📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার-সম্পর্কিত ইসলামী নির্দেশনা অনুসরণ করে

📄 প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার-সম্পর্কিত ইসলামী নির্দেশনা অনুসরণ করে


প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম লেনদেন ও ভালো ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। কেননা, সে প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করার ব্যাপারে ইসলামে যে নির্দেশনা এসেছে, সেগুলো অনুসরণ করে। আসলে ইসলাম ধর্মে প্রতিবেশীকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে, তা অন্য কোনো ধর্ম বা জীবনব্যবস্থায় দেখা হয়নি। প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা সরাসরি পবিত্র কুরআনে দিয়েছেন। তিনি বলেন : وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
'আর ইবাদত করো আল্লাহর এবং তাঁর সাথে অপর কাউকে শরিক কোরো না। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্বব্যক্তি, অসহায় মুসাফির ও নিজের দাস-দাসীর প্রতিও।'২৩৮
'আত্মীয় প্রতিবেশী' বলা হয় ওই প্রতিবেশীকে, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কও রয়েছে। 'অনাত্মীয় প্রতিবেশী' বলা হয় ওই প্রতিবেশীকে, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। আর 'পার্শ্বব্যক্তি' বলা হয় উত্তম কাজের সহকর্মীকে।
প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর তার প্রতিবেশীর অধিকার রয়েছে। তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক। এমনকি ধর্মীয়ভাবে সম্পর্ক না থাকলেও! এখান থেকেই বুঝা যায়, উদারতা ও মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রতিবেশীকে কতটা সম্মান দিয়েছে!
এজন্যই যত হাদিসে রাসুলুল্লাহ প্রতিবেশীর ব্যাপারে নসিহত করেছেন, প্রত্যেকবারেই ব্যাপক শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেন তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, প্রতিবেশীর অধিকারের ক্ষেত্রে আত্মীয়তা ও ধর্মীয় সম্পর্কের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না।
যেমন এক হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল সর্বদা আমাকে প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে এত বেশি উপদেশ দিচ্ছিলেন যে, একসময় আমার ধারণা হতে লাগল যে, অচিরেই বুঝি প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা হবে। '২৩৯
প্রতিবেশীর প্রতি ইসলামের গুরুত্ব দেখুন, ফেরেশতাকুলের সর্দার জিবরাইল রাসুলুল্লাহ-কে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অনবরত উপদেশ ও তাগাদা দিয়ে গেছেন। এমনকি একসময় রাসুলুল্লাহ-এর মনে ধারণা এসে গিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে প্রতিবেশীকে আত্মীয়ের মর্যাদা দান করে দিয়ে উত্তরাধিকারী হওয়ার ঘোষণা আসতে পারে!
প্রতিবেশীর অধিকার বিষয়ে জিবরাইল-এর অতিরিক্ত উদ্বুদ্ধকরণের ফলে রাসুলুল্লাহ বিষয়টির প্রতি খুব আগ্রহী হয়ে পড়েছিলেন। এজন্যই মুসলমানদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ওপর দেওয়া ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণের বড় এক অংশ প্রতিবেশীর ব্যাপারে ছিল। তা দেখে আবু উমামা-এর মনে হয়েছিল, অচিরেই রাসুলুল্লাহ প্রতিবেশীদের মাঝে উত্তরাধিকারের বিধান প্রবর্তন করতে যাচ্ছেন!
আবু উমামা বলেন:
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمْ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ الْجَدْعَاءِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، يَقُولُ: «أُوصِيكُمْ بِالْجَارِ حَتَّى أَكْثَرَ، فَقُلْتُ: إِنَّهُ لَيُوَرَّثُهُ
আমি শুনেছি, রাসুলুল্লাহ বিদায় হজের দিন তাঁর উটের ওপর সওয়ার হয়ে বলেছেন, 'আমি প্রতিবেশীর ব্যাপারে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি।' কথাটি তিনি এত অধিকবার বললেন যে, আমি মনে মনে বললাম, রাসুলুল্লাহ বুঝি প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করতে যাচ্ছেন! ২৪০
এ ছাড়াও আরও অনেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে উম্মাহকে উপদেশ দিয়েছেন। প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করা ও তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকাকে ইমানের অন্যতম আলামত বলেছেন। যেমন এক হাদিসে তিনি বলেন: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنُ إِلَى جَارِهِ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করে; যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন অতিথিকে সম্মান করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা (ভালো কথা বলতে না পারলে অন্তত) চুপ থাকে।'২৪১
সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে: مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَهُ 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। '২৪২

