📄 অতিথিপরায়ণ
প্রকৃত মুসলমান-যার মাঝে সত্যিকার অর্থে বদান্যতার গুণ আছে-অবশ্যই অতিথিপরায়ণ হয়। মেহমানকে হর্ষোৎফুল্লতার সহিত বরণ করে নেয় এবং সম্মান করে। কারণ, ইসলাম এ গুণটিকে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ইমান থাকার অন্যতম আলামত সাব্যস্ত করেছে।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ইমান রাখে, যে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। '৬৫৬
অতিথিপরায়ণ ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে এ কথা প্রমাণ করে যে, সে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ইমান রাখে। মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে মেহমানের ন্যায্য অধিকার বলা হয়েছে ইসলামে। এটা মেহমানের প্রতি মেজবানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশও বটে। কারণ, মেহমান আসায় সে একটি নেক আমল (মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন) করতে পেরেছে এবং তার ইমানকে সত্যায়িত করার সুযোগ পেয়েছে।
এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ قَالَ: وَمَا جَائِزَتُهُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: يَوْمُ وَلَيْلَةٌ، وَالضَّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের (কিয়ামতের) ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানকে সম্মান করার মাধ্যমে তার ন্যায্য অধিকার আদায় করে দেয়। লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, তার ন্যায্য অধিকার কী? তিনি বললেন, এক দিন ও এক রাত তার মেহমানদারি করা। মেহমানদারি হলো (সর্বোচ্চ) তিন দিন। এর অতিরিক্ত করলে তা হবে সদকা অর্থাৎ অতিরিক্ত বদান্যতা’।
আতিথেয়তা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল, যা প্রকৃত মুসলমানের নিকট খুবই প্রিয়। এ আমলের জন্য সাওয়াব প্রদান করা হয়। তাই ইসলাম এর জন্য বিধান প্রণয়ন করে দিয়েছে। এক দিন, এক রাত মেহমানদারি করা মেহমানের অধিকার। তিন দিন, তিন রাত মেহমানদারি করা ওয়াজিব। এর চেয়ে অতিরিক্ত সময় মেহমানদারি করা সদকা বা অতিরিক্ত বদান্যতা। মেজবানের আমলনামায় তার সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।
আতিথেয়তা ইসলামে ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়। ব্যক্তি স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে কারও মেহমানদারি করবে, আর কারও করবে না—এ সুযোগ ইসলামে নেই। এটা मुसलमानों উপর ওয়াজিব ও আবশ্যক। কোনো মেহমান বাড়িতে উপস্থিত হলে অবশ্যই তার মেহমানদারি করতে হবে মুসলমানকে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন :
لَيْلَةَ الضَّيْفِ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، فَمَنْ أَصْبَحَ بِفِنَائِهِ فَهُوَ دَيْنُهُ، إِنْ شَاءَ اقْتَضَاهُ، وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهُ
‘রাতের বেলায় আগত মেহমানের মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ওয়াজিব। আর যদি তার নিকট মেহমানের ভোর হয় (অর্থাৎ ভোর পর্যন্ত যদি মেহমান সেখানে অবস্থান করে), তখন সকালের মেহমানদারি মেজবানের নিকট মেহমানের পাওনা স্বরূপ। মেহমান ইচ্ছা করলে এ পাওনা শোধ করে নিতে পারে, ইচ্ছা করলে তা ছেড়ে দিতে পারে’।
যারা মেহমানদারি করতে কুণ্ঠাবোধ করে এবং বাড়ির দরজা মেহমানের জন্য খুলে দেয় না, তাদের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।
হাদিস শরিফে এমনটাই বলা হয়েছে: لَا خَيْرَ فِيمَنْ لَا يُضِيفُ 'সে লোকের মাঝে কোনো কল্যাণ নেই, যে মেহমানদারি করে না।'৬৫৯
