📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 সন্তানদের উন্নত আখলাক-চরিত্র শিক্ষা দেয়

📄 সন্তানদের উন্নত আখলাক-চরিত্র শিক্ষা দেয়


সন্তানদের আদর্শ সন্তান হিসাবে গড়ে তুলতে হলে তাদের অন্তরে উত্তম আখলাক-চরিত্রের বীজ বপন করতে হয়। এজন্য প্রকৃত মুসলমান তার সন্তানদের উন্নত ও উত্তম আখলাক-চরিত্র শিক্ষাদান করে। মানুষকে ভালোবাসা, দুর্বলদের সহায় হওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, ভালো কাজ করার উৎসাহ বোধ করা, মানুষের মাঝে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আগ্রহ করা ইত্যাদি যত উন্নত ও উত্তম গুণাবলি রয়েছে—সব তাদের শেখায়। কেননা, যেসব হৃদয় এ গুণাবলি দ্বারা সিক্ত নয়, সেসব হৃদয় থেকে কল্যাণের আশা করা যায় না। কারণ, যার ভেতর যা আছে, তা-ই তো বের হবে! তাই পিতা-মাতা যদি সন্তানদের থেকে কল্যাণের প্রত্যাশা রাখেন, তাহলে তাদের ভেতর উত্তম গুণাবলি ও আখলাক-চরিত্রের চারা রোপণ করতে হবে। এজন্যই বলি, যারা নিম্নোল্লিখিত কথাটি বলেছেন, তারা সত্যিই বলেছেন—
الصَّلَاحُ مِنَ اللَّهِ، وَالْأَدَبُ مِنَ الْآبَاءِ
'সৎপথে চলার প্রবণতা আল্লাহর দান, আর আদব-শিষ্টাচার পিতাদের দান।' ২০৭
প্রকৃত মুসলমান ইসলামের তারবিয়াত-পদ্ধতি অনুসরণ করে সন্তানদের সুষ্ঠুভাবে লালনপালন করে। এর জন্য প্রথমে সে নিজের ঘরকে সন্তানদের বেড়ে ওঠার সুষ্ঠু পরিবেশ হিসাবে গড়ে তোলে। সে পরিবেশে সন্তানদের জন্য থাকে উত্তম ব্যবহার, স্নেহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতা, সকল সন্তানের মাঝে সমতা, যত্নের উষ্ণ পরশ, দুর্বলতামুক্ত নম্রতা ও কঠোরতামুক্ত শাসন। যখন সন্তানেরা এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন তারা ছোট থাকতেই ইসলামের উত্তম আখলাক ও গুণগুলো অর্জন করে নেয়। তারা হয়ে ওঠে নেককার, পিতা-মাতার অনুগত ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। ভবিষ্যতের যেকোনো কঠিন দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা তাদের মাঝে এসে যায়। এভাবে প্রত্যেক এমন পরিবার, যা ইসলামের নির্দেশনা ও কুরআনি শিষ্টাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে পরিবারের সন্তানেরা শুরু থেকেই উত্তম আখলাক-চরিত্র নিয়ে বড় হয়।
পবিত্র কুরআনে যথার্থই বলা হয়েছে: صِبْغَةَ اللهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً
'আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রঙের চেয়ে উত্তম রং আর কার হতে পারে?'২০৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00