📘 আবু বকর সিদ্দিক রাঃ > 📄 আবু বকরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণ ও মর্যাদা

📄 আবু বকরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুণ ও মর্যাদা


আবু বকরের ব্যক্তিত্ব ছিল নেতৃত্বগুণসমৃদ্ধ। তিনি ছিলেন একজন ধর্মনেতার গুণে গুণান্বিত। আমরা এখানে তাঁর সে গুণসমূহ থেকে কিছু সংক্ষেপে; আর কিছু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করব।
আবু বকরের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তথা মল্লিজীবনে নবিজির সঙ্গদান, মাদানিজীবনে নবির সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ, তাঁর সামাজিক জীবনযাপন এবং শাসনকাল নিয়ে অধ্যয়ন করলে যেসব গুণ সামনে আসে, সেগুলো হচ্ছে আকিদার সংরক্ষণ, শরয়ি প্রজ্ঞা, আল্লাহ-নির্ভরতা, আদর্শ, সততা, বীরত্ব, মানবতা, পরহেজগারি, অপরকে অগ্রাধিকার দান, আত্মত্যাগ, সঠিক সহযোগী নির্বাচন, বিনয়-নম্রতা, সহনশীলতা, শিক্ষা ও শিক্ষাদান ইত্যাদি। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহে তাঁর মধ্যে যে নেতৃত্বগুণ রেখেছিলেন, এর মাধ্যমে তিনি ইসলামি সাম্রাজ্যের নিরাপত্তাবিধান করেছিলেন। ইরতিদাদি ফিতনার শিকড় গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। উম্মাহকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর যেসব গুরুত্বপূর্ণ গুণের ওপর এখানে আলোকপাত করতে চাই, সেগুলো হচ্ছে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ইমান, গভীর প্রজ্ঞা, অধিক দুআ ও বিনয়।
১. ইমানের উচ্চতা আল্লাহর ওপর আবু বকরের বিশ্বাস ছিল গভীর। তিনি ইমানের বাস্তবতা আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন। তাওহিদের আকিদা তাঁর হৃদয়ে একেবারে মিশে গিয়েছিল। এর প্রভাব তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছিল। তিনি জীবনভর তাতে স্থির ছিলেন। উন্নত চরিত্র ধারণপূর্বক অরুচিকর চরিত্র পরিহার করেছিলেন। আল্লাহর শরিয়ত ধারণ করে জীবনযাপন করেন। নবিজির পূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণ করছিলেন। আল্লাহর ওপর তাঁর সুদৃঢ় ইমান তাঁর মধ্যে দীনি প্রয়াস, দুঃসাহস, কর্মতৎপরতা, অনুশীলন, জিহাদ এবং সম্মান ও মর্যাদার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছিল। তাঁর ইমান ছিল এতই পরিশীলিত যে, সাহাবিদের কেউ তাঁর সমমর্যাদায় পৌঁছতে পারেননি। আবু বকর ইবনু আইয়াশ রাহ. বলেন, 'আবু বকর রা. সালাত ও সাওমের দিক দিয়ে সকল সাহাবিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এ ছিল তাঁর অন্তরে পুঁতে থাকা ইমানের প্রতিফলন। এ জন্যই বলা হয়েছে, আবু বকরের ইমানকে পৃথিবীর সকল মানুষের ইমানের সঙ্গে ওজন করা হলে তাঁর ইমানের পাল্লাই ভারী থাকবে। সুনানগ্রন্থে আবু বাকরা থেকে বর্ণিত; রাসুল একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন, 'তোমাদের মধ্যে কেউ স্বপ্ন দেখেছ?' একজন বলেন, 'আমি স্বপ্নে দেখেছি, আসমান থেকে একটি পাল্লা নেমে এসেছে এবং আপনাকে ও আবু বকরকে ওজন করা হয়েছে। আপনি ছিলেন আবু বকর থেকে অনেক ভারী। এরপর আবু বকর ও উমরকে ওজন করা হলে দেখা যায়, আবু বকর ছিলেন উমর থেকে ভারী। এরপর উমর ও উসমানকে ওজন করা হয়, তখন দেখা যায় উমর উসমান থেকে ভারী। এরপর পাল্লাটি উঠিয়ে নেওয়া হয়।' নবিজির কাছে স্বপ্নটি ভালো লাগেনি। তিনি বলেন, 'এ-ই হচ্ছে নববি খিলাফতের দিকে ইঙ্গিত। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁকে দেশ ও সালতানাত দান করবেন।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত; রাসুল ফজরের সালাত পড়ানোর পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে বলেন, 'এক ব্যক্তি গাভি নিয়ে যাচ্ছিল এবং তাতে চড়ে সেটিকে পেটাতে শুরু করছিল। গাভি বলছিল, আমাদের এ জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। আমাদের তো কৃষিকাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।' কথাটি শুনে লোকজন বলে ওঠেন, 'সুবহানাল্লাহ, গাভি কথা বলছিল!' রাসুল বলেন, 'আমি এর ওপর ইমান রাখি, আবু বকর এবং উমরও এর ওপর ইমান রাখেন।' তাঁরা উভয়ে তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর বলেন, 'এক ব্যক্তি তার বকরি নিয়ে অবস্থান করছিল। ইতিমধ্যে এক নেকড়ে জাপটা মেরে একটি বকরি উঠিয়ে নেয়। লোকটি নেকড়ের পিছুধাওয়া করে। একপর্যায়ে সে বকরিটি নেকড়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। নেকড়ে তাকে লক্ষ করে বলে, আজ তুমি ওকে বাঁচিয়ে নিলে; কিন্তু হিংস্রতার দিনে কে ওকে রক্ষা করবে? সে দিন আমি ছাড়া ওর কোনো নিরাপত্তাদানকারী থাকবে না।' লোকজন বলেন, 'সুবহানাল্লাহ, নেকড়েও কথা বলে!' নবিজি বলেন, 'আমি এর ওপর ইমান রাখি, আবু বকর এবং উমরও এর ওপর ইমান রাখেন।' আবু বকর ও উমর তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
তাঁর মধ্যে সুদৃঢ় ইমান, শরিয়ত অনুসরণ এবং সত্যবাদিতা ও নিষ্ঠার কারণে নবিজি তাঁকে খুব ভালোবাসতেন। এই ভালোবাসা ছিল অন্য সাহাবিদের ভালোবাসার তুলনায় অনেক বেশি।
আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, 'রাসুল আমাকে জাতুস সালাসিলযুদ্ধের সেনাপতি নির্ধারণ করেছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলি, 'আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে?' রাসুল বলেন, 'আয়েশা।' আমি বলি, 'পুরুষদের মধ্যে?' তিনি বলেন, 'আয়েশার পিতা।' আমি জিজ্ঞেস করি, 'এরপর কে?' তিনি বলেন, 'উমর ইবনুল খাত্তাব।' এরপর আরও কয়েকজনের নাম বলেন।
আবু বকর এই সুদৃঢ় ইমান, শরিয়তের প্রতি যত্নবান হওয়া, দীনের প্রতি সাহায্য- সমর্থন এবং অন্তহীন চেষ্টার ফলেই রাসুলের মুখে জান্নাতের প্রতি সাহায্য- হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যাঁকে জান্নাতের সকল দরজা থেকে স্বাগত জানানো হবে।
আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত: আমি ঘরে অজু করে বের হই এবং মনে মনে বলি, আমাকে অবশ্যই রাসুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে। আজ পুরো দিন আমি তাঁর পাশে থাকব। আমি মসজিদে যাই, সেখানে থাকা লোকজনকে নবিজি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। লোকজন বলে, তিনি এখান থেকে বেরিয়ে ওদিকে গিয়েছেন। আমি তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে করতে পেছন পেছন যেতে থাকি। নবিজি তখন আরিস কূপের সীমানায় ঢুকে পড়েছিলেন। আমি কূপের ফটকে বসে পড়ি। দরজাটি ছিল খেজুরগাছের কান্ডের। রাসুল প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষে অজু করার পর আমি তাঁর কাছে যাই। তিনি তখন আরিস কূপে উভয় পা ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করি। এরপর ফিরে এসে দরজায় বসে