📘 আবু বকর সিদ্দিক রাঃ > 📄 জন্ম ও স্বভাবজাত গুণাবলি

📄 জন্ম ও স্বভাবজাত গুণাবলি


আলিমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, 'আমুল ফিল' বা হস্তীবর্ষের পরে তাঁর জন্ম হয়েছে। তবে হস্তীবর্ষের কত দিন পরে, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলেছেন, তাঁর জন্ম হস্তীবর্ষের তিন বছর পরে। কেউ বলেছেন, দুই বছর ছয় মাস পরে; আর কেউ বলেছেন দুই বছর কয়েক মাস পরে। তবে তারা মাসের পরিমাণ নির্দিষ্ট করেননি। ³³ মাতা-পিতার স্নেহক্রোড়ে তাঁর উত্তম প্রতিপালন হয়। তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন আপন আপন গোত্রে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। তিনি জন্মসূত্রেই সেই সম্মান ও মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ³⁴
তাঁর শরীরের রং ছিল উজ্জ্বল গৌরবর্ণ। গড়নে ছিলেন কিছুটা হালকা-পাতলা। এ প্রসঙ্গে কায়েস ইবনু আবি হাজিমের বর্ণনা; আমি আবু বকরের দরবারে উপস্থিত হই। তিনি ছিলেন শীর্ণকায়। শরীরে গোশত ছিল অল্প, আর রং ছিল উজ্জ্বল গৌরবর্ণ। ³⁵
সিরাত-লেখকগণ বর্ণনাকারীদের ভাষায় তাঁর শারীরিক গড়নের বর্ণনাপ্রসঙ্গে লিখেছেন, তিনি ছিলেন উজ্জ্বল হলদে রঙের অধিকারী। শারীরিক কাঠামো ছিল বেশ সুগঠিত। শীর্ণকায় এবং হালকা-পাতলা গালবিশিষ্ট। পিঠ ছিল ঈষৎ কুঁজো। লুঙ্গি কোমরের সঙ্গে লেপটে যেত। চেহারায় তেমন গোশত ছিল না। চোখ কিছুটা কোটরে প্রবিষ্ট। নাক উঁচু। টাখনু পাতলা। রানগুলো মজবুত। উদ্ভাসিত কপাল। আঙুলসমূহের জোড় পরিমিত। তিনি দাড়ি এবং সাদা চুলে মেহেদি ও কাতামের (এক প্রকার ঘাস) খিজাব ব্যবহার করতেন। ³⁶

টিকাঃ
৩২ আত-তাবাকাতুল কুবরা: ৩/১৭১।
৩৩ সিরাতু ওয়া হায়াতু সিদ্দিক রা., মাজদি ফাতহি আস সাইয়িদ: ২৯; তারিখুল খুলাফা: ৫৬।
৩৪ তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলাম ফি আহদিল খুলাফায়ির রাশিদিন: ৩০।
৩৫ আত-তাবাকাত, ইবনু সাআদ: ৩/১৮৮, সনদ সহিহ।
৩৬ সহিহ বুখারি: ৫৮৯৫; সহিহ মুসলিম: ২৩৪১; আবু বাকরিনিস সিদ্দিক, মাজদি আস সাইয়িদ: ৩২।

📘 আবু বকর সিদ্দিক রাঃ > 📄 পরিবার

📄 পরিবার


তাঁর পিতার নাম উসমান ইবনু আমির ইবনু আমর। উপনাম আবু কুহাফা। তিনি মক্কাবিজয়ের দিন ইসলামগ্রহণ করেন। আবু বকর রা. তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলের দরবারে উপস্থিত হলে রাসুল বলেন, 'তাঁকে কষ্ট দিলে কেন? বললে তো আমি নিজেই এসে যেতাম।' জবাবে আবু বকর বলেন, 'আপনার দরবারে তাঁর উপস্থিত হওয়াই উত্তম।' আবু কুহাফা তখন মুসলমান হন। ³⁷
বর্ণিত আছে; পিতার ইসলামগ্রহণের ব্যাপারে নবিজি আবু বকরকে ধন্যবাদ দেন। ³⁸ আবু কুহাফার চুলগুলো পেকে সাগামের মতো সফেদ হয়ে গিয়েছিল। রাসুল আবু বকরকে তাঁর চুলে খিজাব লাগানোর নির্দেশ দেন। তবে কালো খিজাব লাগাতে নিষেধ করেন। ⁴⁰
এ বর্ণনা থেকে বুড়োদের সম্মানের ব্যাপারে সুন্দর এক নির্দেশিকা প্রদান করা হয়েছে। অন্যত্র তিনি বলেছেন, 'সে আমাদের মধ্য থেকে নয়, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না। '⁴¹
আবু বকরের মায়ের নাম ছিল সালমা বিনতু সাখার ইবনু আমর ইবনু কাব ইবনু সাআদ ইবনু তায়িম। উপনাম উম্মুল খায়র। তিনি প্রাথমিক যুগেই ইসলামগ্রহণ করেছিলেন। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত আমরা সেই ঘটনায় উল্লেখ করব, যেখানে আবু বকর রাসুল -কে মক্কায় ইসলাম প্রকাশের জন্য পীড়াপীড়ি করেছিলেন। ⁴²
