📄 কিয়ামুল লাইলের প্রস্তুতি
নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ অনেক দীর্ঘ ও কঠিন এক জিহাদ। এ জিহাদে ধৈর্যের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হতে হয়। সাফওয়ান বিন সুলাইম -এর অবস্থা দেখো, তিনি গরমের মৌসুমে ঘরে সালাত আদায় করতেন আর শীতের মৌসুমে সালাত আদায় করতেন ছাদের ওপর। যেন তার চোখে ঘুম চলে না আসে।
সালাফগণ কিয়ামুল লাইলের জন্য নিজেদের খুব সুন্দর করে সাজাতেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল -এর একটি সুতার টুপি ছিল, যা তিনি নিজের হাতে বানিয়েছিলেন। রাতে যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন, তখন এই টুপি মাথায় দিতেন।
إلا كنومة حائر ولهان فلربما تأتي المنية بغتة فتساق من فرش إلى الأكفان
يا حبذا عينان في غسق الدجى من خشية الرحمن باكيتان
'রাতের আঁধারে ইবাদতে দাঁড়াও এবং কুরআন তিলাওয়াত করো। সারা রাত ঘুমিয়ে থেকো না। ঘুমাও, তবে তা দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির মতো। কারণ, অনেক সময় মৃত্যু হঠাৎ এসে পাকড়াও করে। ফলে বিছানা থেকে তুলে তোমাকে কাফনেই শুইয়ে দেওয়া হয়। কত উত্তম সেই আঁখিযুগল, যেগুলো অশ্রু ঝরায় রহমানের ভয়ে।'
নফসের বিরুদ্ধে সাধনা প্রথম প্রথম খুবই কষ্টকর; কিন্তু দৃঢ় মনোবল নিয়ে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে পরবর্তী সময়ে তা খুব সহজ হয়ে যায়। সাবিত বুনানি বলেন, 'বিশ বছর পর্যন্ত আমি কষ্ট করে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েছি এবং পরবর্তী বিশ বছর তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আমি আরাম বোধ করেছি।'
উম্মে সুলাইমান তার সন্তানকে বলতেন, 'হে বৎস, রাতে বেশি ঘুমিয়ো না। কারণ রাতের অধিক ঘুম মানুষকে কিয়ামতের দিন গরিব করে ছাড়বে। হে বৎস, যে আল্লাহকে চায়, সে রাতে ঘুমায় না। কারণ যে রাতে ঘুমায়, সে দিনে লজ্জিত হয়। '
يا كثير الرقاد والغفلات ** كثرة النوم تورث الحسرات
'হে ঘুমকাতুরে, হে গাফিল, ঘুমের আধিক্য আফসোসই বয়ে আনে। '
উম্মে রবি বিন খুসাইম তার ছেলেকে উৎকণ্ঠিত দেখে বলেন, 'হে বৎস, তোমার অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছে, তুমি কাউকে খুন করতে যাচ্ছ।' তখন রবি বিন খুসাইম বললেন, 'আপনি ঠিকই ধরেছেন, আমি নিজের নফসকে খুন করতে যাচ্ছি।'
উম্মে গাজওয়ান তার ছেলেকে বললেন, 'তোমার ওপর তোমার বিছানার হক নেই কি!? নিজের শরীরের হকও নেই কি?!' তিনি বললেন, 'হে মা আমার, আমি তো এর মাধ্যমে নিজের শান্তিই খুঁজছি। আমলনামা গুটিয়ে ফেলার আগেই তা নেকি দিয়ে সমৃদ্ধ করতে চাচ্ছি।’
টিকাঃ
২৭. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৯।
২৮. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৫৯।
২৯. আস-সিয়ার: ১১/২০৬।
৩০. আস-সিয়ার: ৫/২২৪, সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/২৬০।
৩১. আজ-জাহরুল ফায়িহ: ১১১ পৃ.।
৩২. আজ-জাহরুল ফায়িহ: ১৯ পৃ.।
৩৩. আল-মুদহিশ: ৪৪৩ পৃ.।
৩৪. মুখতাসারু কিয়ামিল লাইল: ২৭ পৃ.।
📄 কীভাবে কাটত তাদের রাত?
