📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 আমাদের ‘আক্বীদাহ্

📄 আমাদের ‘আক্বীদাহ্


আমরা অন্তর, যবান ও 'আমাল দ্বারা এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করি যে, لَا إِلَهَ إِلَّا الله 'আল্লাহ ছাড়া (সত্যিকারের) কোন ইলাহ নেই'। আল্লাহই প্রধান বিচারপতি, আইনপ্রণেতা, প্রয়োজন পূরণকারী, বিপদ দূরকারী এবং ফরিয়াদ শ্রবণকারী। প্রকৃতি বা স্বরূপ নির্ধারণ, সাদৃশ্য প্রদান এবং নির্গুণ সাব্যস্ত ছাড়াই আমরা আল্লাহ্ নামসমূহকে মানি। তিনি সাত আকাশমণ্ডলীতে স্বীয় 'আরশের উপরে সমুন্নত আছেন। যেমনটা তাঁর জন্য মাননসই। তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সৃষ্টিজগতের সবকিছুকে বেষ্টন করে আছে।
আমরা অন্তর, যবান ও 'আমাল দ্বারা এ কথা সাক্ষ্য প্রদান করি যে, 'মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ্র রসূল'। তিনি সর্বশেষ নাবী, সকল সৃষ্টির ইমাম, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সত্য পথপ্রদর্শক এবং তাঁর অনুসরণ আবশ্যক। তাঁর নবুওয়াত, ইমামাত (নেতৃত্ব) ও রিসালাত ক্বিয়ামাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তাঁর কথা, কাজ ও স্বীকৃতি সব প্রামাণ্য দলীল। তাঁর প্রকৃত অনুসরণের মধ্যে উভয় জগতের সফলতার নিশ্চয়তা রয়েছে এবং তাঁর নাফারমানীতে উভয় জগতে ব্যর্থতা ও ধ্বংসের নিশ্চয়তা রয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে এথেকে রক্ষা করুন!
আমরা কুরআন ও সহীহ হাদীসকে দলীল এবং সত্যের মানদণ্ড হিসেবে মানি। কুরআন ও হাদীস দ্বারা যেহেতু এটা প্রমাণিত আছে যে, মুসলিম উম্মাহ পথভ্রষ্টতার উপরে একত্রিত হ'তে পারে না- (মুস্তাদরাকে হাকিম ১/১১৬, হাঃ ৩৯৯, ইবনু 'আব্বাস থেকে বর্ণিত)। সেহেতু আমরা ইজমায়ে উম্মাতকেও হুজ্জাত (দলীল) মানি। স্মর্তব্য যে, সহীহ হাদীসের বিপরীতে ইজমা হয়-ই না। আমরা সকল সহাবীকে ন্যায়পরায়ণ এবং আমাদের প্রিয়ভাজন মানি। সব সহাবীকে হিযবুল্লাহ (আল্লাহ্র দল) এবং আল্লাহ্ ওয়ালী মনে করি। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করাকে ঈমানের অঙ্গ মনে করি। যারা তাঁদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমরা তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করি। আমরা তাবি'ঈন, তাবি-তাবি'ঈন এবং মুসলিমদের ইমাম যেমন ইমাম আবূ হানীফাহ্, মালিক, শাফি'ঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বাল, বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী, তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ প্রমুখকে ভালোবাসি। যারা তাঁদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, আমরা তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করি।
তাওহীদ, মুহাম্মাদ-এর রিসালাত এবং তাক্বদীরের উপরে আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। আমরা আদাম 'আলায়হিস সালাম থেকে শুরু করে মুহাম্মাদ পর্যন্ত সকল নাবী ও রসূলের নবুওয়াত ও রিসালাতের স্বীকৃতি প্রদান করি। কুরআন মাজীদকে আল্লাহ তা'আলার কালাম (বাণী) মনে করি। কুরআন মাজীদ মাখলুক্ব (সৃষ্ট) নয়। আমরা ঈমানে হ্রাস- বৃদ্ধিরও প্রবক্তা। অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিতে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাসও হয়। আমাদের পূর্বসুরী 'আলিমগণ আহলে সুন্নাতের যে 'আক্বীদাহ্ বর্ণনা করেছেন, তার প্রতি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। যেমন ইমাম ইবনু খুযায়মাহ্, 'উসমান ইবনু সা'ঈদ আদ্‌ দারিমী, বায়হাকী, ইবনু আবী 'আসিম, ইবনু মান্দাহ, আবূ ইসমা'ঈল আস্ সাবূনী, 'আবদুল গনী মাক্বদিসী, ইবনু কুদামাহ্, ইবনু তায়মিয়াহ্, ইবনুল ক্বাইয়িম, আজুরী, লালকাঈ প্রমুখ। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন!

