📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 প্রত্যাবর্তনকারী

📄 প্রত্যাবর্তনকারী


মুমিনের কলবেও কখনো কখনো অলসতা ও গাফিলতির ধুলোবালি জমে, ফলে তার পদস্খলন হয়। তখন বিচক্ষণ, আনুগত্যশীল, নম্র ও আল্লাহভীরু মুমিন দ্রুতই সতর্ক হয়ে যায়। গাফিলতির নিদ থেকে গা ঝাড়া দেয়।
অবহেলার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। এভাবে সে লজ্জিত, বিনম্র ও ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে আল্লাহর নিরাপত্তা ও হিফাজতের বেষ্টনীতে পুনরায় ফিরে আসে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفُ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ
'যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।'৭
তাই যে অন্তঃকরণ আল্লাহর ভালোবাসা ও তাকওয়া দ্বারা ভরপুর থাকে, সে অন্তঃকরণে গাফিলতি ও অবহেলা দেখা যায় না। পক্ষান্তরে যে অন্তঃকরণ আল্লাহর বিধান ও হিদায়াত থেকে বিমুখ থাকে, সে অন্তঃকরণে ছেয়ে থাকে গাফিলতির কালো আবরণ। প্রকৃত মুসলমানের অন্তঃকরণ সর্বদা ইসতিগফার ও তাওবায় মাশগুল থাকে এবং ইবাদত, হিদায়াত, তাকওয়া ও সন্তুষ্টির স্নিগ্ধতায় সিক্ত থাকে।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ফিকির করে

📄 সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ফিকির করে


প্রকৃত মুসলমান তার সকল কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করে। তার সকল পদক্ষেপ ও কর্মে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই উদ্দেশ্য থাকে। মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের ফিকির তার থাকে না; বরং অনেক সময় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে মানুষের অসন্তুষ্টি খুশিমনে বরণ করে নেয়।
এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَنِ التَمَسَ رِضَاءَ اللهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ، وَمَنِ التَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ
‘যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, মানুষের (অসন্তুষ্টির কারণে) ক্ষতিপূরণের জন্য আল্লাহ্-ই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে মানুষের কাছে সোপর্দ করে দেন।’
এজন্য আল্লাহ্ তাআলা বান্দার আমলসমূহ তাঁর সন্তুষ্টির মানদণ্ডে যাচাই করেন। যে সকল আমল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, সেগুলোর প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন এবং কবুল করেন নেন। আর যে সকল আমলে তাঁর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য ছিল না, সেগুলো কবুল করেন না। সকল আমলের ক্ষেত্রে এটাই মুসলমানের মানদণ্ড হওয়া চাই। অর্থাৎ তার সকল কথা ও কাজে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য হতে হবে। তখন সে কিছু বিষয়ে আল্লাহর আনুগত্য, কিছু বিষয়ে তাঁর নাফরমানি করতে পারবে না এবং কোনো বিষয়ে এক সময় হালাল, আরেক সময় হারাম মনে করবে না। কেননা, তাঁর নিয়ত ও উদ্দেশ্যের মাঝে যখন কোনো রূপ স্ববিরোধিতা থাকবে না, তখন তাঁর কথা ও কাজেও স্ববিরোধিতা থাকবে না।
বর্তমান সময়ে অনেক লোককে দেখা যায়, তারা মসজিদে এসে তাকওয়া ও খুশু-খুজুর সাথে নামাজ আদায় করে, কিন্তু অন্যদিকে বাজারে গিয়ে সুদি কাজ-কারবার করে; ঘর, রাস্তাঘাট, মাদরাসা, সভা-সমিতি ইত্যাদিতে নিজেদের মাঝে, স্ত্রীদের মাঝে এবং সন্তান-সন্ততি ও অধীনস্তদের মাঝে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করে না। তারা দ্বীনের আসল উদ্দেশ্য (আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন) অনুধাবন করতে অবহেলা করছে বা ব্যর্থতার শিকার হচ্ছে। ফলে সকল বিষয়ে সে নিজের ইচ্ছা ও সন্তুষ্টিকেই বিচারক মানছে। এভাবে মুসলমানেরা দ্বীন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যেতে যেতে এক সময় মুসলমান নামটাই কেবল বাকি থাকে। এই যে দ্বিমুখী কর্মতৎপরতা, অর্থাৎ দ্বীনের কিছু বিষয় গুরুত্ব সহকারে পালন করা আর বাকি বিষয়ের প্রতি চরম অবহেলা করা—এটাই বর্তমান সময়ে মুসলমানদের সবচেয়ে মারাত্মক রোগ।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 ফরজ, ওয়াজিব ও নফলসমূহ যত্ন সহকারে আদায় করে

