📄 তার খানাপিনা সুষম ও পরিমিত
প্রকৃত মুসলমান নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান থাকে। তাই সে সুষম ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করে। অধিক খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে নিক্ষেপ করে না।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এ নির্দেশই দিয়েছেন :
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
'খাও, পান করো এবং অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়কারীদের পছন্দ করেন না। '৬৯
সুষম ও পরিমিত খাবার গ্রহণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَا مَلَأَ آدَمِيُّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ. بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتُ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثُ لِطَعَامِهِ وَثُلُثُ لِشَرَابِهِ وَثُلُثُ لِنَفْسِهِ.
'মানুষ নিজের পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। তবে একান্তই যদি পেট পূর্ণ করতে হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবার ও এক-তৃতীয়াংশ পানি দ্বারা পূর্ণ করবে; আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ খালি রাখবে।'৭০
উমর বিন খাত্তাব বলেন:
إياكم والبطنة في الطعام والشراب فإنها مفسدة للجسد مورثة للسقم مكسلة عن الصلاة وعليكم بالقصد فيها فإنه أصلح للجسد وأبعد من السرف وإن الله تعالى ليبغض الحبر السمين وإن الرجل لن يهلك حتى يؤثر شهوته على دينه
'পেটভর্তি খাবার থেকে বিরত থাকো। কেননা, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটা নানাবিধ রোগ সৃষ্টি করে এবং নামাজের ব্যাপারে উদাসীন করে রাখে। খানাপিনার ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। কেননা, তা শরীরের জন্য উপকারী, পাশপাশি তা অপব্যয় থেকেও বাঁচায়। তা ছাড়া আল্লাহ তাআলা অতিরিক্ত মোটা শরীরকে অপছন্দ করেন। মানুষ তখনই ধ্বংস হয়, যখন তার চাহিদা দ্বীনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।'৭১
প্রকৃত মুসলমান মাদকদ্রব্য সেবন করা থেকে বেঁচে থাকে। হারাম খাদ্য ও পানীয় থেকে দূরে থাকে। সকাল সকাল ঘুমায় এবং সকাল সকাল জেগে ওঠে। অসুস্থ না হলে কোনো ওষুধ সেবন করে না। কারণ, রুটিনমাফিক জীবনযাপনই তার স্বাস্থ্যের ভারসাম্য ধরে রাখে।
মুসলমান জানে যে, আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিনের চেয়ে শক্তিশালী মুমিন অধিক প্রিয়। তাই সে বিভিন্ন উপায়ে শরীরকে শক্তিশালী করা ও তা ধরে রাখার চেষ্টা করে।
📄 নিয়মিত ব্যায়াম করে
প্রকৃত মুসলমান সুস্থ ও শক্তিশালী শরীরের অধিকারী হয়ে থাকে। কারণ, সে নেশা ও মাদকজাতীয় হারাম পদার্থ থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং স্বাস্থ্য ও মনোযোগ বিনষ্টকারী বিভিন্ন খারাপ অভ্যাস থেকে বিরত থাকে। তবুও সে আরও অধিক শক্তি অর্জনের জন্য চেষ্টা-মেহনত করে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করে। এটাই যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর সকল জায়গায় প্রকৃত মুসলমানদের অভ্যাস।
📄 শরীর ও কাপড়চোপড় পরিচ্ছন্ন রাখে
প্রকৃত মুসলমান, যে মানুষের সামনে আদর্শ ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হতে চায়, তার শরীর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। প্রতিদিন সে গোসল করে। শরীরে সুগন্ধি মাখে। জুমআর দিনে এবং অন্যান্য বিশেষ দিনে উত্তমরূপে গোসল করে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন :
اغْتَسِلُوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْسِلُوا رُءُوسَكُمْ، وَإِنْ لَمْ تَكُونُوا جُنُبًا وَأَصِيبُوا مِنَ الطَّيبِ
'তোমরা জুনুবি বা অপবিত্র না হলেও জুমআর দিনে গোসল করবে, মাথা ধৌত করবে এবং শরীরে সুগন্ধি মাখবে।'৭২
গোসলের মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার রাখার প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ শক্তভাবে উদ্বুদ্ধ করার কারণে অনেক ইমাম জুমআর দিন গোসল করা ওয়াজিব বলেছেন।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: حَقُّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، أَنْ يَغْتَسِلَ فِي كُلِّ سَبْعَةِ أَيَّامٍ يَوْمًا يَغْسِلُ فِيهِ رَأْسَهُ وَجَسَدَهُ
'প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রতি সপ্তাহে একদিন মাথাসহ পুরো শরীর ধৌত করে গোসল করা আবশ্যক।'৭৩
প্রকৃত মুসলমান পোশাক-পরিচ্ছদ ও জুতা-স্যান্ডেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। শরীর ও কাপড়ে সুগন্ধি লাগায়। তা অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধময় হতে দেয় না।
উমর থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি তার এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ শুধু সুগন্ধির পেছনে ব্যয় করে, তাকে আমি অপচয়কারী বলি না।
প্রকৃত মুসলমান তার মুখ খুব পরিচ্ছন্ন রাখে। তার মুখ থেকে কষ্টদায়ক দুর্গন্ধ ছড়ায় না। এর জন্য সে প্রতিদিন মিসওয়াক ও ব্রাশের সাহায্যে দাঁত পরিষ্কার করে। দাঁতের আরও যত্ন নিতে বছরে অন্তত একবার দন্তবিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়। এ ছাড়াও মুখ, দাঁত ও শ্বাস-প্রশ্বাস ফ্রেশ রাখতে যথাসময়ে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আয়িশা সিদ্দিকা বলেন: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَرْقُدُ لَيْلًا وَلَا نَهَارًا فَيَسْتَيْقِظُ إِلَّا تَسَوَّكَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ
'নবিজি দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজুর পূর্বে মিসওয়াক করে নিতেন।'৭৪
মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তা রাসুলুল্লাহ-এর আরেকটি হাদিস থেকেও বুঝা যায়।
তিনি বলেন:
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ - وَفِي حَدِيثِ زُهَيْرٍ عَلَى أُمَّتِي - لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ
'আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন হওয়ার ভয় না করতাম, তাহলে প্রতি নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করা আবশ্যক করে দিতাম।'৭৫
শুরাইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
سَأَلْتُ عَائِشَةَ، قُلْتُ: بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ: بِالسَّوَاكِ
'আমি আয়িশা -কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবিজি ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে কোন কাজটি করেন? তিনি উত্তর দিলেন, মিসওয়াক।'৭৬
বতর্মান সময়ে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও অনেক মুসলমানই এ বিষয়টিকে মোটেও গুরুত্ব দেয় না। তারা মুখ, শরীর, কাপড় কোনো কিছুই পরিষ্কার রাখে না। তারা মসজিদে, ওয়াজ-মাহফিলে এবং জিকিরের হালকায় সোৎসাহে যোগদান করে, কিন্তু তাদের শরীর থেকে ছড়ানো পচা দুর্গন্ধ উপস্থিত লোকদের পীড়া দেয় এবং এসব পবিত্র স্থান থেকে ফেরেশতাদের তাড়িয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা আবার পেঁয়াজ, রসুন খেয়ে মসজিদে না আসার হাদিসটিও খুব গুরুত্ব সহকারে বয়ান করে!
