📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘরে কোমলতার চরিত্র ছড়িয়ে দেওয়া

📄 ঘরে কোমলতার চরিত্র ছড়িয়ে দেওয়া


মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَرَادَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِأَهْلِ بَيْتٍ خَيْرًا، أَدْخَلَ عَلَيْهِمُ الرَّفْقَ.
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন আল্লাহ তাআলা কোনো পরিবারের জন্য কল্যাণ চান, তখন তাদের মধ্যে কোমলতা দিয়ে দেন।"⁸⁰

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে-
عن جابر مرفوعا : إنّ اللهَ إِذا أَحَبَّ أَهلَ بَيْتٍ أَدْخَلَ عليهم الرفق.
জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা যখন কোনো পরিবারকে ভালোবাসেন, তখন তাদের মধ্যে কোমলতা দিয়ে দেন।”⁸¹

অর্থাৎ একে অপরের সাথে কোমল আচরণ করতে থাকে। আর এটাই হলো ঘরের সুখ-শান্তির মূল কারণ। স্বামী-স্ত্রীর এবং সন্তান-সন্ততিদের মাঝে কোমল আচরণ অনেক কল্যাণ নিয়ে আসে। কোমল আচরণের মাধ্যমে যা অর্জন করা সম্ভব, কঠোরতার মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব নয়।
যেমন সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا عَائِشَةُ، إِنَّ اللَّهَ رَفِيقُ يُحِبُّ الرِّفْقَ، وَيُعْطِي عَلَى الرَّفْقِ مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ، وَمَا لَا يُعْطِي عَلَى مَا سِوَاهُ.
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোমল। আর তিনি কোমলতা পছন্দ করেন। তিনি কোমলতার কারণে যে প্রতিদান দিয়ে থাকেন, কঠোরতা এবং অন্য কিছুর কারণে তা দেন না।”⁸²

টিকাঃ
৮০. মুসনাদে আহমাদ: ৪০/৪৮৮, হা. নং ২৪৪২৭ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৮১. সহীহ জামে সগীর: পৃ. নং ১/৩৫০, হা. নং ১৭০৪ (প্র. আল মাকতাবুল ইসলামি, বৈরূত)
৮২. সহীহ মুসলিম: ৪/২০০৩, হা. নং ২৫৯৩ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘরের কাজে পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা

📄 ঘরের কাজে পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা


অনেক লোক আছে, যারা ঘরের কোনো কাজ করে না। আবার অনেক লোক তো এমনও আছে, যারা ঘরের কাজ ও নিজ পরিবারের কাজে সাহায্য করাকে নিজের সম্মান ও মর্যাদার হানি মনে করে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। নিজের জুতা নিজে ঠিক করতেন এবং পুরুষ মানুষ ঘরে যে সকল কাজ করে থাকে, তিনি তার সবগুলো নিজেই করতেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا سُئِلَتْ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ قَالَتْ: كَانَ يَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَخْصِفُ نَعْلَهُ، قَالَتْ: وَكَانَ يَعْمَلُ مَا يَعْمَلُ الرِّجَالُ فِي بُيُوتِهِمْ.
আয়েশা রাযি.-কে প্রশ্ন করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিজের কাপড় নিজে সেলাই করতেন, নিজের জুতা নিজে ঠিক করতেন এবং পুরুষ মানুষ ঘরে যে সকল কাজ করে থাকে, তিনি তার সবগুলো নিজেই করতেন।"⁸³

সহীহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا سُئِلَتْ: مَا كَانَ عَمَلُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: مَا كَانَ إِلَّا بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ، كَانَ يَفْلِي ثَوْبَهُ، وَيَحْلِبُ شَاتَهُ، وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ.
আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি বললেন, "তিনি মানুষের মধ্য থেকে একজন মানুষই ছিলেন। তিনি তাঁর কাপড় পরিষ্কার করতেন, তার বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন।"⁸⁴

সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে-
عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ - تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ - فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ.
আসওয়াদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাযি.- কে প্রশ্ন করলাম, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে কী করতেন? তিনি বললেন, "তিনি তাঁর পরিবারের কাজে সাহায্য করতেন। অতঃপর যখন নামাজের সময় হতো, তখন তিনি নামাজের জন্য বের হতেন।"⁸⁵

সুতরাং আমরাও যদি ঘরের ও পরিবারের কাজে সাহায্য করতে পারি, তাহলে আমাদের অনেকগুলো কল্যাণ অর্জন হবে। যেমন-
এর মাধ্যমে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করতে পারব।
আমাদের পরিবারকে সাহায্য করা হবে।
আমরা বিনয়ী ও অহংকারমুক্ত হতে পারব।
অনেক পুরুষ আছে, যারা তার স্ত্রীর নিকট খাবার চায় এবং এর জন্য সামান্য পরিমাণ অপেক্ষা করতে রাজি নয়। অথচ তখন খাবারের ডেগ থাকে চুলার ওপর। অন্যদিকে সন্তান দুধপান করার জন্য চিৎকার করতে থাকে। আর সেই অবিবেচক পুরুষ না তার সন্তানকে কোলে নেয় আর না খাবারের জন্য অপেক্ষা করে।

