📄 পরিশিষ্ট : ৩
এই পরিশিষ্টটি জাতিসংঘ কর্তৃক পরিবার পরিকল্পনা প্রজেক্টের প্রকৃত চেহারা তুলে ধরার জন্য যুক্ত করা হচ্ছে। পূর্বেও বলেছি এবং আমরা এখানেও শুরুতে বলে নিচ্ছি, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার পেছনে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেসব যুক্তি পেশ করে, তার সবগুলোই অবান্তর। জনসংখ্যা থেকে সৃষ্ট হিসেবে যেসব সমস্যাকে তারা সামনে আনছে, সেগুলো আসলে জনসংখ্যা থেকে সৃষ্ট না; বরং এগুলোর সম্পর্ক তাদেরই কৃতকর্মের সাথে। পৃথিবীর সম্পদের ওপর পুঁজিবাদীদের অবৈধ ও কুক্ষিগত নিয়ন্ত্রণ এবং সমাজে সম্পদের অসম বণ্টনের ফলে জনগোষ্ঠী তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে নারীরা অনেক সময় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় পড়ছে। এমনকি এগুলো নারীর মানসিক ও যৌন স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে।
জনসংখ্যা কম হলেই যে একটা দেশের মানুষ সুখে থাকবে তা মোটেও সত্য নয়। বর্তমান দুর্ভিক্ষকবলিত এলাকাগুলোর তালিকা করলে সোমালিয়ার নাম প্রথম দিকেই থাকবে। অথচ সোমালিয়ার আয়তন ৬ লাখ ৩৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের ৪ গুণেরও বেশি। আর জনসংখ্যা মাত্র ১ কোটি, যা বাংলাদেশের ১৬ ভাগের ১ ভাগ। তথাপি সোমালিয়া অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটা নিম্নগামী।
মহান আল্লাহ তাআলা এই জগতের কারিগর। তিনি মানুষের সাধারণ জন্মদানক্ষমতার হারেই প্রকৃতিকে প্রস্তুত করে তোলেন। আগের থেকে পৃথিবীর উৎপাদন বেড়েছে, অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জায়গা আবাদ হচ্ছে, এমনকি পৃথিবীতে নতুন আবাসস্থলেরও আবিষ্কার হয়েছে। আমেরিকা আবিষ্কারের আগে কে জানত যে, এরকম একটি ভূমি মানুষের বসবাসে ভরপুর হয়ে উঠবে। সুতরাং এই সবকিছুই আল্লাহর পরিচালনাধীন। তিনি বলেন, 'আমার কাছে প্রতিটি বস্তুর ভান্ডার আছে। আমি এর থেকে প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুসারে রিজিক অবতীর্ণ করি।'
এজন্য মানুষের জন্ম ঠেকানোর আন্তর্জাতিক আয়োজন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর জগৎ পরিচালনায় হস্তক্ষেপের নামান্তর। আমাদের দায়িত্ব প্রকৃতির সম্পদকে সুষম বণ্টন ও যথাযথভাবে ব্যবহার করা। আল্লামা তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ এই বিষয়ে খুব সুন্দর একটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। মনে করুন আপনি একটি ছোট ঘর বানিয়েছেন। ঘরটি এত নিচু যে, আপনি ঘরের ভেতর সোজা হয়ে ঢুকলে আপনার মাথা ঘরের চাল কিংবা ছাদে গিয়ে ঠেকে। এমতাবস্থায় আপনি ঘরের ভেতর সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সুবিধার্থে আপনার পা দুটি কেটে নিজেকে ছোট করে ফেলা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে? নাকি ঘরের চালটা আরেকটু উঁচু করতে হবে? কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই কিন্তু পা কাটার পক্ষে সায় দেবেন না। তেমনি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রবক্তারাও সীমিত সম্পদের সুষম উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা না করে আল্লাহর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ মানব সন্তানের জন্মহার নিয়ন্ত্রণ করে সাম্যতার বিধান করতে চায়। এটি কত বড় নির্বুদ্ধিতা ও হাস্যকর বিষয়।
মূলত বিগত শতাব্দীতে পরিবার পরিকল্পনা নামে যেই প্রজেক্ট বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে, এটির সাথে পরিপূর্ণভাবে পশ্চিমা রাজনীতির উদ্দেশ্যমূলক সম্পর্ক আছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে ১৮ শ শতাব্দীতেও টমাস ম্যালথাস জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আওয়াজ তুলেছিল। তবে তার প্রস্তাবনার প্রেক্ষাপটের ধরন আজকের জন্মনিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বলা যায় ১৯৭৪ সালে হেনরি কেসিঞ্জার এই প্রকল্পের মাঝে একটি নতুন রূপদান করে এবং বিশ্বব্যাপী একটি পলিসি হিসেবে পরিবার পরিকল্পনাকে ছড়ানোর ব্যবস্থা করে। ১৯৭৪ সালে তার নির্দেশনায় USNSC এর অধীনে একটি পলিসি হিসেবে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়। রিপোর্টির নাম হচ্ছে, National security study memorandum ২০০ (NSSM ২০০)। আমেরিকান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পলিসি হিসেবে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে এবং পুরো রিপোর্টে আমেরিকার স্বার্থকেই সামনে রাখা হয়েছে।
এই রিপোর্টে তারা আলোকপাত করেছে, কীভাবে অনুন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের জনশক্তিকে দমিয়ে রাখা যায় এবং সেই সুযোগে তাদের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ থেকে কীভাবে আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যায়। এবং এইজন্য তারা ইউনাইটেড ন্যাশন, ইউএসএআইডি, ইউএসআইএ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি সেসব দেশের সরকারকেও এই ব্যাপারে নিজ থেকে উদ্যোগী করে তোলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য দারিদ্রের ভীতি তৈরির পাশাপাশি তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহের বিস্তার, গর্ভপাতকে স্বাভাবিককরণ এবং নারীদের বিয়েকে বিলম্বকরণসহ তাদের শিক্ষাকার্যক্রমকে দীর্ঘায়িত করে কর্মসংস্থানে নিয়ে আসাকে পলিসি হিসেবে গ্রহণ করে। কারণ এতে প্রথমত নারীদের মাঝে নিজ থেকেই পরিবার ও সন্তান গ্রহণের ব্যাপারে অনীহা তৈরি হবে, দ্বিতীয়ত বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের বাচ্চাদান ক্ষমতাও হ্রাস পেতে থাকবে। যদিও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মেয়েদের উপযুক্ত বয়সে বাচ্চা না নেওয়ার একটি মিথ উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সত্য হলো, ৩০ বছরের আগ পর্যন্ত সন্তান জন্মদানের সবচেয়ে সফল ও কার্যকর সময় থাকে। ৩০ এর পর মা হওয়ার জটিলতা বাড়তে থাকে। এই সময় থেকে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগতমান হ্রাস পেতে থাকে। অথচ শিক্ষা, ক্যারিয়ারের পেছনে পড়ে বর্তমান সমাজের অধিকাংশ মেয়ে বিয়েই করছে ৩০ এর কাছাকাছি গিয়ে। যার দরুন বর্তমান অধিকাংশ নারীদের বাচ্চাদান ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে ১৯৫০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে একজন নারীর সন্তান জন্মদানের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ১৯৬৮ সালে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই হার কমতে থাকে। ক্রমাগত এই হ্রাস ২০২১ সালে এসে জনপ্রতি ১.৯৭৯ এসে দাঁড়ায়, যা ২০২০ এ ২.০০৩ এ ছিল。
পাশের দেশ ভারতে জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রকল্প একরোখাভাবে মুসলিমদের ওপর দমননীতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আরএসএস, বজরং ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো দলগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের জিগির তুলেছে। তারা সেটাকে 'পপুলেশন জিহাদ' বলে আখ্যায়িত করছে। এজন্য তারা মুসলিম এলাকাগুলোতে দুই সন্তানের অধিক সন্তান নেওয়া যাবে না মর্মে আইন প্রণয়ন করছে। কিন্তু হিন্দুদের বেশি বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যারা জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দোহাই দিয়ে মুসলিম জনসংখ্যাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তৎপর, সেসব হিন্দুত্ববাদী নেতাদের কারও কারও তিন থেকে পাঁচ এর অধিক সন্তান আছে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ইসলামাইজেশন করার জন্য মুসলিমদের ভেতর একটি দল প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। তাদের কাছে যখন সন্তান হত্যা নিষেধাজ্ঞা সংবলিত আয়াত পড়া হয়, তখন তারা সন্তান হত্যা ও জন্মনিয়ন্ত্রণের মাঝে পার্থক্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, আয়াতে তো সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রণকে নয়। অথচ এটি মারাত্মক ভুল। কুরআনুল কারীমে 'তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না'-এর ওপর কথা সমাপ্ত করেনি; বরং এই অংশের পরেও আরও কথা আছে। সেটা হলো দরিদ্রতার ভয়ে, এরপর সামনে গিয়ে তিনি এর কারণও উল্লেখ করে দিয়েছেন যে, আমি (আল্লাহ) তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করি এবং তোমাদের রিযিকের ব্যবস্থাও করি。
যারা এই আয়াত থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণের নিষেধাজ্ঞা খুঁজে পান না, তাদের অবস্থা মূলত ওই ব্যক্তিদের মতো, যারা সুরা নিসার ৪৩ নং আয়াত দিয়ে নামাজ থেকে দূরে থাকার কথা বলেন। এই আয়াতের প্রথম অংশে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'তোমরা নামাজের কাছে যেয়ো না'। এখন কেউ যদি পরবর্তী অংশ খেয়াল না করে বলে যে, আল্লাহ তাআলা সর্বাবস্থায় নামাজের কাছে না যেতে বলেছেন, তখন কি তার দাবি ঠিক হবে? অথচ আয়াতের পরের অংশেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন যে, অচেতন-মাতাল অবস্থায় যেন আমরা নামাজে না দাঁড়াই।
এ ছাড়াও আযল করার অনুমতি-সংক্রান্ত কিছু হাদিস দিয়ে বর্তমান জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রজেক্টকে তারা বৈধ করতে চায়। অথচ এর বিপরীত হাদিসও আছে। দুই প্রকার হাদিস থেকে ফুকাহায়ে কেরাম বিশ্লেষণ করে যেই গবেষণালব্ধ ফলাফল বের করেছেন, সেটা জন্মনিয়ন্ত্রণ অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। যার থেকে স্পষ্ট যে, নির্দিষ্ট ওজর ও সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি জায়েয আছে। তবে সেটাও হতে হবে অসৎ উদ্দেশ্যবিহীন। তাই বলে এই পদ্ধতির সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রসার ঘটানো ইসলাম-পরিপন্থি কাজ। আর এই পদ্ধতি অবলম্বন করাকে দেশ ও জাতির উন্নতি-অগ্রগতির সোপান আখ্যায়িত করা, যেটাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকারক ও অপছন্দ করেছেন, তা কিছুতেই জায়েয হতে পারে না।
বর্তমান জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রজেক্টকে এককভাবে দেখলে ভুল হবে। এই প্রজেক্টের ভেতর একই সাথে নারীর কর্মজীবি হওয়ার বাসনা, পরিবার ও সন্তান জন্মদানের প্রতি অনাগ্রহ এবং তার বিয়েকে ক্যারিয়ারের পেছনে পড়ে বিলম্বকরণের মতো সমাজ বিধ্বংসী আরও অনেক ফ্যাক্ট জড়িত। মূলত মুসলিম নারীদের নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও আধুনিক প্রাচ্যবাদের যেই পরিকল্পনা রয়েছে, সেই পরিকল্পনার প্রতিটি অংশ একে অপরের সাথে জড়িত।
আমরা যদি সৃষ্টিগতভাবে নারীদেহের গঠন ও তার ভাবাবেগ ইত্যাদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তাহলে দেখব মাতৃত্ব একজন নারীর স্বভাবজাত কামনা-বাসনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার ফিতরাত নষ্ট না হয়ে গেলে কখনো সে এর প্রতি অনাগ্রহী হতে পারে না। তার শরীরের সকল আয়োজন যেন মানব সভ্যতাকে বিকাশপূর্বক টিকিয়ে রাখার জন্য। তার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এই মহান দায়িত্বভারের জন্য ব্যাকুল থাকে। আমাদের নারীদের এই ব্যাকুলতাকে গভীর মমতার সাথে অনুভব করতে হবে। বহির্গত কোনো কিছু যেন তার এই ব্যাকুলতাকে নষ্ট করতে না পারে।
এই ব্যাকুলতাকে লালনপালন করে পুরো জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, এই ব্যাকুলতা তার মহান রবের দেওয়া আমানত। এটাকে পবিত্র রাখতে হবে। রবের দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ীই এই ব্যাকুলতাকে কাজে লাগাতে হবে।
টিকাঃ
২৬০. ইসলাম ও যুক্তির কষ্টিপাথরে জন্মনিয়ন্ত্রণ, ৬৩ পৃষ্ঠা
২৬১. সুরা হিজর, আয়াত ২১
২৬২. ইসলাম ও যুক্তির কষ্টিপাথরে জনানি
২৬৩. www.macrotrends.net/countries/BGD/bangladesh/fertility-rate
২৬৪. https://www.thehindu.com/news/national/other-states/Produce-more- children-RSS-tells-Hindu-couples/article14582028.ece
২৬৫. https://www.ndtv.com/india-news/population-control-madhya-pradesh-bjp- leaders-want-up-like-population-control-law-2490093
২৬৬. সুরা ইসরা, আয়াত ৩১
২৬৭. আযল বলা হয়, স্বামী-স্ত্রী যৌন মিলনের পর চরম উত্তেজনার সময় বীর্য নারীর লজ্জাস্থানের বাইরে নির্গত করা。
২৬৮ ইসলাম ও যুক্তির কষ্টিপাথরে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃষ্ঠা ২৪; জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে মৌলিকভাবে ইসলাম ও বাস্তবতার অবস্থান জানতে বাংলা ভাষায় এই বইটি একটি চমৎকার কাজ। মূল লেখক আল্লামা তাকি উসমানي হাফিজাহুল্লাহ, অনুবাদক মাওলানা ফাহিম সিদ্দিকি, প্রকাশনায় আহবান শাশনী। এ ছাড়াও মুফতি দেলোয়ার হুসাইন হাফিজাহুল্লাহ তাঁর ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ে ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন এবং বৈধতাদাতাদের কাজ। আন সে বইটিও দেখতে পারেন।