আবু বকর রা. মোট চারজন মহিলাকে বিয়ে করেছেন। যাঁদের গর্ভে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। স্ত্রীদের আলোচনা আমরা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করছি-⁴³
১. কাতিলা বিনতু আবদিল উজ্জা ইবনু আসআদ ইবনু জাবির ইবনু মালিক
কাতিলার ইসলামগ্রহণের ব্যাপারে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবি বকর এবং আসমা বিনতু আবি বকরের মাতা। জাহিলিযুগেই আবু বকর রা. তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন। মদিনায় চলে আসার পর তিনি তাঁর কন্যা আসমার জন্য পনির হাদিয়া নিয়ে এলে আসমা রা. তা গ্রহণ করেননি। এমনকি তাঁকে ঘরেও আসতে দেননি; বরং আয়েশা রা.-কে বলে পাঠান-'মা সম্পর্কে রাসুলকে জিজ্ঞেস করো।' রাসুলের কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'তাঁকে ঘরে আসতে দাও এবং হাদিয়াও গ্রহণ করো।'⁴⁴ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অবতীর্ণ করেন,
দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন। [সুরা মুমতাহিনা: ৮]
আল্লাহ ওই সকল কাফিরের সঙ্গে সদ্ব্যবহারে নিষেধ করেন না, যারা মুসলমানদের নির্যাতন করেনি। দীনের ব্যাপারে ঝগড়ায় জড়ায়নি। মুসলমানদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করেনি। যেমন: নারী এবং দুর্বলশ্রেণির লোক। তাদের সঙ্গে সদাচার ও তাদের মেহমানদারি গ্রহণ করতে এবং পড়শি হিসেবে তাদের অধিকার আদায়ে ইসলাম বারণ করে না। অনুরূপ তাদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করা, তাদের অধিকার আদায় করা, তাদের সঙ্গে কৃত ওয়াদা ও আমানত পূরণ এবং তাদের থেকে ক্রয়কৃত জিনিসের মূল্য আদায়ে ইসলাম বাধা দেয় না। আল্লাহ তো ন্যায়সংগত আচরণকারী ও ইনসাফকারীকে ভালোবাসেন, তাদের পছন্দ করেন। জুলুম অপছন্দ করেন, জুলুমকারীকে শাস্তি দেন। ⁴⁵
২. উম্মু রুমান বিনতু আমির ইবনু উয়াইমির
তিনি বনু কিনানা ইবনু খুজায়মার মেয়ে। প্রথম স্বামী হারিস ইবনু সাখবারা মক্কায় ইনতিকাল করলে আবু বকর রা. তাঁকে বিয়ে করেন। উম্মু রুমান ইসলামের প্রাথমিক যুগেই মুসলমান হয়েছিলেন। রাসুলের হাতে বায়আতগ্রহণ এবং মদিনায় হিজরতও করেছিলেন। তিনি ছিলেন আবদুর রাহমান এবং আয়েশার মাতা। ষষ্ঠ হিজরিতে তিনি ইনতিকাল করেন। ⁴⁶
৩. আসমা বিনতু উমায়স ইবনু মাবাদ ইবনুল হারিস
তাঁর উপনাম উম্মু আবদিল্লাহ। মুসলমানগণ 'দারুল আরকামে' যাওয়ার আগেই ইসলামগ্রহণ করে রাসুলের হাতে বায়আত হন। তিনি ছিলেন প্রথমে হিজরতকারী মহিলাদের একজন। প্রথম স্বামী জাফর ইবনু আবি তালিবের সঙ্গে হাবশায় হিজরত করেন। এর পর তাঁরই সঙ্গে সেখান থেকে ৭ হিজরিতে মদিনায় আসেন। ৮ হিজরিতে জাফরের শাহাদাতের পর আবু বকর রা. তাঁকে বিয়ে করেন। তাঁর গর্ভে মুহাম্মাদ (বিদায়হজের সময় ইহরাম অবস্থায় জুলহুলায়ফায়) জন্মগ্রহণ করেন। আবু বকরের ইনতিকালের পর তিনি আলির সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। সাহাবিদের মধ্যে উমর, আবু মুসা আশআরি, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস এবং আব্বাসের স্ত্রী উম্মুল ফজল তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