ইসলাম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর মেহমানদারি আবশ্যক করেছে। এটাকে মেহমানের হক ও অধিকার সাব্যস্ত করেছে। এ অধিকার আদায়ে অবহেলা করা মুসলমানের জন্য উচিত নয়। কোনো গোত্রের লোকেরা যদি কৃপণতা করে মেহমানদারি করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ইসলাম মেহমানকে এ অনুমতি দেয় যে, সে চাইলে তার অধিকার আদায় করতে তাদের বাধ্য করতে পারবে।
এ সম্পর্কিত একটি হাদিস ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম উকবা বিন আমির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন :
إِنَّكَ تَبْعَثُنَا، فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ لَا يَقْرُونَا، فَمَا تَرَى فِيهِ؟ فَقَالَ لَنَا: إِنْ نَزَلْتُمْ بِقَوْمٍ، فَأُمِرَ لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا، فَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا، فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ '(আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম,) আপনি কখনো কখনো আমাদের এমন সম্প্রদায়ের লোকের নিকট প্রেরণ করেন, যারা আমাদের মেহমানদারি করে না। এমতাবস্থায় আমরা কী করব? উত্তরে রাসুলুল্লাহ বললেন, যদি তোমরা কোনো এলাকায় গিয়ে পৌঁছো, তখন মেহমানদারিস্বরূপ তারা যা কিছু তোমাদের দেয়, তা সাদরে গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে, তখন মেহমানদারির অধিকার তাদের থেকে (যেকোনো উপায়ে) আদায় করে নেবে।'৬৬০
মেহমানদারি ইসলামের একটি মৌলিক উত্তম চরিত্র। এজন্য প্রকৃত মুসলমানকে—তার আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক—মেহমানদারি করতে কার্পণ্য করতে দেখা যায় না। কারণ, ইসলাম তাকে জানিয়ে দিয়েছে যে, দুজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট হয়, আর তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট হয়। ফলে সে হঠাৎ আসা মেহমানের মেহমানদারি করতেও কোনোরূপ সংকোচবোধ করে না।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন : طَعَامُ الاثْنَيْنِ كَافِي الثَّلَاثَةِ، وَطَعَامُ الثَّلَاثَةِ كَافِي الْأَرْبَعَةِ 'দুজনের খাবার তিনজনের জন্য যথেষ্ট হয়, আর তিনজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট হয়।'৬৬১
জাবির বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি :
طَعَامُ الرَّجُلِ يَكْفِي رَجُلَيْنِ، وَطَعَامُ رَجُلَيْنِ يَكْفِي أَرْبَعَةً، وَطَعَامُ أَرْبَعَةٍ يَكْفِي ثَمَانِيَةً 'একজনের খাবার দুজনের জন্য যথেষ্ট, দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট, আর চারজনের খানা আটজনের জন্য যথেষ্ট হয়।'৬৬২
প্রকৃত মুসলমান তার সাথে বেশি মানুষ খানা খাওয়াকে ভয় পায় না। অথচ পাশ্চাত্য সমাজে পূর্ব-আমন্ত্রণ ব্যতীত হঠাৎ কেউ উপস্থিত হলে মেজবান বিব্রতবোধ করে। এমন কোনো ব্যক্তিকে সে আপ্যায়ন করে না, যার জন্য পূর্ব থেকে খাবার তৈরি করা হয়নি। কিন্তু মুসলমান অপ্রত্যাশিত মেহমানকে সাদরে বরণ করে নেয় এবং তার সাথে খাবারে শরিক করে। এতে তার পেটে কয়েক লুকমা খাবার কম গেলেও সে কোনো সমস্যা অনুভব করে না। কেননা, প্রকৃত মুসলমানের কাছে ক্ষুধার চেয়ে মেহমানের মেহমানদারি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল-এর নির্দেশ। তা ছাড়া আল্লাহ তাআলা একজনের খাবারে বরকত দান করে দুজনের জন্য যথেষ্ট করেছেন, দুজনের খাবারে বরকত দান করে চারজনের জন্য যথেষ্ট করেছেন। কিন্তু বস্তুবাদী সমাজের লোকেরা অপ্রত্যাশিত মেহমানকে মেহমানদারি করার কোনো প্রেরণা তাদের সমাজব্যবস্থা থেকে পায় না। তাই তারা প্রকৃত মুসলমানের মতো মেহমানদারির এমন নজির দেখাতে পারে না।