এই হাদীসগুলো যেন আমাদের সকলের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকে।

টিকাঃ
৮৩. মুসনাদে আহমাদ: ৪৩/২৮৯, হা. নং ২৬২৩৯ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৮৪. সহীহ ইবনে হিব্বান: ১২/৪৮৮, হা. নং ৫৬৭৫ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৮৫. সহীহ বুখারী: ১/১৩৬, হা. নং ৬৭৬ (প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 পরিবারের লোকদের সাথে মজা ও রসিকতা করা

📄 পরিবারের লোকদের সাথে মজা ও রসিকতা করা


স্ত্রী ও ছেলে-সন্তানদের সাথে রসিকতা ও হাসিঠাট্টা পরিবারকে সুখ-সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায় এবং ঘরে পরস্পরে বন্ধুত্ব ও অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি হয়। আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাবের রাযি.-কে কুমারী নারী বিবাহের কথা বলে এ ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করেছেন।
সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: هَلَكَ أَبِي وَتَرَكَ سَبْعَ بَنَاتٍ أَوْ تِسْعَ بَنَاتٍ، فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً ثَيِّبًا، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَزَوَّجْتَ يَا جَابِرُ، فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ: بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا؟ قُلْتُ: بَلْ ثَيِّبًا، قَالَ: فَهَلَّا جَارِيَةً تُلاعِبُهَا وَتُلاعِبُكَ، وَتُضَاحِكُهَا وَتُضَاحِكُكَ.
জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা মারা যাওয়ার সময় সাতজন অথবা নয়জন মেয়ে রেখে যান। অতঃপর আমি এক সাইয়েবা (অকুমারী) মহিলাকে বিবাহ করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাকে বললেন, হে জাবের, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কুমারী মেয়ে নাকি অকুমারী?” আমি বললাম, কুমারী নয়; বরং অকুমারী মেয়ে। তিনি বললেন, “কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে না কেন? যার সাথে তুমি খেল-তামাশা করবে আর সেও তোমার সাথে খেল-তামাশা করবে? এবং তুমি তার সাথে হাসি-ঠাট্টা করবে আর সেও তোমার সাথে হাসি-ঠাট্টা করবে।"⁸⁶

সুনানে কুবরা নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ: رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَجَابِرَ بْنَ عُمَيْرِ الْأَنْصَارِيَّيْنِ يَرْمِيَانِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا: لِصَاحِبِهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كُلِّ شَيْءٍ لَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ اللَّهِ فَهُوَ لَهُوَ وَلَعِبٌ إِلَّا أَرْبَعَ، مُلَا عَبَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ، وَتَأْدِيبُ الرَّجُلِ فَرَسَهُ، وَمَشْيُهُ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ، وَتَعْلِيمُ الرَّجُلِ السَّبَّاحَةَ.
আতা বিন আবী রাবাহ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবের বিন আব্দুল্লাহ আনসারী রাযি. ও জাবের বিন উমাইর আনসারী রাযি.-কে রমী করতে দেখলাম। তখন তাদের একজন অন্যজনকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "প্রত্যেক জিনিস-যার মধ্যে আল্লাহর স্মরণ নেই-সেটা অনর্থক খেল-তামাশা, তবে চারটি বিষয় ব্যতীত। আর তা হলো, স্বামী তার স্ত্রীর সাথে হাসি-ঠাট্টা ও খেল- তামাশা করা, নিজ ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, দুই লক্ষ্যবস্তুর মাঝে পায়ে হাঁটা (অর্থাৎ তীর নিক্ষেপ করা) এবং সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া।"⁸⁷

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَاحِدٍ، فَيُبَادِرُنِي حَتَّى أَقُولَ: dَعْ لِي، دَعْ لي. قَالَتْ: وَهُمَا جُنُبَانِ.
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করছিলাম। একবার তিনি পানি নিচ্ছিলেন একবার আমি। অতঃপর তিনি দ্রুত পানি নিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম, আমাকে সুযোগ দিন আমাকে সুযোগ দিন। তিনি (আয়েশা রাযি.) বলেন, তখন আমরা দুজনই নাপাক অবস্থায় ছিলাম।"⁸⁸

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাচ্চাদের সাথে দুষ্টমি করতেন এবং তাদের সাথে হাসি-ঠাট্টা করতেন। বাচ্চাদের সাথে তাঁর রসিকতা ও হাসি-ঠাট্টার বিষয়টি অনেক প্রসিদ্ধ। তিনি হাসান রাযি. ও হুসাইন রাযি. এর সাথে অনেক রসিকতা করতেন। পূর্বে এর আলোচনা গত হয়েছে। হয়তো এ কারনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফর থেকে ফিরে আসলে শিশুরা অনেক খুশি হতো এবং তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ছুটে আসত। আর তিনি তাদেরকে নিজের কাছে টেনে নিতেন।