পড়ি। সিদ্ধান্ত নিই, আজ রাসুলের পাহারার কাজ আনজাম দেবো। ইতিমধ্যে আবু বকর সেখানে উপস্থিত হন এবং দরজায় ধাক্কা দেন। আমি জিজ্ঞেস করি, 'কে?' উত্তর আসে, 'আমি আবু বকর।' আমি বলি, 'একটু অপেক্ষা করুন।' এরপর আমি নবিজির কাছে গিয়ে বলি, 'আল্লাহর রাসুল, আবু বকর আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।' নবিজি বলেন, 'তাঁকে আসতে দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।' আমি এসে আবু বকরকে বলি, 'আসুন, আল্লাহর রাসুল আপনাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।' এরপর তিনি এসে রাসুলের পাশে ঠিক রাসুলের মতো কূপের ভেতর পা ঝুলিয়ে বসে পড়েন।
আর আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত; রাসুল বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো জিনিসের জোড়া খরচ করবে, তাকে জান্নাতের সব দরজা ডাকবে। যারা নামাজি হবে, তারা বাবুস সালাত, যারা মুজাহিদ হবে তারা বাবুল জিহাদ, যারা জাকাত-সাদাকা করবে, তাদের বাবুস সাদাকা, যারা রোজাদার হবে, তাদের বাবুর রাইয়ান দিয়ে ডাকা হবে।' আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, এসব দরজা দিয়ে যাদের ডাকা হবে, তাদের তো কোনো প্রয়োজন বাকি থাকবে না; কিন্তু এমন কেউ আছে কি, যাকে জান্নাতের প্রতিটি দরজা ডাকবে?’ রাসুল বলেন, 'আবু বকর, আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে।
২. আবু বকরের প্রজ্ঞা
আবু বকর ছিলেন আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখা ব্যক্তি। আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভীতিপোষণকারী। আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা হচ্ছে, আবু বকর রা. ছিলেন সবচেয়ে বড় আলিম। অনেকে এ ব্যাপারে ইজমার কথা বলেছেন। সকল সাহাবির ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হচ্ছে, সফরে ও বাড়িতে সর্বদা রাসুলের সঙ্গদান। ইশার পরেও তিনি নবিজির সঙ্গে সময় কাটাতেন। مسلمانوں নানাবিধ বিষয় নিয়ে রাসুলের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। অন্য কোনো সাহাবি তখন তাঁর পাশে থাকতেন না। নবিজি কোনো বিষয়ে সাহাবিদের থেকে পরামর্শ চাইলে আবু বকরই প্রথম কথা বলতেন। অন্যরা খুব কম বলতেন। অনেক সময় অন্যরা কোনো কথা বলতেন না। তখন তাঁর কথামতোই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। যদি অন্যদের অভিমত তাঁর অভিমতের বিপরীত হতো, তাহলে রাসুল সেসব অভিমত বাদ দিয়ে আবু বকরের মতকে অগ্রাধিকার দিতেন।
মদিনা থেকে সম্পন্ন প্রথম হজে নবিজি তাঁকেই হাজিদের আমির নিযুক্ত করেছিলেন। সাধারণত হজের বিধান অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে কঠিন ও সূক্ষ্ম। তাঁর মধ্যে ইলমের গভীরতা না থাকলে অবশ্যই নবিজি তাঁকে আমির বানাতেন না। একইভাবে সালাতের ইমামতিতেও তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। তাঁর ইলম না থাকলে অবশ্যই এমনটি করা হতো না। সালাত ও হজে নবিজি তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করেননি। আনাস রা. তাঁর থেকেই মহানবি বর্ণিত 'কিতাবুস সাদাকা' বর্ণনা করেছেন। এগুলোই হচ্ছে সাদাকা-সংক্রান্ত সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনা।
