📄 ঘরে শিশুদের যত্ন নেওয়া
শিশুদের প্রতি যত্ন নেওয়ার অনেকগুলো দিক রয়েছে।
কুরআনুল কারীম ও ইসলামি ঘটনাগুলো মুখস্ত করানো। পিতা-মাতার জন্য সন্তানকে কুরআনুল কারীম পড়ানোর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। কুরআন মুখস্ত করার প্রতি উৎসাহ দেওয়ার জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করবে। বাচ্চা বয়সেই সে প্রতি জুমাবার মা-বাবার কাছ থেকে শুনে শুনে সূরা কাহফ মুখস্ত করবে। এ ছাড়াও ফযীলতপূর্ণ ছোট ছোট সূরাগুলো বাবা-মার কাছ থেকে শুনে শুনে ছোট বয়সেই মুখস্ত করবে। বাচ্চাদেরকে ইসলামি আকীদার মূলনীতিগুলো শিক্ষা দেবে। যেমন মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ: أَنَّهُ رَكِبَ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَا غُلامُ، إِنِّي مُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ: احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظُكَ..
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পেছনে আরোহণ করেছিলেন। তখন তিনি বললেন, “হে বৎস, আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখাচ্ছি। তুমি আল্লাহ তাআলার হক রক্ষা কর, তাহলে আল্লাহ তাআলাও তোমাকে রক্ষা করবেন।"⁶⁶
তাকে আদব-কায়দা শিক্ষা দেবে, যেমন বড়দের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে। দুআ ও অযীফাগুলো মুখস্ত করাবে এবং সেগুলোর ওপর আমলে অভ্যস্ত করে তুলবে। যেমন খানা খাওয়ার দুআ, ঘুমের দুআ, হাঁচির দুআ, সালাম ও অনুমতি নেওয়া শিখাবে।
বাচ্চাদের মনে ইসলামি ঘটনাগুলো অনেক প্রভাব ফেলে।
এ সকল ঘটনা তাদের শুনানো যেতে পারে। যেমন নূহ আ. ও তাঁর প্লাবনের ঘটনা। ইবরাহীম আ. এর মূর্তি ভাঙা ও তাঁকে আগুনে নিক্ষেপের ঘটনা। মূসা আ. এর ফেরাউনের হাত থেকে নাজাতের ঘটনা এবং ফেরাউনের ডুবে যাওয়ার ঘটনা। ইউনুস আ. এর মাছের পেটে যাওয়া ও তা থেকে উদ্ধারের ঘটনা। সংক্ষিপ্তভাবে আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনী বর্ণনা করা; যেমন তাঁর নবুওয়াতপ্রাপ্তি, হিজরত এবং কিছু কিছু যুদ্ধের ঘটনা; যেমন বদর, খন্দক ও অন্যান্য যুদ্ধের ঘটনা, তাঁর জীবনের বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়; যেমন একলোক ও তার উটের ঘটনা, যে তার উটকে কম খাবার দিত আর বেশি পরিশ্রম করাতো। এভাবে সালাফে সালেহীনের ঘটনা; যেমন উমার রাযি. কর্তৃক তাঁবুর ভেতরে থাকা মহিলা ও তার ক্ষুধার্ত শিশুর জন্য খাবার বহন করার ঘটনা, আসহাবে কাহফের যুবকদের ঘটনা। এ ছাড়াও অসংখ্য ইসলামি ঘটনা রয়েছে, যেগুলো বাচ্চাদের শুনাবে। তাদেরকে আকীদা বিধ্বংসী কোনো কল্প-কাহিনী, জিন-ভূতের ভয়ের কাহিনী শোনাবে না, যা বাচ্চাদের আকীদা-বিশ্বাস নষ্ট করে দেয় এবং তাদের মধ্যে ভয় ও ভীতি প্রবেশ করায়।