বৈবাহিক আত্মীয়তাসূত্রে ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদার আসনে—রাসুল, সাইয়িদুশ শুহাদা হামজা এবং আব্বাসের শাশুড়ি।⁴⁷
৪. হাবিবা বিনতু খারিজা ইবনু জায়েদ ইবনু আবি জুহাইর
তিনি আনসারদের বিখ্যাত খাজরাজ গোত্রের কন্যা। মদিনার পার্শ্ববর্তী ‘সুনাহ’ নামক স্থানে তিনি আবু বকরের সঙ্গে অবস্থান করতেন। আবু বকরের ইনতিকালের পর তাঁর গর্ভে উম্মু কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন।⁴⁸
সন্তানসন্ততি
আবু বকরের সন্তান মোট ছয়জন। তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। এবার আমরা তাঁর সন্তানদের আলোচনা করব—
১. আবদুর রাহমান ইবনু আবি বকর
তাঁর সন্তানদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। হুদায়বিয়ার দিন ইসলামগ্রহণ করেন। আজীবন ইসলামের ওপর দৃঢ়পদ ছিলেন। রাসুলের সাহচর্যধন্য হয়েছিলেন। বীরত্ব ও বাহাদুরিতে খ্যাত ছিলেন। ইসলামগ্রহণের পর তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। (ইরতিদাদি ফিতনা দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুআবিয়া রা. ইয়াজিদকে যে বছর তাঁর উত্তরসূরি ঘোষণা করেন, সে বছর মক্কা যাওয়ার পথে তিনি ইন্তিকাল করেন। তাঁকে মক্কায় দাফন করা হয়।)⁴⁹
২. আবদুল্লাহ ইবনু আবি বকর
তিনি হিজরতের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দিনভর মক্কার অলিগলি ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করে রাতে গোপনে সেগুলো নবিজি ও আবু বকরের কাছে পৌঁছে দিতেন। ভোর হওয়ার আগেই আবার মক্কায় চলে আসতেন। তায়েফের যুদ্ধে আহত হলে সে ক্ষত আর সেরে ওঠেনি। ওই ক্ষতের প্রতিক্রিয়ায় পিতা আবু বকরের শাসনামলে ১১ হিজরিতে শাহাদাতের মৃত্যু লাভ করেন।৫০
৩. মুহাম্মাদ ইবনু আবি বকর
তিনি ছিলেন আসমা বিনতু উমায়সের গর্ভের। বিদায়হজের সময় জুলহুলায়ফায় জন্মগ্রহণ করেন। মুহাম্মাদ ছিলেন কুরাইশের একজন ব্যক্তিত্ববান নওজোয়ান। আমিরুল মুমিনিন আলির কোলে লালিত-পালিত হন। আলি রা. তাঁর শাসনামলে তাঁকে মিসরের গভর্নর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি শহিদ হন।” (সাত ফকিহের মধ্যে কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ ছিলেন তাঁর সন্তান।)
৪. আসমা বিনতু আবি বকর
জাতুন নিতাকাইন আসমা বিনতু আবি বকর রা.। তিনি ছিলেন বয়সে আয়েশার বড়। নবিজি তাঁকে 'জাতুন নিতাকাইন' উপাধি দিয়েছিলেন। হিজরতের সময় তিনি নবিজি এবং তাঁর পিতার জন্য পাথেয় তৈরি করেন; কিন্তু তা বাঁধার জন্য যখন কিছু খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন নিজের কোমরবন্ধ ছিঁড়ে বেঁধে দেন। জুবায়ের ইবনুল আওয়ামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গর্ভাবস্থায়ই মদিনায় হিজরত করেছিলেন। হিজরতের পর তাঁর গর্ভে আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়েরের জন্ম হয়। আবদুল্লাহ ছিলেন হিজরতের পরে মুহাজিরদের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রথম সন্তান। আসমা রা. শত বছরের জীবন পেয়েছিলেন; কিন্তু এত অধিক বয়সেও তাঁর স্মৃতিশক্তি বা বোধবিবেচনায় কোনো ত্রুটি আসেনি। কোনো দাঁতও নড়েনি। তিনি রাসুল থেকে ৫৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের, উরওয়া ইবনু জুবায়ের এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবি মুলাইকা প্রমুখ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন দানশীল মহিলা। ৭৩ হিজরিতে মক্কায় ইনতিকাল করেন।