উম্মতের ফকিহগণ এর ওপর আস্থা রেখেই নাসিখ-মানসুখ নির্ধারণ করে থাকেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, তিনি নাসিখ সুন্নাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর থেকে এমন কোনো কথা বর্ণিত হয়নি, যা কুরআনের স্পষ্ট বিধানের বিপরীত। এটা তাঁর গভীরতম প্রজ্ঞা এবং দক্ষতার পরিচায়ক। শরিয়তের এমন কোনো মাসআলা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়নি, যেখানে তিনি ভুল করেছেন; অথচ অন্যদের থেকে এমন অনেক বর্ণনা বিদ্যমান। তিনি নবিজির উপস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ের মীমাংসা করতেন এবং ফাতওয়া দিতেন; অথচ নবিজি কখনো তাঁর ভুল ধরেননি। এই মর্যাদা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ অর্জন করতে পারেননি, যেমনটি আমি হুনাইনের যুদ্ধ চলাকালে আবু কাতাদার গনিমত-সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণনা করেছি।
রাসুলের ইনতিকালের পর অন্যদের ওপর তাঁর ইলমি শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে উঠেছিল। তাঁর শাসনকালে যে বিষয়েই মতবিরোধ সৃষ্টি হতো, তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তা যথাযথভাবে নিরসন করতেন। এটা তাঁর ইনসাফ এবং শরিয়তের ইলমের ব্যাপারে প্রাজ্ঞতার দলিল। তিনি কাউকে কোনো কাজের নির্দেশ দিলে লোকজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর আনুগত্য করত। তিনিই মানুষের কাছে রাসুলের মৃত্যুর ব্যাপারটি পরিষ্কার করেছিলেন। ইমানের ওপর অটল থাকতে তাদের সহায়তা করেছিলেন। নবিজির দাফনের জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়টি খোলাসা করেছিলেন। জাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদের মাসআলা স্পষ্ট করেছিলেন; অথচ উমরের মতো ব্যক্তিরও তাতে দ্বিধা ছিল। এ ছাড়া 'খিলাফত কুরাইশের অধিকার'-এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছিলেন। উসামা-বাহিনীকে প্রস্তুত করেছিলেন এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাঁদের শামের দিকে পাঠিয়েছিলেন। স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, 'আল্লাহ যে ব্যক্তিকে ইহকাল ও পরকালের মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণের অধিকার দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন নবিজি মুহাম্মাদ। এসব মাসআলার বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে।
নবিজি আবু বকরকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নও তাঁর গভীর ইলমের বার্তা দেয়। আবদুল্লাহ ইবনু উমর থেকে বর্ণিত; রাসুল বলেছেন, 'স্বপ্নে দেখি, আমাকে দুধেভরা একটি পাত্র দান করা হয়েছে। আমি তা থেকে তৃপ্ত হয়ে পান করি। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, তা আমার গোশত এবং শিরা-উপশিরায় দৌড়াচ্ছে। এ থেকে কিছু রয়ে গেলে আমি তা আবু বকরকে দিয়ে দিই।' লোকজন বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, এটি নিশ্চয় ইলম, যা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। আপনি তৃপ্ত হওয়ার হওয়ার পর তা আবু বকরকে দিয়ে দিয়েছেন।' রাসুল বলেন, 'তোমরা সত্য বলেছ।'
আবু বকর রা. স্বপ্নটিকে সত্য মনে করেছিলেন। তা ছাড়া স্বপ্নের ব্যাখ্যায়ও তাঁর পারদর্শিতা ছিল। ভোর হলে তিনি লোকজনকে বলতেন, 'যিনি ভালো স্বপ্ন দেখেছেন, বলুন।' এ ছাড়া তিনি বলতেন, 'একজন মুসলমানের অজু অবস্থায় ভালো স্বপ্ন দেখা আমার কাছে এই এই সম্পদ থেকে উত্তম।'