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 আমাদের মূলনীতি

📄 আমাদের মূলনীতি


হাদীস সহীহ বা য'ঈফ হওয়ার ভিত্তি হচ্ছেন মুহাদ্দিসীনে কিরাম। যে হাদীসের বিশুদ্ধতা বা বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্য রয়েছে, সেই হাদীস নিশ্চিত ও অকাট্যভাবে সহীহ এবং বর্ণনাকারীও অবশ্যই বিশ্বস্ত। এভাবে যে হাদীসের দুর্বলতা বা বর্ণনাকারীর ত্রুটিযুক্ত, যে হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা এবং বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা ও ত্রুটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতভেদ থাকবে (এবং সমন্বয় সাধন সম্ভব হবে না), তখন সর্বদা বিশ্বস্ত, অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের অধিকাংশের তাহক্বীক্ব ও সাক্ষ্যকে সঠিক বলে মনে করি।
এ সকল মূলনীতিকে সামনে রেখে এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকায় কিছু মতভেদপূর্ণ মাসআলার ব্যাপারে তাহক্বীক্বকৃত সহীহ হাদীস এবং মুহাক্কিক্ব, মুজতাহিদ ও জামহূর 'উলামায়ে কিরামের বক্তব্য পেশ করা হল। আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা তিনি যেন আমাদেরকে মুসলিম ও মু'মিন হিসেবে জীবিত রাখেন এবং ইসলাম ও ঈমানের উপরেই মৃত্যু দেন। আ-মীন!

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 আহলে হাদীসগণের ফাযীলাত

📄 আহলে হাদীসগণের ফাযীলাত


এটা সম্পূর্ণ সঠিক যে, কুরআন মাজীদ উম্মাতে মুহাম্মাদীকে মুসলিম উপাধি দিয়েছে। কিন্তু এ বাস্তবতাকেও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, মুসলিমদের একটি বিশেষ দল, রসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদীসের সাথে যাদের জ্ঞানগত ও 'আমালগত ভালোবাসা বিদ্যমান, তারা নিজেদেরকে আহলে হাদীস উপাধিতে ভূষিত করে আসছেন। (খাতিমায়ে ইখতিলাফ পৃঃ ১০৭-১০৮)
মুসলিমদের জন্য আহলে সুন্নাত, আহলে হাদীস প্রভৃতি উপাধি অসংখ্য ইমাম থেকে প্রমাণিত। যেমন মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন, ইবনুল মাদীনী, বুখারী, আহমাদ ইবনু সীনান, ইবনুল মুবারক, তিরমিযী প্রমুখ। কোন একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম বা 'আলিম থেকে এর অস্বীকৃতি বর্ণিত নেই। এজন্য উক্ত উপাধিগুলো সঠিক হওয়ার ব্যাপারে ইজমা রয়েছে। সকল নির্ভরযোগ্য 'আলিম 'আহলে হাদীস' ও 'আসহাবুল হাদীস'কে সাহায্যপ্রাপ্ত দলের হাদীসের হাক্বদার বলে আখ্যা দিয়েছেন। (তিরমিযী হাঃ ২২২৯)
জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ বলেছেন:
«لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِّنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
“আমার উম্মাতের একটি দল ক্বিয়ামাত পর্যন্ত সর্বদা হাক্বের উপর বিজয়ী অবস্থায় লড়াই করবে”।
(মুসলিম হাঃ ১৯২৩; ইবনুল জারূদ, মুনতাক্বা হাঃ ১০৩১, মুস্তাদরাক আবী আওয়ানাহ্ হাঃ ৩১৭, ৭৫০০; ইবনু হিব্বান হাঃ ৬৮১৯: সানাদ সহীহ, মাজমুল আওসাত্ব হাঃ ৯০৭৭, ৯২৭৮; বায়হাক্বী'র সুনানুল কুবরা হাঃ ১৯৬০, ২২৯৩; সহীহুল জামি' হাঃ ৭২৯৩, মিশকাত হাঃ ৫৫০৭)
এ হাদীস সম্পর্কে আমীরুল মু'মিনীন ফিল হাদীস ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
" يعنى أهل الحديث"
অর্থাৎ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল আহলে হাদীস। (মালাতুল ইহতিজাজ বিশ্ শাফি'ঈ, পৃঃ ৩৫: সানাদ সহীহ)
আসহাবুল হাদীস ও আহলে হাদীস দু'টিই একই জামা'আতের বৈশিষ্ট্যগত নাম। ইমাম আহমাদ ইবনু সীনান আল ওয়াসিত্বী (মৃত ২৫৯ হিঃ) বলেছেন:
«لَيْسَ فِي الدُّنْيَا مُبْتَدِعْ إِلَّا وَهُوَ يُبْغِضُ أَهْلَ الْحَدِيثِ، وَإِذَا ابْتَدَعَ الرَّجُلُ نُزِعَ حَلَاوَةُ الْحَدِيثِ مِنْ قَلْبِهِ»
'দুনিয়াতে এমন কোন বিদ'আতী নেই যে, আহলে হাদীসদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। যখন কোন ব্যক্তি বিদ'আত করে, তখন তার অন্তর থেকে হাদীসের স্বাদ ছিনিয়ে নেয়া হয়'।
[হাকিম- মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস পৃঃ ৪: সানাদ সহীহ]
বিস্তারিত জানার জন্য যুবায়র 'আলী যাঈ প্রণীত "আহলে হাদীস একটি বৈশিষ্ট্যগত নাম” পুস্তকটি অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

