📄 অনুমতি ছাড়া অন্যের গৃহে প্রবেশ করে না
প্রকৃত মুসলমান নিজের রুম ব্যতীত অন্য কারও রুমে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে না। অনুমতি চাওয়ার এ নির্দেশ সরাসরি আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন, যাঁর নির্দেশ পালনে কোনোরূপ শিথিলতা ও অবহেলা করার অবকাশ নেই।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فِيهَا أَحَدًا فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ لَكُمْ وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্যগৃহে প্রবেশ কোরো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না করো এবং গৃহবাসীদের সালাম না করো। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখো। যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ কোরো না। যদি তোমাদের বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।'৭২৯
অন্য আয়াতে তিনি বলেন: وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ
'তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হয়, তখন তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়।'৭৩০
মানুষের ঘরে প্রবেশ করা উদ্দেশ্যমূলক ও সন্দেহজনক। তা ছাড়া ঘরওয়ালা এতে খুব বিব্রতবোধ করেন। তবে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করলে সন্দেহ ও বিব্রতবোধ আর থাকে না। এজন্য চুরির উদ্দেশ্যে সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকা, ঘরওয়ালার অবহেলার সুযোগ নিয়ে চুপিসারে ঘরে প্রবেশ করা ইত্যাদি সন্দেহমূলক অবৈধ প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।
ঘরওয়ালা ও আগন্তুক উভয়ের প্রাইভেসি ও মান-সম্মানের জন্য এটা খুবই জরুরি। অনুমতি নেওয়ার বিধান প্রণয়নের পেছনে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যও এটাই। অনুমতি চাওয়ার অনেক আদব ও নিয়ম-কানুন রয়েছে। ইসলাম মুসলমানদের প্রতি এসব অর্জন করার দাবি জানায়।
প্রথম আদব : প্রবেশের অনুমতি নেওয়ার সময় দরজার সোজাসুজি সামনে দাঁড়াবে না। একটু ডানে অথবা বামে দাঁড়াবে। রাসুলুল্লাহ -এর অভ্যাস এমনই ছিল।
আব্দুল্লাহ বিন বুসর বর্ণনা করেন: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَتَى بَابًا يُرِيدُ أَنْ يَسْتَأْذِنَ لَمْ يَسْتَقْبِلْهُ، جَاءَ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَإِنْ أُذِنَ لَهُ وَإِلَّا انْصَرَفَ
'নবিজি কোনো দরজার সামনে গেলে সোজাসুজি দরজার সামনে দাঁড়াতেন না। একটু ডানদিকে অথবা বামদিকে দাঁড়াতেন। তারপর প্রবেশের অনুমতি পেলে প্রবেশ করতেন। আর অনুমতি না পেলে ফিরে যেতেন।' ৭১১
কারণ, অনুমতি নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, দৃষ্টিকে অপ্রীতিকর ও বিব্রতকর দৃশ্য থেকে বাঁচানো।
এ সম্পর্কে সাহল বিন সাদ থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: إِنَّمَا جُعِلَ الِاسْتِعْذَانُ مِنْ أَجْلِ البَصَرِ
‘অনুমতি চাইতে হয় কেবল দৃষ্টির (অপপ্রয়োগ থেকে বেঁচে থাকার) কারণে। ’৭৩২
আর দরজার সোজাসুজি সামনে দাঁড়ালে এ উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এজন্য অনুমতিপ্রার্থীর জন্য দরজার সোজাসুজি সামনে দাঁড়ানো জায়িজ নয়, যাতে দরজা খুললে ভেতরে দৃষ্টি না পড়ে।
