📄 হুদায়বিয়ার সন্ধি
৬ হিজরির জুলকাদা মাসে বিশ্বনবি ১ হাজার ৪০০ সাহাবি নিয়ে কাবাঘর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হন। যাত্রীদলের সঙ্গে ছিল কুরবানির পশু। মুসলমানগণ ছিলেন উমরার পোশাক পরিহিত, যাতে মক্কাবাসী তাদের অবস্থা দেখেই বুঝে নিতে পারে তিনি (রাসুল)-সহ পুরো দল যুদ্ধের জন্য নয়; বরং বায়তুল্লাহর জিয়ারতের উদ্দেশ্যেই বের হয়েছেন। নবিজি বনু খুজাআ থেকে একজন গোয়েন্দাকে অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য মক্কায় পাঠিয়ে দেন। তিনি এসে সংবাদ দেন, মক্কাবাসীরা আপনাকে প্রতিহত করতে কাবাপ্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছে।
রাসুল তখন সবাইকে বলেন, 'লোকসকল, পরামর্শ দাও এ মুহূর্তে কী করতে পারি?'
আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আপনি তো কাবার জিয়ারতে বের হয়েছেন, কাউকে হত্যা কিংবা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে নয়। অতএব আমার মত হচ্ছে, আপনি এগিয়ে যান। যদি বাধা আসে, তাহলে আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আছি।' রাসুল তখন বলেন, 'আল্লাহর নাম নিয়ে এগিয়ে চলো।' এদিকে কুরাইশরা এ সংবাদ পেয়ে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে। তারা কিছুতেই 'মুহাম্মাদ -কে মক্কায় ঢুকতে দেবে না' মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। এরপর মক্কাবাসী এবং রাসুলের মধ্যে কথাবার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। রাসুল তখন এই সংকল্প দৃঢ় করে নিয়েছিলেন যে, তারা যেসব দাবি উত্থাপন করবে, মক্কাবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার লক্ষ্যে তিনি তা মেনে নেবেন।
১. সন্ধি নিয়ে আলাপ-আলোচনা রাসুল সন্ধির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলে কুরাইশের প্রতিনিধিদলের আগমন শুরু হয়। প্রথমে আসেন বনু খুজাআর বুদাইল ইবনু ওয়ারাকা। তিনি রাসুল এবং مسلمانوں উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হলে কুরাইশদের কাছে ফিরে যান। এরপর পর্যায়ক্রমে মিকরাজ ইবনু হাফস, হুলাইস ইবনু আলকামা, উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফি উপস্থিত হন। একপর্যায়ে নবিজি এবং উরওয়া ইবনু মাসউদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় আবু বকরসহ অন্য কয়েকজন সাহাবিও অংশ নেন।
উরওয়া বলেন, 'মুহাম্মাদ এই অভদ্র লোকগুলো নিয়ে নিজের বংশ ধ্বংস করতে এসেছ? স্মরণ রাখবে, কুরাইশের নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সবাই বের হয়ে গেছে। তারা চিতার চামড়া পরে নিয়েছে। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে নিয়েছে যে, মক্কায় তোমাদের প্রবেশ করতে দেবে না। আল্লাহর শপথ, এই লোকগুলো (সাহাবিগণ) পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।'
আবু বকর উরওয়ার কথাগুলো সহ্য করতে পারেননি। তিনি বলে উঠেন, 'যা, গিয়ে "লাত” প্রতিমার লজ্জাস্থান চাটতে থাক। আমরা কি রাসুলের সঙ্গ ছেড়ে পালিয়ে যাব?' বাক্যবাণে আহত উরওয়া নবিজিকে জিজ্ঞেস করে, 'ইনি কে?' নবিজি জবাব দেন 'আবু বকর।' উরওয়া বলে, 'সেই সত্তার শপথ, যদি আমার ওপর তোমার অনুগ্রহ না থাকত, তাহলে অবশ্যই তোমার কথার জবাব দিতাম।' আবু বকর অতীতে তার ওপর অনুগ্রহ করেছিলেন, উরওয়া তার কথার মাধ্যমে সেই স্বীকৃতি দিচ্ছিল।
উরওয়া ইবনু মাসউদ সাকাফি ছিল অত্যন্ত ঝানু ব্যক্তি। সে সাহাবিদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টির প্রয়াস চালায়, যাতে তাঁরা ভেতরে ভেতরে পরাজিত হয়ে পড়েন। কুরাইশের শক্তির ব্যাপারে সে বাড়াবাড়িমূলক শব্দ প্রয়োগ করছিল। কুরাইশের চিত্রকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলছিল, যাতে ধারণা জন্মে-অবশ্যই তারা বিজয়ী হবে। সে মুসলমানদের সারিতে ফিতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। নেতৃবর্গ এবং সেনাদলের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে প্রথমেই নবিজিকে বলছিল, 'এই অসভ্য লোকগুলো তো আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে।' জবাবে আবু বকরের উচ্চারণ ছিল অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল। এতে পালটা উরওয়ার ব্যক্তিত্ব আহত হয়। আবু বকরের এ জবাব ছিল তাঁর ইমানি দৃঢ়তার পরিচায়ক। যে ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখিতও হয়ো না। তোমরাই বিজয়ী, যদি তোমরা মুমিন হও। [সুরা আলে ইমরান: ১৩৯]
২. সন্ধির ব্যাপারে সিদ্দিকের অবস্থান সুহাইল ইবনু আমরের নেতৃত্বে মুশরিকরা যখন রাসুলের সঙ্গে সন্ধি করতে সম্মত হয়, তখন নবিজি মুশরিকদের যেসব দাবি-দাওয়া ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন, আবু বকর রা. বিনা বাক্যে তা মেনে নেন। যদিও বাহাত চুক্তির দফাগুলো মুসলমানদের স্বার্থের প্রতিকূলে দেখা যাচ্ছিল; কিন্তু যেহেতু তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল-নবিজি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কিছু বলেন না, করেনও না; বরং ওহির ভিত্তিতেই করে থাকেন, সেহেতু রাসুল নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষ থেকে এর মধ্যকার সুফল সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন মনে করে নবিজির সিদ্ধান্তকেই অকুণ্ঠচিত্তে মেনে নেন।