রাসুলুল্লাহ বলেন:
مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالقُومَ وَالْكُرَّاثَ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَنَّى مِمَّا يَتَأَنَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ
‘যে ব্যক্তি পেঁয়াজ, রসুন বা গো-রসুন (এক প্রকার বন্য পেঁয়াজ বা রসুন) খাবে, সে যেন আমার মসজিদের কাছেও না আসে। কেননা, মানুষ যেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও সেসব জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়।’৭৭
রাসুলুল্লাহ ﷺ কতিপয় দুর্গন্ধযুক্ত সবজি খেয়ে মসজিদে আসতে বারণ করেছেন, যেন ফেরেশতা ও মানুষদের কষ্ট না হয়। অথচ এগুলোর দুর্গন্ধ পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন লোকদের মুখ, শরীর ও কাপড় থেকে যে দুর্গন্ধ ছড়ায় তার চেয়ে অনেক কম। তাহলে এসব দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে আসা কী করে একজন মুসলমানের শান হতে পারে?
মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে নাসায়িতে জাবির থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرًا فِي مَنْزِلِنَا، فَرَأَى رَجُلًا شَعِئًا، فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ رَأْسَهُ، وَرَأَى رَجُلًا عَلَيْهِ ثِيَابُ وَسِخَةٌ، فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يَغْسِلُ بِهِ ثِيَابَهُ
‘একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের দেখতে বাসায় এলেন। সেখানে আলুথালু কেশবিশিষ্ট এক ব্যক্তিকে দেখে বললেন, তার চুলগুলো পরিপাটি করে রাখার মতো কি কিছুই নেই? আর ময়লাযুক্ত কাপড় পরিহিত আরেকজনকে দেখে বললেন, তার কাপড় ধোয়ার জন্য কি কিছুই নেই!?’৭৮
ধোয়া ও পরিষ্কার করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ময়লাযুক্ত কাপড় পরিধান করে লোকসমক্ষে আসাকে রাসুলুল্লাহ ﷺ অপছন্দ করেছেন। তাই প্রকৃত মুসলমান হতে হলে অবশ্যই কাপড়-চোপড় পরিষ্কার থাকা চাই।
মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ - أَوْ مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدْتُمْ - أَنْ يَتَّخِذَ ثَوْبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ، سِوَى ثَوْنِيْ مِهْنَتِهِ
'তোমাদের কেউ বা তোমরা যদি সচরাচর পরিহিত কাপড় ছাড়া জুমআর দিন পরার জন্য পৃথক একজোড়া কাপড় সংগ্রহ করতে পারো, তবে তাই করো। '৭৯
একাধিক হাদিসে ইসলাম তার অনুসারীদের দেহ ও কাপড় পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধময় করে রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। মুসলমানের শরীর ও কাপড় পরিষ্কার থাকবে এবং সুগন্ধি ছড়াবে—এটাই ইসলামের চাওয়া। রাসুলুল্লাহ এমনই ছিলেন।
সহিহ মুসলিমে আনাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন : مَا شَمَمْتُ عَنْبَرًا قَطُّ، وَلَا مِسْكًا، وَلَا شَيْئًا أَطْيَبَ مِنْ رِيحِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
'আমি রাসুলুল্লাহ -এর ঘ্রাণের মতো সুগন্ধি আম্বর ও মিশকেও পাইনি। '৮০
রাসুলুল্লাহ -এর শরীর ও কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা এবং শরীরের সুগন্ধি- সম্পর্কিত হাদিসের সংখ্যা অনেক। যেমন এক হাদিসে আছে, তিনি কারও সাথে মুসাফাহা করলে সারাদিন তার হাতে রাসুলুল্লাহ -এর সুগন্ধি লেগে থাকত। কোনো বাচ্চার মাথায় হাত রাখলে অন্যান্য বাচ্চার মাঝে ওই বাচ্চাকে সুন্দর সুগন্ধির কারণে আলাদাভাবে পার্থক্য করা যেত।