* সতর্ক থাকতে হবে, তারা যেন রাস্তার ছেলে-মেয়েদের সাথে মিশতে না পারে। তাহলে তাদের মুখের ভাষা খারাপ হবে এবং তাদের চরিত্র নষ্ট হবে; বরং তাদের সাথে খেলাধুলা করার জন্য প্রতিবেশী পাশের বাসার ভদ্র ছেলেমেয়েদের বাসার ভেতরে ডেকে আনতে হবে। তারা বাসার ভেতরে খেলাধুলা করবে।
* বাচ্চাদেরকে শিক্ষামূলক খেলনা দিতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট ঘরে তারা খেলবে এবং সেখানে বাচ্চারা তাদের খেলনা সাজিয়ে রাখবে।
শরীয়ত পরিপন্থী কোনো খেলনা তাদের কিনে দেওয়া যাবে না। যেমন বাদ্যযন্ত্র অথবা মূর্তি ও ক্রুশবিশিষ্ট খেলনা ইত্যাদি।
বালকদের শখের ভালো কিছু জিনিস সরবরাহ করে দেওয়া উত্তম। যেমন কাঠের বা ইলেকট্রিকের খেলনা এবং কম্পিউটারের কিছু বৈধ গেম। প্রসঙ্গক্রমে এখানে কম্পিউটারের কিছু প্রোগ্রাম ও গেমের ব্যাপারে সতর্ক করছি, যেথায় পরিকল্পিতভাবে নারীদের ছবি অত্যন্ত অশ্লীলতার সহিত স্ক্রীনে প্রকাশ করা হয় কিংবা এমন গেম, যাতে ক্রুশ ব্যবহার করা হয়েছে। আমাকে একজন বলেছে, একটি গেম এমন আছে, যেখানে কম্পিউটারের সাথে জুয়া খেলতে হয়। গেমার স্ক্রীনে অংশবিশেষ দৃশ্যমান চারজন যুবতীর ছবি হতে একটি বেছে নেয়। খেলায় সে বিজয়ী হলে পুরস্কার হিসেবে যুবতীটির ছবি অত্যন্ত অশ্লীলভাবে ভেসে ওঠে।
শোয়ার সময় ছেলে এবং মেয়েদের বিছানা আলাদা করা। এটাই দীনদার এবং দীনের ব্যাপারে উদাসীন অন্যান্য মানুষের ঘরের সিস্টেমের মাঝে পার্থক্য।
তাদের সাথে মজা করা হাসি-ঠাট্টা করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাচ্চাদের সাথে রসিকতা করতেন, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, তাদেরকে ডাকার সময় কোমলভাবে ডাকতেন। বাচ্চাদের মধ্যে যে সবচেয়ে ছোট, তাকে খাবার বা ফলের প্রথম অংশটা দিতেন। কখনো কখনো কাউকে নিয়ে হাঁটতে যেতেন। নিম্নে আমরা বাচ্চাদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোমলতা ও হাসি-ঠাট্টা করা সংক্রান্ত দুটি হাদীস পেশ করছি।
আখলাকুন নাবী ওয়া আদাবুহু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيُدْلِعُ لِسَانَهُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيَّ، فَيَرَى الصَّبِيُّ حُمْرَةَ لِسَانِهِ فَيَبْهَشُ إِلَيْهِ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান বিন আলী রাযি. এর জন্য জিহ্বা বের করতেন। শিশুটি তাঁর জিহ্বার লাল অংশ দেখতে পেয়ে খুশি হয়ে তাঁর কাছে ছুটে আসত।"⁶⁷
আল আদাবুল মুফরাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ يَعْلَى بْنِ مُرَّةَ أَنَّهُ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَدُعِينَا إِلَى طَعَامٍ فَإِذَا حُسَيْنُ يَلْعَبُ فِي الطَّرِيقِ، فَأَسْرَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَامَ الْقَوْمِ، ثُمَّ بَسَطَ يَدَيْهِ، فَجَعَلَ يَمُرُّ مَرَّةً هَا هُنَا وَمَرَّةً هَا هُنَا، يُضَاحِكُهُ حَتَّى أَخَذَهُ، فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ فِي ذَقْنِهِ وَالْأُخْرَى فِي رَأْسِهِ، ثُمَّ اعْتَنَقَهُ فَقَبَّلَهُ.
