📄 সফল স্বামী
প্রকৃত মুসলমান দাম্পত্য জীবনে রাসুলুল্লাহ -এর আদর্শ মেনে চলে। তাই সে সমাজে একজন সফল স্বামী হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। নেককার, পূত-পবিত্র ও সতী-সাধ্বী স্ত্রীর হৃদয়ের মণিকোঠায় তার জন্য ভালোবাসার প্রাসাদ নির্মিত হয়। কারণ, সে স্ত্রীর ভালোবাসা আদায়ের জন্য নববি পদ্ধতি অনুসরণ করে। কথা বলার সময় তাকে মুচকি হাসি উপহার দেয়। তার মেয়েলি মান-অভিমান ও আহ্লাদগুলো মেনে নেয়। মিষ্টিকথার ফুলঝুরি দিয়ে তার অভিমান ভাঙায়। একটিবারের জন্যও সে ভুলে যায় না যে, তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে, যার বক্রতা সোজা করার সাধ্য তার নেই।
📄 স্ত্রীর সাথে জীবনযাপনে বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা অবলম্বন করে
প্রকৃত মুসলমান সব সময় বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা ও চাতুর্যের সহিত স্ত্রীর সাথে জীবনযাপন করে। স্ত্রীর সামনে কোনো খারাপ কাজ বা খারাপ আচরণ করে না। তার সামনে এমন কোনো শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করে না, যা তার বা তার কোনো আত্মীয় ও প্রিয়জনের মনে কষ্ট দেয়। স্ত্রীর আবেগ-অনুভূতির মূল্য দেয়। মুসলমান স্ত্রীকেও স্বামীর আবেগ-অনুভূতির মূল্য দিতে হবে। স্বামীর সামনে এমন কোনো কথা বলা যাবে না, যা স্বামী বা স্বামীর কোনো আত্মীয়ের মনে কষ্ট দেবে।
স্ত্রীর কোনো গোপন বিষয় সে প্রকাশ করে না। এমন কোনো সংবাদ প্রচার করে না, যা স্ত্রী কেবল তাকেই বলেছে। কেননা, এতে কোনোরূপ অবহেলা বা শিথিলতা করলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। ভালোবাসার প্রদীপ নিভু নিভু হয়ে যায়। তবে প্রকৃত মুসলমান যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করে চলে এবং ইসলামি শিষ্টাচার মেনে চলে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে এ বিপদ থেকে বেঁচে থাকে।
📄 স্ত্রীর ত্রুটি সংশোধন করে দেয়
প্রকৃত মুসলমান তার স্ত্রীর ইলম ও চরিত্রের মাঝে কোনো ত্রুটি দেখতে পেলে বিচক্ষণতার সহিত উত্তম উপায়ে তা সংশোধন করে দেয়। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর মাঝে সাধারণত অবাধ্যতা ও অমনোযোগিতার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। প্রকৃত মুসলমান ধৈর্য, নম্রতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে এর মোকাবেলা করে। মানুষের সামনে স্ত্রীকে তিরস্কার করে না, ধমক দেয় না। কারণ, মানুষের সামনে স্ত্রীকে তিরস্কার করলে তার অনুভূতিতে আঘাত আসে। এতে সে খুব অপমান বোধ করে। আর একজন প্রকৃত মুসলমানের জন্য মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানা মোটেই উচিত নয়।
📄 মা ও স্ত্রীকে সন্তুষ্ট রাখার মাঝে সুষ্ঠু ভারসাম্য বজায় রাখে
সত্যিকারের মুসলমান নিজের মা ও স্ত্রী উভয়কে সন্তুষ্ট রাখার পদ্ধতি জানে। এ দুজনের সাথে আচার-ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও ধৈর্যশক্তি ব্যবহার করে। একজনের প্রতি সুবিচার করতে গিয়ে আরেকজনের ওপর অন্যায় করে বসে না। একদিকে মায়ের অবাধ্য হয় না; অপরদিকে স্ত্রীর প্রতিও অবিচার করে না। বরং মায়ের হক মাকে আদায় করে দেয়, সুতরাং তার সাথে সদ্ব্যবহার করে। একইভবে স্ত্রীর হক স্ত্রীকে দিয়ে দেয়, সুতরাং মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করতে গিয়ে ও তার যত্ন নিতে গিয়ে স্ত্রীকে তার হক ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না। দাম্পত্য জীবনে এ কাজটা মারাত্মক পর্যায়ের কঠিন। এ কাজ সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেওয়া রীতিমতো কঠিন এক যুদ্ধ। তবে এ যুদ্ধে যদি রসদ হিসাবে তাকওয়া ও ইসলামের আদর্শ থাকে, তখন বিজয়লাভ তেমন কঠিন হয় না। কেননা, ইসলাম মা ও স্ত্রী উভয়ের প্রতি ইনসাফ করেছে। প্রত্যেককে তার যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে।