ২১১, ২২৮)
কোন ইমাম থেকেও এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই যে, তিনি বলেছেন 'আমার তাক্বলীদ করো'। এর বিপরীতে এ কথা প্রমাণিত রয়েছে যে, চার মাযহাবের তাক্বলীদের বিদ্'আত হিজরী চতুর্থ শতকে শুরু হয়েছে। (ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন ২/২০৮)
এ ব্যাপারে মুসলিমদের ইজমা রয়েছে যে, মূর্খতার অপর নাম তাক্বলীদ এবং মুক্বাল্লিদ জাহিল (মূর্খ) হয়ে থাকে। (জামিউ বায়ানিল ইলম ২/১১৭, ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/১৮৮, ১/৭)
ইমামগণ তাক্বলীদের খণ্ডনে বই-পুস্তক লিখেছেন। যেমন ইমাম আবু মুহাম্মাদ ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ আল কুরতুবীর (মৃঃ ২৭৬ হিঃ) " الإيضاح" (আল ঈযাহ ফিরাদ্দি 'আলাল মুক্বাল্লিদীন) গ্রন্থটি। (যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৩/৩২৯)
পক্ষান্তরে কোন একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম থেকে এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নেই যে, তিনি তাক্বলীদের আবশ্যকতা বা বৈধতার ব্যাপারে কোন গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করেছেন। মুক্বাল্লিদরা পরস্পরের সাথে রক্তাক্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। (মু'জামুল বুলদান ১/২০৯, ৩/১১৭; ইবনুল আসীর-এর “আল কামিল" ৮/৩০৭, ৩০৮; ওয়াফায়াতুল 'আয়ান ৩/২০৮)
একজন আরেকজনকে কাফির আখ্যা দিতে থাকে। (যাহাবী-এর “মীযানুল ই'তিদাল” ৪/৫২, আল ফাওয়ায়িদুল বাহিয়াহ্ পৃঃ ১৫২, ১৫৩)
তারা বায়তুল্লাহতে চার মুসল্লা ক্বায়িম করে মুসলিম উম্মাহকে চার ভাগে বিভক্ত করেছে। চার আযান, চার ইক্বামাত এবং চার ইমামাত! যেহেতু প্রত্যেক মুক্বাল্লিদ নিজ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে নিজ ইমাম ও অনুসরণীয় ব্যক্তির সাথে বন্ধনযুক্ত রয়েছে, সেজন্য তাক্বলীদের কারণে মুসলিম উম্মাহর মাঝে কখনো ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তাই আসুন! আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কুরআন ও সুন্নাহ্র রজ্জুকে আঁকড়ে ধরি। কুরআন ও সুন্নাহ্ মধ্যেই দুনিয়া-আখিরাতের সফলতার পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে।
বিস্তারিত জানার জন্য লেখকের রচিত 'তাক্বলীদ বিভ্রান্তি নিরসন' পুস্তকটি পাঠ করুন।
📄 নিয়্যাতের মাস্আলাহ্
'আমাল ও 'ইবাদাত শুদ্ধ-অশুদ্ধ এবং তাতে সাওয়াব পাওয়া-না পাওয়ার কথা নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল। নিয়্যাত শুদ্ধ হলে 'আমাল শুদ্ধ; নচেৎ না। প্রিয়নবী বলেন, “যাবতীয় 'আমাল নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল। অতএব প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়্যাত করে থাকে। যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব কোন বিষয় লাভের উদ্দেশে হয়, সে ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়। যার হিজরত কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশে হয়, তার প্রাপ্যও তাই। যে যে নিয়্যাতে হিজরত করবে সে তাই পেয়ে থাকবে। (সহীহুল বুখারী ২/৯৯০, হাঃ ৬৬৮৯; সহীহ মুসলিম ২/১৪০, ১৪১, হাঃ ১৯০৭-[১৫৫])
নিয়্যাতের অর্থ:
নিয়্যাত আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থ ইচ্ছা করা, মনস্থ করা, সংকল্প করা। (মুনজিদ ৮৪৯, ফাতহুল বারী ১/১৭)
আর মনের সংকল্প ও পরিকল্পনাকে নিয়্যাত বলা হয়। সংকল্প ও পরিকল্পনার স্থান মন, মুখ নয়। (ইবনু তাইমিয়াহ্, আল ফাতাওয়া আল কুবরা ১/১)
মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা নাতো নাবী থেকে প্রমাণিত আছে, না কোন সাহাবী থেকে আর না কোন তাবি'ঈ থেকে...। (যাদুল মা'আদ ১/২০১)
📄 সলাত
'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে,
لَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى نَحْوِ أَهْلِ اليَمَنِ قَالَ لَهُ: «إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِدُوا الله تَعَالَى، فَإِذَا عَرَفُوا ذُلِكَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ، فَإِذَا صَلَّوْا ...
