📄 প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে পাওয়া কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করে
প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীর অনিষ্ট ও তার পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করে। প্রতিবেশী থেকে কোনো দোষ সংঘটিত হলে রেগে যায় না; বরং তাকে ক্ষমা করে দেয়। কারণ, সে বিশ্বাস করে, এ ধৈর্য ও ক্ষমা আল্লাহর কাছে বৃথা যাবে না; বরং বিনিময়ে আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জিত হবে।
এ প্রসঙ্গে আবু জার থেকে একটি হাদিস বর্ণিত আছে: 'মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আবু জার -এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বললাম, হে আবু জার, আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি হাদিস পৌঁছেছে, তাই আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য খুব আগ্রহী ছিলাম।
আবু জার বললেন, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত হোক! এখন তো আমার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে (এখন বলো, যা বলার)। আমি বললাম, যে হাদিসটি আমার নিকট পৌঁছেছে তা হলো, রাসুলুল্লাহ আপনাকে বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তিন শ্রেণির লোকদের ভালোবাসেন এবং তিন শ্রেণির লোকদের অপছন্দ করেন। আবু জার বললেন, হ্যাঁ, সত্যিই তো বলেছেন, আমি খামোখা রাসুলুল্লাহ -এর ওপর মিথ্যাচার করতে যাব কেন? আমি বললাম, তা বলছি না, আমি শুধু জানতে চাইছি, সে তিন শ্রেণির লোক কারা, যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন? তিনি বললেন, সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্য সহকারে ও সাওয়াবের প্রত্যাশায় জিহাদ করেছে, অতঃপর শহিদ হয়েছে। কুরআনের আয়াতেই তার প্রমাণ আছে। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانُ : مَرْصُوصٌ (আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাঢালা প্রাচীর।) ২৭০ আমি বললাম, তারপর কে?' তিনি বললেন, সে ব্যক্তি, যার খারাপ প্রতিবেশী তাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়, কিন্তু সে তার ওপর ধৈর্যধারণ করে, যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য জীবন বা মৃত্যু দানের মাধ্যমে যথেষ্ট হয়ে যান।... '২৭১
📄 প্রতিবেশীর মন্দ আচরণের মোকাবেলায় মন্দ আচরণ করে না
রাসুলুল্লাহ সাহাবায়ে কিরাম-কে ইসলামের যে উন্নত আখলাক শিক্ষা দিয়েছেন, তার অন্যতম হলো, প্রতিবেশীর মন্দ আচরণের মোকাবেলায় মন্দ আচরণ করবে না; বরং যথাসাধ্য তার ওপর ধৈর্যধারণ করবে। হতে পারে, এর কারণে তার মন গলে যাবে এবং কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা, সে যখন দেখতে পাবে, প্রতিবেশীর সাথে এত খারাপ ব্যবহার করা ও এত কষ্ট দেওয়া সত্ত্বেও সে তার প্রতি খারাপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে ধৈর্য ধরে যাচ্ছে, তখন তার মনে লজ্জার অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া অমূলক নয়।
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাল্লাম রাসুলুল্লাহ -এর নিকট এসে বললেন, আমার প্রতিবেশী আমাকে কষ্ট দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ বললেন, ধৈর্য ধরো। তারপর দ্বিতীয়বার এসে একই কথা বললেন, রাসুলুল্লাহ -ও একই উত্তর দিলেন। তৃতীয়বারে এসে যখন বললেন, আমার প্রতিবেশী আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, তোমার আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তায় নিক্ষেপ করো। তারপর যে-ই তোমার কাছে আসবে, তাকেই বলো যে, আমার প্রতিবেশী আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তার প্রতি অভিসম্পাত করার জন্য এটাই যথেষ্ট। (অর্থাৎ প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্টের ওপর ধৈর্য না ধরে এভাবে অভিযোগ করাকে রাসুলুল্লাহ অপছন্দ করেছেন, তাই তাকে এভাবে উত্তর দিয়েছেন।) আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর যে ইমান রাখে, তার উচিত প্রতিবেশীর সম্মান করা। ২৭২
📄 প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে সচেষ্ট
প্রকৃত মুসলমান সব সময় প্রতিবেশীর হক ও অধিকার যথাযথভাবে আদায় করে দেয়। সুতরাং কষ্টের মুহূর্তে তার সহযোগী হয়, খুশির সময় তার প্রফুল্লতায় শরিক হয়, অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যায়, মৃত্যুবরণ করলে মৃত্যুপরবর্তী কার্যক্রমে উপস্থিত হয় এবং স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়। প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীর আবেগ-অনুভূতির মূল্যায়ন করে এবং এমন কোনো কাজ করে না, যা তার অনুভূতিতে আঘাত লাগে বা তাকে কোনো ধরনের কষ্ট দেয়।
এটাই প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে ইসলামের বিধান ও শিক্ষা। প্রকৃত মুসলমান এ বিধান যথাযথ বাস্তবায়ন করে বিধায় তাকে সমাজ একজন আদর্শ ও উত্তম প্রতিবেশী হিসাবে চেনে। ভেবে দেখুন, আপনার ভেতর কি এসব গুণ আছে?