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীর প্রতি উদার হয়

📄 প্রকৃত মুসলমান প্রতিবেশীর প্রতি উদার হয়


প্রকৃত মুসলমান—যার অন্তর ও বিবেক ইসলামের হিদায়াতের আলোয় আলোকিত—প্রতিবেশীর প্রতি উদার ও ভদ্রজনোচিত আচরণ করে। প্রয়োজনবশত তার বাড়ির কোনো বস্তু দ্বারা প্রতিবেশী উপকৃত হতে চাইলে বাধা দেয় না।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
لَا يَمْنَعْ جَارُ جَارَهُ أَنْ يَغْرِزَ خَشَبَهُ فِي جِدَارِهِ
'এক প্রতিবেশী অপর প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুঁটি গাড়া থেকে বাধা দেওয়া উচিত নয়।'২৪৩

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 নিজের জন্য যা পছন্দ করে, প্রতিবেশীর জন্যও তাই পছন্দ করে

📄 নিজের জন্য যা পছন্দ করে, প্রতিবেশীর জন্যও তাই পছন্দ করে


প্রকৃত মুসলমান উদারমনস্ক ও বন্ধুভাবাপন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়। প্রতিবেশীর আবেগ-অনুভূতিকে সমীহ করে সে। তার সুখে সুখী হয় এবং তার ব্যথায় ব্যথিত হয়। নিজের জন্য যা পছন্দ করে, প্রতিবেশীর জন্যও তাই পছন্দ করে।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অপর মুমিন ভাইয়ের জন্যও তা-ই পছন্দ করবে।'২৪৪
সহিহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يُؤْمِنُ عَبْدُ حَتَّى يُحِبَّ لِجَارِهِ - أَوْ قَالَ: لِأَخِيهِ - مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
'সে সত্তার শপথ করে বলছি যার হাতে আমার প্রাণ, বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেশীর জন্য অথবা (বলেছেন,) তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।'২৪৫
প্রকৃত মুসলমান গরিব প্রতিবেশীদের খুব দেখাশোনা করে। বিশেষ করে যখন তার ঘরে এমন কোনো ব্যঞ্জন রান্না করা হয়, যার সুগন্ধি আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, সে সুগন্ধি পেয়ে গরিব প্রতিবেশীর জিহ্বায় পানি চলে আসবে, কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় বেচারা শুধু মুখের লালাই চেটে চেটে খাবে। আবার তাদের মধ্যে অনেক অবুঝ শিশু, অসহায় এতিম, নিঃস্ব বিধবা বা অকেজো বৃদ্ধও থাকতে পারে। এমন অবস্থায় প্রকৃত মুসলমান গরিব প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেয়। সেই সুগন্ধিযুক্ত খাবারের কিছু অংশ তাদের কাছেও পাঠিয়ে দেয়। কেননা, রাসুলুল্লাহ মুমিনদের অন্তরে সামাজিক সহানুভূতির যে চারা রোপণ করে গিয়েছেন, তা সজীব ও জীবন্ত থাকে প্রকৃত মুসলমানের হৃদয়ে।
এ সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ আবু জার-কে বললেন :
يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً، فَأَكْثِرْ مَاءَهَا، وَتَعَاهَدْ جِيرَانَكَ
'হে আবু জার, কোনো তরকারি রান্না করলে সেখানে ঝোল একটু বেশি দিয়ো এবং প্রতিবেশীদের খবর নিয়ো।'২৪৬
অপর এক বর্ণনায় এসেছে :
إِذَا طَبَخْتَ مَرَقًا فَأَكْثِرُ مَاءَهُ، ثُمَّ انْظُرْ أَهْلَ بَيْتٍ مِنْ جِيرَانِكَ، فَأَصِبْهُمْ مِنْهَا بِمَعْرُوفٍ
'যদি কোনো তরকারি রান্না করো, তখন সেখানে পানি বেশি দিয়ো, তারপর প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিয়ে তাদের জন্যও কিছু পাঠিয়ে দিয়ো।'২৪৭
প্রকৃত মুসলমানের মন কখনো এ বিষয়ে সায় দেয় না যে, তার প্রতিবেশী ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কারণে কষ্ট পাবে, অথচ সে আরাম-আয়েশ ও বিলাসী জীপনযাপন করবে।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
مَا آمَنَ بِي مَنْ بَاتَ شَبْعَانًا وَجَارُهُ جَائِعٌ إِلَى جَنْبِهِ وَهُوَ يَعْلَمُ بِهِ
'সে ব্যক্তি আমার প্রতি (প্রকৃত) বিশ্বাস স্থাপন করেনি, যে পরিতৃপ্ত হয়ে রাত্রিযাপন করে; অথচ সে জানে যে, তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত। '২৪৮
আরেক হাদিসে তিনি বলেন:
لَيْسَ الْمُؤْمِنُ الَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِعُ
'সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে তৃপ্তিভরে খানা খায়; অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। '২৪৯

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 বর্তমান মানবতার করুণ পরিণতির কারণ ইসলামি আখলাকের অনুপস্থিতি

