📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘরের লোকদের ইলম শিক্ষা দেওয়া

📄 ঘরের লোকদের ইলম শিক্ষা দেওয়া


গৃহকর্তাকে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করে অবশ্যই এ ফরযটি আদায় করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ﴾
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ। আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন, তারা তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয় তারা তাই করে।”³⁶

এই আয়াতের প্রকৃত দাবি হলো, পরিবারের লোকদের ইলমে দীন শিক্ষা দেওয়া। সঠিক তরবিয়তের মাধ্যমে তাদেরকে গড়ে তোলা এবং তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা।

প্রিয় পাঠক, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় পরিবারের কর্তার দায়িত্ব সম্পর্কে মুফাসসিরগণ যা বলেছেন, এখানে তার কিছু তুলে ধরছি।
ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বর্ণনা করেন-
وَقَالَ قَتَادَةُ تَأْمُرُهُمْ بِطَاعَةِ اللَّهِ وَتَنْهَاهُمْ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَأَنْ تَقُوْمَ عَلَيْهِمْ بِأَمْرِ اللَّهِ وَتَأْمُرُهُمْ بِهِ وَتِسَاعِدُهُمْ عَلَيْهِ فَإِذَا رَأَيْتَ لِلَّهِ مَعْصِيَةً رَدَعْتَهُمْ عَنْهَا وَزَجَرْتَهُمْ عَنْهَا، وَهَكَذَا قَالَ الضَّحَاكُ وَمُقَاتِلُ: حَقٌّ عَلَى الْمُسْلِمِ أَنْ يُعَلَّمَ أَهْلَهُ مِنْ قَرَابَتِهِ وَإِمَائِهِ وَعَبِيدِهِ مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَمَا نَهَاهُمُ اللَّهُ عَنْهُ.
"কাতাদা রহ. বলেন, তুমি তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্য করতে আদেশ করবে এবং তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে বাধা প্রদান করবে। আল্লাহ তাআলার আদেশের ব্যাপারে তাদের প্রতি যত্নবান হবে, তাদেরকে তা পালন করতে আদেশ করবে এবং সাহায্য-সহযোগিতা করবে। যাহহাক এবং মুকাতিল রহ. এমনই বলেছেন যে, মুসলমানের দায়িত্ব হলো, পরিবারের নিকটাত্মীয়, অধীনস্থ দাস-দাসী ও কাজের লোকদেরকে আল্লাহর আদেশ- নিষেধসংক্রান্ত ফরয ইলম শিক্ষা দেওয়া। "³⁷

ইমাম বাইহাকী রহ. বর্ণনা করেন-
وَبِإِسْنَادِهِ: نا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ زَكَرِيَّا، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ، عَنْ عَلِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: عَلَّمُوهُمْ وَأَدَّبُوهُمْ.
"আলী রাযি. বলেন, তোমরা তাদেরকে ইলমে দীন ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।"³⁸

ইমাম জাসসাস রহ. বলেন-
وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ عَلَيْنَا تَعْلِيمَ أَوْلَادِنَا وَأَهْلِينَا الدِّينَ وَالْخَيْرَ وَمَا لَا يُسْتَغْنَى عَنْهُ مِنْ الْآدَابِ.
"এ আয়াত প্রমাণ করে যে, আমাদের ওপর আমাদের সন্তান- সন্ততি ও পরিবার-পরিজনদের কল্যাণকর ইলম ও প্রয়োজনীয় শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া একান্ত আবশ্যক।"³⁹

একবার ভেবে দেখ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে দাস-দাসীদের ইলম শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে আদেশ করেছেন, সেখানে তোমার স্বাধীন সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনদেরকে ইলম শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব কতটুকু?
ইমাম বুখারী রহ. তাঁর সহীহ গ্রন্থে 'মানুষ স্বীয় দাস-দাসী ও পরিবারের লোকদের ইলম শিক্ষা দেওয়া' নামক অধ্যায়ে একটি হাদীস এনেছেন-
قَالَ عَامِرُ الشَّعْبِيُّ: حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلَاثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ.... وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَةٌ فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا، ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ.
আবু বুরদা রহ. তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তিন ব্যক্তির জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে। ..... আরেকজন হলো- ঐ লোক, যার একজন দাসী রয়েছে। সে তাকে উত্তম শিষ্টাচার ও উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত করল। অতঃপর তাকে মুক্ত করে দিয়ে নিজে বিবাহ করল। তাহলে সে দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে।"⁴⁰

হাদীসটির ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন-
مُطَابَقَةُ الْحَدِيثِ لِلتَّرْجَمَةِ فِي الْأَمَةِ بِالنَّصِّ وَفِي الْأَهْلِ بِالْقِيَاسِ إِذْ الاعْتِنَاءُ بِالْأَهْلِ الْحَرَائِرِ فِي تَعْلِيمِ فَرَائِضِ اللَّهِ وَسُنَنِ رَسُولِهِ أَكَدُ مِنَ الاعْتِنَاءِ بِالْإِمَاءِ.
এই হাদীসের শিরোনাম তথা 'মানুষ স্বীয় দাস-দাসী ও পরিবারের লোকদের ইলম শিক্ষা দেওয়া' এবং মূল হাদীসের মধ্যে সমন্বয় এভাবে হবে যে, এখানে দাস-দাসীর ব্যাপারটা সরাসরি হাদীসের নস তথা মূল শব্দের মধ্যে এসেছে। আর পরিবারের লোকদের কথা কিয়াসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কারণ, দাস-দাসীদের শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে পরিবারের স্বাধীন লোকদের ফরয ও সুন্নাত ইলম শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। ⁴¹

মানুষ তার দায়িত্ব ও কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিবারের লোকদের শিক্ষার ব্যাপারে গাফেল ও উদাসীন থাকে। এর সমাধান এভাবে হতে পারে যে, সে সপ্তাহে বা মাসে একটি দিন নির্ধারণ করে রাখবে, যেদিন পরিবারের লোকদের শিক্ষা-দীক্ষার কাজে সময় ব্যয় করবে। এমনও হতে পারে যে, ঐ দিনটিতে তার নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীদেরও ইলম শিখাবে। ঐ দিনে অবশ্যই সে নিজে উপস্থিত হবে এবং পরিবারের সকলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে দেবে।

এ বিষয়ে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমল পেশ করছি।

ইমাম বুখারী রহ. তাঁর সহীহ বুখারীতে 'মহিলাদের ইলম শিক্ষা দেওয়ার জন্য কি স্বতন্ত্র কোনো দিন নির্ধারণ করা হবে?' নামে একটি অধ্যায় কায়েম করে নিম্নোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন-
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَتِ النِّسَاءُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: غَلَبَنَا عَلَيْكَ الرِّجَالُ، فَاجْعَلْ لَنَا يَوْمًا مِنْ نَفْسِكَ، فَوَعَدَهُنَّ يَوْمًا لَقِيَهُنَّ فِيهِ، فَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ.
আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, “কতিপয় মহিলা সাহাবী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, পুরুষরা আপনার ক্ষেত্রে আমাদেরকে পরাজিত করেছে (অর্থাৎ পুরুষরা আপনার কাছ থেকে ইলম শিক্ষার সুযোগ বেশি পাচ্ছে।) অতএব আপনি আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একটি দিন নির্ধারণ করুন। তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট দিনে তাদের নিকট আসার অঙ্গীকার করলেন। অতঃপর তিনি (নির্দিষ্ট দিনে) তাদেরকে নসীহত করেছেন এবং আদেশ দিয়েছেন। "⁴²

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন-
وَوَقَعَ فِي رِوَايَةِ سَهْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِنَحْوِ هَذِهِ الْقِصَّةِ فَقَالَ مَوْعِدُكُنَّ بَيْتُ فُلَانَةٌ فَأَتَاهُنَّ فَحَدَّثَهُنَّ.
"আর সুহাইল বিন সালেহ রহ. স্বীয় পিতা সূত্রে আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত ঘটনাটি এভাবে এসেছে, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, 'তোমরা অমুক মহিলার ঘরে একত্র হবে। অতঃপর তিনি তাদের নিকট আসলেন এবং তাদেরকে নসীহত করলেন'। "⁴³

এই হাদীস থেকে নারী সাহাবীদের ইলম শিক্ষার আগ্রহের বিষয় এবং মহিলাদের ঘরের ভেতরে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করার গুরুত্বের বিষয়টি বুঝে আসে। পাশাপাশি এ থেকে এটাও প্রতীয়মান হয় যে, দাঈ এবং পরিবারের অভিভাবকদের জন্য নারীদের বাদ দিয়ে শুধু পুরুষদের নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা ও তাদেরকেই শুধু গুরুত্ব দেওয়া অনেক বড় একটি সমস্যা ও সংকীর্ণতা।
অনেকে বলে যে, ঠিক আছে, আমরা আমাদের পরিবারের লোকদের শিক্ষার জন্য একটি দিন নির্ধারণ করলাম। কিন্তু আমরা তাদের কী শিখাব, কীভাবে শিখাব এবং তাদের শিক্ষাটা কীভাবে শুরু করব?

প্রিয় পাঠক, এ বিষয়ে আমি আপনাদের একটা প্রস্তাব দেব। সাধারণভাবে পরিবারের সকল লোকের এবং বিশেষভাবে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যা খুব সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি হবে বলে আশা করি।

আল্লামা ইবনে সাদী রহ. রচিত 'তাইসীরুল কারীমির রাহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান' নামক তাফসীর গ্রন্থ থেকে পরিবারের লোকদের সামনে ধারাবাহিকভাবে একটির পর একটি আয়াত পাঠ করতে পারেন।

রিয়াযুস সালেহীনের হাদীসগুলোকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট টীকা, ফায়দা ও নসীহতগুলো-সহকারে নিয়মিত তা'লীম করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে 'নুজহাতুল মুত্তাকীন' নামক কিতাবটিও দেখতে পারেন।

আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান রহ. এর 'হুসনুল উসওয়াতি বিমা সাবাতা আনিল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াতি' নামক কিতাবটি পড়বেন।

সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মহিলাদের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফিকহি মাসআলাও শিক্ষা দেবেন। যেমন, পবিত্রতার হুকুম-আহকাম, ঋতুস্রাবের মাসআলা, নামাজ, সিয়াম, হজ, যাকাতের মাসআলা, খাবার-পানীয়, পোষাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জার বিধিবিধান, নবীদের স্বভাবজাত সুন্নাতসমূহ, মাহরাম ও গাইরে মাহরামের হুকুম, গান শোনা ও ছবি আঁকা ইত্যাদি মাসআলাগুলো নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে শিক্ষা দেওয়া। পাশাপাশি তারা বিজ্ঞ আলেমদের ফতোয়া; যেমন শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায রহ. এর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' অনুরূপভাবে শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীন রহ. এর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' এবং আরও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য আলেমের ফতোয়া থেকে মাসআলা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে তাদের লিখিত কিতাবও পড়তে পারে, আবার তাদের রেকর্ড করা বয়ানও শুনতে পারে।

মহিলাদের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের শিক্ষার রুটিন হবে বই অধ্যয়ন এবং নির্ভরযোগ্য আলেম ও তালেবে ইলমদের লেকচার শোনার মাধ্যমে। কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াত শুনানোর মাধ্যমে এবং কখনো কখনো তাদের নিয়ে ইসলামি বই মেলাগুলোতে যাওয়া ও বই কিনে তাদের হাদিয়া দেওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার শরয়ী বিধানগুলো পরিপূর্ণভাবে মেনে তারপর যেতে হবে।

টিকাঃ
৩৬. সূরা তাহরীম: ৬
৩৭. তাফসীরে ইবনে কাসীর: ৮/১৮৮-১৮৯ (প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
৩৮. শুআবুল ঈমান: ১১/১২৭, হা. নং ৮২৮১ (প্র. মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ)
৩৯. আহকামুল কুরআন: ৩/৬২৪ (প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
৪০. সহীহ বুখারী: ১/৩১, হা. নং ৯৭ (প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
৪১. ফাতহুল বারী: ১/১৯০ (প্র. দারুল মারিফা, বৈরূত)
৪২. সহীহ বুখারী: ১/৩২, হা. নং ১০১ (প্র. দারু তাওকিন নাজাত, বৈরূত)
৪৩. ফাতহুল বারী: ১/১৯৬ (প্র. দারুল মারিফা, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 বাড়িতে ইসলামি বইয়ের একটা লাইব্রেরি তৈরি করা

📄 বাড়িতে ইসলামি বইয়ের একটা লাইব্রেরি তৈরি করা


এটা পরিবারের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে। দীনের ফিকহ অর্জনের ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং শরয়ী বিধিবিধান মেনে চলার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। বাড়িতে ইসলামি লাইব্রেরি করার ক্ষেত্রে এটা জরুরি নয় যে, লাইব্রেরি বড় হতে হবে এবং তাতে প্রচুর বই থাকতে হবে; বরং লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাতে গুরুত্বপূর্ণ কিতাবগুলো জমা করা। সেগুলোকে একটি সুন্দর ও সহজ জায়গায় রাখা; যেন পরিবারের লোকেরা এবং পাঠকবর্গ খুব সহজেই কিতাব নিতে পারে。

বাড়ি ও ঘরের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখা। একটি সুন্দর ও উপযুক্ত জায়গায় কিতাব রাখা; যেমন শয়নকক্ষে বা মেহমানখানায়। যাতে এটা বারবার বই পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে।

একটি পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরি করতে হলে আবশ্যই আপনাকে বিভিন্ন বিষয়ের বই সংগ্রহ করতে হবে। যা থেকে ফিকহি মাসআলা বের করার ক্ষেত্রে যেমন সাহায্য নেওয়া যাবে, তেমনি স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরাও উপকৃত হতে পারবে। অর্থাৎ বড়দের বইও সংগ্রহ করবে, ছোটদের বইও সংগ্রহ করবে। মহিলাদের বইও সংগ্রহ করবে আবার পুরুষদের বইও সংগ্রহ করবে। এককথায় নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবশ্রেণির মানুষের জন্য উপযুক্ত বই সংগ্রহ করবে। কিছু বই থাকবে মেহমান এলে তাদের হাদিয়া দেওয়ার জন্য এবং বাড়িতে কোনো আগন্তুক আসলে তাদের পড়তে দেওয়ার উপযোগী কিছু বইও থাকবে। আর বই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সুন্দর ছাপা ও উন্নত বাইন্ডিংয়ের বই বাছাই করবে। বই সংগ্রহের ক্ষেত্রে বই সম্পর্কে জানাশোনা আছে এমন অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নিয়ে বিভিন্ন বইমেলা থেকে বই সংগ্রহের চেষ্টা করবে।
লাইব্রেরিতে বই রাখার ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু অনুযায়ী বই রাখবে। যেমন আলমারির এক পার্শ্বে তাফসীর, এক পার্শ্বে ফিকহ, এক পার্শ্বে হাদীসের বই: এভাবে প্রতিটি বিষয়ের বই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রেখে লাইব্রেরি সাজাবে। বই খোঁজার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য বিষয়বস্তু অনুযায়ী একটা লিস্ট টানিয়ে দেবে।

পারিবারিক লাইব্রেরি করার জন্য আমার কাছে অনেকেই ইসলামিক বইয়ের লিস্ট জানতে চায়। প্রিয় পাঠক, এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি বইয়ের লিস্ট দেওয়া হলো।

তাফসীর: 'তাফসীরে ইবনে কাসীর', 'তাফসীরে ইবনে সাদী', আশকারী রহ. এর 'যুবদাতুত তাফসীর', ইবনুল কায়্যিম রহ. এর 'বাদাইউত তাফসীর', ইবনে উসাইমীন রহ. এর 'উসূলুত তাফসীর', মুহাম্মাদ সাব্বাগ রহ. এর 'উলূমুল কুরআন'।

হাদীস: 'সহীহ কালিমাতুত তায়্যিব', 'আমালুল মুসলিম ফিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ', অথবা 'আস সহীহুল মুসনাদ মিন আযকারিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ', 'রিয়াযুস সালেহীন' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নুজহাতুল মুত্তাকীন', যুবাইদী রহ. এর 'মুখতাসারু সহীহিল বুখারী', মুনযিরী রহ. এর 'মুখতাসারু সহীহি মুসলিম', 'সহীহ জামিউস সাগীর' এবং 'যঈফ জামিউস সাগীর', 'আত তারগীব ওয়াত তারহীব', 'আস সুন্নাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী', নাযেম সুলতান রচিত 'কাওয়ায়েদ ওয়াল ফাওয়ায়েদ মিনাল আরবাইনান নাবাবিয়‍্যাহ'।

আকায়েদ: 'ফাতহুল মাজীদ', 'আলামুস সুন্নাতিল মানসূরাহ', 'শারহুল আকিদাতিত তাহাবী', উমার সুলাইমান রচিত 'সিলসিলাতুল আকীদা', ড. ইউসুফ ওয়াবিল রচিত 'আশরাতুস সা'আ'।

ফিকহ: ইবনে যাওবানের 'মানারুস সাবীল', 'যাদুল মাআদ', ইবনে কুদামা রচিত 'আল মুগনী', 'ফিকহুস সুন্নাহ', সালেহ ফাওযান রচিত 'আল মুলাখ্খাসুল ফিকহী', শাইখ বিন বায, শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীন ও শাইখ আব্দুল্লাহ বিন জিবরীন রহ. এর 'মাজমুআতু ফাতওয়াল উলামা', শাইখ বিন বায ও শাইখ আলবানী রহ. রচিত 'সিফাতু সালাতিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম'।

আখলাক ও তাযকিয়াতুন নাফস: 'তাহযীবু মাদারিজিস সালেকীন', 'আল ফাওয়ায়েদ', 'আল জাওয়াবুল কাফী', 'তরীকুল হিজরাতাইন', 'বাবুস সাআদাতাইন', 'আল ওয়াবিলুস সাইব', ইবনুল কায়্যিম রহ. রচিত 'রাফিউল কালিমিত তায়্যিব', ইবনে রজব রহ. রচিত 'লাতাইফুল মাআরিফ', 'তাহযীবু মাউইযাতিল মুমিনীন', 'গিযাউল আলবাব'।

ইতিহাস: ইবনে কাসীর রহ. রচিত 'আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া', 'সিয়ারু আলামিন নুবালা', ইবনে আরাবী রচিত 'আল আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম', মুবারকপুরী রহ. রচিত 'আর রাহীকুল মাখতুম', আকরাম উমারী রচিত 'আল মুজতামাউল মাদানী', মুহাম্মাদ বিন সামেল সালামী রহ. রচিত 'মানহাজু কিতাবাতিত তারীখিল ইসলামি'।

এ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে রচিত আরও অনেক উপকারী কিতাব রয়েছে। যেমন-
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রহ., শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির সাদী রহ., শাইখ উমার বিন সুলাইমান আশকার রহ., শাইখ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইসমাঈল রহ., উস্তায মুহাম্মাদ হাসান রহ., শাইখ মুহাম্মাদ জামীল যাইনু রহ., এর কিতাবসমূহ। এ ছাড়া অন্তর বিগলিত হওয়ার জন্য উস্তায হাসান আওয়াইশা রহ. এর কিতাবসমূহ, মুহাম্মাদ বিন নাঈম ইয়াসীন রহ. রচিত 'কিতাবুল ঈমান', শাইখ মুহাম্মাদ সাঈদ কাহতানী রহ. রচিত 'আল ওয়ালা ওয়াল বারা', শাইখ আলী বিন বখীত যাহরানী রহ. রচিত 'আল ইনহিরাফাতুল আকদিয়‍্যাহ ফিল কারনিস সানিয়া আশারা ওয়াস সালিসা আশারা', শাইখ আব্দুল্লাহ শাবানা রহ. রচিত 'আল মুসলিমূনা ওয়া যাহিরাতুল হাযীমাহ', শাইখ মুস্তাফা সাবায়ী রহ. রচিত 'আল মারআতু বাইনাল ফিকহি ওয়াল কানুন', শাইখ মারওয়ান কাজাক রচিত 'আল উসরাতুল মুসলিমাহ আমামাল ফীদিও ওয়াত তালীফাযিয়ূন', শাইখ আহমাদ আবু বাতেন রচিত 'আল মারআতুল মুসলিমাহ ই'দাদাতুহা ওয়া মাসউলিয়্যাতুহা', শাইখ আদনান বাহারিস রহ. রচিত 'আল আবুল মুসলিমু ফী তারবিয়াতি অলাদিহী', শাইখ আহমাদ বারাযী রহ. রচিত 'হিজাবুল মুসলিমাহ', শাইখ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ গরীব রহ. রচিত 'ওয়া জাআ দাওরুল মাজুস', শাইখ আবু বকর যায়েদ রহ. এর কিতাবসমূহ এবং শাইখ মাশহুর হাসান সালমান রহ. এর আলোচনাগুলো।

আমি শুধু উপমাস্বরূপ কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করেছি। বিস্তারিত বলতে গেলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। সুতরাং কিতাব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য পরামর্শ ও ভালোভাবে বিবেচনা করা কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের বুঝ দান করেন।

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘরে অডিও লাইব্রেরি তৈরি করা

📄 ঘরে অডিও লাইব্রেরি তৈরি করা


বাড়িতে টেপরেকর্ডারের মাধ্যমে ভালো কাজও করা সম্ভব আবার খারাপ কাজও করা সম্ভব। সুতরাং আমরা কীভাবে তার ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি?

এই বিষয়টা বাস্তবায়ন করার মাধ্যম হলো, ঘরে একটি অডিও লাইব্রেরি তৈরি করা। যাতে ভালো ভালো ইসলামি বিষয়; যেমন উলামায়ে কেরামের ওয়ায-নসীহত, আলোচকদের বয়ান-বক্তৃতা, কারীদের কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির ক্যাসেট সংগ্রহ করবে।

বিভিন্ন কারীদের তিলাওয়াত বিশেষভাবে কারও কারও তারাবীহ'র চমৎকার তিলাওয়াত শুনলে দিল ঠাণ্ডা হয়ে যায়, হৃদয় পুলকিত হয় এবং আল্লাহর স্মরণে মন প্লাবিত হয়। আর এ সকল তিলাওয়াত পরিবারে অনেক প্রভাব ফেলে। তিলাওয়াত শোনার সময় অর্থের দিকে লক্ষ করলে মন প্রভাবিত হয়। শুধু তিলাওয়াত শোনার মধ্যেও অনেক ফায়দা রয়েছে। বারবার শোনার মাধ্যমে কুরআন মুখস্তও হয়ে যাবে এবং কুরআন তিলাওয়াত শুনতে শুনতে একসময় গান-বাজনা ও হারাম জিনিস শোনার প্রতি মন আর আগ্রহ দেখাবে না। কারণ, কুরআন হলো নূর। আর এই নূর যখন অন্তরে প্রবেশ করবে, তখন সে আর শয়তানের বাঁশিকে গ্রহণ করবে না।

ঘরে পরিবারে চলতে গেলে দৈনিক বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য মাসআলা-মাসায়েলের প্রয়োজন হয়। সুতরাং সেগুলো জানার জন্য নির্ভরযোগ্য আলেমদের ফতোয়ার রেকর্ড শুনবে।

ফতোয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে মুসলমানদের অবশ্যই লক্ষ করতে হবে যে, সে কোথা থেকে তা গ্রহণ করছে? কারণ, এটা হলো দীন। সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে দীন গ্রহণ করছ, তার প্রতি লক্ষ কর। তোমার দীন গ্রহণটা যেন হয় মুত্তাকি পরহেযগার হক্কানি আলেম থেকে, যিনি সহীহ হাদীস ও কুরআনের ওপর নির্ভর করে কথা বলেন। যার মধ্যে মাযহাবি গোঁড়ামি নেই; বরং তিনি মধ্যমপন্থী মাযহাব গ্রহণ করেন। কোনো ধরনের কঠোরতাও করেন না আবার একেবারে ছাড়ও দেন না। যিনি দলীলভিত্তিক কথা বলেন।

আর এমন লেকচারারদের লেকচার শুনবে, যারা উম্মাহর চেতনাকে জাগ্রত করার কাজ করেন, দলীলভিত্তিক কথা বলেন, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করেন এবং মুসলিম পরিবারে আদর্শ ব্যক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বাজারে ক্যাসেট অনেক এবং লেকচারারও অনেক, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুসলমানকে কিছু নিদর্শন জানতে হবে, যার মাধ্যমে সে সহীহ লেকচারারকে চিনতে পারবে। তার ক্যাসেট শুনতে আগ্রহী হবে এবং তা শুনে প্রশান্তি লাভ করবে। নিদর্শনগুলো হলো-

* লেকচারারকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র অনুসারী হতে হবে। বিদআতমুক্ত সুন্নাতের অনুসারী হতে হবে। বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়িমুক্ত মধ্যমপন্থী হতে হবে।
* যিনি দুর্বল হাদীস বর্ণনা করেন না; বরং সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে কথা বলেন।
* যিনি মানুষের অবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। উম্মাহর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন। সঠিক রোগ নির্ণয় করে সঠিক ঔষধটি প্রয়োগ করেন এবং মানুষের প্রয়োজনকে মানুষের সামনে তুলে ধরেন।
* যিনি সর্বদা হক কথা বলেন। মানুষের সন্তুষ্টিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর প্রাধান্য দেন না। হক কথা বলতে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারের পরোয়া করেন না।
ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সুন্দর সুন্দর তিলাওয়াত, ইসলামি সঙ্গীত, সকাল-সন্ধ্যার আযকার এবং ইসলামি শিষ্টাচার নিয়ে তৈরি অনেক ক্যাসেট আছে, যা অন্তরে অনেক প্রভাব ফেলে।

ক্যাসেটগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখবে, যাতে করে খুব সহজেই খুঁজে বের করা যায়। ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে তা নষ্ট না হয়। এবং তা বাচ্চা শিশুদের থেকে দূরে রাখতে হবে, যাতে তারা তার নাগাল না পায়। আমরা ক্যাসেটগুলো শুনে অন্যকেও শোনার জন্য হাদিয়া দেবো।

রান্নাঘরে, শোয়ার ঘরে এবং মেহমানখানায় একটি করে টেপরেকর্ডার রাখা যেতে পারে, যাতে করে রান্নার সময় মহিলারা শুনতে পারে, ঘুমের আগে শুনে শুনে ঘুমাতে পারে, যাতে একটি মুহূর্তও নষ্ট না হয়; বরং প্রতিটি মুহূর্ত থেকেই উপকৃত হওয়া যায়।

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 মাঝে মাঝে নেককার আলেম ও তালিবুল ইলমদের দাওয়াত করে বাড়িতে নিয়ে আসা

📄 মাঝে মাঝে নেককার আলেম ও তালিবুল ইলমদের দাওয়াত করে বাড়িতে নিয়ে আসা


আল্লাহ তাআলা বলেন-
رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا ﴾
“হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে- তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন। আর জালিমদের ধ্বংস কেবল বৃদ্ধিই করুন।"⁴⁴

ঘরে ঈমানদারদের প্রবেশের মাধ্যমে ঘরের নূর বৃদ্ধি পায়। তাদের কথা শোনা এবং তাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করার মাধ্যমে অনেক ফায়দা হয়। যেমন সুগন্ধি বিক্রেতা তোমাকে একটু সুগন্ধি দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে কিছু সুগন্ধি কিনে নেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে উত্তম ঘ্রাণ নিতে পারবে। সন্তানাদি, ভাই ও বাপ-দাদাদের এবং পর্দার ভেতরে মহিলাদের একত্র করে বয়ান শুনালে সকলেরই অনেক ফায়দা হবে। এ ছাড়া যখন তুমি ঘরে ভালো ও উত্তম লোকদের প্রবেশ করাবে, তখন মন্দ ও খারাপ লোকদের প্রবেশ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৪৪. সূরা নূহ: ২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00