আমাদের সালাফে সালিহিন মেহমানদারির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এমনকি সালাফের মধ্য হতে কারও মেহমানদারি দেখে খোদ আল্লাহ তাআলাই আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন। ঘটনাটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন:
أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَعَثَ إِلَى نِسَائِهِ فَقُلْنَ: مَا مَعَنَا إِلَّا المَاءُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَضُمُّ أَوْ يُضِيفُ هَذَا ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ: أَنَا، فَانْطَلَقَ بِهِ إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَ: أَكْرِمِي ضَيْفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: مَا عِنْدَنَا إِلَّا قُوتُ صِبْيَانِي، فَقَالَ: هَيِّنِي طَعَامَكِ، وَأَصْبِحِي سِرَاجَكِ، وَنَوْمِي صِبْيَانَكِ إِذَا أَرَادُوا عَشَاءً، فَهَيَّأَتْ طَعَامَهَا، وَأَصْبَحَتْ سِرَاجَهَا، وَنَوَّمَتْ صِبْيَانَهَا، ثُمَّ قَامَتْ كَأَنَّهَا تُصْلِحُ سِرَاجَهَا فَأَطْفَأَتْهُ، فَجَعَلَا يُرِيَانِهِ أَنَّهُمَا يَأْكُلَانِ، فَبَاتَا طَاوِيَيْنِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: ضَحِكَ اللهُ اللَّيْلَةَ، أَوْ عَجِبَ، مِنْ فَعَالِكُمَا فَأَنْزَلَ اللهُ: {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الحشر: ٩]
'এক ব্যক্তি নবিজি -এর নিকট আসলো। তিনি তাঁর স্ত্রীদের নিকট (মেহমানের জন্য খাবার আনতে) লোক পাঠালেন। তারা জানালেন যে, আমাদের নিকট পানি ছাড়া খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, কে এ ব্যক্তিকে মেহমান বানাবে? তখন আনসার সাহাবিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন, আমি। তারপর তিনি তাকে নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসুলুল্লাহ -এর মেহমানের আপ্যায়ন করো। স্ত্রী বললেন, 'ছেলেমেয়ের রাতের খাবার ছাড়া ঘরে তো আর কিছুই নেই। তিনি বললেন, খাবার প্রস্তুত করো এবং বাতি জ্বালিয়ে রাখো। আর ছেলেমেয়েরা রাতের খাবার খেতে চাইলে তাদের প্রবোধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। মহিলাটি স্বামীর কথামতো খাবার প্রস্তুত করলেন, বাতি জ্বালিয়ে রাখলেন এবং সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। তারপর মেহমানের সামনে বাতি ঠিক করার ছুতোয় তা নিভিয়ে দিলেন; যেন মেহমান মনে করে, অন্ধকারে তারাও খাচ্ছে। এভাবে তারা স্বামী-স্ত্রী উপোস থেকে রাত কাটালেন। অতঃপর যখন সকালে রাসুলুল্লাহ -এর দরবারে গেলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের গতরাতের কার্যকলাপে হেসে দিয়েছেন অর্থাৎ তা খুবই পছন্দ করেছেন এবং আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, 'আর নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদের অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম [সুরা আল-হাশর : ৯]।'৬৬৩
এখানে বাতি নিভিয়ে দিয়ে খুবই বুদ্ধিমত্তার কাজ করেছেন তিনি। যদি তা না করতেন, তাহলে মেহমান বুঝতে পারতেন যে, তাদের খাওয়ার মতো আসলে কিছুই নেই। তখন তার কারণে মেজবান কষ্ট পাচ্ছে দেখে তিনি খুব ব্যথা পেতেন এবং বিব্রতবোধ করতেন। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন : وَلَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ مُسْلِمٍ أَنْ يُقِيمَ عِنْدَ أَخِيهِ حَتَّى يُؤْثِمَهُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ يُؤْثِمُهُ؟ قَالَ: يُقِيمُ عِنْدَهُ وَلَا شَيْءَ لَهُ يَقْرِيهِ بِهِ