"নাবী যখন মু'আয ইবনু জাবাল-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেন তখন তাকে বলেন, তুমি আহলে কিতাবদের নিকট যাচ্ছ। অতএব তাদেরকে সর্বপ্রথম তাওহীদের দা'ওয়াত দিবে। যখন তারা তাওহীদের পরিচয় লাভ করবে তখন তাদেরকে বলবে যে, আল্লাহ দিনে-রাতে তাদের ওপরে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফার্য করেছেন। যখন তারা সলাত আদায় করতে শুরু করবে...।" (সহীহুল বুখারী ১/১৯৬, হাঃ ১৪৫৮, ২/১০৯৬, হাঃ ৭৩৭২; মুসলিম ১/৩৬, হাঃ ১৯৬, হাঃ ১৯; শব্দ বুখারী)
ফার্য ও নাফ্ল সলাতের সংখ্যা, রাক্'আত এবং বিস্তারিত বিবরণ রসূলুল্লাহ বর্ণনা করে দিয়েছেন এবং স্বীয় উম্মাতকে হুকুম দিয়েছেন যে, «وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلَّى» “আর তোমরা যেভাবে আমাকে সলাত আদায় করতে দেখেছ, সেভাবে সলাত আদায় করো”। (সহীহুল বুখারী ১/৮৮, ৬৩১; ২/৮৮৮, ৬০০৮; ২/১০৭৬, ৭২৪৬; ইবনু খুযায়মাহ্ ৩৯৭, ৫৮৬; ইবনু হিব্বান ১৬৫৮, ১৮৭২; দারিমী ১২৮৮, দারাকুত্বনী ১০৬৮, ১০৬৯, ১৩১১; বায়হাক্বী ৩৮৫৬, ৫২৯৩; আদাবুল মুফরাদ ২১৩, মুসনাদ শাফি'ঈ ২৯৪, মুশকিলুল আসার ১৭২৫, মারিফাতুস্ সুনান ৪৬০৪, ৫৮৯৩, ৫৮৯৫)
সহাবীগণ নাবী-এর নিকট থেকে সলাতের পদ্ধতি শিখেছেন। তাঁরা সেই বারাকাতময় পদ্ধতিকে হাদীসরূপে মানুষের নিকট পৌঁছিয়েছেন। এজন্য প্রমাণিত হল যে, মুসলিম উম্মাহ হাদীসসমূহ থেকে সলাতের পদ্ধতি শিখেছে। উম্মাতের যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সলাতের পদ্ধতি ঐ হাদীসসমূহের বিপরীত [যেমন মালিকীদের হাত ছেড়ে দিয়ে সলাত আদায় প্রভৃতি] তাদের উচিত হ'ল সহীহ হাদীসসমূহের আলোকে নিজেদের সলাতকে সংশোধন করে নেয়া।
📄 সলাতের ওয়াক্তসমূহ
(সলাতের ওয়াক্তসমূহের ব্যাপারে) হাদীসে জিবরীলে আছে যে, তিনি রসূলুল্লাহ -কে সূর্য ঢলে যাওয়ার পরে যুহরের সলাত আদায় করান। অতঃপর বস্তুর ছায়া একগুণ হলে 'আসর আদায় করান... এবং দ্বিতীয় দিন বস্তুর ছায়া একগুণ হলে যুহর এবং দুইগুণ হলে 'আসর'র সলাত আদায় করান। গতকালের মতো সূর্যাস্তের পর মাগরিব আদায় করান এবং বলেন যে,
يَا مُحَمَّدُ، هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ، وَالوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ الوَقْتَيْنِ. “হে মুহাম্মাদ! এটাই হল আপনার পূর্ববর্তী নাবীগণের সলাতের ওয়াক্ত। আর সলাতের সময় এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী।” (এ হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী [হাঃ ১৪৯, মুসনাদে শাফি'ঈ হাঃ ১৪৫, ইবনুল জারূদ, মুনতাক্বা হাঃ ১৪৯] প্রমুখ বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ হাসান। নিমবী হানাফী, আসারুস্ সুনান পৃঃ ১২২, হাঃ ১৯৪। তিনি বলেন, 'এর সানাদ হাসান')
এ জাতীয় হাদীসসমূহ জাবির প্রমুখ থেকেও উত্তম সানাদসমূহে বর্ণিত আছে। নিমবী হানাফী বলেছেন, 'আমি কোন সুস্পষ্ট সহীহ বা য'ঈফ হাদীস পাইনি, যা এ কথার প্রতি নির্দেশ করে যে, বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত যুহরের ওয়াক্ত'। (আসারুস সুনান [উর্দু অনুবাদ], পৃঃ ১৬৮, হাঃ ১৯৯)
স্মর্তব্য যে, কিছু দেওবন্দী ও ব্রেলভী এ বিষয়ে অস্পষ্ট সন্দেহ পেশ করে থাকেন। অথচ উসূলে ফিক্বহে এ স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম রয়েছে যে, মানতুক (منطوق) মাফহুম (مفهوم)-এর উপর প্রাধান্য লাভ করে। (ফাতহুল বারী ২/২৪২, ২৯৭, ৪৩০, ৪/৩৮২, ৩৮৬, ৯/৩৬৯, ১২/২০৩)