📄 প্রারম্ভিকা
হামদ ও সালাতের পর, প্রায় দশ বছর ধরে 'ইসলামের আলোকে আদর্শ মুসলিমের পরিচয়' শীর্ষক বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আসছি। এর কারণ হলো, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মুসলমানকে দেখা যায়, তারা দ্বীনের এক বিষয়ে বাড়াবাড়ি করছে তো আরেক বিষয়ে ছাড়াছাড়ি করছে। কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেয় আর কিছু বিষয়ে শিথিলতা দেখায়। যেমন: কোনো কোনো মানুষকে দেখা যায়, তারা প্রথম কাতারে নামাজ পড়তে তো খুবই আগ্রহী, কিন্তু তার মুখ বা শরীর থেকে যে অসহ্য দুর্গন্ধ বের হয়, সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই! কাউকে দেখা যায়, সে বিনম্রচিত্তে আল্লাহভীতির সহিত ইবাদত করে, কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ক্ষেত্রে অবহেলা করে।
অনেককে দেখা যায়, তারা ইবাদত ও ইলমের প্রতি খুব গুরুত্ব দেয়, কিন্তু সন্তানদের সুষ্ঠু লালনপালনের ক্ষেত্রে ঢিলেমি করে। তারা কী পড়ছে, কার সাথে মেলামেশা করছে, সে ব্যাপারে চরম উদাসীন থাকে। অনেক মানুষ আছে, তারা সন্তানদের প্রতি খুব যত্নশীল হয়, কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্য হয় এবং তাদের সাথে কঠোর আচরণ করে। আবার অনেক মানুষকে দেখা যায়, তারা পিতা-মাতার সাথে খুব সদাচরণ করে, কিন্তু স্ত্রীর ওপর জুলুম করে এবং তার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। অথবা স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, কিন্তু প্রতিবেশীর সাথে খারাপ আচরণ করে। অনেক মানুষ আছে, যারা নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি খুব যত্নবান হয়, কিন্তু সামাজিক বিষয় ও মুসলমানদের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায় না।
আরেক ধরনের মানুষ আছে, যারা খুব দ্বীনদার ও নেককার, কিন্তু তাদের মাঝে ইসলামের বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যেমন: সালাম, পানাহার এবং মানুষের সাথে মেলামেশা ও কথাবার্তা ইত্যাদিতে ইসলামি আদব ও শিষ্টাচার পাওয়া যায় না। বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো, উল্লিখিত ত্রুটিগুলো এমন অনেক ব্যক্তির মাঝেও দেখা যায়, যাদেরকে ইসলামের জন্য বিভিন্ন অবদান থাকার কারণে আলাদা বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়। তারা অলসতাবশত ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এ ভুলগুলো করে থাকেন।
'ইসলামের আলোকে আদর্শ মুসলিমের পরিচয়' শীর্ষক বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমি মুসলমানদের জীবনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস নিয়ে গবেষণা করেছি। যাতে মুসলমানদের সামনে; বিশেষ করে প্র্যাক্টিসিং মুসলমানদের সামনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় এবং নিজেদের ভুল ও ত্রুটিগুলো উপলব্ধি করে ইসলামের অনুপম সুন্দর চরিত্রে নিজেদের ভূষিত করতে পারে।
গবেষণার পর আমি দেখতে পেলাম, ইসলাম মুসলমানদের থেকে যা চায় আর মুসলমানরা নিজেদের জন্য যা চায়—এ দুইয়ের মাঝে রয়েছে বিস্তর তফাত। অবশ্য অল্পসংখ্যক লোক, যাদের আকিদা বিশুদ্ধ, ইসলাম সুন্দর, অন্তর পরিশুদ্ধ ও মানসিকতা উন্নত—তারা ইসলামের দাবি ও চাওয়া অনুযায়ী জীবনযাপন করে থাকেন।
অতীব আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষের জীবনের প্রতিটি অংশ নিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ কথা বলেছেন। ছোট বা বড় কোনো বিষয়ই বাদ দেওয়া হয়নি। প্রভুর সাথে মানুষের সম্পর্ক কী হবে, নিজের সাথে সম্পর্ক কী হবে, চারপাশের মানুষের সাথে সম্পর্ক কেমন হতে হবে—সব বিষয় কুরআন ও হাদিসে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইসলাম মানুষের আদর্শ ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে।
সুতরাং ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানকে এমনই হতে হবে, যেমনটি ইসলাম কামনা করে। এর জন্য কুরআন ও হাদিসে যেসব উত্তম স্বভাব-চরিত্র ও গুণাবলির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, সেগুলো অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।
বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটিতে আমি এ বিষয়সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিস একত্র করেছি এবং সেগুলোকে বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। অধ্যায়গুলো হলো :
• প্রভুর সাথে মুসলমানের সম্পর্ক
• নিজের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক • পিতা-মাতার সাথে মুসলমানের সম্পর্ক • স্ত্রীর সাথে মুসলমানের সম্পর্ক • সন্তানদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক • আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক • ভাই-বন্ধুদের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক • সমাজের সাথে মুসলমানের সম্পর্ক
এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে কুরআন ও হাদিস নিয়ে গবেষণা করার সময় প্রতি মুহূর্তে আমি অনুভব করেছি যে, বান্দার জন্য আল্লাহর দয়া অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। তিনি বান্দাদের গোমরাহির অতল গহ্বর থেকে তুলে হিদায়াতের শীর্ষ চূড়ায় আরোহণের ব্যবস্থা করেছেন। এর জন্য তিনি যুগে যুগে নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। জীবনযাপনের নীতি ও রীতি প্রণয়ন করে দিয়েছেন। যেন মানুষ সব সময় উজ্জ্বল ও আলোকিত পথে পথ চলতে পারে; কখনো পতিত না হয় অন্ধকার গর্তে এবং কখনো পরিচালিত না হয় ভুল পথে।
আমি অনুভব করেছি, হিদায়াত, তারবিয়াত এবং আদব-শিষ্টাচারের প্রতি বর্তমান মানবজাতি খুব মুখাপেক্ষী। এ বিষয়গুলো ব্যতীত তাদের মানবতা পূর্ণতা পাবে না। এ বিষয়গুলো যদি না থাকে, তাদের মনে বাসা বাঁধবে স্বার্থপরতা ও আত্মম্ভরিতা। মানুষকে কষ্ট দিতে, তাদের প্রতি জুলুম করতে এবং তাদের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করতে বিবেক বাধা দেবে না। এ ছাড়াও অন্যান্য খারাপ অভ্যাস ও চরিত্র তাদের ভেতর জায়গা করে নেবে।
হিদায়াত, তারবিয়াত, আদব-শিষ্টাচারের প্রতি মানুষ শিশুকাল থেকেই মুখাপেক্ষী থাকে। একজন শিশু যখন তার বাবা-মার সামনে বড় হতে থাকে, তখন নিজের কাজের যথার্থতা প্রমাণ করা এবং ভাইয়ের ওপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য চেষ্টা করে। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলে ভাইকে লজ্জা দিতেও ছাড়ে না সে। তখন সব বিষয়ে অন্যান্য ভাই-বোনের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার সহজাত একটা প্রবণতা কাজ করে সব শিশুর মনে।
এ প্রবণতা সহজাত ও প্রাকৃতিক। এটাকে পুঁজি করেই শিশু বেড়ে ওঠে। পার্থিব বিষয়ের যথার্থতা ও সফলতা এর ওপরই নির্ভর করে। তবে তা হতে হবে পরিমিত পর্যায়ের। তখন এ প্রবণতাই তাকে ভালো কর্মের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু এ বিষয়ে সে যখন সীমালঙ্ঘন করে, তখন তার ভেতর সৃষ্টি হয় অহংকার ও আত্মতুষ্টির মতো আত্মিক সব মহামারি। তখন সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম দাবি করলেও আসলে সে শ্রেষ্ঠত্ব ও উত্তমতার পথ থেকে অনেক দূরে সরে পড়ে।
এখানেই দ্বীন, তারবিয়াত ও আদব-শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে ওঠে। এগুলোই মানুষের উক্ত সহজাত প্রবণতাকে সীমার ভেতর আবদ্ধ করে রাখে। কারণ, এ জীবনে সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের মূল উৎস হলো দ্বীন। সুষ্ঠু তারবিয়াত ও উত্তম চরিত্র দ্বীনেরই শাখা-প্রশাখা। যুগ যুগ ধরে মানবতার মুক্তি ও সফলতা দ্বীনের কারণেই হয়ে আসছে।
মানুষের জীবন-সম্পর্কিত একটি চিরসত্য বিষয় হলো, তারা উন্নতির চেয়ে অবনতির দিকেই বেশি ধাবিত হয়। পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষা করার চেয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ, উন্নতির চেয়ে অবনতি সহজ এবং সম্পর্ক রক্ষা করার চেয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করতে মজা বেশি। মোটকথা, মানুষ ভ্রান্ত পথ বেছে নেওয়ার দিকেই বেশি লালায়িত থাকে। এজন্য তাদের অন্তরে যখন গাফিলতির মরিচা ধরে এবং তাদের পা সিরাতে মুসতাকিম থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, তখন তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ন্ত্রণকারীর প্রয়োজন পড়ে। আল্লাহ কর্তৃক প্রণীত দ্বীনই হলো সে নিয়ন্ত্রণকারী।
এজন্য যুগে যুগে প্রত্যেক ইসলামি গবেষক ও কলমসৈনিক এ দ্বীনকে মানুষের সামনে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে এবং তাদের জীবনের সাথে দ্বীনের সহজাত সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন। আল্লাহ মানুষের জীবনকে কীভাবে পরিচালিত হতে দেখতে চান, তার রূপরেখা তুলে ধরেছেন তাদের লেখনীতে।
এ দ্বীন সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ তাআলা নিছক একটি মতবাদ হিসাবে প্রেরণ করেননি, যা নিয়ে মানুষ কেবল গবেষণা ও পড়াশোনা করবে। কিংবা এটাকে নিছক একটি পবিত্র কালাম হিসাবেও অবতীর্ণ করেননি, যা তিলাওয়াত করে মানুষ শুধু বরকত হাসিল করবে, কিন্তু তার নির্দেশনা ও মর্ম বুঝতে চাইবে না; বরং এ দ্বীনকে আল্লাহ তাআলা এজন্যই অবতীর্ণ করেছেন, যেন ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ এ দ্বীন অনুযায়ী জীবনযাপন করে। তিনি এ দ্বীন এজন্যই প্রণয়ন করেছেন, যেন এর মাধ্যমে মানুষ অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে ফিরে আসতে পারে।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللهِ نُورُ وَكِتَابٌ مُبِينٌ - يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
'অবশ্যই আল্লাহর নিকট থেকে তোমাদের কাছে একটি জ্যোতি ও সুস্পষ্ট গ্রন্থ এসেছে। যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ এর দ্বারা তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন, তাদেরকে স্বীয় অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং দান করেন তাদের সরল পথের দিশা।”
এ দ্বীনি নির্দেশনার তত্ত্বাবধানে জীবন অনেক সুন্দর ও আলোকিত হয়ে ওঠে। এমন সুন্দর ও আলোকিত জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো প্রকৃত ও আদর্শ মুসলিম হওয়া। ইসলামকে নিজের মাঝে এমনভাবে ফিট করা, যেন তার মাঝেই মানুষ ইসলাম দেখতে পায়। তার সাথে বসবাস করলে তাদের ইমানে যেন প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং ইসলামের প্রতি আগ্রহ প্রবল হয়।
দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ এমনটাই করেছিলেন। কেননা, ইসলামের সুদীর্ঘ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপে যদি এমন কিছু ব্যক্তি তৈরি করা হয়, যাদের মাঝে ইসলাম পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান, তখন তারা হয়ে যান একেকটি ভ্রাম্যমাণ কুরআন। তারা পৃথিবীর অলিগলি দিয়ে বিচরণ করবেন আর মানুষ তাদের মাঝে দেখতে পাবে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যখন মানুষ জানতে পারবে, একটি সুন্দর জীবনব্যবস্থা এ লোকগুলোর জীবনকে এত সুন্দর ও মহান করেছে, তখন তারাও সে জীবনব্যবস্থার প্রতি ধাবিত হবে। এভাবে দলে দলে মানুষ যোগদান করবে আল্লাহর মনোনীত দ্বীনে।
