📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 সহনশীল

📄 সহনশীল


প্রকৃত মুসলমান সহনশীল ও রাগ হজমকারী হয়ে থাকে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
'আর যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। '৪২৫
এর কারণ হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে শক্ত পেশিবহুল শরীরের অধিকারী এবং লোকদের মল্লযুদ্ধে অনায়াসে হারিয়ে দেওয়া ব্যক্তি বাহাদুর নয়। বাহাদুর তো সে ব্যক্তি, যে রাগের সময় ধৈর্য ধরতে পারে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الغَضَبِ
'(মল্লযুদ্ধে প্রতিপক্ষকে) ধরাশায়ী করতে পারা ব্যক্তি বাহাদুর নয়; বরং বাহাদুর তো সে ব্যক্তি, সে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। '৪২৬
রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ব্যক্তির বীরত্ব ও পৌরুষের মানদণ্ড। কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা আছে বলে রাগের মাথায় যা ইচ্ছা তাই করা চরম নির্বুদ্ধিতা ও অপরিণামদর্শিতা। এতে কোনো বীরত্ব নেই। ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকার পরও রাগ হজম করে নিলে এবং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলে অনেক ফিতনা ও ঝগড়া শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যায়। লক্ষ্য অর্জনের পথ মসৃণ হয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষের ভালোবাসা অর্জিত হয়। এজন্যই এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট উপদেশ চাইলে তিনি তাকে কেবল একটি উপদেশই দিলেন যে, রাগ কোরো না। কয়েকবার আবেদন করলে প্রতিবারেই রাসুলুল্লাহ ﷺ এ একটি বাক্যই বললেন, রাগ কোরো না। ৪২৭
এর কারণ হলো, এ একটি বাক্যেই সকল উত্তম গুণ নিহিত আছে।
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ আব্দুল কাইস গোত্রের আশাজ-কে বললেন:
إِنَّ فِيكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ: الْحِلْمُ، وَالْأَنَاةُ
'তোমার ভেতর দুটি গুণ আছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন। গুণ দুটি হলো, সহনশীলতা ও ধীরস্থিরতা। '৪২৮
প্রকৃত মুসলমানও রাগান্বিত হয়, তবে তা নিজ স্বার্থের জন্য নয়; বরং আল্লাহর জন্যই কেবল সে রাগান্বিত হয়। আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত আসলে, দ্বীনের নিদর্শনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখলে কিংবা আল্লাহর কোনো বিধান লঙ্ঘিত হতে দেখলে তার রাগ চরমে ওঠে। সীমালঙ্ঘনকারী, অপরাধী, আল্লাহর মর্যাদায় আঘাতকারী এবং আল্লাহর দ্বীন নিয়ে তামাশাকারী লোকেরা তার রাগের আগুনে পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিসের ভাষ্যমতে রাসুলুল্লাহ -ও হুবহু এমনই ছিলেন।
বর্ণিত হয়েছে : 'রাসুলুল্লাহ নিজের স্বার্থের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না। তবে যখন আল্লাহর মর্যাদা বিনষ্ট হয়-এমন কিছু প্রত্যক্ষ করতেন, তখন আল্লাহর জন্য তার প্রতিশোধ নিতেন।'
দ্বীনের সুখ্যাতি বিনষ্ট হয়-এমন কিছু দেখলে, দ্বীনের বিধান পালন করার ক্ষেত্রে ভুল হতে দেখলে বা দ্বীনের হুদুদ কায়েম করার ব্যাপারে শিথিলতা করতে দেখলে রাসুলুল্লাহ রাগন্বিত হতেন। তাঁর মুবারক চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত।