ইয়ালা বিন মুররা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে এক খাবারের দাওয়াতে যাচ্ছিলাম। তখন পথে হুসাইন রাযি. খেলছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্রুত সবার সামনে গিয়ে তার দিকে দুই হাত প্রসারিত করে ধরলেন। তিনি একবার হাত এদিকে ঘুরালেন এবং একবার ওদিকে। তিনি তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন। এরপর তাকে ধরলেন এবং এক হাত তার থুতনিতে ও অপর হাত মাথায় রেখে বুকে টেনে নিয়ে চুমু খেলেন।"⁶⁸
টিকাঃ
৬৬. মুসনাদে আহমাদ: ৪/৪০৯-৪১০, হা. নং ২৬৬৯ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৬৭. আখলাকুন নাবী ওয়া আদাবুহু: ১/৪৯১, হা. নং ১৮৪ (প্র. দারুল মুসলিম, রিয়াদ)
৬৮. আল আদাবুল মুফরাদ: পৃ. নং ১৩৩, হা. নং ৩৬৪ (প্র. দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়্যা, বৈরূত)
📄 ঘুম, খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য কাজের জন্য সময় নির্দিষ্ট করা
কিছু কিছু ঘরের অবস্থা হলো আবাসিক হোটেলের মতো। পরিবারের সদস্যরা যেন একে অপরকে চেনেই না এবং তাদের পরস্পরে খুব কমই সাক্ষাৎ হয়।
অনেক ছেলে আছে, যারা যখন ইচ্ছা তখন খায় এবং যখন ইচ্ছা তখন ঘুমাতে যায়। এর কারণে রাত্রি জাগরণ ও সময় নষ্ট হয়। এই বিশৃঙ্খল অবস্থার কারণে অলসতা, পরিশ্রম না করা ও ব্যাপক সময় নষ্ট হয়। এটা মানুষকে বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল করে তোলে।
কেউ কেউ এই অভিযোগ করতে পারে যে, ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন। আর চাকরিজীবী, শ্রমিক ও এলাকার লোকদের কেউই সমান নয়।
আমি বলব, এই অবস্থা তো সকলের ক্ষেত্রে নেই। পরিবারের সকলে যদি একই সময়ে একসাথে খাবার খেতো, তাহলে কতই না মজা হতো! প্রত্যেকের অবস্থা জানা যেত। কোনো উপকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। সুতরাং পরিবারের কর্তার উচিত হলো, তিনি সকলের বাড়িতে ফিরার একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেবেন এবং বাড়ির বাইরে যেতে হলে প্রত্যেকে তার কাছ থেকে অনুমতি নেবে; বিশেষ করে ছোটদের জন্য এটা আবশ্যক।
📄 মহিলাদের বাড়ির বাইরের কাজ সুবিধামতভাবে করা
ইসলামের বিধানগুলো একটি অপরটির মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। ইসলাম যখন নারীদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিল; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ )
“তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে।"⁶⁹
তখন তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো পুরুষদের কাঁধে; যেমন তার বাবা বা স্বামী।
এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, মহিলারা প্রয়োজন ব্যতীত বাড়ির বাইরে কাজ করবে না। যেমনিভাবে মূসা আ. একজন নেককার ব্যক্তির দুই মেয়েকে পানির কূপের পাশে দাঁড়িয়ে বকরিকে পানি পান করানোর জন্য অপেক্ষা করতে দেখলেন, তখন তাদের প্রশ্ন করলেন; কুরআনের ভাষায়-
قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخُ كَبِيرٌ )
"তিনি বললেন, তোমাদের কী ব্যাপার? তারা বলল, আমরা আমাদের জন্তুদেরকে পানি পান করাতে পারি না, যে পর্যন্ত না রাখালরা তাদের জন্তুদেরকে নিয়ে সরে যায়। আর আমাদের পিতা খুবই বৃদ্ধ।”⁷⁰
তখন তারা পশুগুলোকে পানি পান করাতে আসার জন্য ওযর পেশ করলেন এ বলে যে, তাদের অভিভাবক বয়সের কারণে কাজ করতে সক্ষম নয়।
আর এ কারণেই যখন তারা সুযোগ পেলেন, তখন বাড়ির বাইরে কাজ না করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। ইরশাদ হয়েছে-
قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرُهُ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ )
"বালিকাদ্বয়ের একজন বলল, হে শ্রদ্ধেয় পিতা, তাকে কর্মচারী নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার কর্মচারী হিসেবে সে-ই উত্তম হবে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।" ⁷¹
এই মেয়েটি তার কথার মাধ্যমে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। যাতে বাড়ির বাইরে কাজ করার কারণে যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সেগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।
সাম্রাজ্যবাদী কুফরীশক্তির মাধ্যমে পরিচালিত পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধে যখন অসংখ্য পুরুষ নিহত হলো, অতঃপর যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিল আর এর জন্য অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু যুদ্ধে পুরুষ শ্রমিক নিহত হওয়ার কারণে নারী শ্রমিকদের প্রয়োজন পড়ল, তখন তারা ইহুদিদের সাথে মিলে নারীদের ঘরের বাইরে বের করার জন্য তাদের স্বাধীনতার কথা ও তাদের অধিকারের কথা বলতে লাগল। এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ছিল নারীদেরকে ঘর থেকে বের করা, তাদেরকে নষ্ট করা এবং পরিবার ও সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করা। এভাবেই কাজের নামে নারীদের বাইরে বের হওয়ার বিষয়টি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
যদিও আমাদের রক্ষণশীলতা আর তাদের রক্ষণশীলতা এক নয়, আমাদের এখানে মুসলিম পুরুষই তার অন্তঃপুরবাসিনীদের রক্ষা করবে, তাদের ভরণপোষণ দেবে, এতদসত্ত্বেও নারী স্বাধীনতার আন্দোলন বেগবান হয়েছে এবং কাজের জন্য তাদের বাইরে বের হওয়ার দাবিটা আরও জোরালো হয়েছে। এ ছাড়া তাদের পড়াশোনা ও সার্টিফিকেট যেন বৃথা না যায়, এ সকল বিভিন্ন কারণে তারাও বাইরে বের হচ্ছে।
এটা না হলে মুসলিম সমাজ কখনোই নারীদের বাইরে বের প্রয়োজন অনুভব করে না। এর প্রমাণ হলো, একদিকে অসংখ্য পুরুষ কাজহীন বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে নারীদের জন্য নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরয়ী বিধান মেনে নারীরাও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে। যেমন শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে।
আমরা এত বড় ভূমিকা এজন্যই টেনে আনলাম যে, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, অনেক নারী কোনো প্রয়োজন ছাড়াই চাকরির জন্য বের হচ্ছে। শুধুমাত্র বেশি বেতনের লোভে। যদিও তার চাকরির কোনো প্রয়োজন নেই এবং এই চাকরির কারণে তাকে এমন স্থানে কাজ করতে হয়, যা তার জন্য উপযোগী নয়, এতে তাকে ফেতনার সম্মুখীন হতে হয়।
আমাদের মাঝে এবং ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শীদের মাঝে পার্থক্য হলো, আমাদের নিকট নারী মৌলিকভাবে ঘরে অবস্থান করবে এবং কখনো প্রয়োজন হলে বের হবে। আর ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শীদের নিকট নারীর মূল হচ্ছে তারা বাইরে থাকবে।
নারীর কাজটা কখনো কখনো সত্যিই প্রয়োজন হয়ে যায়। কোনো কোনো পরিবারে নারীকেই উপার্জন করতে হয়। যেমন তার স্বামী মারা যাওয়ার কারণে অথবা তার পিতা অতি বৃদ্ধ ও অক্ষম হওয়ার কারণে; এরকম কিছু কিছু পরিস্থিতির কারণে। এ ছাড়াও অনেক দেশে ইসলামি মূল্যবোধ না থাকার কারণে সেখানে নারীদের বাধ্যতামূলকভাবেই কাজ করতে হয়। যেন সেও পরিবারের খরচ বহনের ক্ষেত্রে স্বামীর সহযোগী হতে পারে। সেখানে কোনো কোনো লোক তো এমনও আছে যে, বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার সময়ই এই শর্তারোপ করে যে, তাকে কাজ করতে হবে!