আজকের মানবজাতি; বিশেষ করে মুসলমানরা এমন আদর্শ মানবের কাঙাল। তারা এমন প্রকৃত মুসলিমের কাঙাল, যার ভেতর পরিপূর্ণ ইসলাম বিদ্যমান। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি আপনাদের দেবে সেই আদর্শ মুসলমানের পরিচয়।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এ প্রয়াস কবুল করে নেন, এর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করেন। এবং এটিকে সেদিনের পাথেয় করে দেন, যেদিন পরিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হওয়া ছাড়া সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না।
মুহাম্মাদ আলি হাশিমি রিয়াদ, ২৭ জুমাদাল উখরা, ১৪০১ হিজরি ১ মে ১৯৮১ ইংরেজি।
টিকাঃ
১. সুরা আল-মায়িদা: ১৫-১৬
📄 পরিশিষ্ট
পূর্বের অধ্যায়সমূহে প্রকৃত মুসলমানের গুণাবলি বিস্তারিতরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলোকে কুরআনের আয়াত ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত করা হয়েছে। আল্লাহর সাথে একজন মুসলমানের সম্পর্ক কেমন হবে; তার নিজের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে; তার শরীর, বিবেক ও আত্মার মাঝে সুষ্ঠু সমন্বয় কীভাবে হবে; পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব এবং সমাজের সাথে তার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—সবগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।
এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রকৃত মুসলমান তার চারিত্রিক, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়ে থাকে।
এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মানবজাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসে কোনো মানুষ মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের সকল উপকরণ নিজের মাঝে আনতে সক্ষম হয়নি। একমাত্র প্রকৃত মুসলমানই তা করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ, তার পুরো জীবন যাপিত হয়েছে মানবজাতির সৃষ্টিকর্তা ও শ্রেষ্ঠত্বদানকারী মহান আল্লাহর ওহি ও দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, যা সে পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহর মাঝে পেয়েছে।
এর কারণ হলো, ইসলাম মানুষের বিবেককে বৈজ্ঞানিক থিউরি অনুযায়ী পরিচালিত করে না, যেমনটি গ্রিকরা করেছিল। হিন্দুদের মতো কাল্পনিক আধ্যাত্মিকতা অনুযায়ীও পরিচালিত করে না। রোমানদের মতো শুধু শরীরচর্চাও ইসলামের উদ্দেশ্য নয়। তেমনই বর্তমান সময়ের পাশ্চাত্য সভ্যতার মতো বস্তুবাদী মানসিকতাও ইসলামের কাম্য নয়। ইসলাম মানুষকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানবে পরিণত করতে চায়—যার শরীর, বিবেক ও আত্মার মাঝে থাকবে সুষ্ঠু ভারসাম্য। কারণ, ইসলাম মানুষকে শরীর, বিবেক ও আত্মার সমন্বয়ে গঠিত একটি মাখলুক মনে করে।
এজন্য প্রকৃত মুসলমান সব বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে থাকে। কোনো বিষয়ে ছাড়াছাড়ি বা বাড়াবাড়ি তার মাঝে থাকে না। যেমন অন্যান্য জীবনব্যবস্থায় গড়ে ওঠা মানুষের মাঝে দেখা যায়।
প্রকৃত মুসলমান আল্লাহর অনুগত বান্দা হয়ে থাকে। সে জীবন পরিচালনা করে আল্লাহর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী। আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের প্রতি থাকে পূর্ণ সন্তুষ্ট। সব কাজে তার একটাই চিন্তা, একটাই উদ্দেশ্য। তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
