📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 সন্তানদের মাঝে সমতা বিধান করে

📄 সন্তানদের মাঝে সমতা বিধান করে


সন্তান লালনপালনে ইসলামের আরেকটি নীতি হলো, সকল সন্তানের মাঝে সমতা প্রতিষ্ঠা করা। কোনো বিষয়ে একজনকে আরেকজনের ওপর প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার না দেওয়া। কেননা, সন্তান যখন বুঝতে পারে, বাবা-মার কাছে সে ও তার অন্যান্য ভাইবোন একই সমান, তখন সুস্থ মানসিকতা নিয়ে সে বড় হয়। কোনো ধরনের হীনম্মন্যতাবোধ তার মাঝে থাকে না। ভাইবোনদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকে না; বরং সবার মাঝে সবার জন্য ভালোবাসা ও উদারতা থাকে। একে অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এজন্য ইসলাম এ বিষয়টির প্রতি খুব গুরুত্ব দিয়েছে।
ইমাম বুখারি ও মুসলিম নুমান বিন বাশির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমার পিতা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট গিয়ে বললেন, আমার এ ছেলেকে আমার একটি গোলাম উপহার দিয়েছি। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমার অন্য সন্তানদেরও কি এর মতো উপহার দিয়েছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও।'
অপর রিওয়ায়াতে এসেছে:
'তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমার সকল সন্তানের জন্যই কি এমন করেছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সন্তানদের মাঝে ন্যায়বিচার করো। তখন আমার পিতা এসে উপহারটি ফিরিয়ে নিলেন।'
অপর এক বর্ণনায় এসেছে:
'রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, হে বাশির, এ ব্যতীত তোমার আর কোনো সন্তান আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আছে। তিনি বললেন, এর মতো কি সবাইকে দান করেছ? তিনি বললেন, না। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাহলে আমাকে (তোমার এ কাজের) সাক্ষী বানিয়ো না। কেননা, আমি জুলুমের সাক্ষী হই না। তারপর বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ করো যে, তোমার প্রত্যেক সন্তান তোমার সাথে সমানভাবে সদ্ব্যবহার করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাহলে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের মাঝে সমতা বিধান করো।'২০৬
প্রকৃত মুসলমান তার সন্তানদের মাঝে ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা করে। উপহার, ভরণপোষণ ও আচরণের ক্ষেত্রে একজনকে আরেকজনের ওপর প্রাধান্য দেয় না। ফলে তাদের প্রত্যেকেই তার জন্য দুআ করে, প্রত্যেকের অন্তরে তার জন্য মহব্বত থাকে, প্রত্যেক সন্তান তাকে সম্মান করে এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করে।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 সন্তানদের উন্নত আখলাক-চরিত্র শিক্ষা দেয়

📄 সন্তানদের উন্নত আখলাক-চরিত্র শিক্ষা দেয়


সন্তানদের আদর্শ সন্তান হিসাবে গড়ে তুলতে হলে তাদের অন্তরে উত্তম আখলাক-চরিত্রের বীজ বপন করতে হয়। এজন্য প্রকৃত মুসলমান তার সন্তানদের উন্নত ও উত্তম আখলাক-চরিত্র শিক্ষাদান করে। মানুষকে ভালোবাসা, দুর্বলদের সহায় হওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, ভালো কাজ করার উৎসাহ বোধ করা, মানুষের মাঝে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আগ্রহ করা ইত্যাদি যত উন্নত ও উত্তম গুণাবলি রয়েছে—সব তাদের শেখায়। কেননা, যেসব হৃদয় এ গুণাবলি দ্বারা সিক্ত নয়, সেসব হৃদয় থেকে কল্যাণের আশা করা যায় না। কারণ, যার ভেতর যা আছে, তা-ই তো বের হবে! তাই পিতা-মাতা যদি সন্তানদের থেকে কল্যাণের প্রত্যাশা রাখেন, তাহলে তাদের ভেতর উত্তম গুণাবলি ও আখলাক-চরিত্রের চারা রোপণ করতে হবে। এজন্যই বলি, যারা নিম্নোল্লিখিত কথাটি বলেছেন, তারা সত্যিই বলেছেন—
الصَّلَاحُ مِنَ اللَّهِ، وَالْأَدَبُ مِنَ الْآبَاءِ
'সৎপথে চলার প্রবণতা আল্লাহর দান, আর আদব-শিষ্টাচার পিতাদের দান।' ২০৭
প্রকৃত মুসলমান ইসলামের তারবিয়াত-পদ্ধতি অনুসরণ করে সন্তানদের সুষ্ঠুভাবে লালনপালন করে। এর জন্য প্রথমে সে নিজের ঘরকে সন্তানদের বেড়ে ওঠার সুষ্ঠু পরিবেশ হিসাবে গড়ে তোলে। সে পরিবেশে সন্তানদের জন্য থাকে উত্তম ব্যবহার, স্নেহ-ভালোবাসা, মায়া-মমতা, সকল সন্তানের মাঝে সমতা, যত্নের উষ্ণ পরশ, দুর্বলতামুক্ত নম্রতা ও কঠোরতামুক্ত শাসন। যখন সন্তানেরা এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন তারা ছোট থাকতেই ইসলামের উত্তম আখলাক ও গুণগুলো অর্জন করে নেয়। তারা হয়ে ওঠে নেককার, পিতা-মাতার অনুগত ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। ভবিষ্যতের যেকোনো কঠিন দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা তাদের মাঝে এসে যায়। এভাবে প্রত্যেক এমন পরিবার, যা ইসলামের নির্দেশনা ও কুরআনি শিষ্টাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে পরিবারের সন্তানেরা শুরু থেকেই উত্তম আখলাক-চরিত্র নিয়ে বড় হয়।
পবিত্র কুরআনে যথার্থই বলা হয়েছে: صِبْغَةَ اللهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً
'আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রঙের চেয়ে উত্তম রং আর কার হতে পারে?'২০৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00