শাদ্দাদ বিন আওস বিছানার ওপর শুয়ে কয়েকবার এদিক সেদিক পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন; কিন্তু তাঁর চোখে ঘুম আসত না। তখন তিনি বলতেন, 'হে আল্লাহ, জাহান্নাম আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।' এই বলে তিনি উঠে পড়তেন এবং সকাল পর্যন্ত নামাজ পড়তেন।
মহা কল্যাণ ও পূর্ণ প্রতিদান লাভ করার মানসে মানসুর বিন মুতামির টানা চল্লিশ বছর দিনে রোজা রেখেছেন এবং রাতে ইবাদত করেছেন। তিনি খুব কান্নাকাটি করতেন। তা দেখে তার মা তাকে বলতেন, 'হে বৎস, তুমি কি কাউকে খুন করেছ?' তিনি বললেন, 'আমার সাথে আমি কী করেছি, তা আমিই ভালো জানি।' তারপর যখন সকাল হতো, তখন তিনি চোখে সুরমা লাগিয়ে, মাথায় তেল মেখে এবং ঠোঁটদুটিকে উজ্জ্বল করে মানুষের কাছে বের হতেন।
উমর বিন জার বলেন, 'যখন রাত উপস্থিত হয় এবং গাফিলরা তাদের আরামের বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমের স্বাদ আস্বাদন করতে শুরু করে, তখন আবিদরা আনন্দচিত্তে আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাহাজ্জুদ পড়ে রাতকে জীবন্ত রাখে। কপালের অগ্রভাগ জমিনে ঠেকিয়ে সিজদাবনত হয়ে রাত কাটিয়ে দেয়।
যখন রাতের আঁধার কেটে সকালের আলো উদ্ভাসিত হয়, তখনও তারা তিলাওয়াতের স্বাদ অনুভব করতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ইবাদত করার কারণে তাদের শরীরও বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে না। দুই দলই সকালে উপনীত হয়। তবে একদল রাতটিতে উপকার লাভ করে, আরেক দল তাদের ক্ষতির পাল্লা ভারী করে। যখন সকালে উপনীত হয়, তখন একদলের কাছে ঘুম ও আরামে বিরক্তি এসে যায়, আরেক দল ইবাদতের জন্য আরেকটি রাত আসার অপেক্ষায় থাকে। একই রাত একই সকাল, তবুও কী পার্থক্য দুই দলের মাঝে!
রবি বিন খুসাইম -এর মেয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন, 'আব্বু, সব মানুষ ঘুমায়; কিন্তু আপনাকে ঘুমাতে দেখি না কেন?' তিনি বললেন, 'হে আমার কন্যা, তোমার পিতা গুনাহকে খুব বেশি ভয় পায় (তাই ঘুমায় না)।'
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বাস্তব যে, আজ পুরো চিত্রটাই পাল্টে গেছে। সে যুগের সাথে এ যুগের মিল নেই বললেই চলে। রাতে ঘুমায় না এমন মানুষ এ যুগেও আছে, তবে তাদের অধিকাংশ নিষিদ্ধ ও হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে ঘুমহীন। রাত কাটায়। অনেকে সম্পদের ক্ষতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান ইত্যাদি দুনিয়াবি ক্ষতির চিন্তায় ঘুমহীন থাকে। কিন্তু সালাফদেরকে ঘুম থেকে বিরত রাখত অন্য চিন্তা, অন্য ব্যস্ততা। তাদেরই একজন হলেন বিশর হাফি। তিনি সব সময় চিন্তাগ্রস্ত থাকতেন। একদিন তার চিন্তার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, 'মৃত্যু আমাকে খুঁজে ফিরছে।' তিনি রাতে ঘুমাতেন না। তিনি বলতেন, 'আমি ভয় পাই যে, এমন অবস্থায় আমার মৃত্যু এসে যাবে, যখন আমি ঘুমে বিভোর থাকব।'
আমির বিন কাইস -এর মেয়ে তাকে বলল, 'আব্বু, সব মানুষ তো ঘুমায়; কিন্তু আপনি ঘুমান না যে?' উত্তরে তিনি বললেন, 'হে আমার কন্যা, জাহান্নাম তোমার পিতাকে ঘুমাতে দেয় না।'
ألا يا عين ويحك أسعديني .. بطول الدمع في ظلم الليالي لعلك في القيامة أن تفوزي .. بخير الدهر في تلك العلالي
'হে আমার চোখ, রাতের আঁধারে অশ্রু ঝরিয়ে আমাকে একটু সুখী করো। হতে পারে কঠিন কিয়ামত দিবসে তুমি এর কারণে সফল হবে।'
মালিক বিন দিনার বলেন, 'যদি না ঘুমানো সম্ভব হতো, তবে আমি কখনো ঘুমাতাম না—ঘুমন্ত অবস্থায় আমার ওপর আজাব চলে আসার ভয়ে। আমার কাছে যদি বড় সংখ্যক একটি সাহায্যকারী দল থাকত, আমি পৃথিবীর আনাচে কানাচে তাদের ছড়িয়ে দিতাম; যেন তারা সারা পৃথিবীতে ঘোষণা করে, 'হে লোকসকল, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো।