তিনি যেসব স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে:
• আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত: একব্যক্তি রাসুলের কাছে এসে বলে, 'আমি রাতে স্বপ্ন দেখেছি, একটি মেঘখণ্ড ছায়া দান করছে; আর তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ঘি ও মধু ঝরছে। মানুষ তা নিজেদের হাতের তালুতে নিচ্ছিল- কেউ বেশি, কেউ কম। এ ছাড়া একটি রশি দেখতে পাই, যা আসমান পর্যন্ত প্রলম্বিত। আমি দেখতে পাই, আপনি রশিটি ধরে আকাশে উঠে গেছেন। এরপর আরেকজন সেটা ধরে এবং সে-ও উপরে চলে যায়। তারপর আরেকজন ধরতেই তা ছিঁড়ে যায়; কিন্তু পুনরায় তা জোড়া লেগে যায়।'
স্বপ্ন শুনে আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল-আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর কুরবান হোক-অনুগ্রহপূর্বক আমাকে এর ব্যাখ্যা বলার অনুমতি দিন।' নবিজি বলেন, 'ঠিক আছে, বলো।' আবু বকর বলেন, 'মেঘের ব্যাখ্যা হচ্ছে ইসলাম। তা থেকে যে ঘি ও মধু টপকাচ্ছিল, তা হচ্ছে কুরআন। অর্থাৎ, তার মিষ্টতা টপকাচ্ছিল। কেউ অল্প এবং কেউ বেশি কুরআনের ইলম নিচ্ছিল। আর যে রশি জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল, তা হচ্ছে সত্য, যার ওপর আপনি অধিষ্ঠিত আছেন। আপনি তাতে স্থির থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দেবেন। আপনার পর আরেকজন রশিটা আঁকড়ে ধরবে, ফলে সে-ও শীর্ষস্থানে পৌঁছে যাবে। এরপর এক ব্যক্তি ধরবে, তবে রশিটা ছিঁড়ে যাবে; কিন্তু পরে আবার জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হবে। তখন সে-ও উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। আল্লাহর রাসুল-আমার পিতামাতা আপনার ওপর কুরবান হোক-বলুন আমিতি সত্য ব্যাখ্যা দিয়েছি?' নবিজি বলেন, 'কিছুটা ঠিক বলেছ, আর কিছুটা ভুল করেছ।' আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আপনি অবশ্যই বলুন আমি কী ভুল করেছি? নবিজি বলেন, 'আবু বকর, শপথ করো না।
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত: তিনি স্বপ্নে দেখেন, তাঁর কক্ষে যেন তিনটি চাঁদ নেমে এসেছে। স্বপ্নটি তিনি আবু বকরকে শোনান। তিনি ছিলেন স্বপ্নব্যাখ্যায় পারদর্শী। তিনি বলেন, 'তোমার স্বপ্ন সঠিক হলে তোমার ঘরে এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন ব্যক্তির দাফন হবে। যখন নবিজির ইনতিকাল হয়, তখন তিনি আয়েশাকে বলেন, 'আয়েশা, এ হচ্ছে তোমার শ্রেষ্ঠতম চাঁদ।' এ থেকে বোঝা যায়, নবিজির পর তিনিই ছিলেন স্বপ্নব্যাখায় সবচেয়ে বড় আলিম।
সাহাবিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম হলেও তিনি ছিলেন লৌকিকতা থেকে অনেক দূরে। ইবরাহিম নাখায়ি বর্ণনা করেন; একবার আবু বকর তিলাওয়াত করেন, (ফল এবং গবাদি খাদ্য।)। [সুরা আবাসা: ৩১] লোকজন জিজ্ঞেস করেন, 'আব' কী? এরপর সবাই যার যার মতো করে কথা বলতে থাকেন। তখন আবু বকর বলেন, 'এ হচ্ছে লৌকিকতা। কোন ভূমি আমাকে আশ্রয় দেবে, কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে, যদি আমি কুরআন সম্পর্কে এমন কথা বলি, যা আমি জানি না।
৩. দুআ, বিনয় ও অত্যধিক কান্নাকাটি
