📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 জ্যোতিষি

📄 জ্যোতিষি


৫. ৩. ১. মুশরিকগণের পরিচিতি
কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত মুশরিকগণের একটি সুন্দর শ্রেণীভাগ করেছেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী। তিনি 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ' গ্রন্থে তিনি মুশরিকদেরকে তিন শ্রেণীতে এবং 'আল-বালাগুল মুবীন' গ্রন্থে মুশরিকদেরকে চার শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। তাঁর শ্রেণীভাগ নিম্নরূপ:

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মুশরিকগণের পরিচিতি

📄 মুশরিকগণের পরিচিতি


কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত মুশরিকগণের একটি সুন্দর শ্রেণীভাগ করেছেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী। তিনি 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ' গ্রন্থে তিনি মুশরিকদেরকে তিন শ্রেণীতে এবং 'আল-বালাগুল মুবীন' গ্রন্থে মুশরিকদেরকে চার শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। তাঁর শ্রেণীভাগ নিম্নরূপ:

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 প্রকৃতিপূজারী বা নক্ষত্র পূজারিগণ

📄 প্রকৃতিপূজারী বা নক্ষত্র পূজারিগণ


এরা দাবি করে যে, গ্রহ-নক্ষত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। এদের ইবাদত করলে পৃথিবীতে উপকার পাওয়া যায়। মানুষের প্রয়োজন বা হাজত এদের কাছে পেশ করা সঠিক। তারা বলে, আমরা গবেষণা করে উদ্ঘাটন করেছি যে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যক্তির সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য, সফলতা-ব্যর্থতা, সুস্থতা-অসুস্থতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে এদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এ সকল গ্রহ-নক্ষত্রের বুদ্ধিমান সত্তা আছে যার ভিত্তিতে তারা যাত্রা ও চলাচল করে। এরা এদের পূজারীদের বিষয়ে অচেতন নয়। এ বিশ্বাসের ভিত্তিতে তারা বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের নামে মন্দির তৈরি করেছে এবং তাদের ইবাদত করে।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মুশরিকগণ

📄 মুশরিকগণ


এরা মুসলিমদের সাথে তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের অধিকাংশ বিষয়ে একমত। তারা বিশ্বাস করে যে, বিশ্বের বৃহৎ বিষয়গুলি পরিচালনার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। এছাড়া যে বিষয়গুলি তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেন এবং অন্য কাউকে কোনো এখাতিয়ার বা ক্ষমতা প্রদান করেন নি সে সকল বিষয়ও তিনি পরিচালনা করেন। অন্যান্য বিষয়ে তারা মুসলিমদের সাথে একমত নয়। তারা দাবি করে যে, তাদের পূর্ববর্তী নেককার বুজুর্গগণ আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর নৈকট্য অর্জন করেছিলেন, ফলে আল্লাহ তাদেরকে 'উলুহিয়্যাত' বা 'উপস্যত্ব' প্রদান করেন। এভাবে তারা অন্যান্য বান্দাদের 'ইবাদত' লাভের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। যেমনভাবে রাজাধিরাজ মহারাজের খাদিম বা সেবক তার সেবা ও ভক্তি করে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় তখন মহারাজ সেই খাদিমকেও রাজত্ব উপঢৌকন প্রদান করেন বা তাকে একটি বিশেষ এলাকার 'সামন্ত' রাজা বানিয়ে দেন। তখন সে রাজত্বের পরিচালনার দায়ভার এ সামন্ত রাজার উপরেই বর্তায়। আর উক্ত রাজ্যের প্রজাদের দায়িত্ব হয়ে যায় এ রাজার আনুগত্য করা। তারা বলে, এ সকল বুজুর্গের ইবাদত না করে শুধু আল্লাহর ইবাদত করলে তা কবুল হবে না। এ ছাড়া আল্লাহ অতি মহান ও অতি ঊর্ধ্বে। তার নৈকট্য লাভের জন্য সরাসরি তাঁর ইবাদত কোনো কাজে আসবে না। বরং এ সকল বুজুর্গের ইবাদত করতে হবে যাতে তারা আল্লাহর নৈকট্য পাইয়ে দিতে পারেন। তারা বলে, এ সকল বুজুর্গ শুনেন, দেখেন, তাদের উপাসকদের জন্য সুপারিশ করেন, তাদের বিষয়াদি পরিচালনা করেন এবং তাদের সাহায্য করেন।
এ সকল দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে তারা এসকল বুজুর্গের নাম পাথরে খোদাই করে রাখে এবং তাদের নাম বিজড়িত পাথর সামনে রেখে তাদের ইবাদত করে। প্রথম যুগের মুশরিকদের তিরোধানের পরে পরবর্তী প্রজন্মের মুশরিকগণ মূল বুজুর্গ উপাস্য ও তাদের স্মৃতিতে বানানো মুর্তি বা স্তম্ভের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তারা মনে করে এ সকল মুর্তি বা স্তম্ভই বুঝি উপাস্য। এজন্য মহান আল্লাহ এ সকল মুশরিকদের দাবি দাওয়া রদ করে কখনো বলেছেন যে, বিশ্ব পরিচালনা, রাজত্ব ও ক্ষমতা একমাত্র তারই কখনো তিনি বলেছেন যে, তারা যাদের ইবাদত করে তারা জড় পদার্থ মাত্র।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00