📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 উত্তমরূপে নামাজ পড়ে

📄 উত্তমরূপে নামাজ পড়ে


প্রকৃত মুসলমান তার সকল নামাজ উত্তমরূপে আদায় করে। নামাজের সকল শর্ত পুরোপুরিভাবে আদায় করে। মনোযোগ অন্যদিকে রেখে কোনোমতে শুধু কিয়াম, রুকু ইত্যাদি করে নামাজ শেষ করে দেয় না।
নামাজ শেষ করার সাথে সাথে সে পার্থিব কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে না; বরং হাদিস শরিফে নামাজের পরে যেসব ইসতিগফার, আজকার ও তাসবিحات নির্ধারিত আছে, সেগুলো গুরুত্ব সহকারে পাঠ করে। তারপর আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও হিদায়াতের জন্য দুআ করে। এজন্য নামাজ তার অন্তরের প্রশান্তি ও পরিশুদ্ধির কারণ হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ
'নামাজের মাঝে আমার চোখের স্নিগ্ধতা রাখা হয়েছে। '৩২ এ কারণে প্রকৃত নামাজি ব্যক্তিগণ আল্লাহর নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত থাকেন। তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে থাকেন। ফলে তাদের যখন অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন অস্থির হন না এবং যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হন, তখন কৃপণ হয়ে যান না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا إِلَّا الْمُصَلِّينَ
'যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামাজ আদায়কারী। '৩৩

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 জাকাত আদায় করে

📄 জাকাত আদায় করে


প্রকৃত মুসলমানের ওপর যখন জাকাত ওয়াজিব হয়, তখন পূর্ণ আমানতদারিতা ও তাকওয়ার সহিত শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত খাতে জাকাত আদায় করে দেয়। জাকাতের পরিমাণ যদি মিলিয়ন-বিলিয়ন সম্পদও হয়, তবুও জাকাত আদায় করতে কোনো ধরনের গড়িমসি করে না।
এর কারণ হলো, জাকাত প্রদান করা সম্পদভিত্তিক ফরজ ইবাদত। সত্যিকারের কোনো মুসলমান এ ফরজ ইবাদত আঞ্জাম না দিয়ে থাকতে পারে না। কোনো মুসলমান যদি জাকাত আদায় করতে গড়িমসি করে, তাহলে বুঝতে হবে তার দ্বীনের মধ্যে ত্রুটি আছে। তার মনে কার্পণ্যের বিষবাষ্প আছে। জাকাত প্রদান করা কত যে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, তা জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী লোকদের বিরুদ্ধে কিতাল বা যুদ্ধের বিধান থেকে সহজে অনুমান করা যায়। তাদের সম্পর্কে আবু বকর বলছিলেন, 'আল্লাহর কসম! নামাজ ও জাকাতের মধ্যে যারা পার্থক্য করে, তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই কিতাল করব।'৩৪
আবু বকর -এর শপথ প্রমাণ করে, ইসলামে জাকাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং প্রকাশ্যে কায়েম করার ক্ষেত্রে নামাজের সাথে তার দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এজন্যই হয়তো পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় জাকাতের আলোচনা নামাজের সাথে একত্রে এসেছে।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ 'যারা নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে।'৩৫
অন্য আয়াতে তিনি বলেন: وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ 'আর নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো।'৩৬
অন্যত্র তিনি বলেন:
وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ 'আর তারা নামাজ কায়েম করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে।'৩৭

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 রমজান মাসে রোজা রাখে এবং রাতে কিয়াম করে