তবে ইতিহাসবিদগণ উমর রা. সম্পর্কে লেখেন, তিনি সন্ধির দফাগুলো নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েন এবং এ ব্যাপারে তাঁর অভিযোগ নিয়ে রাসুলের কাছে গিয়ে বলেন, 'আপনি কি আল্লাহর রাসুল নন?' নবিজি বলেন, 'অবশ্যই আমি আল্লাহর রাসুল।' উমর বলেন, 'আমরা কি মুসলমান নই?' নবিজি বলেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই তোমরা মুসলমান।' উমর বলেন, 'ওরা কি মুশরিক নয়?' নবিজি বলেন, 'অবশ্যই তারা মুশরিক।' উমর বলেন, 'তাহলে দীনের ব্যাপারে আমরা কেন হীনতা গ্রহণ করব?' নবিজি বলেন, 'উমর, আমি আল্লাহর রাসুল। আমি আল্লাহর অবাধ্যতা করতে পারি না।' অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, নবিজি বলেছিলেন- 'আমি আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল, আমি তাঁর নির্দেশ অমান্য করতে পারি না। তিনি আমাকে ধ্বংস করবেন না।
উমর বলেন, আমি তখন বলি, 'আপনি কি আমাদের বলেননি যে, আমরা কাবায় যাব এবং সেখানে তাওয়াফ করব?' নবিজি বলেন, 'অবশ্যই যাবে এবং তাওয়াফও করবে।'
এরপর তিনি আবু বকরের কাছে যান। তাঁকেও একইভাবে জিজ্ঞেস করেন— 'মুহাম্মাদ কি আল্লাহর রাসুল নন?' আবু বকর বলেন, 'কেন নন, অবশ্যই তিনি আল্লাহর রাসুল।' উমর বলেন, 'আমরা কি মুসলমান নই?' আবু বকর বলেন, 'অবশ্যই আমরা মুসলমান।' উমর বলেন, 'ওরা কি মুশরিক নয়।' আবু বকর বলেন, 'অবশ্যই ওরা মুশরিক।' উমর বলেন, 'তাহলে কেন আমরা নিজেদের দীনের ব্যাপারে হীনতা গ্রহণ করব?'
আবু বকর তখন উমরকে উপদেশের সুরে বলেন, 'অভিযোগের পথ পরিহার করে আনুগত্যের পথ ধরো।' এরপর তিনি বলেন, 'আমি এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটিই সঠিক। তিনি আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতা করতে পারেন না। আল্লাহ নিশ্চয় তাঁকে ধ্বংস করবেন না।'
নবিজি উমরকে যে জবাব দিয়েছিলেন, আবু বকরও তাঁকে হুবহু একই উত্তর দিয়েছিলেন; অথচ নবিজি তাঁকে কী জবাব দিয়েছেন, আবু বকর তা জানতেন না। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, সিদ্দিক ছিলেন উমর অপেক্ষা রাসুলের অধিক অনুসরণকারী। যদিও উমর ইলহামপ্রাপ্ত হতেন; কিন্তু আবু বকর ছিলেন সিদ্দিক; আর সিদ্দিকের মর্যাদা ছিল অনেক উপরে। আবু বকর নিষ্পাপ রাসুল থেকে সবকিছু আত্মস্থ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
হুদায়বিয়ার মহাসাফল্যের কথা আলোচনা করতে গিয়ে আবু বকর বলেন, 'ইসলামে হুদায়বিয়ার চেয়ে বড় কোনো বিজয় হয়নি; কিন্তু সন্ধির দিন মানুষ এই মহাবিজয়ের গূঢ় বাস্তবতা বুঝতে পারেনি। বান্দা সব সময় তাড়াহুড়ো করে, আল্লাহ তাড়াহুড়ো করেন না। আমি বিদায়হজের দিন সুহাইলকে দেখতে পাই, তিনি নবিজির পাশে দাঁড়িয়ে কুরবানির উটগুলো তাঁর কাছে এগিয়ে দিচ্ছিলেন; আর তিনি সে সেগুলো নহর (জবাই) করছিলেন।
এরপর নবিজি চুল কর্তনকারীকে ডেকে মাথা মুন্ডিয়ে নেন। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, সুহাইল নবিজির বরকতময় চুলগুলো উঠিয়ে চোখে লাগাচ্ছিলেন; অথচ এই ব্যক্তিই হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” এবং "মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" লেখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন—তিনি এটা মানতে রাজি ছিলেন না। আমি তখন আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করি, যিনি তাঁকে ইসলামের হিদায়াতের মাধ্যমে ধন্য করেছেন। আবু বকর রা. ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তদাতা ও পূর্ণ বুদ্ধিমান সত্তা।
টিকাঃ
২১৯ তারিখুদ দাওয়া ইলাল ইসলাম: ১৩৬, ১৩৭।
২২০ 'লাত' হচ্ছে বনু সাকিফের উপাস্য প্রতিমার নাম।
২২১ প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট শব্দে লজ্জাস্থানের উল্লেখ জায়িজ আছে। এটা তখন অশ্লীল উচ্চারণ হিসেবে গণ্য হবে না। সূত্র, আবু বাকরিনিস সিদ্দিক, মুহাম্মাদ মালুল্লাহ : ৩৫০।
২২২ সহিহ বুখারি, আশ-শুরুতু ফিল জিহাদ: ২৭৩২।
২২৩ তারিখুদ দাওয়া ইলাল ইসলাম : ১৩৮।
২২৪ আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ : ইবনু হিশাম : ৩/৩৪৬, তারিখুত তাবারি : ২/৩৬৪।
২২৫ আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ: ইবনু হিশাম: ৩/৩৪৬।
২২৬ মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়া: ১১/১১৭।
২২৭ কানজুল উম্মাল : ৩০১৩৬ খুতাবু আবি বাকরিনিস সিদ্দিক থেকে উদ্ধৃত, মুহাম্মাদ আহমাদ আশুর: ১১৭।
২২৮ তারিখুল খুলাফা, সুয়ুতি : ৬১০।
📄 খায়বার, নাজিদ ও বনু ফাজারা অভিযানে আবু বকর