সেদিন রাসুলুল্লাহ -এর খুব রাগ এসেছিল, যেদিন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলেছিলেন, অমুক লোকের কারণে আমি ফজরের নামাজে দেরিতে উপস্থিত হই। কারণ, সে খুব লম্বা কিরাআত পাঠ করে। সেদিনের মতো আর কোনোদিনের ওয়াজে রাসুলুল্লাহ -কে এত রাগান্বিত হতে কেউ দেখেনি। তিনি বললেন :
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ، فَمَنْ أَمَّ النَّاسَ فَلْيَتَجَوَّزْ، فَإِنَّ خَلْفَهُ الضَّعِيفَ وَالكَبِيرَ وَذَا الحَاجَةِ
'হে লোকসকল, তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা মানুষদের ভাগিয়ে দেয়। তোমাদের যে কেউ ইমামতি করবে, সে যেন নামাজ সংক্ষেপ করে। কেননা, তার পেছনে বৃদ্ধ, দুর্বল (বালক) এবং বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত লোক থাকে। ১৪২৯
সেদিন রাসুলুল্লাহ খুব রাগান্বিত হয়েছিলেন, যেদিন তিনি সফর থেকে ফিরে আয়িশা -এর ঘরে একটি পাতলা চাদর দেখতে পেয়েছিলেন, যেটার ওপর ছবি আঁকা ছিল। দেখার পর তিনি সাথে সাথে তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং রাগে তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। এরপর বললেন :
يَا عَائِشَةُ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللهِ
'হে আয়িশা, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি তাদের হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টজীবের প্রতিকৃতি তৈরি করে।'৪৩০
সেদিনও রাসুলুল্লাহ -এর খুব রাগ এসেছিল, যেদিন উসামা বিন জাইদ মাখজুম গোত্রের জনৈকা মহিলার পক্ষে তাঁর নিকট সুপারিশ করেছিলেন। মহিলাটি চুরি করেছিল। রাসুলুল্লাহ তার ওপর হদ (শরিয়ত নির্ধারিত হাত কাটার শাস্তি) প্রয়োগ করার দৃঢ় সংকল্প করলেন। লোকেরা বলল, এই মেয়ের পক্ষে রাসুলুল্লাহ -এর সামনে কথা বলার কি কেউ নেই? তারা বলল, রাসুলুল্লাহ -এর প্রিয়পাত্র একমাত্র উসামা বিন জাইদ-ই বলতে পারবেন। তখন উসামা কথা বললেন। এতে রাসুলুল্লাহ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন :
أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ؟ ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمِ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمِ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ، وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا
'তুমি কি আল্লাহর হদের ব্যাপারে সুপারিশ করছ? তারপর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিরা এজন্যই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের সম্ভ্রান্ত কোনো লোক চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল কেউ চুরি করলে তার ওপর হদ জারি করত!
আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবুও আমি তার হাত কেটে ফেলতাম। '৪৩১
এমনিই ছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রাগান্বিত হওয়ার কারণ। ইসলামি শরিয়তে রাগান্বিত হওয়ার মাপকাঠিও এটাই। অর্থাৎ রাগ করতে হবে আল্লাহর জন্য; নিজ স্বার্থের জন্য নয়।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 গালিগালাজ ও অশ্লীল কথা থেকে বিরত থাকে

