📘 আদর্শ মুসলিম 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


পূর্বের অধ্যায়সমূহে প্রকৃত মুসলমানের গুণাবলি বিস্তারিতরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলোকে কুরআনের আয়াত ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত করা হয়েছে। আল্লাহর সাথে একজন মুসলমানের সম্পর্ক কেমন হবে; তার নিজের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে; তার শরীর, বিবেক ও আত্মার মাঝে সুষ্ঠু সমন্বয় কীভাবে হবে; পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব এবং সমাজের সাথে তার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—সবগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।
এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রকৃত মুসলমান তার চারিত্রিক, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়ে থাকে।
এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মানবজাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসে কোনো মানুষ মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের সকল উপকরণ নিজের মাঝে আনতে সক্ষম হয়নি। একমাত্র প্রকৃত মুসলমানই তা করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, তার পুরো জীবন যাপিত হয়েছে মানবজাতির সৃষ্টিকর্তা ও শ্রেষ্ঠত্বদানকারী মহান আল্লাহর ওহি ও দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, যা সে পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর মাঝে পেয়েছে।
এর কারণ হলো, ইসলাম মানুষের বিবেককে বৈজ্ঞানিক থিউরি অনুযায়ী পরিচালিত করে না, যেমনটি গ্রিকরা করেছিল। হিন্দুদের মতো কাল্পনিক আধ্যাত্মিকতা অনুযায়ীও পরিচালিত করে না। রোমানদের মতো শুধু শরীরচর্চাও ইসলামের উদ্দেশ্য নয়। তেমনই বর্তমান সময়ের পাশ্চাত্য সভ্যতার মতো বস্তুবাদী মানসিকতাও ইসলামের কাম্য নয়। ইসলাম মানুষকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানবে পরিণত করতে চায়—যার শরীর, বিবেক ও আত্মার মাঝে থাকবে সুষ্ঠু ভারসাম্য। কারণ, ইসলাম মানুষকে শরীর, বিবেক ও আত্মার সমন্বয়ে গঠিত একটি মাখলুক মনে করে।
এজন্য প্রকৃত মুসলমান সব বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে থাকে। কোনো বিষয়ে ছাড়াছাড়ি বা বাড়াবাড়ি তার মাঝে থাকে না। যেমন অন্যান্য জীবনব্যবস্থায় গড়ে ওঠা মানুষের মাঝে দেখা যায়।
প্রকৃত মুসলমান আল্লাহর অনুগত বান্দা হয়ে থাকে। সে জীবন পরিচালনা করে আল্লাহর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী। আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি থাকে পূর্ণ সন্তুষ্ট। সব কাজে তার একটাই চিন্তা, একটাই উদ্দেশ্য। তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
প্রকৃত মুসলমান একজন ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তি হয়, যে শরীরের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে শরীরের হক আদায় করে। তার বাহ্যিক অবস্থাকে এমন করে রাখে না, যেন তাকে মানুষ বলতে সংকোচ হয়, যে মানুষকে আল্লাহ তাআলা সম্মানিত করেছেন, ফেরেশতাগণ সিজদা করেছেন এবং আসমান-জমিনের সবকিছু তার অনুগত করে দেওয়া হয়েছে। বরং শরীরকে সে এমনভাবে রাখে, যেন তা বিবেক, চিন্তাশক্তি ও জ্ঞানবুদ্ধির মতো উন্নত বিষয়াবলির বাহন হওয়ার উপযুক্ত মনে হয়। শরীর ও বিবেকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সে আত্মা থেকেও বিস্মৃত হয় না। তাই সে যেভাবে শরীরের যত্ন নেয়, সেভাবে আত্মারও যত্ন নেয়। এভাবেই প্রকৃত মুসলমান শরীর, বিবেক ও আত্মার মাঝে সুষ্ঠু ভারসাম্য বজায় রেখে একজন পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।