৫. উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা
তিনি ছিলেন সিদ্দিকা বিনতু সিদ্দিক রা.। ছয় বছর বয়সে রাসুলের সঙ্গে বিয়ে হয়; আর নয় বছর বয়সে শাওয়াল মাসে তাঁর বাসর হয়। তিনি মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিমা (জ্ঞানী) ছিলেন। নবিজি তাঁকে 'উম্মু আবদিল্লাহ' উপনাম দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল নবিজির অনুকরণীয় মুহাব্বাতের সম্পর্ক।**
ইমাম শাবি রাহ. বলেন, মাসরুক রাহ. যখনই আয়েশা রা. থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন, 'আমাকে সিদ্দিকা বিনতু সিদ্দিক, আল্লাহর প্রিয়জনের প্রিয়জন হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাঁর পবিত্রতা আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন।' তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২২১০টি। বুখারি ও মুসলিমের মুত্তাফাক আলাইহি** বর্ণনার সংখ্যা ১৭৪টি। শুধু বুখারিতে ৫৪টি এবং মুসলিমে ৬৯টি হাদিস বর্ণিত আছে।**
ইনতিকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর কয়েক মাস। ৫৭ হিজরিতে তিনি ইনতিকাল করেন। তাঁর কোনো সন্তান ছিল না।**
৬. উম্মু কুলসুম বিনতু আবি বকর রা.
তিনি হাবিবা বিনতু খারিজা আল আনসারির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। ইনতিকালের সময় আবু বকর রা. আয়েশা রা.-কে বলেছিলেন, 'এরা হচ্ছে তোমার দুই ভাই ও বোন।' আয়েশা বলেন, 'এইতো বোন আসমা। আমি তো ওকে জানি; কিন্তু অন্য বোন কোথায়?' আবু বকর বলেন, 'সে বিনতু খারিজার গর্ভে আছে। আমার বিশ্বাস, সে একজন কন্যা হবে।' বাস্তবেও তেমন হয়। তাঁর ইনতিকালের পর উন্মু কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন।** তাঁর বিয়ে হয়েছিল জঙ্গে জামালের শহিদ তালহা ইবনু উদায়দিল্লাহর সঙ্গে। তালহা শাহাদাতের পর উম্মুল মুমিনিন আয়েশা উম্মে কুলসুমকে সঙ্গে নিয়ে হজ আদায় করেছিলেন।
এই হচ্ছে আবু বকরের বরকতময় পরিবার। আল্লাহ তাঁর পরিবারকে মর্যাদাবান করেছিলেন। সাহাবিদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য কেবল তাঁরই রয়েছে। আলিমগণ এ কথা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ব্যতীত সাহাবিদের কেউ ছিলেন না, যার চার প্রজন্ম সাহাবি হওয়ার মর্যাদা লাভ করতে পেরেছিলেন। কেবল তিনিই ছিলেন এই মর্যাদার একক অধিকারী। লক্ষ করুন; আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়ের, তাঁর মাতা আসমা, তাঁর পিতা আবু বকর, তাঁর [আবু বকরের] পিতা আবু কুহাফা রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন—এরা সকলেই ছিলেন রাসুলের সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত।
সাহাবিদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না, যাঁদের পিতা-মাতা, সন্তান এবং সন্তানের সন্তান ইসলামগ্রহণ করে নবিজির সাহচর্যধন্য হয়েছিলেন। কেবল আবু বকর রা.-ই এই বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। এই হচ্ছে সিদ্দিকি পরিবার। তাঁরা সকলেই ছিলেন ইমানদার।
এ কথাটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল যে, ইমানের থাকে এক পরিবার; আর নিফাকের অনেক পরিবার। মুহাজিরদের মধ্যে ইমানের পরিবার ছিল আবু বকরের পরিবার; আর আনসারদের মধ্যে ইমানের পরিবার ছিল বনু নাজ্জারের পরিবার।

টিকাঃ
৩৭ আল-ইসাবা: ৪/৩৭৫।
৩৮ আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ ফি জু-ইল মাসাদিরিল আসলিয়াহ: ৫৭৭।
৩৯ এক প্রকার দুধ-সাদা উদ্ভিদ। - অনুবাদক।
৪০ আল-ইসাবা: ৪/৩৭৫।
৪১ তিরমিজি, কিতাবুল বিররি, বাব: ১৫।
৪২ তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলাম ফি আহদিল খুলাফায়ির রাশিদিন: ৩০।
৪৩ তাবাকাত, ইবনু সাআদ: ৩/১৬৯; ৭/২৪৯।
৪৪ সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আসমা থেকে বর্ণিত; কুরাইশদের সঙ্গে সন্ধিযুগে একবার তাঁর মাতা তাঁর কাছে এসেছিলেন। তিনি তখন মুশরিক ছিলেন। আসমা তখন এ ব্যাপারে রাসুলের কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করলে রাসুল বলেছিলেন, 'মায়ের সঙ্গে সদয় আচরণ করো।' বুখারি, আল-হিবা: ২৬২০; সহিহ মুসলিম, আজ-জাকাত: ১০০৩।- অনুবাদক।
৪৫ আত-তাফসিরুল মুনির: জুহাইলি: ২৮/১৩৫।
৪৬ আল-ইসাবা: ৮/৩৯১।
৪৭ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/২৮২।
৪৮ আল-ইসাবা: ৮/৮০।
৪৯ আল-ইসাবা: ৪/২৭৪; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৬/৩৪৬।
৫০ নাসাবু কুরাইশ: ২৭৫; আল-ইসাবা: ৪/২৪১।
৫১ নাসাবু কুরাইশ: ২৭৫; আল-ইসতিআব: ৩/১৩৬৬।
৫২ সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/২৮৭।
** তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলাম ফি আহদিল খুলাফায়ির রাশিদিন: ৩৪।
** মুত্তাফাক আলাইহি: যে হাদিসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম উভয়ই একমত এবং যেটিকে তাঁরা নিজেদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন, তাকে 'মুত্তাফাক আলাইহি' হাদিস বলে। - সম্পাদক।
** সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/১৩৯-১৪৫।
** তাবাকাত, ইবনু সাআদ: ৫/৫৮; আল-মুনজির: ৪/৫।
** আত-তাবাকাত: ২/১৯৫।

📘 আবু বকর সিদ্দিক রাঃ > 📄 জাহেলি সমাজব্যবস্থায় আবু বকরের চারিত্রিক পুঁজি

📄 জাহেলি সমাজব্যবস্থায় আবু বকরের চারিত্রিক পুঁজি


জাহিলি যুগেও আবু বকর রা. কুরাইশের গণ্যমান্য ও সম্ভ্রান্ত মানুষের মধ্যে গণ্য হতেন। ইসলামপূর্ব যুগে কুরাইশের নয়টি পরিবারের নয়জনকে মর্যাদা ও আভিজাত্যে পুরো আরবে শীর্ষস্থানের অধিকারী মনে করা হতো, তাঁরা হচ্ছেন:
১. বনু হাশিম থেকে আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব রা.। জাহিলি যুগে হাজিদের পানি পান করানোর দায়িত্ব তাঁর অধীনে ছিল। ইসলামি যুগেও এই মর্যাদা তাঁর হাতে থেকে যায়।
২. বনু উমাইয়ার মধ্যে আবু সুফিয়ান ইবনু হারব রা.। কুরাইশদের জাতীয় পতাকা ‘উকাৰ’-ধারণের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। কুরাইশদের নেতৃবৃন্দ। যখন কোনো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারতেন না, তখন তাঁকে সামনে বাড়িয়ে দিতেন।