📄 রমজান মাসে রোজা রাখে এবং রাতে কিয়াম করে


প্রকৃত মুসলমান পূর্ণ বিশ্বাসের সহিত সাওয়াব পাওয়ার আশা নিয়ে রমজান মাসে রোজা রাখে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ 'যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সাওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।'৩৮
এ ছাড়াও সে রোজার সকল হক যথাযথ আদায় করে। অর্থাৎ জিহ্বার হিফাজত করার সাথে সাথে অন্য সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে রোজাবিধ্বংসী বা রোজার সাওয়াব বিনষ্টকারী সকল কর্ম থেকে বিরত রাখে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُتْ وَلَا يَصْخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمُ 'আর যখন তোমাদের কারও রোজার দিন আসে, তখন যেন সে অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে বিবাদ করতে চায়, সে যেন বলে, আমি একজন রোজাদার।'৩৯
অন্য হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন:
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
'যে (রোজা রাখার পরেও) মিথ্যা কথা বা মিথ্যা কর্ম ছাড়তে পারেনি, আল্লাহ তাআলার জন্য তার খানাপিনা ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। '৪০
প্রকৃত রোজাদার মুসলমান রমজান মাসটিকে অন্য এগারো মাসের মতো কাটায় না। কারণ, এটা যে রোজার মাস, যে রোজার বদলা আল্লাহ নিজেই প্রদান করবেন! আর মহাধনী ও মহান নিয়ামতদাতা আল্লাহ তাআলা যে প্রতিদান নিজেই প্রদান করবেন, সেটা যে কত উত্তম হবে, তা কল্পনাতীত ব্যাপার!
হাদিস শরিফে ইরশাদ হচ্ছে:
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَة ضِعْفٍ، قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
'মানবসন্তানের প্রতিটি নেক কাজের সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "কিন্তু রোজা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিফল দান করব। বান্দা আমারই জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।” রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি তার ইফতারের সময় এবং অপরটি তার প্রতিপালক আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়। '৪১
এজন্য সচেতন মুসলমানের জন্য এ পবিত্র মাসটিকে অধিক মূল্যায়ন করা অপরিহার্য। পুরো মাসটিকে নেক আমল দ্বারা পরিপূর্ণ করা চাই। দিনে রোজা, নামাজ, তিলাওয়াত, সদকাসহ বিভিন্ন ইবাদতে লেগে থাকা এবং রাতে তারাবিহ, তাহাজ্জুদ ও দুআয় মশগুল থাকা চাই।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ 'যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সহিত সাওয়াবের আশা নিয়ে রমজানে কিয়াম করবে (অর্থাৎ রাতে তারাবিহ নামাজ আদায় করবে), তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। '৪২
রাসুলুল্লাহ অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে বেশি ইবাদত করতেন। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে অধিক হারে নেক আমল করতেন।
আয়িশা সিদ্দিকা বলেন: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ، مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ 'রাসুলুল্লাহ রমজান মাসে ইবাদতের জন্য যে কঠোর সাধনা করতেন, অন্য মাসসমূহে এতটা করতেন না। আর রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের জন্য যে কঠোর সাধনা করতেন, (রমজানের) অন্যান্য দিনে এতটা করতেন না। '৪৩
অপর হাদিসে আয়িশা থেকে বর্ণিত আছে: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ، أَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَجَدَّ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ
'রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ নিজে সারারাত ইবাদতে কাটাতেন এবং পরিবারের লোকদেরও ঘুম থেকে তুলে দিতেন। (ইবাদতের জন্য) এ সময় তিনি কঠোর মেহনত করতেন এবং কোমর বেঁধে নিতেন। (অর্থাৎ ইবাদতে একদম মগ্ন হয়ে যেতেন।) '৪৪
রাসুলুল্লাহ রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করার এবং সে রাতে ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي العَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
'তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো। '৪৫
অপর হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন :
تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوِتْرِ، مِنَ العَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
'তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো। '৪৬
লাইলাতুল কদরে ইবাদত করা সম্পর্কে তিনি ইরশাদ করেছেন :
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
'যে ব্যক্তি পূর্ণ ইমানের সাথে সাওয়াবের আশা নিয়ে লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। '৪৭
আসলে এ মুবারক মাসটি হলো খালিস ইবাদতের মাস। সত্যিকারের মুসলমানের জন্য এ মাসের কোনো একটি রাতও খেলাধুলা বা অহেতুক গল্পগুজবে কাটিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। অনেক সময় গল্প করতে করতে সাহরির সময় হয়ে যায়, তখন দুয়েক লুকমা খানা খেয়ে যেই বিছানায় গা এলিয়ে দেয়, অমনি চোখজুড়ে নেমে আসে রাজ্যের ঘুম। অথচ এদিকে ফজরের নামাজটি যে কাজা হয়ে যাচ্ছে, তার কোনো খবরই থাকে না! কিন্তু দ্বীনি জ্ঞানসম্পন্ন মুত্তাকি মুসলমান তারাবিহ নামাজের পর গল্পগুজবে লিপ্ত না হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং সাহরি খায়। তারপর ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে চলে যায়।
রাসুলুল্লাহ সাহরি খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা, তাতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। তিনি ইরশাদ করেছেন: تَسَخَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
'তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরির মধ্যে বরকত রয়েছে।'৪৮
সাহরির মধ্যে বরকত থাকার কারণ হলো, এর কারণে তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ হয় এবং ফজরের নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাআত সহকারে আদায় করার জন্য মন প্রস্তুত থাকে। তা ছাড়া সাহরি রোজা রাখার জন্য শরীরে শক্তি সঞ্চার করে। এজন্য রাসুলুল্লাহ এবং সাহাবায়ে কিরাম সাহরি খেতেন।
জাইদ বিন সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: تَسَخَّرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ، قُلْتُ: كَمْ كَانَ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالسَّحُورِ؟ قَالَ: قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً
'আমরা নবিজি -এর সাথে সাহরি খেলাম, তারপর নামাজে দাঁড়ালাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে বললাম, সাহরি আর নামাজের মাঝে কী পরিমাণ সময় ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পড়ার সময় পরিমাণ। '৪৯