প্রকৃত মুসলমান একজন ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তি হয়, যে শরীরের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে শরীরের হক আদায় করে। তার বাহ্যিক অবস্থাকে এমন করে রাখে না, যেন তাকে মানুষ বলতে সংকোচ হয়, যে মানুষকে আল্লাহ তাআলা সম্মানিত করেছেন, ফেরেশতাগণ সিজদা করেছেন এবং আসমান-জমিনের সবকিছু তার অনুগত করে দেওয়া হয়েছে। বরং শরীরকে সে এমনভাবে রাখে, যেন তা বিবেক, চিন্তাশক্তি ও জ্ঞানবুদ্ধির মতো উন্নত বিষয়াবলির বাহন হওয়ার উপযুক্ত মনে হয়। শরীর ও বিবেকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সে আত্মা থেকেও বিস্মৃত হয় না। তাই সে যেভাবে শরীরের যত্ন নেয়, সেভাবে আত্মারও যত্ন নেয়। এভাবেই প্রকৃত মুসলমান শরীর, বিবেক ও আত্মার মাঝে সুষ্ঠু ভারসাম্য বজায় রেখে একজন পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।
প্রকৃত মুসলমান পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার, দয়া ও ভদ্রতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্ত্রীর কাছে একজন আদর্শ স্বামী, যে তার আবেগ-অনুভূতি, মেয়েলি মান-অভিমান সবকিছু বুঝে। সন্তানদের জন্য একজন দায়িত্ববান ও স্নেহশীল পিতা, যে তাদের সুষ্ঠু তারবিয়াত ও লালনপালনে কোনোরূপ ত্রুটি ও অবহেলা করে না। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে আত্মীয়তা-সম্পর্ক রক্ষাকারী একজন প্রিয় আত্মীয়, যে সর্বাবস্থায় সকল পরিস্থিতিতে ইসলামের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। প্রতিবেশীদের জন্য একজন উত্তম প্রতিবেশী, যে তাদের সাথে ভালো আচরণ করে, তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, তাদের আবেগ-অনুভূতিকে সম্মান করে, সর্বোপরি ইসলাম-নির্দেশিত পন্থায় প্রতিবেশীদের সকল হক আদায় করে দেয়। এজন্য সে কোনো ধরনের বিনিময় বা প্রশংসার আশাও করে না। আর বন্ধুদের জন্য সে একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু। একমাত্র আল্লাহর জন্যই তাদের ভালোবাসে সে। তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পালন করে, বিশ্বাসঘাতকতা করে না। তাদের কল্যাণ কামনা করে, ধোঁকা দেয় না। তাদের প্রতি উদার, ক্ষমাশীল, হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করে না। নিজের ওপর তাদের প্রাধান্য দেয় এবং তাদের অগোচরে তাদের জন্য দুআ করে।
অনুরূপভাবে সমাজে তার পরিচয় একজন উত্তম চরিত্রধারী ভদ্র মানুষ হিসাবে, যে সামাজিক জীবনে কুরআন-হাদিসের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী চলে এবং এভাবে চলাকে ইবাদত মনে করে। ফলে সে সকল মানুষের সাথে সত্য কথা বলে। কারও সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করে না। কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করে না। লজ্জাশীল, ক্ষমাশীল, উদারমনস্ক ও সদা হাস্যমুখ থাকে। সমাজের মানুষের সাথে বৈধ হাসি-কৌতুক করে তাদের বিনোদন দেয়। গালিগালাজ ও অশ্লীল কথা তার মুখ থেকে বের হয় না।
কোনো মুসলমানকে ফাসিক বা কাফির বলে না। বেহুদা ও অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে। কারও গিবত ও চোগলখোরি করে না। মিথ্যা কথা ও নেতিবাচক ধারণা থেকে দূরে থাকে। কেউ তার কাছে গোপনীয় কিছু বললে তা অন্যদের নিকট ফাঁস করে দেয় না। নম্র ও বিনয়ী, অহংকারী নয়। কাউকে বিদ্রুপ করে না। বড়জন ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সমীহ করে। নেককার ও আল্লাহওয়ালা লোকদের সাথে সম্পর্ক রাখে। সর্বদা মানুষের উপকার করার চেষ্টা করে, তাদের ক্ষতি করা থেকে বেঁচে থাকে। মুসলমানদের মধ্যে মনোমালিন্য বা ঝগড়াঝাঁটি হলে আপস ও মীমাংসা করে দেওয়াকে দায়িত্ব মনে করে। হিকমত ও উত্তম নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে। কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যায়। কেউ মারা গেলে তার দাফন-কাফন, গোসল ও জানাজায় শরিক হয়। উপকারের বিনিময় প্রদান করে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকে এবং তাদের থেকে পাওয়া কষ্টগুলোর ওপর ধৈর্যধারণ করে। যথাসাধ্য মানুষকে আনন্দ দিতে ও খুশি রাখতে চেষ্টা করে। বিচার-ফয়সালায় ন্যায়পরায়ণ; কারও প্রতি অবিচার ও অন্যায় করে না। দৃঢ় ও অবিচল থাকে, ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্যতীত তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না, সময় নষ্ট করে না। অতিরঞ্জিত শুদ্ধ উচ্চারণ ও উচ্চাঙ্গ আলংকারিক ভাষায় কথা বলে না। উদার ও বদান্য, কেউ সাহায্য চাইলে তাকে নিরাশ করে না। অতিথিপরায়ণ, ঘরে মেহমান এলে বিরক্তিবোধ করে না। নিজের ওপর যথাসধ্য অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়। অসহায়ের সহায় হয়। দারিদ্র্য আসলে সবর করে, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘোরে না; কারও কাছে হাত পাতে না। লোকজনের সাথে অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ হয়ে মিশে, তারাও তার সাথে অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ হয়। পানাহার, পোশাক-আশাক, সালাম-কালাম, ওঠা-বসা, দেখা- সাক্ষাৎ সবকিছুতে ইসলামের রীতি অনুসরণ করে। একবাক্যে বললে, সে নিজেকে ইসলামের হাতে সঁপে দেয়।
উল্লিখিত সকল গুণ ও চরিত্র যার ভেতর আছে, ইসলামের দৃষ্টিতে সেই প্রকৃত ও আদর্শ মুসলমান।
সবচেয়ে উন্নত মানবসভ্যতা হলো, যে সভ্যতায় মানবজাতির মাঝে উল্লিখিত গুণাবলি প্রতিষ্ঠিত থাকে। কারণ, এ গুণগুলো মানবজাতির মাঝে সে মানবিকতা সৃষ্টি করে, যা মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠ মাখলুকের আসনে বসিয়েছে। পক্ষান্তরে যেসব সভ্যতা মানবজাতির অভ্যন্তরীণ মানবিকতাকে এড়িয়ে তার বাহ্যিক বিষয়াবলির প্রতি মনোযোগী হয়েছে; মানবজাতিকে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের শিখরে পৌঁছিয়েছে; টিভি, রেডিও, কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন আধুনিক আবিষ্কার হাতে তুলে দিয়ে পৃথিবীকে মানবজাতির হাতের মুঠোয় ধরিয়ে দিয়েছে—এগুলো উন্নত মানবসভ্যতা নয়। বৈজ্ঞানিক উন্নতি সাধন ও জীবনমান সহজীকরণ মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় নয়। মানবজাতি তখনই শ্রেষ্ঠ মাখলুক, যখন তার ভেতর মানবিকতা থাকবে এবং তার অন্তর্লোক স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا ٧ فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ، قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا ١٠
‘শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। '৭৫৭
অনুরূপভাবে সমাজকে তখনই উন্নত সমাজ বলা হবে, যখন তার প্রত্যেক সদস্যের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা, হৃদ্যতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা থাকবে এবং পারস্পরিক লেনদেনে ছাড় দেওয়া ও নিজের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা থাকবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন ও জীবন সহজ করার আধুনিক উপকরণের উপস্থিতি সমাজের উন্নতির কারণ হতে পারে না, যদি সমাজের লোকদের মাঝে মানবতা ও মানবিকতা না থাকে।
যেসব গুণ সম্পর্কে এ গ্রন্থে আলোচনা করা হয়েছে, কোনো সমাজের প্রতিজন সদস্য যদি এসবে গুণান্বিত হয়, তখন সমাজে শুধু কল্যাণ আর কল্যাণ থাকবে। সমাজে মারামারি, হানাহানি ও অনৈক্য থাকবে না। এজন্যই বলা হয়, 'ব্যক্তি ঠিক হলে সমাজ ঠিক', অর্থাৎ গুণবান ও সৎকর্মশীল লোকদের নিয়েই গড়ে ওঠে একটি আদর্শ সমাজ।