📄 ফরজ, ওয়াজিব ও নফলসমূহ যত্ন সহকারে আদায় করে


প্রকৃত মুসলমান ইসলামের সকল ফরজ বিধান ও রুকনসমূহ পরিপূর্ণরূপে সুন্দরভাবে আদায় করে। এ ক্ষেত্রে কোনোরূপ শিথিলতা ও গড়িমসি করে না।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করে

📄 পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করে


সে সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। 'কেননা, নামাজ হলো দ্বীনের খুঁটি। যে সেটাকে কায়েম রাখে, সে দ্বীনকে কায়েম রাখে। আর যে তা পরিত্যাগ করে, সে দ্বীনকে পরিত্যাগ করে।' তা ছাড়া নামাজ হলো সবচেয়ে মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিস শরিফে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল সর্বোত্তম?' রাসুলুল্লাহ বললেন, 'সময়মতো নামাজ আদায় করা।' আমি বললাম, 'তারপর কোন আমল?' তিনি বললেন, 'মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা।' আমি বললাম, 'তারপর কোন আমল?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।'১০
নামাজ সর্বোত্তম আমল হওয়ার কারণ হলো, এটি আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করে। জীবনের বিভিন্ন ব্যস্ততা থেকে মানুষকে মুক্ত রেখে পূর্ণ মনোযোগ আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করে। এর মাধ্যমে আল্লাহর হিদায়াত ও সহযোগিতা লাভ করা যায় এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকা যায়। এ ছাড়াও নামাজের মধ্যে সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর অটল থাকার প্রার্থনা করা হয়।
নামাজ যে সবচেয়ে উত্তম ও সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ আমল, এ ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই। কেননা, নামাজ এমন এক জলপূর্ণ ঘাট, যেখান থেকে মুসলমান সহজেই তার পাথেয় তথা তাকওয়া অর্জন করে নিতে পারে। এমন এক স্বচ্ছ পানির ঝরনা, যার প্রবাহে গুনাহসমূহ ভাসিয়ে দেওয়া যায়।
এ সম্পর্কে আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرًا بِبَابٍ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ؟ قَالُوا : لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ. قَالَ: فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الخَطَايَا.
'যদি তোমাদের কারও দরজার সামনে একটি নদী থাকে আর সে ওই নদীতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকবে?' সাহাবায়ে কিরাম বললেন, 'না, কোনো ময়লা থাকবে না।' রাসুলুল্লাহ বললেন, 'পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ এমনই। এগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলা (বান্দার) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।'১১
জাবির থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন : مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ كَمَثَلِ نَهْرٍ جَارٍ، غَمْرٍ عَلَى بَابٍ أَحَدِكُمْ، يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ
'পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দৃষ্টান্ত তোমাদের কারও দরজার সামনে অবস্থিত প্রবহমান নদীর ন্যায়, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে।'১২
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنَ امْرَأَةٍ قُبْلَةً، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: {أَقِمِ الصَّلَاةَ [ص:١١٢] طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ} [هود: ١١٤] فَقَالَ الرَّجُلُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذَا؟ قَالَ: لِجَمِيعِ أُمَّتِي كُلِّهِمْ
'এক ব্যক্তি একটি মেয়েকে চুমু খেয়ে বসল। তখন সে নবিজি -এর নিকট এসে এ ব্যাপারে অবহিত করল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন, وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ (অর্থ : আর দিনের দুই প্রান্তেই নামাজ কায়েম করো এবং রাতের প্রান্তভাগে। নিশ্চয় পুণ্য কাজ পাপসমূহ দূর করে দেয়। [সুরা হুদ: ১১৪]) লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আয়াতের বিধান কি আমার জন্যও প্রযোজ্য হবে? রাসুলুল্লাহ বললেন, সকল উম্মতের জন্য প্রযোজ্য হবে।'১৩
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: ‎الصَّلَاةُ الْخَمْسُ، وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ، مَا لَمْ تُغْشَ ‎الْكَبَائِرُ
'পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এক ওয়াক্ত থেকে অপর ওয়াক্তের মাঝের গুনাহসমূহের জন্য এবং এক জুমআর নামাজ থেকে অপর জুমআর নামাজের মাঝখানের গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা, যতক্ষণ না সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। '১৪
উসমান বিন আফফান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
‎مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةُ مَكْتُوبَةً فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا ‎وَرُكُوعَهَا، إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ ‎الدَّهْرَ كُلَّهُ
'কোনো ফরজ নামাজের সময় আসার পর যে মুসলিম উত্তমরূপে অজু করে, আল্লাহভীরুতার সহিত উত্তমরূপে রুকু আদায় করে (নামাজ আদায় করবে), ওই নামাজ তার পূর্ববর্তী সময়ের কবিরা গুনাহ ব্যতীত সকল গুনাহের জন্য কাফফারা হবে। এভাবে সারাজীবন হতে থাকবে।'১৫
নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে এগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য হাদিস রয়েছে। সীমিত কলেবরে সবগুলো একত্র করা সম্ভবপর নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00