৩. বনু নাওফালের হারিস ইবনু আমির। রিফাদাহ অর্থাৎ, কুরাইশের জাতীয় সাহায্য-তহবিলের জন্য অর্থসংগ্রহ এবং তা দিয়ে মুসাফিরদের সাহায্য করা ছিল তাঁর দায়িত্বে।
৪. বনু আসাদ থেকে উসমান ইবনু তালহা ইবনু জামআ ইবনু আসওয়াদ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলিতে পরামর্শ প্রদানের জন্য তাঁকে ডাকা হতো। কুরাইশরা জরুরি বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতো না। এ ছাড়া তাঁর হাতে ছিল হিজাবা তথা কাবার চাবি সংরক্ষণের দায়িত্ব।
৫. বনু তায়িম থেকে আবু বকর রা.। তাঁর দায়িত্বে ছিল আশনাক অর্থাৎ, জরিমানা ও রক্তপণের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ। তিনি কারও জামিন হলে কুরাইশরা একবাক্যে তা মেনে নিত। তবে অন্য কেউ কারও জামানত গ্রহণ করলে কুরাইশরা তার স্বীকৃতি দিত না।
৬. বনু মাখজুম থেকে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা.। কুবাবাহ মানে সেনাক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা এবং আয়িনা অর্থাৎ, অশ্বারোহীবাহিনীর নেতৃত্বপ্রদান ছিল তাঁর দায়িত্ব। তাঁরই নেতৃত্বে কুরাইশরা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত।
৭. বনু আদি থেকে উমর ইবনুল খাত্তাব রা.। সাফারাত-কূটনীতি তথা অন্যান্য জাতির সঙ্গে-পত্রযোগাযোগ ও আলাপ-আলোচনা ছিল তাঁর দায়িত্বে।
৮. বনু জুমাহ থেকে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া রা.। আজলাম বা ভাগ্যনির্ধারণী তির সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।
৯. বনু সাহাম থেকে হারিস ইবনু কায়েস। হুকুমত অর্থাৎ, মামলা-মোকাদ্দমায় ফায়সালা দেওয়া এবং প্রতিমা তৈরি ও সংস্কারের দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।⁶¹
সেই জাহিলি যুগেই আবু বকর রা. অভিজাত একজন কুরাইশি নেতা হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিলেন। লোকজন বিভিন্ন সমস্যায় তাঁর কাছে আসত। মক্কায় মেহমানদারিতে তিনি আলাদা সুখ্যাতির অধিকারী ছিলেন।⁶²
এ ছাড়া তিনি আরও কিছু বিষয়ে সুখ্যাতির অধিকারী ছিলেন, যেমন:
১. ইলমুল আনসাব (বংশতালিকার জ্ঞান)
আরবের ইতিহাস এবং বংশতালিকা সম্পর্কে তাঁকে বিশেষজ্ঞ গণ্য করা হতো। এ ব্যাপারে তাঁর জানাশোনা ছিল বিস্ময়কর। তিনি ছিলেন আকিল ইবনু আবি তালিবসহ অনেক বংশবিশেষজ্ঞের শিক্ষক। তাঁর মধ্যে এমন কিছু গুণ ছিল, যার ফলে তিনি আরবের সর্বসাধারণের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন। অন্যদের মতো বংশতালিকা বর্ণনায় কাউকে তুচ্ছ বা হেয়প্রতিপন্ন করতেন না। কারও দোষ খুঁজে বেড়াতেন না। ⁶³ কুরাইশের মধ্যে কুরাইশের বংশতালিকা সম্পর্কে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ। তাদের ভালোমন্দ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত ছিলেন। ⁶⁴ এ সম্পর্কে আয়েশা রা. বলেন, 'নিঃসন্দেহে তিনি কুরাইশের মধ্যে তাদের বংশতালিকা সম্পর্কে সর্বাধিক বিজ্ঞ ছিলেন। '⁶⁵
২. তিজারত (ব্যবসাবাণিজ্য)
জাহিলি যুগে তিনি ছিলেন খ্যাতিমান একজন ব্যবসায়ী। শাম, বসরাসহ বিভিন্ন শহরে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করতেন। ব্যবসায় তাঁর মোট পুঁজি ছিল ৪০ হাজার দিরহাম। অত্যন্ত উদারচিত্তে সম্পদ ব্যয় করতেন। জাহিলি যুগ থেকেই দান- খয়রাত এবং মেহমানদারিতে ছিলেন প্রসিদ্ধ। ৬৬
