📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 হুবহু অনুকরণ

📄 হুবহু অনুকরণ


এভাবে আমরা দেখছি যে, সাহাবী-তাবিয়ীগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে রাসূলুল্লাহ যা করেছেন তা করা যেমন সুন্নাত, তেমনি তিনি যা বর্জন করেছেন তা বর্জন করাও সুন্নাত। আর 'কর্ম' ও 'বর্জন' হুবহু ও অবিকল হলেই তা সুন্নাত হবে, সুন্নাতের সাথে কিছু সংযোজন, বিয়োজন বা পরিবর্তন করে পালন বা বর্জন করেলে তা ইত্তিবায়ে সুন্নাত বলে গণ্য হবে না। এখানে আল্লামা ইবনু সীরীনেরই একটি বক্তব্য উল্লেখ করছি। প্রখ্যাত তাবি-তাবিয়ী মুহাদ্দিস, ফকীহ ও আবিদ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (মৃ ১৮১ হি) ও অন্যান্য মুহাদ্দিস উল্লেখ করেছেন: دخل الصلت بن راشد على محمد بن سيرين وعليه جبة صوف وإزار صوف وعمامة صوف فنظر إليه محمد نظرة كراهة فاشمأز عنه محمد وقال إن أقواما يلبسون الصوف ويقولون قد لبسه عيسى بن مريم وقد حدثني من لا أتهم أن النبي قد لبس الكتان والصوف والقطن وسنة نبينا أحق أن تتبع “সান্ত ইবনু রাশিদ নামক একজন তাবি-তাবিয়ী দরবেশ পশমী জুব্বা, পশমী ইযার ও পশমী পাগড়ি পরিধান করে মুহাম্মাদ ইবনু সিরীনের নিকট প্রবেশ করেন। ইবনু সিরীন তাঁর পোশাক দেখে বিরক্ত হন। তিনি বিরক্তির সাথে তার দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং বলেন: কিছু মানুষ (সর্বদা) পশমি পোশাক পরিধান করেন। তাঁরা বলেন যে, ঈসা (আ) পশমি পোশাক পরিধান করতেন। অথচ যাদের বর্ণনা আমি সন্দেহাতীতভাবে গ্রহণ করি সে সব মানুষেরা (সাহাবীগণ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ কাতান, পশমি ও সুতি কাপড় পরিধান করেছেন। আর আমাদের নবীর সুন্নাত অনুকরণ করাই আমাদের জন্য বেশি প্রয়োজনীয় ও বেশি উচিত।"১৮৩ ইমাম ইবনু সিরীন দরবেশগণের 'সূফী' বা 'পশমি' পোশাক পরিধানের বিষয়ে আপত্তি করে বলছেন যে, ঈসা নবীর সুন্নাতের চেয়ে আমাদের নবীর সুন্নাত অনুসরণ করা উচিত। আবার তিনি নিজেই স্বীকার করছেন যে, রাসূলুল্লাহ পশমি পোশাক পরিধান করতেন। তাহলে তো দেখা যাচ্ছে যে, এসকল দরবেশ রাসূলুল্লাহ-এর সুন্নাতই অনুসরণ করছেন। তাহলে তাঁর আপত্তিটা কি? আপত্তি অনুকরণের 'হুবহুত্বে'। রাসূলুল্লাহ এর সামাগ্রিক কর্ম ও বর্জনের সমষ্টিই তাঁর সুন্নাত। তিনি যে কাজ যতটুকু ও যে গুরুত্ব দিয়ে করেছেন এবং যতটুকু ও যে গুরুত্ব দিয়ে বর্জন করেছেন সেই কাজ ততটুকুই করা ও বর্জন করাই সুন্নাত। কর্মে, বর্জনে বা গুরুত্বে তাঁর কাজের বিপরীত করার অর্থ তাঁর সুন্নাত বর্জন করা ও সুন্নাতের বিরোধিতা করা। ইবনু সিরীন এ কথাই বলেছেন। তাঁর কথার অর্থ, কিছু মানুষ সর্বদা পশমী পোশাক পরিধান করেন। তাঁরা মনে করেন যে, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুতি পোশাক পরিধান বর্জন করে পশমি পরিধান উত্তম। এজন্য তাঁরা স্বেচ্ছায় সুতি পরিধান থেকে বিরত থাকেন এবং এ বর্জনকে তাকওয়া, দরবেশি বা বুজুর্গির পথ বলে মনে করেন। অথচ আমাদের নবীর সুন্নাত ছিল সুবিধা ও সুযোগমত সুতি বা পশমি পোশাক ব্যবহার করা। সুযোগ থাকলেও সুতি পোশাক বর্জন করে পশমি ব্যবহারের অর্থ রাসূলুল্লাহ-এর সুন্নাত বর্জন করা এবং তাঁর সুন্নাতকে দরবেশির জন্য যথেষ্ট বলে মনে না করা। এজন্যই ইবনু সিরীন বলছেন যে, আমাদের নবীর সুন্নাত অনুসরণ করা উত্তম ও উচিত। আর তাঁর সুন্নাত সর্বদা পশমি পোশাক না পরা। প্রখ্যাত তাবেয়ী আবুল বাখতারী সাঈদ ইবনু ফাইরোয (৮৩ হি.) বলেন, মুস'আব যুবাইরী ইমামরূপে নামায শেষ করার পরে জোরে বলেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার"। তখন তাবিয়ী-শ্রেষ্ঠ প্রসিদ্ধ ফকীহ আবীদাহ ইবনু আমর আস-সালমানী (৭০ হি.), যিনি মসজিদে ছিলেন, বলেন: "আল্লাহ একে ধ্বংস করুন! বিদ'আতের জয়ধ্বনি দিচ্ছে।"৯৮৪ قَاتَلَهُ اللَّهُ نِعَارٌ بِالْبِدَعِ সালাতের সালাম ফেরানো পরে এরূপ যিক্র, তাসবীহ ইত্যাদি সুন্নাত সম্মত ইবাদত। এ ব্যক্তি সুন্নাত সম্মত যিকরের বাক্য সুন্নাত সম্মত সময়ে পাঠ করে একটি সুন্নাত সম্মত ইবাদত পালন করেছেন। শুধু উচ্চস্বরে তা পালন করে যিকরটি পালনের পদ্ধতিতে সামান্য ব্যতিক্রম করেছে। এরূপ ব্যতিক্রমও তাঁরা গ্রহণ করতেন না। বরং একে বিদ'আত বলে কঠিনভাবে আপত্তি করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00