এ ধরনের সমাজকেই বলা হয় ইসলামি সমাজ। সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মুসলমান হলেই তা ইসলামি সমাজ হয়ে যায় না। প্রকৃত ইসলামি সমাজ তখনই হবে, যখন তার সকল সদস্যের মাঝে প্রকৃত মুসলমানের গুণাবলি থাকবে। বর্তমান সময়ে কথিত মুসলমানদের সমাজে অনৈক্য, দলাদলি, ফিরকাবাজি, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারামারি আমরা দেখতে পাই। আরও দেখতে পাই জাতীয়তাবাদী চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা, ভাষাগত চেতনা ইত্যাদির নামে মুসলমানদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অনৈক্য। এসবের কারণ হলো, মুসলমানরা ইসলামের মৌলিক চরিত্র থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। তাদের পারস্পরিক ইসলামি সম্পর্ক ও ইমানি ভ্রাতৃত্ব তারা ছিন্ন করে ফেলেছে। নিজেদের পরিচয় ভুলে গিয়ে মুসলমানরা আজ দিশেহারা। এ সুযোগে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদের ধ্বজাধারীরা সুন্দর ভাষায় তাদের ভ্রান্তির পথে দাওয়াত দিয়ে চলেছে মুসলমানদের সমাজে।
মুসলমানদের আকাশে বিপদের ঘনঘটা। পায়ের নিচে ধ্বংসে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ঙ্কর চোরাবালি। চারিদিকে তিমির অন্ধকার। ভীষণ রকমের ভয়ংকর সে আঁধার। এমন অবস্থায় মুসলমানদের সে একটাই আশ্রয়। ফিরে আসতে হবে ইসলামের মৌলিকত্বে। সবাইকে হয়ে উঠতে হবে প্রকৃত মুসলমান। জানতে হবে প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।
প্রকৃত মুসলমানদের হাত ধরেই ইসলাম আবার বিজয়ী হবে—এ কথা শত্রুরাও জানে। তাই তাদের মূল টার্গেট হলো প্রকৃত মুসলমানিত্ব। অর্থাৎ মুসলমানদের মাঝে আসল ইসলাম যেন আসতে না পারে, সেজন্যই তাদের যত চেষ্টা। উদ্দেশ্য সাধনের পথে দুই পদক্ষেপে তারা এগোয়। প্রথম পদক্ষেপ হলো, মুসলমানদের ভেতর থেকে প্রকৃত মুসলমানিত্ব বের করে আনা। দ্বিতীয় পদক্ষেপে তাদের মাঝে ইসলামের নামে ভ্রান্ত চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দেয় অথবা একদম অনৈসলামিক কোনো চিন্তাধারা তার অন্তরে বসিয়ে দেয়।
মুসলমানদের মধ্য থেকে প্রকৃত মুসলমানিত্ব বের করে নেওয়ার এ ঘৃণ্য অপচেষ্টা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এভাবে কাফিররা বিভিন্ন ইসলামি দেশে ভৌগলিকভাবে কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালিয়ে, বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করে মুসলমানদের কাছ থেকে চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে বশ্যতা ও আনুগত্য স্বীকার করিয়ে নিয়েছে। ফলে তারা এখন নিজেদের অজান্তেই পরাধীনতার লাঞ্ছনার শিকার। মানসিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে মুসলমানরা এতটাই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে যে, শারীরিক যুদ্ধ করার ইচ্ছাও আর অবশিষ্ট নেই তাদের মাঝে।
এ লাঞ্ছনা ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেতে হলে মুসলমানদের জানতে হবে প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়। অর্জন করতে হবে প্রকৃত মুসলমানিত্ব। তখন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে مسلمانوں অস্ত্র ভেঙে যাবে না, পতাকা ভূলুণ всички হবে না এবং ইসলামি বাহিনী কখনো পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করবে না। তখন মুসলমানরা হয়ে উঠবে সত্যিকার মুসলিম উম্মাহ, প্রকৃত মুমিনদল, মহান আল্লাহ তাআলা যাদের সাহায্য করার জিম্মাদারি নিজের হাতে রেখেছেন।
তিনি বলেন: وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ
'মুমিনদের সাহায্য করা আমারই দায়িত্ব।' ৭৫৮