'কোনো মুসলমানের জন্য এটা হালাল নয় যে, তার কোনো ভাইকে পাপে লিপ্ত করে তার নিকট অবস্থান করবে। সাহাবিগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তাকে পাপে লিপ্ত করার অর্থ কী? উত্তরে তিনি বললেন, তার কাছে এমন অবস্থায় মেহমান হওয়া, যখন মেহমানাদারি করার মতো কোনো বস্তুই তার কাছে থাকে না। '৬৬৪
বুখারি শরিফের রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে : وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَثْوِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يُخْرِجَهُ
‘তার জন্য এটা হালাল নয় যে, অপর ভাইকে কষ্ট দিয়ে তার নিকট অবস্থান করবে। '৬৬৫
আর প্রকৃত মুসলমান কখনো তার মেজবান ভাইকে পাপে লিপ্ত করতে বা কষ্ট দিতে চায় না। মুসলমান মেহমান ভদ্র ও চরিত্রবান হয়। একজন মেহমানের কী কী চরিত্র ও আদব থাকা চাই, সে শিক্ষা ইসলাম তাকে দিয়েছে। সুতরাং সে মেজবানের ওপর যথাসম্ভব সহজ করার চেষ্টা করে। মেজবান তার সাধ্য অনুযায়ী যা দিয়েই আপ্যায়ন করে, তা-ই বিনাদ্বিধায় ও কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করে নেয়।
📄 নিজের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়
প্রকৃত মুসলমান অন্যকে নিজের ওপর অগ্রাধিকার দেয়; যদিও এতে নিজের ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকুক। কারণ, ইসলাম তার অনুসারীদের এ গুণ অবলম্বন করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটাকেই প্রকৃত মুসলমানের একটি মৌলিক চরিত্র বলে অভিহিত করেছে ইসলাম। এ চরিত্রের মাধ্যমেই অন্যান্য মানুষের মাঝে প্রকৃত মুসলমানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়।
অগ্রাধিকার দেওয়ার গুণটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পরে সবচেয়ে বেশি ছিল আনসার সাহাবিদের মাঝে। তাদের এ গুণের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আয়াতও অবতীর্ণ হয়েছে। অন্যকে নিজের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার যে মহান কর্ম তারা সম্পাদন করেছেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানবতার ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আহ, কেমন সে অগ্রাধিকার! মুহাজিরগণ তাদের নিকট গিয়েছিলেন কোনো কিছু ছাড়াই, কিন্তু আনসারগণ তাদের সবকিছুই দিয়ে দিয়েছেন!
এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
‘যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদিনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে। মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদের অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।'৬৬৬
রাসুলুল্লাহ-এর মাঝে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুণ পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। এজন্য তিনি প্রাথমিক যুগের مسلمانوں মাঝে এ গুণটি বদ্ধমূল করে দিতে এবং এটাকে তাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এ সম্পর্কে সাহল বিন সাদ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন : أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبُرْدَةٍ مَنْسُوجَةٍ، فِيهَا حَاشِيَتُهَا، أَتَدْرُونَ مَا البُرْدَةُ؟ قَالُوا : الشَّمْلَةُ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَتْ: نَسَجْتُهَا بِيَدِي فَجِئْتُ لِأَكْسُوَكَهَا، فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْتَاجًا إِلَيْهَا، فَخَرَجَ إِلَيْنَا وَإِنَّهَا إِزَارُهُ، فَحَسَّنَهَا فُلَانٌ، فَقَالَ: اكْسُنِيهَا، مَا أَحْسَنَهَا، قَالَ القَوْمُ: مَا أَحْسَنْتَ لَبِسَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْتَاجًا إِلَيْهَا ، ثُمَّ سَأَلْتَهُ، وَعَلِمْتَ أَنَّهُ لَا يَرُدُّ، قَالَ: إِنِّي وَاللَّهِ، مَا سَأَلْتُهُ لِأَلْبَسَهُ، إِنَّمَا سَأَلْتُهُ لِتَكُونَ كَفَنِي، قَالَ سَهْلُ: فَكَانَتْ كَفَنَهُ
