📄 সুন্নাতের অর্থ ও পরিচয়
ইতোপূর্বে আমরা দেখেছি যে, আভিধানিক ভাবে 'সুন্নাহ' বা 'সুন্নাত' শব্দের অর্থ: মুখ, ছবি, প্রতিচ্ছবি, প্রকৃতি, জীবন পদ্ধতি, কর্মধারা ইত্যাদি। আর ইসলামী শরীয়তে 'সুন্নাত' অর্থ রাসূলে আকরাম (ﷺ)-এর কথা, কর্ম, অনুমোদন বা এক কথায় তাঁর সামগ্রিক জীবনাদর্শ।
📄 ইত্তিবায়ে সুন্নাতের গুরুত্ব
ইফতিরাক বিষয়ক হাদীসগুলিতে আমরা দেখেছি যে, নাজাত, মুক্তি, জান্নাত ও সত্যের মাপকাঠি ও একমাত্র পথ 'সুন্নাতের অনুসরণ'। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাহাবী ও হাওয়ারীদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন: (১) নবীর (ﷺ) সুন্নাত আঁকড়ে ধরা ও (২) তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করা। এ হাদীসে তিনি বিভ্রান্তদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন: (১) মুখের দাবির সাথে কর্মের অমিল এবং (২) অনির্দেশিত কর্ম। অন্য হাদীসে তিনি তাঁর ও তাঁর সাহাবীগণের মত ও পথের উপর থাককেই নাজাতের মানদণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন। তৃতীয় অধ্যায়ে রিসালাতের ঈমান প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ-এর অনুকরণের গুরুত্ব ও অনুকরণের ব্যতিক্রমের ভয়াবহতা বিষয়ক অনেক আয়াত ও হাদীস আমরা উল্লেখ করেছি এবং ইত্তিবায়ে সুন্নাতের গুরুত্ব জানতে পেরেছি। এ অধ্যায়ে বিদ'আত প্রসঙ্গেও আমরা ইত্তিবায়ে সুন্নাতের গুরুত্ব জানতে পেরেছি।
📄 সুন্নাতুস সাহাবা
আমরা দেখেছি যে, আল্লাহ প্রথম অগ্রবর্তী মুহাজির ও আনসারগণের নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করাকে জান্নাত ও সফলতার পথ বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবীগণের কর্ম ও মতের উপর থাকাকে হাদীসে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পরিচয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভক্তি ও মতভেদের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ও খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মর্মে আরো অনেক নির্দেশনা কুরআন-হাদীসে রয়েছে। এক হাদীসে উতবা ইবনু গাযওয়ান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: إِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامٍ الصَّبْرِ، للمتمسك فيهن يومئذ بما أنتم عليه أجر خمسين منكم. قالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَوَ مِنْهُمْ قَالَ بَلْ مِنكُمْ "তোমাদের সামনে রয়েছে ধৈর্যের সময়, এখন তোমরা যে কর্মের উপর আছ সে সময়ে যে ব্যক্তি তোমাদের এ পদ্ধতি আকড়ে ধরে থাকবে, সে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যকার পঞ্চাশ ব্যক্তির সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর নবী, আমাদের মধ্যকার ৫০ জনের সাওয়াব না তাদের মধ্যকার?” তিনি বলেন, "না, বরং তোমাদের মধ্যকার ৫০ জনের সমপরিমাণ সাওয়াব।"৯৭৮
📄 কর্ম ও বর্জনের সুন্নাত