📄 গালিগালাজ ও অশ্লীল কথা থেকে বিরত থাকে


মুসলমান যখন রাগ নিয়ন্ত্রণ করার গুণ অর্জন করে নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার জবান থেকে গালিগালাজ, অসংলগ্ন ও অশ্লীল কথাবার্তা বের হয় না। এ গুণটি মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের জিহ্বা গালিগালাজ ও অশ্লীল ভাষা থেকে মুক্ত থাকা চাই। ইসলাম বিভিন্ন ভাষায় এ গুণ অর্জন করার প্রতি মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করেছে।
আবু মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرُ
'মুসলমানকে গালি দেওয়া ফিসকি (অর্থাৎ কবিরা গুনাহ), আর তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কুফরি।'৪৩২
অন্য হাদিসে ইরশাদ করেছেন: إِنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ فَاحِشِ مُتَفَحِّشٍ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা সকল অশ্লীলভাষী ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। '৪৩৩
অন্য হাদিসে বলেন: وَإِنَّ اللَّهَ لَيُبْغِضُ الفَاحِشَ البَدِيءَ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অশ্লীলভাষী ও দুশ্চরিত্র লোককে ঘৃণা করেন। '৪৩৪
আরেক হাদিসে বলেন: لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَانِ، وَلَا اللَّعَانِ، وَلَا الْفَاحِشِ، وَلَا الْبَدِيءِ
'মুমিন অধিক নিন্দাকারী, অধিক অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী ও দুশ্চরিত্র নয়। '৪৩৫
যে মুসলমান ইমানি শোভায় শোভিত, ইসলামের উদারনীতি যাকে স্পর্শ করেছে, তার উচিত এসব খারাপ অভ্যাস থেকে যোজন যোজন দূরে থাকা। প্রকৃত মুসলমান যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মহান আদর্শের মাঝে দেখতে পায় যে, তিনি কোনোদিন এমন কথা উচ্চারণ করেননি, যা শুনতে খারাপ লাগে বা শ্রোতার আবেগ ও মর্যাদায় আঘাত হানে, তখন সে এসব খারাপ অভ্যাস থেকে আরও দূরত্ব বজায় রেখে চলে।
আনাস বলেন: لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّm فَاحِشًا، وَلَا لَعَانًا، وَلَا سَبَّابًا، كَانَ يَقُولُ عِنْدَ المَعْتَبَةِ: «مَا لَهُ تَرِبَ جَبِينُهُ»
'রাসুলুল্লাহ ﷺ অশ্লীলভাষী ছিলেন না, অধিক অভিসম্পাত করতেন না, গালিগালাজ করতেন না। কাউকে শাসানোর প্রয়োজন হলে বলতেন, কী হলো তার? ধুলায় মিশ্রিত হোক৪৩৬ তার কপাল!'৪৩৭
এমনকি রাসুলুল্লাহ ﷺ কাফিরদের—যাদের অন্তরসমূহ তাঁর দাওয়াত ঠেকাতে রুদ্ধ করে রেখেছিল—অভিশাপ দেওয়া থেকেও বিরত থাকতেন।
আবু হুরাইরা বলেন: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، ادْعُ اللَّهَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ، قَالَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَانًا، وَلَكِنْ بُعِثْتُ رَحْمَةٌ
'রাসুলুল্লাহ-কে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, মুশরিকদের জন্য বদদুআ করুন। তিনি বললেন, আমি অভিশাপকারী হিসাবে প্রেরিত হইনি; বরং রহমত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি। '৪৩৮
আবু হুরাইরা বর্ণনা করেন :
أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ، قَالَ: «اضْرِبُوهُ» قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَمِنَّا الضَّارِبُ بِيَدِهِ، وَالضَّارِبُ بِنَعْلِهِ، وَالضَّارِبُ بِثَوْبِهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ، قَالَ بَعْضُ القَوْمِ : أَخْرَاكَ اللَّهُ، قَالَ: «لَا تَقُولُوا هَكَذَا، لَا تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ»
'এক ব্যক্তি মদ পান করল। তাকে নবিজি-এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি লোকদের বললেন, একে প্রহার করো। তখন আমাদের কেউ হাত দিয়ে, কেউ জুতা দিয়ে, আবার কেউ কাপড় দিয়ে তাকে পিটাতে লাগলাম। যখন সে নড়াচড়া করতে লাগল, তখন কেউ কেউ তাকে বলল, তোকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করুক। তখন নবিজি বললেন, এমন কথা বলো না এবং তার ব্যাপারে শয়তানকে সহযোগিতা করো না। '৪৩৯
