📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘরের লোকদের ঈমানি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা

📄 ঘরের লোকদের ঈমানি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা


عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلَّى مِنَ اللَّيْلِ، فَإِذَا أَوْتَرَ، قَالَ: قُومِي فَأَوْتِرِي يَا عَائِشَةُ.
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি যখন বিতর পড়তেন, তখন বলতেন, “হে আয়েশা, ওঠ এবং বিতর পড়।”²⁸

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَحِمَ اللهُ رَجُلًا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى، وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ، فَإِنْ أَبَتْ، نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ، رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ، وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا، فَإِنْ أَبَى، نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা ঐ লোকের ওপর রহম করুন, যে রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও নামাজের জন্য জাগায়। সে উঠতে না চাইলে তার চেহারায় হালকা পানি ছিটিয়ে তাকে জাগ্রত করে। আল্লাহ তাআলা ঐ স্ত্রীর ওপর রহম করুন, যে রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে নামাজ আদায় করে এবং তার স্বামীকেও নামাজের জন্য জাগায়। সে উঠতে না চাইলে তার চেহারায় হালকা পানি ছিটিয়ে তাকে জাগ্রত করে।"²⁹

বাড়িতে মহিলাদের সদাকা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। এর মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে বলেছেন, “হে নারী সম্প্রদায়, তোমরা সদাকা কর। কারণ, আমাকে দেখানো হয়েছে যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই সর্বাধিক।”

দান-সদাকা করার জন্য একটা চমৎকার পদ্ধতি হলো, বাড়িতে অভাবী ও মিসকীনদের জন্য একটা বাক্স রাখবে এবং তাতে প্রতিদিন কিছু কিছু করে জমা করবে। অতঃপর এতে যা কিছু জমা হবে, তার পূর্ণ মালিকানা অভাবী ও মিসকীনদের হয়ে যাবে। কারণ, মুসলিমদের ঘরে এটা তো তাদেরই পাত্র।

পরিবারের সদস্যরা যখন দেখবে, ঘরের কর্তা আইয়ামে বীযের রোজা, সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা, আশুরা ও আরাফার রোজা এবং মহাররম ও শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখছে, তখন তাকে অনুসরণ করে তারাও এ সকল রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ হবে।

টিকাঃ
২৮. সহীহ মুসলিম: ১/৫১১, হা. নং ৭৪৪ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
২৯. সুনানে আবু দাউদ: ২/৩৩, হা. নং ১৩০৮ (প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘর ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সকল সুন্নাত ও মাসনুন দুআ পড়া এবং তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে আদায় করা

📄 ঘর ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সকল সুন্নাত ও মাসনুন দুআ পড়া এবং তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে আদায় করা


যেমন বাড়িতে প্রবেশের দুআ। সহীহ মুসলিমে এসেছে-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ، فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ.
জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, “মানুষ যখন ঘরে প্রবেশের সময় এবং খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান (অন্যান্য শয়তানকে উদ্দেশ্য করে) বলে- তোমাদের জন্য রাত কাটানোর কোনো স্থান নেই এবং তোমাদের জন্য রাতের খাবারের কোনো অংশ নেই। আর যখন সে দুআ না পড়ে ঘরে প্রবেশ করে, তখন শয়তান বলে- তোমরা রাত কাটানোর স্থান পেয়ে গেলে। আর খাবার খাওয়ার সময় যদি দুআ না পড়ে, সে বলে- তোমরা ঘুমানোর স্থান ও রাতের খাবার পেয়ে গেলে।"³⁰

ঘর থেকে বের হওয়ার দুআ। সুনানে আবু দাউদে এসেছে-
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْخُنُعَمِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِذَا خَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَالَ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، قَالَ: يُقَالُ حِينَئِذٍ : هُدِيتَ، وَكُفِيتَ، وَوُقِيتَ، فَتَتَنَحَّى لَهُ الشَّيَاطِينُ، فَيَقُولُ لَهُ شَيْطَانُ آخَرُ: كَيْفَ لَكَ بِرَجُلٍ قَدْ هُدِيَ وَكُفِيَ وَوُقِيَ؟
আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কেউ যখন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা-হাওলা ওয়ালা কু'ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' পড়ে, তখন তাকে বলা হয়- তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে গিয়েছে, তোমাকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়। তখন অন্য শয়তান তাকে বলে- কীভাবে তুমি এমন লোকের ক্ষতি করবে, যাকে হিদায়াত দেওয়া হয়েছে, যার জন্য যথেষ্ট হয়ে গেছে এবং যাকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে?”³¹

মিসওয়াক করা। সহীহ মুসলিমে এসেছে-
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ.
আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন। "³²

টিকাঃ
৩০. সহীহ মুসলিম: ২/১৫৯৮, হা. নং ২০১৮ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
৩১. সুনানে আবু দাউদ: ৪/৩২৫, হা. নং ৫০৯৫ (প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত)
৩২. সহীহ মুসলিম: ১/২২০, হা. নং ২৫৩ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)

📘 আদর্শ পরিবার গঠনে ৪০ টি উপদেশ > 📄 ঘর থেকে শয়তান তাড়ানোর জন্য নিয়মিত সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা

📄 ঘর থেকে শয়তান তাড়ানোর জন্য নিয়মিত সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা


এ ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে। এখানে তার কয়েকটা উল্লেখ করছি।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ.
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিও না। নিশ্চয় শয়তান ঐ ঘর থেকে পলায়ন করে, যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয়।"³³

মুস্তাদরাকে হাকিমে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَدْخُلُ بَيْتًا يُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ.
আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তোমরা তোমাদের ঘরে সূরা বাকারা পড়। কারণ, শয়তান ঐ ঘরে প্রবেশ করতে পারে না, যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয়।"³⁴

ঘরের মধ্যে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করার ফযীলত অনেক এবং তার প্রভাব ব্যাপক। যেমন মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ اللهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَيْ عَامٍ، فَأَنْزَلَ مِنْهُ آيَتَيْنِ، فَخَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ، وَلَا يُقْرَآنِ فِي دَارٍ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرَبَهَا الشَّيْطَانُ.
নুমান বিন বাশীর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দুই হাজার বছর পূর্বে কিতাব লিপিবদ্ধ করেছেন, যা আরশের নিকট রেখেছেন। আর তিনি তা থেকে দুটি আয়াত নাযিল করেছেন, যে দুটি আয়াতের মাধ্যমে সূরা বাকারা শেষ করা হয়। যে ঘরে তিন রাত উক্ত দুই আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, শয়তান সে ঘরের নিকটবর্তী হতে পারে না।”³⁵

টিকাঃ
৩৩. সহীহ মুসলিম: ১/৫৩৯, হা. নং ৭৮০ (প্র. দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরূত)
৩৪. মুস্তাদরাকে হাকিম: ১/৭৪৯, হা. নং ২০৬৩ (প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরূত)
৩৫. মুসনাদে আহমাদ: ৩০/৩৬৩, হা. নং ১৮৪১৪ (প্র. মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরূত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00