📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া

📄 পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন- ﴿ وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ ﴾
“তাদের কার্যক্রম পরস্পরে পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।”⁶¹

সুযোগ হলে পরিবারের সকল সদস্য একত্রে বসবে এবং পরিবারের ভেতরের ও বাইরের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। নিঃসন্দেহে এটা পরিবারের একজনের সাথে অপরজনের মজবুত সম্পর্ক ও সুদৃঢ় বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাআলা পরিবারের দায়িত্ব পুরুষকেই দিয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকারও তারই। কিন্তু সবার সাথে পরামর্শ করে কাজ করা অন্যকে (ভবিষ্যতে) দায়িত্ব বহন করার শিক্ষা দেয়। সাথে সাথে এর মাধ্যমে অন্যরাও খুশি হয় যে, বাড়ির কাজে তারও মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং ঘরে তার মতামতেরও একটা মূল্য আছে। পরামর্শগুলো হবে পরিবার ও পরিবারের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে; যেমন হজ-উমরায় যাওয়া, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি যাওয়া, ভ্রমণে যাওয়া, এক বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় যাওয়া ইত্যাদি। কিংবা পরিবারের কোনো অনুষ্ঠানের বিষয় নিয়ে; যেমন কারও বিবাহ, ওলীমা, আকীকা ইত্যাদি। অথবা জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে; যেমন এলাকার দরিদ্র মানুষদের লিস্ট করা, তাদের নিকট খাবার বা সাহায্য পৌঁছানো ইত্যাদি। এ ছাড়াও পরামর্শ হতে পারে পরিবারের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে, আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এবং তা থেকে উত্তরণের পথ ও পদ্ধতি নিয়ে।

এখানে আরও একটি বিষয়ের প্রতিও ইঙ্গিত করা যুক্তিযুক্ত মনে করছি, সেটাকেও সমষ্টিগত বিষয়ই বলা যায়। যেমন বাবা-ছেলের একান্তে বসা।

সাবালক ও যুবক ছেলেরা এমন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়, একান্তে বসা এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা ব্যতীত তা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং এর থেকে সমাধানের জন্য বাবা-ছেলে একান্তে বসবে এবং বাবা সন্তানের সাথে যুবক বয়সের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে। তার বয়স এবং বালেগ বয়সের বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করবে। অনুরূপভাবে মা মেয়েকে নিয়ে বসবে এবং প্রয়োজনীয় শরয়ী হুকুম-আহকাম নিয়ে তার সাথে আলোচনা করবে। মেয়েরা এই বয়সে যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়, তা থেকে সমাধানের ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করবে। বাবা-মা সন্তানদের সাথে কথা বলার সময় খুবই স্বাভাবিক ও সহজভাবে কথা বলবে। যেমন আমি যখন তোমার মতো এই বয়সে ছিলাম, তখন আমিও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম।

এভাবে কথা বললে অনেক প্রভাব ফেলে এবং মানুষ তা দ্রুত গ্রহণ করে নেয়। তাদের সাথে এ সকল বিষয় নিয়ে একান্তে কথা না বললে তারা এ বিষয়গুলো তাদের কোনো খারাপ বন্ধু বা বান্ধবীদের বলবে, তখন এর ফলাফল হবে অনেক ভয়াবহ।

টিকাঃ
৬१. সূরা শূরা: ৩৮

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 দাম্পত্য কলহের বিষয়গুলো সন্তানদের সামনে প্রকাশ না করা

📄 দাম্পত্য কলহের বিষয়গুলো সন্তানদের সামনে প্রকাশ না করা


এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যাদের মধ্যে কম-বেশি মনোমালিন্য ও ঝগড়া-বিবাদ হয় না। তবে ছোটখাটো বিষয়ে মনোমালিন্য হলে পরস্পর সংশোধন করে নেওয়াই উত্তম এবং সত্যের দিকে ফিরে যাওয়াই কল্যাণ ও ফযীলতের কাজ। কিন্তু যেই জিনিসটা পুরো পরিবারকেই উলট-পালট করে দেয় এবং পারিবারিক সম্পর্ক ও সুখ-শান্তি নষ্ট করে, সেটা হলো- পরস্পরের দ্বন্দ্বের বিষয়টা অন্যদের সামনে প্রকাশ করা। এর ফলে কখনো কখনো পরিবার কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং পারিবারিক ঐক্য বিনষ্ট হয়। বিশেষভাবে এটা পরিবারের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। ফলে তারা আর সুস্থ ও সুন্দর মন নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে না। ঐ পরিবারের অবস্থা নিয়ে একবার চিন্তা করে দেখ, যেখানে পিতা তার ছেলেকে বলে, তুমি তোমার মায়ের সাথে কথা বলবে না। আর মা তাকে বলে, তুমি তোমার বাবার সাথে কথা বলবে না। আর সন্তান থাকে ঘোর ও আত্মিক অশান্তির মধ্যে। তারা সকলেই একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করতে থাকে।

সুতরাং আমাদের উচিত, আমরা ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলব। কখনো পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে গেলে দ্রুত নিজেরাই সংশোধন করে নেব। আল্লাহ তাআলার কাছে এই প্রার্থনা করি যে, তিনি প্রতিটি হৃদয়ের মধ্যে মিল-মহব্বত ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন।

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 বদদ্বীন লোকদের ঘরে প্রবেশ করতে না দেওয়া

📄 বদদ্বীন লোকদের ঘরে প্রবেশ করতে না দেওয়া


সুনানে আবু দাউদের বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ..... وَمَثَلُ جليس السُّوءِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْكِيرِ، إِنْ لَمْ يُصِبْكَ مِنْ سَوَادِهِ أَصَابَكَ مِنْ دُخَانِهِ.
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “খারাপ সঙ্গীর উপমা হলো কামারের মতো। কালি ও ময়লা যদি নাও লাগে, তথাপি ধোঁয়া অবশ্যই লাগবে।"⁶²

সহীহ বুখারীতে এসেছে-
أَبُو بُرْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بُرْدَةَ بْنَ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَثَلُ الجليس الصَّالِحِ وَالجَلِيسِ السَّوْءِ، كَمَثَلِ صَاحِبِ المِسْكِ وَكِيرِ الحدادِ ، لَا يَعْدَمُكَ مِنْ صَاحِبِ المِسْكِ إِمَّا تَشْتَرِيهِ، أَوْ تَجِدُ رِيحَهُ، وَكِيرُ الحَدَّادِ يُحْرِقُ بَدَنَكَ، أَوْ ثَوْبَكَ، أَوْ تَجِدُ مِنْهُ رِيحًا خَبِيثَةٌ.
আবু মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা মেশক বিক্রেতা ও কামারের হাপরের ন্যায়। মেশক বিক্রেতা থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসবে না। হয় তুমি মেশক ক্রয় করবে, না হয় তার ঘ্রাণ পাবে। আর কামারের হাপর তোমার শরীর বা কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।"⁶³

আল্লাহর শপথ করে বলছি, সে তোমার ঘরকে অশান্তি ও ফেতনা-ফাসাদের মাধ্যমে একেবারে জ্বালিয়ে দেবে। এ সকল ফেতনাবাজ, সন্দেহ সৃষ্টিকারী ও নিচু জাতের মানুষের কারণে কত মানুষের ঘর যে ভেঙেছে! কত পরিবারের মাঝে যে শত্রুতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে! কত স্বামী-স্ত্রীর সংসার যে শেষ হয়ে গেছে! এর কোনো হিসেব নেই। আল্লাহর লা'নত ঐ ব্যক্তির ওপর, যে স্ত্রীকে স্বামীর ওপর সন্দেহপ্রবণ করে তোলে এবং স্বামীকে স্ত্রীর ওপর সন্দেহপ্রবণ করে তোলে এবং বাবা ও সন্তানদের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি করে।

ঘরের মধ্যে জাদু-টোনা, চুরি-চামারি, তাবীজ-কবজ ইত্যাদির মূল কারণ হলো, বদদীন লোকদের ঘরে প্রবেশ করা। এ সকল খারাপ লোকদের ঘরে প্রবেশের কারণে ঘর ও পরিবারের লোকদের চরিত্র নষ্ট হয়। সুতরাং এ সকল বদদীন ও দুশ্চরিত্র মানুষদের কখনোই ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। হোক সে তোমার প্রতিবেশী অথবা বাহ্যিকভাবে তোমার কল্যাণকামী কোনো নারী-পুরুষ। কিছু মানুষ আছে, যারা সমস্যা হতে দেখেও চুপ থাকে। দরজার সামনে বদদীন, ফেতনাবাজ লোক দেখেও তাকে ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

ঘরে ফেতনা-ফাসাদ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে মহিলারা। সুনানে তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، أَنَّهُ شَهِدَ حَجَّةَ الوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَحَمِدَ اللهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَذَكَرَ، وَوَعَظَ، فَذَكَرَ فِي الحَدِيثِ قِصَّةٌ، فَقَالَ: ....
أَلَا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا، فَأَمَّا حَقَّكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ فَلَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ، وَلَا يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ، أَلَا وَحَقَّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ.
আমর বিন আহওয়াস রাযি. বর্ণনা করেন যে, তিনি বিদায় হজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, আলোচনা ও নসীহত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন..... জেনে রেখ, "তোমাদের যেমন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি অধিকার রয়েছে, তাদেরও তোমাদের প্রতি ঠিক সেরকমই অধিকার রয়েছে। তাদের প্রতি তোমাদের অধিকার এই যে, তোমরা যাদেরকে অপছন্দ কর, তাদেরকে তারা যেন তোমাদের বিছানা ব্যবহারের অনুমতি না দেয় এবং যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর, তাদেরকে তারা যেন তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়। জেনে রেখ, তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। "⁶⁴

