📘 আঁধার রাতে আলোর খোঁজে > 📄 তাহাজ্জুদ আদায়ে সহায়ক কিছু কাজ

📄 তাহাজ্জুদ আদায়ে সহায়ক কিছু কাজ


যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করতে চায়, পুণ্যবানদের কাতারে শামিল হতে চায়, তার জন্য নিচের উপায়গুলো অবলম্বন করা আবশ্যক :
১. অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা। কারণ বেশি খেলে পানিও বেশি খেতে হয়। এতে শরীরে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেয়ে ঘুম প্রবল হয়ে ওঠে। ফলে রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২. দিনের বেলা শরীরকে খুব বেশি ক্লান্ত করে দেয় এমন কর্ম থেকে বিরত থাকা; কারণ এর ফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও স্নায়ুকোষ দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজেই রাতে খুব ভারী ঘুম আসে।
৩. দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুমানো। এটা সুন্নাতও বটে। আর কিয়ামুল লাইলের জন্য সহায়কও।
৪. অন্তরে মুমিনদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না থাকা। বিদআত, কুসংস্কার এবং দুনিয়াবি চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা। কেননা এইসব রোগ আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ করে দেয়।
৫. দিনে গুনাহ করা থেকে বিরত থাকা। কারণ গুনাহ কলবকে শক্ত করে দেয় এবং আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
৬. অন্তরে দুনিয়ার দীর্ঘ আশা লালন না করা। তাকওয়া অবলম্বন করা। কিয়ামত দিবস ও জাহান্নামের বিভীষিকা সম্পর্কে চিন্তা করা।
প্রিয় ভাই,
মনে রেখো, তাহাজ্জুদ পড়তে পড়তে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পা ফুলে যেত। এ ছাড়াও আমাদের সালাফে সালিহীন এবং উম্মাহর শ্রেষ্ঠ সন্তানগণ নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। তুমি কি চাও না সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জান্নাতে তাঁদের প্রতিবেশী হতে? তুমি কি চাও না আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্ত দল: নবি, সিদ্দিক, শহিদ ও নেককারদের সঙ্গী হতে? এঁরাই তো সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গী!
প্রিয় মুসলিম ভাই, তুমি চাইলে সালাফের যোগ্য খালাফ হতে পারো। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তুমি কিয়ামুল লাইল আদায়ে অভ্যস্ত হয়ে ওঠো; আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে মুনাজাত করো। এতে তোমার কলব জীবন্ত হয়ে উঠবে; হৃদয়ে জ্বলে উঠবে ইমানের দীপশিখা।
আল্লাহ তাআলা আমাকে, তোমাকে এবং সবাইকে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদের ব্যাপারে তিনি বলেছেন :
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ - كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا
يَهْجَعُونَ - وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ )
'মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাত ও ঝরনাধারার মাঝে। তাদের রবের দেওয়া নিয়ামত উপভোগ করবে। কারণ পার্থিব জীবনে তারা নেককার ছিল। তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত। রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত। '

📘 আঁধার রাতে আলোর খোঁজে > 📄 রাসুলুল্লাহ ﷺ যেভাবে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন

📄 রাসুলুল্লাহ ﷺ যেভাবে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন


রাসুলুল্লাহ ঘরে কিংবা সফরে যেখানেই থাকতেন না কেন, কখনো তাহাজ্জুদ ছাড়তেন না। তিনি সাধারণত এগারো রাকআত বা তেরো রাকআত তাহাজ্জুদ পড়তেন। রাতের প্রথম ভাগে চার অথবা ছয় রাকআত পড়ে বিছানায় শুয়ে পড়তেন। ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মিসওয়াক করতেন। এরপর আল্লাহর জিকির করতেন। ঘুম থেকে ওঠার সময় বলতেন:
«الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ»
'সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পরে পুনরায় জীবিত করেছেন। তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
তারপর তিনি পবিত্রতা অর্জন করে সংক্ষিপ্ত আকারে দুই রাকআত নামাজ পড়তেন। কখনো কখনো তিনি মধ্যরাতে উঠে যেতেন। মাঝেমধ্যে এর কিছুক্ষণ আগে বা পরেও উঠতেন। অনেক সময় মোরগের ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠতেন। মোরগ সাধারণত রাতের দ্বিতীয় ভাগে ডাকে। আর প্রায়ই তিনি কিয়ামুল লাইল ধারাবাহিকভাবে আদায় করতেন, কখনো আবার মাঝখানে ঘুমোতেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ তাহাজ্জুদ ও বিতির কয়েক পদ্ধতিতে আদায় করতেন।
প্রথম পদ্ধতি :
রাসুলুল্লাহ ﷺ অধিকাংশ সময় কিয়ামুল লাইল ধারাবাহিকভাবে টানা আদায় করতেন, কখনো আবার মাঝখানে বিরতি দিতেন। যেমন ইবনে আব্বাস রা. যে রাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে ছিলেন, সে রাতের হাদিসে এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করলেন। তারপর অজু করে তিলাওয়াত করলেন:
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানমণ্ডলী ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।'
এই আয়াত থেকে শুরু করে এ সুরার শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে নামাজে দাঁড়িয়ে দুই রাকআত নামাজ পড়লেন। সে নামাজের কিয়াম, রুকু ও সিজদা খুবই দীর্ঘ ছিল। তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। এভাবে তিনবারে মোট ছয় রাকআত নামাজ পড়লেন। প্রতিবারেই মিসওয়াক করলেন, অজু করলেন এবং উক্ত আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন। তারপর তিন রাকআত বিতির পড়লেন। এরপরেই মুয়াজ্জিন আজান দিল। তখন তিনি এই দুআ পড়তে পড়তে মসজিদের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লেন :
«اللهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا، وَعَنْ شِمَالِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَخَلْفِي نُورًا، وَفَوْقِي نُورًا، وَتَحْتِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا»
'হে আল্লাহ, আমার কলবে নুর দান করুন। আমার কানে, চোখে, ডানে, বামে, সামনে, পেছনে, ওপরে ও নিচে নুর দান করুন। আমাকে নুর দান করুন।'
ইবনে আব্বাস সংক্ষিপ্ত আকারে দুই রাকআত নামাজ পড়ে শুরু করার কথা উল্লেখ করেননি, যেটা আয়িশা উল্লেখ করেছেন। হয়তো রাসুলুল্লাহ কখনো এ দুই রাকআত পড়তেন, কখনো ছেড়ে দিতেন অথবা এও হতে পারে যে, এর দুই রাকআতের কথা আয়িশা -এর মনে ছিল, কিন্তু ইবনে আব্বাস -এর মনে ছিল না।
দ্বিতীয় পদ্ধতি : যেভাবে আয়িশা বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ প্রথমে সংক্ষিপ্ত আকারে দুই রাকআত পড়ে শুরু করতেন। এরপর এগারো রাকআত পূর্ণ করতেন। প্রতি দুই রাকআত পরপর সালাম ফেরাতেন এবং এক রাকআত বিতির পড়তেন।
তৃতীয় পদ্ধতি : উপরিউক্ত পদ্ধতিতে তেরো রাকআত পড়তেন।
চতুর্থ পদ্ধতি : আট রাকআত পড়তেন। প্রতি দুই রাকআত পরপর সালাম ফেরাতেন। তারপর এক সালামে পাঁচ রাকআত বিতির পড়তেন। পাঁচ রাকআতের মধ্যে কেবল সর্বশেষ রাকআতে বসতেন। মাঝখানে কোনো রাকআতে বসতেন না।
পঞ্চম পদ্ধতি : নয় রাকআত পড়তেন। প্রথমে টানা আট রাকআত পড়তেন। মাঝখানে কোনো রাকআতে বসতেন না। কেবল অষ্টম রাকআতে বসতেন। অষ্টম রাকআতে বসে আল্লাহর জিকির ও হামদ পাঠ করতেন এবং দুআ করতেন। এরপর সালাম না ফিরিয়ে নবম রাকআতের জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর বসে তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফেরাতেন। সালাম ফেরানোর পর বসে বসে দুই রাকআত পড়তেন।
ষষ্ঠ পদ্ধতি : পঞ্চম প্রকারে উল্লেখিত নয় রাকআতের মতো করে সাত রাকআত পড়তেন। তারপর বসে বসে আর দুই রাকআত পড়তেন।
সপ্তম পদ্ধতি : দুই রাকআত দুই রাকআত করে নামাজ পড়তেন। তারপর তিন রাকআত বিতির পড়তেন। শেষের দুই রাকআত ও বিতিরকে আলাদা করতেন না।
অষ্টম পদ্ধতি : নাসায়ি হুজাইফা-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রমাদানে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পাশে নামাজ পড়লেন। রুকুতে গিয়ে তিনি (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى) পড়লেন। কিয়ামে যতক্ষণ ছিলেন, রুকুতেও ঠিক ততক্ষণ ছিলেন। তারপর রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় (سَمِعَ الله لِمَنْ حَمِدَهُ) পড়লেন। রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ঠিক ততক্ষণ দাঁড়ালেন, যতক্ষণ রুকুতে ছিলেন। তারপর সিজদায় গেলেন। সিজদায় গিয়ে (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى) পড়লেন। সিজদায় ততক্ষণ ছিলেন, যতক্ষণ কিয়ামে ছিলেন। সিজদা থেকে উঠে (رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي) পড়লেন। এখানেও ঠিক ততক্ষণ অবস্থান করলেন, যতক্ষণ কিয়াম অবস্থায় ছিলেন। এরপর প্রথম সিজদার মতো দ্বিতীয় সিজদা করলেন। এভাবে কেবল চার রাকআত আদায় করলেন। ততক্ষণে বিলাল নামাজ এর জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ডাকতে আসলেন।
রাসুলুল্লাহ কখনো রাতের প্রথম ভাগে, কখনো মধ্যভাগে, কখনো শেষভাগে বিতির পড়তেন। এক রাতে সকাল পর্যন্ত কেবল একটি আয়াতই পড়তে থাকলেন। আয়াতটি হলো :
إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الحكيم
‘যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা আপনার দাস এবং যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রমশালী, মহাবিজ্ঞ।’