ইমাম বুখারি তাঁর 'আত-তারিখুল কাবির'-এ জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ কোনো রাস্তা দিয়ে হাঁটলে সে রাস্তা সুগন্ধময় হয়ে থাকত। তাঁর যাওয়ার পরে ওই রাস্তা দিয়ে কেউ হাঁটলে সুগন্ধির কারণে বুঝতে পারত, এখান দিয়ে রাসুলুল্লাহ হেঁটে গেছেন।
আনাস বলেন:
دَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عِنْدَنَا، فَعَرِقَ، وَجَاءَتْ أُمِّي بِقَارُورَةٍ، فَجَعَلَتْ تَسْلِتُ الْعَرَقَ فِيهَا، فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هَذَا الَّذِي تَصْنَعِينَ؟ قَالَتْ: هَذَا عَرَقُكَ تَجْعَلُهُ فِي طِيبِنَا، وَهُوَ مِنْ أَطْيَبِ الطَّيبِ
'একদিন নবিজি আমাদের বাড়িতে এসে দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ করলেন। তাঁর ঘাম বের হলে আমার মা এসে সে ঘام একটি বোতলে ভরতে লাগলেন। নবিজি জাগ্রত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে উম্মে সুলাইম, এ তুমি কী করছ? তিনি উত্তরে বললেন, এই যে আপনার ঘাম, এটা আমরা সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহার করব। আর এটা হলো সর্বোত্তম সুগন্ধি। '৮১
রাসুলুল্লাহ ইসলাম-নির্দেশিত পন্থায় চুলের যত্ন নিতে এবং পরিপাটি করে রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।
সুনানে আবু দাউদে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرُ فَلْيُكْرِمْهُ
'যার চুল আছে, সে যেন চুলের যত্ন নেয়। ৮২
ইসলামে চুলের যত্ন নেওয়ার অর্থ হলো, পরিষ্কার, পরিপাটি, সুগন্ধযুক্ত এবং দেখতে সুন্দর লাগে-এমন করে রাখা।
চুল এলোমেলো করে রাখাকে রাসুলুল্লাহ অপছন্দ করতেন। শয়তানের সদৃশ বলে অভিহিত করতেন।
ইমাম মালিক আতা বিন ইয়াসার থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন :
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ، فَدَخَلَ رَجُلٌ ثَائِرَ الرَّأْسِ وَاللَّحْيَةِ، فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ أَنِ اخْرُجْ - كَأَنَّهُ يَعْنِي إِصْلَاحَ شَعَرِ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ - فَفَعَلَ الرَّجُلُ، ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَيْسَ هَذَا خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْتِي أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَانٌ
'রাসুলুল্লাহ মসজিদে ছিলেন। এমন অবস্থায় এলোমেলো চুল- দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। রাসুলুল্লাহ হাতের ইশারায় চুল-দাড়ি ঠিক করে আসতে বললেন। লোকটি ফিরে গিয়ে ঠিক করে আসলো। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, শয়তানের মতো এলোমেলো চুল নিয়ে আসার চেয়ে এমন (পরিপাটি) অবস্থায় আসা উত্তম নয় কি?'৮৩
শয়তানের সাথে উপমা দেওয়া থেকে বুঝা গেল, উত্তম ও সুন্দর বেশভূষা নিয়ে থাকা ইসলামের শিক্ষা ও দাবি। রাসুলুল্লাহ বাহ্যিক সৌন্দর্য ও বেশভূষার প্রতি খুব গুরুত্ব দিতেন। দেখতে অসুন্দর ও এলোমেলো চুলের কাউকে দেখলে ঠিক করে নেওয়ার নির্দেশ দিতেন।
মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে নাসায়িতে জাবির থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:
أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرًا فِي مَنْزِلِنَا، فَرَأَى رَجُلًا شَعِئًا، فَقَالَ: أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ رَأْسَهُ
'একদিন রাসুলুল্লাহ আমাদের দেখতে বাসায় এলেন। এখানে আলুথালু কেশবিশিষ্ট এক ব্যক্তিকে দেখে বললেন, এই ব্যক্তির চুলগুলো পরিপাটি করে রাখার মতো কি কিছুই নেই!?'৮৪
📄 তার বাহ্যিক অবয়ব সুন্দর