দ্বিতীয় আদব : প্রথমে সালাম করবে, তারপর অনুমতি চাইবে। সালামের পূর্বে অনুমতি চাওয়া ঠিক নয়। রিবয়ি বিন হিরাস থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ -এর এমন নির্দেশনাই বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে বনি আমিরের এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন : أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتٍ فَقَالَ: أَلِجُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَادِمِهِ: اخْرُجْ إِلَى هَذَا فَعَلَّمْهُ الاسْتِثْذَانَ، فَقُلْ لَهُ: قُلِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ؟ فَسَمِعَهُ الرَّجُلُ، فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ؟ فَأَذِنَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَدَخَلَ
‘সে নবিজি -এর নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইল। তখন নবিজি ঘরের ভেতরে ছিলেন। অনুমতি চাওয়ার সময় সে বলল, আমি কি প্রবেশ করব? নবিজি তাঁর খাদিমকে বললেন, ওই ব্যক্তির নিকট গিয়ে অনুমতি চাওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দিয়ে আসো। তাকে এভাবে বলতে বলো, আস-সালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি? লোকটি তা শুনে বলল, আস-সালামু আলাইকুম, আমি কি আসতে পারি? তখন নবিজি তাকে অনুমতি দিলেন এবং সে প্রবেশ করল। ৭৩৩
তৃতীয় আদব: আসল নাম বা ডাকনাম—যে নামে তাকে মানুষ বেশি চেনে, সে নাম বলবে। যখন জিজ্ঞেস করা হবে, আপনি কে? তখন 'আমি' বা এ ধরনের কোনো অস্পষ্ট শব্দ বলবে না। রাসুলুল্লাহ -কে এক ব্যক্তি 'আমি' বলে পরিচয় দিলে তিনি খুব নাখোশ হন এবং পরিচিত নাম বলে পরিচয় দিতে নির্দেশ দেন।
জাবির বলেন: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دَيْنٍ كَانَ عَلَى أَبِي، فَدَقَقُتُ البَابَ، فَقَالَ: «مَنْ ذَا» فَقُلْتُ: أَنَا، فَقَالَ: «أَنَا أَنَا» كَأَنَّهُ كَرِهَهَا
'আমি নবিজি -এর নিকট যাওয়ার জন্য তাঁর দরজার কড়া নাড়লাম। তিনি বললেন, কে? আমি বললাম, আমি। তখন তিনি বললেন, আমিও তো আমি! বুঝতে পারলাম, আমার অস্পষ্ট উত্তরটি তিনি অপছন্দ করেছেন।' ৭৩৪
রাসুলুল্লাহ এই হাদিসের মাধ্যমে আমাদের অনুমতি চাওয়ার একটি সুন্নাত শিক্ষা দিয়েছেন যে, অনুমতি গ্রহণের সময় স্পষ্ট নাম উচ্চারণ করা। রাসুলুল্লাহ ও তাঁর সাহাবিদের মাঝে এ সুন্নাত বিদ্যমান ছিল।
আবু জার বলেন: خَرَجْتُ لَيْلَةٌ مِنَ اللَّيَالِي، فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي وَحْدَهُ، لَيْسَ مَعَهُ إِنْسَانُ، قَالَ: فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يَكْرَهُ أَنْ يَمْشِي مَعَهُ أَحَدٌ، قَالَ: فَجَعَلْتُ أَمْشِي فِي ظِلَّ الْقَمَرِ، فَالْتَفَتَ فَرَآنِي، فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟ فَقُلْتُ: أَبُو ذَرَّ
'এক রাতে আমি বের হলাম। তখন রাসুলুল্লাহ -কে একাকী হাঁটতে দেখলাম। কেউ তাঁর সাথে ছিল না। আমি মনে মনে ভাবলাম, হয়তো এ মুহূর্তে কারও সঙ্গ তিনি চাইছেন না। (তাই আমি তাঁর পাশে না গিয়ে) চাঁদের আলোয় হাঁটতে লাগলাম। রাসুলুল্লাহ পেছনে ফিরলে আমাকে দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, কে? আমি বললাম, আমি আবু জার। '৭৩৫
উম্মে হানি বলেন: ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ تَسْتُرُهُ فَقَالَ: «مَنْ هَذِهِ؟» فَقُلْتُ: أَنَا أُمُّ هَانِي
'আমি মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি গোসল করছিলেন, আর ফাতিমা তাঁকে আড়াল করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এসেছে? আমি বললাম, আমি উম্মে হানি। '৭৩৬
চতুর্থ আদব : যদি ফিরে যেতে বলা হয়, তাহলে বিনা সংকোচে ফিরে যাবে। কারণ, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এ নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি ইরশাদ করেছেন : وَإِنْ قِيلَ لَكُمُ ارْجِعُوا فَارْجِعُوا هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