📘 আহলে হাদীস ও হানাফী মাযাহাবের ইখতিলাফ ও তার নিরসন > 📄 হাদীসের মুহাদ্দিসগণ কি শুধুমাত্র ‘আহলে হাদীস’?

📄 হাদীসের মুহাদ্দিসগণ কি শুধুমাত্র ‘আহলে হাদীস’?


‘আহলে হাদীস’ দ্বারা দুই শ্রেণীর সহীহ ‘আক্বীদাসম্পন্ন মুসলিম উদ্দেশ্য।
(ক) সম্মানিত মুহাদ্দিসগণ।
(খ) তাদের অনুসারী ‘আম জনতা, যারা হাদীসের উপরে ‘আমাল করে থাকে।
হাফিয ইবনু হিব্বান আহলে হাদীসদের ৩টি আলামত বর্ণনা করেছেন:
(ক) তারা হাদীসের উপর ‘আমাল করেন।
(খ) তারা সুন্নাত তথা হাদীসের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকেন।
(গ) তারা সুন্নাত বিরোধীদের মূলোৎপাটন করেন। (সহীহ ইবনু হিব্বান, আল ইহসান হাঃ ৬১২৯, অন্য একটি কপিতে হাঃ ৬১৬২)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমার নিকটে ঐ ব্যক্তিই আহলে হাদীস, যিনি হাদীসের উপর ‘আমাল করেন। (ইমাম খতীব বাগদাদী, আল জামি’ ১/৪৪ পৃষ্ঠা, হাঃ ১৮৩)
শায়খুল ইসলাম হাফিয ইবনু তায়মিয়াহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসের উপর ‘আমালকারী সাধারণ লোকেদেরকেও ‘আহলে হাদীস’ আখ্যা দিয়েছেন। (মাজমূউ ফাতাওয়া, ইবনু তায়মিয়াহ্, ৪/৯৫)
হাফিয ইবনু কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) আহলে হাদীসদের একটি ফাযীলাত উদ্ধৃত করে বলেছেন: কতিপয় সালফে সলিহীন এ আয়াতটি (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭: ৭১) সম্পর্কে বলেছেন :
هذا أَكْبَرُ شَرَفٍ لِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ لِأَنَّ إِمَامَهُمُ النَّبِيُّ
“এটি আহলে হাদীসের জন্য সবচেয়ে বড় ফাযীলাত। কেননা তাদের ইমাম হচ্ছেন স্বয়ং নাবী।"
নোট : যেমনিভাবে মুহাম্মাদ ﷺ মুহাদ্দিসগণের ইমামে আ'যম (মহান ইমাম), তদ্রূপ তিনি সাধারণ আহলে হাদীসগণেরও ইমামে আ'যম। এটা কোন লুকোচুরি কথা নয়; বরং আহলে হাদীসদের খ্যাতিমান বাগ্মী ও সাধারণ বক্তাদের আলোচনা থেকেও এটা সুস্পষ্ট।
রফিকুল ইসলাম মাদানী, বাংলাদেশী [বর্তমানে জীবিত] দেওবন্দী 'আলিম; তিনি লিখেছেন, আহলে হাদীস বলতে ঐ সমস্ত ব্যক্তি উদ্দেশ্য করে, যারা হাদীস সংরক্ষণ ও অনুধাবনে এবং হাদীস অনুসরণে প্রবল অনুরাগী। চায় সে যে মাযহাবেরই হোক না কেন। (আহলে হাদীসের আসল রূপ ৬০ পৃষ্ঠা, আহলে হাদীসের ভ্রান্তি নিরসন ২২ পৃষ্ঠা)