সারকথা হলো, মহিলারা বাইরে কাজ করবে হয়তো তার প্রয়োজনের কারণে অথবা ইসলামি টার্গেট পূরণ করার জন্যে; যেমন শিক্ষাঙ্গনে দাওয়াত ও তা'লীমের কাজের জন্য।
বাইরে কাজে গেলে মহিলারা যে সকল খারাপ সমস্যার সম্মুখীন হয়:
* শরয়ী অনেক নিষিদ্ধ বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন নারী-পুরুষের একত্রে অবস্থান, নির্জন স্থানে পরপুরুষের সাথে পরিচয়, পরপুরুষকে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন। আর সবকিছুর শেষ পরিণতি হচ্ছে অশ্লীল কাজ ও পরকিয়া।
* স্বামীকে তার প্রাপ্য হক দেওয়া হয় না, বাড়ির কাজে অবহেলা, সন্তানদের দেখাশোনায় ঘাটতি। (এই বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ)
* পুরুষ শক্তিশালী এবং আশ্রয়স্থল, এ কথার মর্ম নারীর মন থেকে মুছে যাওয়া। একবার চিন্তা করে দেখ, এক নারী সে তার স্বামীর সমপর্যায়ের শিক্ষিতা বা তার চেয়েও বেশি শিক্ষিতা এবং তার স্বামীর চেয়ে বেশি বেতনের চাকরি করে; এখন এই নারী কি কখনো তার স্বামীর প্রয়োজন ভালোভাবে অনুভব করবে? এবং সে পূর্ণভাবে তার স্বামীর আনুগত্য করবে? না, তার এই অমুখাপেক্ষিভাব তাদের বৈবাহিক জীবনে অনেক অশান্তি নিয়ে আসবে এবং এই সমস্যাটা তাদের পরিবারের ভিতসহ নাড়িয়ে দেবে? তবে আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান তার কথা ভিন্ন।
* শারীরিক অনেক কষ্ট, এক ধরনের মানসিক চাপ এবং একগুঁয়েমিভাব, যা নারীর তবিয়তের সাথে মিল হয় না।
এই দীর্ঘ আলোচনার পর বলব, অবশ্যই আমাদেরকে তাকওয়া অর্জন করতে হবে। সব সমস্যাকে শরীয়তের পাল্লায় মাপতে হবে এবং ঐ অবস্থাগুলো ভালোভাবে জানতে হবে, কখন মহিলাদের বাইরে কাজের জন্য বের হওয়া জায়েয আছে এবং কখন জায়েয নেই। আমরা যেন দুনিয়ার কিছু উপার্জনের জন্য সত্যের পথ থেকে অন্ধ না হয়ে যাই।
পুরুষদের অবশ্যই অত্যাচার ও প্রতিশোধের মানসিকতা পরিহার করতে হবে এবং কখনো অন্যায়ভাবে স্ত্রীর মাল-সম্পদ ভক্ষণ করবে না।
টিকাঃ
৬৯. সূরা আহযাব: ৩৩
৭০. সূরা কাসাস: ২৩
৭১. সূরা কাসাস: ২৬
📄 ঘরের গোপন বিষয়গুলো বাইরে প্রকাশ না করা
এর সাথে কয়েকটি বিষয় জড়িত।
• ঘরের কোনো গোপন কথা বাইরে প্রকাশ না করা।
• স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার কথা বাইরে না ছড়ানো।
• ঘরের এমন কোনো বিষয় বাইরে প্রকাশ না করা, যা প্রকাশ করলে গোটা পরিবারের অথবা পরিবারের কোনো এক সদস্যের ক্ষতির কারণ হয়।
প্রথম বিষয়টি হারাম হওয়ার দলীল-
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ، وَتُفْضِي إِلَيْهِ، ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا.
আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ লোকের অবস্থান সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে, যে তার স্ত্রীর নিকট যায় আর তার স্ত্রী তার কাছে আসে, (অর্থাৎ উভয়ের মাঝে মিলন হয়) অতঃপর সে তার গোপন বিষয় প্রকাশ করে দেয়। ⁷²
يفضي এর অর্থ স্বামী-স্ত্রীর মিলন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-
( وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ )
"অথচ তোমাদের একজন অন্যজনের কাছে গমন করেছে। "⁷³
এটা হারাম হওয়ার আরেকটি দলীল হলো, আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাযি. এর হাদীস। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ، أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ قُعُودُ عِنْدَهُ فَقَالَ: لَعَلَّ رَجُلًا يَقُولُ: مَا يَفْعَلُ بِأَهْلِهِ، وَلَعَلَّ امْرَأَةً تُخْبِرُ بِمَا فَعَلَتْ مَعَ زَوْجِهَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ. فَقُلْتُ: إِي وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّهُنَّ لَيَقُلْنَ وَإِنَّهُمْ لَيَفْعَلُونَ قَالَ: فَلَا تَفْعَلُوا فَإِنَّمَا مِثْلُ ذَلِكَ مِثْلُ الشَّيْطَانُ لَقِيَ شَيْطَانَةٌ فِي طَرِيقٍ فَغَشِيَهَا وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ.
