📄 মদিনায় সিদ্দিকের হিজরত-উত্তর অসুস্থতা
মক্কা থেকে সাহাবিদের হিজরত করা ছিল বিরাট এক আত্মত্যাগ। বিষয়টি রাসুল * এভাবে তুলে ধরেছিলেন, 'আল্লাহর শপথ, তুমি ছিলে পুরো পৃথিবীতে আমার কাছে সর্বোৎকৃষ্ট ভূমি। আমাকে যদি তোমার থেকে বিতাড়িত করা না হতো, তাহলে আমি কখনো তোমার পরশ থেকে বেরোতাম না।'
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রা. বলেন, রাসুল যখন হিজরত করে মদিনায় চলে আসেন, তখন সেখানে জ্বরের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ছিল। উপত্যকার পানি ছিল অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত। ফলে সাহাবিগণ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আল্লাহ তাআলা নবিজিকে এ থেকে নিরাপদ রেখেছিলেন। আবু বকর, আমির ইবনু ফুহায়রা এবং বিলাল রা. একই ঘরে বসবাস করতেন। তাঁরা তিনজনই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। আমি রাসুলের কাছে তাঁদের সেবা করার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে সে অনুমতি দেন। আমি তাঁদের কাছে যাই। এ ছিল হিজাবের হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার আগের ঘটনা। তাঁদের সকলের গায়েই ছিল তীব্র জ্বর। আমি আবু বকরের কাছে এসে বলি, 'আব্বু, আপনার অবস্থা কেমন?' তিনি বলেন,
প্রত্যেকেই তার পরিবার-পরিজনের কাছে সকালে হাজির হয়; আর মৃত্যু তো তার কাছে জুতোর ফিতার চেয়েও কাছে।
তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, পিতা কী বলতে চাচ্ছিলেন আমি বুঝতে পারছিলাম না। এরপর আমির ইবনু ফুহায়রার কাছে যাই। জিজ্ঞেস করি, 'আমির, কেমন আছেন আপনি?' তিনি বলেন,
মৃত্যুর আগেই আমি মৃত্যুর স্বাদ পেয়ে গেছি নিঃসন্দেহে ভীরুতার মৃত্যু তার উপর দিক থেকেই এসে থাকে। প্রত্যেকেই নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করে থাকে, যেমন ষাঁড় তার শিং দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে থাকে।
আমি বলি, 'আল্লাহর শপথ, আমির যা বলছেন আমি তা বুঝতে পারছি না। আর বিলালের জ্বর ছাড়লেই ঘরের আঙিনায় শুয়ে উঁচু কণ্ঠে বলতে থাকেন, আহ! আমি যদি এমন এক উপত্যকায় রাত যাপন করতাম যেখানে আমার চারপাশে থাকবে ইজখির ও জালিল ঘাস। আমি কি কোনো দিন মাজিন্নার ঘাটে উপনীত হতে পারব, আমার সামনে কি শামা ও তুফায়িল পাহাড় দুটি দৃশ্যমান হবে!
সংবাদটা আমি রাসুলের কাছে দিলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ, মক্কার মতো মদিনাকেও আমাদের কাছে প্রিয় করে দাও; অথবা তার থেকে বেশি। হে আল্লাহ, একে সুস্থতার আধার বানিয়ে নাও। এর 'মুদ' ও 'সা'-এর মধ্যে আমাদের জন্য বরকত দান করো এবং এখানকার জ্বরকে জুহফায় পাঠিয়ে দাও।
আল্লাহ তাঁর নবির দুআ কবুল করেন। ফলে মুসলমানগণ ব্যাধিমুক্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে মদিনা বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষের জন্য উত্তম জায়গায় পরিণত হয়ে ওঠে।
মদিনায় স্থায়ী হওয়ার পর নবিজি ইসলামি সালতানাতের ভিত্তিপ্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃবন্ধন গড়ে দেন। মসজিদে নববি নির্মাণ করেন। ইয়াহুদিদের সঙ্গে সন্ধিতে উপনীত হন। সামরিক তৎপরতা শুরু করেন; আর নতুন ওই সমাজব্যবস্থায় অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাদীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেন। পরামর্শ, সম্পদ এবং সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এ ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করা হয়নি।
টিকাঃ
১৮৮ সুনানুত তিরমিজি, আল মানাকিব, বাবু ফাজলি মাক্কাতা: ৫/৭২২। হাদিস নং-৩৯২৫।
*** তৎকালের আরবের পরিমাপ একক।
*** সহিহ বুখারি, আদ-দাওয়াত, বাবুদ দাওয়াত ইয়ারফাউল ওয়াবা ওয়াল ওয়াজ : ৬৩৭২।
১*১ আত-তারবিয়াতুলকিয়াদিয়া: ২/৩১০।
*** তারিখুদ দাওয়া ইলাল ইসলাম ফি আহদিল খুলাফায়ির রাশিদিন: ১২১।