মানবিকতার কী প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত! মানুষ গোমরাহ ও চরম পাপিষ্ঠ হতে পারে, কিন্তু রাসুলুল্লাহ তার প্রতিও অভিসম্পাত করতেন না।
অন্তরসমূহ থেকে মন্দ কাজের প্রবণতা, হিংসা, শত্রুতা ইত্যাদি খারাপ অভ্যাসের মূল উপড়ে ফেলার জন্য রাসুলুল্লাহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
এজন্য মুসলমানদের সামনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি কথার মাধ্যমে মানুষের সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত হানবে, তার পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে। তার সকল ভালো কর্মের ওপর গালিগালাজ, দোষচর্চা ও জুলুম-অত্যাচার প্রকট হয়ে দেখা দেবে। তখন সে দেউলিয়া ও রিক্তহস্ত হয়ে যাবে। জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে বাঁচানোর কেউ থাকবে না।
এ সম্পর্কিত হাদিসটি হলো, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ ؟ قَالُوا: الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ، فَقَالَ: «إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَلاةٍ، وَصِيَامٍ، وَزَكَاةِ، وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَقَذَفَ هَذَا، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا، وَضَرَبَ هَذَا، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ»
'তোমরা কি জান দেউলিয়া ও কাঙাল কে? লোকেরা বলল, আমাদের মধ্যে তো কাঙাল ওই ব্যক্তি, যার না আছে কোনো টাকা-পয়সা আর না আছে কোনো আসবাবপত্র। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে তারাই কাঙাল ও দেউলিয়া, যারা কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে, পাশাপাশি দুনিয়ায় সে কাউকে গালি দিয়ে এসেছে, কাউকে হয়তো মিথ্যা দোষারোপ করে এসেছে, কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে মেরে দিয়েছে। এসব মাজলুমদের মধ্যে তার সব নেক আমল বণ্টন করে দেওয়া হবে। এরপর যদি তার সব পুণ্য শেষ হয়ে যায় এবং মাজলুমদের পাওনা তখনও বাকি থেকে থাকে, তাহলে ওদের পাপ তার ভাগে ফেলে দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।'880
তাই মুসলমানদের এমন তুচ্ছ কাজ ও ঝগড়া-ফাসাদ থেকে বিরত থাকতে হবে, যেগুলো গালিগালাজ ও অশ্লীল ভাষার দিকে নিয়ে যায়। এ বিষয়গুলোই মুসলমানদের সমাজ ধ্বংস করার জন্য এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
প্রকৃত ইসলামি ভাবধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজের সদস্যরা গভীরভাবে উপলব্ধি করে যে, তাদের মুখ থেকে উচ্চারিত সকল শব্দের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই তাদের মুখ থেকে কখনো খারাপ কথা বের হতে চাইলে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে; রাসুলুল্লাহ -এর এ হাদিসটি স্মরণ করে: الْمُسْتَبَّانِ مَا قَالَا، فَعَلَى الْبَادِي، حَتَّى يَعْتَدِيَ الْمَظْلُومُ ‘ঝগড়ারত দুই ব্যক্তি পরস্পরকে যত (খারাপ) কথা বলে, উভয়জনের কথার পাপ ঝগড়া সূচনাকারীর ঘাড়ে চাপবে; অবশ্য যদি মাজলুম সীমালঙ্ঘন না করে থাকে।’৪৪১
তাই প্রকৃত মুসলিম নিজের জিহ্বাকে গালিগালাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখে, যদিও তার যথাযথ কারণ পাওয়া যায়। রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে, যেন গুনাহে পতিত না হতে হয়। অনুরূপ সে অত্যাচারী হওয়া থেকেও বিরত থাকে।
প্রকৃত মুসলমান জীবিতদের গালি দেওয়া থেকে যেমন বিরত থাকে, তেমনই মৃতদের প্রতিও তার জিহ্বা সংযত রাখে। কিন্তু নির্বোধ মূর্খরা জীবিতদের গালিগালাজ তো করেই, মৃতদেরও রেহাই দেয় না। অথচ রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: لَا تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا ‘তোমরা মৃতদের গালি দিয়ো না। কেননা, তারা যা (দুনিয়ার জীবনে ভালো-মন্দ আমল) পেশ করেছে, তার নিকট তা পৌঁছে গেছে।’৪৪২