'আহলুস সুন্নাত'-এর পরিচয় বুঝতে হলে হাদীসে নববীতে এবং সাহাবী ও তাবিয়ীগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে 'সুন্নাত' বলতে কী বুঝানো হয় তা জানতে হবে। এ বিষয়ে 'এহইয়াউস সুনান' গ্রন্থে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখানে সংক্ষেপে বলা যায় যে, কর্ম ও বর্জনে রাসূলুল্লাহ-এর হুবহু অনুকরণই সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ যে কথা যেভাবে যতটুকু বলেছেন তা সেভাবে ততটুকুই বলা, যে কর্ম যেভাবে যতটুকু করেছেন সে কর্ম সেভাবে ততটুকু করা এবং তিনি যে কথা বলেন নি তা না বলা এবং যে কাজ করেন নি তা না করাই সুন্নাত। তৃতীয় অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ-এর অনুকরণের ব্যতিক্রম করার ভয়াবহতা প্রসঙ্গে এ বিষয়ক কয়েকটি হাদীস আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা)-এর হাদীসে তিনি বলেন: "...রাসূলুল্লাহ আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন: তুমি কি প্রতিদিন রোযা রাখ? আমি বললাম: হাঁ। তিনি বলেন: তুমি কি সারা রাত জেগে নামায পড়? আমি বললাম: হাঁ। তিনি বললেন: কিন্তু আমি তো রোযাও রাখি আবার মাঝে মাঝে বাদ দিই, রাতে নামায পড়ি আবার ঘুমাই, স্ত্রীদেরকে সময় প্রদান করি। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে অপছন্দ করল আমার সাথে তার সম্পর্ক থাকবে না।... এরপর তিনি বলেন: প্রত্যেক আবেদের কর্মের উদ্দীপনার জোয়ার ভাটা আছে। ইবাদতের উদ্দীপনা কখনো তীব্র হয় আবার এই তীব্রতা এক সময় থেমে যায়, কখনো সুন্নাতের দিকে, কখনো বিদ'আতের দিকে। যার প্রশান্তি সুন্নাতের প্রতি হবে সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। আর যার প্রশান্তি অন্য কিছুর দিকে হবে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।" এ হাদীসে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) রাসূলুল্লাহ-এর কোনো 'কর্ম' অনুসরণ পরিত্যাগ করেন নি। রাসূলুল্লাহ তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং আব্দুল্লাহ (রা)-ও তাঁর সুন্নাত অনুসরণ করে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ নফল সিয়াম পালন করতেন এবং আব্দুল্লাহ (রা)-ও তাঁর অনুসরণে নফল সিয়াম পালন করতেন। কেবলমাত্র পদ্ধতিগত সামান্য ব্যতিক্রম ছিল, তা হলো, তিনি এ দুটি নেক কর্ম রাসূলুল্লাহ-এর চেয়ে বেশি করতেন। রাসূলুল্লাহ সারারাত তাহাজ্জুদ আদায় এবং সারামাস নফল সিয়াম আদায় বর্জন করতেন, কিন্তু আব্দুল্লাহ তা করতেন। মূল কর্ম সুন্নাত-সম্মত নেককর্ম হওয়া সত্ত্বেও কর্মের পাশাপাপশি বর্জনের ক্ষেত্রে বা পালনে ও বর্জনে হুবহু অনুসরণ না করার কারণে রাসূলুল্লাহ আব্দুল্লাহ ()-এর কর্মে আপত্তি প্রকাশ করেছেন। অন্য হাদীসে আমরা দেখেছি যে, তিন জন সাহাবী ইবাদতের আবেগে রাসূলুল্লাহ-এর চেয়ে অতিরিক্ত কিছু নফল ইবাদত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি তাদেরকে বলেন: "তোমরা কি এ ধরনের কথা বলেছ? তোমরা জেনে রাখ! আমি তোমাদের সকলের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি, তাকওয়ার দিক থেকে আমি তোমাদের সবার উপরে অবস্থান করি। তা সত্ত্বেও আমি মাঝেমাঝে নফল রোযা রাখি, আবার মাঝেমাঝে রোযা রাখা পরিত্যাগ করি। রাতে কিছু সময় তাহাজ্জুদ আদায় করি এবং কিছু সময় ঘুমাই। আমি বিবাহ করেছি, স্ত্রীদেরকে সময় প্রদান করি। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অপছন্দ করল তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।" এ হাদীসেও এ সকল সাহাবী রাসূলুল্লাহ যা বর্জন করেন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি তাদেরকে কঠিনভাবে নিষেধ করেন। তাবিয়ী আবূ ওয়ায়িল বলেন, আমি পবিত্র কাবা গৃহের খিদমত ও সংরক্ষেণর দায়িত্বে নিয়োজিত সাহাবী শাইবা ইবনু উসমান (রা)-এর নিকট বসেছিলাম। তিনি বলেন, جَلَسَ إِلَيَّ عُمَرُ فِي مَجْلِسِكَ هَذَا فَقَالَ: لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ لا أَدَعَ فِيهَا صَفْرَاءَ وَلَا بَيْضَاءَ إِلَّا قَسَمْتُهَا بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ قُلْتُ مَا أَنْتَ بِفَاعِل قَالَ لِمَ قُلْتُ لَمْ يَفْعَلْهُ صَاحِبَاكَ قَالَ هُمَا الْمَرْءَانِ يُقْتَدَى بِهِمَا "তুমি যেখানে বসেছ, উমার (রা) তথায় বসে বললেন: 'আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, কাবা ঘরের মধ্যে যুগযুগ ধরে সংরক্ষিত যত স্বর্ণ ও রৌপ্য রয়েছে তা কোনো কিছুই আমি রাখব না, বরং তা সবই আমি মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দেব।' আমি বললাম, 'আপনি তা করতে পারেন না।' তিনি বললেন: 'কেন?' আমি বললাম, 'কারণ আপনার সঙ্গীদ্বয় (রাসূলুল্লাহ এবং আবূ বাকর) তা করেন নি।' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তাঁরাই সে দুই মানুষ যাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে।"৯৭৯ এখানে উমার (রা) অনুসরণ-অনুকরণ করা বলতে 'না-করা'-য় বা 'বর্জন করা'-য় অনুসরণ অনুকরণ করা বুঝাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গীদ্বয়, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ এবং আবূ বাক্স কিছুই করেন নি। কাবা ঘরের মধ্যে যুগ যুগ ধরে মানুষের দান, মানত ইত্যাদির স্বর্ণ-রৌপ্য সংরক্ষিত ছিল। রাসূলুল্লাহ এগুলির বিষয়ে কিছুই করেন নি। যেমন ছিল তেমনি রেখে দিয়েছেন। তিনি এগুলি বণ্টন করেন নি এবং করতে নিষেধও করেন নি। এ বিষয়ে তিনি কোনো কিছু করা থেকে বিরত থেকেছেন। আবূ বাকর-ও একইভাবে চলে গিয়েছেন। উমার (রা)-এর অধিকার ছিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার। তিনি এ বিষয়ে কিছু করার চেয়ে কোনো কিছু করা বর্জন করে তাঁদের 'অনুসরণ' বা ইত্তিবা ও ইকতিদা করা উত্তম বলে মনে করেছেন। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কর্ম এবং বর্জন উভয়ই সুन्नাত। কর্মের ক্ষেত্রে যেমন রাসূলুল্লাহ-এর হুবহু অনুকরণ করা সুন্নাত, তেমনি বর্জনের ক্ষেত্রেও তাঁর অনুকরণ করাই সুন্নাত। এমনকি যে বিষয়ে তিনি কোনে আপত্তি বা নিষেধ করেন নি, শুধু বর্জন করেছেন সে বিষয়েও অনুকরণ বলতে বর্জন করাই বুঝায়। তিনি যা করেন নি এবং নিষেধও করেন নি তা করা অবৈধ নাও হতে পারে, তবে তা করলে অনুকরণ করা হয় না। তাবিয়ী নাফি' (রাহ) বলেন: إِنَّ رَجُلًا عَطَسَ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: وَأَنَا أَقُولُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ وَلَكِنْ لَيْسَ هَكَذَا عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَّمَنَا إِذَا عَطَسَ أَحَدُنَا أَنْ نَقُولَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كل حال "এক ব্যক্তি ইবনু উমরের (রা) পাশে বসে হাঁচি দেয় এবং বলে: 'আল-হামদু লিল্লাহ, ও আস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ (প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের উপর সালাম)।' তখন ইবনু উমর (রা) বলেন, আমিও বলি: 'আল-হামদুলিল্লাহ ওয়াস সালামু আলা রাসূলিল্লাহ', তবে রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে (হাঁচি দিলে) এভাবে দোয়া পড়তে শেখাননি, তিনি আমাদেরকে শিখিয়েছেন যে, আমরা হাঁচি দিলে বলব: "আলহামদু লিল্লাহ আলা কুল্লি হাল (সকল অবস্থায় প্রশংসা আল্লাহর)।"