📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 অধীনস্থদের জিম্মাদারি অনুভবকারী

📄 অধীনস্থদের জিম্মাদারি অনুভবকারী


মুসলমানের পরিবারের কোনো সদস্য বা অধীনস্থ কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল -এর বিধানে কোনো অবহেলা বা শিথিলতা করে, তাহলে ওই মুসলমানকে জবাবদিহি করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন :
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
'তোমাদের প্রত্যেকই জিম্মাদার এবং প্রত্যেকই নিজের অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।'
সত্যিকারের মুসলমান এ জিম্মাদারি ও জবাবদিহি সম্পর্কে সচেতন থাকে। তাই অধীনস্থদের মধ্যে কেউ যদি দ্বীনের ব্যাপারে কোনোরূপ শিথিলতা দেখায়, তখন সে ধৈর্য ধরতে পারে না; বরং খুব দ্রুতই তা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সুতরাং কেউ যদি এ জিম্মাদারি ও দায়িত্ব আদায় করার ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করে, বুঝতে হবে তার ইমান, দ্বীন এমনকি তার পুরুষত্বেও দুর্বলতা আছে।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 আল্লাহর ফয়সালা ও ব্যবস্থাপনার প্রতি সন্তুষ্ট

📄 আল্লাহর ফয়সালা ও ব্যবস্থাপনার প্রতি সন্তুষ্ট


প্রকৃত মুসলমান আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকে। তার দৃষ্টিভঙ্গি এমনই হয়, যেমনটি রাসুলুল্লাহ হাদিসে ইরশাদ করেছেন।
তিনি বলেন :
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ، صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
'মুমিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক! তার সকল বিষয়ই কল্যাণকর। যদি তার সুসময় আসে, তখন শুকরিয়া আদায় করে; এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তার খারাপ সময় আসে, তখন সবর করে; এটাও তার জন্য কল্যাণকর।'৬
এর কারণ হলো, সত্যিকার মুসলমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা ইমানের অন্যতম রুকন বা আবশ্যকীয় বিষয়। সে বিশ্বাস করে, তাকদিরে যা লেখা আছে, তা ঘটবেই ঘটবে, তাকে বাধা দেওয়ার বা প্রতিহত করার সাধ্য কারও নেই। সে এটাও বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় সাওয়াব অর্জিত হয় এবং আনুগত্যশীল ও সফলকাম বান্দাদের তালিকাভুক্ত হওয়া যায়।
এই বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার সকল বিষয় কল্যাণকর হয়ে ওঠে। যখন তার সুসময় চলে, তখন সে মহান নিয়ামতদাতা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে থাকে। আর যখন দুর্দিন চলে, তখন আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। এভাবে উভয় অবস্থা তার জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠে।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 প্রত্যাবর্তনকারী

📄 প্রত্যাবর্তনকারী


মুমিনের কলবেও কখনো কখনো অলসতা ও গাফিলতির ধুলোবালি জমে, ফলে তার পদস্খলন হয়। তখন বিচক্ষণ, আনুগত্যশীল, নম্র ও আল্লাহভীরু মুমিন দ্রুতই সতর্ক হয়ে যায়। গাফিলতির নিদ থেকে গা ঝাড়া দেয়।
অবহেলার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। এভাবে সে লজ্জিত, বিনম্র ও ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে আল্লাহর নিরাপত্তা ও হিফাজতের বেষ্টনীতে পুনরায় ফিরে আসে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفُ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ
'যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে।'৭
তাই যে অন্তঃকরণ আল্লাহর ভালোবাসা ও তাকওয়া দ্বারা ভরপুর থাকে, সে অন্তঃকরণে গাফিলতি ও অবহেলা দেখা যায় না। পক্ষান্তরে যে অন্তঃকরণ আল্লাহর বিধান ও হিদায়াত থেকে বিমুখ থাকে, সে অন্তঃকরণে ছেয়ে থাকে গাফিলতির কালো আবরণ। প্রকৃত মুসলমানের অন্তঃকরণ সর্বদা ইসতিগফার ও তাওবায় মাশগুল থাকে এবং ইবাদত, হিদায়াত, তাকওয়া ও সন্তুষ্টির স্নিগ্ধতায় সিক্ত থাকে।

📘 আদর্শ মুসলিম > 📄 সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ফিকির করে

📄 সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ফিকির করে


প্রকৃত মুসলমান তার সকল কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করে। তার সকল পদক্ষেপ ও কর্মে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই উদ্দেশ্য থাকে। মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনের ফিকির তার থাকে না; বরং অনেক সময় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে মানুষের অসন্তুষ্টি খুশিমনে বরণ করে নেয়।
এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَنِ التَمَسَ رِضَاءَ اللهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ، وَمَنِ التَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ
‘যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, মানুষের (অসন্তুষ্টির কারণে) ক্ষতিপূরণের জন্য আল্লাহ্-ই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে মানুষের কাছে সোপর্দ করে দেন।’
এজন্য আল্লাহ্ তাআলা বান্দার আমলসমূহ তাঁর সন্তুষ্টির মানদণ্ডে যাচাই করেন। যে সকল আমল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, সেগুলোর প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন এবং কবুল করেন নেন। আর যে সকল আমলে তাঁর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য ছিল না, সেগুলো কবুল করেন না। সকল আমলের ক্ষেত্রে এটাই মুসলমানের মানদণ্ড হওয়া চাই। অর্থাৎ তার সকল কথা ও কাজে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য হতে হবে। তখন সে কিছু বিষয়ে আল্লাহর আনুগত্য, কিছু বিষয়ে তাঁর নাফরমানি করতে পারবে না এবং কোনো বিষয়ে এক সময় হালাল, আরেক সময় হারাম মনে করবে না। কেননা, তাঁর নিয়ত ও উদ্দেশ্যের মাঝে যখন কোনো রূপ স্ববিরোধিতা থাকবে না, তখন তাঁর কথা ও কাজেও স্ববিরোধিতা থাকবে না।
বর্তমান সময়ে অনেক লোককে দেখা যায়, তারা মসজিদে এসে তাকওয়া ও খুশু-খুজুর সাথে নামাজ আদায় করে, কিন্তু অন্যদিকে বাজারে গিয়ে সুদি কাজ-কারবার করে; ঘর, রাস্তাঘাট, মাদরাসা, সভা-সমিতি ইত্যাদিতে নিজেদের মাঝে, স্ত্রীদের মাঝে এবং সন্তান-সন্ততি ও অধীনস্তদের মাঝে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করে না। তারা দ্বীনের আসল উদ্দেশ্য (আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন) অনুধাবন করতে অবহেলা করছে বা ব্যর্থতার শিকার হচ্ছে। ফলে সকল বিষয়ে সে নিজের ইচ্ছা ও সন্তুষ্টিকেই বিচারক মানছে। এভাবে মুসলমানেরা দ্বীন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যেতে যেতে এক সময় মুসলমান নামটাই কেবল বাকি থাকে। এই যে দ্বিমুখী কর্মতৎপরতা, অর্থাৎ দ্বীনের কিছু বিষয় গুরুত্ব সহকারে পালন করা আর বাকি বিষয়ের প্রতি চরম অবহেলা করা—এটাই বর্তমান সময়ে মুসলমানদের সবচেয়ে মারাত্মক রোগ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00