প্রকৃত মুসলমান পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, দয়া ও ভদ্রতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্ত্রীর কাছে একজন আদর্শ স্বামী, যে তার আবেগ-অনুভূতি, মেয়েলি মান-অভিমান সবকিছু বুঝে। সন্তানদের জন্য একজন দায়িত্ববান ও স্নেহশীল পিতা, যে তাদের সুষ্ঠু তারবিয়াত ও লালনপালনে কোনোরূপ ত্রুটি ও অবহেলা করে না। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আত্মীয়তা-সম্পর্ক রক্ষাকারী একজন প্রিয় আত্মীয়, যে সর্বাবস্থায় সকল পরিস্থিতিতে ইসলামের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। প্রতিবেশীদের জন্য একজন উত্তম প্রতিবেশী, যে তাদের সাথে ভালো আচরণ করে, তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, তাদের আবেগ-অনুভূতিকে সম্মান করে, সর্বোপরি ইসলাম-নির্দেশিত পন্থায় প্রতিবেশীদের সকল হক আদায় করে দেয়। এজন্য সে কোনো ধরনের বিনিময় বা প্রশংসার আশাও করে না। আর বন্ধুদের জন্য সে একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু। একমাত্র আল্লাহর জন্যই তাদের ভালোবাসে সে। তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পালন করে, বিশ্বাসঘাতকতা করে না। তাদের কল্যাণ কামনা করে, ধোঁকা দেয় না। তাদের প্রতি উদার, ক্ষমাশীল, হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করে না। নিজের ওপর তাদের প্রাধান্য দেয় এবং তাদের অগোচরে তাদের জন্য দুআ করে।
অনুরূপভাবে সমাজে তার পরিচয় একজন উত্তম চরিত্রধারী ভদ্র মানুষ হিসাবে, যে সামাজিক জীবনে কুরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী চলে এবং এভাবে চলাকে ইবাদত মনে করে। ফলে সে সকল মানুষের সাথে সত্য কথা বলে। কারও সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করে না। কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করে না। লজ্জাশীল, ক্ষমাশীল, উদারমনস্ক ও সদা হাস্যমুখ থাকে। সমাজের মানুষের সাথে বৈধ হাসি-কৌতুক করে তাদের বিনোদন দেয়। গালিগালাজ ও অশ্লীল কথা তার মুখ থেকে বের হয় না।
কোনো মুসলমানকে ফাসিক বা কাফির বলে না। বেহুদা ও অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে। কারও গিবত ও চোগলখোরি করে না। মিথ্যা কথা ও নেতিবাচক ধারণা থেকে দূরে থাকে। কেউ তার কাছে গোপনীয় কিছু বললে তা অন্যদের নিকট ফাঁস করে দেয় না। নম্র ও বিনয়ী, অহংকারী নয়। কাউকে বিদ্রুপ করে না। বড়জন ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সমীহ করে। নেককার ও আল্লাহওয়ালা লোকদের সাথে সম্পর্ক রাখে। সর্বদা মানুষের উপকার করার চেষ্টা করে, তাদের ক্ষতি করা থেকে বেঁচে থাকে। মুসলমানদের মধ্যে মনোমালিন্য বা ঝগড়াঝাঁটি হলে আপস ও মীমাংসা করে দেওয়াকে দায়িত্ব মনে করে। হিকমত ও উত্তম নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে। কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যায়। কেউ মারা গেলে তার দাফন-কাফন, গোসল ও জানাজায় শরিক হয়। উপকারের বিনিময় প্রদান করে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকে এবং তাদের থেকে পাওয়া কষ্টগুলোর ওপর ধৈর্যধারণ করে। যথাসাধ্য মানুষকে আনন্দ দিতে ও খুশি রাখতে চেষ্টা করে। বিচার-ফয়সালায় ন্যায়পরায়ণ; কারও প্রতি