📄 ভালো মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং ঈমানের মজলিসে যোগদান করে
আত্মা ও কলবকে সুস্থ রাখার জন্য প্রকৃত মুসলমান ভালো ও সৎকর্মশীল মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে। ইমান ও জিকিরের মজলিসসমূহে যোগদান করে, যেখানে ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ধরনের মজলিসে উপস্থিত হলে রুহ, নফস ও কলব পবিত্র, জংমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হয় এবং মানুষ ইমানি নুরে নুরান্বিত হয়ে ওঠে।
এজন্যই আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা ⚛ কোনো সাহাবির সাথে সাক্ষাৎ হলে বলতেন:
تَعَالَ نُؤْمِنْ بِرَبِّنَا سَاعَةً
'আসুন, কিছুক্ষণ আমাদের প্রতিপালকের প্রতি ইমানকে মজবুত করে নিই।'
এ ব্যাপারে যখন রাসুলুল্লাহ ⚛ অবগত হলেন, তখন বললেন :
يَرْحَمُ اللهُ ابْنَ رَوَاحَةَ، إِنَّهُ يُحِبُّ الْمَجَالِسَ الَّتِي تَتَبَاهَى بِهَا الْمَلَائِكَةُ
'আল্লাহ তাআলা রাওয়াহার পুত্র আব্দুল্লাহর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। সে এমন মজলিস ভালোবাসে, যা নিয়ে ফেরেশতারা পরস্পর গর্ব করে। '১১৩
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ⚛ যখন খিলাফতের দায়িত্ব শেষ করে একটু অবসর পেতেন, তখন দুয়েকজন ব্যক্তির হাত ধরে বলতেন, এসো, কিছুক্ষণ ইমান বৃদ্ধি করি। অতঃপর তারা আল্লাহর জিকির করতেন। '১১৪
উমর-এর মতো পূর্ণাঙ্গ মুত্তাকি ও ভালো মানুষও অবসর সময়ে ইমান বৃদ্ধি করার জন্য জিকিরের মজলিস কায়েম করতেন। আমাদের মতো গুনাহগার বান্দাদের জন্য তা কতটুকু প্রয়োজন, তা সহজেই অনুমেয়।
একইভাবে মুআজ বিন জাবাল পথচারী লোকদের বলতেন, আমাদের সাথে বসুন, কিছুক্ষণ ইমান তাজা করি।'১১৫
তা ছাড়া আত্মাকে পরিশুদ্ধ ও পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে বান্দাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে : وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ، قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا ১০ 'শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয় এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।'১১৬
এজন্য প্রকৃত মুসলমান সব সময় উত্তম ও সৎকর্মশীল বন্ধু নির্ণয় করতে এবং ইমানি ও আমলি পরিবেশে থাকতে চেষ্টা করে। খারাপ বন্ধু, মনুষ্য শয়তান, পাপাচার ও অশ্লীলতাদূষিত সমাজ ও পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে চায়। কারণ, তা অন্তর ও মননকে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرْطًا 'আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে। আর আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। আর যার মনকে আমার স্মরণ থেকে উদাসীন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না। '১১৭
📄 হাদিসে বর্ণিত আজকার ও দুআসমূহ যথাস্থানে পাঠ করে
বিভিন্ন কাজ ও সময়ে পড়ার জন্য যেসব দুআ হাদিসে বর্ণিত আছে, প্রকৃত মুসলমান সেসব দুআ যথাস্থানে ও যথাসময়ে নিয়মিত পাঠ করে। যেমন: ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পঠিতব্য দুআ, ঘরে প্রবেশ করতে দুআ, মুসাফিরকে বিদায় জানাতে দুআ, মুসাফিরকে স্বাগতম জানানোর দুআ, নতুন কাপড় পরার সময় পঠিতব্য দুআ, ঘুমানোর দুআ, ঘুম থেকে জাগার সময় পঠিতব্য দুআ। এভাবে প্রতিটি কাজের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে দুআ শিখিয়ে গিয়েছেন এবং আমল করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই প্রকৃত মুসলমান এগুলোর ওপর খুব গুরুত্ব দিয়ে আমল করে। তা ছাড়া এ দুআগুলোর মাধ্যমে কলব পরিশুদ্ধ হয়। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গাঢ় হয়।
বস্তুত, এ দুআগুলো অন্তরের ব্যায়াম ও অনুশীলন। এগুলোর কারণে অন্তর থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ইত্যাকার আত্মিক রোগসমূহ দূর হয়ে অন্তর সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। তাই প্রকৃত মুসলমান যেমন শরীরচর্চা ও বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরের যত্ন নেয় এবং ফিট রাখে, তেমনই এ দুআগুলো নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে অন্তরাত্মাকে সুস্থ ও পরিশুদ্ধ রাখে।