📄 খারাপ প্রতিবেশী ঈমানের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত
খারাপ প্রতিবেশী এমন এক ব্যক্তি, যে ইমানের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত; যা স্রষ্টার পক্ষ থেকে সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত এবং দুনিয়াবি জীবনের সকল শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্রবিন্দু। রাসুলুল্লাহ খুব কঠিন ভাষায় এ ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি ইরশাদ করেছেন: وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ قِيلَ: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
'আল্লাহর শপথ, সে ব্যক্তি মুমিন নয় (তিনবার বললেন)! জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কার ব্যাপারে বলছেন? তিনি বললেন, সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বলছি, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'২৬০
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
'সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'২৬১
প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করা কত বড় অপরাধ, তা শাস্তি দেখেই অনুমান করুন! কত বড় সে অপরাধ, যা ব্যক্তিকে ইমানের নিয়ামত থেকে বের করে দেয় এবং জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বাধা দেয়!
প্রকৃত মুসলমান খারাপ প্রতিবেশী হওয়ার এসব শাস্তির কথা জানে। তাই সে প্রতিবেশীর সাথে খারাপ ব্যবহার করা, ঝগড়া করা কিংবা তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। কারণ, সে জানে, এ বিষয়গুলো তার ইমান ধ্বংস করে দেবে এবং আখিরাত বরবাদ করে দেবে। আর একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে দুর্ভাগ্য ও ক্ষতি হলো, ইমান ও আখিরাতের ক্ষতি। প্রকৃত মুসলমান তাই এমন কোনো কাজ করে না, যা তার ইমান ও আখিরাতের ক্ষতি করে।
টিকাঃ
২৬০. উল্লেখ্য যে, কুফর বা শিরকের সাথে জড়িত না হয়ে শুধু গুনাহের কারণে কারও ইমান বিনষ্ট হয় না; গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন! এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র আকিদা। অতএব, যেসব হাদিসে বিভিন্ন গুনাহ বা জুলুমের কারণে ইমান না থাকার কথা বলা হয়েছে, বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ তথায় পূর্ণাঙ্গ ইমান না থাকার কথা বলেছেন। অর্থাৎ এখানে অর্থ হবে, সে পূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না। নচেৎ এসব হাদিস থেকে শুধু গুনাহের ভিত্তিতে কাউকে বে-ইমান বলা বা কাফির বলা সঠিক নয়, যেমনটি কোনো জাহিরি মাজহাবের লোক করে থাকে। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। (অনুবাদক)
📄 খারাপ প্রতিবেশীর আমল বিনষ্ট হয়ে যায়
প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করলে আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। যতই নেক আমল করুক, তা আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয় না। কারণ, সকল নেক আমল নির্ভর করে ইমানের ওপর। আর উপরোল্লিখিত হাদিসের স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী খারাপ প্রতিবেশীর ইমান নেই। ২৬২ সুতরাং বুঝা গেল, খারাপ প্রতিবেশীর কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না। আমল করতে করতে রাতদিন কাটিয়ে দিলেও তার কোনো সাওয়াব আমলনামায় লেখা হয় না।
এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:
قِيلَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ فُلَانَةً تَقُومُ اللَّيْلَ وَتَصُومُ النَّهَارَ، وَتَفْعَلُ، وَتَصَّدَّقُ، وَتُؤْذِي جِيرَانَهَا بِلِسَانِهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا خَيْرَ فِيهَا، هِيَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ» قَالُوا: وَفُلَانَةٌ تُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ، وَتَصَّدَّقُ بِأَثْوَارٍ، وَلَا تُؤْذِي أَحَدًا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هِيَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ»
'নবিজি -কে প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, অমুক মহিলা রাতে নামাজ পড়ে, দিনে রোজা রাখে, ভালো কাজ করে এবং দান-সদকা করে, কিন্তু কথার মাধ্যমে প্রতিবেশীদের কষ্ট দেয়। (তার সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?) রাসুলুল্লাহ বললেন, তার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই, সে জাহান্নামি। তারা বললেন, আরেকজন মহিলা ফরজ নামাজসমূহ আদায় করে এবং আবশ্যকীয় সদকাগুলো আদায় করে, কিন্তু কাউকে কষ্ট দেয় না। (তার ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?) রাসুলুল্লাহ বললেন, সে জান্নাতি। ২৬৩
রাসুলুল্লাহ কয়েক শ্রেণির লোককে বন্ধ্যা বলেছেন, খারাপ প্রতিবেশী তাদের অন্যতম। তিনি ইরশাদ করেছেন:
ثَلَاثُ هُنَّ الْعَوَاقِرُ: إِمَامٌ إِنْ أَحْسَنْتَ لَمْ يَشْكُرْ وَإِنْ أَسَأْتَ لَمْ يَغْفِرْ، وَجَارُ إِنْ رَأَى خَيْرًا دَفْنَهُ وَإِنْ رَأَى شَرًّا أَشَاعَهُ، وَامْرَأَةً إِنْ حَضَرَتْكَ آذَتْكَ وَإِنْ غِبْتَ عَنْهَا خَانَتْكَ
'তিন শ্রেণির মানুষ বন্ধ্যা। এক. এমন শাসক, যার সাথে ভালো ব্যবহার করলে শুকরিয়া আদায় করে না এবং খারাপ ব্যবহার করলে ক্ষমা করে না। দুই. খারাপ প্রতিবেশী, যে (প্রতিবেশীদের) ভালো কিছু দেখলে তা গোপন রাখে, কিন্তু খারাপ কিছু দেখলে তা প্রচার করে দেয়। তিন. ওই স্ত্রী, যার পাশে থাকলে তোমাকে কষ্ট দেয়, আর দূরে থাকলে বিশ্বাসঘাতকতা করে।' ২৬৪
হাদিস শরিফে খারাপ প্রতিবেশীর যে কুৎসিত চিত্র আঁকা হয়েছে, তা প্রকৃত মুসলমানের অন্তরে গেঁথে আছে। ফলে প্রতিবেশীদের সাথে খারাপ আচরণ করা বা তাদের কষ্ট দেওয়ার কথা সে ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারে না।
টিকাঃ
২৬২. এখানে ইমান না থাকা অর্থ ইমান পরিপূর্ণ নয়। একটু আগে এ সংক্রান্ত বিশদ ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি। (অনুবাদক)
📄 প্রতিবেশীর সাথে পাপকর্মে লিপ্ত হয় না
প্রকৃত মুসলমান বিশেষভাবে প্রতিবেশীর সাথে পাপকর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকে। কেননা, প্রতিবেশীর সাথে পাপকর্ম করা সাধারণত সহজ হয়ে থাকে বিধায় তা তুলনামূলক বেশি সংঘটিত হয়। এজন্য অপরাধ হিসাবেও তা বেশি গুরুতর।
এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:
سَأَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصْحَابَهُ عَنِ الزَّنَا؟ قَالُوا: حَرَامٌ، حَرَّمَهُ اللهُ وَرَسُولُهُ، فَقَالَ: «لِأَنْ يَزْنِي الرَّجُلُ بِعَشْرِ نِسْوَةٍ، أَيْسَرُ عَلَيْهِ مِنْ أَنْ يَزْنِيَ بِامْرَأَةِ جَارِهِ»، وَسَأَلَهُمْ عَنِ السَّرِقَةِ؟ قَالُوا: حَرَامٌ، حَرَّمَهَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولُهُ، فَقَالَ: «لِأَنْ يَسْرِقَ مِنْ عَشَرَةِ أَهْلِ أَبْيَاتٍ، أَيْسَرُ عَلَيْهِ مِنْ أَنْ يَسْرِقَ مِنْ بَيْتِ جَارِهِ
'রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবিগণকে ব্যভিচারের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বললেন, হারাম। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ এটাকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, কোনো ব্যক্তি দশজন মেয়ের সাথে ব্যভিচার করার চেয়ে মারাত্মক গুনাহ হলো প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা। অতঃপর তাদের থেকে চুরির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলো। তাঁরা উত্তরে বললেন, তা হারাম। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ তা হারাম করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি করা দশ বাড়িতে চুরি করার চেয়েও মারাত্মক অপরাধ।'২৬৫
ইসলামে প্রতিবেশীর মর্যাদা সুরক্ষিত। মানবরচিত কোনো সমাজব্যবস্থা প্রতিবেশীকে এমন মর্যাদা দিতে পারেনি। বরং এসব সমাজব্যবস্থা প্রতিবেশীর ইজ্জত-সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শেখায়। কারণ, প্রতিবেশীর মান- ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা অন্যদের তুলনায় সহজ। এর জন্য প্রচুর সময়ও পাওয়া যায়। তবে অতি দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, বর্তমান সময়ে অনেক মুসলমানকে দেখা যায়, তারা জানালার পাশের ঘরের তরুণীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল গান গায়, অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে। এ ধরনের অমুসলমানসুলভ কাজকর্ম মুসলমানদের থেকে প্রকৃত মুসলমানিত্ব ও ইমানি আখলাক চলে যাওয়ার কারণে এবং মুসলমানরা বিভিন্ন মানবরচিত অসভ্য চিন্তাধারা লালন করার দরুন সংঘটিত হচ্ছে। নচেৎ ইসলামপূর্ব জাহিলি যুগেও এ ধরনের খারাপ কাজের নজির পাওয়া যায় না, ইসলামি যুগে তো থাকার প্রশ্নই ওঠে না। ইসলামি যুগে প্রতিবেশী নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নজির দেখুন একজন মুসলিম কবির কবিতায় :