আখিরাতে নাজাত লাভ করা অতটা সহজ নয়, যতটা আমরা ভাবি। হারাম বিন হিব্বান-এর কথাই তার প্রমাণ। তিনি বলেন, 'জাহান্নাম থেকে যারা বাস্তবিক অর্থে মুক্তি পেতে চায় এবং প্রকৃত অর্থে যারা জান্নাত লাভ করতে চায়, তাদেরকে আমি ঘুমাতে দেখিনি।
تيقظ لساعات من الليل يا فتى لعلك تحظى في الجنان بحورها فقم فتيقظ ساعة بعد ساعة عساك توفي ما بقي من مهورها
'হে যুবক, রাতের কয়েক ঘণ্টা সময় না ঘুমিয়ে কাটাও। এর ফলে সম্ভবত তুমি জান্নাতের হুর অর্জন করতে পারবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেগে থেকে ইবাদত করো। এতে হুরের অবশিষ্ট মোহরও আদায় হয়ে যাবে।'
টিকাঃ
৩৫. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/৩৮০।
৩৬. এমনটি করার কারণ হলো, যেন মানুষজন বুঝতে না পারে যে, তিনি রাতে এত কঠোর মুজাহাদা করেছেন। রিয়ার আশঙ্কায় এমনটি করতেন তিনি।
৩৭. আস-সিয়ার: ৫/৪০৬, সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/১৬২।
৩৮. ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রচিত আজ-জুহদ : ৪৬৯ পৃ.।
৩৯. আজ-জুহদ: ৩১৬ পৃ.।
৪০. আজ-জুহদ: ৩১৬ পৃ.।
৪১. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৪/৫৯।
৪২. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৯৬।
৪৩. ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রচিত আজ-জুহদ: ৩৩২ পৃ.।
📄 কিয়ামুল লাইলের তাওফিক না হওয়ার কারণ
গুনাহ : গুনাহ হলো কিয়ামুল লাইল আদায় করতে না পারার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক; কারণ কিয়ামুল লাইল নেককার বান্দাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ উপহার। আর গুনাহগার এই উপহার পায় না।
হাসান বলেন, 'গুনাহর কারণেই মানুষ কিয়ামুল লাইল থেকে বঞ্চিত হয়। '
সুফইয়ান সাওরি বলেন, 'পাঁচ মাস পূর্বের একটি গুনাহর কারণে আমি কিয়ামুল লাইল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।'
অতএব গুনাহর কারণেই মানুষ কিয়ামুল লাইলের কল্যাণ ও রব্বুল আলামিনের সাথে একান্ত আলাপন থেকে বঞ্চিত হয়।
এ ব্যাপারে সতর্ক করে ফুজাইল বিন ইয়াজ বলেন, 'যদি তুমি রাতে ইবাদত করতে এবং দিনে রোজা রাখতে সক্ষম না হও, তাহলে জেনে নাও যে, তুমি বঞ্চিত। তোমার গুনাহই তোমাকে বঞ্চিত করেছে।'
এক যুবক হাসান -এর কাছে রাতে ইবাদত করতে না পারার অভিযোগ করলেন। তখন তিনি বললেন, 'তোমার গুনাহ তোমাকে বন্দী করে রেখেছে।'
সুতরাং যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম আমল করার তাওফিক দান করেন। তাই তো কিয়ামুল লাইল নেককারদের ভূষণ। ফাসিকদের জন্য এই আমল অনেক কষ্টকর, তবে তাওবাকারীদের জন্য অনেক সহজ।
বিশর বিন হারিস -এর কথা থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, 'যতদিন তোমার এবং তোমার প্রবৃত্তির মাঝে আড়াল না রাখবে, ততদিন তুমি ইবাদতের স্বাদ অনুভব করতে পারবে না।'
টিকাঃ
৪৪. সাইদুল খাতির: ৩৪ পৃ.।
৪৫. আল-ইহইয়া: ১০/৪২০।
৪৬. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/১৭।
৪৭. আস-সিয়ার : ৮/৪৩৫, আল-ইহইয়া : ১/৪২০।
৪৮. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/২৩৫।
৪৯. আস-সিয়ার : ১০/৪৭৩।
📄 যৌবন ও তাহাজ্জুদ
হে মুসলিম যুবক,
কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে নিজের মনোবল ও সাহসকে ধরে রাখো। কেননা মনোবল ও সাহসই হলো সবকিছুর মূল উৎস। সুতরাং যার সাহস ও মনোবল খাঁটি হবে, তার আমলও খাঁটি হবে। ইবনুল কাইয়িম এর একটি সূক্ষ্ম উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'কলব হলো পাখির মতো, যত ওপরে ওঠে তত বিপদাপদ থেকে দূরে থাকে। আর যত নিচে নামে তত বিপদাপদে পড়ে।'
আবু ইসমা বিন ইসাম বাইহাকি বলেন, 'আমি এক রাত আহমাদ বিন হাম্বল -এর ঘরে ছিলাম। তিনি আমার তাহাজ্জুদের অজুর জন্য পানি এনে রাখলেন। সকালে যখন দেখলেন, পানি ব্যবহার করা হয়নি, বলে উঠলেন “সুবহানাল্লাহ, যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করে, রাতে তার কোনো আমল নেই!?”'