প্রকৃত মুসলমান পোশাক-আশাক ও বাহ্যিক অবয়ব সুন্দর রাখার প্রতি খুবই যত্নবান থাকে। এজন্য সাজগোজে কোনোরূপ সীমালঙ্ঘন ও অপচয় করা ছাড়াই তাকে দেখলে চোখ জুড়ায় এবং মনে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব হয়। দেখতে অসুন্দর এবং বিশ্রী বেশভূষা নিয়ে সে মানুষের সামনে আসে না। সুন্দর ও পরিপাটি বেশ নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘরের ভেতর তো উত্তম বেশভূষা নিয়ে থাকতেনই, সাহাবিদের সামনে আসার সময় আরও উত্তম বেশে বের হতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ
'আপনি বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে!?'৮৫
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবি বলেন :
كَانَ نَفَرُ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْتَظِرُونَهُ عَلَى الْبَابِ، فَخَرَجَ يُرِيدُهُمْ، وَفِي الدَّارِ رَكْوَةٌ فِيهَا مَاءُ، فَجَعَلَ يَنْظُرُ فِي الْمَاءِ وَيُسَوِّي لِحْيَتَهُ وَشَعْرَهُ. فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَأَنْتَ تَفْعَلُ هَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ إِلَى إِخْوَانِهِ فَلِيُهَيِّئْ مِنْ نَفْسِهِ فَإِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ.
'মাকহুল আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কয়েকজন সাহাবি দরজার সামনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাদের কাছে আসার সময় তিনি একটি পানিভর্তি পাত্রে চেহারা দেখে চুল ও দাড়ি ঠিক করে নিলেন। আমি বললাম, আপনিও এমন করতে গেলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মানুষ যখন তার বন্ধুদের নিকট যাওয়ার ইচ্ছা করে, তখন নিজের বেশভূষা একটু সুন্দর করে নেওয়া উচিত। কেননা, আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং সৌন্দর্যকে তিনি ভালোবাসেন। '৮৬
উল্লিখিত সকল বিষয়ে মুসলমান মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। অর্থাৎ ইফরাত (সীমালঙ্ঘন) ও তাফরিত (শিথিলতা) এর মাঝামাঝি থাকে। যেমনটি কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে : وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا
'আর তারা (মুমিনরা) যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। ৮৭
ইসলাম সাধারণভাবে তার সকল অনুসারী থেকে এবং বিশেষভাবে দায়িদের থেকে কামনা করে যে, তারা যেন সমাজে এমনভাবে চলে, যাতে লোকজন তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। দেখতে অসুন্দর লাগে এবং মন খারাপ হয়ে যায়- এমন বেশে চলাচল করতে নিষেধ করে। বুজুর্গি ও বিনম্রতার নাম দিয়ে জীর্ণশীর্ণ ও বিশ্রী পোশাকে চলাচল করা ইসলাম সমর্থন করে না। কেননা, বুজুর্গদের সর্দার এবং নম্রতার মূর্তপ্রতীক রাসুলুল্লাহ সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। ঘরে ও বাইরে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। তা ছাড়া সুন্দর বেশে থাকা মানে আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশ করা।
হাদিস শরিফে আছে : إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ يَرَى أَثَرَ نِعْمَتِهِ عَلَى عَبْدِهِ
'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বান্দার মাঝে তাঁর নিয়ামতের চিহ্ন দেখতে ভালোবাসেন। '৮৮
তাবাকাতে ইবনে সাদে জুনদুব বিন মাকিস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَدِمَ الْوَفْدُ لَبِسَ أَحْسَنَ ثِيَابِهِ، وَأَمَرَ عِلْيَةَ أَصْحَابِهِ بِذَلِكَ. فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ قَدِمَ وَقْدُ كِنْدَةً وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ يَمَانِيَةٌ، وَعَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ مِثْلُ ذَلِكَ