১. খায়বারযুদ্ধ রাসুল খায়বার অবরোধ করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথমে তিনি আবু বকরকে সেনাপতি হিসেবে খায়বারের কেল্লার দিকে পাঠান। তিনি যুদ্ধ করেন; কিন্তু কেল্লা জয় করা সম্ভব হয়নি। এরপর উমরকে পাঠান। তিনিও প্রচন্ড যুদ্ধ করেন; কিন্তু কেল্লা জয় করা যায়নি। নবিজি তখন বলেন, আগামীকাল আমি পতাকা এমন ব্যক্তির হাতে দেবো, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে খুব ভালোবাসে। পরদিন দেখা যায় সেই ব্যক্তি ছিলেন আলি রা.। কয়েকজন সাহাবি তখন নবিজিকে পরামর্শ দেন, ইয়াহুদিদের শক্তির উৎস গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ওদের খেজুরবাগানগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হোক। নবিজি তাদের সেই পরামর্শ গ্রহণ করলে মুসলমানগণ দ্রুত গাছগুলো কেটে ফেলতে থাকেন। আবু বকর রা. তখন নবিজিকে সেগুলো না কাটানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'শক্তিপ্রয়োগ কিংবা সন্ধি, যে মাধ্যমেই খায়বার বিজিত হোক না কেন, তাতে সিদ্ধান্তটি مسلمانوں জন্য ক্ষতিকর হবে বলে মনে করি।' নবিজি তখন তাঁর কথা মেনে নেন এবং গাছগুলো না কাটতে সাহাবিদের নির্দেশ দেন。
২. নাজদ অভিযানে ইবনু সাআদ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে ইয়াস ইবনু সালামা থেকে বর্ণনা করেন; তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, 'নবিজি আবু বকরকে আমাদের আমির নিযুক্ত করে নাজদের দিকে পাঠান। আমরা হাওয়াজিনের কতিপয় লোকের ওপর অতর্কিতে হামলে পড়ি। আমি নিজের হাতে সাতজনকে হত্যা করি। এ যুদ্ধে আমাদের সংকেত ছিল "আমিত, আমিত" (মেরে ফেলো মেরে ফেলো)।
৩. বনু ফাজারা অভিমুখে অভিযান
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রাহ. ইয়াস ইবনু সালামার সূত্রে বর্ণনা করেন; তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন; 'আমরা আবু বকর ইবনু আবি কুহাফার নেতৃত্বে বনু ফাজারা অভিমুখে রওনা করি। যখন ঝরনার নিকট পৌঁছি, তখন তাঁর নির্দেশে সেখানে রাতযাপন করি। ফজরের সালাত শেষে তিনি আমাদের হামলার নির্দেশ দেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, যারা আমাদের পূর্বে ঝরনা অতিক্রম করেছিল।'
সালামার বর্ণনা; আমি পাহাড়ের দিকে কয়েকজন লোক দেখতে পাই। তাদের সঙ্গে নারী ও শিশু ছিল। আমি তাদের দিকে তির ছুড়ে মারি। তিরটি পাহাড় এবং তাদের মধ্যখানে গিয়ে পড়ে। এরপর সবাইকে বন্দি করে আবু বকরের কাছে নিয়ে আসি। তাদের মধ্যে পুরানো জামা পরিহিতা এক নারী ছিল। তার সঙ্গে ছিল আরবশ্রেষ্ঠ সুন্দরী এক মেয়ে। আবু বকর রা. মেয়েটি আমাকে দিয়ে দেন। এরপর আমি তার সঙ্গে একান্তে মিলিত হওয়ার আগেই মদিনায় চলে আসি। এমনকি রাতেও তার সঙ্গে মিলিত হইনি।
পরদিন মদিনার বাজারে নবিজির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি বলেন, 'সালামা, মেয়েটি আমাকে দিয়ে দাও।' আমি বলি, 'আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর শপথ, মেয়েটি আমার খুব ভালো লেগেছে; কিন্তু আমি এখনো ওর কাপড় উঠাইনি।' জবাব শুনে তিনি নীরবে চলে যান। পরদিন পুনরায় সাক্ষাৎ হয়। এ দিনও তিনি বলেন, 'সালামা, মেয়েটি আমাকে দিয়ে দাও।' আমি বলি, 'আল্লাহর রাসুল, যদিও আমি এখনো ওর কাপড় উঠাইনি। তথাপি মেয়েটি আপনাকে দিয়ে দিলাম।' পরে নবিজি তাকে মক্কাবাসীর হাতে তুলে দেন। বিনিময়ে তাদের হাতে যে-সকল মুসলিম বন্দি ছিলেন, তাদের মুক্ত করেন।
টিকাঃ
২২৯ ফুতুহুল বুলদান: ১/২৬।
২৩০ আল-মাগাজি, ওয়াকিদি: ২/৬৪৪।
📄 উমরাতুল কাজা এবং জাতুস সালাস, অভিযান
১. উমরাতুল কাজায়
আবু বকর রা. ছিলেন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যাঁরা প্রিয়তম নবির সঙ্গে সেই কাজা উমরা আদায়ে গিয়েছিলেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির বছর মক্কাবাসী রাসুল ও সাহাবিদের উমরা আদায় করতে দেয়নি। সন্ধির ফলে পরবর্তী বছর সেই উমরার কাজা আদায় করা হয়。
২. জাতুস সালাসিল অভিযানে রাফি ইবনু আমর আত-তায়ি থেকে বর্ণিত; রাসুল আমর ইবনুল আসের নেতৃত্বে জাতুস সালাসিল অভিমুখে বাহিনী পাঠান। এই যুদ্ধে আবু বকর, উমরসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক সাহাবি ছিলেন। 'জাবালে তাই'-এর পাশে গিয়ে শিবির স্থাপন করলে আমর ইবনুল আস বলেন, 'এমন একজন মানুষ খুঁজে বের করুন, যে রাস্তাঘাট সম্পর্কে অভিজ্ঞ।' সবাই তখন বললেন, 'এই কাজের জন্য রাফি ইবনু আমরই উত্তম। জাহিলি যুগে তিনি সম্পূর্ণ একা লুটতরাজ করতেন।' রাফি বর্ণনা করেন; আমরা অভিযান শেষে যেখান থেকে বের হয়েছিলাম, সেখানে ফিরে আসি এবং আবু বকরের মধ্যে আমি কল্যাণ অনুভব করি। তাঁর শরীরে ফিদাকের তৈরি একটি আবা ছিল। ঘোড়ায় চড়লে বোতামগুলো লাগিয়ে নিতেন এবং নামার সময় খুলে নিতেন। একবার আমি তাঁকে বলি, 'হে খোলা জামার অধিকারী, আমি আপনার মধ্যে কল্যাণ অনুভব করছি। আপনি আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যার অনুসরণ করে যেন আমি আপনাদের মতো হতে পারি। বেশি কথা বলবেন না, যাতে আমি ভুলে যাই।' তিনি বলেন, 'তোমার পাঁচ আঙুলের কথা স্মরণ রাখতে পারো?' আমি বলি, 'হ্যাঁ, পারি।' তিনি বলেন, 'এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ এক, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। দিনে পাঁচবার সালাত কায়িম করবে, সম্পদ থাকলে তার জাকাত দেবে। কাবাঘরের হজ করবে এবং রমজান মাসে রোজা রাখবে। কথাগুলো কি তোমার মুখস্থ হয়েছে?' আমি বলি, 'হ্যাঁ।' এরপর তিনি বলেন, 'দুই ব্যক্তির নেতৃত্ব গ্রহণ করবে না।' আমি বলি, 'নেতৃত্ব কি আপনাদের মতো বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা ছাড়া অন্য কেউ পেতে পারে?' তিনি বলেন, 'শীঘ্রই নেতৃত্ব সাধারণ বিষয়ে পরিণত হবে। এটা তোমাদের এবং তোমাদের থেকে দুর্বল লোকদের হাতেও চলে আসবে। আল্লাহ যখন নবিজিকে পাঠিয়েছিলেন, তখন মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল। এঁদের মধ্যে কিছুসংখ্যক স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ইমান এনেছিল। আল্লাহ তাঁদের হিদায়াত দান করেছেন; আর কিছুসংখ্যক তরবারির ভয়ে ইমান এনেছিল। এঁরা সবাই ইসলামের মেহমান। তাঁরা নিকটাত্মীয় এবং নিরাপত্তাপ্রাপ্ত। মানুষ যখন নেতা হয় এবং সাধারণ মানুষ একে অন্যের ওপর জুলুম করলেও নেতা জালিম থেকে প্রতিশোধ নেয় না, তখন আল্লাহ মাজলুমের পক্ষ থেকে বদলা নিয়ে থাকেন। তোমাদের থেকে কারও বকরি ছিনিয়ে নেওয়া হলে সে প্রতিবেশীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়, আল্লাহ তো তাঁর প্রতিবেশীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকেন।
শিক্ষা ও তাৎপর্য নবিজির হাতেগড়া মহান সাহাবি সিদ্দিকের এই উপদেশের মধ্যে উম্মাহের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপদেশ। সেগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হচ্ছে :
১. ইবাদতের গুরুত্ব: সালাত রোজা এবং হজ। কেননা, এগুলো দীনের স্তম্ভ।
২. নেতৃত্ব না চাওয়া: যেমন, মহানবি আবু জার গিফারিকে উপদেশস্বরূপ বলেছিলেন, 'নিঃসন্দেহে এটি আমানত এবং কিয়ামতের দিন এটি লজ্জা ও অনুতাপের কারণ হবে। তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে তা যথাযথভাবে সম্পাদন করতে পারে।' একমাত্র আবু বকর রা. নবিজির কথা বেশি বুঝতেন। এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছিলেন, 'যে আমির হবে, তার হিসাব অন্যের তুলনায় লম্বা হবে। তার শাস্তি হবে কঠিন। যে আমির হবে না, অন্যের তুলনায় তার হিসাব হবে সহজ। শাস্তি হবে হালকা। '
৩. নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাঁর নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করে রেখেছেন এবং লোকজনকেও পরস্পর জুলুমে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। কেননা, জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ওপর জুলুম করতে নিষেধ করে বলেন, 'যে আমার বন্ধুকে কষ্ট দেবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। ' ইমানদাররা হয় আল্লাহর নিকটজন। তারা হয়ে থাকেন আল্লাহর নিরাপত্তাধীন। অবশ্যই আল্লাহর এ অধিকার রয়েছে যে, তিনি তাঁর নিকটজনের জন্য ক্রোধান্বিত হবেন।
৪. আসলাফের যুগে উম্মাহর নেতা হতেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি। এরপর এমন এক যুগ আসে, যখন নেতৃত্ব অনুপযুক্তদের হাতে চলে যায়। আবু বকর বলেছেন, 'এই নেতৃত্ব সহজ। শীঘ্রই তা অনুপযুক্তদের হাতে চলে যাবে। '
৫. জাতুস সালাসিলযুদ্ধে আমিরের সম্মান সম্পর্কে আবু বকরের অবস্থান ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। তিনি ব্যক্তিত্বগঠন ও সম্মান-মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ শক্তি ও যোগ্যতা রাখতেন। আবদুল্লাহ ইবনু বুরায়দা থেকে বর্ণিত; রাসুল আমর ইবনুল আসকে জাতুস সালাসিল অভিযানে পাঠান। তাঁদের মধ্যে আবু বকর এবং উমরও ছিলেন। তখন প্রচণ্ড শীত ছিল। বাহিনী যুদ্ধের মাঠে পৌঁছার পর আমর সৈন্যদের আগুন জ্বালাতে নিষেধ করেন। এ নির্দেশ শুনে উমর রা. ক্রোধান্বিত হয়ে ইবনুল আসের সঙ্গে কথা বলতে উদ্যত হন। তখন আবু বকর তাঁকে থামিয়ে বলেন, 'নবিজি তো তাঁর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করেই তাঁকে আমির নিযুক্ত করেছেন।' সিদ্দিকের এ উপদেশ শুনে উমর নীরব হয়ে যান。
টিকাঃ
২০ তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া: ১৪৬।
২* জাতুস সালাসিল হচ্ছে ওয়াদিউল কুরার পেছন দিকের একটি জায়গা। এর এবং মদিনার মধ্যে ১০ দিনের দূরত্ব বিদ্যমান।
২০৪ মাজমাউজ জাওয়ায়িদ, ৫/২০২, ২০৫।
২০০ সহিহ মুসলিম, আল-ইমারাহ: ১৮২৫।
২০৭ ইসতিখলাফু আবি বাকরিনিস সিদ্দিক রা., জামাল আবদুল হাদি: ১৩৯।
২৩৮ মুসনাদু আহমাদ: ২/২৫৬। এই বর্ণনাটি বুখারি শরিফেও রয়েছে। দ্রষ্টব্য কিতাবুর রিকাক: ৬৫০২, তবে বুখারির বর্ণনায় শব্দটি হচ্ছে 'মান আদা লি ওয়ালিয়ান' যে আমার বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে। - অনুবাদক।
২৩৯ ইসতিখলাফ আবি বাকরিনিস সিদ্দিক, জামাল আবদুল হাদি: ১৪০১।
২৪০ তারিখুদ দাওয়া ইলাল ইসলাম: ৩৮২।
২৪১ আল হাকিম: ৩/৪২: তিনি একে সহিহল ইসনাদ বলেছেন। ইমাম জাহাবিও একে বিশুদ্ধ বলেছেন। কিতাবুল মাগাজি : ৩/৪২
📄 মক্কা বিজয়, হুনাইন ও তায়েফের যুদ্ধে আবু বকর
১. অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ে হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মক্কা বিজয়ের কারণ প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের একটি বর্ণনা রয়েছে। বর্ণনাটি ইমাম জুহরি উরওয়ার সূত্রে মিসওয়ার ইবনু মাখরামা এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম থেকে উল্লেখ করেছেন। সন্ধির একটি দফা ছিল— 'যারা চায় মুহাম্মাদের সঙ্গে সহযোগিতা-চুক্তি করবে করুক, যারা চায় কুরাইশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবে, হয়ে যাক।' এর সূত্র ধরে বনু খুজাআ مسلمانوں সঙ্গে এবং বনু বকর কুরাইশের সঙ্গে সন্ধিতে আবদ্ধ হয়। এই অবস্থা ১৭ অথবা ১৮ মাস ভালোই চলতে থাকে; কিন্তু এরপর বনু বকর একরাতে 'ওয়াতির' ঝরনার পাশে বনু খুজাআর ওপর আক্রমণ করে বসে। কুরাইশরা ভাবছিল মুহাম্মাদ কি আর জানতে পারবে? তা ছাড়া রাতের অন্ধকারে আমাদের দেখবেই-বা কে? ফলে তারা রাসুলের সঙ্গে শত্রুতার জের ধরে বনু খুজাআর বিরুদ্ধে বনু বকরকে অশ্বারোহী এবং অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে। এমনকি তারা নিজেরাও ওদের সঙ্গে মিলে বনু খুজাআর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অবস্থার সংবাদ নিয়ে আমর ইবনু সালিম আল খুজায়ি মদিনায় হাজির হন। তিনি রাসুলের সাহায্য-কামনা করে আবৃত্তি করেন,
আল্লাহ, আমি মুহাম্মাদ থেকে তাঁর অঙ্গীকার এবং তাঁর পিতার পুরানো অঙ্গীকারের দোহাই দিচ্ছি, আল্লাহ আপনাকে হিদায়াত দান করুন, আপনি সর্বোচ্চ সাহায্য করুন, আল্লাহর বান্দাদের ডাক দিন, তারা যেন সাহায্যে এসে যায়। নবিজি বলেন, 'ইবনু সালিম, অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করা হবে।
এর পর নবিজি সাহাবিগণকে নিয়ে মক্কায় চড়াও হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। তবে বিষয়টি তিনি গোপন রাখেন এবং আল্লাহর কাছে আবেদন জানান, যে পর্যন্ত-না মুসলমানগণ আচমকা মক্কাবাসীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, ততক্ষণ যেন কুরাইশরা এ ব্যাপারে কিছু অবগত হতে না পারে।
এদিকে কুরাইশরা নিজেদের পরিণাম নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তাদের ভয় ছিল, কী জানি মুহাম্মাদ কখন তাদের সংশ্লিষ্টতার খবরটি জেনে ফেলেন। সুতরাং শঙ্কিত আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে মদিনায় পৌঁছান এবং নবিজির কাছে আবেদন করেন, 'মুহাম্মাদ, অঙ্গীকারটি আরও দৃঢ় করে নিন এবং এর মেয়াদও বাড়িয়ে নিন।' নবিজি কিছুটা তীর্যক ভাষায় বলেন, 'তুমি কি এই উদ্দেশ্যেই এসেছ? তবে কি তোমাদের পক্ষে এর বিপরীতে কিছু হয়েছে?' আবু সুফিয়ান বলেন, 'আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, আমরা হুদায়বিয়ার সন্ধির ওপর দৃঢ় আছি। এর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন-পরিবর্ধন আনিনি।' এরপর তিনি সাহাবিদের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে নবিজির কাছ থেকে বিদায় গ্রহণ করেন。
ক. আবু বকর রা. এবং আবু সুফিয়ান
আবু সুফিয়ান যখন আবু বকরের কাছে অঙ্গীকার নবায়ন এবং মেয়াদবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখেন, তখন আবু বকর রা. স্পষ্ট বলে দেন— 'আল্লাহর শপথ, আমি যদি দেখতে পাই পিপীলিকাও তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাহলে আমি তোমাদের বিপরীতে তাদের সহায়তা করব।' এখানে আবু বকরের মেধা এবং রাজনৈতিক দক্ষতা প্রকাশ পায়। সর্বোপরি দীপ্তিমান হয় তাঁর ইমানের দৃঢ়তাও। আবু সুফিয়ানের মুখের সামনে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া স্পষ্ট বলে দেন, 'আমি কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। যদি পিপীলিকাকেও কুরাইশদের বিপরীতে লড়তে দেখেন, তাহলে আমি তাদের সহায়তা দিয়ে যাব।
খ. আবু বকর রা. এবং আয়েশার মধ্যে কথোপকথন
আবু বকর সিদ্দিক রা. উম্মুল মুমিনিনি আয়েশার কাছে আসেন। তিনি তখন গম চালছিলেন। রাসুল তাঁকে বলে রেখেছিলেন, রহস্য যেন কোনোভাবে ফাঁস না হয়। কেউ যেন জানতে না পারে, কোন দিকে অভিযানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আবু বকর রা. এসে মেয়েকে বলেন, 'মা, কীসের জন্য এই পাথেয় প্রস্তুত হচ্ছে?' আয়েশা তখন কোনো উত্তর না দিয়ে নীরব থাকেন। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, 'রাসুল কি কোনো দিকে হামলার পরিকল্পনা করেছেন?' এবারও সিদ্দিকা চুপ থাকেন, কোনো কথা বলেননি।
তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, 'নবিজি কি রোমানদের বিরুদ্ধে চড়াও হওয়ার ইচ্ছা করছেন?' আয়েশা রা. এবারও নিরুত্তর থাকেন। তিনি বলেন, 'তাহলে কি নাজদবাসীর ওপর চড়াও হওয়ার ইচ্ছা?' আয়েশা রা. আগের মতোই নিরুত্তর থাকেন। আবু বকর রা. পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, 'তাহলে কি কুরাইশদের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছেন?'
এবারও তাঁর নীরবতা ভাঙানো যায়নি। ইতিমধ্যে নবিজি সেখানে উপস্থিত হলে আবু বকর তাঁকে বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আপনি কি যুদ্ধের ইচ্ছা পোষণ করছেন?' নবিজি বলেন 'হ্যাঁ।' আবু বকর বলেন, 'কার বিরুদ্ধে? রোমানদের বিরুদ্ধে?' নবিজি বলেন, 'না।' 'তাহলে কি নাজদবাসীর বিরুদ্ধে?' এবারও রাসুলের উত্তর, 'না।'
আবু বকর বলেন, 'তাহলে খুব সম্ভব আপনি কুরাইশের ওপর হামলার ইচ্ছা পোষণ করছেন?' রাসুল বলেন, 'হ্যাঁ।' আবু বকর বলেন, 'কিন্তু আল্লাহর রাসুল, আপনার আর কুরাইশের মধ্যে তো সন্ধির মেয়াদ এখনো বাকি রয়ে গেছে?' রাসুল বলেন, 'বনু কাবের সঙ্গে কুরাইশরা যা করেছে, তুমি তার কিছুই জানো না?'
তখন রাসুলের দেখাদেখি আবু বকরও যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু করেন। মুহাজির এবং আনসারদের মধ্যে কেউ-ই এ অভিযানে রাসুলের পেছনে থাকেননি। সকলেই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন。
গ. মক্কায় প্রবেশকালে আবু বকর মক্কাবিজয়ের পর রাসুল যখন সেখানে প্রবেশ করছিলেন, তখন তাঁর পাশেই ছিলেন আবু বকর। নবিজি দেখতে পাচ্ছিলেন, নারীরা مسلمانوں ঘোড়াগুলোর দিকে হতাশ অবস্থায় তাকিয়ে আছে। নবিজি তখন আবু বকরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলেন, 'হাসসান কী জানি বলেছিল?' আবু বকর তখন হাসসানের কবিতাটি আবৃত্তি করেন—
যদি আমাদের অশ্বারোহীদের ধূলি উড়িয়ে কিদার দিকে যেতে না দেখো, তাহলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও। বর্শা চালাতে আমরা পুরোপুরিভাবে মোকাবিলা করছি, তাদের কাঁধে রয়েছে তির ও তরবারি। আমাদের ঘোড়াগুলো দ্রুততায় পরস্পর পরস্পরের প্রতিযোগী মহিলারা ওড়না দিয়ে ঘোড়ার খুরের ধূলি থেকে নিজেদের রক্ষা করে।
রাসুল বলেন, 'সে দিক দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করো, হাসসান যে দিকে প্রবেশ করতে বলেছেন。
এ সময় আবু বকরের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ পূর্ণতায় পৌঁছে। সোনালি এই সময়ে তাঁর পিতা আবু কুহাফা ইসলামের ছায়াতলে চলে আসেন。
২. হুনাইনযুদ্ধে হুনাইনযুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থায় মুসলমানগণ চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হন। যুদ্ধের শুরুতেই مسلمانوں দিকে পরাজয় চোখ রাঙাতে থাকে। মুসলমানগণ কাফিরদের আক্রমণের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে পালাতে শুরু করেন। ইমাম তাবারি যুদ্ধের চিত্রপট এভাবে তুলে ধরেছেন, 'মানুষ প্রাণপণে পালিয়ে যাচ্ছিল। কেউ কারও দিকে তাকাচ্ছিল না।' রাসুল লোকজনকে তাঁর দিকে ডেকে বলছিলেন, 'হে লোকসকল, কোথায় পালাচ্ছ, আমার কাছে এসো। আমি আল্লাহর রাসুল। আমি মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ। আনসারগণ, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল।' এরপর তিনি তাঁর চাচা আব্বাসকে ডাক দেন। তাঁর আওয়াজ ছিল খুবই উঁচু। তাঁকে লক্ষ করে বলেন, 'আব্বাস, ডাক দাও। হে আনসারগণ, হে বাবলাগাছের নিচে শপথকারীরা!'
যুদ্ধের প্রথম দিকের দৃশ্য-ময়দানে দাঁড়ানো ছিলেন কেবল রাসুল। তাঁর পাশে ছিলেন স্বল্পসংখ্যক মুসলমান। যাঁরা ময়দানে রাসুলের পাশে ছিলেন, তাঁরা ছিলেন শীর্ষস্থানীয় সাহাবি। তাঁদের সামনে ছিলেন আবু বকর। এরপর আল্লাহ তাঁর পূর্ণ সাহায্য ও সমর্থন দ্বারা মুসলিমবাহিনীকে ধন্য করায় তারা বিজয় লাভ করেন। এ যুদ্ধে সিদ্দিকের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান প্রকাশ পায়।
ক. আল্লাহর রাসুলের উপস্থিতিতে সিদ্দিকের ফাতওয়া প্রদান আবু কাতাদার বর্ণনা; হুনাইনের দিন আমি দেখতে পাই, জনৈক মুসলিম এক মুশরিকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আরেক মুশরিক ওই মুসলমানকে ধোঁকা দিয়ে হত্যা করতে চাচ্ছে। আমি দ্রুত ওই মুশরিকের দিকে এগিয়ে যাই, যে মুসলিমকে হত্যা করতে চেয়েছিল, সে আমাকে মারতে উদ্যত হয়; কিন্তু আমি তার হাতে তরবারি দিয়ে আঘাত করি। এতে তার হাতটি কাটা পড়ে। পরে সে আমাকে শক্তভাবে জাপটে ধরে। আমি তখন মৃত্যুর ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়ি। একসময় তার হাত ঢিলে হয়ে এলে আমি ধাক্কা দিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দিই। এরপর হত্যা করে ফেলি।
শুরুতে মুসলমানগণ কাফিরদের তীব্র হামলা সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। আমিও ছিলাম পলায়নকারীদের একজন। ইতিমধ্যে উমরের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি, 'মানুষের এ কী হলো?' তিনি বলেন, 'এটাই আল্লাহর নির্দেশ ছিল। ভাগ্যে এটাই নির্ধারিত ছিল।' খানিক পর লোকজন নিজেদের সামলে নিয়ে রাসুলের কাছে ফিরে আসেন। আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করেন এবং বিজয়ের বন্দরে তাঁদের পৌঁছে দেন।
নবিজি তখন ঘোষণা দিয়েছিলেন, 'যে ব্যক্তি কোনো নিহত শত্রুর ওপর তার হত্যার কথা প্রমাণিত করবে, সে-ই হবে নিহত ব্যক্তির সম্পদের মালিক।' আমি তখন আমার নিহত ব্যক্তির প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বের হই; কিন্তু কোনো সাক্ষী না পেয়ে হতাশা নিয়ে বসে পড়ি। এরপর বিষয়টি স্মরণ হতেই আমি রাসুলের দরবারে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলি। তখন সেখানে বسا জনৈক ব্যক্তি বলেন, 'ওই নিহত ব্যক্তির মালসামানা আমার কাছে জমা আছে। আপনি এগুলো আমাকে দিয়ে দিন।' আবু বকর তৎক্ষণাৎ বলে উঠেন, 'না, না, কখনো এটা হতে পারে না। আল্লাহর এই সিংহকে ছেড়ে এক দুর্বল কুরাইশিকে তা দিয়ে দেওয়া হবে, এটা হতে পারে না।' এরপর নবিজি তা আমার দায়িত্বে ছেড়ে দেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান কিনে নিই। এটিই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি মুসলিম অবস্থায় অর্জন করেছিলাম।
রাসুলের উপস্থিতিতে সিদ্দিক কর্তৃক লোকটিকে ধমকানো, শাসানো, শপথ করা এবং ফাতওয়া দেওয়া, এরপর রাসুল কর্তৃক তাঁর সত্যায়নে নির্দেশ প্রদান-এ ছিল সিদ্দিকের অনন্য বৈশিষ্ট্য, যেখানে অন্য কেউ তাঁর সমকক্ষ ছিলেন না।
এ ঘটনায় আমরা দেখতে পাই, আবু কাতাদা তাঁর এক মুসলিম ভাইকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁকে বাঁচানোর জন্য তিনি বিপদের মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কাফিরকে হত্যা করেছিলেন। একইভাবে আবু বকরের এই অবস্থান থেকে এটাও প্রকাশ পায় যে, তিনি সত্যকে সত্য বলতে এবং সত্যের পক্ষ নিতে বুকে কীরূপ আগ্রহ ধারণ করতেন। একইভাবে এখান থেকে তাঁর দৃঢ় ইমান, ইসলামি ভ্রাতৃত্বের পক্ষপাত এবং সম্মানদানের বিষয়টিও ফুটে ওঠে। এ ছিল তাঁর বিশাল মর্যাদাময় অবস্থানের স্পষ্ট দলিল।
খ. আবু বকর রা. এবং আব্বাস ইবনু মিরদাসের কবিতা কবি আব্বাস ইবনু মিরদাস হুনাইনের গনিমতের অংশ পেয়েছিলেন; কিন্তু তা তার কাছে অল্প মনে হওয়ায় রাসুলের সমালোচনা করে বলছিলেন,
আমি ময়দানে ধাবমান ঘোড়ায় চড়ে গনিমত সংগ্রহ করেছিলাম, আমি মানুষকে জাগ্রত রেখেছিলাম, মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়েছিল, আমি তখন সজাগ ছিলাম।
এরপরও আমার এবং আমার ঘোড়া উবায়দের অংশ উয়াইনা ইবনু হিসন এবং আকরা ইবনু হাবিসের মাঝামাঝি ছিল। আমি যুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম, তথাপি না মূল্যবান কিছু দেওয়া হয়, না বাধা দেওয়া হয়। কেবল কয়েকটি ছোট ছোট উট দেওয়া হয়েছিল, যেগুলোর পা-চতুষ্টয় গণনা করা যেত। অথচ হিসন এবং হাবিসরা আমার পিতার মোকাবিলায় সমাজে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব রাখত না। আমি তাদের থেকে কোনোভাবে কম ছিলাম না
আজ যাকে নীচু করা হবে, সে আর মাথা তুলতে পারবে না। এসব কথা যখন রাসুলের কানে পৌঁছে, তখন রাসুল বলেন, 'ওর কাছে গিয়ে ওর জিহ্বাটা বন্ধ করে দাও।' এরপর সাহাবিগণ তাকে এত সম্পদ দেন যে, সে খুশি হয়ে যায়। এভাবে রাসুলের নির্দেশমতো তার জিহ্বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একবার আব্বাস ইবনু মিরদাস রাসুলের কাছে গেলে নবিজি তাকে বলেন, 'তুমিই কি এই পঙ্ক্তি উচ্চারণ করেছিলে—
এরপরও আমার এবং আমার ঘোড়া উবায়দের অংশ উয়াইনা ইবনু হিসন এবং আকরা ইবনু হাবিসের মাঝামাঝি ছিল?' তখন আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, এখানে কি 'বাইনা উয়াইনা ওয়া আকরা?' নবিজি বলেন, 'তারা একই সত্তা।' আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আমি এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ঠিক তা-ই, যেমনটি আপনার ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,
আমি রাসুলকে কাব্য রচনা করতে শিখাইনি, আর এটা তার জন্য শোভনীয়ও নয়, এটা তো এক উপদেশ এবং স্পষ্ট কুরআন। [সুরা ইয়াসিন: ৬৯]
৩. তায়েফের ময়দানে
তায়েফের ময়দানে সাহাবিগণ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে শাহাদাতবরণ করেছিলেন। রাসুল অবরোধ উঠিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন। তায়েফযুদ্ধের শহিদদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন আবি বকরও ছিলেন। তাঁর গায়ে একটি তির বিদ্ধ হয়েছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় তিনি পিতা আবু বকরের শাসনামলে শাহাদাতবরণ করেন।
বনু সাকিফের লোকজন তাদের ইসলামগ্রহণের কথা নবিজিকে জানাতে যখন মদিনার উপকণ্ঠে এসে পৌঁছায়, তখন তাদের ইসলামগ্রহণের বিষয়টি বুঝতে পেরে সংবাদটি নবিজিকে পৌঁছে দিতে আবু বকর ও মুগিরা ইবনু শুবা অস্থির হয়ে দৌড়াতে থাকেন। তাঁরা উভয়েই চাচ্ছিলেন আগে সংবাদটি নবিজি বরাবরে পৌঁছে দেবেন। শেষপর্যন্ত আবু বকরই জিতে যান।
বনু সাকিফের লোকজন নবিজির কাছে ইসলামগ্রহণের পর তারা মদিনায় কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর রাসুল ইসলামি নিরাপত্তানামা লিখিতভাবে প্রদান করেন এবং তাদের থেকে একজনকে আমির নির্ধারণের ইচ্ছা করেন। এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে আবু বকর বলেন, 'উসমান ইবনু আবিল আসকে আমির নিযুক্ত করে দিন'; অথচ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে বয়সে ছোট। আবু বকর বলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আমি এই যুবককে ইসলামি জ্ঞানার্জন এবং কুরআন শিক্ষার প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী দেখেতে পয়েছি।
উসমান ইবনু আবিল আসের অবস্থা ছিল- লোকজন দুপুরে ঘুমিয়ে গেলে তিনি রাসুলের খিদমতে ইলম অর্জনের জন্য হাজির হতেন। তাঁর কাছে দীনি বিষয়াদি নিয়ে প্রশ্ন করতেন। কুরআন শিখতেন। এভাবে তিনি ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা অর্জন করেন। রাসুল-কে শায়িত অবস্থায় পেলে তিনি আবু বকরের কাছে চলে যেতেন। আপন সম্প্রদায়কে তা জানতে দিতেন না। নবিজি তাঁর শেখার এই আগ্রহ দেখে মুগ্ধ হন। তিনি তাঁকে ভালোবাসতে থাকেন।
আবু বকর যখন সে লোকটির সন্ধান পান- যে তার প্রিয় পুত্রের ওপর তির নিক্ষেপ করেছিল-তখন তিনি যে কথাটি বলেছিলেন, সেটি ছিল তাঁর ইমানের শ্রেষ্ঠত্বের স্পষ্ট প্রমাণ। ইমাম কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ রাহ. থেকে বর্ণিত: তায়েফে আবদুল্লাহ ইবন আবি বকর আহত হয়েছিলেন। তাঁর এই আঘাত রাসুলের ইনতিকালের ৪০ দিন পর আবার সতেজ হয়ে ওঠে। আর এতেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন। আবু বকরের কাছে সেই তিরটি সংরক্ষিত ছিল। বনু সাকিফের প্রতিনিধিদল আসার পর তিনি তিরটি বের করে তাদের দেখান এবং বলেন, 'তোমাদের কেউ কি এই তিরটি চেনে?' তখন বনু আজলানের সায়িদ ইবনু উবাইদ বলেন, 'আমিই এই তিরটি সুচালো করে তুলেছিলাম এবং আমিই তা ছুড়েছিলাম।' আবু বকর তখন কেবল এটুকু বলেন, 'এটাই সেই তির, যার আঘাতে আবদুল্লাহ শহিদ হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা যে, তিনি তোমার হাতে তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাকে তাঁর হাতে অপদস্থ করেননি। নিঃসন্দেহে তোমাদের উভয়ের জন্য আল্লাহর রহমত খুবই প্রশস্ত। '
টিকাঃ
২৪২ এখানে সেই অঙ্গীকারের দিকে ইঙ্গিত বিদ্যমান, যে অঙ্গীকারটি বনু হাশিম এবং বনু খুজাআর মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের সময় থেকে চলে আসছিল। - অনুবাদক।
২৪০ আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ: ইবনু হিশাম : ৪/৪৪।
২৪৪ আত-তারিখুস সিয়াসি ওয়াল আসকারি, ড. মুতি: ৩৬৫; তারিখুত তাবারি: ৩/৪৩।
তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া: ১৪৫।
২৪৬ মাগাজি, আল ওয়াকিদি: ২/৭৯৬।
২৪৭ মুসতাদরাকুল হাকিম, ৩/৭২। সনদটি সহিহ, জাহাবিও এর বিশুদ্ধতায় একমত।
২৪৮ মুসতাদরাকুল হাকিম, ৩/৭২; তাবারি: ৩/৪২।
২৪৯ তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া: ১৪৭।
২৫০ তারিখুত তাবারি: ৩/৭৪।
২৫১ সহিহ মুসলিম, আল-জিহাদ ওয়াস সিয়ার, বাবু গাজওয়াতি হুনাইন: ১৭৭৫।
২৫২ মাওয়াকিফুস সিদ্দিক মাআন নাবি ফিল মাদিনা: ৪৩।
২৫০ সহিহ বুখারি, আল-মাগাজি: ৪৩২২।
২৫৪ আর-রিয়াজুন নুসরাহ ফি মানাকিলি আশরাহ: আবু জাফর মুহিব্বুদ্দিন: ১৮৫।
২৫০ আত-তারিখুল ইসলামি, হুমায়দি, ৮/২৬।
*** আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ, ইবনু হিশাম: ৪/১৪৭।
২৫৭ তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া: ১৫১।
২৫৮ আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ, ইবনু হিশাম: ৪/১৯৩।
২৫৯ তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া: ১৫২।
২৬০ তারিখুল ইসলাম, জাহাবি: আল-মাগাজি: ৬৭০।
২৬১ খুতাবু আবি বাকরিনিস সিদ্দিক রা., মুহাম্মাদ আহমাদ আশুর ১১৮। তবে এই বর্ণনাটি মুনকাতা।