৩. গোত্রবাসীর ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু
ইবনু ইসহাক তাঁর সিরাতগ্রন্থে লেখেন, মানুষ তাঁকে সীমাহীন ভালোবাসত। তাদের মধ্যে তাঁর সম্মান ও মর্যাদা ছড়িয়ে পড়েছিল। লোকজন বিভিন্ন কারণে তাঁর কাছে আসত। যেমন: জ্ঞানার্জন, ব্যবসা এবং উত্তম সঙ্গলাভের উদ্দেশ্যে। ⁶⁷ হাবশায় হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে বের হলে পথে ইবনুদ দাগানার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সে তখন স্পষ্ট করে বলে, 'আপনি বংশের সৌন্দর্য ও গৌরব। বিপদে মানুষকে সাহায্য করেন। দরিদ্র ও অসহায়দের সম্পদ দান করেন। মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেন। '⁶⁸
হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানি রাহ. ইবনুদ দাগানার এই বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, 'আবু বকরের সুমহান মর্যাদার মধ্যে ইবনুদ দাগানার এ কথাটি প্রণিধানযোগ্য যে, এখানে ইবনুদ দাগানা আবু বকরের ওই সব গুণের কথা আলোচনা করেছেন, যেগুলো উম্মুল মুমিনিন খাদিজা রা. নবিজির ওপর ওহি অবতরণের সময় বলেছিলেন। এটি এক বিস্ময়কর মিল। চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রশংসা। কেননা, রাসুলের গুণাবলি শুরু থেকেই ছিল পূর্ণাঙ্গ। '⁶⁹
৪. জাহিলি যুগেও মদপান না করা
জাহিলি যুগেও তিনি ছিলেন পবিত্রতা ও সততায় অদ্বিতীয়। ইসলাম-আবির্ভাবের পূর্বেই নিজের ওপর মদপান হারাম করে রেখেছিলেন। তিনি যেমন জাহিলি যুগেও মদপান করেননি, তেমনই ইসলাম-পরবর্তী জীবনেও মদপান করেননি। একবার তিনি কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একব্যক্তিকে দেখেন, সে মাতাল অবস্থায় নিজের মল মুখের কাছে নিয়ে আসছে; পরক্ষণেই দুর্গন্ধে তা সরিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থা দেখে তিনি বলেন, 'লোকটি কী করছে, সে বুঝতেই পারছে না; কেবল দুর্গন্ধের কারণে বেঁচে যাচ্ছে। '⁷⁰
এক বর্ণনায় আছে, আয়েশা রা. বলেন, আবু বকর ও উসমান রা. জাহিলি যুগ থেকেই মদপান থেকে দূরে ছিলেন।
একব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'আপনি কি জাহিলি যুগে মদপান করেছিলেন?' উত্তরে তিনি বলেন, 'আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।' লোকটি জিজ্ঞেস করে, 'কেন পান করেননি?' তিনি বলেন, 'নিজ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই আমি এ থেকে দূরে থেকেছি। যে ব্যক্তি মদপান করে, সে তার সম্মান-সম্ভ্রম হারিয়ে ফেলে।*
৫. কখনো কোনো প্রতিমাকে সিজদা করেননি
আবু বকর রা. জীবনে কখনো কোনো প্রতিমার পূজা করেননি। সাহাবিদের এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, 'আমি কখনো কোনো প্রতিমার পূজা করিনি। যৌবনে একবার পিতা আবু কুহাফা আমার হাত ধরে একটি দেবালয়ে নিয়ে আমাকে বলেন, 'এই উঁচু মর্যাদার অধিকারী প্রতিমা তোমার মাবুদ।' এরপর তিনি আমাকে সেখানে রেখে চলে যান। আমি মূর্তির কাছে গিয়ে বলি- 'আমি ক্ষুধার্ত, খাবার দাও!' সে কোনো সাড়া দেয়নি। আমি ফের বলি, 'আমি উলঙ্গ; আমাকে পোশাক দাও!' এবারও সে কোনো জবাব দেয় না। আমি তখন একটি পাথর উঠিয়ে তার দিকে ছুড়ে মারলে সেটা ভেঙে পড়ে।