অবিচার ও অন্যায় করে না। দৃঢ় ও অবিচল থাকে, ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যতীত তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না, সময় নষ্ট করে না। অতিরঞ্জিত শুদ্ধ উচ্চারণ ও উচ্চাঙ্গ আলংকারিক ভাষায় কথা বলে না। উদার ও বদান্য, কেউ সাহায্য চাইলে তাকে নিরাশ করে না। অতিথিপরায়ণ, ঘরে মেহমান এলে বিরক্তিবোধ করে না। নিজের ওপর যথাসধ্য অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়। অসহায়ের সহায় হয়। দারিদ্র্য আসলে সবর করে, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘোরে না; কারও কাছে হাত পাতে না। লোকজনের সাথে অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ হয়ে মিশে, তারাও তার সাথে অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ হয়। পানাহার, পোশাক-আশাক, সালাম-কালাম, ওঠা-বসা, দেখা- সাক্ষাৎ সবকিছুতে ইসলামের রীতি অনুসরণ করে। একবাক্যে বললে, সে নিজেকে ইসলামের হাতে সঁপে দেয়।
উল্লিখিত সকল গুণ ও চরিত্র যার ভেতর আছে, ইসলামের দৃষ্টিতে সেই প্রকৃত ও আদর্শ মুসলমান।
সবচেয়ে উন্নত মানবসভ্যতা হলো, যে সভ্যতায় মানবজাতির মাঝে উল্লিখিত গুণাবলি প্রতিষ্ঠিত থাকে। কারণ, এ গুণগুলো মানবজাতির মাঝে সে মানবিকতা সৃষ্টি করে, যা মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠ মাখলুকের আসনে বসিয়েছে। পক্ষান্তরে যেসব সভ্যতা মানবজাতির অভ্যন্তরীণ মানবিকতাকে এড়িয়ে তার বাহ্যিক বিষয়াবলির প্রতি মনোযোগী হয়েছে; মানবজাতিকে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের শিখরে পৌঁছিয়েছে; টিভি, রেডিও, কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন আধুনিক আবিষ্কার হাতে তুলে দিয়ে পৃথিবীকে মানবজাতির হাতের মুঠোয় ধরিয়ে দিয়েছে—এগুলো উন্নত মানবসভ্যতা নয়। বৈজ্ঞানিক উন্নতি সাধন ও জীবনমান সহজীকরণ মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় নয়। মানবজাতি তখনই শ্রেষ্ঠ মাখলুক, যখন তার ভেতর মানবিকতা থাকবে এবং তার অন্তর্লোক স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا ٧ فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ، قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا ١٠
‘শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। '৭৫৭
অনুরূপভাবে সমাজকে তখনই উন্নত সমাজ বলা হবে, যখন তার প্রত্যেক সদস্যের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা, হৃদ্যতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা থাকবে এবং পারস্পরিক লেনদেনে ছাড় দেওয়া ও নিজের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা থাকবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন ও জীবন সহজ করার আধুনিক উপকরণের উপস্থিতি সমাজের উন্নতির কারণ হতে পারে না, যদি সমাজের লোকদের মাঝে মানবতা ও মানবিকতা না থাকে।
যেসব গুণ সম্পর্কে এ গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে, কোনো সমাজের প্রতিজন সদস্য যদি এসবে গুণান্বিত হয়, তখন সমাজে শুধু কল্যাণ আর কল্যাণ থাকবে। সমাজে মারামারি, হানাহানি ও অনৈক্য থাকবে না। এজন্যই বলা হয়, 'ব্যক্তি ঠিক হলে সমাজ ঠিক', অর্থাৎ গুণবান ও সৎকর্মশীল লোকদের নিয়েই গড়ে ওঠে একটি আদর্শ সমাজ।
