📄 কাউকে 'শাহানশাহ' বলা
আমরা ইতোপূর্বে বলেছি যে, মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ বলা যায় না এবং যে নাম ও গুণাবলি মহান আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য তা অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা শিরক আকবার। আর কিছু নাম ও বিশেষণ রয়েছে যা জাগতিক ও আপেক্ষিক অর্থে মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়। আমরা বিদ'আত ও ফিরকা বিষয়ক অধ্যায়ে এ বিষয়ে কিছু উদাহরণ দেখতে পাব।
মহান আল্লাহই এ বিশ্বের প্রকৃত মালিক, বাদশাহ ও প্রতিপালক। তবে জাগতিক ও আপেক্ষিক অর্থে মানুষদেরকে রাজা বলার অনুমতি ও প্রচলন রয়েছে। কুরআন কারীমে এরূপ ব্যবহার রয়েছে। তবে জাগতিক অর্থেও কাউকে 'রাজাগণের রাজা', 'শাহানশাহ' ইত্যাদি গালভরা উপাধিতে আখ্যায়িত করতে হাদীস শরীফে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِنَّ أَخْنَعَ اسْمِ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ (ملك الملوك ) - شَاهَانَ شَاهُ لَا مَالِكَ إِلَّا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ. وَفِي الرِّوَايَةِ الثَّانِيَةِ : أَعْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَتُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ لَا مَلِكَ إِلَّا اللَّهُ "মহান আল্লাহর নিকট ঘৃণ্যতম নাম হলো যে কোনো মানুষ নিজেকে 'শাহানশাহ' বা 'রাজাগণের রাজা' নামে আখ্যায়িত করবে, অথচ মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো রাজা নেই। অন্য বর্ণনায়: কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ও সবচেয়ে নিন্দিত হবে ঐ ব্যক্তি যাকে 'রাজাগণের রাজা' বা 'শাহানশাহ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, অথচ আল্লাহ ছাড়া কোনো রাজা নেই।"
📄 কাউকে রাব্ব বা আব্দ বলা
আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, জাগতিক ও আপেক্ষিক অর্থে মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে 'অমুকের পালনকর্তা', মালিক বা মনিব অর্থে 'অমুকের 'রাব্ব' বলা যায়। অনুরূপভাবে জাগতিক দাসত্ব অর্থে একজনকে অন্যের 'আব্দ' অর্থাৎ বান্দা, দাস বা চাকর বলা যায়। তবে এরূপ শব্দ ব্যবহার না করতে হাদীস শরীফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এতে শব্দের মধ্যে শিরক হয়ে যায়, যদিও বিশ্বাসে শিরক না থাকে। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ أَطْعِمْ رَبَّكَ وَضَّأَ رَبَّكَ اسْقِ رَبَّكَ وَلْيَقُلْ سَيِّدِي مَوْلَايَ وَلَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ عَبْدِي أَمَتِي كُلُّكُمْ عَبِيدُ اللَّهِ وَكُلُّ نِسَائِكُمْ إِمَاءُ اللَّهِ - وَلْيَقُلْ فَتَايَ وَفَتَاتِي وَغُلَامِي. "তোমাদের কেউ (মালিককে 'রাব্ব' বলবে না), বলবে না: তোমার রাব্বকে খাবার দেও, তোমার রাব্বকে ওযু করাও, তোমার রাব্বকে পানি পান করাও। বরং সে যেন (মালিককে) সাইয়েদী অর্থাৎ আমার নেতা, মাওলাইয়া অর্থাৎ আমার অভিভাবক বলে। আর তোমাদের কেউ (নিজের দাস বা চাকরকে) 'আমার বান্দা' বা আমার বান্দি বলবে না, কারণ তোমরা সকলেই তো আল্লাহর বান্দা এবং তোমাদের সকল নারীই তো আল্লাহর বান্দি। বরং বলবে: আমার যুবক বা ছেলে, আমার যুবতী বা মেয়ে বা আমার বালক।"
এভাবে আমরা দেখছি যে, মালিককে রাব্ব বলা এবং দাস বা চাকরকে 'বান্দা' বলা মূলত বৈধ হলেও শব্দের শিরকের কারণে রাসূলুল্লাহ তা বর্জন করতে উৎসাহ দিয়েছেন।
এভাবে আমরা দেখছি যে, সাধারণ শব্দ ব্যবহারের মধ্যেও অনেক আদব ও শিরকের বিষয় রয়েছে, যা শিরক আকবার না হলেও শিরক আসগর বলে গণ্য হতে পারে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ শিরক থেকে সতর্ক থাকতে এবং সর্বদা শিরক থেকে তাওবা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ মূসা আশ'আরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا هَذَا الشِّرْكَ فَإِنَّهُ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ فَقَالَ لَهُ مَنْ شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَكَيْفَ نَتَّقِيهِ وَهُوَ أَخْفَى مِنَ دَبِيبِ النَّمْلِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نُشْرِكَ بِكَ شَيْئًا نَعْلَمُهُ وَنَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا نَعْلَمُ "হে মানুষেরা, শিরক থেকে আত্মরক্ষা কর; কারণ শিরক পিপিলিকার পদক্ষেপের চেয়েও সুক্ষ্মতর। তখন একব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তা যদি পিপিলিকার পদক্ষেপের চেয়েও সুক্ষ্মতর হয় তবে কিভাবে তা থেকে আত্মরক্ষা করব? তিনি বলেন, তোমরা বলবে; হে আল্লাহ, আমরা জেনেশুনে আপনার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং যা না জানি তা থেকে আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"