📄 বর্তমান মানবতার করুণ পরিণতির কারণ ইসলামি আখলাকের অনুপস্থিতি


বর্তমান সময়ে বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় মানবতার প্রতি যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে, তার একমাত্র কারণ হলো, ইসলাম ও প্রকৃত মুসলমানের অনুপস্থিতি। ইসলামের ইনসাফপূর্ণ মানবিক মূলনীতিগুলো যখন মানবরচিত ভোগবাদী রীতিনীতির আড়ালে হারিয়ে যায়, তখন এমন দুর্ভোগ অস্বাভাবিক কিছু নয়। মানবরচিত ভোগবাদী জীবনব্যবস্থা মানবের চন্দ্রাভিযানের যুগে মানবতাকে উপহার দিয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অসহ্য ব্যথা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ১৯৭৫ সালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এশিয়া ও আফ্রিকায় বিগত কয়েক বছর ধরে ২০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধা ও অনাহারের কারণে মৃত্যুঝুঁকিতে আছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও সেখানে প্রায় ১,৪৬০ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছে।
চলতি বছরে বিশ্ব প্রচারমাধ্যম একটি ঘটনা খুব ফলাও করে প্রচার করেছে। ঘটনাটির সারসংক্ষেপ হলো, এক ইউরোপীয় তরুণী চরম খাদ্যসংকটে ভোগা আফ্রিকার একটি অঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবী নার্স হিসাবে গমন করেন। সেখানে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পাগলের মতো হয়ে যান তিনি। তার এমনভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ হলো, একদিন তিনি দেখলেন, কিছু আফ্রিকান শিশু—যাদের সবচেয়ে বড়জনের বয়স আটের বেশি নয়—ক্ষুধার তাড়নায় আমের একটা অংশের জন্য নিজেদের মাঝে বুনো লড়াই লড়ছে। একজনের চক্ষু ফুঁড়ে দেওয়া পর্যন্ত তাদের এ লড়াই অব্যাহত থাকল!
এমন ক্ষুধার কারণে সেখানকার লোকদের শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন থেকে বঞ্চিত থাকে এবং শিশুদের জন্য শরীর গঠনকারী খাদ্য তারা পায় না। ফলে তারা একেকজন জীবন্ত কঙ্কাল হয়ে দুনিয়াতে বিচরণ করে। তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না বিধায় নানাবিধ রোগে তারা আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
যে সময় এশিয়া ও আফ্রিকায় মানুষ ক্ষুধায় জর্জরিত, সে সময় পশ্চিমা ধনাট্য বিশ্বে—যে বিশ্বে পৃথিবীর জনসংখ্যার মাত্র ২০% মানুষ বাস করে, কিন্তু বৈশ্বিক প্রাচুর্যের ৮০% তারা নিজেদের হাতে ধরে রেখেছে—তাদের ধনাঢ্যতা ও প্রাচুর্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য পাগলের মতো অসংখ্য কাণ্ড ঘটিয়ে চলছে। যেমন: বিশ্ববাজারে কফির দাম চড়া রাখার জন্য ১৯৭৫ সালে ব্রাজিল হাজার হাজার কফি গাছ পুড়িয়ে ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ প্রয়োজনাতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য ও কৃষি উৎপন্নদ্রব্য ধ্বংস করার জন্য প্রতিবছর পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার খরচ করে, যেন বিশ্ববাজারে সেগুলোর দাম চড়া থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর তিন লক্ষ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে খাদ্যশস্য উৎপাদন রোধ করার জন্য, যেন বিশ্ববাজারে সেগুলোর দাম বেশি হয়। মার্কিন মাংস ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ গরুর বাছুর মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলে, যেন বিশ্ববাজারে মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে; অথচ তখন এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্যাভাবে মারা যায়। যদি দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব খাদ্যদ্রব্য ধ্বংস না করা হতো, তাহলে পৃথিবীর বুকে কোনো মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগত না।
ইসলামি মানবিক সভ্যতা ও পাশ্চাত্য ভোগবাদী সভ্যতার মাঝে কী বিরাট পার্থক্য! ইসলাম তরকারির সুঘ্রাণের মাধ্যমে গরিব প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার মতো সামান্য অমানবিক কাজের সাথেও আপস করেনি। কিন্তু পাশ্চাত্য ভোগবাদী সভ্যতা ধনাঢ্য লোকদের ধনাঢ্যতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন প্রাণকে না খাইয়ে মেরে ফেলতেও কুণ্ঠাবোধ করে না!
পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের ভোগবাদী জীবন ও অর্থব্যবস্থা এভাবে মানবতাকে বিপন্ন করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। এহেন দুর্ভোগ থেকে মানবতাকে মুক্ত করতে হলে ফিরে আসতে হবে ইসলামের পথে। ভোগবাদের বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে মরা থেকে মানবতাকে মুক্ত করতে হলে তাকে ছেড়ে দিতে হবে ইসলামের মুক্ত বাতাসে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00