দুআ এক বিশাল দরজা। কোনো বান্দার জন্য সে দরজা খুলে দেওয়ার মানে তার জন্য কল্যাণ ও বরকতের সমস্ত দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া। এ জন্য আবু বকর আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তিনি আল্লাহর দরবারে অধিক দুআ করতেন। কারণ, দুআ শত্রুর ওপর ঐশী সাহায্য-শক্তি প্রাপ্তির অন্যতম একটি মাধ্যম। আল্লাহ বলেন,
তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। [সুরা মুমিন: ৬০]
অন্যত্র বলেছেন,
বান্দা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও আমার আহ্বানে সাড়া দিক এবং আমার ওপর ইমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।। সুরা বাকারা: ১৮৬]
আবু বকর রা. রাসুলের সঙ্গ ধরেছিলেন এবং একেবারে কাছ থেকে দেখেছিলেন-কীভাবে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান। কেমন করে তাঁর কাছে সাহায্যপ্রার্থী হন। রাসুলের কাছ থেকে এগুলো শিখতে তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন। এ বিষয়কেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। দুআ ও তাসবিহতে তিনি সেসব শব্দ-বাক্যকে অগ্রাধিকার দিতেন, যেগুলো নবিজি ব্যবহার করতেন। কোনো মুসলমান রাসুল থেকে বর্ণিত শব্দের ওপর অন্য কোনো শব্দ-বাক্যকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না-চাই সেসব শব্দ-বাক্য যতই অর্থবহুল এবং সুন্দর হোক না কেন। কারণ, রাসুলই তো ছিলেন কল্যাণের শিক্ষক। সিরাতে মুসতাকিমের প্রথপ্রদর্শক। সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ কোনটি, তিনিই তা ভালো ও বেশি জানতেন।
সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত আছে; আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন একটি দুআ শিক্ষা দিন, যা সালাতে পড়তে পারি।' নবিজি বলেন, বলো-
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর প্রচণ্ড জুলুম করেছি। আপনিই তো পাপ ক্ষমা করে থাকেন। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ওপর দয়া করুন। নিঃসন্দেহে আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
এই দুআয় বান্দা নিজের সত্তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন সে তাঁর রহমতের কাঙাল। সে তার প্রতিপালককে এমন গুণে গুণান্বিত করছে, যেন তিনি ছাড়া অন্য কেউ তার উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে দিচ্ছে। কবুল হওয়ার জন্য বিনীতভাবে নিবেদন করছে। ক্ষমা ও রহমতের গুণে আল্লাহকে স্মরণ করছে। এটিই হচ্ছে প্রার্থনার মধ্যে পরিপূর্ণ প্রার্থনা।
সুনানগ্রন্থে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আমাকে সকাল-সন্ধ্যা পড়ার মতো দুআ বলে দিন।' রাসুল বলেন, বলো
فَاطِرَ السَّمَوَاتِ والأَرْضِ عَالَمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ. أَشْهَدُ أَن لا إِله إِلا أَنتَ، أَعُوذُ بكَ منْ شَرِّ نَفسي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ قَالَ: "قُلْها إِذا أَصْبَحْتَ، وَإِذا أَمْسَيْتَ، وَإِذا أَخَذْتَ مَضْجِعَكَ
হে আল্লাহ, আপনি আসমান-জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞানী, সবকিছুর পালনকর্তা ও বাদশাহ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় কামনা করছি আত্মপ্রবঞ্চনা ও শয়তানের ধোঁকা থেকে এবং সেসব কাজ থেকেও, যেগুলোর মাধ্যমে নিজের ওপর জুলুম করা হয়; অথবা অপর মুসলমানকে জুলুম করি। নবিজি বলেন, “সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর সময় এই দুআ পাঠ করবে।”