আসমা বিনতে ইয়াযীদ রাযি. বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মজলিসে ছিলেন এবং তাঁর পাশে পুরুষ ও নারী সাহাবীগণ বসা ছিলেন। তখন তিনি বললেন, “সম্ভবত কোনো পুরুষ এমন আছে, যে তার স্ত্রীর সাথে যা করে তা বলে বেড়ায়? আর কোনো মহিলা এমন আছে, যে তার স্বামীর সাথে যা হয় তা বলে বেড়ায়?" তখন সকলেই চুপ হয়ে গেল। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর শপথ! মহিলারা এমনটি বলে এবং তারাও (পুরুষরা) এমনটি করে। তিনি বললেন, “তোমরা এমনটি কোরো না। কারণ, এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঐ পুরুষ শয়তানের মতো, যে রাস্তায় নারী শয়তানের সাথে দেখা হলে সেখানেই তারা অপকর্ম করে আর মানুষ তা দেখতে থাকে। "⁷⁴
সুনানে আবু দাউদের রেওয়ায়েতে এসেছে-
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ طُفَاوَةً قَالَ: تَثَوَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ بِالْمَدِينَةِ... فَقَالَ: أَلَا أُحَدِّثُكَ عَنِّي وَعَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قُلْتُ: بَلَى... فَقَالَ: هَلْ مِنْكُمُ الرَّجُلُ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ فَأَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهُ وَأَلْقَى عَلَيْهِ سِتْرَهُ وَاسْتَتَرَ بِسِتْرِ اللَّهِ؟ قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: ثُمَّ يَجْلِسُ بَعْدَ ذَلِكَ فَيَقُولُ فَعَلْتُ كَذَا فَعَلْتُ كَذَا. قَالَ: فَسَكَتُوا، قَالَ فَأَقْبَلَ عَلَى النِّسَاءِ، فَقَالَ: هَلْ مِنْكُنَّ مَنْ تُحَدِّثُ؟ فَسَكَتْنَ فَجَتَتْ فَتَاةً قَالَ مُؤَمَّلُ، فِي حَدِيثِهِ فَتَاةٌ كَعَابُ عَلَى إِحْدَى رُكْبَتَيْهَا وَتَطَاوَلَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَرَاهَا وَيَسْمَعَ كَلَامَهَا فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُمْ لَيَتَحَدَّثُونَ وَإِنَّهُنَّ لَيَتَحَدَّثْنَهُ، فَقَالَ: هَلْ تَدْرُونَ مَا مَثَلُ ذَلِكَ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ مَثَلُ شَيْطَانَةٍ، لَقِيَتْ شَيْطَانًا فِي السِّكَّةِ فَقَضَى مِنْهَا حَاجَتَهُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ.
আবু নাযরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "তোফাওয়াত নামক স্থানের একজন বৃদ্ধ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি একদা মদীনায় আবু হুরাইরা রাযি. এর মেহমান হিসেবে অবস্থান করি।.... আবু হুরাইরা রাযি. বললেন, আমি কি তোমাকে আমার ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘটনা বর্ণনা করব না? আমি বললাম, হ্যাঁ। ....অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তোমাদের মধ্যে কি এমন পুরুষ আছে, যে তার স্ত্রীর নিকট আসে, অতঃপর দরজা বন্ধ করে দেয় এবং তার ওপর পর্দা টেনে দেয়, আল্লাহর গোপন করার মাধ্যমে নিজেদের গোপন করে'? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, 'এরপর সে লোকদের মাঝে বসে এবং বলে, আমি এমন করেছি, আমি এমন করেছি'? তখন লোকেরা চুপ করে থাকল। তখন তিনি মহিলাদের দিকে ফিরে বললেন, 'তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে এমনটি বলে'? তারা সকলে চুপ রইলেন। তখন এক তরুণী এক হাঁটুর ওপর ভর করে মাথা উঁচু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে তাকাচ্ছিলেন, যেন তিনি তাকে দেখতে পান এবং তার কথা শুনতে পান। অতঃপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, নিশ্চয় তারা (পুরুষরা) এমনটি বলে এবং তারাও (মহিলারা) এমনটি বলে। তখন তিনি বললেন, 'তোমরা কি জান যে, তার উপমা কেমন? এর উপমা হলো, নারী শয়তান যে গলির মধ্যে পুরুষ শয়তানের সাথে দেখা করে এবং সেখানে মানুষের দৃষ্টির সামনে তাদের চাহিদা পূরণ করে'।”⁷⁵
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের বিষয়টা ঘরের বাইরে নিয়ে আসা। আর এ কারণে অনেক সময়ই সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে। পারিবারিক ছোটখাটো সমস্যার মধ্যে তৃতীয় পক্ষকে টেনে এনে বেশির ভাগ সময়ই সমস্যাকে আরও গুরুতর করা হয়।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্বের সমাধান নিজেরাই করার চেষ্টা করবে। নিজেদের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তাদের কোনো নিকটাত্মীয়ের সাহায্য নিয়ে সমস্যার সমাধান করবে। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
"যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মতো পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।”⁷⁶
আর তৃতীয় বিষয়টি হলো, ঘরের খবর বাইরে প্রচার করা, যে কারণে পরিবার অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের ক্ষতি হয়। এটা জায়েয নেই। কারণ, এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই হাদীসের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار.
ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কেউ কারও ক্ষতি করবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হবে না।"⁷⁷
নিম্নে বর্ণিত আয়াতে কারীমার তাফসীরে বিষয়টির উপমা রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
﴿ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحِيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ ﴾
“আল্লাহ তাআলা কাফেরদের জন্য নূহপত্নী ও লূতপত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাঁদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহ তাআলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হলো, জাহান্নামিদের সাথে জাহান্নামে চলে যাও।"⁷⁸
সুলাইমান ইবনে কাত্তাহ রহ. বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রাযি.-কে فَخَانَتَاهُمَا এর ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, তারা যিনা করেনি। নূহ আ. এর স্ত্রীর খেয়ানত ছিল, সে মানুষের কাছে বলে বেড়াতো যে, নূহ আ. পাগল হয়ে গেছে। আর লূত আ. এর স্ত্রীর খেয়ানত ছিল, তাঁর মেহমানদের কথা তাঁর গোত্রের লোকদের বলে দিত।
ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বলেন-
وَقَالَ الْعَوْفِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كانت خيانتهما أنهما كانتا على غير دينهما، فَكَانَتِ امْرَأَةُ نُوحٍ تَطَّلِعُ عَلَى سِرِّ نُوحٍ فَإِذَا آمَنَ مَعَ نُوحٍ أَحَدُ أَخْبَرَتِ الْجَبَابِرَةَ مَنْ قَوْمِ نُوحٍ بِهِ، وَأَمَّا امْرَأَةُ لُوطٍ فَكَانَتْ إِذَا أَضَافَ لُوطُ أَحَدًا أَخْبَرَتْ بِهِ أهل المدينة ممن يعمل السوء.
"আওফী রহ. ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করে বলেন, তাদের খেয়ানতটা ছিল, তারা এদের (নূহ ও লূত আ. এর) ধর্মের অনুসারী ছিল না। নূহ আ. এর স্ত্রী নূহ আ. এর গোপন বিষয়গুলো জানতেন আর যখন কোনো লোক নূহ আ. এর প্রতি ঈমান আনত, তখন সে কওমের প্রভাবশালী লোকদেরকে বিষয়টা জানিয়ে দিত। আর লূত আ. এর স্ত্রীর বিষয়টা ছিল, যখন লূত আ. এর নিকট কোনো মেহমান আসত, তখন সে শহরের ঐ সকল লোককে বিষয়টা জানিয়ে দিত, যারা খারাপ কাজ করত।"⁷⁹
টিকাঃ
৭২. সহীহ মুসলিম: ২/১০৬০, হা. নং ১৪৩৭ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়ি্য, বৈরূত)
৭৩. সূরা নিসা: ২১
৭৪. মুসনাদে আহমাদ: ৪৫/৫৬৪-৫৬৫, হা. নং ২৭৫৮৩ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৭৫. সুনানে আবু দাউদ: ২/২৫২, হা. নং ২১৭৪ (প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরূত)
৭৬. সূরা নিসা: ৩৫
৭৭. মুসনাদে আহমাদ: ৫/৫৫, হা. নং ২৮৬৫ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)
৭৮. সূরা তাহরীম: ১০
৭৯. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৮/১৯২ (প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)