টিকাঃ
১২৮. সুরা আজ-জারিয়াত, ৫১: ১৫-১৮।
১২৯. সহিহুল বুখারি: ৬৩১২, সহিহু মুসলিম: ২৭১১।
১৩০. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১৯০।
১৩১. সহিহু মুসলিম: ৭৬৩।
১৩২. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ১১৮।

📘 আঁধার রাতে আলোর খোঁজে > 📄 তথ্যসূত্র

📄 তথ্যসূত্র


১- إحياء علوم الدين لأبي حامد الغزالي دار الكتب العلمية ط ١، ١٤٠٦ هـ
২- بستان العارفين للإمام أبي يحيي زكريا بن شرف النووي، حققه محمد الجار.
৩- تاريخ بغداد لأبي بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي، دار الكتب العلمية.
৪- تذكرة الحفاظ للإمام الذهبي، دار إحياء التراث العربي.
৫- تفسير ابن كثير، للإمام أبي الفداء إسماعيل بن كثير، دار الفكر ١٤٠١هـ
৬- جامع العلوم والحكم، ابن رجب الحنبلي، ط ٥، ١٤٠٠هـ
٧- الجواب الكافي لمن سأل عن الدواء الشافي لابن قيم الجوزية ط ١، ١٤٠٧هـ
৮- حلية الأولياء وطبقات الأصفياء، للحافظ أبي نعيم، دار الكتاب العربي.
৯- رهبان الليل، سيد بن الحسين العفاني، مكتبة ابن تيمية ط ١، ١٤٠٧هـ
১০- যাদ আল-মা'আদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ, লি ইবনি কাইয়্যিমিল জাওযিয়্যাহ, তাহকিক শু'আইব আল-আরনাউত, ওয়া আব্দ আল-কাদির আল-আরনাউত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ ১৪০২ হিঃ।
১১- আয-যুহদ লিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, দিরাসাহ ওয়া তাহকিক মুহাম্মাদ আস-সাঈদ, দার আল-কিতাব আল-আরাবি, তা ১, ১৪০৬ হিঃ।
১২- আয-যাহর আল-ফাইয়্যিহ ফি যিকর মান তানাযযাহ আন আয-যুনুব ওয়াল কাবাইহ, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-জাযারি, তাহকিক মুহাম্মাদ বাসইউনি, দার আল-কিতাব আল-আরাবি, তা ১, ১৪০৬ হিঃ।
১৩- সিয়ারু আ'লাম আন-নুবালা, আয-যাহাবি, তাহকিক শু'আইব আল-আরনাউত ওয়া হুসাইন আল-আসাদ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ ১৪০১ হিঃ।
১৪- শাযারাত আয-যাহাব ফি আখবার মান যাহাব লি ইবনিল ইমাদ আল-হাম্বলী, দার ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবি।
১৫- সিফাত আস-সাফওয়া লি ইবনিল জাওযি, তাহকিক মাহমুদ ফাখুরি, ওয়া মুহাম্মাদ রাওওয়াস, দার আল-মা'রিফা ১৪০৫ হিঃ।
১৬- সাইদ আল-খাতির লি ইবনিল জাওযি, দার আল-কিতাব আল-আরাবি, তা ২, ১৪০৭ হিঃ।
১৭- তাবাকাত আশ-শাফিয়্যাহ লি তাজ আদ-দীন আবি নাসর আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী আস-সুবকি, তাহকিক মাহমুদ মুহাম্মাদ তানাহি ওয়া রাফিকিহি, দার ইহইয়া আল-কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ।
١٨ - عقد اللؤلؤ والمرجان في وظائف شهر رمضان، إبراهيم بن عبيد.
١٩ - الفوائد لابن القيم الجوزية، دار النفائس.
٢٠- كتاب الزهد الكبير للإمام الحافظ أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي، حققه الشيخ عامر أحمد حيدر، مؤسسة الكتب الثقافية ط ١، ١٤٠٨هـ
٢١- مختصر قيام الليل، شيخ الإسلام أبي عبد الله محمد بن نصر المروزي، اختصرهما العلامة أحمد بن علي المقريزي.
٢٢- المدهش لأبي الفرج جمال الدين الجوزي، ضبطه وصححه د. مروان قباني، دار الكتب العلمية ط ٢ ، ١٤٠٥هـ
٢٣- مناقب الإمام أحمد للحافظ أبي الفرج عبد الرحمن بن الجوزي ۱۳۹۹ هـ، مكتبة الخاني.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00