‘এক মহিলা নবিজি-এর নিকট ঝালরবিশিষ্ট একটি বুরদাহ আনলেন। সাহল বললেন, তোমরা জানো, বুরদাহ কী? তারা বলল, চাদর। সাহল বললেন, হ্যাঁ। মহিলাটি বলল, চাদরটি আমি নিজ হাতে বুনেছি এবং তা আপনার পরিধানের জন্য নিয়ে এসেছি। রাসুলুল্লাহ তা গ্রহণ করলেন এবং তাঁর চাদরের প্রয়োজনও ছিল। তারপর তিনি তা ইজাররূপে (লুঙ্গি) পরিধান করে আমাদের সামনে আসলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করে বললেন, বাহ! এ যে কত সুন্দর! আমাকে তা পরার জন্য দান করুন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এরপর নবিজি মজলিসে কিছুক্ষণ বসে আবার ফিরে গেলেন। তারপর চাদরটি খুলে সে ব্যক্তির নিকট পাঠিয়ে দিলেন। সাহাবিগণ তাকে বললেন, কাজটি তুমি ভালো করোনি। নবিজি তা তাঁর প্রয়োজনে পরেছেন, তবুও তুমি তা চেয়ে বসলে! অথচ তুমি জানো যে, তিনি কাউকে বিমুখ করেন না। লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি তা পরার উদ্দেশ্যে চাইনি। আমার চাওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, যেন তা আমার কাফন হয়। সাহল বলেন, শেষে এ চাদরটাই তার কাফন হয়েছিল। '৬৬৭
রাসুলুল্লাহ অগ্রাধিকার প্রদানের যে চারা মুসলমানদের অন্তরে বপন করেছেন, তার ফল দেখতে পেলে তিনি মনে খুব আনন্দ পেতেন। কারও ভেতর এ গুণটি দেখতে পেলে তার প্রশংসা করতেন এবং তাকে আরও উৎসাহিত করতেন। যেমন আশআরি গোত্রের লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার গুণ সম্পর্কে তিনি ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ الأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الغَزْوِ، أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'মদিনায় আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন যুদ্ধে অপারগ হয়ে পড়ে অথবা তাদের পরিবার ও সন্তানদের খাদ্যের অভাব দেখা দেয়, তখন তারা নিজেদের কাছের অবশিষ্ট খাদ্য একটি কাপড়ে জমা করে। অতঃপর তা পরস্পরের মধ্যে সমান অংশে বণ্টন করে নেয়। এরা আমারই লোক, আর আমিও তাদের লোক (অর্থাৎ তাদের এ কর্মটি আমারই আদর্শ)। '৬৬৮
📄 অভাবগ্রস্তকে সময় দেয়
প্রকৃত মুসলমান লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারমনস্ক ও চরিত্রবান হয়। গরিব অভাবী মানুষ থেকে ঋণ পেয়ে থাকলে আদায় করার ক্ষেত্রে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় দেয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ 'যদি ঋণী ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। '৬৬৯
ইসলাম মুসলমানকে হকের অধিকারী হওয়ার পূর্বে একজন মানুষ হতে বলে। তাই যখন সে তার ঋণগ্রহীতা ভাইয়ের মাঝে অভাব দেখতে পায়, তখন তার ওজর কবুল করে নেয় এবং সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে সময় দেয়। অথবা পারলে ঋণের কিছু অংশ বা পুরো অংশ ক্ষমা করে দেয়। এর মাধ্যমে সে মূলত আল্লাহর নির্দেশই পালন করে। তাই তার এ উত্তম আমলের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসের কষ্ট থেকে তাকে মুক্তি দান করবেন এবং আরশে আজিমের ছায়াতলে স্থান দেবেন। সেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُنْجِيَهُ اللهُ مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَلْيُنَفِّسْ عَنْ مُعْسِرٍ، أَوْ يَضَعْ عَنْهُ 'যে ব্যক্তি কামনা করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামত দিবসের কষ্ট থেকে মুক্তি দেবেন, সে যেন অভাবী ঋণগ্রস্তকে সময় দেয় অথবা ঋণের কিছু অংশ বা পুরো অংশ ক্ষমা করে দেয়। '৬৭০