সরফরায খান সফদর গাখডুভী [বর্তমানে জীবিত] দেওবন্দী 'আলিমদের ইমাম, তিনি লিখেছেন, 'আহলে হাদীস' বলতে ঐ সমস্ত ব্যক্তি উদ্দেশ্য করে, যারা হাদীস সংরক্ষণ ও অনুধাবনে এবং হাদীস অনুসরণে প্রবল অনুরাগী। (ত্বায়িফাহ মানসূরাহ্ পৃঃ ৩৮, আল কালামুল মুফীদ পৃঃ ۱۳۹)
আহমাদ ইবনু 'আলী লাহোরী দেওবন্দী স্বীয় 'মালফুযাত'-এ লিখেছেন, 'আমি ক্বাদিরী ('আবদুল কাদের জিলানী-এর তরীকা) এবং হানাফী'। আহলে হাদীসগণ ক্বাদিরীও নয়, আবার হানাফীও নয়। কিন্তু তারা আমার মাসজিদে চল্লিশ বছর যাবৎ সলাত আদায় করে আসছে। আমি তাদেরকে হাক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত মনে করি। (মালফুযাতে ত্বাইয়িবাহ্ পৃঃ ১১৫; অন্য একটি সংস্করণে পৃঃ ১২৬)
উপরোল্লিখিত উক্তি থেকে চারটি বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে:
১- আহলে হাদীসগণ হাক্বের উপরে প্রতিষ্ঠিত আছেন।
২- ‘আহলে হাদীস' সহীহ 'আক্বীদাসম্পন্ন মুসলিমদের উপাধি। এজন্য শী'আ ও অন্যান্য দলসমূহ 'আহলে হাদীস' নয়। তারা তো আহলে বিদ'আত-এর অন্তর্ভুক্ত।
৩- শুধু মুহাদ্দিসগণকেই 'আহলে হাদীস' বলা হয় না। বরং মুহাদ্দিসগণের অনুসারী সাধারণ জনগণকেও 'আহলে হাদীস' বলা হয়।
নতুবা মুহাদ্দিসগণের কোন্ জামা'আতটি লাহোরী সাহেবের মাসজিদে চল্লিশ বছর যাবৎ সলাত আদায় করেছেন?
৪- মানুষ যদি হানাফী বা ক্বাদিরী নাও হয়, তথাপি সে আহলে হাক্ব তথা হাক্বপন্থী হতে পারেন।
নোট : আহমাদ ইবনু 'আলী লাহোরী-এর বক্তব্য দ্বারা এটি একেবারেই পরিষ্কার যে, শুধুমাত্র মুহাদ্দিসগণই আহলে হাদীস নন। বরং তাদের অনুসারী সাধারণ লোকজনও আহলে হাদীস।
দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ ক্বাসিম নানুতুবীর পছন্দনীয় গ্রন্থ “হাক্কানী 'আক্বায়িদে ইসলাম” গ্রন্থে 'আবদুল হাক্ব হাক্কানী দেহলভী বলেছেন: শাফি'ঈ, হাম্বালী, মালিকী, হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। আর আহলে হাদীসগণও আহলে সুন্নাতের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। (হাক্কানী 'আক্বায়িদে ইসলাম পৃঃ ৩)
নোট: এ বক্তব্যে যেমনভাবে হানাফী, শাফি'ঈ, হাম্বালী, মালিকী নামগুলো দ্বারা তাদের 'আম জনতাকেও বুঝানো হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে উক্ত বক্তব্যে 'আহলে হাদীস' দ্বারা মুহাদ্দিসীনে কিরামের সাধারণ অনুসারীদেরকেও বুঝানো হয়েছে।