'রাসুলুল্লাহ -এর নিকট কোনো প্রতিনিধিদল আসলে তিনি সর্বোত্তম পোশাক পরতেন এবং শীর্ষস্থানীয় সাহাবিদেরকেও তা পরার আদেশ করতেন। কিন্দার প্রতিনিধিদল যেদিন এসেছিল, সেদিন রাসুলুল্লাহ -কে আমি ইয়ামানি কাপড় পরা অবস্থায় দেখেছি। আবু বকর ও উমর-ও সেদিন অনুরূপ ইয়ামানি পোশাক পরেছিলেন। '৮৯
ইবনে মুবারক, তাবারানি, হাকিম প্রমুখ মুহাদ্দিসিনে কিরাম বর্ণনা করেন:
أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ دَعَا بِقَمِيصِ لَهُ جَدِيدٍ فَلَبِسَهُ فَلَا أَحْسِبُ بَلَغَ تَرَاقِيَهُ حَتَّى قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي ثُمَّ قَالَ: أَتَدْرُونَ لِمَ قُلْتُ هَذَا؟ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا بِثِيَابٍ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا قَالَ: فَلَا أَحْسِبُهَا بَلَغَتْ تَرَاقِيَهُ حَتَّى قَالَ مِثْلَ مَا قُلْتُ
'উমর নতুন একটি জামা এনে পরতে লাগলেন। আমার ধারণা, যখন জামা গলার হাড় পর্যন্ত আসলো, তখন বললেন: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي ( كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي، وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي আল্লাহর, যিনি আমাকে এমন পোশাক পরিধান করিয়েছেন, যা দ্বারা আমার সতর আবৃত করি এবং আমার চলাফেরায় সৌন্দর্য অবলম্বন করি।) এরপর বললেন, তোমরা জানো, আমি কেন এটা বললাম? আমি রাসুলুল্লাহ-কে নতুন কাপড় এনে পরতে দেখেছি। কাপড় যখন তাঁর গলা মুবারকের হাড় পর্যন্ত আসলো, তখন তিনি আমি যে দুআটি পড়লাম, সে দুআটি পড়লেন। '৯০
তাবাকাতে ইবনে সাদে বর্ণিত হয়েছে:
كَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَلْبَسُ الْبُرْدَ أَوِ الْخُلَّةَ تُسَاوِي خَمْسُمِائَةٍ أَوْ أَرْبَعُمِائَةٍ
'আব্দুর রহমান বিন আওফ ডোরাকাটা চাদর পরিধান করতেন, যার মূল্য ছিল চারশ বা পাঁচশ দিরহাম। '৯১
উসমান বিন আবু সুলাইমান বর্ণনা করেন :
أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ اشْتَرَى ثَوْبًا بِأَلْفِ دِرْهَمٍ فَلَبِسَهُ
'আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এক হাজার দিরহাম দিয়ে একটি কাপড় ক্রয় করে পরিধান করেছিলেন। '৯২
সৌন্দর্য ও সাজগোজ যতক্ষণ পর্যন্ত শরিয়া-নির্ধারিত সীমানা ক্রস করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তা বৈধ ও উত্তম। কারণ, আল্লাহ তাআলা সৌন্দর্য অবলম্বন করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন : يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ - قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
'হে বনি-আদম, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা গ্রহণ করো। খাও, পান করো এবং অপব্যয় কোরো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়কারীদের পছন্দ করেন না। আপনি বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে!? আপনি বলুন, এসব নিয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন বিশেষভাবে কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত। এমনিভাবে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি।'৯৩
সহিহ মুসলিমে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ قَالَ رَجُلٌ: إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَنًا وَنَعْلُهُ حَسَنَةً، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ، الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ، وَغَمْطُ النَّاسِ
'যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বললেন, কোনো ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, তার পোশাক সুন্দর হোক এবং জুতোজোড়াও খুব সুন্দর হোক! (তাহলে সেটাও কি অহংকার বলে বিবেচিত হবে?) তিনি বললেন, আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে, সত্য ও ন্যায়কে উপেক্ষা করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।'৯৪
সাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের অনুসারীগণ ইসলামের এ নির্দেশনা যথাযথ ভাবে মেনে চলেছেন। ইমাম আবু হানিফা উত্তম ও সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন। তাঁর শরীর থেকে আতরের সুরভি ছড়াত। ছাত্র ও ভক্তদেরও তিনি উত্তম ও সুন্দর পোশাক পরিধান করে সুন্দর বেশে থাকার নির্দেশ দিতেন।
একদিন ইমাম আবু হানিফা ؒ তাঁর দরসে এক লোককে জীর্ণ পোশাকে বসতে দেখলে তিনি তাকে এক হাজার দিরহাম দান করলেন, যেন সে তার বেশভূষা ঠিক ও সুন্দর করে নিতে পারে। লোকটি তাঁকে বলল, আমি সচ্ছল। আল্লাহ আমাকে নিয়ামত দান করেছেন। আমার এই টাকার প্রয়োজন নেই। তখন আবু হানিফা ؒ তাকে ভর্ৎসনা করে বললেন, তাহলে তুমি কি এ হাদিস শোনোনি যে, "আল্লাহ তাআলা বান্দার মাঝে তাঁর নিয়ামতের নিদর্শন দেখতে ভালোবাসেন?" তোমার অবশ্যই এ জীর্ণ বেশ পরিবর্তন করা উচিত। যেন তোমাকে দেখে তোমার সাথিদের মন খারাপ হয়ে না যায়।
আল্লাহর পথে যারা আহ্বান করে, তাদের বেশভূষা অন্য সাধারণ মুসলমানের চেয়ে উত্তম ও সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। যাতে লোকেরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তাদের দাওয়াতি কথা তাদের অন্তরে ভালোভাবে গেঁথে যায়।
আল্লাহর দ্বীনের দায়িদের অবশ্যই বাহ্যিক অবয়ব সুন্দর করার প্রতি যত্নবান হতে হবে। তাদের শরীর, পোশাক, নখ, চুল সব সময় পরিষ্কার থাকা চাই। একাকী থাকাবস্থায়ও এগুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে। কেননা, এটাই সুস্থ মানসিকতা ও পরিচ্ছন্ন রুচির দাবি।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
الْفِطْرَةُ خَمْسٌ - أَوْ خَمْسُ مِنَ الْفِطْرَةِ - الْخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَتَقْلِيمُ الْأَطْفَارِ، وَنَتْفُ الْإِبِطِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ
'পাঁচটি বিষয় স্বভাবজাত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। খতনা করা, নাভির নিচের চুল মুণ্ডানো, বগলের নিচের চুল উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ কাটা।'৯৫
তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, সাজসজ্জা বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা যাবে না। অতিরিক্ত ফ্যাশনপ্রিয়তা ও প্রয়োজনাতিরিক্ত সাজসজ্জার পেছনে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করে ফেলা ইসলামে নিষিদ্ধ।
এ সম্পর্কে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে:
تَعِسَ عَبْدُ الدِّيْنَارِ، وَالدِّرْهَمِ، وَالْقَطِيفَةِ، وَالخَمِيصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَّمْ يُعْطَ لَمْ يَرْضَ
'দিনার, দিরহাম, মখমলের কাপড় ও চাদরের গোলাম (অর্থাৎ পার্থিব সম্পদ ও বিলাসিতা কামনাকারী ব্যক্তি) ধ্বংস হোক! তাকে দেওয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়।'৯৬
যারা আল্লাহর দ্বীনের প্রতি লোকদের দাওয়াত দেয়, তাদের বিশেষভাবে উল্লিখিত সকল বিষয়ে ইসলাম-নির্দেশিত মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে।