📘 আধুনিক প্রাচ্যবাদের কবলে মুসলিম নারী সমাজ > 📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে র‍্যান্ডের দাবি ও তার পর্যালোচনা

📄 জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে র‍্যান্ডের দাবি ও তার পর্যালোচনা


পূর্বের আলোচনা থেকে আমাদের সামনে এটা স্পষ্ট যে, র‍্যান্ড কর্পোরেশনের উদ্দেশ্য হলো, জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো সহজলভ্য করে ছড়িয়ে দেওয়া, এগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য গড়ে দুই সন্তান পর্যন্ত জন্মহার নামিয়ে আনা। পাশাপাশি তাদের এই জন্মনিয়ন্ত্রণের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার চেষ্টা করা। আর জন্মনিয়ন্ত্রণ এজেন্ডায় সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তারা নারীদের প্রধান টার্গেট হিসেবে গ্রহণ করেছে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট রিপোর্টগুলোতে আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, তারা সেখানে পরিবার পরিকল্পনা (family planning), মাতৃত্ব পরিকল্পনা ও পিতৃত্ব পরিকল্পনার মতো পরিভাষা ব্যবহার করেছে। সরাসরি জন্মনিয়ন্ত্রণ কিংবা জন্মদানক্ষমতা হ্রাসকরণের মতো শব্দ তারা ব্যবহার করেনি। অথচ এটাই আদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তারা নিজেদের মিশনকে সফল করার জন্য প্রথমে মানুষের কাছে শ্রুতিমধুর হয় এবং তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এমন একটি শব্দ বেছে নিয়েছে। যেন ব্যাপারটা কেবলই পরিকল্পনাগত; নিয়ন্ত্রণ কিংবা সীমাবদ্ধকরণ নয়। বিংশ শতাব্দীর শেষ সময়টা থেকে পশ্চিমারা পরিভাষার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আসছে। পাশাপাশি জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটিকে স্বাভাবিক করার জন্য মিডিয়াগুলোও উল্লিখিত শব্দগুলো নিয়মিত প্রচার করে আসছে।
অবশ্য তারা কেবল উল্লিখিত শব্দগুলো বেছে নিয়ে ক্ষান্ত হয়েছে তা নয়; বরং প্রত্যেকটি শব্দের পেছনে তারা একটি নির্দিষ্ট মর্মকে সংযুক্ত করে দিয়েছে। নতুবা পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃত্ব পরিকল্পনা, পিতৃত্ব পরিকল্পনা প্রত্যেকটি শব্ ব্যাপক অর্থ ধারণ করে। সন্তান লালনপালন, তাদের পড়াশোনা, পরিবারের দায়িত্ববণ্টনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে এই শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা প্রজেক্টগুলোতে গর্ভধারণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারগুলোই বেশি গুরুত্ব পায়।
আর এভাবেই জন্মদানক্ষমতা হ্রাস ও জন্মনিয়ন্ত্রণের এজেন্ডা কোনো প্রকার বাধাবিঘ্ন ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের পরিভাষায় দুটি শব্দের জায়গার ভিন্ন শব্দ বসিয়ে নিয়েছে। নিয়ন্ত্রণের জায়গায় পরিকল্পনা আর জন্মের জায়গায় পরিবার, মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব। যদিও পশ্চিমা কিছু রাষ্ট্র ও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা জন্মনিয়ন্ত্রণ এজেন্ডার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, স্বয়ং মুসলিম দেশগুলোর সরকারের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করতে। যেন তারা কোনো প্রকার বহিরাগত সাহায্য ও ফান্ডিংয়ের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজ থেকেই এসব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। আর তারা মুসলিম দেশগুলোর সরকারকে এই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সফলও হয়েছে।
জন্মনিয়ন্ত্রণের পেছনে র‍্যান্ড কর্পোরেশন তাদের রিপোর্টগুলোতে যেসব দাবি, যুক্তি ও উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছে, যেমন: মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়া, দেশের সম্পদ ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হওয়া, সরকারের চাপ কমা—এগুলো কোনো একাডেমিক আলাপ নয় এবং এই দাবিসমূহের কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ভিত্তিও নেই। জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রজেক্টের পেছনে পশ্চিমা দেশসমূহ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেই অর্থ ব্যয় করেছে, তারা যদি সেই অর্থ উল্লিখিত দাবিগুলোর পেছনে ব্যায় করত, তবে সেটা আসলেই কল্যাণকর হতো। যা-ই হোক, আমরা এখন জন্মনিয়ন্ত্রণের পেছনে র‍্যান্ড কর্পোরেশন যে দাবিগুলো উপস্থাপন করেছে, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করব।
১. র‍্যান্ড কর্পোরেশনের প্রথম যুক্তি হলো, জন্মহারের ঊর্ধ্বগতি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং খাদ্য ও কর্ম-সম্ভাবনার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
নিশ্চয় মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের রিযিকের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তাদের অনাগত বংশধরদের রিযিকের দায়িত্বও তিনি নিয়েছেন। এজন্য পবিত্র কুরআনে তিনি আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমাদের বর্তমান দরিদ্রতা ও ভবিষ্যতের আশঙ্কামূলক দরিদ্রতার রিযিকের ব্যবস্থাপনা তিনি করে রেখেছেন। তিনি বলেন,
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ .
'ভূপষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিক আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রাখেননি। তিনি তাদের স্থায়ী ঠিকানাও জানেন এবং সাময়িক ঠিকানাও। সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।
এই দায়িত্ব নেওয়ার ফলে তিনি দরিদ্রতার আশঙ্কায় সন্তান হত্যাকে নিষেধ করেছেন। সুরা আনআমের ১৫১ নং আয়াতে ও সুরা ইসরার ৩১ নং আয়াতে এ বিষয়ে আলোচনা আছে। সুতরাং দরিদ্রতার আশঙ্কা কখনো জাতীয়ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কারণ হতে পারে না। এমনিভাবে সন্তানের আধিক্য কখনো দেশের কর্ম সম্ভাবনা, খাদ্য উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নতির পথে বাধা হতে পারে না; বরং জনশক্তি মূলত এগুলোর ভিত্তি। চীনের দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশ হওয়া সত্ত্বেও শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিক থেকে বিশ্বের প্রধান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চীন।
যারা পশ্চিমাদের অন্ধ অনুসরণ করে না এবং বিকৃত চিন্তা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে না, এমন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের মত হলো, জনসংখ্যা নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সম্পদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস হলো জনশক্তি। এমনকি তারা এও বলেছে যে, যদি ১০ বছরের জন্য কোনো দেশে শিল্প পরিকল্পনা যথার্থভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তবে কর্মক্ষেত্রগুলোতে জনসংখ্যার থেকেও অধিক কর্মীর প্রয়োজন হবে। জমিনে কোনো সংকীর্ণতা নেই এবং কর্মসংস্থানেও কোনো বেকারত্ব নেই। দোষ মানুষের পরিচালনার।
এই বিষয়টি প্রমাণিত যে, জনসংখ্যার বৃদ্ধি কারিগরি জ্ঞান ও তার ব্যবহারের সম্ভাবনাকে সমৃদ্ধ করে। তা ছাড়া জনশক্তিকে যদি ইতিবাচকভাবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে তাদের মধ্য থেকেই নতুন নতুন যুবশক্তি বেরিয়ে আসবে। যারা দেশ ও জনগণের বিদ্যমান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তারা কর্ম ও আবিষ্কারে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। যা সমাজের উন্নতিকে আরও দ্রুতগামী করবে। বিখ্যাত মুসলিম সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনও এই বাস্তবতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি মনে করতেন, অধিক জনসংখ্যা অধিক কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচন করে এবং এখানে সৃজনশীলতা ও বহুত্ব নিয়ে আসে। যার ফলে তা দেশের সম্পদ, অর্জন, শক্তি ও সুখ বৃদ্ধি করে। এমনকি পশ্চিমা কিছু গবেষকও এই বাস্তবতাকে স্বীকার করেছে।
জনসংখ্যার সমৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করা একাডেমিক ফ্যালাসি। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর ঐতিহাসিক বাস্তবতাও এই দাবিকে অস্বীকার করে; বরং জন্মনিয়ন্ত্রণের ফলে জনসংখ্যার যে স্বল্পতা তৈরি হয়, সেটাকে অর্থনৈতিক মন্দার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ নবজাতক জনসংখ্যা নিম্নমুখী হওয়ার ফলে উৎপাদক জনগোষ্ঠীর থেকে ভোক্তা জনগোষ্ঠী বিশাল ব্যবধানে কমে যায় এবং এতে জিনিসের ডিমান্ড কমে, উৎপাদকদের কর্মসংস্থানও সংকুচিত হয়ে আসে।
মূলত আল্লাহর জমিন কল্যাণে ভরপুর। জমিনের প্রাণীর সংখ্যা যতই হোক, জমিনে যেই পরিমাণ খাদ্য মহান আল্লাহ তাআলা বোঝাই করে দিয়েছেন, তা সকল প্রাণীর জন্যই যথেষ্ট হবে। এই বিশ্বাস না রাখা মূলত আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি তাওয়াক্কুলেরও পরিপন্থি। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
قُلْ أَبِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ. وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءٌ لِلسَّابِلِينَ .
'বলে দাও, সত্যিই কি তোমরা সেই সত্তার সাথে কুফরি পন্থা অবলম্বন করছ, দুদিনে যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তার সাথে অন্যকে শরিক করছ? তিনি তো জগৎসমূহের প্রতিপালক! আর তিনি তার উপরিভাগে দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, এবং তাতে (বসবাসকারী) সকল রিজিক- প্রত্যাশীদের জন্য সুষমভাবে রিজিক সৃষ্টি করেন (আর এ সবকিছু তিনি করেন) চার দিনে।'
কুরআন-সুন্নাহ থেকে উদঘাটিত মাকাসিদে শরিয়াহ এই কথার প্রমাণ করে যে, ইসলাম অর্থনীতিকে জনসংখ্যা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলে, অর্থনীতি অনুযায়ী জনসংখ্যাকে নয়।
র‍্যান্ড কর্পোরেশন-যারা নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অগ্রদূত মনে করে- তারা কি রাষ্টের অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করার জন্য জন্মের পূর্বেই নবজাতককে কবর দেওয়া ছাড়া আর কোনো সমাধান খুজে পেল না? এটা কি তাদের রাজনৈতিক ও পরিচালনাগত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা? কখনোই না; বরং বাস্তবতা হলো, এটা তাদের উপনিবেশবাদী প্রবণতার ফল। তারা মুসলিম বিশ্বের ও তৃতীয় বিশ্বের (তাদের ভাষায়) শক্তির উৎপাদককে ধ্বংস করে দিতে চায় এবং দূর থেকেই এই দেশগুলোকে অবরুদ্ধ ও দুর্বল করে রাখতে চায়। এটাই তাদের উপনিবেশবাদী স্বার্থ।
২. র‍্যান্ড কর্পোরেশনের আরেকটি দাবি হলো, অধিক জন্মদান নারী ও সন্তানের স্বাস্থ্যজনিত আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয়।
সন্তানের আধিক্য কখনোই পৃথকভাবে নারী ও সন্তানের জন্য স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকির কারণ নয়। হ্যাঁ, নির্দিষ্ট কোনো মেয়ের জন্য এটা সমস্যাজনক হতে পারে বিভিন্ন কারণে। সাধারণভাবে উক্ত দাবিকে মূল বানানো যাবে না। যদি নির্দিষ্ট কোনো নারীর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এই আশঙ্কা প্রকাশ করে, তবে বিষয়টা তার সাথেই বিশেষ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর ইসলামি শরিয়াহর নির্দেশনা হলো, যার বিশেষ সমস্যা আছে সে শিথিলতা গ্রহণ করবে। কিন্তু বিষয়টাকে সাধারণ মূলনীতি বানিয়ে জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না।
তারা যদি ন্যায়বান হতো, তাহলে বলত যে, জন্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর ব্যবহারই নারীর শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, গর্ভধারণ কিংবা সন্তানদানের আধিক্য নয়। নিষ্ঠাবান বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের বক্তব্য হলো, বন্ধ্যাকরণ নারীর স্বাস্থ্য ও শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি বিষয়। এটি তাকে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত করতে পারে।
বিশেষ করে ইন্ট্রোয়ট্রাই ডিভাইস জরায়ু-সংক্রান্ত অনেক সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। যেমন: পানি নিষ্কাশন, অধিক রজঃস্রাব, জরায়ু ছিদ্র হওয়া, পেট ব্যথা, জরায়ু ফুলে যাওয়া এবং তা মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। জন্মনিরোধক ট্যাবলেটগুলোও নারীর জন্য ক্ষতিকর। প্রায়ই নারীর স্বাস্থ্যবিষয়ক ম্যাগাজিনগুলোতে নারীর শরীরের জন্য এই ট্যাবলেটগুলো কতটা ক্ষতিকর, তা নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হয়।
গর্ভধারণ নিয়ে এমন কিছু বিষয় আছে, যা পশ্চিমারা কখনোই অনুধাবন করতে পারবে না। এই রহস্য বুঝতে তারা অক্ষম। কারণ আখিরাত ও আল্লাহ সম্পর্কে তাদের বিশুদ্ধ ঈমান নেই। কিন্তু মুসলিম ফকিহরা ঈমানের দৌলতে আলোকিত। তাদের কাছে এই রহস্য দিনের আলোর মতো সুস্পষ্ট। আর সেটা হলো, সন্তানের আধিক্য ও তাদের মৃত্যু স্বল্প সন্তানের চেয়েও বেশি কল্যাণকর। এর অর্থ এটা নয় যে, নারী ও শিশুর সুস্থতার ব্যাপারে অবহেলা করা হবে। কখনই না। মহান আল্লাহ তাআলা মৃত্যুকে মুসিবত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنْتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةُ الْمَوْتِ تَحْبِسُونَهُمَا مِنْ بَعْدِ الصَّلَاةِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لَا نَشْتَرِي بِهِ ثَمَنًا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَلَا نَكْتُمُ شَهَادَةَ اللَّهِ إِنَّا إِذًا لَمِنَ الْآثِمِينَ .
'হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের কারও মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয় তখন ওসিয়ত করার সময় পারস্পরিক বিষয়াদি নিষ্পত্তি করার জন্য সাক্ষী বানানোর নিয়ম এই যে, তোমাদের মধ্য হতে দুজন ন্যায়নিষ্ঠ লোক হবে (যারা ওসিয়ত সম্পর্কে সাক্ষী থাকবে), অথবা তোমরা যদি জমিনে সফরে থাকো এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যুর মুসিবত এসে যায়, তবে অন্যদের (অর্থাৎ অমুসলিমদের) মধ্য থেকে দুজন হবে। অতঃপর তোমাদের কোনো সন্দেহ দেখা দিলে তোমরা সে দুজনকে নামাজের পর আটকাতে পারো। তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলবে, আমরা এই সাক্ষ্যের বিনিময়ে কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে চাই না, যদিও বিষয়টা আমাদের কোনো আত্মীয়ের হয়। এবং আল্লাহ আমাদের ওপর যে সাক্ষ্যের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন আমরা তা গোপন করব না। করলে আমরা গুনাহগারদের মধ্যে গণ্য হব।'
কিন্তু যার শিশু মারা যায় সে এর বিনিময়ে প্রতিদান লাভ করবে। এবং এই শিশু কিয়ামতের দিন তার জন্য সম্পদ হিসেবে উপস্থিত হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে কাদের সন্তানহীন মনে করো? তিনি বলেন, আমরা বললাম যার সন্তান জীবিত থাকে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না সে সন্তানহীন নয়; বরং সন্তানহীন তো সেই পুরুষ, যে তার কোনো সন্তানকে তার জন্য অগ্রে পাঠায় না।
আরবদের ভাষায় সন্তানহীন হলো, যার কোনো সন্তান জীবিত থাকে না। আর হাদিসের মর্ম হলো, তোমরা মনে করছ সে ব্যক্তি সন্তানহীন, যে সন্তানের মৃত্যুতে শোকাহত। শরিয়াতের দৃষ্টিতে সে সন্তানহীন নয়; বরং যার কোনো সন্তান তার আগে মারা যায়নি, সে-ই প্রকৃত সন্তানহীন। কারণ সে তার সন্তানের মৃত্যুর শোক ও সবরের ফলে সওয়াব লাভ করত এবং এই সন্তান তার জন্য আখেরাতের অগ্রবর্তী সম্পদ হতো।”
শাহাদাতের মর্যাদা ইসলামে অনেক বড় একটি মর্যাদা। কোনো মহিলা যদি গর্ভধারণ কিংবা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায়, ইসলাম তাকে শহিদি মর্যাদা দান করে। সে বিধানগতভাবে শহিদদের অন্তর্ভুক্ত হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহর রাস্তায় যে নিহত হয়, সে শহিদ; মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহিদ; যে নারী গর্ভবতী হয়ে মারা যায় সেও শহিদ...।'
৩. র‍্যান্ড কর্পোরেশনের আরেকটি দাবি হলো, অধিক জন্মহার পৃথিবীর মৌলিক উপাদানে বিরূপ প্রভাব ফেলে। যেমন এটা পান করার জন্য বিশুদ্ধ পানি কমিয়ে দেয়।
মহান আল্লাহ তাআলা যখন হযরত আদম আলাইহিস সালামকে দুনিয়ায় পাঠান, তখন তাকে কোনো ক্ষুধার রাজ্যে পাঠাননি, যেখানে খাবার ও পানীয় কিছু নেই; বরং এই জমিনকে তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও তাঁর সন্তানদের জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত করেই পাঠিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءٌ لِلسَّابِلِينَ .
