📄 অন্যের ঘরে উঁকি দেয় না
মুসলমানদের জন্য আরেকটি সামাজিক আদব হলো, অন্যের ঘরে উঁকি দেবে না এবং তাদের গোপনীয় বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবে না। এটা প্রকৃত ভদ্র মুসলমানের স্বভাব নয়। যারা অন্যের ঘরে উঁকি মারে, তাদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি বাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের চক্ষু ফুঁড়ে দেওয়ার বৈধতা দিয়েছেন।
তিনি ইরশাদ করেছেন :
مَنِ اطَّلَعَ فِي بَيْتِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ، فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَثُوا عَيْنَهُ
'যে ব্যক্তি কোনো গোত্রের বাড়িতে তাদের অনুমতি ছাড়া উঁকি দেয়, তার চোখ উৎপাটন করা তাদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। '৭৫৪
📄 বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য অবলম্বন করে না
বিশুদ্ধ ইসলামি সমাজে কোনো পুরুষ মহিলার সাদৃশ্য অবলম্বন করে না এবং কোনো মহিলা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করে না। কারণ, বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য অবলম্বন করা পরিষ্কার হারাম। ইসলামি সমাজে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে দুই লিঙ্গের বৈশিষ্ট্যগত ব্যবধান লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারী—এ দুই শ্রেণির ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান খুবই কঠোর।
ইবনে আব্বাস বলেন: لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ، وَالمُتَرَجِّلَاتِ مِنَ النِّسَاءِ
‘নবিজি নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। ’৭৫৫
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ، وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ
‘রাসুলুল্লাহ এমন পুরুষের প্রতি লানত করেছেন, যে মেয়েদের পোশাকের মতো পোশাক পরিধান করে এবং এমন মেয়েদের প্রতি লানত করেছেন, যে পুরুষদের পোশাকের মতো পোশাক পরিধান করে। ’৭৫৬
বর্তমান সময়ে অনেক মুসলিম যুবকদের দেখা যায়, তারা মাথায় মেয়েদের মতো লম্বা চুল রাখে। অনেক সময় চিনতে কষ্ট হয়ে যায় যে, তারা ছেলে নাকি মেয়ে! বিশেষ করে যখন গলায় মেয়েদের মতো স্বর্ণের চেইন বেঁধে উন্মুক্ত বক্ষে ঝুলিয়ে দেয়। একইভাবে অনেক মুসলিম মেয়েদের দেখা যায়, তারা শরীরের অবয়ব ফুটে ওঠে, এমন টাইটফিট প্যান্ট ও শার্ট পরে। তাদের মাথা খোলা থাকে, বাহু থাকে উন্মুক্ত। দেখতে যুবকদের মতোই লাগে তাদের। বিভিন্ন ইসলামি সমাজে এসব নোংরা দৃশ্য পাশ্চ্যত্য কুফরি সভ্যতার প্রভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ কুফরি সভ্যতা আরও বিভিন্ন গোমরাহি مسلمانوں সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ কারণে মুসলমান যুবকদের বিরাট এক অংশ হতাশার তিথ ময়দানে দিকভ্রান্তের মতো ছুটছে। তারা কখন কী করে বসতে পারে, তার কোনো ধারণা নেই। এভাবে বিনষ্ট হতে চলছে ইসলামি সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা। ইসলামি সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হলে রাসুলুল্লাহ ﷺ যেসব সামাজিক আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন, প্রত্যেক মুসলমানকে সামাজিক জীবনে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।