এভাবে তাঁর উন্নত জ্ঞানবুদ্ধি, স্বভাবজাত পবিত্রতা ও উত্তম চরিত্র তাঁকে জাহিলি কার্যকলাপ থেকে নিরাপদ রাখে। ⁷² যাঁর চরিত্রের এই অবস্থান, সত্যের দাওয়াতের ধারকদের মধ্যে তাঁর গণ্য হওয়া এবং রাসুলের পর পুরো উম্মাহর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর হতে পারে না। রাসুল বলেন, তোমাদের মধ্যে জাহিলি জীবনে যারা উত্তম ছিল, ইসলাম-পরবর্তী জীবনেও তারা উত্তম-যদি তারা ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে সক্ষম হয়। ⁷³
জাহিলি যুগে আবু বকরের জীবনধারা কেমন ছিল, এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে উসতাজ রাফিকুল আজম বলেন, 'হে আল্লাহ, যে ব্যক্তি দীনের ছায়া ব্যতীত মূর্তিপূজার পরিবেশে জীবনযাপন করেছে, তাঁর চরিত্র ও মর্যাদার অবস্থা যদি এমন হয়, তাঁর পবিত্রতা ও সততা যদি হয় এত উন্নত, তাহলে অবশ্যই তিনি হবেন ইসলামকে অন্তরের গভীর থেকে ধারণের উপযুক্ত। চিরন্তন সত্যের পথপ্রদর্শক মহানবির ওপর প্রথম ইমান আনয়নকারী। অহংকারী ও আত্মম্ভরিদের নাকের ডগায় থেকে ইসলামগ্রহণপূর্বক ওদের সমূলে ধ্বংসকারী। হিদায়াতের পথ মসৃণকারী। নবির পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্তরসমূহ থেকে চরিত্রহীনতা দূরকারী। মন্দ আচরণের সমূলে উৎপাটনকারী। '*
আবু বকর রা.-কে আল্লাহ কতই-না সুমহান মর্যাদা দিয়েছিলেন। ইসলামগ্রহণের পূর্বেই অন্ধকার সমাজে তিনি ছিলেন মানবিক সৌকর্যমণ্ডিত, সর্বোত্তম চরিত্রের ধারক। অভিজাত চালচলনের অধিকারী। মক্কাবাসীরা তাঁকে মানবিক গুণাবলি এবং উত্তম চরিত্রে অন্যদের ওপর এগিয়ে থাকার সনদ আগেই দিয়ে রেখেছিল। দুর্বল মুসলমানদের নিয়ে কুরাইশের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভ্যাস থাকলেও তাদের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না, যে ছিল তাঁর সমালোচনাকারী। তাঁকে হেয় বা তুচ্ছতাচ্ছিল্যকারী। তাদের কাছে তাঁর একটিমাত্র ত্রুটিই ছিল; আর সেটি হচ্ছে-তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ-এর নিঃশর্ত আনুগত্যকারী। *

টিকাঃ
৬১ আশহারু মাশাহিরিল ইসলাম: ১/১০।
৬২ নিহায়াতুল আরব: ১৯/১০; সূত্র তারিখুদ দাওয়াহ, ইয়াসরি মুহাম্মাদ হানি: ৪২।
৬৩ আত-তাহজিব: ২/১৮৩।
৬৪ আল-ইসাবা: ৪/১৪৬।
৬৫ সহিহ মুসলিম: ২৪৯০; আত-তাবারানি ফিল কাবির: ৩৫৮২।
৬৬ আবু বাকরিনিস সিদ্দিক, আলি তানতাবি: ৬৬; আত-তারিখুল ইসলামি, আল-খুলাফাউর রাশিদুন, মাহমুদ শাকির: ৩০১।
৬৭ আস-সিরাতুন নাবাবিয়াহ, ইবনু হিশাম: ১/৩৭১।
৬৮ সহিহ বুখারি: মানাকিবুল আনসার: ৩৯০৫।
৬৯ আল-ইসাবা: ৪/১৪৭।
* সিরাতু ওয়া হায়াতুস সিদ্দিক, মাজদি ফাতহি: ৩৪১।
১ তারিখুল খুলাফা, সুয়ুতি: ৪৯।
* আসহাবুর রাসুল, মাহমুদ আল মিসরি: ১/৫৮; আল-খুলাফা, মাহমুদ শাকির: ৩১।
* তারিখুদ দাওয়াতিল ইসলাম ফি আহদিল খুলাফায়ির রাশিদিন: ৪৩।
৭২ তারিখুল খুলাফা, সুয়ুতি: ৫৭।
৭৩ সহিহ বুখারি: ৩৩৮৩; সহিহ মুসলিম: ২৩৭৮।
* আশহাবু মাশাহিরিল ইসলাম: ১/১২১।
* মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়াহ, ইবনু তাইমিয়া ৪/২৮৮-২৮৯; কৃত আবু বাকরিনিস সিদ্দিক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00