📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মালাক: অর্থ ও পরিচয়

📄 মালাক: অর্থ ও পরিচয়


আরবী ভাষায় "মালাক" শব্দকে ফার্সী ভাষায় ফিরিশতা বলা হয়। বাংলায় এই ফার্সী শব্দই প্রচলিত। পারস্যের মুসলিমগণ অনেক ইসলামী পরিভাষাকেও নিজেদের পূর্ববর্তী ধর্মীয় পরিভাষার ভিত্তিতে ফার্সী ভাষায় রূপান্তরিত করেন। যেমন খোদা, নামায, রোযা, দরুদ ইত্যাদি। এগুলি কোনোটিই আরবী শব্দের অর্থ বহন করে না। কিন্তু পারস্যবাসীরা তাদের পূর্ববর্তী ধর্মে ব্যবহৃত ধর্মীয় পরিভাষাগুলির ইসলামীকরণ করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে ফারসী ভাষার প্রভাবে আমাদের বাংলা ভাষায়ও এ সকল পরিভাষা প্রতিষ্ঠা লাভ। গত কয়েক দশক ধরে লেখকগণ ফার্সী পরিভাষা বাদ দিয়ে কুরআন-হাদীসে ব্যবহৃত মূল আরবী পরিভাষার প্রচলনের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যেই খোদার পরিবর্তে আল্লাহ, নামাযের পরিবর্তে সালাত, রোযার পরিবর্তে সিয়াম ব্যবহার বেশ প্রচলন লাভ করেছে। কিন্তু মালাক শব্দটির অবস্থা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে 'ফিরিশতা' শব্দটিই সবত্র ব্যবহৃত। 'মালাক' শব্দটির প্রচলন নেই, যদিও তা কুরআন-হাদীসের মূল পরিভাষা। আর ধর্মীয় পরিভাষার অনুবাদ না করে বা অন্য ধর্মের কাছাকাছি অর্থের পরিভাষা ব্যবহার না করে মূল পরিভাষা ব্যবহার করাই উত্তম।
আরবী 'মালাক' (ملك) শব্দটির অর্থ পত্র, চিঠি বা দূত। বহুল প্রচলনের ফলে শব্দটির মধ্যে কিছু ধ্বনিগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শব্দটি মূলত 'আলাক' (ألك) ধাতুমূল থেকে গৃহীত, মীম অক্ষরটি 'হারফ যাইদ' বা অতিরিক্ত অক্ষর। মূল শব্দটি ছিল 'মাল্‌আক' (مالك)। পরবর্তী কালে 'হামযা' অক্ষরটিকে স্থানান্তরিত করে লামের পরে নিয়ে একে 'মাল্‌আক' (ملاك) বলা হয়। বহুল ব্যবহারে 'হামযা' অক্ষরটি লোপ পেয়ে সাধারণভাবে 'মালাক' (ملك) বলা হয়। বহুবচনে 'হামযা' অক্ষরটি বিদ্যমান থাকে এবং বলা হয় 'মালাইকা' (ملائكة)। সর্বাবস্থায় এ সকল ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে মূল অর্থের পরিবর্তন হয় নি। মালাক, মালআক, মাল্লাক সবগুলি শব্দেরই মূল আভিধানিক অর্থ পত্র, বাণী, দূত ইত্যাদি, আর ব্যবহারিক অর্থ আল্লাহর দূত (angel)।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মালাকগণের আকৃতি-প্রকৃতিতে বিশ্বাস

📄 মালাকগণের আকৃতি-প্রকৃতিতে বিশ্বাস


আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, অদৃশ্য জগতের কোনো কিছুর বিষয়ে আল্লাহ আমাদেরকে ততটুকুই জানিয়েছেন, যতটুকু জানলে এবং বিশ্বাস করলে আমরা জাগতিক আধ্যাত্মিক কল্যাণ লাভ করতে পারব। এজন্য কুরআন ও হাদীসে মালাকগণ সম্পর্কে যে সকল বর্ণনা এসেছে তা পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, এ সকল আয়াত ও হাদীস মূলত আল্লাহর সাথে মালাকগণের সম্পর্ক, সৃষ্টি পরিচালনায় ও আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশ বাস্তবায়নে তাঁদের দায়িত্ব এবং মানুষের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে। তাঁদের সৃষ্টি ও আকৃতি-প্রकृति সম্পর্কে সাধারণত বিশেষ কিছু বলা হয়নি। তবে কুরআন-হাদীসের বর্ণনা থেকে আমরা যা বুঝতে পারি তা নিম্নরূপ:

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মালাকগণের প্রতি ঈমানের প্রয়োজনীয়তা

📄 মালাকগণের প্রতি ঈমানের প্রয়োজনীয়তা


আমরা দেখেছি যে, কুরআন ও হাদীসে বারংবার মালাকগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং মালাকগণে অবিশ্বাসকারীর বিভ্রান্তির কথা জানান হয়েছে। এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, মালাকগণে বা ফিরিশতায় বিশ্বাস করা ইসলামী ঈমানের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অংশ।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মালাকগণের প্রতি ঈমানের মূলনীতি

📄 মালাকগণের প্রতি ঈমানের মূলনীতি


মালাকগণ বা ফিরিশতাগণ আল্লাহর সৃষ্ট গাইব বা অদুশ্য জগতের অংশ। আল্লাহ অদৃশ্য জগতের শুধুমাত্র সে সকল বিষয় আমাদেরকে জানিয়েছেন এবং বিশ্বাস করতে নির্দেশ দিয়েছেন যে সকল বিষয়ে বিশ্বাস আমাদেরকে পার্থিব বা আধ্যাত্মিক ক্ষতি বা অকল্যাণ থেকে রক্ষা করে বা এক্ষেত্রে কল্যাণ বয়ে আনে। মালাকগণ সম্পর্কে আমরা ততটুকুই বিশ্বাস করি যতটুকু কুরআনুল করীমে বা হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। এর অতিরিক্ত তথ্য জানা আমাদের প্রয়োজন নেই বলেই আল্লাহ আমাদের ওহীর মাধ্যমে জানান নি। কাজেই ওহীর অতিরিক্ত কিছু জানার চেষ্টা করলে, অতিরিক্ত কিছু কথা যুক্তি, তর্ক দিয়ে বললে বা কুরআন হাদীসের বিভিন্ন বক্তব্যের আলোকে
নিজেদের বিচারবুদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করলে তাতে ভুল হওয়ার ও গাইবী বিষয়ে ওহীর বাইরে কথা বলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাচীন যুগ থেকে অনেক জাতি ওহীর কথা বিকৃত হওয়ার কারণে, ওহীর নামে বানোয়াট কথা প্রচলন হওয়ার কারণে এবং ওহীর অতিরিক্ত মনগড়া ব্যাখ্যা ও মতামত প্রচলনের কারণে মালাকগণ সম্পর্কে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বিশ্বাসের মধ্যে নিপতিত হয়েছিলেন। কুরআন কারীমে তাদের কিছু বিভ্রান্তির বর্ণনা রয়েছে। আমরা প্রথমে মালাকগণ বা ফিরিশতাগণ সম্পর্কে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামী বিশ্বাসের বর্ণনা করব এবং এরপর এ বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00