📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান লাভ করে

📄 নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান লাভ করে


সত্যিকারের প্র্যাক্টিসিং মুসলমান সাধারণভাবে দ্বীনের ইলম অর্জন করার পর নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য অর্জন করার প্রতি আগ্রহী হয়। সেটা দ্বীনি কোনো জ্ঞান হতে পারে, আবার দুনিয়াবি কোনো জ্ঞানও হতে পারে। যেমন: গণিতশাস্ত্র, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, মহাকাশবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ইত্যাদি। ব্যবসা কিংবা কোনো হস্তশিল্পও হতে পারে। যে বিষয়েই পড়াশোনা করুক, পুরো বিষয়টাকে সম্পূর্ণ আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। যে ভাষার সাথে উক্ত জ্ঞানের সম্পর্ক আছে, কঠোর মেহনত করে সে ভাষা শিখে নিতে হবে। উক্ত জ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। কঠোর অধ্যবসায় ও অত্যধিক অধ্যয়ন করে উদ্ভাবনের যোগ্যতা অর্জন করে নিতে হবে। তখনই বর্তমান সময়ে মুসলমানরা জ্ঞানের জগতে সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে। পৃথিবীর বুকে মুসলমানদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তবে সবকিছু করতে হবে একমাত্র দ্বীনের স্বার্থে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। আমাদের সালাফ তাদের যুগের সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। তবে তারা এগুলো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই শিখেছিলেন। দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করা কখনো তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 দৃষ্টিভঙ্গির বাতায়ন উন্মুক্ত রাখে

📄 দৃষ্টিভঙ্গির বাতায়ন উন্মুক্ত রাখে


প্রকৃত মুসলমান নির্দিষ্ট একটি সাবজেক্ট নিয়েই পড়ে থাকে না। বরং দৃষ্টিভঙ্গি ও বুদ্ধিকে আরও প্রসারিত করার চেষ্টা করে। এজন্য বিভিন্ন বই, গবেষণা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ম্যাগাজিন ইত্যাদি অধ্যয়ন করে। বিশেষ করে তার সাবজেক্টের জন্য সহায়ক বিষয়গুলো অধ্যয়নের প্রতি মনোযোগী হয়। এতে তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও ইলমি যোগ্যতা শাণিত হয়।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 ভিনদেশি ভাষা শিক্ষা করে

📄 ভিনদেশি ভাষা শিক্ষা করে


প্রকৃত মুসলমান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ভিনদেশি ভাষাও আয়ত্ত করে। কেননা, ইসলামি সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ও আধুনিক যুগে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা বিশ্বের সকল মানুষের সামনে স্পষ্ট করার জন্য ভিনদেশি ভাষা আয়ত্ত করার বিকল্প নেই। পনেরো শতাব্দী পূর্বে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ ভিনদেশি ভাষা শেখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, যেন বিভিন্ন জাতি ও ভাষার লোকদের সাথে মুসলমানরা যোগাযোগ করতে পারে এবং সত্য দ্বীনের প্রতি তাদের আহ্বান করতে পারে।
এ সম্পর্কে জায়েদ বিন সাবিত বর্ণনা করেন:
أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَتَعَلَّمَ لَهُ كَلِمَاتٍ مِنْ كِتَابٍ يَهُودَ قَالَ: إِنِّي وَاللهِ مَا آمَنُ يَهُودَ عَلَى كِتَابٍ قَالَ: فَمَا مَرَّ بِي نِصْفُ شَهْرٍ حَتَّى تَعَلَّمْتُهُ لَهُ قَالَ: فَلَمَّا تَعَلَّمْتُهُ كَانَ إِذَا كَتَبَ إِلَى يَهُودَ كَتَبْتُ إِلَيْهِمْ، وَإِذَا كَتَبُوا إِلَيْهِ قَرَأْتُ لَهُ كِتَابَهُمْ.
'রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে ইহুদিদের চিঠিপত্রের ভাষা শেখার জন্য আদেশ করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি চিঠিপত্রের ব্যাপারে ইহুদিদের কথার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছি না। জায়েদ বলেন, অতঃপর আমি তা পনেরো দিন যেতে না যেতেই পুরো ভাষা শিখে ফেললাম। ভাষা শেখার পর থেকে যখন রাসুলুল্লাহ ইহুদীদের নিকট কোনো পত্র পাঠাতে চাইতেন, আমি তা লিখে দিতাম এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো পত্র আসলে তা তাঁকে পড়ে বুঝিয়ে দিতাম।'১০৮
অন্য বর্ণনায় এসেছে :
قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتُحْسِنُ السُّرْيَانِيَّةَ؟» فَقُلْتُ: لَا. قَالَ: «فَتَعَلَّمْهَا، فَإِنَّهُ يَأْتِينَا كُتُبُ فَتَعَلَّمْتُهَا فِي سَبْعَةَ عَشَرَ
'রাসুলুল্লাহ আমাকে বললেন, তুমি কি সুরিয়ানি ভাষা জানো? আমি বললাম, না, জানি না। তিনি বললেন, তাহলে শিখে নাও। কারণ, আমার নিকট এ ভাষার অনেক পত্র আসে। এরপর আমি সতেরো দিনের মধ্যে সুরিয়ানি ভাষা শিখে নিলাম।'১০৯
আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর অনেক ভাষার পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর একজন গোলাম ছিল। প্রত্যেকই আলাদা আলাদা ভাষায় কথা বলত। ইবনে জুবাইর প্রত্যেকের সাথে তাদের ভাষায় কথা বলতেন। এই ভাষাগুলো শিখতে গিয়ে তাঁর দ্বীনের কোনোরূপ ক্ষতি হয়নি। আপনি হয়তো বলতে পারেন, এ লোকটার পুরো জীবন হয়তো বিদেশি ভাষা শেখার পেছনেই ব্যয়িত হয়েছে। আখিরাতের জন্য হয়তো কিছুই করার সময় পাননি। কিন্তু যখন তাঁর জীবনী খুলে দেখবেন, তখন দেখতে পাবেন, এ মহান মনীষী তাঁর পুরো জীবন আখিরাতের কাজে ব্যয় করেছেন। তাঁর জীবনের একটি সেকেন্ডও দুনিয়ার জন্য ব্যয়িত হয়নি।'১১০
আধুনিক যুগের মুসলমানদের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি ভিনদেশি ভাষা শিখে নেওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ, ভিনদেশি ভাষার বিভিন্ন বই-পুস্তকে অনেক খারাপ খারাপ কথা লেখা হচ্ছে। সে একই ভাষায় এসবের প্রতিরোধ করতে হলে মুসলমানদের ভিনদেশি ভাষা শেখার বিকল্প নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00