৯৮০ এখানে লক্ষণীয় যে, রাসূলুল্লাহ -এর উপর সালাত (দরুদ) ও সালাম পাঠ করা ইসলামের অন্যতম ইবাদত। ইহলৌকিত বরকত ও পারলৌকিক মুক্তি ও মর্যাদার জন্য তা অন্যতম মাধ্যম। এ বিষয়ে অনেক হাদীসে বিশেষ নির্দেশনা ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম সদা সর্বদা সালাত ও সালাম পাঠ করতে ভালবাসতেন। তাঁরা একান্তে, সমাবেশে সর্বদা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মতো সালাত ও সালাম পড়তেন। সালাত ও সালাম পাঠের এত বেশি মর্যাদা ও সাওয়াব এবং এত বেশি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাহাবী ইবনু উমর কেন হাঁচির পরে সালাম পাঠ অনুমোদন করছেন না? তাহলে কি কোনো কোনো সময়ে সালাত ও সালাম পাঠ নিষেধ করেছেন রাসূলুল্লাহ? তাহলে কি হাঁচির পরে দরুদ বা সালাম পাঠ নিষিদ্ধ? তা কখনোই নয়। এখানে ইবনু উমার (রা) সুন্নাতের পরিপূর্ণ অনুসরণ বা কর্ম ও বর্জনে হুবহু অনুসরণের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আল্লাহর হামদ পাঠ ও রাসূলুল্লাহ -এর উপর সালাম পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মুমিন সর্বদা তা পালন করবেন। তবে হাঁচির দু'আ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সালাম পাঠ শেখান নি। তিনি এ সময়ে সালাম পাঠ বর্জন করেছেন। কাজেই এ দু'আর মধ্যে তা বর্জন করাই সুন্নাত। তাবিয়ী মুজাহিদ (রাহ) বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনু উমরের (রা) সঙ্গে ছিলাম। এমন সময়ে এক ব্যক্তি যোহর বা আসরের সালাতের জন্য ডাকাডাকি করল। তখন তিনি বললেন: اخْرُجْ بِنَا فَإِنَّ هَذِهِ بِدْعَةٌ "এখান থেকে বেরিয়ে চল, কারণ এটি একটি বিদ'আত।"৯৮১ রাসূলুল্লাহ -এর সময়ে সালাতের জন্য শুধু আযান প্রদান করা হতো। এতেই সকল মুসলমান মসজিদে এসে উপস্থিত হতেন। পরবর্তী কিছু বছর পরে দেখা গেল অনেক এলাকায় মানুষেরা সালাতে আসতে অবহেলা করছে। তখন অনেক আগ্রহী মুয়াজ্জিন আযানের কিছুক্ষণ পরে আবার ডাকাডাকি করতেন বা জামাতের সময় হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করতেন। আযানের পরে ডাকাডাকি করতে রাসূলুল্লাহ নিষেধ করেন নি। তবে তিনি তা বর্জন করেছেন। হয়ত অনেক যুক্তি দিয়ে বলা যেত, তিনি অমুক কারণে তা বর্জন করেছেন, বর্তমানে অমুক কারণে তা করা প্রয়োজন। কিন্তু সাহাবীগণ এ সকল যুক্তির ভিতরে না যেয়ে কর্ম ও বর্জনে তাঁর হুবহু অনুকরণ পছন্দ করতেন এবং অতিরিক্ত কর্মকে বিদ'আত বলে ঘৃণা করতেন। সাহাবীদের কাছে বড় হলো রাসূলে আকরাম -এর রীতি। তাঁর বাইরে তাঁরা একটুও যেতে রাজি ছিলেন না। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: إِنَّ مِنْ أَبْغَضُ الْأُمُورِ إِلَى اللهِ تَعَالَى الْبَدَعَ، وَإِنَّ مِنْ الْبِدَعِ الاعْتِكَافَ فِي الْمَسَاجِدِ الَّتِي فِي الدُّورِ "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয় হলো বিদ'আত। আর এ সকল বিদ'আতের মধ্যে একটি হলো বাড়ির মধ্যে যে সালাতের স্থান বা ঘরোয়া মসজিদ থাকে সেখানে এতেকাফ করা।"৯৮২ ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ বাড়ী বা মহল্লার ঘরোয়া মসজিদে ইতিকাফ নিষেধ করেন নি। এর স্বপক্ষে অনেক কথা বলা যায়। তবে তিনি তা বর্জন করেছেন। এজন্য সাহাবী তা বিদ'আত বলে অভিহিত করেছেন।