এ ধরনের সমাজকেই বলা হয় ইসলামি সমাজ। সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মুসলমান হলেই তা ইসলামি সমাজ হয়ে যায় না। প্রকৃত ইসলামি সমাজ তখনই হবে, যখন তার সকল সদস্যের মাঝে প্রকৃত মুসলমানের গুণাবলি থাকবে। বর্তমান সময়ে কথিত মুসলমানদের সমাজে অনৈক্য, দলাদলি, ফিরকাবাজি, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারামারি আমরা দেখতে পাই। আরও দেখতে পাই জাতীয়তাবাদী চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা, ভাষাগত চেতনা ইত্যাদির নামে মুসলমানদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অনৈক্য। এসবের কারণ হলো, মুসলমানরা ইসলামের মৌলিক চরিত্র থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। তাদের পারস্পরিক ইসলামি সম্পর্ক ও ইমানি ভ্রাতৃত্ব তারা ছিন্ন করে ফেলেছে। নিজেদের পরিচয় ভুলে গিয়ে মুসলমানরা আজ দিশেহারা। এ সুযোগে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের ধ্বজাধারীরা সুন্দর ভাষায় তাদের ভ্রান্তির পথে দাওয়াত দিয়ে চলেছে মুসলমানদের সমাজে।
মুসলমানদের আকাশে বিপদের ঘনঘটা। পায়ের নিচে ধ্বংসে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ঙ্কর চোরাবালি। চারিদিকে তিমির অন্ধকার। ভীষণ রকমের ভয়ংকর সে আঁধার। এমন অবস্থায় মুসলমানদের সে একটাই আশ্রয়। ফিরে আসতে হবে ইসলামের মৌলিকত্বে। সবাইকে হয়ে উঠতে হবে প্রকৃত মুসলমান। জানতে হবে প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।
প্রকৃত মুসলমানদের হাত ধরেই ইসলাম আবার বিজয়ী হবে—এ কথা শত্রুরাও জানে। তাই তাদের মূল টার্গেট হলো প্রকৃত মুসলমানিত্ব। অর্থাৎ মুসলমানদের মাঝে আসল ইসলাম যেন আসতে না পারে, সেজন্যই তাদের যত চেষ্টা। উদ্দেশ্য সাধনের পথে দুই পদক্ষেপে তারা এগোয়। প্রথম পদক্ষেপ হলো, মুসলমানদের ভেতর থেকে প্রকৃত মুসলমানিত্ব বের করে আনা। দ্বিতীয় পদক্ষেপে তাদের মাঝে ইসলামের নামে ভ্রান্ত চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দেয় অথবা একদম অনৈসলামিক কোনো চিন্তাধারা তার অন্তরে বসিয়ে দেয়।
মুসলমানদের মধ্য থেকে প্রকৃত মুসলমানিত্ব বের করে নেওয়ার এ ঘৃণ্য অপচেষ্টা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এভাবে কাফিররা বিভিন্ন ইসলামি দেশে ভৌগলিকভাবে কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালিয়ে, বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করে মুসলমানদের কাছ থেকে চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে বশ্যতা ও আনুগত্য স্বীকার করিয়ে নিয়েছে। ফলে তারা এখন নিজেদের অজান্তেই পরাধীনতার লাঞ্ছনার শিকার। মানসিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে মুসলমানরা এতটাই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে যে, শারীরিক যুদ্ধ করার ইচ্ছাও আর অবশিষ্ট নেই তাদের মাঝে।
এ লাঞ্ছনা ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে হলে মুসলমানদের জানতে হবে প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়। অর্জন করতে হবে প্রকৃত মুসলমানিত্ব। তখন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে مسلمانوں অস্ত্র ভেঙে যাবে না, পতাকা ভূলুণ всички হবে না এবং ইসলামি বাহিনী কখনো পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করবে না। তখন মুসলমানরা হয়ে উঠবে সত্যিকার মুসলিম উম্মাহ, প্রকৃত মুমিনদল, মহান আল্লাহ তাআলা যাদের সাহায্য করার জিম্মাদারি নিজের হাতে রেখেছেন।
তিনি বলেন: وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ
'মুমিনদের সাহায্য করা আমারই দায়িত্ব।' ৭৫৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px