'যদি তোমাদের বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্য অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা করো, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন। '৭৩৭
রাসুলুল্লাহ-ও এমন শিক্ষাই দিয়েছেন। আবু মুসা আশআরি -এর হাদিসে তা বর্ণিত হয়েছে।
তিনি ইরশাদ করেছেন: الاسْتِنْذَانُ ثَلَاثُ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ، وَإِلَّا فَارْجِعْ
'তিনবার পর্যন্ত অনুমতি চাইবে। এরপর অনুমতি পেলে প্রবেশ করবে, না পেলে ফিরে যাবে।'৭৩৮
একবার আবু মুসা আশআরি রাঃ উমর রাঃ-এর নিকট অনুমতি চেয়ে পাননি। তাই তিনি ফিরে আসলেন। তখন উমর রাঃ তাঁর নিকট ফিরে যাওয়ার কৈফিয়ত চাইলেন। এ ব্যাপারে উভয়ের মাঝে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা হলো। সম্পূর্ণ ঘটনাটি এখানে তুলে ধরা সমীচীন মনে করছি। যাতে পাঠক জানতে পারেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নে সাহাবায়ে কিরাম কীরূপ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
আবু মুসা আশআরি রাঃ বলেন :
اسْتَأْذَنْتُ عَلَى عُمَرَ، فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي - ثَلَاثًا - فَأَدْبَرْتُ، فَأَرْسَلَ إِلَيَّ فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، اشْتَدَّ عَلَيْكَ أَنْ تُحْتَبَسَ عَلَى بَابِي؟ اعْلَمْ أَنَّ النَّاسَ كَذَلِكَ يَشْتَدُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يُحْتَبَسُوا عَلَى بَابِكَ، فَقُلْتُ: بَلِ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْكَ ثَلَاثًا، فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، فَرَجَعْتُ، فَقَالَ: مِمَّنْ سَمِعْتَ هَذَا؟ فَقُلْتُ: سَمِعْتُهُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَسَمِعْتَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَمْ نَسْمَعْ؟ لَئِنْ لَمْ تَأْتِنِي عَلَى هَذَا بِبَيِّنَةٍ لَأَجْعَلَنَّكَ نَكَالًا، فَخَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ نَفَرًا مِنَ الْأَنْصَارِ جُلُوسًا فِي الْمَسْجِدِ فَسَأَلْتُهُمْ، فَقَالُوا: أَوَيَشُكُ فِي هَذَا أَحَدٌ؟ فَأَخْبَرْتُهُمْ مَا قَالَ عُمَرُ، فَقَالُوا: لَا يَقُومُ مَعَكَ إِلَّا أَصْغَرُنَا، فَقَامَ مَعِي أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ - أَوْ أَبُو مَسْعُودٍ - إِلَى عُمَرَ، فَقَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُرِيدُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، حَتَّى أَتَاهُ فَسَلَّمَ، فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، ثُمَّ سَلَّمَ الثَّانِيَةَ، ثُمَّ الثَّالِثَةَ، فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، فَقَالَ: «قَضَيْنَا مَا عَلَيْنَا» ، ثُمَّ رَجَعَ، فَأَدْرَكَهُ سَعْدُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا سَلَّمْتَ مِنْ مَرَّةٍ إِلَّا وَأَنَا أَسْمَعُ، وَأَرُدُّ عَلَيْكَ، وَلَكِنْ أَحْبَبْتُ أَنْ تُكْثِرَ مِنَ السَّلَامِ عَلَيَّ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِي، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَمِينًا عَلَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: أَجَلْ، وَلَكِنْ أَحْبَبْتُ أَنْ أَسْتَثْبِتَ