আবু বকর রা. রাসুল থেকে এ বিষয়টির শিক্ষা লাভ করেছিলেন যে, প্রত্যেক মানুষই তাওবা ও ইসতিগফারের মুখাপেক্ষী। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। আল্লাহ বলেন,
আমি তো আসমান জমিন এবং পর্বতমালার প্রতি এই আমানত পেশ করেছিলাম, তারা এটি বহন করতে অস্বীকার করল এবং শঙ্কিত হল; কিন্তু মানুষ এটি বহন করল। নিশ্চয় সে অতিশয় জালিম ও চরম অজ্ঞ। পরিণামে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীকে শাস্তি দেবেন এবং মুমিন পুরুষ ও নারীকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সুরা আহজাব: ৭২-৭৩]।
মানুষ জালিম এবং অজ্ঞ। তবে মুমিনদের মূল মাকসাদ হচ্ছে তাওবা। আল্লাহ কুরআনে কল্যাণকামী বান্দাদের তাওবা গ্রহণ এবং তাদের ক্ষমাদানের কথা বলেছেন। বুখারি ও মুসলিমে রাসুল থেকে বর্ণিত আছে— 'কোনো মানুষ তার পুণ্যকাজের ভিত্তিতে কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।' সাহাবিগণ বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আপনিও?' রাসুল বলেন, 'হ্যাঁ আমিও—যদি না আল্লাহর রহমত আমাকে ঢেকে নেয়।'
এ হাদিসটি কিন্তু আল্লাহর সেই বাণী-বিরুদ্ধ নয়, যেখানে বলা হয়েছে- ‘তাদের বলা হবে, পান করো তৃপ্তির সঙ্গে, তোমরা অতীতে যা করেছিলে তার বিনিময়ে। [সুরা হাক্কাহ: ২৪] কারণ, রাসুল ﷺ তাঁর বাণী بعمله তে ওই 'ب' অস্বীকার করেছেন, যা ‘মোকাবিলা’র অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর কুরআনে উল্লখিত بِمَا اِسلفتُمْ ওই 'ب' প্রমাণিত করে, যা ‘আসবাব’-এর অর্থ ধারণ করে। অর্থাৎ, সৎকর্ম জান্নাতের মূল্য নয়; বরং জান্নাত লাভের মাধ্যম। আর জান্নাত লাভের জন্য শুধু সৎকর্ম নয়; বরং আল্লাহর রহমত থাকাও অপরিহার্য।
যারা বলে থাকেন, ‘আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে পাপকাজ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না’– এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসলে তাকে তাওবা-ইসতিগফারের তাওফিক দান করেন। সে তখন গুনাহের কাজে স্থির থাকে না। আর যে মনে করে, গুনাহে স্থির থাকলেও এই গুনাহ তার ক্ষতির কারণ হবে না, সে নিশ্চয় পথহারা। তার কথা কুরআন-সুন্নাহ এবং সালাফের ইজমার বিপরীত। কুরআন বলেছে, যে সামান্যতম পুণ্যকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে সামান্যতম পাপ করবে, সে-ও তা দেখতে পাবে।
আবু বকর আল্লাহর জিকিরে ব্যস্ত থাকতেন। আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে কান্নাকাটি করতেন। সব সময় আল্লাহমুখী থাকতেন। কখনো দুআ থেকে দূরে থাকতেন না। তিনি যেসব দুআ করতেন তার কয়েকটি হচ্ছে :
ক. হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে সকল বস্তুর মধ্যে নিয়ামতলাভের প্রার্থনা করি। এগুলোর ওপর আমাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক দাও, যতক্ষণ-না তুমি সন্তুষ্ট হচ্ছ। সন্তুষ্ট হওয়ার পরও আমাকে সকল ধরনের পুণ্যকাজ করার তাওফিক দান করো। আমি তোমার কাছে সকল সহজ কাজের প্রার্থনা করি ও জটিল কাজ থেকে আশ্রয় চাই।
খ. হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে ওই জিনিসের প্রার্থনা করি, যা আমার জন্য শুভ পরিণাম বয়ে আনবে। প্রভু, তুমি শেষ কল্যাণ হিসেবে আমাকে যা দান করবেন তা যেন হয় তোমার সন্তুষ্টি এবং জান্নাতুন নায়িমের সুমহান মর্যাদা।