'তিনি তার উপরিভাগে দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, এবং তাতে (বসবাসকারী) সকল রিজিক-প্রত্যাশীদের জন্য সুষমভাবে রিজিক সৃষ্টি করেছেন (আর এ সবকিছু তিনি করেন) চার দিনে।
আল্লাহর প্রস্তুতকৃত এই জমিন থেকে আদম আলাইহিস সালাম খাবার গ্রহণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের সন্তানেরা খাবার আহরণ করে যাবে। মহান আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের নতুন নতুন বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দেবেন, তাদের নিত্য নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের ক্ষমতা দান করবেন এবং তাদের দুআ, ইস্তিগফার ও ইস্তিসকা এর মতো বিধান দেবেন।
জন্মনিয়ন্ত্রণের আয়োজকরা মনে করে, জনসংখ্যার বৃদ্ধি প্রাকৃতিক সম্পদকে ফুরিয়ে আনে, পরিবেশের অবক্ষয় ঘটায় এবং দেশের আয় কমিয়ে দেয়। বাস্তবতা হলো, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনসংখ্যার চাপ মানুষকে নতুন প্রাকৃতিক সম্পদের তালাশ ও অনুসন্ধানের পথ দেখায়। যেন এর মাধ্যমে তারা বিদ্যমান সংকটকে মোকাবিলা করতে পারে। উপরন্তু নতুন কোনো প্রাকৃতিক উৎস উদ্ভাবনের ফলে মানুষ একদিকে নতুন উৎস থেকে সুবিধা গ্রহণ করে পুরোনো উৎস নিঃশেষ হওয়ার আশঙ্কা কমাতে পারে এবং অন্যদিক থেকে ব্যবহৃত উৎসের ওপর যেই চাপ, সেটাকেও হালকা করতে পারে।
মহান আলাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মেধায় ও হৃদয়ে তাদের জীবনাচার ও প্রাচুর্যের সাথে উপযোগী নিত্য নতুন পদ্ধতি ঢেলে দেন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে, আল্লাহর ইচ্ছায় ততই তাদের আবিষ্কার, অনুসন্ধান, উদ্ভাবন বেড়ে যাবে। এটাই পৃথিবীতে আল্লাহর নিয়ম। তবে মানুষ যদি অপরাধে লিপ্ত হয়, এর সুষ্ঠু ব্যবহার না করে; বরং ফাসাদ ও জুলুমকে বিস্তার করে, তখন তারা নানামুখী সংকট ও আজাব থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে না। এটাও পৃথিবীতে আল্লাহর সুন্নাহের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়।
জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়াহর মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো, সন্তান-সন্ততির আধিক্য ইসলামে একটি প্রশংসনীয় ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়। ফলে ইসলাম ব্যাপকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের অনুমোদন দেয় না। তবে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট কারও যৌক্তিক সমস্যা থাকলে, সে সাময়িকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যেমন, সন্তান কিংবা মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকা, ফিতনা-ফাসাদের জমানার কারণে বাচ্চা অসৎ চরিত্রের হওয়ার আশঙ্কা থাকাসহ স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে অস্থায়ীভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে নিজেদের শরীরের সৌন্দর্য ঠিক রাখা, অধিক বাচ্চার কারণে লজ্জাবোধ করা, সন্তান গর্ভধারণ ও প্রতিপালনের কষ্ট থেকে বেঁচে থাকা, অভাব অনটন বেড়ে যাওয়ার ধারণা রাখা, এই ধরনের কোনো কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বৈধ হবে না।
আর স্থায়ীভাবে প্রজননক্ষমতা নষ্ট করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। এক যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরাম যৌনচাহিদা পূরণের ব্যবস্থা না পেয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চিরতরে যৌনশক্তি নষ্ট করে ফেলার অনুমতি চান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করেন এবং তাদের এই আয়াত পাঠ করে শোনান,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ الله لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ .
'হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসকল উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করেছেন, তাকে হারাম সাব্যস্ত করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।'
তবে যদি জরায়ুতে এমন কোনো রোগ হয়, যা থেকে অপারেশন ব্যতীত পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব না, তাহলে জরায়ু কেটে ফেলা জায়েয আছে।
ওপরের বিধানগুলো একদম ব্যক্তি পর্যায়ের। সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কেউ এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণকে একটি আন্তর্জাতিক পলিসি বানিয়ে, নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে স্লোগান তৈরি করে ব্যাপকভাবে গর্ভধারণ ও সন্তান গ্রহণের প্রতি ভীতি ও অনাগ্রহ তৈরি করার যেই কালচার, এর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এটা পশ্চিমা বিশ্বের উপনিবেশবাদী রাজনীতির অংশ।
মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে প্রাকৃতিক যেই সম্ভাবনা তৈরি করে রেখেছেন এবং যুদ্ধ, মহামারির পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যুর মতো যেই ন্যাচারাল রিপ্লেসমেন্ট সিস্টেম (প্রাকৃতিক প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা) দিয়েছেন, এর ভেতর মানুষের স্বাভাবিক জন্মদানক্ষমতা কখনো সমস্যাজনক হতে পারে না। জন্মনিয়ন্ত্রণের অফিশিয়াল আয়োজক উপনিবেশবাদীরা জনসংখ্যার বৃদ্ধির কারণে যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করে, সেসবের সাথে প্রকৃতপক্ষে জনসংখ্যার সম্পর্ক নেই বললেই চলে; বরং অধিকাংশ সমস্যাগুলোই তৈরি হয়েছে ভিন্ন কোনো কারণে। অপ্রাকৃতিক শিল্পব্যবস্থা, দেশের ম্যানেজমেন্ট-ব্যবস্থা, বিশেষভাবে বললে পুঁজিবাদীদের উপনিবেশবাদী ও জুলুমতান্ত্রিক রাজনীতিই স্বয়ং উক্ত সমস্যাগুলোর জন্য দায়ী।

টিকাঃ
১৯৪. এই রিপোর্টগুলো আজ থেকে ১৫ বছরেরও আগের। সে সময় জন্মহার দুইয়ে রাখার দাবি থাকলেও বর্তমানে এই সংখ্যা একে এসে দাড়িয়েছে। এখন একটি সন্তান নেওয়ার জন্যই সকলকে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
১৯৫. সুরা হুদ, আয়াত ৬
১৯৬. আশির দশকে চালু হওয়া এক সন্তাননীতির ফলে ৪০ কোটি অতিরিক্ত সন্তান জন্মগ্রহণ ঠেকায় চীন। কিন্তু এতে চীনের কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এজন্য মাঝখানে তারা দুই সন্তাননীতি প্রণয়ন করে। কিন্তু এই ধারাও এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তাই তারা তিন সন্তাননীতি গ্রহণ করে এবং আগে সন্তান জন্মদানের ব্যাপারে যত প্রকার কঠোরতা ছিল সেগুলো উঠিয়ে নিয়ে নানা প্রকার সুবিধা প্রণয়ন করতে থাকে। এক সন্তাননীতির ফলে চীনের নারীদের মধ্যে বাচ্চা গ্রহণের প্রতি চরম অনীহা তৈরি হয়েছে। চীন সেটা দূরীকরণের জন্যও পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মূলত জন্মদানের হারকে কমিয়ে ফেলার ফলে দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সংকট দেখা দেয়। এজন্য রাশিয়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্তান জন্মদানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং অধিক সন্তান জন্মদাতার জন্য বাৎসরিক পুরস্কারের ব্যবস্থা পর্যন্ত করেছে।
১৯৭. তানজিমুল উসরাহ ওয়া মাওকিফুশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যি মিনহা, পৃষ্ঠা ১১০
১৯৮. প্রাগুক্ত
১৯৯. মুকাদ্দিমাতু ইবনি খালদুন, দারু নাহদাতি মিশর, ২/৮৭১-৮৭৫
২০০. দেখুন, তানজিমুন নাসল ওয়া মাওকিফুশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাতি মিনহা, পৃষ্ঠা ৩৯৫-৪১৪
২০১. দাবতুন নাসাল: আবআদুহু ওয়া আসারুহুদ দিমিগরাফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৫
২০২. সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ৯-১০
২০৩. মাআলিমুশ শরিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, ডক্টর সুবহী আস সালিহ, পৃষ্ঠা ২২৯
২০৪. তৃতীয় বিশ্ব বলতে বোঝায় বিশ্বের প্রধান দুটি সামরিক জোট-ন্যাটো [NATO] ও ওয়ারশ [Warsaw]-ভুক্ত নয় এমন রাষ্ট্রগুলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিশ্বে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। এই যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো বাহিনী ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ওয়ারশ জোট গঠিত হয়। ন্যাটোর সহযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন তথা পশ্চিম ইউরোপ; এদের বলা হয় প্রথম বিশ্ব। আর সোভিয়েতের পক্ষে থাকা চীন, কিউবা ও তাদের সহযোগীরা হলো দ্বিতীয় বিশ্ব। কোনো পক্ষে অংশ না নেওয়া আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া, ওশেনিয়ার দেশগুলি হলো তৃতীয় বিশ্ব। তৃতীয় বিশ্ব নামের এই পরিভাষাটিও একটি উপনিবেশবাদী শব্দ। এই শব্দের মাধ্যমে তারা তৃতীয় বিশ্বকে অত্যন্ত নিচ ও নিকৃষ্ট ধরনের বুঝিয়ে থাকে। যেন এদের ওপর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি একটি কল্যাণকর বিষয়। এদের নিজস্ব কোন আইডল থাকতে পারে না; বরং সর্বক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বকে আইডল মনে করবে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণকে আশির্বাদ হিসেবে মেনে নিবে।
২০৫. তানজিমুল উসরাহ, পৃষ্ঠা ১০৮
২০৬. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১১৪
২০৭. জন্মনিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে জরায়ুর অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট তারের ফাঁস বা প্যাঁচ।
২০৮. আল ইনফিজারুস সুক্কানিয়া, পৃষ্ঠা ৭৩
২০৯. সুরা মায়েদা, আয়াত ১০৬
২১০. সহিহ মুসলিম, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাবি, হাদিস ৬৬৪১
২১১. আল মিনহাজ বিশারহি সহিহিল মুসলিম, দারু ইবনে হাজম, পৃষ্ঠা ১৮৫৮
২১২. সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল জানায়েয, হাদিস ৩১১১
২১৩. সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ১০
২১৪. ইস্তিসকা বলা হয়, আল্লাহর কাছে বিশেষ পদ্ধতিতে বৃষ্টি প্রার্থনাকে। যখন অনাবৃষ্টির কারণে জমিনে খরা সৃষ্টি হয়, জমি-ফসল ক্ষতির শিকার হওয়ার উপক্রম হয় এবং জনদূর্ভোগ তৈরি হয়, তখন মুসলমানদের কোনো ইমাম সাধারণ মুসলিমদের নিয়ে একটি মাঠে জমায়েত হন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সম্মিলিতভাবে কান্নাকাটি করে বৃষ্টি প্রার্থনা করেন। এটাকেই ইস্তিসকা বলে।
২১৫. অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার তথা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে রিজিক বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ তাআলা হযরত নূহ আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলেন, মুসলিম নারীসমাজ • ১০৯
২১৬. দাবতুন নাসাল: আবআদুহু ওয়া আসারুহুদ দিমিগরাফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৮
২1৭. সূরা মায়িদা, আয়াত ৮৭; বুখারি, হাদিস ৫০৭৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00