সুতরাং হে মুসলিম নারী, তোমার বাবা বা তোমার স্বামী যখন কোনো প্রতিবেশী নারীকে ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেবে, তখন তুমি মন খারাপ কোরো না। কারণ, তিনি ঐ মহিলার আচরণের মধ্যে ফেতনা ছড়ানোর প্রভাব দেখতে পেয়েছেন। আর কোনো মহিলা যখন তোমার স্বামী এবং তার স্বামীর মধ্যে তুলনা করে এবং তোমার মনে তোমার স্বামীর ব্যাপারে কোনো খারাপ ধারণা প্রবেশ করানোর চেষ্টা করবে, তখন তুমি বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দাও। আর তুমি যখন বুঝতে পারবে যে, তোমার স্বামী এমন বন্ধুবান্ধবদের ঘরে নিয়ে আসে, যারা খারাপকে ভালো হিসেবে তার সামনে পেশ করে, তাহলে তুমি তাকে এ সকল বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেবে।

তুমি যথাসম্ভব বাড়িতে অবস্থানের চেষ্টা করবে। কারণ, ঘরে একজন অভিভাবকের উপস্থিতি সবকিছু ঠিকঠাক রাখার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে এবং পরিবারের অনেক বিষয় কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। কিছু মানুষ আছে বাড়ির বাইরে থাকাই যাদের প্রধান কাজ। তাদের যখন যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকে, তখন তারা বাড়িতে ফিরে আসে। এটা খুবই খারাপ একটি অভ্যাস। কোনো প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া ঠিক আছে। কিন্তু কোনো প্রয়োজন ছাড়া শুধু শুধু সময় নষ্ট করা, কোনো গুনাহের কাজ করা অথবা দুনিয়া নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকার কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। অবশ্যই এই অবস্থা থেকে ফিরে আসা এবং তাওবা করা উচিত। বাইরের ব্যস্ততা কমিয়ে ঘরে সময় দিতে হবে এবং অযথা বাইরে আড্ডা দেওয়া বাদ দিতে হবে। ঐ সকল লোক কতই না খারাপ, যারা পরিবারকে সময় না দিয়ে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে রাত কাটায়!

আমরা কিছুতেই শত্রুদের পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিতে চাই না। ১৯২৩ সালে ফ্রান্সের প্রধান ধর্মপ্রচারক মাসূনী এক প্রবন্ধে বলেছিল, 'ব্যক্তির মাঝে এবং তার পারিবারের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলে তোমাদেরকে অবশ্যই চরিত্রকে তার মূলভিত্তি থেকে সরিয়ে আনতে হবে। কারণ, মন সর্বদা পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে হারাম কাজের দিকে ধাবিত হতে চায়। পারিবারিক দায়িত্ব পালন করার চাইতে ক্যাফেতে গিয়ে গল্পগুজব ও আড্ডা দেওয়াকে পছন্দ করে।'

টিকাঃ
৬২. সুনানে আবু দাউদ: ৪/২৫৯, হা. নং ৪৮২৯ (প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত)
৬৩. সহীহ বুখারী: ৩/৬৩, হা. নং ২১০১ (প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
৬৪. সুনানে তিরমিযী: ২/৪৫৮, হা. নং ১১৬৩ (প্র. দারুল গারবিল ইসলামী, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 পরিবারের সদস্যদের অবস্থা ও প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা

📄 পরিবারের সদস্যদের অবস্থা ও প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা


যেমন, আপনার সন্তানের বন্ধুবান্ধব কারা? আপনার অগোচরে আপনার সন্তান কোথায় যায় এবং কী করে? আপনার সন্তান বাহির থেকে ঘরে কী নিয়ে আসে? আপনার মেয়ে কোথায় যায়? কার সাথে যায়?

অনেক পিতা আছে, যারা জানেই না যে, তার সন্তানের চরিত্র অনেক খারাপ হয়ে গেছে। সে গোপনে অশ্লীল ছবি ও ফিল্ম দেখে, ধূমপান করে; এমনকি অনেক পিতা এটা খবরও রাখে না যে, তার কন্যা কাজের মেয়েটির সাথে মার্কেটে যায় এবং কাজের মেয়েকে ড্রাইভারের সাথে অথবা কোথাও দাঁড়িয়ে করিয়ে রেখে সে কোনো এক শয়তানের সাথে ডেটিং করে। আবার কোনো কোনো মেয়ে তার খারাপ বান্ধবীর সাথে গিয়ে সিগারেট খায় বা নেশা করে। এ সকল লোক তাদের সন্তানদের খোঁজখবর রাখার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন। তারা একবারও সেই ভয়াবহ দিনের কথা চিন্তা করে না, যেদিন থেকে পলায়ন করার কোনো সুযোগ নেই। যেদিন প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

সহীহ ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الله سائل كل راع عما استرعاه: أحفظ أَمْ ضَيَّعَ، حَتَّى يَسْأَلَ الرَّجُلَ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ.
হাসান রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দায়িত্বশীলকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সে কি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে, না তাতে অবহেলা করেছে? এমনকি মানুষকে তার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"⁶⁵

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়:
* গোপনে আপনি আপনার সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করুন।
* সন্তানের মধ্যে কখনো ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।
* আপনার সন্তান যেন আস্থাহীন না হয়ে পড়ে।
* সন্তানকে নসীহত অথবা শাস্তিপ্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই তার বয়স, বুদ্ধি ও ভুলের পরিমাণের দিকে লক্ষ রাখুন।

সাবধান, কখনোই নেতিবাচকভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ করবেন না। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের হিসাব নিতে যাবেন না।

আমাকে এক লোক বলেছে, কোনো এক পিতা তার সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ক্যামেরা ও কম্পিউটার ফিট করেছে, যাতে তার ছেলের ভুলত্রুটিগুলোর তালিকা সংরক্ষণ থাকে। অতঃপর সন্তান যখনই কোনো ভুল করে, তখন সকল তথ্য-প্রমাণসহকারে সন্তানকে একটি নির্ধারিত কামরায় নিয়ে যায় এবং বর্তমান অপরাধসহ পূর্বের সকল অপরাধ তার সামনে তুলে ধরে।

আমি বলব, আমরা কোনো কোম্পানির ঠিকাদার নই। আর পিতাকেও সেখানের সন্তানের সকল দোষ-ত্রুটি লিখে রাখার দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। অবশ্যই এই পিতার ইসলামি তরীকায় সন্তান লালন-পালনের মূলনীতির বই পড়া উচিত।
এর বিপরীতে আমি এটাও জানি যে, অনেক মানুষ আছে, যারা তার সন্তানের কোনো বিষয়ের খোঁজ-খবর নেয় না; বরং ছেলেমেয়েদেরকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়। তারা যা ইচ্ছে তাই করুক না কেন, তার কোনো খবর নেয় না। তাদের অজুহাত হলো, তাদের সন্তানেরা ভুলকে ভুল এবং অপরাধকে অপরাধ বলে কখনো বিশ্বাস করবে না; যতক্ষণ না তারা কোনো একটি অপরাধ ঘটিয়ে বসে। আর এরপরই তাদের নিজেদের ভুলের ব্যাপারে উপলব্ধি সৃষ্টি হয়। এটা একটি বিকৃত চিন্তা, যা পশ্চিমা দর্শনের দুধপানের দরুন সৃষ্ট এবং অবাধ স্বাধীনতার নিকৃষ্ট ফসল। কত নিকৃষ্ট এমন চিন্তা লালনকারী ও ধারণকারী!

অনেক মানুষ আছে, যারা নিয়ন্ত্রণ ছেলের হাতে ছেড়ে দেয় এই ভয়ে যে, সে তার ধারণানুপাতে তাকে অপছন্দ করবে। সে বলে, সে যাই করুক না কেন, আমি তাকে ভালোবাসব। আর কেউ কেউ স্বীয় সন্তানকে মুক্ত করে দেয় এজন্য যে, পূর্বে তার পিতা (অর্থাৎ সন্তানের দাদা) তার সাথে অতিরিক্ত কঠোরতা আরোপ করেছিল; যার ফলে সে ভাবছে যে, স্বীয় সন্তানের সাথে ঠিক তার বিপরীত আচরণ করবে। আর কেউ তো এত নিচে নেমে যায় যে, এভাবে বলে, ছেলে-মেয়েকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দাও। ওরা ওদের যৌবনকে ইচ্ছেমতো ভোগ করুক।

এ সকল পিতারা কি কখনো ভেবে দেখেছে যে, কিয়ামতের দিন তাদের সন্তানেরাই তাদের কলার চেপে ধরে জিজ্ঞাসা করবে, হে আমার পিতা, আপনি কেন আমাকে গুনাহর কাজে ছেড়ে দিয়েছিলেন?

টিকাঃ
৬৫. সহীহ ইবনে হিব্বان: ১০/৩৪৫, হা. নং ৪৪৯৩ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00