টিকাঃ
৪৩৬. এ অংশের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এ শব্দের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির জন্য দুআ করতেন, যেন সে বেশি করে সিজদা করার মাধ্যমে তার কপাল ধুলামিশ্রিত করতে পারে, যেখানে তার পরিশুদ্ধি ও হিদায়াত নিহিত আছে। (অনুবাদক)

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 যাকে তাকে ফাসিক ও কাফির আখ্যা দেয় না

📄 যাকে তাকে ফাসিক ও কাফির আখ্যা দেয় না


যে মুসলিম নিজের জিহ্বাকে গালিগালাজ ও অশ্লীল কথাবার্তা থেকে বিরত রাখে, সে যেন অহেতুক কাউকে ফাসিক বা কাফির বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। কেননা, এটা অন্যান্য গালিগালাজ থেকে আরও মারাত্মক ও জঘন্য। হাদিস শরিফে এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلًا بِالْفُسُوقِ، وَلَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ، إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَّمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ
'যে কেউ কাউকে ফাসিক বা কাফির বলবে, তা নিজের বেলায় প্রযোজ্য হবে; যদি (বাস্তবে) সে ব্যক্তি তা (অর্থাৎ ফাসিক বা কাফির) না হয়। '৪৩

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 লাজুক ও দোষ গোপনকারী

📄 লাজুক ও দোষ গোপনকারী


প্রকৃত মুসলমানের অন্যতম উত্তম গুণ হলো, সে লাজুক ও গোপনকারী হয়ে থাকে। ইসলামি সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তা সে চায় না। কেননা, মানুষের দোষ চর্চা করে তাদের ইজ্জত-আবরুর ক্ষতি করে, এ ধরনের অনিষ্টকারী লোকদের জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি এসেছে।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
'যারা পছন্দ করে যে, ইমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। '৪৪৪
এজন্যই যে ব্যক্তি সমাজে অশ্লীলতার খবর প্রকাশ করে, সেও অশ্লীলতাকারীর সমান পাপের ভাগী হবে।
এ সম্পর্কে আলি বিন আবু তালিব থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন :
الْقَائِلُ الْفَاحِشَةَ، وَالَّذِي يُشِيعُ بِهَا، فِي الْإِثْمِ سَوَاءٌ
'অশ্লীল কথা যে বলে এবং যে তা প্রকাশ করে—দুজনই সমান অপরাধী।'৪৪৫
ইসলামি সমাজের সদস্যকে লাজুক ও দোষ গোপনকারী হতে হবে। ছোট ছোট অপরাধ থেকেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ইসলাম তাকে এ শিক্ষা দেয় যে, সে নিজের এবং অন্যের কোনো অপরাধ মানুষের সামনে প্রকাশ করবে না। বাইরে বাইরে বলে বেড়াবে না।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا المُجَاهِرِينَ، وَإِنَّ مِنَ المُجَاهَرَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلًا، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللهُ عَلَيْهِ، فَيَقُولَ: يَا فُلَانُ، عَمِلْتُ البَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ، وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
'আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। নিশ্চয় এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোনো ব্যক্তি রাতে অপরাধ করল, যা আল্লাহ তাআলা গোপন রাখলেন, কিন্তু ভোর হলে সে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক, আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করল যে, আল্লাহ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর ভোরে উঠে সে তার ওপর থেকে আল্লাহর পর্দা খুলে ফেলল।'৪৪৬
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
لَا يَسْتُرُ عَبْدُ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا، إِلَّا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'দুনিয়াতে যে বান্দা অপর বান্দার দোষ গোপন করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।'৪৪৭
একদল লোক উকবা বিন আমির -এর নিকট এসে বলল:
إِنَّ لَنَا جِيرَانًا يَشْرَبُونَ وَيَفْعَلُونَ، أَفَنَرْفَعُهُمْ إِلَى الْإِمَامِ؟ قَالَ: لَا ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ رَأَى مِنْ مُسْلِمٍ عَوْرَةٌ فَسَتَرَهَا، كَانَ كَمَنْ أَحْيَا مَوْءُودَةٌ مِنْ قَبْرِهَا
'আমাদের কিছু প্রতিবেশী মদ পান করে এবং খারাপ কর্ম করে। তাদের কি আমরা ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) হাতে তুলে দেবো? তিনি বললেন, তা কোরো না। কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ দেখার পর তা গোপন রাখল, সে যেন জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা মেয়ে শিশুকে জীবিত উদ্ধার করল।'৪৪৮