আবু হুরাইরা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ لَهُ ، أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ تَحْتَ ظِلَّ عَرْشِهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ 'যে ব্যক্তি অভাবী ঋণগ্রস্তকে সময় দেয় অথবা ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। '৬৭১
এ বিষয়ের ওপর অনেক আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি আয়াত ও হাদিস এ কথা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে যে, ঋণদাতা যদি অভাবী ঋণগ্রহীতাকে সময় দেয় বা ঋণ মাফ করে দেয়, তাহলে তার এ আমল আল্লাহর নিকট নিষ্ফল প্রতিপন্ন হবে না। এর সাওয়াব তার আমলনামায় অবশ্যই লিপিবদ্ধ হবে। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামতের কষ্ট, দুর্দশা ও ভয়াবহতা থেকে মুক্তি দান করবেন। এ সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো।
আবু হুরাইরা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
كَانَ رَجُلٌ يُدَايِنُ النَّاسَ، فَكَانَ يَقُولُ لِفَتَاهُ: إِذَا أَتَيْتَ مُعْسِرًا فَتَجَاوَزْ عَنْهُ، لَعَلَّ اللَّهَ يَتَجَاوَزُ عَنَّا، فَلَقِيَ اللَّهَ فَتَجَاوَزَ عَنْهُ
'এক ব্যক্তি মানুষকে ঋণ দিত, আর তার কর্মচারীকে বলে রাখত, কোনো অভাবী লোকের কাছে যদি ঋণ আদায় করতে যাও, তাহলে তার ঋণ মাফ করে দেবে। আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে আমাদের ক্ষমা করে দিতে পারেন। এরপর লোকটি আল্লাহর সাথে মিলিত হলো (মৃত্যুবরণ করল) এবং সত্যিই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। '৬৭২
আবু মাসউদ বদরি বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ، إِلَّا أَنَّهُ كَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ، وَكَانَ مُوسِرًا، فَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ، قَالَ: قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ، تَجَاوَزُوا عَنْهُ
'তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক লোকের হিসাব গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে কোনো ভালো আমল পাওয়া যায়নি। কিন্তু সে মানুষের সাথে লেনদেন করত এবং সে ছিল সচ্ছল। তাই দরিদ্র লোকদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিত। রাসুলুল্লাহ বললেন, আল্লাহ বললেন, এ ব্যাপারে (অর্থাৎ ক্ষমা করার ব্যাপারে) আমি তার চেয়ে অধিক যোগ্য। একে ক্ষমা করে দাও। '৬৭৩
হুজাইফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
أُتِيَ اللهُ بِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِهِ آتَاهُ اللهُ مَالًا ، فَقَالَ لَهُ: مَاذَا عَمِلْتَ فِي الدُّنْيَا؟ قَالَ: وَلَا يَكْتُمُونَ اللهَ حَدِيثًا ، قَالَ: يَا رَبِّ آتَيْتَنِي مَالَكَ، فَكُنْتُ أُبَايِعُ النَّاسَ، وَكَانَ مِنْ خُلُقِي الْجَوَازُ، فَكُنْتُ أَتَيَسَّرُ عَلَى الْمُوسِرِ، وَأُنْظِرُ الْمُعْسِرَ ، فَقَالَ اللهُ: أَنَا أَحَقُّ بِذَا مِنْكَ، تَجَاوَزُوا عَنْ عَبْدِي، فَقَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ الْجُهَنِيُّ، وَأَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ، هَكَذَا سَمِعْنَاهُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'আল্লাহ তাআলার বান্দাদের মধ্যে কোনো এক বান্দাকে তাঁর নিকট উপস্থিত করা হলো, যাকে তিনি ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, দুনিয়াতে তুমি কী কাজ করেছ? হুজাইফা বলেন, অথচ লোকেরা আল্লাহর নিকট থেকে কোনো কথাই গোপন করতে পারে না। উত্তরে সে বলল, হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে আপনার ধনভান্ডার থেকে দান করেছিলেন, আমি লোকদের সাথে কেনাবেচা করতাম। আর আমার দেনাদারদের সাথে উদার ব্যবহার করাই ছিল আমার অভ্যাস। আমি সচ্ছল ব্যক্তির সাথে উদার ব্যবহার করতাম এবং গরিব অসচ্ছল ব্যক্তিকে মাফ করে দিতাম। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তখন বললেন, ক্ষমা করার ব্যাপারে তোমার চেয়ে আমি অধিক হকদার। (হে ফেরেশতাগণ,) আমার এ বান্দাকে তোমরা মাফ করে দাও। উকবা বিন আমির জুহানি ও আবু মাসউদ আনসারি বলেন, আমরাও রাসুলুল্লাহ -এর মুখে এরূপই শুনেছি। '৬৭৪
📄 যাচন ও ভিক্ষাবৃত্তি করে না
প্রকৃত মুসলমান স্বনির্ভর ও অমুখাপেক্ষী হয়। মানুষের কাছে হাত পাতে না। অভাব-অনটনের সময় ধৈর্যধারণ করে। যতটুকু পারে নিজে চেষ্টা করে কামাই করে। কারও নিকট অনুগ্রহ ও সাহায্য প্রার্থনা করে না। কারণ, তার দ্বীন তাকে এ তুচ্ছ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় এবং ধৈর্য ধরতে বলে। তা ছাড়া সে বিশ্বাস করে, মানুষের কাছে কিছু চাওয়া থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করলে এবং স্বনির্ভর ও ধৈর্যশীল থাকতে চাইলে আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করেন এবং সাহায্য করেন।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللهُ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءٌ خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ
'আর যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বিরত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পরের কাছে হাত পাতার অভিশাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি স্বনির্ভর হতে চায়, আল্লাহ তাকে স্বনির্ভরতা দান করেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের পথে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাকে ধৈর্যধারণের ক্ষমতা দান করেন। বস্তুত, আল্লাহর দেওয়া দানসমূহের মধ্যে ধৈর্যশক্তির চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত দান আর কিছু নেই।'৬৭৫
ইসলাম ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার রেখেছে এবং ধনীদের নিকট ইসলাম দাবি পেশ করেছে, তারা যেন কোনো ধরনের খোঁটা না দিয়ে, কষ্ট না দিয়ে এবং অমর্যাদা না করে গরিবদের সে হক ও অধিকার আদায় করে দেয়। অপরদিকে গরিবদের থেকে ইসলাম প্রত্যাশা করে, তারা যেন ধনীদের সম্পদে তাদের যে হক রয়েছে, তার প্রতি মুখাপেক্ষী না থাকে। আরও ঘোষণা দিয়েছে, ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। তাই প্রকৃত মুসলমানকে সব সময় চেষ্টা করতে হবে, তার হাত যেন নিচের হাত না হয়। এটাই তার জন্য যথোপযুক্ত। এজন্য যাদের নিকট ধন-সম্পদ কম, তাদের একটু বেশি মেহনত করে নিজের প্রয়োজনের উপকরণ জোগাড় করতে হবে। সদকা ও অনুদানের ওপর নির্ভর করে বসে থাকা যাবে না। কারণ, এতে মনুষ্যত্বের মর্যাদা ব্যাহত হয়। এজন্যই রাসুলুল্লাহ ﷺ মুসলমানদের সদকা করার প্রতি ও মানুষের নিকট হাত না পাতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছেন :
الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى ، فَاليَدُ الْعُلْيَا: هِيَ المُنْفِقَةُ، وَالسُّفْلَى: هِيَ السَّائِلَةُ
‘ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। ওপরের হাত হলো দানকারীর হাত, আর নিচের হাত হলো ভিক্ষুকের হাত। '৬৭৬