ফুরফুরার পীর শায়খুল ইসলাম 'আবদুল হাক্ব সিদ্দীক্বী (রহিমাহুল্লাহ) তিনি প্রায় বলতেন: "শাফি'ঈ, হাম্বালী, মালিকী, হানাফী- আমরা চার ভাই না, আমরা হলাম পাঁচ ভাই আহলে হাদীসও আমাদের ভাই”। [ওপেন সিক্রেট ৯০, ৯২ পৃঃ; আল মাওযু'আত ۱۳۹ পৃঃ, ফুরফুরা পীর শায়খুল ইসলাম আবূ জা'ফার সিদ্দীক্ব (রহিমাহুল্লাহ), অনুবাদ ব্যাখ্যা- ড. খন্দকার 'আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহিমাহুল্লাহ)]
মুফতী কিফায়াতুল্লাহ দেহলভী (দেওবন্দী) একটি প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন, হ্যাঁ, আহলে হাদীসগণ মুসলিম এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সাথে বিয়ে-শাদীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়িয। শুধু তাক্বলীদ বর্জন করাতে ইসলামের কোন যায় আসে না। এমনকি তাক্বলীদ বর্জনকারী ব্যক্তি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত হতেও বের হয়ে যায় না। (কিফায়াতুল মুফতী ১/৩২৫)
নোট : এই ফাতাওয়া ও পূর্বোক্ত ফাতাওয়া দ্বারা সুস্পষ্ট হল যে, 'আহলে হাদীস' আহলে সুন্নাতেরই অন্তর্ভুক্ত এবং হাদীসের উপরে 'আমালকারী সাধারণ লোকেদেরকেও 'আহলে হাদীস' উপাধিতে ভূষিত করা সম্পূর্ণ সঠিক।
চতুর্থ হিজরী শতাব্দীর ইতিহাসবিদ বিশারী মাকদিসী (মৃত ৩৭৫ হিঃ) মানসূরার (সিন্ধুর) অধিবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: "أَكْثَرُهُمْ أَصْحَابُ حَدِيثٍ" “তাদের অধিকাংশই আহলে হাদীস”। (আহসানুত্ তাক্বাসীম ফী মা'রিফাতিল আক্বালীম পৃঃ ৪৮১)
নোট : আর যুক্তির নিরীখে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সে সময় সিন্ধু প্রদেশের সকল অধিবাসী মুহাদ্দিস ছিলেন না। বরং তাদের মধ্যে মুহাদ্দিসগণের অনুসারী বহু সাধারণ লোক ছিলেন।
এমনিভাবে আরো অসংখ্য উদ্ধৃতি রয়েছে যা দ্বারা এ কথা প্রমাণিত যে, মুহাদ্দিস হোক কিংবা হাদীসের অনুসারী সাধারণ জনতা হোক, 'আহলে হাদীস' দ্বারা 'আহলে সুন্নাত' তথা সহীহ 'আক্বীদাসম্পন্ন মানুষ উদ্দেশ্য। আর বিদ'আতীরা আদৌ 'আহলে হাদীস' উপাধিতে শামিল নয়। বরং তারা তো 'আহলে হাদীসের' প্রতি কেবল বিদ্বেষই পোষণ করে থাকে।
দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের অনুসারী এবং হাদীসের উপরে 'আমালকারী সাধারণ জনতার ব্যাপারে বক্তব্য হল, কতিপয় লোক এ অপপ্রচার চালিয়ে থাকেন যে, 'আহলে হাদীস' দ্বারা কেবল সম্মানিত মুহাদ্দিসগণ উদ্দেশ্য, এর দ্বারা সাধারণ জনতা উদ্দেশ্য নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00