গ. হে আল্লাহ, আমার জীবনের শেষ ভাগকে কল্যাণময় করো এবং তা যেন হয় সর্বোত্তম। যে দিন আমি তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব, সে দিনটিকে সবচেয়ে উত্তম বানিয়ে দিয়ো।
ঘ. হে আল্লাহ, তুমি আমাকে আমার নিজের চেয়ে বেশি জানো। আমিও মানুষের চেয়ে আমাকে বেশি জানি। হে আল্লাহ, আমাকে তাদের ধারণানুযায়ী উত্তম বানিয়ে দাও। আমাকে সেসব পাপ থেকে রক্ষা করো, যা তারা জানে না। তারা যা বলছে, সে ভিত্তিতে আমাকে পাকড়াও করো না।
এই হচ্ছে আবু বকরের সংক্ষেপে উপস্থাপন করা বিশেষ কিছু গুণ। রাসুলের অবর্তমানে আবু বকরের যাপিত জীবনেও আমরা নববি প্রশিক্ষণের ঝলক দেখতে পাব। দেখতে পাব, তিনি কীভাবে আল্লাহর অনুগ্রহে উত্তম দীক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। দৃঢ় ইমানের অধিকারী এবং কাজে-কর্মে উত্তম হয়েছিলেন। নবিজির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে এমন মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছিলেন, যেখানে কেউ উপনীত হতে পারেননি। কীভাবে তিনি তাঁর সেনাপতির কাছ থেকে সৈনাপত্য শিখেছিলেন। বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেছিলেন। যখন খিলাফতের বাগডোর হাতে নেন, তখন অন্ধকার রাতের উত্তুঙ্গ তরঙ্গময়ী সাগরের প্রবল ঝঞ্ঝা এড়িয়ে কীভাবে ইসলামের কিশতিকে শান্তি ও নিরাপত্তার তীরে ভিড়িয়েছিলেন।

টিকাঃ
৩৯ ফাজায়িলস সাহাবা, ইমাম আহমাদ রাহ: ১/১৭৩।
সুনানু আবি দাউদ: ৪৬৩৪; সুনানুত তিরমিজি: ২২৮৮।
সাহিহ মুসলিম: ২৩৮৮।
অন্য কাউকে সেনাপতি না বানিয়ে তাঁকে বানানোয় তিনি ভাবেন, রাসুলের কাছে তিনি-ই হয়তো সবার চেয়ে প্রিয়। আমর ইবনুল আস এ ধারণা থেকেই নবিজিকে প্রশ্নটি করেছিলেন।- সম্পাদকা
২০ সহিহ বুখারি: ২৬৬২।
৩৪২ সহিহ বুখারি, আর-রিকাক: ৬৪৬৩।
৩৪৪ সহিহ বুখারি: ৩৬৭৪।
৩২৫ সহিহ বুখারি: ২৬৬৬।
৩২৬ তারিখুল খুলাফা, সুয়ুতি: ৫৯।
৩২৭ মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৩/১২৭।
৩২৮ আবু বাকরিনিস সিদ্দিক, মালুল্লাহ: ৩৩৪, ৩৩৫।
৩২৯ সহিহ বুখারি: ১৪৪৮।
৩৩০ নাসিখ ওই পরবর্তী বিধান, যা পূর্ববর্তী বিধানকে রহিত করে এবং মানসুখ হচ্ছে বহিত হওয়া বিধান।
৩৩১ আবু বাকরিনিস সিদ্দিক আফজালুস সাহাবাতি ওয়া আহাক্কুহুম বিল খিলাফাতি : ৬০।
৩৩২ প্রাগুক্ত: ৫৭।
১০০০ প্রাগুক্ত: ৫৯।
আল-ইহসান ফি তাকরিবি সাহিহি ইবনি হিব্বান: ১৫/২৬৯।
খুতাবু আবি বাকিরিনিস সিদ্দিক, মুহাম্মাদ আশুর ও জামাল আল কুমি: ১৫৫।
সহিহ বুখারি, কিতাবুত তাবির: ৭০৪৬।
তারিখুল খুলাফা, সুয়ুতি: ১২৯, ১৩০।
ফাতহুল বারি: ১৩/২৮৫: এই বর্ণনার সনদ ইবরাহিম নাখয়ি থেকে আবু বকর পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন।
৩০৯ আবু বাকরিনিস সিদ্দিক রা., আলি তানতাবি: ২০৭১।
৩৪০ সহিহ বুখারি: ৮৪৩; সহিহ মুসলিম, আজ-জিকরু ওয়াদ দুআ: ২৭০৫।
৩৪১ মাজমুউল ফাতাওয়া: ৯/১৪৬।
৩৪২ সুনানু আবি দাউদ, আল-আদব: ৫০৬৭; সুনানুত তিরমিজি, আদ-দাওয়াত: ৩৫২৯।
*** মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়া: ১১/১৪২।
৩৪৫ আশ-শুকর, ইবনু আবিদ দুনইয়া: ১০৯; খুতাবু আবি বাকরিনিস সিদ্দিক: ৩৯ থেকে উদ্ধৃত।
৩৪৬ খুতাবু আবি বাকরিনিস সিদ্দিক: ১৩৯।
কানজুল উম্মাল: ৫০৩০; খুতাবু আবি বাকরিনিস সিদ্দিক: ৩৯ থেকে উদ্ধৃত।
উসদুল গাবা: ৩/৩২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00