وأغض طرفي ما بدت لي جارتي " حتى يواري جارتي مأواها
'যখন আমার প্রতিবেশিনী হঠাৎ আমার সামনে পড়ে যায়, আমার দৃষ্টি তখন অবনমিত হয়ে পড়ে। ততক্ষণ দৃষ্টি উত্তোলন করি না, যতক্ষণ না প্রতিবেশিনী তার ঘরে ঢুকে যায়।'
কবি আরমাবি বলেন:
ناري ونار الجار واحدة * وإليه قبلي تنزل القدر ما ضرجارا لي أجاوره * ألا يكون لبابه ستر أعمى إذا ما جارتي برزت * حتى تغيب جارتي الخدر
'আমি ও আমার প্রতিবেশী এক আগুন দিয়ে উনুন জ্বালাই। আমার পূর্বেই তার ঘরে পৌঁছে যায় রান্নার হাঁড়ি। তবে আমার প্রতিবেশী আমাকে নিয়ে কোনো আশঙ্কা করে না, যখন তার ঘরের দরজায় কোনো পর্দা থাকে না। কারণ, প্রতিবেশিনী যখন বের হয়, তখন আমি অন্ধ হয়ে যাই, যতক্ষণ না সে তার অন্দরমহলে প্রবেশ করে।'
মোটকথা, ইসলাম বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। তার ইজ্জত-আবরুর হিফাজত করতে এবং যথাসাধ্য তার প্রয়োজন পূরণ করে দিতে আদেশ করেছে। তার ঘরের মেয়ে ও অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া ও তাকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। এজন্য প্রকৃত মুসলমান সর্বযুগে, সব সময়, সকল সমাজে উত্তম ও আদর্শ প্রতিবেশী হিসাবে খ্যাতিলাভ করে।
প্রকৃত সচেতন মুসলমান-যে প্রতিবেশীর ব্যাপারে ইসলামের সকল নির্দেশনা মেনে চলে-প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া করার আগে হাজারবার চিন্তা করে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন :
أَوَّلُ خَصْمَيْنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ جَارَانِ 'কিয়ামতের দিন যে দুজন ঝগড়াকারীর বিচার আগে হবে, তারা পরস্পর প্রতিবেশী।'২৬৬
📄 প্রতিবেশীর উপকার করতে অবহেলা করে না
প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীদের জন্য তার উপকার ও অনুগ্রহের দরজা সব সময় উন্মুক্ত রাখে, যেন তাদের হক আদায়ে কোনো ধরনের অবহেলা ও শিথিলতা না হয় এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিম্নোক্ত হাদিসটি তার ওপর প্রযোজ্য হয়ে না যায়, যে হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন :
كَمْ مِنْ جَارٍ مُتَعَلِّقُ بِجَارِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ: يَا رَبِّ، هَذَا أَغْلَقَ بَابَهُ دُونِي، فَمَنَعَ مَعْرُوفَهُ 'অনেক প্রতিবেশী কিয়ামতের দিন তার প্রতিবেশীকে অভিযুক্ত করবে এবং বলবে, হে আমার প্রভু, এ ব্যক্তি আমার জন্য তার দরজা বন্ধ করে রেখেছিল এবং আমাকে তার প্রতিবেশীসুলভ সদ্ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করেছিল।'২৬৭
কিয়ামতের দিন বিশাল জনসমুদ্রের সম্মুখে যখন এ অভিযোগ করা হবে, তখন কী পরিমাণ লজ্জা লাগবে, একটু ভাবুন তো!
ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মুসলমান একটি শক্ত ও উঁচু ভবনের মতো। এ উম্মাহর প্রতিজন সন্তান এ ভবনের একেকটি ইট। কোনো ভবন তখনই টিকে থাকে, যখন তার এক ইটের সাথে আরেক ইটের মিলবন্ধন শক্ত হয় এবং একটির সাথে আরেকটির সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। অন্যথায় তা নিমিষেই ধসে পড়বে। তাই ইসলাম তার অনুসারীদের মাঝে আত্মিক মিলবন্ধন ও ভ্রাতৃত্ববন্ধন সৃষ্টি করেছে, যেন মুসলমানদের ভবন মজবুত হয় এবং দুনিয়ার কোনো শক্তি তাকে ধসিয়ে দিতে না পারে।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا 'মুমিন মুমিনের জন্য ভবনের কাঠামোস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে'। ২৬৮
অপর এক হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন : مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ، وَتَرَاحُمِهِمْ، وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌّ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى 'পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দয়া প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়ার ক্ষেত্রে সকল মুমিন এক দেহের ন্যায়, যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়'। ২৬৯
যে দ্বীন সকল মুসলমানের মাঝে এমন গভীর সম্পর্ক রাখার কথা বলে, সে দ্বীন প্রতিবেশীর সাথে গভীর সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে কতটা গুরুত্ব দেবে, তা তো সহজেই অনুমেয়। এজন্য প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীর সাথে গভীর বন্ধুত্ব রাখে, তার প্রয়োজনে পাশে থাকে এবং তার সাথে উত্তম আচরণ করে।