যেমনটি সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ تُلُقِّيَ بِصِبْيَانِ أَهْلِ بَيْتِهِ، قَالَ: وَإِنَّهُ قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ فَسُبِقَ بِي إِلَيْهِ، فَحَمَلَنِي بَيْنَ يَدَيْهِ، ثُمَّ جِيءَ بِأَحَدٍ ابْنَيْ فَاطِمَةَ، فَأَرْدَفَهُ خَلْفَهُ، قَالَ: فَأُدْخِلْنَا الْمَدِينَةَ، ثَلَاثَةٌ عَلَى دَابَّةٍ.
আব্দুল্লাহ বিন জাফর রাযি. বলেছেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে তিনি পরিবারের বাচ্চাদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। তিনি বলেন, একবার এক সফর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন আর আমাকে প্রথম তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন তিনি আমাকে তাঁর বাহনের সামনে বসালেন। অতঃপর ফাতেমা রাযি. এর দুই সন্তানের একজনকে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে তাঁর বাহনের পেছনে আরোহণ করালেন। অতঃপর আমরা তিনজনই একটি বাহনের ওপর আরোহণ করে মদীনায় প্রবেশ করেছিলাম।"⁸⁹

তুমি এর সাথে এবং একটা নীরস পরিবারের সাথে তুলনা করে দেখ, যাতে কোনো রসিকতা নেই, হাসি-ঠাট্টা নেই এবং নেই কোনো দয়ামায়া। এমন অনেক মানুষও রয়েছে, যারা মনে করে- বাবা সন্তানকে চুমো খেলে সন্তানের মধ্যে বাবার আযমত ও সম্মান থাকবে না। তারা যেন এই হাদীসটি পড়ে নেয়।

সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে-
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَبَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الحَسَنَ بْنَ عَلِيَّ وَعِنْدَهُ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسِ التَّمِيمِيُّ جَالِسًا، فَقَالَ الْأَقْرَعُ: إِنَّ لِي عَشَرَةٌ مِنَ الوَلَدِ مَا قَبَّلْتُ مِنْهُمْ أَحَدًا، فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার হাসান বিন আলী রাযি.-কে চুমো খেলেন। তখন তাঁর পাশে বসা ছিল আকরা' বিন হাবেস তামীমী রাযি.। তিনি বললেন, আমার দশজন সন্তান রয়েছে, আমি তাদের একজনকেও চুমো খাইনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হবে না।"⁹⁰

টিকাঃ
৮৬. সহীহ বুখারী: ৭/৬৬, হা. নং ৫৩৬৭ (প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
৮৭. সুনানে কুবরা, নাসায়ী: ৮/১৭৬, হা. নং ৮৮৯০ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৮৮. সহীহ মুসলিম: ১/২৫৭, হা. নং ৩২১ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
৮৯. সহীহ মুসলিম: ৪/১৮৮৫, হা. নং ২৪২৮ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
৯০. সহীহ বুখারী: ৮/৭, হা. নং ৫৯৯৭ (প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘর ও পরিবারের সদস্যদের খারাপ ও নোংরা স্বভাবগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা

📄 ঘর ও পরিবারের সদস্যদের খারাপ ও নোংরা স্বভাবগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা


পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যেই কোনো না কোনো চারিত্রিক দোষ রয়েছে। যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা, চোগলখুরি করা ইত্যাদি। এ সকল চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।

কিছু মানুষ আছে, যারা মনে করে যে, এ সকল দোষ-ত্রুটি সংশোধন করার একমাত্র উপায় হলো শারীরিক শাস্তি প্রদান করা। শুধু যে শারীরিক শাস্তি প্রদানই এর একমাত্র সমাধান নয়, তা আমরা সামনের হাদীস থেকেই বুঝতে পারব।

সহীহ জামে সগীরে এসেছে-
عَنْ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ مَرْفُوْعًا : كَانَ إِذَا اطَّلَعَ عَلَى أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ كَذَبَ كَذَّبَةٌ، لَمْ يَزَلْ مُعْرِضًا عَنْهُ حَتَّى يُحْدِثَ تَوْبَةٌ.
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জানতে পারতেন যে, তাঁর পরিবারে কেউ মিথ্যা কথা বলেছে, তখন তাওবা করার আগ পর্যন্ত তাকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতেন।”⁹¹

এই হাদীস থেকে জানা গেল যে, কথা ছেড়ে দেওয়া, তার দিকে না তাকানো এই পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ শাস্তি। আবার কখনো কখনো এটা শরীরিক শাস্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। সুতরাং বাড়ির দায়িত্বশীল ও কর্তাগণ ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে শাস্তি প্রদান করবে।

টিকাঃ
৯১. সহীহ জামে সগীর: ২/৮৫৫, হা. নং ৪৬৭৫ (প্র. আল মাকতাবুল ইসলামি, বৈরূত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00