'একদা আমি উমর -এর নিকট প্রবেশের জন্য তিনবার অনুমতি চাইলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারপর আমি ফিরে আসলে তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে- আল্লাহর বান্দা, আমার দরজায় অপেক্ষা করা তোমার জন্য যেমন কষ্টকর ঠেকেছে? মনে রেখো, ঠিক তেমনই তোমার দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাও লোকদের জন্য কষ্টকর ঠেকবে। আমি বললাম, আমি তিনবার আপনার অনুমতি চেয়ে অনুমতি পাইনি বিধায় ফিরে এসেছি। কারণ, আমাদের এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, এমন বিধানের কথা তুমি কার কাছে শুনেছ? আমি বললাম, নবিজি -এর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বললেন, তুমি কি নবিজি থেকে এমন একটি কথা শুনেছ, যা আমি শুনিনি? যদি তুমি তার প্রমাণ দিতে না পারো, তবে তোমাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবো।
তখন আমি বের হলাম এবং মসজিদে উপবিষ্ট কয়েকজন আনসার সাহাবিদের নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞেস করলাম। তারা বললেন, এ ব্যাপারে কি কারও কোনো সন্দেহ থাকতে পারে? তখন আমি তাদের উমর -এর ব্যাপারে জানালাম। তারা বললেন, আমাদের সর্বকনিষ্ঠজনই আপনার সঙ্গে যাবে। তখন আবু সাঈদ খুদরি অথবা আবু মাসউদ আমার সঙ্গে উমর -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, একদা আমরা নবিজি -এর সাথে বের হলাম। তিনি সাদ বিন উবাদা -এর বাড়ির দিকে রওনা হয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ তাকে সালাম দিলেন, কিন্তু অনুমতির সাড়া পাননি। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার সালাম দিলেন, তবুও অনুমতি পাওয়া যায়নি। অবশেষে তিনি বললেন, আমাদের দায়িত্ব আমরা সম্পন্ন করলাম। অতঃপর তিনি ফিরে যেতে লাগলেন। এমন সময় সাদ পেছন থেকে এসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, যে পবিত্র সত্তা আপনাকে সত্য নবি বানিয়ে প্রেরণ করেছেন, তাঁর নামে কসম করে বলছি, আপনি যতবারই সালাম করেছেন, প্রতিবারই আমি তা শুনতে পেয়েছি এবং (নিম্নস্বরে) প্রত্যেকটার জবাবও দিয়েছি। কিন্তু আপনার পাক জবান থেকে আমার ও আমার গৃহবাসীদের প্রতি বেশি সালাম পাওয়ার আশায় সশব্দে উত্তর দিইনি। অতঃপর আবু মুসা বললেন, আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ -এর এ হাদিসের ব্যাপারে আমি অবশ্যই বিশ্বস্ত। তখন উমর বললেন, সত্য বটে, তবে আমি তার প্রমাণ সংগ্রহ করতে চেয়েছিলাম আর কি!'৭৩৯
মুসলিম শরিফের বর্ণনায় এসেছে, হাদিসের প্রমাণ পাওয়ার পর উমর আফসোস করে বললেন : خَفِيَ عَلَيَّ هَذَا مِنْ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَلْهَانِي عَنْهُ الصَّفْقُ بِالْأَسْوَاقِ 'হায়, রাসুলুল্লাহ -এর একটি নির্দেশনা আমার জানার বাইরে রয়ে গিয়েছিল! এটা ব্যবসার উদ্দেশ্যে আমার বাজারে বাজারে ঘোরার ফল!'৭৪০
📄 মজলিসের যেখানে জায়গা পায়, সেখানেই বসে পড়ে
প্রকৃত মুসলমানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, কোনো মজলিসে গেলে যেখানে জায়গা পায়, সেখানেই বসে পড়ে। লোকদের ডিঙিয়ে আগে যাওয়ার চেষ্টা করে না কিংবা তাদের মাঝে গিয়ে ভিড় করে না, যেন তারা নড়েচড়ে তার বসার জায়গা করে দেয়। এটা এমন এক উন্নত সামাজিক আদব, যা রাসুলুল্লাহ কথা ও কাজের মাধ্যমে সাহাবিদের শিক্ষা দিয়েছেন।
জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، جَلَسَ أَحَدُنَا حَيْثُ يَنْتَهِي
'আমরা নবিজি -এর মজলিসে গেলে মজলিসের শেষে (যেখানে জায়গা পেতাম সেখানেই) বসতাম।'৭৪১
সুতরাং যে মুসলমানের মাঝে এ উন্নত আদব বিদ্যমান রয়েছে, সে দুজনের মাঝে ঢুকে তাদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করে না। একান্ত প্রয়োজন হলে তাদের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে। কেননা, এভাবে দুজন মানুষের মাঝে অপ্রত্যাশিতভাবে ঢুকে ফাটল সৃষ্টি করা থেকে রাসুলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:
لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَ اثْنَيْنِ، إِلَّا بِإِذْنِهِمَا
'কোনো ব্যক্তির জন্য দুজন মানুষের মাঝে (অপ্রত্যাশিতভাবে অনুপ্রবেশ করে) ফাটল সৃষ্টি করা বৈধ নয়।'৭৪২
কেননা, মজলিসে বা মজলিসের বাইরে যেখানেই হোক, দুজন মানুষের মাঝে অপ্রত্যাশিতভাবে তৃতীয় ব্যক্তির ঢুকে পড়াটা খুবই বিব্রতকর ও অভদ্রজনোচিত ব্যাপার। ইসলাম এ থেকে কঠিনভাবে নিষেধ করেছে। অসংখ্য হাদিস ও আসারে (সাহাবিদের কথা ও কাজে) এ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাঈদ মাকবুরি বলেন: مَرَرْتُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ، وَمَعَهُ رَجُلٌ يَتَحَدَّثُ، فَقُمْتُ إِلَيْهِمَا، فَلَطَمَ فِي صَدْرِي فَقَالَ: إِذَا وَجَدْتَ اثْنَيْنِ يَتَحَدَّثَانِ فَلَا تَقُمُّ مَعَهُمَا، وَلَا تَجْلِسُ مَعَهُمَا، حَتَّى تَسْتَأْذِنَهُمَا، فَقُلْتُ: أَصْلَحَكَ اللَّهُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّمَا رَجَوْتُ أَنْ أَسْمَعَ مِنْكُمَا خَيْرًا
'আমি ইবনে উমর -এর নিকট গেলাম। তখন এক ব্যক্তির সাথে তিনি কথা বলছিলেন। আমি দুজনের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। ইবনে উমর আমার বুকে একটা চড় মেরে বললেন, দুজন ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখলে অনুমতি না নিয়ে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে না এবং তাদের নিকট বসবে না। আমি বললাম, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, হে আবু আব্দুর রহমান। আসলে আমি আপনাদের দুজন থেকে ভালো কিছু শোনার আশায় এসেছিলাম। '৭৪৩
প্রকৃত মুসলমানের জন্য কেউ নিজের আসন ছেড়ে দিলে তাতে বসতে অস্বীকৃতি জানায় সে। এটা ভদ্রতা। সাহাবায়ে কিরাম এমনই ছিলেন।
ইবনে উমর বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
لَا يُقِيمَنَّ أَحَدُكُمُ الرَّجُلَ مِنْ مَجْلِسِهِ، ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ، وَلَكِنْ تَفَسَّحُوا وَتَوَسَّعُوا
'তোমরা কোনো ব্যক্তিকে তার আসন থেকে উঠিয়ে দিয়ে সে জায়গায় বোসো না। তবে মজলিসে স্থান প্রশস্ত করতে পারবে।'৭৪৪
অপর এক বর্ণনায় এসেছে:
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، إِذَا قَامَ لَهُ رَجُلٌ عَنْ مَجْلِسِهِ، لَمْ يَجْلِسْ فِيهِ
'ইবনে উমর-এর জন্য কেউ নিজের আসন ছেড়ে দিলে তিনি তাতে বসতেন না।'৭৪৫
রাসুলুল্লাহ থেকে মজলিস ও মানুষের সাথে বসবাস-সংক্রান্ত যেসব আদব হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রকৃত মুসলমান সেগুলোর অনুসরণ করে চলতে চেষ্টা করে। এ সংক্রান্ত রাসুলুল্লাহ -এর কতিপয় আদব হলো, তিনি তাঁর মজলিসে আগত প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অংশ প্রদান করতেন। তাঁর মজলিসে কেউ এটা ভাবার অবকাশ পেত না যে, এ মজলিসে অন্যজন তার চেয়ে বেশি মর্যাদা পাচ্ছে। তিনি কারও নিন্দা করতেন না। কাউকে লজ্জা দিতেন না। কারও দোষ খুঁজে বেড়াতেন না। সাওয়াব পাওয়া যায়, এমন কথা ব্যতীত অন্য কোনো কথা বলতেন না। কারও সাথে কথা বলার সময় মাঝখানে কথা কেটে নিতেন না, যতক্ষণ না তার কথা পুরোপুরি শেষ হয়। '৭৪৬
📄 মজলিসে যথাসম্ভব হাই তোলা থেকে বিরত থাকে
প্রকৃত ভদ্র মুসলমান মজলিসে যথাসম্ভব হাই তোলা থেকে বেঁচে থাকে। আর যদি এসেই যায়, তখন তা যেকেনো উপায়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কারণ, রাসুলুল্লাহ এমন নির্দেশই দিয়েছেন। তিনি বলেন:
فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ
'যদি তোমাদের কারও হাই আসে, তখন যথাসাধ্য তাকে দমন করার চেষ্টা করবে।'৭৪৭
হাই যদি তীব্র হয় এবং প্রতিহত করা সম্ভব না হয়, তাহলে মুখে হাত দেবে। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ، فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فِيهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ
'যদি তোমাদের কারও হাই আসে, তখন মুখে হাত দিয়ে তা দমন করবে। কেননা, (হাই তোলার সময় মুখ দিয়ে) শয়তান ঢুকে যায়।' ৭৪৮
মজলিসে লোকসম্মুখে হাই তোলা অনেক ঘৃণিত একটি বিষয়। কোনো ভদ্র মানুষের মাঝে এটা মোটেই শোভা পায় না। এজন্য যেকোনো উপায়ে তা দমন করা উচিত এবং মুখ খুলে গেলে হাত দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত। যেন হাই তোলার সময় খোলা মুখগহ্বর দেখে মানুষের মাঝে ঘৃণা ও অস্বস্তিবোধ সৃষ্টি না হয়। প্রকৃত মুসলমান সমাজজীবনে এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকে, যেন তার প্রতি মানুষের মাঝে ঘৃণাবোধ ও অনাগ্রহ পয়দা না হয়।
📄 হাঁচি দেওয়ার সময় ইসলামি শিষ্টাচার মেনে চলে
ইসলামে হাই তোলার ব্যাপারে যেমন আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে, তেমনই হাঁচি দেওয়ার ব্যাপারেও ইসলামি শিষ্টাচার রয়েছে। হাঁচি আসলে কী করতে হবে, কী পড়তে হবে, কীভাবে হাঁচিদাতার জবাব দিতে হবে, কীভাবে তার জন্য দুআ করতে হবে-সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ، وَيَكْرَهُ التَّثَاؤُبَ، وَإِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ وحمد اللهَ كَانَ حَقًّا عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يَقُولَ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ. فَأَمَّا التَّتَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا تَثَاءَبَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ
'হাঁচি দেওয়া আল্লাহ তাআলার নিকট পছন্দনীয়, আর হাই তোলা অপছন্দনীয়। সুতরাং তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে “আল-হামদুলিল্লাহ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) বললে, তখন যেসব মুসলমান তা শুনতে পাবে, তাদের ওপর “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন) বলা আবশ্যক। আর হাই আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কারও হাই আসলে সে যথাসাধ্য তা দমনের চেষ্টা করবে। কেননা, তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন শয়তান (খুশিতে) হাসে।'৭৪৯
এ ধরনের ছোট ছোট প্রকৃতিগত সকল মানবিক বিষয়ের আদব ও শিষ্টাচার প্রণয়ন করে দিয়েছে ইসলাম। প্রকৃত মুসলমান বিশ্বাস করে, এ সকল আদব-শিষ্টাচারের মাঝেই নিহিত আছে তার সমূহ কল্যাণ। তাই সে ছোট বড় কোনো আদব ও শিষ্টাচার বাদ দেয় না।
হাঁচি সম্পর্কে ইসলামের আদব হলো, কেউ হাঁচি দিলে তার উচিত 'আল-হামদুলিল্লাহ' (সকল প্রশংসা আল্লাহর) বলা। যে তার 'আল-হামদুলিল্লাহ' বলা শুনতে পাবে, তার উচিত 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন) বলা। এর বিনিময়ে হাঁচিদাতা 'ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বা- লাকুম' (আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দান করুন এবং তোমার অন্তর পরিশুদ্ধ করে দিন) বলে উত্তরদাতার জন্য দুআ করবে।
এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَإِذَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ، وَلْيَقُلْ هُوَ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ
'তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে সে বলবে, 'আল-হামদুলিল্লাহ' (সকল প্রশংসা আল্লাহর)। এর উত্তরে তার ভাই বা সঙ্গী বলবে, 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন)। যখন জবাবে তা বলবে, তখন সে বলবে, 'ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বা-লাকুম' (আল্লাহ তোমাকে হিদায়াত দান করুন এবং তোমার অন্তর পরিশুদ্ধ করে দিন)। '৭৫০
হাঁচির জবাবে যে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন) বলা হয়, শরিয়তের পরিভাষায় এটাকে 'তাশমিত' বলে। হাঁচিদাতা হাঁচি দেওয়ার পর 'আল-হামদুলিল্লাহ' বললে তার জবাবে এটা বলবে। 'আল-হামদুলিল্লাহ' না বললে 'তাশমিত' করা যাবে না।
এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتُوهُ، وَإِنْ لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ فَلَا تُشَمِّتُوهُ
'যদি তোমাদের কেউ হাঁচি দেওয়ার পর 'আল-হামদুলিল্লাহ' বলে, তোমরা তার উত্তর দেবে। আর যদি 'আল-হামদুলিল্লাহ' না বলে, তাহলে উত্তর দেবে না। '৭৫১
আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: عَطَسَ رَجُلَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ، فَقَالَ الرَّجُلُ : يَا رَسُولَ اللهِ، شَمَّتَ هَذَا وَلَمْ تُشَمِّتْنِي، قَالَ: إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللهَ، وَلَمْ تَحْمَدِ اللَّهَ
'নবিজি-এর সামনে দুজন ব্যক্তি হাঁচি দিল। তিনি একজনের হাঁচির উত্তর দিলেন, আরেকজনের উত্তর দিলেন না। তখন যার উত্তর দেওয়া হয়নি সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, অমুকের হাঁচির উত্তর দিয়েছেন, আমার হাঁচির উত্তর দেননি কেন? তিনি বললেন, সে হাঁচি দেওয়ার পর “আল-হামদুলিল্লাহ” বলেছে, কিন্তু তুমি তা বলোনি। '৭৫২
হাঁচি-সংক্রান্ত যেসব দুআ রাসুলুল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন, সেগুলোর শব্দ নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দুআগুলোর মাঝে অনেক কল্যাণ ও উপকারিতা রয়েছে। দুআর শব্দ চয়নের যৌক্তিকতাও বিস্ময়কর। হাঁচিদাতা হাঁচি দেওয়ার পর 'আল-হামদুলিল্লাহ' বলে। কারণ, হাঁচি দেওয়ার কারণে তার মাথার ভেতরের এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতির অবসান হয়েছে। এজন্য সে আল্লাহর প্রশংসা করে। তার জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলার কারণ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, সে আল্লাহর রহমতের যোগ্য হয়। তারপর উত্তরদাতা হাঁচিদাতার জন্য আরও বড় ও ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যে দুআ করে। এভাবে হাঁচিকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালোবাসা বারবার নবায়ন হতে থাকে।
এভাবে ইসলাম مسلمانوں জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন সব সুন্দর বিধান সাজিয়ে রেখেছে, যার কারণে প্রকৃতিগত ছোট ছোট মানবিক বিষয়গুলোও তাদের আল্লাহর স্মরণ ও প্রশংসা করার সুযোগ করে দেয় এবং مسلمانوں পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বন্ধন সুদৃঢ় করে দেয়।
হাঁচি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি আদব হলো, হাঁচি দেওয়ার সময় মুখে হাত রাখবে এবং যথাসাধ্য শব্দকে নিচু করার চেষ্টা করবে। রাসুলুল্লাহ এভাবেই হাঁচি দিতেন।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا عَطَسَ وَضَعَ يَدَهُ أَوْ ثَوْبَهُ عَلَى فِيهِ، وَخَفَضَ أَوْ غَضَّ بِهَا صَوْتَهُ
'রাসুলুল্লাহ হাঁচি দেওয়ার সময় হাত অথবা কাপড় তাঁর মুখে রাখতেন এবং আওয়াজ নিচু করতেন।'৭৫৩