মানুষের মাঝে যে মানবিক দুর্বলতাগুলো থাকে, সেগুলোর চিকিৎসা করার জন্য গোপনীয়তা অবলম্বন করা চাই। লোকসম্মুখে তাদের দোষত্রুটি ও অপরাধ ফাঁস করে দিলে চিকিৎসা হবে না। এতে হিতে বিপরীত হবে। এর কার্যকর চিকিৎসা করতে হলে উত্তম উপায়ে তাদের কানে সত্যের বাণী শুনিয়ে দিতে হবে। তাদের সামনে ইবাদতকে সুন্দররূপে এবং গুনাহকে কদর্যরূপে তুলে ধরতে হবে। এ ক্ষেত্রে নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, নম্রতা হৃদয়ের বদ্ধ দুয়ার খুলে দেয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিনয়ভাব সৃষ্টি করে। মন নরম করে দেয়। এজন্যই ইসলাম আড়ি পাতা ও গোয়েন্দাগিরি করতে নিষেধ করেছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন: وَلَا تَجَسَّسُوْا 'তোমরা মানুষের দোষ অন্বেষণ কোরো না।'
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ -এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো এবং তার ব্যাপারে বলা হলো:
هَذَا فُلَانٌ تَقْطُرُ لِحِيَتُهُ خَمْرًا، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «إِنَّا قَدْ نُهِينَا عَنِ التَّجَسُّسِ وَلَكِنْ إِنْ يَظْهَرْ لَنَا شَيْءٌ نَأْخُذْ بِهِ»
'এ লোকটার দাড়ি থেকে শরাব ঝরে ঝরে পড়ে (অর্থাৎ অতিরিক্ত মদ্যপান করে)। তখন তিনি বললেন, মানুষের দোষ অন্বেষণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। তবে আমাদের সামনে যা স্পষ্টরূপে প্রকাশ পায়, আমরা তার শাস্তি কার্যকর করি। '৪৪৯
এর কারণ হলো, মুসলমানদের দোষ খুঁজে বেড়ালে এবং তাদের পেছনে গোয়েন্দার মতো লেগে থেকে তাদের দুর্বলতা ও গোপন অপরাধগুলো প্রকাশ করে দিলে তাদের খুব কষ্ট হয়। সমাজের জন্যও এটা ক্ষতিকর। কারণ, বিভিন্ন অপরাধের কথা যখন সমাজের মানুষের মাঝে চর্চা হতে থাকে, তখন এক সময় তা মানুষের সামনে সাধারণ বিষয় মনে হয়। এভাবে নিঃশব্দে সেই অপরাধ অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তা ছাড়া অন্যের গোপনীয়তা ফাঁস করলে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা বেড়ে যায়। ঝগড়া-ফাসাদ বৃদ্ধি পায়।
এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّكَ إِنِ اتَّبَعْتَ عَوْرَاتِ النَّاسِ أَفْسَدْتَهُمْ، أَوْ كِدْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمْ
'তুমি যদি مسلمانوں দোষ খুঁজে বেড়াও, তাহলে তুমি তাদের ধ্বংস করে দিচ্ছ, অথবা অচিরেই ধ্বংস করে দেবে। '৪৫০
এজন্যই রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষের ইজ্জত-আবরুর পেছনে পড়া ও তাদের দোষ খুঁজে বেড়ানো থেকে مسلمانوںকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
তিনি বলেন: لَا تُؤْذُوا عِبَادَ اللهِ، وَلَا تُعَيّرُوهُمْ، وَلَا تَطْلُبُوا عَوْرَاتِهِمْ؛ فَإِنَّهُ مَنْ طَلَبَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ طَلَبَ اللهُ عَوْرَتَهُ حَتَّى يَفْضَحَهُ فِي بَيْتِهِ
'আল্লাহর বান্দাদের কষ্ট দিয়ো না, তাদের লজ্জিত কোরো না, তাদের দোষ খুঁজে বেড়িও না। কেননা, যে ব্যক্তি মুসলমানের দোষ খুঁজে বেড়াবে, আল্লাহ তার দোষ খুঁজবেন এবং এক পর্যায়ে তাকে নিজের বাড়িতেই লাঞ্ছিত করবেন।'৪৫১
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস -এর রিওয়ায়াতে এদের প্রতি রাসুলুল্লাহ -এর আরও কঠোরতা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন :
خَطَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَةً أَسْمَعَ الْعَوَائِقَ فِي خُدُورِهِنَّ فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ مَنْ أَسْلَمَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخُلِ الْإِيمَانُ قَلْبَهُ، لَا تُؤْذُوا الْمُؤْمِنِينَ، وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ، فَإِنَّهُ مَنْ يَتَّبِعْ عَوْرَةَ أَخِيهِ يَتَّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ يَتَّبِعِ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ، وَلَوْ فِي جَوْفِ بَيْتِهِ
'রাসুলুল্লাহ একদিন এমনভাবে খুতবা দিলেন যে, তা অন্দরমহলের মেয়েরা পর্যন্ত শুনতে পেল। তিনি বললেন, যারা মুখে ইমান এনেছ, কিন্তু অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি, তারা শোনো! মুমিনদের কষ্ট দিয়ো না এবং তাদের গোপন দোষ-ত্রুটি খুঁজো না। কারণ, যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের গোপন দোষ খোঁজার পেছনে পড়ে, আল্লাহ তার গোপনীয়তা প্রকাশ করে দেন। যে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন; যদিও সে নিজের ঘরে অবস্থান করুক।'৪৫২
এখানে অন্যের দোষচর্চাকারীদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ -এর কঠোরতা লক্ষ করুন। তিনি বলেছেন, যারা মুখে ইমান এনেছ, কিন্তু অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি! যে গুনাহের কারণে তিনি অন্তরকে ইমানশূন্য বলেছেন, সে গুনাহ কত মারাত্মক হতে পারে? লোকেরা তা ছোট মনে করতে পারে, কিন্তু আল্লাহর নিকট অনেক বড় সে গুনাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00