বর্তমানের যুবক ভবিষ্যতের বৃদ্ধ। তাই শক্তিশালী ও উচ্চ মনোবলের অধিকারী যুবকশ্রেণিকে সুফইয়ান সাওরি -এর একটি উপদেশ শোনাতে চাই, তিনি নামাজ পড়ার পর যুবকদের দিকে ফিরে বলতেন, 'হে যুবক-সম্প্রদায়, তোমরা যদি এখন তাহাজ্জুদের নামাজ না পড়ো, তাহলে আর কখন পড়বে?!'
ইবরাহিম বিন শাম্মাস -এর সামনে আহমাদ বিন হাম্বল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তখন তিনি বললেন, 'আমি আহমাদ বিন হাম্বলকে চিনি। সে যুবক, কিন্তু রাত জেগে ইবাদত করে।'
আফসোস, বর্তমানে আমাদের অধিকাংশ তাহাজ্জুদগুজারই হলো বৃদ্ধ ও বয়স্ক লোক। যুবকরা তাহাজ্জুদগুজার কবে হবে? অথচ যৌবনের এই সময়টা সুস্থতা, শক্তিমত্তা ও উদ্যমের সময়। এ সময়টাই রাত জেগে ইবাদত করার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। অপরদিকে বৃদ্ধকালে শরীর শক্তিহীন হয়ে পড়ে, শরীরের কম্পনভাব সৃষ্টি হয়, পিঠ কুঁজো হয়ে যায়। এত সব দুর্বলতা সত্ত্বেও বৃদ্ধরা যদি রাত জেগে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, রুকুতে ঝুঁকে থাকতে পারে, সিজদায় কপাল ঠেকিয়ে রাখতে পারে, তাহলে যুবকরা কেন পারে না? এই দুঃখজনক পার্থক্যের কারণ কী? একজন সালাফের মুখেই শোনো।
শুমাইত বিন আজলান বলেন, 'আল্লাহ তাআলা মুমিনের শক্তি রেখেছেন তার অন্তরে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে নয়। তুমি কি বৃদ্ধকে দেখো না, যে কঠিন গরমের দিনেও দিব্যি রোজা রাখতে পারে এবং রাতে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে পারে; অথচ অনেক যুবক তা পারে না?'
একজন শতবর্ষী আলিমের গল্প শোনো। শত বর্ষে পদার্পণ করা সত্ত্বেও যার শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা পূর্ণ ছিল। একদিন তিনি একটি লম্বা লাফ দিলেন। এতে হিতাকাঙ্ক্ষীরা তাকে ভর্ৎসনা করলে তিনি বললেন, 'এই যে আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, এগুলোকে আমি যৌবনে গুনাহ থেকে হিফাজত করেছি। তাই বুড়োকালে আল্লাহ তাআলা এগুলোকে আমার জন্য অক্ষত রেখেছেন।'
টিকাঃ
৫০. আল-জাওয়াবুল কাফি: ৭০ পৃ.।
৫১. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/৫৯।
৫২. আস-সিয়ার: ১১/৮।
৫৩. সিফাতুস সাফওয়াহ : ৩/৩৪১, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৩০।
৫৪. জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম: ২২৬ পৃ.'।