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 নফল রোজা রাখে

📄 নফল রোজা রাখে


সচেতন ও মুত্তাকি মুসলমান রমজানের রোজা ছাড়া অন্যান্য নফল রোজাও গুরুত্ব সহকারে রাখে। যেমন: আরাফাত দিবসের রোজা, আশুরার (মুহাররমের দশম তারিখের) রোজা, তাসুআর (মুহাররমের নবম তারিখের) রোজা ইত্যাদি। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী এ রোজাগুলো রাখলে গুনাহ ক্ষমা করা হয়।
আবু কাতাদা ﷴ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে আরাফাত দিবসের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন :
يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ
'এটি বিগত ও চলমান বছরের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়।'৫০
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ﷴ বর্ণনা করেন :
صَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَاشُورَاءَ، وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ
'নবিজি ﷺ আশুরার দিনে রোজা রেখেছেন এবং (সাহাবিদেরও) রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।'৫১
আবু কাতাদা ﷴ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمٍ عَاشُورَاءَ؟ فَقَالَ: يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ
'রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এটি বিগত বছরের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়।'৫২
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস ﷴ বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ
'আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তাহলে (আশুরার রোজার সাথে) মুহাররমের নবম তারিখেও রোজা রাখব।'৫৩
নফল রোজার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রোজা হলো, শাওয়ালের ছয় রোজা। এ রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
'যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল।'৫৪
এ ছাড়াও প্রতিমাসে তিনটি রোজা রাখা মুসতাহাব।
আবু হুরাইরা বলেন :
أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثٍ: صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ
'আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন। এক. প্রতিমাসে তিনটি রোজা রাখা, দুই. চাশতের সময় দুই রাকআত নামাজ পড়া, তিন. ঘুমানোর পূর্বে বিতর পড়ে নেওয়া।'৫৫
আবু দারদা বলেন:
أَوْصَانِي حَبِيبِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثٍ، لَنْ أَدَعَهُنَّ مَا عِشْتُ: بِصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَصَلَاةِ الضُّحَى، وَبِأَنْ لَا أَنَامَ حَتَّى أُوتِرَ
'আমার বন্ধু রাসুলুল্লাহ আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, যা আমি জীবনেও ছাড়িনি। সেগুলো হলো, প্রতিমাসে তিনটি রোজা রাখা, চাশতের সময় নামাজ পড়া এবং বিতর পড়ার পূর্বে না ঘুমানো।'৫৬
আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন : صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ 'প্রতিমাসে তিনটি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমান। '৫৭
মাসের কোন তিনদিন রোজা রাখবে, এ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের কথা উল্লেখ আছে। এ দিনগুলোকে আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বল দিনসমূহ বলা হয়।
আবার বিভিন্ন হাদিস থেকে বুঝা যায়, রাসুলুল্লাহ অনির্দিষ্টভাবে মাসের যেকোনো তিনদিন রোজা রাখতেন।
যেমন মুআজা থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা-কে জিজ্ঞেস করলেন :
أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، فَقُلْتُ لَهَا مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ؟ قَالَتْ: لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ
'রাসুলুল্লাহ কি প্রতিমাসে তিনদিন রোজা রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন মুআজা প্রশ্ন করলেন, মাসের কোন তিনদিন তিনি রোজা রাখতেন? আয়িশা উত্তর দিলেন, মাসের কোন দিনে রোজা রাখছেন, তার কোনো পরোয়া করতেন না (অর্থাৎ যেকোনো তিন দিন রোজা রাখতেন)। '৫৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00